গল্প ৮৭ – ফেলুদা – এবার কান্ড কেদারনাথে / Story 87 – Feluda – Ebar Kando Kedarnath e (This Time in Kedarnath)

Satyajit Ray-Feluda-Ebar Kando Kedarnath e

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Ebar Kando Kedharnath e

ফেলুদার গল্প – এবার কাণ্ড কেদারনাথে – সত্যজিৎ রায়

ফেলুদার যেসব গল্পগুলোর পটভূমি পাহাড়ের কোলে, সেগুলোতে কেন জানি অন্যরকম একটা রোমাঞ্চের একটা আবহ থাকে। এবার কাণ্ড কেদারনাথেও তার ব্যতিক্রম নয়। গল্পের শুরুটা হয় ফেলুদাদের কলকাতার বাড়িতে ভারতেরই কোন এক প্রাক্তন রাজ্যের রাজসহকারীর আসা দিয়ে। উপমহাদেশ যখন ব্রিটিশদের দখলে, সেই সময় সেই রাজ্যটির রাজা চন্দ্রদেও তার রোগ সারিয়ে দেওয়ার জন্যে হৃষিকেশের একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তারকে গোপনে উপহারস্বরূপ একটি মহামূল্য উপহার দেন। উমাশঙ্কর পুরীর কলকাতায় আসার উদ্দেশ্য ছিল এক বিশেষ কারণে এতদিন পর সেই ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় সেই ডাক্তারের উপর যাতে কোন বিপদ না নেমে আসে। অর্থাৎ ফেলুদা যেন সেই ডাক্তার কে অন্য কারো আগে খুঁজে বের করে বিপদমুক্ত করেন। ফেলুদা কেসটি হাতে নেয়, কিন্তু হৃষিকেশের পথে রওয়ানা দেওয়ার মাত্র ক’দিন আগে উমাশঙ্করের কাছ থেকে টেলিগ্রাম আসে – ‘রিকোয়েস্ট ড্রপ কেস। লেটার ফলোজ।’। ফেলুদা উত্তর পাঠায় – ‘ড্রপিং কেস, বাট গোইং অ্যাজ পিলগ্রিমস।’। গোয়ান্দাভিযান শেষপর্যন্ত উদ্দেশ্য বদলে তীর্থযাত্রা হয়ে গেলেও ফেলুদা স্বভাবতই তীর্থে গিয়ে চোখ-কান খোলা রাখে, আর সেখানে যা তার নজরে আসে, তা দেখে রহস্যময় সেই ডাক্তারকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তাকে সেই চিরচেনা গোয়েন্দার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়।

এই গল্পটির শেষ অংশটুকু একটু কাকতালীয়, কিন্তু সেই অপ্রত্যাশিতটুকু বাদে আর সবটুকুই আমাদের চিরচেনা উত্তেজনায় ঠাসা।

Feluda’s Stories – Ebar Kando Kedarnath e (This Time in Kedarnath) – Satyajit Ray

For some reason, whenever Feluda happens to be on mountainous terrains, there is an added sense of adventure. Ebar Kando Kedarnath e (This Time in Kedarnath) is no exception. The story starts with the arrival of a certain Umashankar Puri at Feluda’s doorstep. Mr. Puri, who manages what was once a small kingdom during the British occupation of India, narrates an incident in which the former king of the kingdom, Chandradeo, had gifted a priceless possession to an Ayurvedic doctor from Rishikesh for treating him. The secrecy of the gift had been maintained all these years, but now some people who knew about the incident were trying to seek out the old doctor. Sensing danger, Mr. Puri asks Feluda to find the doctor before anyone else, and protect him. Feluda agrees, but days before the three musketeers are about the set off to find the doctor, they unexpectedly receive a telegram from Mr. Puri saying ‘Request drop case. Letter follows.’. Feluda replies, ‘Dropping case but going as pilgrims’, little knowing that he would have to reprise his usual role before long.

Satyajit Ray-Feluda-Ebar Kando Kedarnath e 2

Advertisements

গান ৩০ – একতারা বাজাইয়ো না / Song 30 – Ektara Bajaiyo Na (Don’t Play the Ektara)

এইবারের পোস্টটি সাহিত্য হিসেবে খুব উঁচুমানের নয়, সুরের দিক দিয়েও যে সর্বোৎকৃষ্ট, তাও নয়, কিন্তু তবুও একতারা বাজাইয়ো না  নামের অসাধারণ এই গানটি বাঙ্গালীদের মধ্যে অনেকেরই আজ জানা। কুমার বিশ্বজিতের লেখা এই গানটিতে শ্রোতারা নানান অর্থ খুঁজে পান, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এই গানটির হাল্কা হাস্যরসের মধ্যে আধুনিক বাঙ্গালীদের চাল-চলনের প্রচ্ছন্ন সমালোচনা শুনতে পাই। নববর্ষের প্রথম দিনটিতেএসো হে বৈশাখ  শোনা যদি বাঙ্গালীদের রেওয়াজ হয়ে থাকে, তাহলে বছরের অন্য দিনগুলিতে তারা খুব সম্ভবত একতারা বাজাইয়ো না  গানটির বাক্যগুলোই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। তাই আজ তাদের নিয়ে খানিকটা মজা, আর খানিকটা ব্যঙ্গ করে ভিডিও সহ গানের কলিগুলো তুলে দিলাম।

This time, a musical post. The lyrics of Ektara Bajaiyo Na (Don’t Play the Ektara) do not belong to high literature, and neither does the music rank high among compositions, yet the song remains one that many a Bangalee has heard, thanks to its catchy tune and friendly tone. Listeners of the song ascribe various meanings to it, but to me, it is a masked criticism of Bangalees who, in their eagerness to adopt the dumbed-down aspects of Western culture, have lost much of what is indigenous to them. The song, and the accompanying video, is in acknowledgment of that perceived undertone.

একতারা বাজাইও না

তোমরা একতারা বাজাইও না, দোতারা বাজাইয়ো না,
একতারা বাজাইও না, ঢাকঢোল বাজাইয়ো না,
গিটার আর বংগো বাজাও রে,
ও তোমরা গিটার আর বংগো বাজাও রে,
একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
আমার একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

আলতা পড়িও না, তোমরা শাড়ি পড়িও না
আলতা পড়িও না শাড়িও না
প্যান্ট আর ম্যাক্সি পড় রে
তোমরা প্যান্ট আর ম্যাক্সি পড় রে
আলতা শাড়ি পড়িলে মনে পইড়া যায়
আমার আলতা শাড়ি পড়িলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

শুক্তো রাঁধিয়ো না পায়েস রাঁধিয়ো না
শুক্তো রাঁধিয়ো না পায়েস রাঁধিয়ো না
মোগলাই আর চাইনিজ রাঁধো রে
ও তোমরা চাইনিজ আর মোগলাই রাঁধো রে
শুক্তো পায়েস রাঁধিলে মনে পইড়া যায়
আমার শুক্তো পায়েস রাঁধিলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

জারি গাইয়ো না, বাউল গাইয়ো না
তোমরা কির্ত্তন গাইয়ো না, বাউল গাইয়ো না
ডিসকো আর রক গাও রে
তোমরা ডিসকো আর রক গাও রে
কির্ত্তন বাউল গাইলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

– কুমার বিশ্বজিৎ

কবিতা ২৯ – বঙ্গবাণী / Poem 29 – Bangabani (Bangla’s Words)

চট্টগ্রামের কবি আব্দুল হাকিম আঠারো শতকে যখন লিখতেন , তখন শুধুমাত্র সংস্কৃত, আরবী আর ফার্সী জানা লোকদের উচ্চশিক্ষিত বলে গণ্য করা হত। তৎকালীন সমাজের ‘উচ্চশিক্ষিত’দের বাংলার প্রতি অনীহা দেখে হয়তো তিনি বঙ্গবাণী কবিতাটি লিখেছিলেন। আজ তিনশো বছর পরেও যখন বাঙ্গালী সমাজের একটি বড় অংশ বিদেশী (পড়ুন ইংরেজি) ভাষাকে শ্রেয়তর হিসেবে গণ্য করে, তখন কবিতাটির বাক্যগুলো বড় সত্য হয়ে ঠেকে, তাই আজ পাঠকদের প্রতি অনুরোধস্বরূপ এই কবিতাটি তুলে দিলাম।

A poet from Chittagong, Abdul Hakim composed his works in the 18th Century – a time when only those versed in Sanskrit, Farsi or Arabic were considered to be educated. Bangla’s relegation to a lower status may have provoked Hakim to write the poem Bangabani (Bangla’s Words). Regardless of whether that is the case, three hundred years later, as the ‘educated’ Bangalee folk veer towards languages and literary traditions other than their own, the words of the poem ring truer than ever. Hence this post.

বঙ্গবাণী

যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি॥
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়।
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়॥
মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত বসতি।
দেশী ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি॥

– আব্দুল হাকিম

ছোটগল্প ৮৬ – ওমিক্রণিক রূপান্তর / Short Story 86 – Omicronic Rupantar (Omicronic Transformation)

Jafar Iqbal-Omicronic Rupantar

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link:  Jafar Iqbal-Omicronic Rupantar

ওমিক্রণিক রূপান্তর – জাফর ইকবাল

জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক যেসব কল্পকাহিনীগুলো আমি পড়েছি, ওমিক্রণিক রূপান্তর খুব সম্ভবত সেগুলোর মধ্যে আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেওয়া গল্পসংকলন। এই বইটির গল্পগুলো জাফর ইকবাল হয়ত মানবজাতির প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎকে নিয়ে আশংকা করে লিখেছিলেন, আর সেকারণেই হয়ত সেগুলিতে এক এক জন মানুষের জীবনের ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবীর কাছে আমাদের হেরে যাওয়ার চিত্রায়ন ঘটেছে এই এতে। মানবজাতির আসন্ন দিনগুলো নিয়ে আমাদের ভাবনা উদ্রেক করার মত একটি লেখা ওমিক্রণিক রূপান্তর, তাই আমাদের মধ্যে যারা বিশেষভাবে বিজ্ঞানমনস্ক, তাদের কথা ভেবে এই এটি তুলে দিলাম।

Omicronic Rupantor (Omicronic Transformation) – Zafar Iqbal

Of the science fictions by Zafar Iqbal which I have read, Omicronic Rupantar (Omicronic Transformation) remains the single collection of stories to have affected me the most. Likely written with technologically evolved dystopian future world in mind, the collection narrates the fall of humans through incidents in the lives of unrelated people. Omicronic Rupantar makes us imagine, and worry about the coming future, hence the upload. For readers who are scientifically inclined, this story offers much food for thought.

ছোটগল্প ৮৫ – ব্যোমকেশ বক্সী – পথের কাঁটা / Short Story 85 – Byomkesh Bakshi – Pather Kanta (The Thorn in the Way)

 Sharadindu Bandyopadhyay-Pather Kanta

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Sharadindu Bandyopadhyay-Byomkesh-2 Pather Kanta

ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প – পথের কাঁটা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্প্রতি লক্ষ্য করেছি যে এই সাইটের পাঠকদের মধ্যে অনেকেই আসেন ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প পড়তে। অথচ এ পর্যন্ত ব্যোমকেশের গল্প তুলেছি মাত্র একটি, তাই আজ ব্যোমকেশ-ভক্তদের জন্যে আরেকটি গল্প তুলে দিলাম। পথের কাঁটার প্রেক্ষাপট বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের কলকাতা, আর গল্পটির শুরু দিনে-দুপুরে খোলা রাস্তার মাঝে ঘটা কিছু রহস্যজনক খুনের মধ্যে দিয়ে। প্রথম কটি খুনের তদন্তে ব্যোমকেশের ডাক না পড়লেও পরের দিকে তার হাতে খুনগুলোর সাথে সম্পর্কিত একটি ঘটনার তদন্তভার এসে পরে। আর ফলস্বরূপ ব্যোমকেশকে নামতে হয় এমন এক আততায়ীর সন্ধানে, যার বুদ্ধি আর অভিনবত্ব দুটোই অসাধারণের কাতারে। ব্যোমকেশকে নিয়ে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা দ্বিতীয় গল্প এটি, যা প্রথমটির মতই রহস্যপ্রিয় পাঠকদের মন ধরে রাখবে।

Byomkesh Bakshi’s Adventures – Pather Kanta (The Thorn in the Way) – Sharadindu Bandyopadhyay

Lately, I have noticed that a lot of the visitors on this site come looking for stories of Byomkesh Bakshi. So, in deference to popular demand, here is his second adventure – one that is perhaps more novel than the first. Pather Kanta (Obstruction) starts with the mysterious deaths of several wealthy men in Kolkata amidst crowds in broad daylight. As the police struggle to find the killer, Byomkesh parses out certain traits that are common to the supposed murderer, and when the survivor of an attempt presumably made by the killer turns up on his doorstep, Byomkesh finds himself hot on the trail of an illusive assassin. For Byomkesh fans as well as those who are uninitiated, this is a gripping story that you will surely enjoy.

কবিতা ২৮ – অভিশাপ দিচ্ছি / Poem 28 – Abhishap Dichchhi (I Curse Them)

এই সাইটে নেতিবাচক লেখা তোলা থেকে সাধারণত নিজেকে বিরত রাখি, তবে গত কয় দিনে নিজের চারপাশে যা ঘটে চলেছে তা দেখে এটা না তুলে পারলাম না। শামসুর রাহমানের এই কবিতাটির উদ্দেশ্য একটাই, অসি ধারে মসির লেখনকে যারা চিরকাল স্তব্ধ করতে চেয়েছে আর আজও চাইছে, তাদের অভিশাপ দেওয়া।

In presenting Bangla literary works on this site, I try to keep myself from posting works that have a negative tone. This time, though, I make an exception in posting Abhishap Dichchhi (I Curse Them), for those who try to silence the pen with their swords deserve little more than curses.

অভিশাপ দিচ্ছি

না আমি আসিনি
ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রাচীন পাতা ফুঁড়ে,
দুর্বাশাও নই,
তবু আজ এখানে দাঁড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে
অভিশাপ দিচ্ছি।

আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক কৃষ্ণপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে
মগজের কোষে কোষে যারা
পুঁতেছিল আমাদেরই আপন জনেরই লাশ
দগ্ধ, রক্তাপ্লুত
যারা গণহত্যা করেছে
শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে
আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু
সেই সব পশুদের।

ফায়ারিং স্কোয়াডে ওদের
সারিবদ্ধ দাঁড় করিয়ে
নিমেষে ঝাঁ ঝাঁ বুলেটের বৃষ্টি
ঝরালেই সব চুকে বুকে যাবে তা আমি মানি না।
হত্যাকে উৎসব ভেবে যারা পার্কে মাঠে
ক্যাম্পাসে বাজারে
বিষাক্ত গ্যাসের মতো মৃত্যুর বীভৎস গন্ধ দিয়েছে ছড়িয়ে,
আমি তো তাদের জন্য অমন সহজ মৃত্যু করি না কামনা।
আমাকে করেছে বাধ্য যারা
আমার জনক জননীর রক্তে পা ডুবিয়ে দ্রুত
সিঁড়ি ভেঙ্গে যেতে
ভাসতে নদীতে আর বনেবাদাড়ে শয্যা পেতে নিতে,
অভিশাপ দিচ্ছি, আমি সেইসব দজ্জালদের।
অভিশাপ দিচ্ছি ওরা চিরদিন বিশীর্ণ গলায়
নিয়ত বেড়াক বয়ে গলিত নাছোড় মৃতদেহ,
অভিশাপ দিচ্ছি
প্রত্যহ দিনের শেষে ওরা
হাঁটু মুড়ে এক টুকরো শুকনো রুটি চাইবে ব্যাকুল
কিন্তু রুটি প্রসারিত থাবা থেকে রইবে
দশ হাত দূরে সর্বদাই।
অভিশাপ দিচ্ছি
ওদের তৃষ্ণায় পানপাত্র প্রতিবার
কানায় কানায় রক্তে উঠবে ভরে, যে রক্ত বাংলায়
বইয়ে দিয়েছে ওরা হিংস্র
জোয়ারের মত।
অভিশাপ দিচ্ছি
আকণ্ঠ বিষ্ঠায় ডুবে ওরা অধীর চাইবে ত্রাণ
অথচ ওদের দিকে কেউ
দেবে না কখনো ছুঁড়ে একখন্ড দড়ি।
অভিশাপ দিচ্ছি
স্নেহের কাঙ্গাল হয়ে ওরা
ঘুরবে ক্ষ্যাপার মতো এ পাড়া ওপাড়া,
নিজেরি সন্তান
প্রখর ফিরিয়ে নেবে মুখ, পারবে না
চিনতে কখনো;
অভিশাপ দিচ্ছি এতোটুকু আশ্রয়ের জন্য, বিশ্রামের
কাছে আত্মসমর্পণের জন্যে
দ্বারে দ্বারে ঘুরবে ওরা। প্রেতায়িত
সেই সব মুখের উপর
দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে পৃথিবীর প্রতিটি কপাট,
অভিশাপ দিচ্ছি।
অভিশাপ দিচ্ছি,
অভিশাপ দিচ্ছি…

– শামসুর রাহমান

ছোটগল্প ৮৪ – প্রফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক / Short Story 84 – Professor Shanku – Professor Shanku O Egyptio Atanko (Professor Shanku and the Egyptian Horror)

Satyajit Ray-Professor Shanku O Egytio Atankoপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku O Egyptio Atanko

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – প্রফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক – সত্যজিৎ রায়

ব্যোমযাত্রীর ডায়রির পর শঙ্কুর সাথে আমাদের দ্বিতীয়বারের মত দেখা হয় এই গল্পটিতে, যদিও গল্পের ধারাবাহিকতা কিনা শঙ্কুর জীবনের সাথে মেলে কিনা তা বলা মুশকিল। ঈজিপ্সীয় আতঙ্কের শুরু স্বাভাবিকভাবেই মিশরে, যার প্রাচীন বিজ্ঞান ও প্রত্নতত্ব সম্পর্কে জানার জন্য শঙ্কু সেখানে যান। শঙ্কুর সাথে সেখানে জেমস সামারটন নামের একজন প্রত্নতত্ত্ববিদের সাথে পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়, যার ফলস্বরূপ ভারতে ফেরার সময় একটি দুর্লভ মমি গবেষণার জন্য শঙ্কু সাথে করে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু মমির সাথে সাথে একটি অশুভ ছায়াও শঙ্কুর সঙ্গী হয়, যদিও শঙ্কুর কাছে সেটা প্রতীয়মান হয়ে ওঠে অনেক দেরিতে।

ব্যোমযাত্রীর ডায়রির খ্যাপাটে বিজ্ঞানীর জায়গায় ঈজিপ্সীয় আতঙ্কে শঙ্কুকে আমরা পাই আমাদের চিরচেনা শঙ্কু হিসেবে। সত্যজিৎ কি ভেবে এই পরিবর্তনটি করেছিলেন জানতে কৌতুহল জাগে।

Professor Shanku’s Stories – Professor Shanku O Egyptio Atanko (Professor Shanku and the Egyptian Horror) – Satyajit Ray

The Egyptian Horror is the second story Satyajit Ray wrote about Professor Shanku, although whether the stories are chronological with respect to his life remains unclear. As is to be expected from the title, the story starts in Egypt, where Shanku goes to learn more about its ancient science and archaeology. There, Shanku befriends an archaeologist named James Somerton, and as a consequence, succeeds in procuring an Egyptian mummy for his own research. Shanku brings the mummy to his home in Giridi, little knowing its history, and a mysterious entity that follows it to his hometown.

কবিতা ২৭ – পণ্ডশ্রম / Poem 27 – Pandoshrom (Energy Wasted)

জাতি হিসেবে আমরা যে হুজুগে, তা বাঙ্গালীমাত্রেরই জানা থাকার কথা। ছোট ছোট ব্যাপারকে টেনে বড় করা আর সেসব কে নিয়ে অকারণ মাতামাতি করতে আমাদের চাইতে ভাল কে পারে? বিশেষ করে আজকাল ফেসবুক-টুইটারের মত সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম বাঙ্গালীর হাতে চলে আসায় আমাদের অতিরঞ্জন-অতিকথনের প্রবণতা তো তুঙ্গে উঠেছে। তাই সেটাকে খানিকটা ব্যাঙ্গ করেই আজ শামসুর রহমানের পণ্ডশ্রম  কবিতাটি তুলে দিলাম। ভাল লেখকদের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তাদের লেখাগুলো সময় পেরিয়ে গেলেও সহজে প্রাসঙ্গিকতা হারায় না, আমার মতে পণ্ডশ্রম তেমনই একটি লেখা।

As Bangalees, we know too well how much of a rumor-mongering, hype-inducing nation we are. Yet, we do little to change it. Making mountains out of molehills and then working up a rage about those rumors seems to be intrinsic to us. And now that we are in the age of Facebook and Twitter, can anyone stop themselves from taking part? From rants in Facebook to false news in social and even print media, rumors and rage seems to be spreading at relativistic speeds. Shamsur Rahman had once identified our ‘hujuge’ tendencies in his poem Pandoshrom (Energy Wasted) prior to the digital age. A mark of the wonderful poet he is, the poem has only grown in relevance over time.

পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে,
কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে।
কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কি-হে বল?
কানের শোকে আজকে সবাই মিটিং করি চল।

যাচ্ছে, গেল সবই গেল, জাত মেরেছে চিলে,
পাঁজি চিলের ভূত ছাড়াব লাথি-জুতো কিলে।
সুধী সমাজ! শুনুন বলি, এই রেখেছি বাজি,
যে-জন সাধের কান নিয়েছে জান নেব তার আজই।

মিটিং হল ফিটিং হল, কান মেলে না তবু,
ডানে-বাঁয়ে ছুটে বেড়াই মেলান যদি প্রভু!
ছুটতে দেখে ছোট ছেলে বলল, কেন মিছে
কানের খোঁজে মরছ ঘুরে সোনার চিলের পিছে?

নেইকো খালে, নেইকো বিলে, নেইকো মাঠে গাছে;
কান যেখানে ছিল আগে সেখানটাতেই আছে।
ঠিক বলেছে, চিল তবে কি নয়কো কানের যম?
বৃথাই মাথার ঘাম ফেলেছি, পণ্ড হল শ্রম।

– শামসুর রাহমান

কবিতা ২৬ – স্বাধীনতা তুমি / Poem 27 – Swadhinata Tumi (An Ode to Independence)

Shamsur Rahman-Swadhinata Tumi 2

Photo : Highway to Heaven by Abhijit Bhattacharyya

বাঙ্গালীদের মধ্যে যারা বাংলাদেশী, তাদের কাছে ‘২৬’ সংখ্যাটির একটি বিশেষ তাৎপর্য থাকার কথা। হাজার হোক, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ নিজের স্বাধীনতা ঘোষণা তো করেছিল ১৯৭১ এর মার্চের ২৬তম দিনটিতেই। এই সাইটে কবিতা নিয়ে লেখাগুলোর মধ্যে এই পোস্টটিও ২৬তম, তাই এই ছোট্ট উপলক্ষে আধুনিক বাংলা কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শামসুর শামসুর রাহমানের স্বাধীনতা তুমি কবিতাটি তুলে দিলাম।

To Bangalees in Bangladesh, the number ’26’ bears a special significance. After all, it was on this day of March in 1971 that Bangladesh was declared independence. This piece happens to be the 26th of the poetry-related posts on this blog. So in remembrance, here is Swadhinata Tumi (An Ode to Independence), a poem written by one of the greater Bangalee poets of the modern era – Shamsur Rahman.

স্বাধীনতা তুমি

স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।
স্বাধীনতা তুমি
ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।
স্বাধীনতা তুমি
মজুর যুবার রোদে ঝলসিত দক্ষ বাহুর গ্রন্থিল পেশী।
স্বাধীনতা তুমি
অন্ধকারের খাঁ খাঁ সীমান্তে মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক।
স্বাধীনতা তুমি
বটের ছায়ায় তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর
শানিত কথার ঝলসানি-লাগা সতেজ ভাষণ।
স্বাধীনতা তুমি
চা-খানায় আর মাঠে-ময়দানে ঝোড়ো সংলাপ।
স্বাধীনতা তুমি
কালবোশেখীর দিগন্তজোড়া মত্ত ঝাপটা।
স্বাধীনতা তুমি
শ্রাবণে অকূল মেঘনার বুক
স্বাধীনতা তুমি
পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন।
স্বাধীনতা তুমি
উঠানে ছড়ানো মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন।
স্বাধীনতা তুমি
বোনের হাতের নম্র পাতায় মেহেদীর রঙ।
স্বাধীনতা তুমি
বন্ধুর হাতে তারার মতন জ্বলজ্বলে এক রাঙা পোস্টার।
স্বাধীনতা তুমি
গৃহিণীর ঘন খোলা কালো চুল,
হাওয়ায় হাওয়ায় বুনো উদ্দাম।
স্বাধীনতা তুমি
খোকার গায়ের রঙিন কোর্তা,
খুকীর অমন তুলতুলে গালে
রৌদ্রের খেলা।
স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।

– শামসুর রাহমান

ছোটগল্প ৮৩ – বিলু ও তার মৌমাছি / Short Story 83 – Bilu O Tar Moumachhi (Bilu and his Bees)

Jafar Iqbal-Bilu O Tar Moumachhi

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Jafar Iqbal-Bilu O Tar Moumachhi

বিলু ও তার মৌমাছি – জাফর ইকবাল (আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা হতে সংগ্রহিত)

জাফর ইকবালের এই গল্পটি সাহিত্য হিসেবে যে অসাধারণ, তা হয়ত বলা যাবে না। কিন্তু সাদামাটা ভাষায় লেখা এই মজার ছোটগল্পটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের, কারণ সেটির অনেকটুকুই আমার চিন্তাভাবনার সাথে মিলে যায়। খানিকটা তুলে দেই –

রনির ব্যাপারটা একেবারে মাত্রা ছাড়িয়ে গেল সেইদিন বিকেলে। স্কুল শেষ করে বাবার সাথে মৌমাছি ফার্মে খানিকক্ষণ কাজ করে নদীতীরে খেলতে গিয়ে দেখে সেখানে কয়েকজন মানুষ গর্ত করে বাঁশ পুঁতছে। রনি পকেটে হাত দিয়ে কাছে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হয় কাজের খবরদারি করছে। বিলু অবাক হয়ে কাছে এগিয়ে গেল। রনি এমন ভান করল সে তাকে দেখতেই পায়নি। যে মানুষগুলো বাঁশ পুঁতছে তাদের একজনের না কাজেম আলি, সে বিলুকে দেখে দাঁত বের করে হেসে বলল, বিলু বাজান কেমুন আছেন?

বিলু বলল, ভালো। তারপর জিজ্ঞাসা করল, কাজেম চাচা এখানে কি করছেন?

কিলাব হাউচ তৈরী হচ্ছে।

ক্লাব হাউজ?

জে। বাঁশ পুঁতে উঁচু ঘর তৈরি হবে। সেটারে বলে কিলাব হাউচ।

এইখানে?

জে।

বিলু গলা শক্ত করে বলল, এইখানে আমরা হা-ডু-ডু খেলি।

রনি তখন কাছে এসে কাজেম আলিকে বলল, কথা বলছ কেন? কাজ কর, কালকের মাঝে শেষ করতে হবে।

কাজেম আলি মাথা নেড়ে বলল, জে জে করছি। তারপর খন্তা দিয়ে মাটিতে গর্ত করতে শুরু করল।

বিলুর মাথায় রক্ত উঠে গেল। সে চোখ পাকিয়ে বলল, এখানে কিছু তৈরী করতে পারবে না। এইখানে আমরা খেলি।

রনি হাত ভাজ করে বুকের উপর ধরে বলল, এটা আমার নানার প্রপার্টি – এখান থেকে যাও, না হলে তোমার ঘাড় ধরে বের করে দেব।

কাজেম আলি তাড়াতাড়ি রনির কাছে এসে বলল, এইভাবে কথা বলে না ছোট সাহেব। ডাক্তার সাহেবের ছেলে –

রনি বলল – আই ডোন্ট কেয়ার। আমার নানার প্রপার্টিতে আমি যা ইচ্ছে তাই করব, আমার ইচ্ছা।

পরদিন ফারুখ খবর আনল ‘কিলাম হাউচ’ নাকি প্রায় দাঁড়া হয়ে গেছে। ব্যাপারটা একটা মাচা ছাড়া আর কিছু নয়। দুপুরবেলা নান্টু খবর আনল ‘কিলাম হাউচে’ রনি আর তার ছোট বোন বসে বসে রুটি খাচ্ছে। বাড়াবাড়ি বড়লোকেরা দুপুরবেলায় রুটি খায়। ঢাকা থেকে সেই রুটি আনা হয়েছে। বিকালবেলা জলিল সবচেয়ে বড় খবর আনল, আগামীকাল শহর থেকে রনির বন্ধুরা আসছে – তারা কখনো গ্রাম দেখে নাই, তাই গ্রাম দেখতে আসছে।

আধা-খেঁচড়া ভাবে পশ্চিমা শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে অশিক্ষিত হওয়াটাই যেখানে এখন রেওয়াজ হয়ে গেছে, সেখানে জাফর ইকবালের এই গল্পটি বাঙ্গালীরা আজো পড়ে ভেবে মনে খানিকটা আশা জাগে। সত্যি বলতে কি, হয়তো আমিও এককালে রনিদের দলেই ছিলাম, কিন্তু এখন মনটা ভালর দিকে বদলে গেছে ভাবতে ইচ্ছে হয়। তাই এই গল্প।

Bilu O Tar Moumachhi (Bilu and his Bees) – Jafar Iqbal (from Amra O Crab Nebula)

A story close to my heart, Bilu O Tar Moumachhi (Bilu and his Bees) is one about the triumph of the ‘raw, Bangalee village boy’ over the ‘condescending wannabe western city-kid’. As a piece of literature, the story perhaps leans on simple stereotypes, but in this case, at least the second stereotypes are perhaps too correct to be ignored. Being a Bangladeshi who has spent a considerable time of his life as a scientist in the US, Zafar Iqbal has perhaps known people of both types too well, and if this story is a representation of his views, I am glad to say that they mirror mine.