কবিতা ২২ – সুকুমার রায়ের কিছু ছড়া / Poem 22 – Sukumar Ray er Kichhu Chhara (Some Rhymes by Sukumar Ray)

আধুনিক বাংলা শিশুতোষ সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ সুকুমার রায়। ছোটবেলায় যে তাঁর লেখা কত মজার ছড়া পড়েছি তার ইয়ত্তা নেই। অনেক দিন পর হঠাৎ করেই কোন প্রসংক্রমে তাঁর কিছু কবিতা মনে পড়ে গেল। কবিতাগুলো ছোটদের জন্যে লেখা, কিন্তু বুড়োরা যে এসবে অর্থ খুঁজে পাবে না তা নয়। আমি তো অন্তত কিছু কিছু মানে খুঁজে পাই। হয়তো যথেষ্ট পরিণত হইনি বলে। যাই হোক, বাংলা সাহিত্যের অদ্ভুতুড়ে কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে গভীর অর্থবহ কোণটির উদযাপনে এই লেখা।

This time, a collection of rhymes by one of the pioneers of modern Bangla youth literature. Sukumar Ray wrote his poems about a century ago. Yet, they continue to inspire childish joy among young and adults alike, and if you read just right, reveal a lot about us and our society. Consider this to be in celebration of the ridiculous but meaningful.

কবিতা গুলো সংগ্রহ করা হয়েছে এখান থেকে। সুকুমার রায়ের আরও অনেক ভাল লেখা আছে এখানে।

কুমড়ো পটাশ

(যদি) কুম্‌‌ড়োপটাশ নাচে-
খবরদার এসো না কেউ আস্তাবলের কাছে ;
চাইবে নাকো ডাইনে বাঁয়ে চাইবে নাকো পাছে ;
চার পা তুলে থাকবে ঝুলে হট্টমুলার গাছে !

(যদি) কুম্‌‌ড়োপটাশ কাঁদে-
খবরদার! খবরদার! বসবে না কেউ ছাদে ;
উপুড় হয়ে মাচায় শুয়ে লেপ কম্বল কাঁধে ;
বেহাগ সুরে গাইবে খালি ‘রাধে কৃষ্ণ রাধে’ !

(যদি) কুম্‌‌ড়োপটাশ হাসে-
থাকবে খাড়া একটি ঠ্যাঙে রান্নাঘরের পাশে ;
ঝাপ্‌সা গলায় ফার্সি কবে নিশ্বাসে ফিস্‌ফাসে ;
তিনটি বেলা উপোস করে থাকবে শুয়ে ঘাসে !

Kumropatash

(যদি) কুম্‌‌ড়োপটাশ ছোটে-
সবাই যেন তড়বড়িয়ে জানলা বেয়ে ওঠে ;
হুঁকোর জলে আলতা গুলে লাগায় গালে ঠোঁটে ;
ভুলেও যেন আকাশ পানে তাকায় নাকো মোটে !

(যদি) কুম্‌‌ড়োপটাশ ডাকে-
সবাই যেন শাম্‌লা এঁটে গামলা চড়ে থাকে ;
ছেঁচকি শাকের ঘণ্ট বেটে মাথায় মলম মাখে ;
শক্ত ইঁটের তপ্ত ঝামা ঘষতে থাকে নাকে !

তুচ্ছ ভেবে এ-সব কথা করছে যারা হেলা,
কুম্‌‌ড়োপটাশ জানতে পেলে বুঝবে তখন ঠেলা ।
দেখবে তখন কোন্‌ কথাটি কেমন করে ফলে,
আমায় তখন দোষ দিওনা, আগেই রাখি বলে ।

বড়াই

গাছের গোড়ায় গর্ত ক’রে ব্যাং বেঁধেছেন বাসা,
মনের সুখে গাল ফুলিয়ে গান ধরেছেন খাসা।
রাজার হাতি হাওদা-পিঠে হেলে দুলে আসে—
“বাপ্‌রে” ব’লে ব্যাং বাবাজি গর্তে ঢোকেন ত্রাসে!
রাজার হাতি মেজাজ ভারি হাজার রকম চাল;
হঠাৎ রেগে মটাৎ ক’রে ভাঙল গাছের ডাল।
গাছের মাথায় চড়াই পাখি এবাক হ’য়ে কয়—
“বাস্‌রে বাস্‌! হাতির গায়ে এমন জোরও হয়”!
মুখ বাড়িয়ে ব্যাং বলে, “ভাই, তাইত তোরে বলি—
আমরা, অর্থাৎ চার-পেয়েরা, এম্নিভাবেই চলি”।।

বাবুরাম সাপুড়ে

Baburam Shapureবাবুরাম সাপুড়ে,
কোথা যাস্‌ বাপুরে?
আয় বাবা দেখে যা,
দুটো সাপ রেখে যা !
যে সাপের চোখ নেই,
শিং নেই নোখ্‌ নেই,
ছোটে না কি হাঁটে না,
কাউকে যে কাটে না,
করে নাকো ফোঁস ফাঁস,
মারে নাকো ঢুঁশঢাঁশ,
নেই কোন উৎপাত,
খায় শুধু দুধ ভাত-
সেই সাপ জ্যান্ত
গোটা দুই আনত ?
তেড়ে মেরে ডাণ্ডা
ক’রে দেই ঠাণ্ডা ।

ভাল ছেলের নালিশ

মাগো!
প্রসন্নটা দুষ্টু এমন! খাচ্ছিল সে পরোটা
গুড় মাখিয়ে আরাম ক’রে বসে –
আমায় দেখে একটা দিল ,নয়কো তাও বড়টা,
দুইখানা সেই আপনি খেল ক’ষে!
তাইতে আমি কান ধরে তার একটুখানি পেঁচিয়ে
কিল মেরেছি ‘হ্যাংলা ছেলে’ বলে-
অম্‌‌নি কিনা মিথ্যা করে ষাঁড়ের মত চেচিয়ে
গেল সে তার মায়ের কাছে চলে!

মাগো!
এম্‌‌নিধারা শয়তানি তার, খেলতে গেলাম দুপুরে,
বল্‌ল, ‘এখন খেলতে আমার মানা’-
ঘন্টাখানেক পরেই দেখি দিব্যি ছাতের উপরে
ওড়াচ্ছে তার সবুজ ঘুড়ি খানা।
তাইতে আমি দৌড়ে গিয়ে ঢিল মেরে আর খুঁচিয়ে
ঘুড়ির পেটে দিলাম করে ফুটো-
আবার দেখ বুক ফুলিয়ে সটান মাথা উঁচিয়ে
আনছে কিনে নতুন ঘুড়ি দুটো!

সাধে কি বলে গাধা

বললে গাধা মনের দুঃখে অনেকখানি ভেবে-
“বয়েস গেল খাটতে খাটতে, বৃদ্ধ হলাম এবে,
কেউ না করে তোয়াজ তবু, সংসারের কি রীতি !
ইচ্ছে করে এক্ষুনি দিই কাজে কর্মে ইতি ।
কোথাকার ঐ নোংরা কুকুর, আদর যে তার কত-
যখন তখন ঘুমোচ্ছে সে লাটসাহেবের মত !
ল্যাজ নেড়ে যেই, ঘেউ ঘেউ ঘেউ, লাফিয়ে দাঁড়ায় কোলে,
মনিব আমার বোক্‌চন্দর, আহ্লাদে যান গলে ।
আমিও যদি সেয়ানা হতুম, আরামে চোখ মুদে
রোজ মনিবের মন ভোলাতুম অম্নি নেচে কুঁদে ।
ঠাং নাচাতুম, ল্যাজ দোলাতুম, গান শোনাতুম সাধা-
এ বুদ্ধিটা হয়নি আমার- সাধে কি বলে গাধা !”

বুদ্ধি এঁটে বসল গাধা আহ্লাদে ল্যাজ নেড়ে,
নাচ্‌ল কত, গাইল কত, প্রাণের মায়া ছেড়ে ।
তারপরেতে শেষটা ক্রমে স্ফুর্তি এল প্রাণে
চলল গাধা খোদ্‌ মনিবের ড্রইংরুমের পানে ।
মনিবসাহেব ঝিমুচ্ছিলেন চেয়ারখানি জুড়ে,
গাধার গলার শব্দে হঠাৎ তন্দ্রা গেল উড়ে ।
চম্‌কে উঠে গাধার নাচন যেমনি দেখেন চেয়ে,
হাসির চোটে সাহেব বুঝি মরেন বিষম খেয়ে ।

ভাব্‌লে গাধা- এই তো মনিব জল হয়েছেন হেসে
এইবারে যাই আদর নিতে কোলের কাছে ঘেঁষে ।
এই না ভেবে এক্কেবারে আহ্লাদেতে ক্ষেপে
চড়্‌ল সে তার হাঁটুর উপর দুই পা তুলে চেপে ।
সাহেব ডাকেন ‘ত্রাহি ত্রাহি’ গাধাও ডাকে ‘ঘ্যাঁকো’
(অর্থাৎ কিনা ‘কোলে চড়েছি, এখন আমার দ্যাখো !’)

ডাক শুনে সব দৌড়ে এল ব্যস্ত হয়ে ছুটে,
দৌড়ে এল চাকর বাকর মিস্ত্রী মজুর মুটে,
দৌড়ে এল পাড়ার লোকে, দৌড়ে এল মালী-
কারুর হাতে ডাণ্ডা লাঠি, কারু বা হাত খালি ।
ব্যাপার দেখে অবাক সবাই, চক্ষু ছানাবড়া-
সাহেব বললে, “উচিত মতন শাসনটি চাই কড়া ।”
হাঁ হাঁ ব’লে ভীষন রকম উঠ্‌ল সবাই চটে
দে দমাদম্‌ মারের চোটে গাধার চমক্‌ ছোটে ।

ছুটল গাধা প্রাণের ভয়ে গানের তালিম ছেড়ে,
ছুটল পিছে একশো লোকে হুড়মুড়িয়ে তেড়ে ।
তিন পা যেতে দশ ঘা পড়ে, রক্ত ওঠে মুখে-
কষ্টে শেষে রক্ষা পেল কাঁটার ঝোপে ঢুকে ।
কাঁটার ঘায়ে চামড়া গেল, সার হল তার কাঁদা ;
ব্যাপার শুনে বললে সবাই, “সাধে কি বলে গাধা !”

Sukumar Ray-Shadhe ki Bale Gadha

অসম্ভব নয় !

এক যে ছিল সাহেব, তাহার
গুণের মধ্যে নাকের বাহার ।
তার যে গাধা বাহন, সেটা
যেমন পেটুক তেমনি ঢ্যাঁটা ।
ডাইনে বললে যায় সে বামে
তিন পা যেতে দুবার থামে ।
চল্‌‌তে চল্‌‌তে থেকে থেকে
খানায় খন্দে পড়ে বেঁকে ।
ব্যাপার দেখে এম্নিতরো
সাহেব বললে, “সবুর করো-
মামদোবাজি আমার কাছে ?
এ রোগেরও ওষুধ আছে ।”
এই না ব’লে ভীষণ ক্ষেপে
গাধার পিঠে বস্‌ল চেপে
মুলোর ঝুঁটি ঝুলিয়ে নাকে ।
আর কি গাধা ঝিমিয়ে থাকে ?
মুলোর গন্ধে টগবগিয়ে
দৌড়ে চলে লম্ফ দিয়ে-
যতই চলে ধরব ব’লে
ততই মুলো এগিয়ে চলে!
খাবার লোভে উদাস প্রাণে
কেবল ছোটে মুলোর টানে-
ডাইনে বাঁয়ে মুলোর তালে
ফেরেন গাধা নাকের চালে ।

Sukumar Ray-Ashambhab Noy

বিষম চিন্তা

মাথায় কত প্রশ্ন আসে, দিচ্ছে না কেউ জবাব তার—
সবাই বলে, “মিথ্যে বাজে বকিস্‌নে আর খবরদার !”
অমন ধারা ধমক দিলে কেমন করে শিখব সব ?
বলবে সবাই, “মুখ্যু ছেলে”, বলবে আমায় “গো গর্ধভ !”
কেউ কি জানে দিনের বেলায় কোথায় পালায় ঘুমের ঘোর ?
বর্ষা হলেই ব্যাঙের গলায় কোত্থেকে হয় এমন জোর ?
গাধার কেন শিং থাকেনা, হাতির কেন পালক নেই ?
গরম তেলে ফোড়ন দিলে লাফায় কেন তাধেই ধেই ?
সোডার বোতল খুললে কেন ফঁসফঁসিয়ে রাগ করে ?
কেমন করে রাখবে টিকি মাথায় যাদের টাক পড়ে ?
ভূত যদি না থাকবে তবে কোত্থেকে হয় ভূতের ভয় ?
মাথায় যাদের গোল বেধেছে তাদের কেন “পাগোল” কয় ?
কতই ভাবি এসব কথা, জবাব দেবার মানুষ কই ?
বয়স হলে কেতাব খুলে জানতে পাব সমস্তই ।

Advertisements

ছোটগল্প ৬৭ – রতনবাবু আর সেই লোকটা / Short Story 67 – Ratanbabu Ar Shei Lokta (Reflection)

Satyajit Ray-Ratanbabu Ar Shei Lokta 1পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Ratanbabu Ar Shei Lokta

রতনবাবু আর সেই লোকটা – সত্যজিৎ রায়

পাঠকের কি কখনো মনে হয়, যে যদি প্রতিটি মানুষের মত হুবহ আরেকজন যদি থাকত, যার চেহারা থেকে শুরু করে চিন্তা-ভাবনা আচার আচরণ প্রথমজনেরই মত? অন্যের মাঝে নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখতে পেয়ে কি আমাদের ভাল লাগত? হয়তোবা। কিন্তু আমাদের নিজেদের ভিতরকার যেই অন্ধকারটুকু আমরা ভয় করি, সেটাও যদি হুবহু অন্য কারও মধ্যে থাকে, আর তারই সাথে যদি কখনো দেখাও হয়ে যায়, তাহলে? সে সম্ভাবনা নিয়েই সত্যজিৎ রায়ের এই গল্প।

Ratanbabu Ar Shei Lokta (Reflection) – Satyajit Ray

Have you ever thought how it would be like if each of us had a double? Perhaps knowing that there is one person who looks and thinks exactly like you, feels the same things, and understands you like no other would be comforting. What though, if that person understands you too well, and has the same vices and dark sides at (s)he knows you to have? In Ratanbabu Ar Shei Lokta (Reflection), Satyajit Ray explores what could happen.

কবিতা ২১ – সংকল্প / Poem 21 – Sankalpa (Resolution)

এবার নজরুলের একটি কবিতা, যা প্রতিটি অনুসন্ধিৎসু বাঙ্গালী তরুণ-তরুণীরই জানা উচিত। ঘরে-অফিসে বসে যারা পরনিন্দা-পরচর্চা করে সময় কাটান, তাদের জন্যে না, বরং দৃপ্ত-দৃঢ় জ্ঞানপিপাসুদের জন্যে নজরুলের লেখা এই সংকল্প।

This time, a resolution by Nazrul. Not for those who gossip or the faint of heart, but for those who are curious and firm in their pursuit of knowledge. Sankalpa (Resolution) is very much a poem for the youth.

সংকল্প

থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে, –
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছে তারা কেমন করে,
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে,
কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরন-যন্ত্রণারে।।

কেমন করে বীর ডুবুরি সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে,
কেমন করে দুঃসাহসী চলছে উড়ে স্বর্গপানে।
জাপটে ধরে ঢেউয়ের ঝুঁটি
যুদ্ধ-জাহাজ চলছে ছুটি,
কেমন করে আনছে মানিক বোঝাই করে সিন্ধু-যানে,
কেমন জোরে টানলে সাগর উথলে ওঠে জোয়ার-বানে।

কেমন করে মথলে পাথার লক্ষ্মী ওঠেন পাতাল ফুঁড়ে,
কিসের আভিযানে মানুষ চলছে হিমালয়ের চুড়ে।
তুহিন মেরু পার হয়ে যায়
সন্ধানীরা কিসের আশায়;
হাউই চড়ে চায় যেতে কে চন্দ্রলোকের অচিন পুরে;
শুনবো আমি, ইঙ্গিত কোন ‘মঙ্গল’ হতে আসছে উড়ে।।

কোন বেদনায় টিকি কেটে চণ্ডু-খোর এ চীনের জাতি
এমন করে উদয়-বেলায় মরণ-খেলায় ওঠল মাতি।
আয়র্লণ্ড আজ কেমন করে
স্বাধীন হতে চলছে ওরে;
তুরস্ক ভাই কেমন করে কাটল শিকল রাতারাতি!
কেমন করে মাঝ-গগনে নিবল গ্রীসের সূর্য-বাতি।।

রইব না কো বদ্ধ খাঁচায়, দেখব এ-সব ভুবন ঘুরে-
আকাশ-বাতাস চন্দ্র-তারায় সাগর-জলে পাহাড়-চুঁড়ে।
আমার সীমার বাঁধন টুটে
দশ দিকেতে পড়ব লুটে;
পাতাল ফেড়ে নামব নীচে, ওঠব আবার আকাশ ফুঁড়ে;
বিশ্ব- জগৎ দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।।

– কাজী নজরুল ইসলাম

ছোটগল্প ৬৬ – প্রফেসর শঙ্কু – মানরো দ্বীপের রহস্য / Short Story 66 – Professor Shanku – Manrow Dwiper Rahasya (The Manrow Island Mystery)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Manrow Dwiper Rahasya 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Manrow Dwiper Rahasya

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – মানরো দ্বীপের রহস্য – সত্যজিৎ রায়

আবার শঙ্কু, আর এর আগে তুলে দেওয়া গল্পটির বর্ণনার মত এবারো গল্প থেকে উদ্ধৃতি দিয়েই শুরু করছি –

এই দ্বীপে পৌছানোর আগে গত তিন সপ্তাহের ঘটনা সবই আমার ডায়রিতে বিক্ষিপ্তভাবে লেখা আছে। হাতে যখন সময় পেয়েছি তখন সেগুলোকেই একটু গুছিয়ে লিখে রাখছি।

আমি যে আবার এক অভিযানের দলে ভিড়ে পড়েছি, সেটা বোধহয় আর বলার দরকার নেই। এই দ্বীপের হয়তো একটা নাম থাকতে পারে, কারণ আজ থেকে তিনশো বছর আগে এখানে মানুষের পা পড়েছিল, কিন্তু সে নাম সভ্য জগতে পৌঁছায়নি। আমরা এটাকে আপাতত মানরো দ্বীপ বলেই বলছি।

আমরা দলে আছি সবশুদ্ধ পাঁচজন। তার মধ্যে একজন হল আমার পুরনো বন্ধু জেরেমি সন্ডার্স, যার উদ্যোগেই এই অভিযান। এই উদ্যোগের গোঁড়ার কথা বলতে গেলে বিল ক্যালেনবাখের পরিচয় দিতে হয়। ইনিও আমাদের দলেরই একজন। ক্যালিফোর্নিয়ার অধিবাসী, দীর্ঘকায় বেপরোয়া শক্তিমান পুরুষ, পেশা ছবি তোলা। বয়স পয়তাল্লিশ হতে চলল, কিন্তু চালচলন তার অর্ধেক বয়সের যুবার মতো। ক্যালেনবাখের সঙ্গে সন্ডার্সের পরিচয় বেশ কয়েক বছরের। গত ডিসেম্বরে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকার তরফ থেকে ক্যালেনবাখ গিয়েছিল উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি শহরে কিছু স্থানীয় উৎসবের ছবি তুলতে। মোরক্কোর আগাদির শহরে এসে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। আগাদির সমুদ্রতীরের শহর, সেখানে অনেক জেলের বাস। ক্যালেনবাখ জেলেপাড়ায় গিয়েছিল সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের ছবি তুলতে। একটি জেলের বাড়িতে ঢুকে তার চোখ পড়ে মালিকের বছরতিনেকের একটি ছেলের উপর। ছেলেটি হাতে একটা ছিঁপিআটা বোতল নিয়ে খেলা করছে। বোতলের ভিতরে কাগজ দেখতে পেয়ে ক্যালেরবাখের কৌতুহল হয়। সে ছেলেটির হাত থেকে বোতল নিয়ে দেখে তার ছিপি সিল করে বন্ধ করা এবং ভিতরের কাগজটা হল ইংরেজীতে লেখা একটা চিঠি। হাতের লেখার ধাঁচ থেকে মনে হয় সে চিঠি বহুকালের পুরনো। ছেলেটির বাপকে জিজ্ঞেস করে ক্যালেনবাখ জানে যে ওই বোতল নাকি তার ঠাকুরদাদার আমল থেকে তাদের বাড়িতে আছে। জেলেরা জাতে মুসলমান, আরবি ভাষায় কথা বলে, তাই বোতল থেকে চিঠি বের করে পড়ার কোন প্রশ্ন ওঠেনি।

সেই চিঠি ক্যালেনবাখ বোতল থেকে বার করে পড়ে এবং পড়ার অল্পদিনের মধ্যেই তার কাজ সেরে চলে যায় লন্ডনে। সেখানে সন্ডার্সের সঙ্গে দেখা করে চিঠিটা তাকে দেখায়। পেনসিলে লেখা মাত্র কয়েক লাইনের চিঠি। সেটার বাংলা করলে এই দাঁড়ায় –

ল্যাটিচিউড ৩৩ ডিগ্রি ইস্ট – লঙ্গিচিউড ৩৩ ডিগ্রি নর্থ,

১৩ ডিসেম্বর ১৬২২

এই অজানা দ্বীপে আমরা এমন এক আশ্চর্য উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছি যার অমৃততুল্য গুণ মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এই সংবাদ প্রচারের জন্য ব্র্যান্ডনের নিষেধ সত্ত্বেও এ চিঠি আমি বোতলে ভরে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দিচ্ছি। ব্ল্যাকহোল ব্র্যান্ডন এখন এই দ্বীপের অধীশ্বর। অতএব এই চিঠি পড়ে কোনও দল যদি এই উদ্ভিদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এখানে আসে, তারা যেন ব্র্যান্ডনের সাথে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হয়ে আসে। আমি নিজে ব্র্যান্ডনের হাতের শিকার হতে চলেছি।

হেক্টর মানরো

Professor Shanku’s Adventures – Manrow Dwiper Rahasya (The Manrow Island Mystery) – Satyajit Ray

Professor Shanku again. This time, Shanku finds himself in an expedition to an island in which presumably no one had set foot for the last three centuries. The reason – a message in a bottle from a certain Dr. Hector Manrow, who was traveling in a ship that had been looted by Caribbean pirates in 1622. Apparently, the pirates and Manrow became stranded soon after that in an island. But what was interesting to the explorers was Manrow’s disclosure that the island had a certain fruit whose near-ambrosia like benefits could change human civilization forever.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Manrow Dwiper Rahasya 2

ছোটগল্প ৬৫ – প্রফেসর শঙ্কু – মহাকাশের দূত / Short Story 65 – Professor Shanku – Mahakasher Dut (The Messenger from the Stars)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Mahakasher Dutপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Mahakasher Dut

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – মহাকাশের দূত – সত্যজিৎ রায়

এবারের গল্পের অনেকটুকু সেটির নাম থেকেই বোঝা যায়, তাই এবার নাহয় গল্পের খানিকটা অংশই তুলে দেই –

“তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যে এই পাঁচ হাজার বছরের হিসেবে ক্রমশ পিছিয়ে গেলে বেশ কয়েকটা আশ্চর্য তথ্য বেরিয়ে পড়ে? পাঁচ হাজার বছর আগে ঈজিপ্টের স্বর্ণযুগের শুরু সে তো দেখেইছি। আরও পাঁচ হাজার পিছোলে দেখছি মানুষ প্রথম কৃষিকার্য শুরু করেছে, নিজের চেষ্টায় ফসল উৎপাদন করছে। আরও পাঁচ হাজার পিছিয়ে গেলে দেখছি মানুষ প্রথম হাড় ও হাতির দাঁতের হাতিয়ার, বর্শার ফলক, মাছের বঁড়শি ইত্যাদি তৈরী করছে, আবার সেইসঙ্গে গুহার দেওয়ালে ছবি আঁকছে। ত্রিশ হাজার বছর আগে দেখছি মানুষের মস্তিস্কের আকৃতি বদলে গিয়ে আজকের মানুষের মতো হচ্ছে…। পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসের অনেক অধ্যায় আজও আমাদের কাছে অস্পষ্ট, কিন্তু এই পাঁচের হিসেবে যেটুকু ধরা পড়ছে সেটা আশ্চর্য নয় কি?”

মানব ইতিহাসে বড় বড় অগ্রগতিগুলোর সাথে সমপাতিক একটি ছোট্ট মহাজাগতিক পুনরাবৃত্তির গল্প মহাকাশের দূত , এবং প্রফেসর শঙ্কুর সবচেয়ে ভাবনা-উদ্রেককারী গল্পগুলির মধ্যে একটি।

Professor Shanku’s Stories – Mahakasher Dut (The Messenger from the Stars) – Satyajit Ray

Another of Professor Shanku’s adventures. Mahakasher Dut (The Messenger from Space) is the story of an extraterrestrial event that apparently repeats in synchrony with major events in human history, with the coming occurrence predicted to be in Prof. Shanku’s timeline. This story is undoubtedly one of the most thought provoking of the scientist’s adventures.

ছোটগল্প ৬৪ – প্রফেসর শঙ্কু – ডঃ শেরিং এর স্মরণশক্তি / Short Story 64 – Professor Shanku – Dr. Sherring er Smaranshakti (The Remembrance of Dr. Sherring)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Dr Shering er Smaranshakti 1পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Dr Shering er Smaranshakti

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – ডঃ শেরিং এর স্মরণশক্তি – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কুর এই গল্পটির পটভূমি সুইটজারল্যান্ড। শঙ্কুর সেখানে যাওয়ার কারণ দুটো – এক, ইউরোপের বৈজ্ঞানিকমহলের সামনে তার সদ্য আবিস্কৃত স্মরণশক্তি বাড়ানোর যন্ত্র রিমেমব্রেনের কার্যকরিতার প্রমাণ দেওয়া, আর দুই, রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় স্মৃতিশক্তি হারানো এক বৈজ্ঞানিকের হারানো স্মৃতি ফিরিয়ে আনা। স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলার আগে ডঃ শেরিং একটি গোপন বিষয় নিয়ে গবেষণা করছিলেন, যা শেষ হওয়ার আগেই তিনি আর সেই গবেষণায় তার সহকর্মী ডঃ লুবিন পাহাড়ের গায়ে দুর্ঘটনাটির শিকার হন। দুর্ঘটনায় শেরিং বেচে গেলেও লুবিন মারা যান, আর গবেষণার কাগজপত্রসমেত তাদের গাড়িচালক নিশ্চিহ্ন হয়ে যান। শঙ্কুর যন্ত্র শেরিং এর উপর কাজ করলেও দুর্ঘটনার কারণ আর কাগজগুলোর হদিস সম্বন্ধে তিনি কিছুই জানাতে পারেন না। শঙ্কুর সন্দেহ হয়, যে বৈজ্ঞানিকদের এই পরিণতির কারণ নিছক দুর্ঘটনা নয়, যদিও আসল ঘটনার অনেকটুকুই তখনো ঘটতে বাকি।

Professor Shanku’s Stories – The Remembrance of Dr. Shering – Satyajit Ray

In this story, Shanku finds himself in Switzerland in an attempt to recover the memories of a certain Dr. Sherring, who had been working on a top secret project before losing his memory in a traffic accident. While Dr. Sherring had survived, his co-worker on the project, Dr. Lubin, did not. More perplexingly, however, no body of the driver of their car is found, as are the documents of their research. While Shanku’s latest invention, the remembrain, succeeds in restoring Dr. Sherring’s memory, he fails to shed any light on the accident. Salvaging the documents seems to be an impossibility, until Shanku realizes that the accident , after all, might not have been one.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Dr Shering er Smaranshakti 2

গল্প ৬৩ – ফেলুদা – হত্যাপুরী / Story 63 – Feluda – Hatyapuri (Murder Town)

Satyajit Ray-Feluda-Hatyapuri (2)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Hatyapuri

ফেলুদার গল্প – হত্যাপুরী – সত্যজিৎ রায়

অনেকদিন পর আবার ফেলুদার আরেকটি গল্প। গ্রীষ্মের কলকাতার চিরচেনা লোডশেডিং আর মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে ফেলুদা, তোপসে ও লালমোহনবাবু সিদ্ধান্ত নেন যে পুরীর সমুদ্রসৈকত ঘুরে আসবেন। উদ্দেশ্য – সমুদ্রের ধারে কদিন কাটিয়ে একটু ঠান্ডা হয়ে আসা। পুরীতে গিয়ে অবশ্য শুধু তাদের ভ্রমণই হয়, তা নয়। ঘটনাচক্রে ফেলুদার সাথে বিচিত্র কিছু মানুষের দেখা হয়ে যায়, যাদের একজন বন্যপ্রাণীর ছবি তোলেন, আর আরেকজন যিনি মানুষের কপালে হাত দিয়ে তাদের ভাগ্য পড়তে পারেন। প্রথমে কিছু না বোঝা গেলেও ফেলুদার কাছে ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ঐ দুজন খুব ভিন্ন মানুষসহ আরও বেশ কয়েকজনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত কিছু ঘটনার একমাত্র যোগসুত্র ডি.জি. সেন নামের এক রহস্যজনক ব্যক্তি, যার সাথে ফেলুদার এক জ্যাঠার আলাপ ছিল এককালে।

Feluda’s Adventures – Hatyapuri (Murder Town) – Satyajit Ray

A Feluda upload this time. With the summer heat in Kolkata becoming unbearable, Feluda, Topshe and Lalmohon Babu decides to go to the beaches of Puri to cool off. However, in the course of their travels in Puri, they come across two intriguing characters – a wildlife photographer who has returned from Nepal and an astrologer who can read one’s past and the future by touching his/her forehead. While not obvious at first, it soon becomes clear to Feluda that strange events involving these two men and a few others in Puri are strung by a common thread – a mysterious man named D. G. Sen, who a certain uncle of Feluda used to know.

Satyajit Ray-Hatyapuri 2

ছোটগল্প ৬২ – ঘনাদা – মশা / Short Story 62 – Ghanada – Mosha (Mosquito)

Premendra Mitra-Ghanada-Moshaপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Premendra Mitra-Mosha

ঘনাদার গল্প – মশা – প্রেমেন্দ্র মিত্র

এবার এমন একজন চরিত্রকে নিয়ে গল্প, সামান্যতম জিনিস থেকে অসামান্য গুল বানাতে ও মারতে যার জুড়ি মেলা ভার। ঘনশ্যাম দাশ ওরফে ঘনাদা থাকেন কলকাতার চির একঘেয়ে গলিগুলোরই কোনটির কোন মেসে। অন্যদের কাছ থেকে সিগারেট ধার করে, তাদের উপর খেয়ে, আর মাসের শেষে মেসভাড়াটা দিতে ভুলে যেতে যেতেই দিন কাটে তার। ঘনাদার হাবভাবে অবশ্য মনে হয় যে কলকাতার ওই কোণটিতে তিনি নেহাৎ করুণা করেই থাকেন। হাজার হোক, নাৎসী সৈন্য ঘায়েল থেকে পুরো প্রশান্ত মহাসাগরের জীববৈচিত্র রক্ষার মত কাজগুলো যিনি অনায়াসে করেন, তার তো নিদেনপক্ষে একটা প্রাসাদ থাকার কথা। তবে আজকের পোস্টটা সেসব নিয়ে নয়, বরং ঘনাদার জীবনের প্রথম ও শেষ মশা মারা নিয়ে, আর তা নেহাৎ পাঠকদের ঘরে প্যান-প্যান করা মামুলি মশার গল্প নয়।

Ghanada’s Advantures – Mosha (Mosquito) – Premendra Mitra

If there is a master raconteur among Bangla literary characters, it is Ghanashyam Das a.k.a Ghanada. Ghanada lives in a mess in one of Kolkata’s featureless alleys, spending his days borrowing cigarettes from others and eating on their generosity. He makes up for it, though, with fantastical narrations of his past exploits, which usually involve mundane tasks such as tackling Nazis and saving the Pacific from biological threats. In this upload, he narrates the only time he killed a mosquito, which, to be expected, was not of the garden variety.

ছোটগল্প ৬১ – টেরোড্যাক্টিলের ডিম / Short Story 61 – Pterodactyl er Dim (The Pterodactyl’s Egg)

Satyajit Ray-Pterodactyl Er Dim

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Pterodactyl er Dim

টেরোড্যাক্টিলের ডিম – সত্যজিৎ রায়

দিনের সমস্ত কাজের শেষে গঙ্গার ধারে বসে থেকে বদনবাবু যখন তার আদরের ছেলের জন্যে মনে মনে একটি গল্প ফাঁদছেন, তখন হঠাৎই অদ্ভুত এক যন্ত্রসমেত একজন আগন্তুকের আবির্ভাব হয়। কথায় কথায় লোকটি কি করেন না করেন, সেসব কথা উঠে আসে, আর বদনবাবু ক্রমশই জানতে পারেন যে পর্যটক শুধু জলের আর স্থলের উপর ভ্রমনকারীরাই নন, সময়েরও।

The Pterodactyl’s Egg – Satyajit Ray

While unwinding by the Ganges after a long day’s work and trying to come up with a story to tell his little son, Badanbabu comes across a strange man carrying an even stranger contraption. After the initial awkwardness conversation, the man opens up, and Badanbabu learns that travel is not only possible in space, but also time.