ছোটগল্প ৩৮ – আহ্‌বান / Short Story 38 – Ahban (The Call)

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Ahoban

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandopadhyay-Ahban

আহ্‌বান – বিভূতিভুষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই এক নাম,আরণ্যক আর পথের পাঁচালীর মত লেখাগুলো যাকে বাংলায় পথদ্রষ্টা লেখকদের মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। উপর্যুক্ত লেখাগুলোর কথা হয়ত আরেকদিন বলব, কিন্তু আজকে বিভূতিভূষণের অন্য একটি – আর এই সাইটে প্রথম – গল্প নিয়ে এই পোস্ট।আহ্‌বান গল্পটির উত্তম পুরুষ (বর্ণনাকারী) একজন শিক্ষিত হিন্দু বাঙ্গালী তরুণ, অনেকদিন পর নিজের গ্রামে ফিরে যার সাথে একজন অসহায় মুসলমান বৃদ্ধার সাথে পরিচয় হয়। বৃদ্ধা তাকে নিজের ছেলের মত ভালবেসে ফেললেও তার কান্ডকারখানা তরুণটির জন্য ক্রমশই বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে এলাকার লোকজনদের কারণে। বিভূতিভূষণের অন্য অনেক গল্পের মতআহ্‌বানও বাংলার গ্রামীণ সমাজেরই প্রতিচ্ছবি, তবে এই গল্পটি একটি একতরফা অবুঝ ভালবাসার জানালা দিয়ে দেখা।

Ahban (The Call) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

In the Bangla literary pantheon, Bibhutibhushan Bandyopadhyay occupies a very special place – particularly for works such as Aranyak (Of the Forest) and Pather Panchali (Song of the Little Road). This post, however, is and upload of one of his lesser known works. In Ahban, an educated Hindu Bangalee youth returns to his village after a long time, where he develops a bond with an old Muslim woman. While the woman increasingly starts regarding him like a son, her actions embarrass the youth in front of the other villagers. Like many of Bibhutibhusan’s stories, Ahban is a window into the heart of rural Bengal, but in its depiction of an unrequited love, it is also a lot more.

আত্মজীবনী ১ – জাফর ইকবাল – রঙিন চশমা / Autobiography 1 – Jafar Iqbal – Rangin Chashma (Tinted Glasses)

Jafar Iqbal-Rangin Chashma

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal-Rangin Chashma

রঙিন চশমা – জাফর ইকবাল

এতদিন ধরে যেসব গল্প এই সাইটে তুলেছি, সেগুলোর মধ্যে আত্মজীবনীমূলক লেখা একটিও নেই, তাই এইবারে বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবালের রঙিন চশমা  তুলে দিলাম। ১১১ পৃষ্ঠায় ফুটিয়ে তোলা ছাত্রজীবনের গল্প আহামরী লম্বা কিছু নয়, তবে আজকাল মানুষের সময় অল্প, তাই এটুকু আশা করব যে পাঠকরা দৈনন্দিন জীবনের ফাঁকে ফাঁকে গল্পটি পড়বেন। রঙিন চশমা গল্পটির শুরু হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শেষে, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে জাফর ইকবালকে নেহাৎই একজন কিশোর। তার পর ধাপে ধাপে তার বেড়ে ওঠা – যুদ্ধে মৃত বাবাকে কবর দেওয়া, সিগারেট খাওয়া (যা নিচে উদ্ধৃত করেছি), কলেজে থাকাবস্থায় পাগলামী, কার্টুন একে নিজের খরচ চালানো, সিল্ভার নাইট্রেট দিয়ে হাতে মাছ আঁকতে গিয়ে মরতে বসা, আর অ্যামেরিকায় পড়তে যাওয়া – আর অনেক কিছু নিয়েই একটি হাল্কা স্মৃতিচারণা। আজকের জাফর ইকবালকে অনেকটুকুই বোঝা যায় এই লেখাটি পড়লে।

“আমার বাবা অত্যন্ত সুদর্শন ব্যক্তি ছিলেন। তাকে সবচেয়ে সুন্দর দেখাত যখন তিনি সিগারেট খেতেন। তার সিগারেট খাওয়ার একটা সুন্দর ভঙ্গি ছিল যেটা আমি আর কোথাও দেখিনি। মধ্যমা আর তর্জনীর মাঝখানের অংশটুকু মুখে লাগিয়ে সিগারেট টানতেন। বাবা একটু ভাবুক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, তাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক হাত কোমরে রেখে অন্য হাতে সিগারেট টানতে টানতে আকাশের দিকে তাঁকিয়ে একটু আনমনা হয়ে যেতেন। সেই ভঙ্গিটি এক কথায় ছিল অপূর্ব। তাই আমি একেবারে অনেক ছোট থাকতেই ঠিক করে রেখেছিলাম যে যখন বড় হব তখন আমি বাবার মতো করে সিগারেট খাব।

বড় হওয়ার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছি। যখন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি তখন মনে হল এখন নিশ্চই বড় হয়েছি, এখন সিগারেট খাওয়া শুরু করতে হয়। তাই খুব কষ্ট করে আমি সিগারেট খাওয়া শেখার চেষ্টা করতে লাগলাম। দামি সিগারেট খাওয়ার পয়সা নেই তাই সস্তা সিগারেট দিয়ে সিগারেট খাওয়া শিখছি। সেটা যে কি কষ্ট আমি বলে বোঝাতে পারব না। বিদঘুটে গন্ধ, সিগারেটের ধোঁয়া বুকের ভেতর নিয়ে খকখক করে কাশি, মনে হয় নাড়ি উল্টে আসবে, কিন্তু আমি হাল ছেড়ে দিলাম না।

শেষ পর্যন্ত আমি সিগারেট খাওয়া শিখে গেলাম। সিগারেট খেতে যত আনন্দ তার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ সেটা দশজনকে দেখিয়ে।

একদিন কোথায় জানি যাচ্ছি, হঠাৎ সিগারেট খাবার ইচ্ছে করল। আমি রাস্তার পাশের একটা দোকান থেকে একশলা সিগারেট কিনে মুখে লাগিয়ে আয়েশ করে একটা টান দিয়েছি তখন একটা বিচিত্র ঘটনা ঘটল। রাস্তার পাশে একটা গাড়ি থেমেছে এবং সেই গাড়ি থেকে দুজন ভদ্রমহিলা নেমে এলেন। তারা অন্য কোথাও যাচ্ছিলেন কিন্তু একজন আমাকে দেখে থেমে গেলেন। কেমন যেন একটা বিস্মিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর আমার দিকে এগিয়ে এসে আমাকে আহত গলায় বললেন, “তুমি এত ছোট ছেলে সিগারেট খাও?”

আমি একেবারে থতমত খেয়ে গেলাম। রাস্তার মাঝখানে একজন আমাকে এভাবে সিগারেট খাওয়ার জন্য ধমক দিতে পারে আমি কল্পনাও করতে পারি নি। কোনমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, “আমি মোটেও ছোট ছেলে না। আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ি।”

আমার কথায় কোন কাজ হল না। ভদ্রমহিলা কেমন যেন ব্যথিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন, বললেন, “না। এত ছোট ছেলে তুমি সিগারেট খাবে না।”

আমি কোনমতে তার দৃষ্টি থেকে সরে এলাম – সিগারেট টানতে টানতেই।

আমার মাঝে মাঝে মনে হয় সেই ভদ্রমহিলার সাথে এখন দেখা হলে বলতাম, “এই দেখেন! আমি এখন আর ছোট ছেলে না – আমি কিন্তু আর সিগারেট খাই না।”

কিন্তু তার সাথে আর কখনো দেখা হয়নি।”

Rangin Chashma – Zafar Iqbal

The works that I have uploaded so far on this site have not included any autobiographies, hence, as a first, this upload. Rangin Chashma (Tinted Glasses) written by the popular Bangladeshi author Zafar Iqbal, contains the memoirs of his life as a youth in the 70’s Bangladesh, when the country was just finding its feet after the War of Independence. Anecdotes, emotions and nostalgia – of the days of burying his war-dead father, of hardship, smoking for the first time (quoted below), working as a cartoonist to support himself, and finally going to the US for higher studies – make this book not only a heartwarming read but also a doorway into understanding the author as we know him today.

ছোটগল্প ৩৭ – প্রফেসর শঙ্কু – হিপনোজেন / Short Story 37 – Professor Shanku – Hypnogen

Shanku-Hypnogen

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Hypnogen

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – হিপনোজেন – সত্যজিৎ রায়

এবার সত্যজিৎ রায়ের লেখা একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী – প্রফেসর শঙ্কু নানা অভিযানের ফাঁকে যখন তাঁর গিরিডির বাড়িতে, তখন নরওয়ের থেকে তার কাছে একটি রহস্যজনক টেলিগ্রাম আসে, যাতে জনৈক আলেকজান্ডার ক্রাগ শঙ্কুকে তার নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। কৌতুহলী শঙ্কু খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে এককালে আলেকজান্ডার ক্রাগ নামের এক হীরের খনির মালিক থাকলেও তিনি ১৯১৩ সালেই মারা যান। কিন্তু খটকা লাগলেও শঙ্কু যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ টেলিগ্রামে যাতায়াতের সমস্ত খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি ছাড়া এও লেখা ছিল, যে ক্রাগের বাসস্থানেই শঙ্কুর সাথে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিকের দেখা হতে চলেছে।

Professor Shanku’s Stories – Hypnogen – Satyajit Ray

This time, another of Professor Shaku’s adventures – while in Giridi between his expeditions, the Professor receives a mysterious telegram bearing an invitation form a certain Norwegian named Alexandar Krag. Curious, Professor Shanku decides to look him up, and finds in an old who’s who that the last widely known Alexandar Krag was a diamond mine owner who had died in 1913. However, Shanku still decides to go, as besides the guaranteed reimbursement, Mr. Krag also mentions that he would introduce the world’s greatest scientist to the Professor at his residence.

গল্প ৩৬ – ফেলুদা – ছিন্নমস্তার অভিশাপ / Story 36 – Feluda – Chhinnamastar Abhishap (The Curse of the Goddess)

Chhinnamastar Abhishap
পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Chhinnamastar Abhishap

ফেলুদার গল্প – ছিন্নমস্তার অভিশাপ – সত্যজিৎ রায়

সার্কাস, রিং মাস্টার, বাঘ, ষড়রিপু, তিন ( + ১ – ১ ) সন্তান, দুটি খুন, আর একজন হেঁয়ালীপ্রিয় বৃদ্ধ বাবা – হ্যা, আবার ফেলুদা, তবে ছিন্নমস্তার অভিশাপ ফেলুদার অন্য গল্পগুলোর চাইতে একটু আলাদা।

Feluda’s Adventures – Chhinnamastar Abhishap (The Curse of the Goddess) – Satyajit Ray

Circus, ring master, tiger, six cardinal passions,  three ( + 1 – 1 ) sons, 2 murders, and an old riddler – yes, Feluda again. But an overdose of the character? Not at all. Chinnamastar Abhishap is only a fitting addition to this site.

কবিতা ১৪ – তালগাছ / Poem 14 – Taal Gachh (The Palmyra Tree)

Rabindranath Thakur-Taal Gachh (1)

একটি তাল গাছের আকাশ-কুসুম ভাবনা, কিংবা হয়তো আমার বা আপনার জীবনেরই গল্প। আপাতদৃষ্টিতে হাল্কা অথচ অসাধারণ একটি কবিতা। রবিঠাকুরের কলমে।

Dreams, seemingly of a palm tree, but in truth, of us all… A playful rhyme for little ones, with a meaning deep enough for the biggest among us. Who else but Rabindranath Thakur could have penned this?

তালগাছ

তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে।
মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়,
একেবারে উড়ে যায়
কোথা পাবে পাখা সে ।

তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে
গোল গোল পাতাতে
ইচ্ছাটি মেলে তার
মনে মনে ভাবে বুঝি ডানা এই,
উড়ে যেতে মানা নেই
বাসাখানি ফেলে তার ।
সারাদিন ঝরঝর থত্থর
কাঁপে পাতা পত্তর
ওড়ে যেন ভাবে ও,
মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে
তারাদের এড়িয়ে
যেন কোথা যাবে ও।

তারপরে হাওয়া যেই নেমে যায়
পাতা কাঁপা থেমে যায়,
ফেরে তার মনটি
যেই ভাবে মা যে হয় মাটি তার,
ভালো লাগে আরবার
পৃথিবীর কোণটি।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শিশু ভোলানাথ হতে সংগ্রহীত)

A modified (and hence cruder) version of a translation from Indrani Ghose’s blog, follows.

Taal Gachh (The Palm Tree)

On one leg stands the palm tree
Over the canopy
Peeping into the sky
Wishing to rise through the clouds,
And fly.
Oh if it only had wings!

So on round leaves on its head
It spreads its desire
Like wings in a dream
Now nothing can stop it from flying
And leaving its home behind.
And all day the leaves quiver in the wind
As if in flight in its mind
To a place beyond the stars.

But when the wind stops
And the leaves fall still
The flight of fancy returns to land,
its mother.
And it loves the Earth once again.

 – Rabindranath Thakur

কবিতা ১৩ – দুখের বেশে এসেছ বলে / Poem 13 – Dukher Beshe Eshecho Bole (Have You come to me as my sorrow)

ঈশ্বরের প্রতি একটি করুণ আর্তি – যা হয়ত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি জর্জরিত হৃদয়েরই প্রার্থনা। রবিঠাকুরের কলমে।

In Two verses by Rabindranath Tagore, a deep longing for God that transcends most religious boundaries – a translation from the Kabiguru himself, and a second cruder one, follows.

দুখের বেশে এসেছ বলে

দুখের বেশে এসেছ বলে তোমারে নাহি ডরিব হে।
যেখানে ব্যথা তোমারে সেথা নিবিড় ক’রে ধরিব হে ॥
আঁধারে মুখ ঢাকিলে স্বামী, তোমারে তবু চিনিব আমি–
মরণরূপে আসিলে প্রভু, চরণ ধরি মরিব হে।
যেমন করে দাও-না দেখা তোমারে নাহি ডরিব হে ॥
নয়নে আজি ঝরিছে জল, ঝরুক জল নয়নে হে।
বাজিছে বুকে বাজুক তব কঠিন বাহু-বাঁধনে হে।
তুমি যে আছ বক্ষে ধরে বেদনা তাহা জানাক মোরে–
চাব না কিছু, কব না কথা, চাহিয়া রব বদনে হে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংকলিত)

Dukher Beshe Eshecho Bole (Have You come to me as my sorrow)

Have you come to me as my sorrow? All the more I must cling to you.
Your face is veiled in the dark, all the more I must see you.
At the blow of death from your hand let my life leap up in a flame.
Tears flow from my eyes,-let them flow round your feet in worship.
And let the pain in my breast speak to me that you are, still mine.

-Translated by the poet himself.

(Version 2)

Although You have come as sorrow, O Lord,
I shall not fear, and hold You dearly where it hurts.
If you shroud Yourself in darkness, I shall know You still,
And if You appear as death, yield at Your feet.
However You come to me, O Lord, I will be unafraid.

Let tears flow from my eyes in streams,
And the soul writhe in pain from Your unyielding grasp,
For this sorrow is but a reminder
Of Your firm hands holding me onto the refuge of Your heart.
I seek nothing else, O Lord, only to gaze at Your Face.

– Rabindranath Thakur (Collected from Puja/Crossing)

গল্প ৩৫ – ফেলুদা – সোনার কেল্লা / Story 35 – Feluda – Sonar Kella (The Golden Fortress)

satyajit-ray-feluda-sonar-kella
পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Sonar Kella

ফেলুদার গল্প – সোনার কেল্লা – সত্যজিৎ রায়

ফেলুদার বেশ কিছু গল্প এখন হাতে, তাছাড়া সময়ও অফুরন্ত। তাই আরেকটি আপলোড। আমেরিকা থেকে সম্প্রতি দেশে ফেরা বিখ্যাত মনস্তত্ত্ববিদ (প্যারাসাইকোলজিস্ট) ডঃ হেমাঙ্গমোহন হাজরা কলকাতায় অদ্ভুত একটি ছেলের সন্ধান পান, যার কথা শুনে মনে হয় যে অতীত কোন জীবনে সে অন্য একজন মানুষ ছিল। ছেলেটির মুখে তার ‘পূর্বজন্মের’ বর্ণনা শুনে তাকে নিয়ে ডঃ হাজরা গবেষণার জন্য রাজস্থান যাওয়া স্থির করেন। কিন্তু এদিকে পত্রপত্রিকায় ছেলেটির মুখে গুপ্তধনের কথার খবর বেরিয়ে যাওয়ায় গোলমেলে লোকজনরাও তাদের পিছু নেয়, আর ফেলুদাকে যেতে হয় ছেলেটিকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে… অন্তত প্রথমে ব্যাপারটা সেরকমই মনে হয়। জাতিস্মর ছেলে, রাজস্থানের মরূভূমি, জাঁদরেল মনস্তত্ত্ববিদ – সবকিছু নিয়ে ফেলুদার এই গল্পটি অনেক দিক দিয়েই অসাধারণ, কিন্তু বিশেষ কোন কিছুর কথা যদি বলতেই হয়, তবে এটুকুই বোধহয় যথেষ্ট – জটায়ুর সাথে ফেলুদার প্রথম দেখা হয় এই গল্পেই।

Feluda’s Adventures – Sonar Kella (The Golden Fortress) – Satyajit Ray

Lots of time and quite a few of Feluda’s adventures in my hands. Hence another upload. In Sonar Kella (The Golden Fortress), a parapsychologist in Kolkata is intrigued by a boy who talks about living an earlier life in Rajasthan, and decides to take the boy there to study him. The media, however, get hold of and publish the news that the boy speaks of a hidden treasure, which sets unknown rogues in their pursuit. Or at least, that is how things seem when Feluda takes up the case.
Memories of a previous life, the wild deserts of Rajasthan, parapsychology – Sonar Kella is an exceptional story in many ways, but if there is one thing that really sets this Feluda adventure apart from others – it is that Jatayu makes his first appearance here.

গল্প ৩৪ – ফেলুদা – গোলকধাম রহস্য / Story 34 – Feluda – Golakdham Rahasya (A Mysterious Tenant)

satyajit-ray-feluda-golakdham-rahasya

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Golakdham Rahashya

ফেলুদার গল্প – গোলকধাম রহস্য – সত্যজিৎ রায়

আবার ফেলুদা, তবে এবারের বর্ণনায় পাঠকদের জন্যে সচরাচর লেখা ভূমিকার বদলে গল্পের এই অংশটুকু তুলে দিলাম –

“অ্যাক্সিডেন্টের পরে তিনি আপনার সাথে যোগাযোগ রাখেননি?”
“না। এটুকু বলতে পারি যে তার একাগ্রতার অভাব ছিল। বায়োকেমিস্ট্রি ছাড়াও অন্য পাঁচ রকম ব্যাপারে তার ইন্টারেস্ট ছিল।”
“বিষ্ফোরণটা কি অসাবধানতার জন্য হয়?”
“আমি নিজে সজ্ঞানে কখনো অসাবধান হইনি।”

মাঝের টেবিলে মোমবাতি রাখায় সকলের মুখ আবার দেখা যাচ্ছে। নীহারবাবুর কালো চশমার দুই কাঁচে দুটি কম্পমান হলদে বিন্দু। মোমবাতির শিখার ছায়া।

ফেলুদা চায়ে আরেকটা চুমুক দিয়ে আবার চশমার দিকে চেয়ে বলল, “আপনার গবেষণার নোট্‌স যদি অন্য কোনো বায়োকেমিস্টের হাতে পড়ে তাহলে তার পক্ষে সেটা লাভজনক হবে কি?”

“নোবেল প্রাইজটা যদি লাভজনক বলে মনে করেন তাহলে হতে পারে বৈকি।”

অন্ধ বিজ্ঞানী, দশরথ, একটি অসমাপ্ত কাজ, দুটি মৃত্যু – মানুষের ভিতরে লুকিয়ে থাকা প্রবৃত্তি নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের আরেকটি অসাধারণ গোয়েন্দা গল্প।

Feluda’s Adventures – Golakdham Rahasya (A Mysterious Tenant) – Satyajit Ray

Another of Feluda’s stories. In Golakdham Rahashya, the notes of an emerging scientist who had lost his sight in an explosion are mysteriously stolen. Not everything is what it seems, though, and as Feluda delves into the case, the darker sides to those deemed innocent soon emerge even as those easier to despise escape blame. At the end of it all, though, it is only the scientist’s unfinished task that matters… Golakdham Rahashya is detective fiction, but the range of human emotions it explores make the story one of the most thought-provoking reads among Feluda’s exploits.

কবিতা ১২ – হঠাৎ দেখা / Poem 12 – Hathat Dekha (An Unexpected Reunion)

Hathat Dekha (2)

পূর্ণতা না পাওয়া ভালবাসাগুলো হৃদয়ের মাঝে অতীতের যে মানুষটিকে ঘিরে আবর্তিত হয়, তারই সাথে যদি অনেকদিন পর হঠাৎ দেখা হয়ে যায়, তখন মনে কি অনুভূতি জাগে? যারা তা জানেন, আজ তাদের জন্য রবি ঠাকুরের একটি কবিতা, দুটি মানুষের ক্ষণিকের পুনর্মিলন, দ্বিধান্বিত ভালবাসা আর পুনর্বিচ্ছেদ নিয়ে।

This time, a poem about the feelings that separation from the beloved sustains within us, and how unexpected reunions rekindle old emotions and questions whose answers only lead to more. In Hathat Dekha (An Unexpected Reunion), Rabindranath Tagore narrates one such reunion – a chance encounter between former lovers on a train. A crudely translated excerpt is provided below the original.

হঠাৎ দেখা

রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা,
ভাবি নি সম্ভব হবে কোনোদিন।
আগে ওকে বারবার দেখেছি
লালরঙের শাড়িতে
দালিম ফুলের মতো রাঙা;
আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়,
আঁচল তুলেছে মাথায়
দোলনচাঁপার মতো চিকনগৌর মুখখানি ঘিরে।
মনে হল, কালো রঙে একটা গভীর দূরত্ব
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চার দিকে,
যে দূরত্ব সর্ষেখেতের শেষ সীমানায়
শালবনের নীলাঞ্জনে।
থমকে গেল আমার সমস্ত মনটা;
চেনা লোককে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে।
হঠাৎ খবরের কাগজ ফেলে দিয়ে
আমাকে করলে নমস্কার।
সমাজবিধির পথ গেল খুলে,
আলাপ করলেম শুরু —
কেমন আছ, কেমন চলছে সংসার
ইত্যাদি।
সে রইল জানলার বাইরের দিকে চেয়ে
যেন কাছের দিনের ছোঁয়াচ-পার-হওয়া চাহনিতে।
দিলে অত্যন্ত ছোটো দুটো-একটা জবাব,
কোনোটা বা দিলেই না।
বুঝিয়ে দিলে হাতের অস্থিরতায় —
কেন এ-সব কথা,
এর চেয়ে অনেক ভালো চুপ করে থাকা।
আমি ছিলেম অন্য বেঞ্চিতে
ওর সাথিদের সঙ্গে।
এক সময়ে আঙুল নেড়ে জানালে কাছে আসতে।
মনে হল কম সাহস নয়;
বসলুম ওর এক-বেঞ্চিতে।
গাড়ির আওয়াজের আড়ালে
বললে মৃদুস্বরে,
“কিছু মনে কোরো না,
সময় কোথা সময় নষ্ট করবার।
আমাকে নামতে হবে পরের স্টেশনেই;
দূরে যাবে তুমি,
দেখা হবে না আর কোনোদিনই।
তাই যে প্রশ্নটার জবাব এতকাল থেমে আছে,
শুনব তোমার মুখে।
সত্য করে বলবে তো?
আমি বললেম, “বলব।”
বাইরের আকাশের দিকে তাকিয়েই শুধোল,
“আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে,
কিছুই কি নেই বাকি।”
একটুকু রইলেম চুপ করে;
তারপর বললেম,
“রাতের সব তারাই আছে
দিনের আলোর গভীরে।”
খটকা লাগল, কী জানি বানিয়ে বললেম না কি।
ও বললে, “থাক্‌, এখন যাও ও দিকে।”
সবাই নেমে গেল পরের স্টেশনে;
আমি চললেম একা।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শ্যামলী হতে সংগ্রহীত)

Translated Excerpt from Hathat Dekha (An Unexpected Reunion)

Looking away towards the sky, she asked:
“The days we have had, have they all gone,
is there nothing left of those?”

I replied, “The stars still twinkle, beneath the light of the sun.”

At the next station, she got off the train
And I continued, unsure of my answer.

– Rabindranath Thakur