গান ১০ – ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু / Song 10 – Klanti Amar Kkhama Karo (Forgive My Languor)

অনেক সময় নিজের প্রিয় লেখাগুলো পাঠকদের উপর চাপিয়ে দেই বলে একটা চাপা অপরাধবোধে ভুগি। অবশ্য কখনো কখনো কিছু লেখার কথা মনে আসে, যেগুলোর অর্থের গভীরতার সামনে সে প্রসঙ্গ আপনিই গৌণ হয়ে যায়। এবার তেমনই একটি কবিতা, কবিগুরুর কলমে লেখা – আমাদের মধ্যে ক্লান্তির কাছে যারা হেরে গিয়েছি, তাদের জন্য।

My posting of Bangla literary works on this blog is often accompanied by a slight guilt of imposing my favorites on the readers. Some writings, however, possess a meaning so deep that posting those leave me feeling glad instead. This post and its translation is one such work – written by Rabindranath Thakur, a poem for those of us who have succumbed to weariness.

Rabindranath Thakur-Klanti Amar (2)
(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে এখানে / Original image taken from Prospect Steet UMC.)

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু,
পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু॥
এই-যে হিয়া থরোথরো   কাঁপে আজি এমনতরো
এই বেদনা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥

এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু,
পিছন-পানে তাকাই যদি কভু।
দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায়   শুকায় মালা পূজার থালায়,
সেই ম্লানতা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গীতালি হতে সংগ্রহীত)

Forgive my languor

Forgive my languor, O Lord,
if ever I lag behind
upon life’s way.
Forgive my anguished heart
which trembles and hesitates
in its service.
Forgive my fondness
that lavishes its wealth
upon an unprofitable past.
Forgive these faded flowers
in my offering
that wilt in the fierce heat
of panting hours.

– Rabindranath Thakur
(Translated by the poet himself. A translation by Reba Som follows)

Forgive me my weariness O Lord
Should I ever lag behind
For this heart that this day trembles so
And for this pain, forgive me, forgive me, O Lord

For this weakness, forgive me O Lord,
If perchance I cast a look behind
And in the day’s heat and under the burning sun
The garland on the platter of offering wilts,
For its dull pallor, forgive me, forgive me O Lord,

Advertisements

ছোটগল্প ২৭ – প্রফেসর শঙ্কু – একশৃঙ্গ অভিযান / Short Story 27 – Professor Shanku – Eksringa Abhijan (Quest for the Unicorn)

Shanku-Eksringa Abhijanপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Eksringa Abhijan

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – একশৃঙ্গ অভিযান – সত্যজিৎ রায়

শঙ্কুকে নিয়ে লেখা সত্যজিৎ রায়ের গল্পগুলোতে বিজ্ঞান আর কল্পনার অসাধারণ সংমিশ্রণের কথা এর আগেই লিখেছি। তবে কল্পনার কথাই যদি বিশেষ করে বলতে হয়, তাহলে শঙ্কুর ‘একশৃঙ্গ অভিযান’ এর চেয়ে মোক্ষম উদাহারণ সম্ভবত আর হয় না। ‘একশৃঙ্গ অভিযানে’ শঙ্কুর এক বন্ধু তিব্বত ঘুরে আসা এক সদ্যমৃত পর্যটকের ডায়েরীতে অদ্ভুত একটি তথ্যে খুঁজে পান, যা প্রফেসর শঙ্কু ও তার সহযাত্রীদের নিয়ে যায় তিব্বতের দুর্গম পর্বতমালায়। বিপদসঙ্কুল সেই যাত্রার উদ্দেশ্য – বাস্তবতা আর কল্পনাকে একাকার করে দেওয়া এক জগতের সন্ধান করা… আর অনুপ্রেরণা – সেই ডায়েরীতে লেখা একটি লাইন, “আই স আ হার্ড অফ ইউনিকর্নস টুডে (আজ আমি একপাল ইউনিকর্ন দেখেছি)”।

যারা পড়ছেন, তাদের জন্য কিছু সুড়সুড়ি দেওয়া শব্দ – উড়ন্ত লামা, ঐরাবত, তিব্বতি দস্যু, বাসিলিস্ক, ডুং লুং ডো।

Professor Shanku’s Stories – Eksringa Abhijan (Quest for the Unicorn) – Satyajit Ray

Another of Professor Shanku’s adventures. In Eksringa Abhijan (Quest for the Unicorn), Shanku and his friends embark on a treacherous journey into the mountains of Tibet in search of a world where the physical and the mythical are one. Their motivation – a line in the diary of a mountaineer whose path they would be tracing: “I saw a herd of unicorns today”.

A few teasers – The Flying Lama, Airavata, Basilisk, Bandits, Dung Lung Do. Enjoy!

Shanku-Eksringa Abhijan 2

কবিতা ৯ – দেখিনু সেদিন রেলে / Poem 9 – Dekhinu Sedin Rele (That Day on the Train)

সমাজের ‘নিচ তলা’ থেকে উপরটাকে যারা ধরে রাখে, তাদের নিয়ে অনেকেই বাংলায় সাহিত্যরচনা করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম সুকান্তের কিছু লেখা তো এই ব্লগে আগেই তুলেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে চিরপ্রতিবাদী কবি নজরুল ইসলামের লেখা একটি কবিতা – ‘দেখিনু সেদিন রেলে’।

Sympathy for the oppressed proletariat is a common theme in the Bangla literary tradition. Previously, I had posted works by Sukanta Bhattacharya, who was one of the foremost Bangalee poets to have written in support of the working class. This time, in continuation, a poem about a day labourer in a railway station – written by none other than the prolific Kazi Nazrul Islam, whose revolutionary tendencies and passion for social justice earned him the title of “Rebel Poet” of Bengal.

দেখিনু সেদিন রেলে

দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্‌?
রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে,
রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে,
বল ত এসব কাহাদের দান! তোমার অট্টালিকা
কার খুনে রাঙা?-ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি হঁটে আছে লিখা।
তুমি জান না ক’, কিন- পথের প্রতি ধূলিকণা জানে,
ঐ পথ, ঐ জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে!

আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!
তুমি শুয়ে র’বে তেতালার পরে আমরা রহিব নীচে,
অথচ তোমারে দেবতা বলিব, সে ভরসা আজ মিছে!
সিক্ত যাদের সারা দেহ-মন মাটির মমতা-রসে
এই ধরণীর তরণীর হাল রবে তাহাদেরি বশে!
তারি পদরজ অঞ্জলি করি’ মাথায় লইব তুলি’,
সকলের সাথে পথে চলি’ যার পায়ে লাগিয়াছে ধূলি!
আজ নিখিলের বেদনা -আর্ত পীড়িতের মাখি’ খুন,
লালে লাল হ’য়ে উদিছে নবীন প্রভাতের নবারুণ!
আজ হৃদয়ের জমা-ধরা যত কবাট ভাঙিয়া দাও,
রং-করা ঐ চামড়ার যত আবরণ খুলে নাও!
আকাশের আজ যত বায়ু আছে হইয়া জমাট নীল,
মাতামাতি ক’রে ঢুকুক্‌ এ বুকে, খুলে দাও যত খিল!
সকল আকাশ ভাঙিয়া পড়-ক আমাদের এই ঘরে,
মোদের মাথায় চন্দ্র সূর্য তারারা পড়-ক ঝ’রে।
সকল কালের সকল দেশের সকল মানুষ আসি’
এক মোহনায় দাঁড়াইয়া শোনো এক মিলনের বাঁশী।
একজনে দিলে ব্যথা-
সমান হইয়া বাজে সে বেদনা সকলের বুকে হেথা।
একের অসম্মান
নিখিল মানব-জাতির লজ্জা-সকলের অপমান!
মহা-মানবের মহা-বেদনার আজি মহা-উত্থান,
উর্ধ্বে হাসিছে ভগবান, নীচে কাঁপিতেছে শয়তান!

– কাজী নজরুল ইসলাম