ছোটগল্প ৮২ – প্রফেসর শঙ্কু – ব্যোমযাত্রীর ডায়রি / Short Story 82 – Professor Shanku – Byomjatrir Diary (The Diary of the Space Traveler)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – ব্যোমযাত্রীর ডাইরি – সত্যজিৎ রায়

এবারের আপলোডটি প্রফেসর শঙ্কুকে নিয়ে লেখা সত্যজিৎ রায়ের প্রথম গল্প। শঙ্কুর অন্যান্য গল্পগুলোর মতো এটিও দারুণ, তবে এটির লেখার ধরণ কিন্তু আলাদা। যেখানে অন্য সব গল্পে শঙ্কু ঋষিসুলভ ধৈর্য আর সংযমের অধিকারী, এই গল্পে শঙ্কু সোজা কথায় খানিকটা পাগলাটে একজন বিজ্ঞানী। ফেলুদার মতো শঙ্কুরও পরিণত হয়ে ওঠা ঘটে সত্যজিতের পরের গল্পগুলোতে, খুব সম্ভবত এই কারণে যে লেখক হয়তো প্রথম দিকে চরিত্রগুলোকে শিশুদের কথা ভেবেই কল্পনা করেছিলেন।

ব্যোমযাত্রীর ডাইরি – প্রফেসর শঙ্কুর প্রথম (অন্যভাবে চিন্তা করলে হয়তোবা শেষ) গল্প।

Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary 2

Professor Shanku’s Stories – Byomjatrir Diary (The Diary of the Space Traveler) – Satyajit Ray

This upload is the first story that Satyajit Ray wrote on Professor Shanku. Like Feluda in his first adventure, Shanku too appears as a very different person – a somewhat mad scientist rather than the sage-like figure that he develops into Ray’s later writings. One possible reason for this could be that Ray might have initially written both characters keeping children in mind. Regardless, this one is particularly for those who love mad-scientists – Shanku’s first (and perhaps last) adventure.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary 3

কবিতা ২৫ – দুই বিঘা জমি / Poem 25 – Dui Bigha Jomi (Two Bighas of Land)

Rabindranath Thakur-Dui Bigha Jomi

বাংলার গ্রামীণ সমাজের শ্রেণীবিভেদ আর দুর্বলের উপর সবলের অনাচার-অবিচার নিয়ে লেখা রবিঠাকুরের অমর কবিতাদুই বিঘা জমি। বাংলা সাহিত্যের সবচাইতে বিখ্যাত পদ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম এই কবিতাটির পটভূমি আমাদের চেনা গঙ্গা/পদ্মা পারেরই কোন গ্রাম, আর মূল চরিত্র ভূমিহীন উদ্বাস্তু একজন কৃষক, যে তার হারানো জমিকে একবার দেখার আশায় নিজ গ্রামে ফিরে আসে। দুই বিঘা জমি  বাংলার কৃষকের চিরন্তন দুঃখের একটি কবিতা, আর সেকারণেই বাঙ্গালীর মানসে কবিতাটির স্থান বিশেষ উচ্চতায়।

Dui Bigha Jomi (Two Bighas of Land) is perhaps one of the most famous poems in Bangla literature. Written from the perspective of a farmer who was displaced from his land by a landlord, the poem depicts the centuries-old cycle of oppression by the powerful on the farmers of not only rural Bengal, but perhaps in similar societies across the the world. Dui Bigha Jomi is the tale of a man who has lost it all, and so descriptive of rural Bengal that it is a must-read for every Bangalee.

দুই বিঘা জমি

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই   আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, “বুঝেছ উপেন,   এ জমি লইব কিনে।’
কহিলাম আমি, “তুমি ভূস্বামী,   ভূমির অন্ত নাই।
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর   মরিবার মতো ঠাঁই।’
শুনি রাজা কহে, “বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখান
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে   সমান হইবে টানা–
ওটা দিতে হবে।’ কহিলাম তবে   বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজল চক্ষে, “করুণ বক্ষে   গরিবের ভিটেখানি।
সপ্ত পুরুষ যেথায় মানুষ   সে মাটি সোনার বাড়া,
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে   এমনি লক্ষ্মীছাড়া!’
আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল   রহিল মৌনভাবে,
কহিলেন শেষে ক্রূর হাসি হেসে,  “আচ্ছা, সে দেখা যাবে।’

পরে মাস দেড়ে ভিটে মাটি ছেড়ে   বাহির হইনু পথে–
করিল ডিক্রি, সকলই বিক্রি   মিথ্যা দেনার খতে।
এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায়   আছে যার ভূরি ভূরি–
রাজার হস্ত করে সমস্ত   কাঙালের ধন চুরি।
মনে ভাবিলাম মোরে ভগবান   রাখিবে না মোহগর্তে,
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল   দু বিঘার পরিবর্তে।
সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে   হইয়া সাধুর শিষ্য
কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য!
ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে   যখন যেখানে ভ্রমি
তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারি নে   সেই দুই বিঘা জমি।
হাটে মাঠে বাটে এই মতো কাটে   বছর পনেরো-ষোলো–
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে   বড়ই বাসনা হল।

নমোনমো নম সুন্দরী মম   জননী বঙ্গভূমি!
গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর,   জীবন জুড়ালে তুমি।
অবারিত মাঠ, গগনললাট  চুমে তব পদধূলি,
ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়   ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।
পল্লবঘন আম্রকানন   রাখালের খেলাগেহ,
স্তব্ধ অতল দিঘি কালোজল–  নিশীথশীতল স্নেহ।
বুকভরা মধু বঙ্গের বধূ   জল লয়ে যায় ঘরে–
মা বলিতে প্রাণ করে আনচান,   চোখে আসে জল ভরে।
দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে   প্রবেশিনু নিজগ্রামে–
কুমোরের বাড়ি দক্ষিণে ছাড়ি   রথতলা করি বামে,
রাখি হাটখোলা, নন্দীর গোলা, মন্দির করি পাছে
তৃষাতুর শেষে পঁহুছিনু এসে   আমার বাড়ির কাছে।

ধিক্‌ ধিক্‌ ওরে, শতধিক্‌ তোরে,   নিলাজ কুলটা ভূমি!
যখনি যাহার তখনি তাহার,   এই কি জননী তুমি!
সে কি মনে হবে একদিন যবে   ছিলে দরিদ্রমাতা
আঁচল ভরিয়া রাখিতে ধরিয়া   ফল ফুল শাক পাতা!
আজ কোন্‌ রীতে কারে ভুলাইতে   ধরেছ বিলাসবেশ–
পাঁচরঙা পাতা অঞ্চলে গাঁথা, পুষ্পে খচিত কেশ!
আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগি   গৃহহারা সুখহীন–
তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী,   হাসিয়া কাটাস দিন!
ধনীর আদরে গরব না ধরে !   এতই হয়েছ ভিন্ন
কোনোখানে লেশ নাহি অবশেষ   সেদিনের কোনো চিহ্ন!
কল্যাণময়ী ছিলে তুমি অয়ি,   ক্ষুধাহরা সুধারাশি!
যত হাসো আজ যত করো সাজ   ছিলে দেবী, হলে দাসী।

বিদীর্ণ হিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া   চারি দিকে চেয়ে দেখি–
প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে,   সেই আমগাছ একি!
বসি তার তলে নয়নের জলে   শান্ত হইল ব্যথা,
একে একে মনে উদিল স্মরণে   বালক-কালের কথা।
সেই মনে পড়ে জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে  রাত্রে নাহিকো ঘুম,
অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি   আম কুড়াবার ধুম।
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর,   পাঠশালা-পলায়ন–
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায়   ফিরে পাব সে জীবন!
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস   শাখা দুলাইয়া গাছে,
দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল   আমার কোলের কাছে।
ভাবিলাম মনে বুঝি এতখনে   আমারে চিনিল মাতা,
স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে   বারেক ঠেকানু মাথা।

হেনকালে হায় যমদূত-প্রায়  কোথা হতে এল মালী,
ঝুঁটি-বাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে   পাড়িতে লাগিল গালি।
কহিলাম তবে, “আমি তো নীরবে   দিয়েছি আমার সব–
দুটি ফল তার করি অধিকার,   এত তারি কলরব!’
চিনিল না মোরে, নিয়ে গেল ধরে  কাঁধে তুলি লাঠিগাছ–
বাবু ছিপ হাতে পারিষদ-সাথে   ধরিতেছিলেন মাছ।
শুনি বিবরণ ক্রোধে তিনি কন,   “মারিয়া করিব খুন!’
বাবু যত বলে পারিষদ-দলে   বলে তার শতগুণ।
আমি কহিলাম, “শুধু দুটি আম  ভিখ মাগি মহাশয়!’
বাবু কহে হেসে, “বেটা সাধুবেশে   পাকা চোর অতিশয়।’
আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি,   এই ছিল মোর ঘটে–
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ,   আমি আজ চোর বটে!

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (কাহিনী  হতে সংগ্রহীত)

গল্প ৮১ – ফেলুদা – নেপোলিয়নের চিঠি / Story 81 – Feluda – Napoleon er Chithi (Napoleon’s Letter)

Satyajit Ray-Feluda-Napoleon er Chithiপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Napoleon er Chithi

ফেলুদার গল্প – নেপোলিয়নের চিঠি – সত্যজিৎ রায়

ফেলুদার এই গল্পের শুরুটা খানিকটা আকস্মিক। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের এক খেলনার দোকানে এক আলাপীর জন্যে উপহার কিনতে গিয়ে এক ক্ষুদে ভক্তের সাথে ফেলুদার দেখা হয়ে যায়, আর ভক্তও দেরী না করে ফেলুদাকে তার পোষা টিয়ে হারিয়ে যাওয়ার তদন্তের আর্জি জানিয়ে বসে। অবশ্য রহস্য উদঘাটন নয়, বরং শ্রীমান অনিরুদ্ধ হালদারের মন ভাল করতেই ফেলুদারা একদিন গিয়ে হাজির হন হালদারবাড়িতে। ঘটনাচক্রে ফেলুদারা সেই বাড়িতে থাকা অবস্থাতেই একটি রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে, আর তার সাথে সাথে হালদার পরিবারের মহামূল্য একটি সম্পত্তি – নেপোলিয়নের শেষজীবনে লেখা একটি চিঠি – রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটির তদন্তের ভার ফেলুদার হাতে পড়ে, আর সেটা করতে গিয়ে তার কাছে ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই যে ছোট্ট অনিরুদ্ধের পাখি হারিয়ে যাওয়াকে বড়রা তেমন পাত্তা না দিলেও নেপোলিয়নের চিঠি লোপাটের চাইতে সেটাও কম অদ্ভুত কোন রহস্য নয়।

Feluda’s Stories – Napoleon er Chithi (Napoleon’s Letter) – Satyajit Ray

This investigation of Feluda starts somewhat unexpectedly. While in a toy shop to buy a gift for an acquaintance, Feluda comes across a young fan by the name of Aniruddha Haldar, who asks him if he can find out his lost parrot. More to give the little boy some time than find his bird, Feluda agrees to look into the matter, and true to his word, visits him after a few days. However, things go wrong when Feluda and his companions visit the Haldar House. Aniruddha’s grandfather, an antiquities collector, is found dead, and his most prized collection – one of the last ever letters written by Napoleon Bonaparte – goes missing. The case of the parrot is forgotten as Feluda is asked to investigate the developments, but it soon becomes clear to the detective that neither of the two cases are less intriguing than, or perhaps different from, the other.

ছোটগল্প ৮০ – নিমগাছ / Short Story 80 – Neemgachh (The Neem Tree)

Banaful-Neem Gachh 2

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Neem Gachh

নিমগাছ – বনফুল

এবার বাংলার চিরঅবহেলিত নারীদের নিয়ে লেখা একটি গল্প, বনফুলের কলমে। গল্পটি পিডিএফের সাথে সাথে এই পৃষ্ঠাতেও তুলে দিলাম।

Neemgachh (The Neem Tree) – Banaful

This time, a metaphorical representation of the women of Bangla, by Banaful.

কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে।
পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ।
কেউ বা ভাজছে গরম তেলে।
খোস দাদ হাজা চুলকুনিতে লাগাবে।
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ।
কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে।
এমনি কাঁচাই…..

কিংবা ভেজে বেগুন- সহযোগে।
যকৃতের পক্ষে ভারী উপকার।
কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক…। দাঁত ভালো থাকে।
কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুসী হন।
বলেন-”নিমের হওয়া ভাল, থাক, কেটো না।”
কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না।
আবর্জনা জমে এসে চারিদিকে।
শান দিয়ে বাধিয়েও দেয় কেউ- সে আর এক আবর্জনা।
হঠাৎ একদিন একটা নূতন ধরণের লোক এল।
মুগ্ধ দৃষ্টিতে বেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙ্গলে না। মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু।
বলে উঠলো, “বাঃ কি সুন্দর পাতাগুলো…..কি রূপ। থোকা থোকা ফুলেরই বা কি বাহার….এক ঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে। বাঃ–”
খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল।`
কবিরাজ নয়, কবি।
নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু পারলে না।মাটির ভেতর শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে। বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে।
ওদের বাড়ীর গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্ণী বউটার ঠিক এই দশা।

ছোটগল্প ৭৯ – বীরেন্দ্রনারায়ণ / Short Story 79 – Birendranarayan

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Birendranarayan

বীরেন্দ্রনারায়ণ – বনফুল

সততা, দোর্দন্ড প্রতাপ, চরিত্র, খেলোয়াড়ি মনোভাব, শ্রদ্ধা, মনের মাপ – একজন ডাক্তার বনাম একজন জমিদারের লড়াই নিয়ে লেখা বনফুলের আরেকটি অসাধারণ গল্প।

Birendranarayan – Banaful

Honesty, might, character, attitude, sportsmanship, respect, honor – another wonderful short-story by Banaful, and this time, about the face-off between a doctor and zamindar.

কবিতা ২৪ – কাজলা দিদি / Poem 24 – Kajla Didi

Jatindramohan Bagchi-Kajla Didi 1

ছেলেবেলায় কাজলা দিদি  কবিতাটা যখন পড়তাম, তখন চোখে খুব জল আসত। এখন যখন পড়ি, খুব কাছের একজন মানুষের কথা মনে পড়ে। জানিনা কেন, কারণ মানুষটি আমার জীবনে এখনো বর্তমান। সে প্রায়ই চলে যাওয়ার কথা ভাবে, তাই হয়ত। কাজলা দিদি – একটি কবিতা, যা বোনকে ভালবাসে এমন প্রত্যেকটি ছেলেদের জন্য।

Of the poems I read in my childhood, Kajla Didi remains one of the few poems that still affect me to this day. A poem about a child’s untarnished love for his/her sister should not affect me so much, for I don’t have a sister. Perhaps it does because it hits the part of my subconscious that has sought siblinghood with certain women in my life. If you are one of those unlucky ones, then this is my apology to you.

কাজলা দিদি

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই;
মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সেদিন হতে দিদিকে আর কেনই-বা না ডাকো,
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে ডাকি, তখন
ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো,
আমি ডাকি, – তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
বল মা, দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে!
দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে-
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে?
আমিও নাই দিদিও নাই কেমন মজা হবে!

ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল,
মাড়াস নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল;
ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে,
দিস না তারে উড়িয়ে মা গো, ছিঁড়তে গিয়ে ফল;
দিদি এসে শুনবে যখন, বলবে কী মা বল!

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
এমন সময়, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?
বেড়ার ধারে, পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোঁপে-ঝাড়ে;
নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না- তাইতো জেগে রই;
রাত হলো যে, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?

– যতীন্দ্রমোহন বাগচী