গল্প ৫২ – দীপু নাম্বার ২ / Story 2 – Dipu Number 2

Jafar Iqbal-Dipu Number 2 BW

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bangla-Zafar Iqbal-Dipu Number 2

দীপু নাম্বার টু – জাফর ইকবাল

এবার এমন একটি গল্প, যেটিকে বাংলা কিশোরসাহিত্যের উজ্জলতর উদাহারণগুলোর মধ্যে একটি বললেও কমই বলা হয়। দীপু নাম্বার টু  গল্পটি এমন এক ছেলেকে নিয়ে, যে নামের দিক দিয়ে যে দ্বিতীয় হলেও সাধারণতার দিক দিয়ে সে অনন্য। গল্পটিকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা লিখলে এই লেখার শুধু দৈর্ঘ্যই বাড়বে, তাই বরং ভেবেচিন্তে গল্পেরই একটি অংশ তুলে দিলাম, যাতে গল্পের উপসংহারটুকু ছাড়া আর প্রায় সবটুকুরই আঁচ পাওয়া যায়।

দীপুর সাথে তার আব্বার সম্পর্ক একটু অদ্ভুত। মোটেই অন্য দশজন আব্বা আর তাদের ছেলের মত নয়। দীপু তার আব্বার সাথে এমনভাবে কথা বলে যেন তিনি তার ক্লাসেরই একটি ছেলে। নিজের আম্মাকে কখনো দেখেনি, আব্বাই তাকে বড় করেছেন একেবারে ছেলেবেলা থেকে। কাজেই দীপুর আব্বাই তার সবচেয়ে বড় বন্ধু।

বিছানায় পা বিছিয়ে বসে ছিলো দীপু, আব্বা ওর পায়ে ঝাঁঝালো গন্ধের কি একটা প্লাস্টার লাগিয়ে দিচ্ছিলেন। আরামে দীপু আহ্‌! উহ্‌ করতে করতে আব্বাকে দিনের পুরো ঘটনা খুলে বলছিল। আব্বা চুপ করে শুনে যাচ্ছেন, ভাল মন্দ কিছুই বলছেন না। দীপু আশা করছিল আব্বা তার পক্ষ নিয়ে বলবেন তারিক যে কাজটা করেছে সেটা অন্যায়। কিন্তু আব্বা একবারও তারিককে দোষ দিয়ে একটি কথাও বললেন না। দীপু বিরক্ত হয়ে বললো, তুমি কি মনে করছো সব দোষ তাহলে আমার?
কে বলল সব দোষ তোর?
তাহলে  –
তাহলে কি?
তারিক যে আমাকে ধোলাই দেবে বলল?
তা আমি কি করব?

দীপু চুপ করে থাকল, সত্যিই তো ওর আব্বা কি করবেন? কিন্তু সমবেদনাটা তো ও পেতে পারে।
তাহলে তুমি বলছ মারামারি করি ওর সাথে?
আমি কিছু বলছি না।
ও যদি করতে চায়?
ইচ্ছে হলে করবি, ইচ্ছে না হলে করবি না, মার খাবি।

দীপু হাল ছেড়ে দিল। খানিক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আমি ওর সাথে গন্ডগোল করতে চাই না, অথচ এমন পাজি ইচ্ছে করে ঝগড়া করে। জান আব্বা, এখনি সিগারেট খাওয়া শুরু করেছে।

তুই কি মনে করিস সিগারেট খেলেই মানুষ পাজি হয়?
হয়ই তো।
তাহলে আমিও পাজি?
যাও! দীপু হেসে বলল, তুমি কত বড় আর ও কত ছোট!
আমিও তো কত ছোট থেকে সিগারেট খেতাম।

দীপু নাম্বার টু‘ জাফর ইকবালের সেরা লেখাগুলোর মধ্যে একটি। একটি ছায়াছবিও তৈরী হয়েছে এই গল্পটি থেকে, যার ইউটিউব লিঙ্কটি নিচে তুলে দিলাম। ছবিটি গল্পটির মত অসাধারণ না হলেও আজকালকার বাংলায়/হিন্দিতে সিনেমার নামে যা হয়, তার চাইতে যে অনেক, অনেক ভালো, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই পাঠকেরা গল্প বা ছায়াছবির মধ্যে যেটাই বেছে নিক, তাই তাদের ভালো লাগবে আশা করি।

Dipu Number Two – Zafar Iqbal

One of Zafar Iqbal’s best works, Dipu Number 2 is a beautiful story about boyhood. Dipu, the protagonist, is like any boy in more ways than one – he is frail, he plays football, and he cries when beaten up by bigger boys. Yet, he is different enough for us to take notice – for one thing, he refuses to tell the teacher the name of the student who bullied him, but not out of fear. I would not like to give the story away, so I will keep it down to this: Dipu, a boy who has to study in a new school every year because his father is always on the move, moves to an umpteenth new place and new school. This time, however, things are different, as he has to face a renewed reality of not having a mother, and deal with a class-bully who only adds severity to the word. What’s more, there is a far more thrilling adventure at hand, of which he has not the slightest idea. So, to the readers, I hope that you will find the story as wonderful as I have, whichever of the pdf and the video you choose.

Advertisements

আত্মজীবনী ২ – সত্যজিৎ রায় – যখন ছোট ছিলাম / Autobiography 1 – Satyajit Ray – Jakhon Chhoto Chhilam (When I was little)

Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilamপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilam

যখন ছোট ছিলাম – সত্যজিৎ রায়

বেশ কিছুদিন হয়ে গেল এই সাইটে গল্প তোলা হয়নি। তাই আজ সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিচারণায় তার ছেলেবেলার গল্প তুলে দিলাম। যখন ছোট ছিলাম  যখন লেখা হয়, তখন সত্যজিতের বয়স হয়ে গেছে অনেক, অথচ গল্পটিতে শিশুমন আর ছেলেবেলার ছবি এমনই সুন্দরভাবে আঁকা, যে গল্পটা একজন বড় মানুষের জীবনটাকে পিছনে ফিরে দেখা, তা মনেই হয়না। কত কথাই যে সত্যজিৎ এই আত্মজীবনীতে লিখেছেন – প্রথম বার আইসক্রিম খাওয়ার গল্প, জুডো শেখা, চাবি পটকা বানানো, রবীন্দ্রনাথের সাথে দেখা হওয়া, ‘গাঁজার’ কথা – আরো কত কি! ছেলেবেলার গল্প যারা পড়তে ভালবাসেন, তাদের এই গল্পটা বিশেষভাবে ভাল লাগবে বলে বিশ্বাস করি। আর যাদের আরেকটু সুড়সুড়ি প্রয়োজন, তাদের জন্য গল্পটির থেকে দুটি ছবি তুলে দিলাম। একটি ছবি অবশ্য এই গল্পটি থেকে এর আগেই তুলেছি, তবে তা এখানে নয়, রবিঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতাকে নিয়ে (একটু উপরে এই অনুচ্ছেদের মাঝখানে সংযুক্ত/লিঙ্ক করা) অনেক আগে একটি লেখায়। 🙂

Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilam (2)

স্কুলে থাকাকালীন সময়ে সত্যজিৎ রায়ের শেখা বাংলা অক্ষর আর সংখ্যা নিয়ে একটি খেলা। A trick with Bangla numerals and letters which Satyajit Ray picked up in high-school.

Jakhon Chhoto Chilam (When I was little) – Satyajit Ray

It has been a few weeks since my last upload, so here is a punctuation. In Jakhon Chhoto Chilam (When I was little), Satyajit Ray portrays his childhood memories in such colors and with such innocence that it is hard to believe that he wrote those down years, years later. And what memories those were! Eating ice-cream for the first time, learning judo, making crackers, meeting Rabindranath Thakur… If you like reading stories of childhood, you will particularly love this story of a great man’s childhood. Enjoy!

Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilam (1)

ছোটবেলার খেলার জিনিস – চাবি পটকা আর দইয়ের ভাড় দিয়ে বানানো লন্ঠন / Childhood playthings – a cracker made from a key, and a lantern made from a pot.

ছোটগল্প ৫১ – প্রফেসর শঙ্কু – রোবু / Short Story 51 – Professor Shanku – Robu

Satyajit Ray-Professor Shanku-Robuপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link:  Satyajit Ray-Professor Shanku-Robu

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – রোবু – সত্যজিৎ রায়

বেশ কিছু দিন হয়ে গেল এই সাইটে প্রফেসর শঙ্কুর কোন গল্প তুলে দেই নি, তাই আজকের লেখাটি। গল্পটির শুরু হয় যখন দেড় বছর ধরে কাজ করে প্রফেসর শঙ্কু রোবু নামের একটি যন্ত্রমানব (রোবট) তৈরী করেন। তার কিছুদিন পরেই জার্মানি থেকে শঙ্কুর জন্যে একটি চিঠি আসে, যা পড়ে জার্মানির এক বিজ্ঞানীর কথা জানতে পারেন, যার বিশ্বাস যন্ত্রকে দিয়ে কখনোই মানুষের কাজ করানো সম্ভব নয়। শঙ্কু স্থির করেন জার্মানি যাবেন, যদিও তার ধারণা ছিলনা যে সেখানে তার এবং রোবুর জন্য কিরকম প্রতিদ্বন্দিতা অপেক্ষা করছে।

Professor Shanku’s Stories – Robu – Satyajit Ray

It has been a while since I last uploaded a Professor Shanku adventure, hence this upload. Robu starts with the professor’s creation of a robot of the same name, and with the arrival of a letter of invitation from a scientist in Heidelberg, Germany. Shanku decides to accept the invitation, little knowing the competition he and his robot were going to face.

ছোটগল্প ৫০ – একটি তুলসী গাছের কাহিনী / Short Story 50 – Ekti Tulsi Gachher Kahini (The Story of a Tulsi Plant)

Syed Waliullah-Ekti Tulsi Gachher Kahini(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে অতনু মাইতির ফ্লিকার পৃষ্ঠাতে / Original version of the Edited Photo taken from Atanu Maity’s Flickr page)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Syed Waliullah-Ekti Tulsi Gachher Kahini

একটি তুলসী গাছের কাহিনী – সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ

১৯৪৭ সালে যখন অবিভক্ত ভারত ভেঙ্গে স্বাধীন ভারত আর পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়, সেসময় অনেক হিন্দু বাঙ্গালীই আজকের বাংলাদেশ, যা সেসময় পূর্ব পাকিস্তান ছিল, ছেড়ে ভারত চলে যান। একইসময় ভারত থেকে অনেক মুসলিমরাও পাড়ি দেন উল্টোদিকে। নিজেদের দেশ ছেড়ে আসা এসব মানুষদের অনেকেই ঠাঁই নেন অপরপক্ষের ফেলে যাওয়া বাড়িঘরে, যেগুলিতে তখনো আদি বাসিন্দাদের সংস্কৃতির ছাপ থেকে গিয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের কোনো এক প্রান্তে তেমনই একটি বাড়ির গল্প আজ – বিখ্যাত লেখক সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ এর কলমে।

Ekti Tulasi Gachher Kahini (The Story of a Tulsi Plant) – Syed Waliullah

The partition of British India in 1947 saw massive migration of Bangalee Hindus from what was then East Pakistan to India, and a flow of Muslims in the opposite direction. Many of these migrants found refuge in the homes abandoned by those who had left – places that still retained vestiges of the lives of the original inhabitants. Syed Waliullah’s Ekti Tulasi Gachher Kahini (A Tulsi Plant’s Tale) is a story of one such house in a corner of what is now Bangladesh, and one in which the absence of what once was is equally powerful as what is now.