ছোটগল্প ২৬ – সেপ্টোপাসের খিদে / Short Story 26 – Septopus er Khide (Hunger of the Septopus)

Septopus er Khide

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Septopus er khide

সেপ্টোপাসের খিদে – সত্যজিৎ রায়

এবার সত্যজিৎ রায়ের আরেকটি গল্প – গল্পের উত্তম পুরুষ (বর্ণনাকারী) যুবক বয়সে যখন শিকারী ছিলেন, সেসময় আসামে এক শিকার করতে গিয়ে কান্তিবাবু নামের এক উদ্ভিদবিজ্ঞানীর (বটানিস্ট) সাথে তার আলাপ হয়। সেই কান্তিবাবুই হঠাৎ দশ বছর পরে অত্যন্ত করুণ ও সংশয়াকুল অবস্থায় তার কলকাতার বাড়িতে এসে হাজির হন, পুরোনো আলাপীকে তার বন্দুকটি নিয়ে একবার তার বাড়িতে আসার অনুরোধ করতে।

Septopus er Khide (Hunger of the Septopus) – Satyajit Ray

Another story by Ray – The story begins with the unexpected arrival of an acquaintance at the house of the narrator. The distressed man, a botanist whom the narrator had met during a hunting trip in Assam ten years earlier, requests the latter to go to his place, and to bring a gun, just in case.

কবিতা ৮ – অদ্ভুত আঁধার এক / Poem 8 – Adbhut Andhar Ek (A Strange Darkness)

জীবনানন্দ দাশ এর আরেকটি কবিতা – আমাদের সমাজের ক্রমবর্ধমান অবক্ষয় নিয়ে।

Another poem by Jibanananda Das – Adbhut Andhar Ek (A Strange Darkness) laments how the cruel and the heartless have come to assume power, while the compassionate and the virtuous face prosecution.

অদ্ভুত আঁধার এক

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়
মহত্‍‌ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

– জীবনানন্দ দাশ

Adbhit Andhar Ek / A Strange Darkness – Translation by Clinton B. Seely

A strange darkness has come upon the world today.
They who are most blind now see,
Those whose hearts lack love, lack warmth, lack pity’s stirrings,
Without their fine advice, the world today dare not make a move.
They who yet possess an abiding faith in man,
To whom still now high truths or age-old customs,
Or industry or austere effort all seem natural,
Their hearts are victuals for the vulture and the jackal.

– Jibanananda Das

কবিতা ৭ – রানার / Poem 7 – Ranar (The Postal Runner)

Sukanta Bhattacharya-Runner

সুকান্তের আরেকটি অসাধারণ কবিতা – প্রতিনিয়ত সংগ্রামকারী মানুষদের বেদনার গল্প, একজন ডাক-হরকরার (ডাক বাহক) জীবনের একটি রাতের বর্ণনায়…

Another of Sukanta Bhattacharya’s intense portrayals – this time, of a night in the life of a ‘Ranar’. In British India, postal runners delivered mail from post offices to distant villages and small towns, often running all night for miles to their destination to ensure timely delivery. The work of the ‘Ranar’ was arduous and erosive to say the least, and in depicting a night in his life, Sukanta glorifies the pain and struggle which define the life of the proletariat everywhere and everywhen.

রানার

রানার ছুটেছে তাই ঝুম্‌ঝুম্ ঘন্টা বাজছে রাতে
রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে,
রানার চলেছে, রানার !
রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার ।
দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার-
কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার ।

রানার ! রানার !
জানা-অজানার
বোঝা আজ তার কাঁধে,
বোঝাই জাহাজ রানার চলেছে চিঠি আর সংবাদে;
রানার চলেছে, বুঝি ভোর হয় হয়,
আরো জোরে, আরো জোরে হে রানার দু্র্বার দুর্জয় ।
তার জীবনের স্বপ্নের মতো পিছে সরে যায় বন,
আরো পথ, আরো পথ – বুঝি লাল হয় ও – পূর্ব কোণ ।
অবাক রাতের তারারা, আকাশে মিট্‌মিট্ করে চায়;
কেমন ক’রে এ রানার সবেগে হরিণের মতো যায় !
কত গ্রাম, কত পথ যায় স’রে স’রে –
শহরে রানার যাবেই পৌঁছে ভোরে;
হাতে লন্ঠন করে ঠন্‌ঠন্, জোনাকিরা দেয় আলো
মাভৈঃ রানার ! এখনো রাতের কালো ।

এমনি ক’রেই জীবনের বহু বছরকে পিছু ফেলে,
পৃথিবীর বোঝা ক্ষুধিত রানার পৌঁছে দিয়েছে ‘মেলে’ ।
ক্লান্তশ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, মাটি ভিজে গেছে ঘামে
জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে ।
অনেক দুঃখে, বহু বেদনায়, অভিমানে, অনুরাগে,
ঘরে তার প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে ।

রানার ! রানার !
এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে ?

রাত শেষ হয়ে সূর্য উঠবে কবে ?
ঘরেতে অভাব; পৃথিবীটা তাই মনে হয় কালো ধোঁয়া,
পিঠেতে টাকার বোঝা, তবু এই টাকাকে যাবে না ছোঁয়া,
রাত নির্জন, পথে কত ভয়, তবুও রানার ছোটে,
দস্যুর ভয়, তারো চেয়ে ভয় কখন সূর্য ওঠে ।
কত চিঠি লেখে লোকে –
কত সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, কত দুঃখে ও শোকে ।
এর দুঃখের চিঠি পড়বে না জানি কেউ কোনো দিনও,
এর জীবনের দুঃখ কেবল জানবে পথের তৃণ,
এর দুঃখের কথা জানবে না কেউ শহরে ও গ্রামে,
এর কথা ঢাকা পড়ে থাকবেই কালো রাত্রির খামে ।
দরদে তারার চোখ কাঁপে মিটিমিটি, –
এ-কে যে ভোরের আকাশ পাঠাবে সহানুভূতির চিঠি –
রানার ! রানার ! কি হবে এ বোঝা ব’য়ে ?
কি হবে ক্ষুধার ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে ?
রানার ! রানার ! ভোর তো হয়েছে – আকাশ হয়েছে লাল
আলোর স্পর্শে কবে কেটে যাবে এই দুঃখের কাল ?

রানার ! গ্রামের রানার !
সময় হয়েছে নতুন খবর আনার;
শপথের চিঠি নিয়ে চলো আজ
ভীরুতা পিছনে ফেলে –
পৌঁছে দাও এ নতুন খবর,
অগ্রগতির ‘মেলে’,
দেখা দেবে বুঝি প্রভাত এখুনি –
নেই, দেরি নেই আর,
ছুটে চলো, ছুটে চলো আরো বেগে
দুর্দম, হে রানার ॥

– সুকান্ত ভট্টাচার্য

A crude translation of loosely strung lines from the poem:

As he runs across fields, carrying messages written by loving hands to the hearts they own, his lonely lover surrenders herself to another sleepless night. She will never receive a letter from him, for he has sold all his nights to traverse horizons for the women who will, to never slow down and never look back – his pain forever enveloped in the dark… for he is the postal runner, the man who must defeat the Sun.

(ছবিতে রানারের প্রতিকৃতি একটি বাংলাদেশী ডাকটিকেট হতে সংগ্রহীত/Figure of the runner adopted from a Bangladeshi postage stamp.)

ছোটগল্প ২৫ – প্রফেসর শঙ্কু – শঙ্কুর সুবর্ণ সু্যোগ / Short Story 25 – Professor Shanku – Shankur Subarna Shujog (Shanku’s Golden Chance)

Shankur Subarna Sujog

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Shankur Subarna Shujog

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – শঙ্কুর সুবর্ণ সু্যোগ – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কুর গল্পগুলো পড়লে সেগুলোর ভিন্নতা দেখে অবাক হয়ে যেতে হয়। প্রাচীন সভ্যতার বর্তমানতা থেকে শুরু করে মানুষের ভবিষ্যৎ রূপ, কিংবা সম্মোহন (হিপনোটিজম) অথবা যন্ত্রের ক্ষুদ্রকরণ (মিনিয়েচারাইজেশন) – শঙ্কুর গল্পগুলোর মধ্যে দিয়ে সত্যজিৎ ইতিহাস আর বিজ্ঞানের অনেক তথ্যের সাথে আমাদের পরিচিত করেছেন অসাধারণ সাবলীলতায়। ‘শঙ্কুর সুবর্ণ সু্যোগ’ সেদিক দিয়ে অনন্য একটি গল্প, আর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হিসেবে তো বটেই – স্পেন, অ্যালকেমি, জবীর ইবন হায়ান, প্ল্যানচেট – একই ছোটগল্পে নিপুণভাবে গাঁথা এত বৈচিত্র অন্য কোন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে আছে কি?

Professor Shanku’s Stories – Shankur Subarna Shujog (Shanku’s Golden Chance) – Satyajit Ray

One of the many remarkable things about Professor Shanku’s stories is the variety of topics that they present. From ancient civilizations to the future evolution of man, or from hypnotism to miniaturization of electronics – Satyajit Ray introduces a wonderful medley of historical and scientific topics to the reader. Shankur Subarna Shujog (Shanku’s Golden Chance) is certainly a stand-out in that respect (and as a science fiction, of course!) – Spain, Alchemy, Jabir Ibn Hayyan, Planchette… need I say more?

ছোটগল্প ২৪ – প্রফেসর শঙ্কু – স্বর্ণপর্ণী / Short Story 24 – Professor Shanku – Swarnaparni (The Golden Leaf)

Swarnaparniপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Swarnaparni

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – স্বর্ণপর্ণী – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কুর ছবি কল্পনা করলেই মনে দাঁড়িগোফের জঙ্গলে ঢাকা একটি শীর্ণ মুখাবয়ব ভেসে ওঠে। অবশ্য একটি সময় ছিল, যখন শঙ্কু ছিলেন একজন বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ বিজ্ঞানী। এবার সেই সময়কারই একটি গল্প – মিরাকিউরল আবিস্কারের আর নাৎসিদের সাথে লড়ার – শঙ্কুর স্মৃতিচারণায়, আর সত্যজিতের কলমে।

Professor Shanku’s Stories – Swarnaparni (The Golden Leaf) – Satyajit Ray

In the mind of the initiated, the words ‘Professor Shanku‘ invariably create the image of a bearded old man. There was a time, though, when Shanku was young – a professor even then, but young. And it was the time when he invented Miracurall and outwitted Herr Göring and the Nazis. This upload is his reminiscence of those times.

ছোটগল্প ২৩ – মৃগাঙ্কবাবুর ঘটনা / Short Story 23 – Mrigankababur Ghatana (The Metamorphosis of Mr. Mriganka)

Mriganka Babuপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Mrigankababur Ghatana

মৃগাঙ্কবাবুর ঘটনা – সত্যজিৎ রায়

সত্যজিৎ রায়ের আরেকটি গল্প – একজন মানুষের রহস্যময় বিবর্তন নিয়ে।  ‘মৃগাঙ্কবাবুর ঘটনা’কে সায়েন্স ফিকশন বলা যেতে পারে, তবে গল্পটির চরিত্রগুলো আমাদের পারিপার্শ্বিক হওয়ায় পাঠকের শিড়দাঁড়া বেয়ে ওঠা শিহরণগুলো একটু বেশিই বাস্তব হয়ে ঠেকে।

Mrigankababur Ghatana (The Metamorphosis of Mr. Mriganka) – Satyajit Ray

This time, a story about the mysterious transformation of a man. The story is a science fiction of sorts, but since the characters happen to be just like the people around us, the chills experienced by the reader arise from fears that are very much present, rather than from visions of the future or the past.

কবিতা ৬ – কুয়াশার আক্ষেপ / Poem 6 – Kuashar Akkhep (Regret of The Mist)

বেশ কিছুদিন ধরেই রবীন্দ্রনাথের ছোট কবিতাগুলোয় ডুবে আছি। খুব একটা গভীরভাবে বুঝছি বললে বেশি বলা হবে, তবে লেখাগুলোর যেটুকু অনুভবের মধ্যে, তার অনেকটুকুই মনে দাগ কাটে। তাই সেরকম একটি কবিতা তুলে দিলাম, যা মানুষের নাগালের মধ্যেকার আদর আর দূরের ভালবাসার গভীরতার তফাৎ নিয়ে লেখা।

Lately, I have been reading quite a few of Rabindranath’s poems. Not that I understand much, but once in a while, I come across a piece that really resonates within me. Here is one such poem, Regret of The Mist, which differentiates between the love of the people near us with that of those who love from far.

কুয়াশার আক্ষেপ

“কুয়াশা, নিকটে থাকি, তাই হেলা মোরে–
মেঘ ভায়া দূরে রন, থাকেন গুমরে!’
কবি কুয়াশারে কয়, শুধু তাই না কি?
মেঘ দেয় বৃষ্টিধারা, তুমি দাও ফাঁকি।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (কণিকা হতে সংগ্রহীত)

কবিতা ৫ – অদৃশ্য কারণ / Poem 5 – Adrishya Karan (The Invisible Cause)

Rabindranath Thakur-Adrishya Karan (1)

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে ড্যানিয়েল ট্রিমের ফ্লিকার পাতায় /Original Taken from Daniel Trim’s Flickr Page)

আজ আমার সবচেয়ে প্রিয় কবিতাগুলোর মধ্যে একটি। রবিঠাকুরের এই লেখাটি এতই সুন্দর ও স্বচ্ছ, যে কবিতাটির ভাষার চাইতে সরল করে কোন ভূমিকা লেখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আর ভণিতা না করে কবিতাটি তুলে দিলাম –

অদৃশ্য কারণ

রজনী গোপনে বনে ডালপালা ভ’রে
কুঁড়িগুলি ফুটাইয়া নিজে যায় স’রে।
ফুল জাগি বলে, মোরা প্রভাতের ফুল–
মুখর প্রভাত বলে, নাহি তাহে ভুল।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (কণিকা)

This time, one of my favorite poems. In The Invisible Cause, Rabindranath Thakur points out how the one who does and the one who claims the glory for the act often turn out to be very different persons. A translation by the sage, followed by a cruder one from yours truly, follows:

The Invisible Cause

(Version 1 – Translated by the poet himself)

The night opens the flowers in secret and allows the day to get thanks.

(Version 2)

The Night silently kisses the flowers into bloom before leaving,
After which they awake and sing, “We are children of the light.”.
The proud Dawn says, “Indeed.”.

– Rabindranath Thakur (Kanika)

ছোটগল্প ২২ – ফ্রিৎস / Short Story 22 – Fritz

Fritz WP

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Fritz

ফ্রিৎস – সত্যজিৎ রায়

এবার একটা ভয়ের গল্প – আমাদের অনেকেরই ছোটবেলায় কোনো না কোনো খেলনা ছিল, যেগুলোর প্রতি সেসময় আমরা অসম্ভব টান অনুভব করতাম। বড় হওয়ার সাথে সাথে সেগুলোর প্রতি আমাদের টান কমে আসে, একসময়কার প্রিয় খেলনা হেলায় ফেলে দেওয়া কিংবা ফেলে আসা হয়। কিন্তু খেলনাগুলো কি আমাদের মনে রাখে?

Fritz – Satyajit Ray

This time, a tale of unease: Perhaps all of us remember the one toy each of us was most attached to during our childhoods. Growing up often makes us detached from those little things we played with, and in the course of our lives, we forget and leave them behind. Do the toys remember?