গান ৩৭ – আমার হিয়ার মাঝে / Song 37 – Amar Hiyar Majhe (You Hid in My Heart)

আমাদের সমস্ত সুখ-দুঃখ আর ভালবাসাসহ সকল অনুভূতির অন্তরালে যেই ঈশ্বর আমাদের চীরসঙ্গী ও আশ্রয় হয়ে থাকেন, মানবিক প্রবৃত্তির বশে তাঁকে কত সহজেই না আমরা অগ্রাহ্য করি, আবার কত সহজেই যে জীবনের নিত্য জাগতিকতার মধ্যে তাঁকে খুজে পাই !রবিঠাকুরের এই কবিতাটি সম্বন্ধে বেশি কিছু বলার ধৃষ্টতা আমার নেই, তবে এটুকু বলতে পারি যে ঈশ্বরের কাছে ভক্তি আর ভালবাসায় আর্দ্র কোনো স্বীকারোক্তি যদি মানুষের করার থেকে থাকে, তবে সেটি এই।

(যারা গান শুনতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে  নিচে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার স্বর আর কবিগুরুর সুরে গাওয়া পংক্তিগুলো সংযুক্ত করে দিলাম।)

In the quagmire of emotions in which we are all immersed so deep, how carelessly we forget the presence of the God who remains our companion and refuge throughout our journeys, and yet, how easily we find Him in the sample and mundane aspects of our lives! There is little I could say that would do this poem justice, but to me, if there ever is a confession to God that is soaked in love and devotion, this is it. For those who prefer the words sung, I have attached a YouTube link below.

আমার হিয়ার মাঝে

আমার    হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাই নি।
বাহিরপানে চোখ মেলেছি
হৃদয়পানেই চাই নি।
আমার সকল ভালোবাসায়,
সকল আঘাত, সকল আশায়,
তুমি ছিলে আমার কাছে,
তোমার কাছে যাই নি।

তুমি মোর আনন্দ হয়ে
ছিলে আমার খেলায়।
আনন্দে তাই ভুলে ছিলেম,
কেটেছে দিন হেলায়।
গোপন রহি গভীর প্রাণে
আমার দুঃখ-সুখের গানে
সুর দিয়েছ তুমি,আমি
তোমার গান তো গাই নি।

ওদের কথায় ধাঁদা লাগে
তোমার কথা আমি বুঝি।
তোমার আকাশ তোমার বাতাস
এই তো সবি সোজাসুজি।
হৃদয়-কুসুম আপনি ফোটে,
জীবন আমার ভরে ওঠে,
দুয়ার খুলে চেয়ে দেখি
হাতের কাছে সকল পুঁজি।

সকাল-সাঁঝে সুর যে বাজে
ভুবনজোড়া তোমার নাটে,
আলের জোয়ার বেয়ে তোমার
তরী আসে আমার ঘাটে।
শুনব কী আর বুঝব কী বা,
এই তো দেখি রাত্রিদিবা
ঘরেই তোমার আনাগোনা,
পথে কী আর তোমায় খুঁজি?

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহিত)

Amar Hiyar Majhe (You Hid In My Heart)

Suddenly the window of my heart flew open this morning, the window that looks out on your heart.
I wondered to see that the name by which you know me is written in April leaves and flowers, and I sat silent.
The curtain was blown away for a moment between my songs and yours.
I found that your morning light was full of my own mute songs unsung;
I thought that I would learn them at your feet-and I sat silent.

– Rabindranath Thakur (Collected from Fruit-Gathering. Translated by the poet himself)

An alternative interpretation of the last two stanzas of the song

Some have thought deeply and explored the meaning of thy truth
and they are great;
I have listened to catch the music of thy play
and I am glad.

– Rabindranath Thakur (Collected from Fireflies)

Advertisements

ছোটগল্প ১০০ – অবাক কাণ্ড / Short Story 100 – Abak Kando (A Wonderful Something)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Abak Kando

অবাক কাণ্ড – বনফুল

“ভগবানে তোমার বিশ্বাস আছে , কিন্তু তুমি সেটা জান না… যার ভগবানে বিশ্বাস নেই, সে ভদ্র হতে পারে না। কারণ, একটু ত্যাগ না করলে, একটু পরার্থপর না হলে ভদ্র হওয়া যায় না। আর, যে পরের জন্যে ত্যাগ করতে শিখেছে সে তো পশুত্বের স্তর ছাড়িয়ে ওপরে উঠে গেছে, সে সেই রাস্তায় চলতে শুরু করেছে, যে-রাস্তায় চললে ভগবানের দেখা পাওয়া যায়। পরার্থপরতার মূলে আছে ভগবানের আকর্ষণ, সব সময় সেটা আমরা বুঝতে পারিনা।। কারও জন্য নিঃস্বার্থ-ভাবে কিছু ত্যাগ করলে সঙ্গে-সঙ্গে আনন্দলাভ হয়, মানে, সঙ্গে সঙ্গে ভগবানের দেখা পাওয়া যায়, কারণ ভগবানই তো আনন্দস্বরূপ।”

এই কথাটুকু যে কোন গল্পের বা যে কোন ধর্মগ্রন্থেরই হতে পারত, কিন্ত এটা একটা ছোট্ট ছেলেকে লেখা চিঠির একটি অংশ। কখনো কখনো এই লাইন কটি মন থেকে মুছে যায়, তাই পাঠকদের চাইতে বরং নিজেকে সেগুলো মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যেই বনফুলের এই গল্পটি তুলে দেওয়া।

Abak Kando – Banaful

A little deviation from the usual this time – in the form of a story of a little boy who questions whether there is indeed a God, and receives an answer of sorts.

গল্প ৯৯ – ফেলুদা – বাক্স রহস্য / Story 99 – Feluda – Baksho Rahasya (The Mystery of the Box)

Satyajit Ray-Feluda-Baksho Rahasya 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Baksho Rahasya

ফেলুদার গল্প – বাক্স রহস্য – সত্যজিৎ রায়

এই সাইটের পাঠকেরা যে ফেলুদার গল্প পড়তে এত ভালবাসে(ন), তা সাইটটির পরিসংখ্যান না ঘাটলে কি আর জানতাম? ফেলুদার যে কয়টি গল্প এর আগে পোস্ট করেছি, সেগুলোর প্রায় সবগুলোতেই ক্লিক পড়েছে অনেক, তাই সেকথা মাথায় রেখেই পাঠকদের মধ্যে যারা গোয়েন্দা-গল্পের পোকা, তাদের জন্য ফেলুদার আরেকটি গল্প তুলে দিলাম : )

ফেলুদার যত গল্প সত্যজিৎ রায় লিখেছেন, সেগুলোর মধ্যে বাক্স রহস্যই হয়তো সবচেয়ে অভিনব। গল্পের শুরুতে দীননাথ লাহিড়ী নামের এক বনেদি মক্কেল ফেলুদার কাছে আসা নিয়ে। ভদ্রলোক কিছুদিন আগে ট্রেনে করে দিল্লি থেকে ফিরছিলেন, আর যাত্রার সময় তার একটি বাক্স অচেনা এক যাত্রীর ঠিক একই রকম দেখতে আরেকটি বাক্সের সাথে অদল-বদল হয়ে যায়। দীননাথবাবুর বাক্সে মূল্যবান কোন জিনিস না থাকলেও অন্তত অন্য অচেনা ভদ্রলোকটি যাতে তার বাক্স ফেরত পান, সেজন্যেই তিনি ফেলুদার শরণাপন্ন হন। ব্যাপারটার অভিনবত্ব দেখে ফেলুদাও বাক্সটি ফেরত দেওয়ার দ্বায়িত্ব নিতে রাজি হয়। কিন্তু এই আপাতদৃষ্টিতে সহজ এই কাজটি করতে গিয়ে যে ফেলুদাকে শেষ পর্যন্ত তার সবচেয়ে তুখোড় প্রতিদ্বন্ধী ও একজন বেপরোয়া অপরাধীর সাথে লড়াই করতে হবে, তা কে জানত? যারা ফেলু মিত্তিরের ভক্ত, তাদের নিঃসন্দেহে এই গল্পটি ভাল লাগবে, আর যাদের এখনো ভক্ত হতে বাকি, তাদের জন্যে এটির চাইতে ভাল ঔষধ আর কি হয়? সবার জন্যে তাই বাক্স রহস্য গল্পটি তুলে দিলাম। : )

Feluda’s Stories – Baksho Rahasya (The Mystery of the Box) – Satyajit Ray

Of the stories I have posted here so far, those of Feluda seem to be the most popular among my readers. So in response to popular demand, here is another: Baksho Rahasya (The Mystery of the Box) is perhaps one of the most unusual of Feluda’s cases. The story starts with the arrival of a rich gentleman named Dinnath Lahiri at Feluda’s house. A few days earlier, Mr. Lahiri was returning by train from Delhi to Kolkata, when a box (case) he owned was mistakenly exchanged with an identical one belonging to an unknown passenger. Mr. Lahiri did not really care to get his own back, but he wanted to return the box he had to its original owner out of courtesy, so he asks for Feluda’s help. Feluda accepts the case. But the seemingly innocuous problem is to lead to more difficult and dangerous onces – an encounter with a reckless criminal, and a battle with one of the cleverest adversaries Feluda would ever come across. In my opinion, Baksho Rahasya is one of the best of Feluda’s adventures, and I hope the readers will like this as much as I did, if not more. Enjoy!

Satyajit Ray-Feluda-Baksho Rahasya 2

গল্প ৯৮ – ফেলুদা – শেয়াল দেবতা রহস্য / Story 98 – Feluda – Sheyal Debota Rahasya (The Anubis Mystery)

Satyajit Ray-Feluda-Sheyal Debota Rahasya

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Sheyal Debota Rahasya

ফেলুদার গল্প – শেয়াল দেবতা রহস্য – সত্যজিৎ রায়

শেয়াল দেবতা রহস্য ফেলুদার প্রথম দিককার গল্পগুলোর একটি। তোপসে তখনো ছোট, আর ফেলুদাকেও আমরা তাই দেখতে পাই তাঁর ক্ষুদে সহকারীর চোখ দিয়ে। তখন পূজোর ছুটি, আর ফেলুদা আর তোপসে দুজনেরই হাত-পা ঝাড়া, এমন সময় নীলমণি সান্যাল বলে এক ভদ্রলোক ফেলুদার সাথে যোগাযোগ করেন। লটারীর পয়সায় লাল হয়ে যাওয়া নীলমণিবাবুর জীবনটা বেশ নির্ঝঞ্ঝাটই ছিল, আর প্রাচীন জিনিস সংগ্রহ করা ছাড়া আর কাজও ছিলনা তার। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে তার কাছে আজগুবি ভাষায় লেখা কিছু বেনামী চিঠি আসায় তিনি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ফেলুদা চিঠিগুলো দেখে বুঝতে পারে যে সেগুলো প্রাচীন মিশরের হিয়েরোগ্লিফিক ভাষায় লেখা, আর নীলমণিবাবুকে প্রশ্ন করায় তিনি বলেন যে এক সপ্তাহ আগে এক নীলামে অদ্ভূতএকটি মূর্তি তিনি কেনেন, আর তারপর থেকেই চিঠিগুলো আসতে শুরু করে। ফেলুদা মূর্তিটা দেখেই প্রাচীন মিশরীয় দেবতা আনুবিসের বলে চিনতে পারে, কিন্তু তাঁর তখনো ধারণা ছিলনা যে চিঠিগুলো আর আনুবিসের মূর্তির রহস্যটি কোথায় গড়াতে চলেছে।

Feluda’s Stories – Sheyal Debota Rahasya (The Anubis Mystery) – Satyajit Ray

One of the earlier cases of Feluda, Sheyal Debota Rahasya (The Anubis Mystery) is one in which we see Feluda through the eyes of a much younger Topshe. The story starts during the Puja holidays, with a phone call from some Nilmani Sanyal, who is in need of Feluda’s help. One of those fortunate lottery winners whose names we read on paper, Mr. Sanyal had been an avid collector of curios for a while. Over the past few days, however, he had been getting anonymous letters written in a code that he could not decipher, and worried that this could mean nothing good, he had called the detective. Upon visiting Mr. Sanyal, Feluda immediately recognizes the writing as Hieroglyphic – the language of ancient Egypt, and when he asks Mr. Sanyal if he has bought anything valuable recently, Mr. Sanyal produces a statue – of Anubis, the ancient Egyptian God of the Afterlife. Feluda feels that he is onto something, but he has no idea of the mystery to follow.

Satyajit Ray-Feluda-Sheyal Debota Rahasya 2

কবিতা ৩৬ – পরিচয় / Poem 36 – Porichay (Identity)

Rabindranath Thakur-Porichoy (2)

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি তুলেছেন মশিউর রহমান মেহেদী / Original of the edited photo by Moshiur Rahman Mehedi)

মাঝে মাঝে মনে হয় যে জীবনে যে অনুভূতিই আসুক না কেন, রবিঠাকুরের তা নিয়ে লেখা কোন না কোন কবিতা ঠিকই লিখেছেন। গুরুদেবের কবিতা যা কিছু পড়েছি, তা অল্পই, আর যেটুকু বুঝেছি তা তো আরোই কম। তবু তার লেখার অর্থগুলো খানিকটা অনুভব করতে পেরেছি বলে ভাবতে ভাল লাগে। এই পোস্টের উদ্দেশ্যটা অবশ্য খানিকটা আলাদা – জীবনটা আস্তে আস্তে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা কেমন বদলে যাই, তাই না? তখন কি মনে প্রশ্ন জাগে – আমি আসলে কে, কেন এখানে থাকা, কি আমার পরিচয়? দেশ ছেড়ে যারা চলে গেছেন, নিজ আর পরসংস্কৃতির টানাপোড়েনে হয়তো তাদের মনে এই প্রশ্নগুলো একটু বেশি কঠিন হয়েই ঠেকে। প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি নিজে এখনো খুঁজে পাইনি, কিন্তু রবিঠাকুরের পরিচয়  যখন পড়ি, তখন কবিতাটির পংক্তিগুলোর মাঝে যেন উত্তরের খানিকটা আভাস আর সান্তনা খুঁজে পাই। যারা এখনো আমার মত উত্তর খুঁজে ফিরছেন, তাদের জন্যে তাই লেখাটি তুলে দিলাম।

Each of us has a life that is unique and wonderful in its own way, yet there is a question that at least once in our lives we all ask ourselves: who am I? Thakur’s answers with a beautiful poem, sung by a traveler who inevitably floats down a metaphorical river that we are to understand as this life, and in the course of his journey, comes across strangers. Of them, a few give him names out of love and kindness, while others ask who he is, but even as he moves on – a different man every moment – he finds only one thing to say to them: “Ami tomaderi lok (I am just one of you)”. The traveler finds his identity in the people he meets along the way.

পরিচয়

একদিন তরীখানা থেমেছিল এই ঘাটে লেগে,
বসন্তের নূতন হাওয়ার বেগে।
তোমরা শুধায়েছিলে মোরে ডাকি
পরিচয় কোনো আছে নাকি,
যাবে কোন্‌খানে।
আমি শুধু বলেছি, কে জানে।
নদীতে লাগিল দোলা, বাঁধনে পড়িল টান,
একা বসে গাহিলাম যৌবনের বেদনার গান।
সেই গান শুনি
কুসুমিত তরুতলে তরুণতরুণী
তুলিল অশোক,
মোর হাতে দিয়ে তারা কহিল, “এ আমাদেরই লোক।’
আর কিছু নয়,
সে মোর প্রথম পরিচয়।

         তার পরে জোয়ারের বেলা
সাঙ্গ হল, সাঙ্গ হল তরঙ্গের খেলা;
কোকিলের ক্লান্ত গানে
বিস্মৃত দিনের কথা অকস্মাৎ যেন মনে আনে;
কনকচাঁপার দল পড়ে ঝুরে,
ভেসে যায় দূরে–
ফাল্গুনের উৎসবরাতির
নিমন্ত্রণলিখন-পাঁতির
ছিন্ন অংশ তারা
অর্থহারা।
ভাঁটার গভীর টানে
তরীখানা ভেসে যায় সমুদ্রের পানে।
নূতন কালের নব যাত্রী ছেলেমেয়ে
শুধাইছে দূর হতে চেয়ে,
“সন্ধ্যার তারার দিকে
বহিয়া চলেছে তরণী কে।’
সেতারেতে বাঁধিলাম তার,
গাহিলাম আরবার–
মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক,
আমি তোমাদেরই লোক
আর কিছু নয়,
এই হোক শেষ পরিচয়।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সেঁজুতি হতে সংগ্রহিত)

গান ৩৫ – আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / Song 35 – Amar Bhaiyer Rakte Rangano (My Brothers’ Blood Spattered)

Abdul Gaffar Chowdhury-Amar Bhaiyer Rakte Rangano (2)

আজ একুশে ফেব্রুয়ারী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনটির ব্যাপারে বলতে গেলে বলতে হয় অনেক কিছুই, তবে আজ অরণ্যে রোদনটুকু নাহয় বাদই থাক। শুধু এটুকু বলব যে আজকের বাঙ্গালী সমাজে বিবেচনাহীন পাশ্চাত্যকরণের যে গড্ডালিকা প্রবাহ চলছে, তার বিরুদ্ধে আজও কিছু মানুষ শুধু বুকে বিশ্বাস আর খানিকটা স্বপ্ন রেখে লড়ে চলছে। বাংলাকে যারা ভালবেসে সেই পথটিতে নেমেছেন, তাদের খানিকটা অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্যে সম্ভবত তাদের সবারই প্রাণের খুব কাছের একটি গান – আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো – তুলে দিলাম।

This post is written with somewhat mixed emotions: to a Bangalee, the words ‘Ekushey February (21st February)’ should be so close to the heart that one would not have to explain its significance to him/her at all. But in a time when a dumb acceptance of everything that is Western is the norm, how I wish that was true! There are people, however, who continue to work to uphold and promote Bangla against all odds, and in defiance of the ‘globalization’ to which the rest of us have surrendered. For them, as an inspiration, a song that reminds of a greater sacrifice that we Bangalees once made for our mother-tongue – Amar Bhaiyer Rakte Rangano (My Brothers’ Blood Spattered).

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়ায়ে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা
শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,
দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী
দিন বদলের ক্রান্তিলগ্নে তবু তোরা পার পাবি?
না, না, না, না খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

সেদিনও এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে
রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিল হেসে;
পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা অলকনন্দা যেন,
এমন সময় ঝড় এলো এক ঝড় এলো খ্যাপা বুনো।।

সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা,
তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা
ওরা গুলি ছোঁড়ে এদেশের প্রাণে দেশের দাবীকে রোখে
ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই সারা বাংলার বুকে
ওরা এদেশের নয়,
দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়
ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো একুশে ফেব্রুয়ারি
আজো জালিমের কারাগারে মরে বীর ছেলে বীর নারী
আমার শহীদ ভায়ের আত্মা ডাকে
জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাটে
দারুণ ক্রোধের আগুনে আবার জ্বালবো ফেব্রুয়ারি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

লেখক – আবদুল গাফফার চৌধুরী, সুরকার – আলতাফ মাহমুদ

Amar Bhaiyer Rakte Rangano (My Brother’s Blood Spattered)

Can I forget the twenty-first of February
incarnadined by the love of my brother?
The twenty-first of February, built by the tears
of a hundred mothers robbed of their sons,
Can I ever forget it?
Wake up all serpents,
wake up all summer thunder-storms,
let the whole world rise up
in anger and protest against the massacre of innocent children.
They tried to crush the demand of the people
by murdering the golden sons of the land.
Can they get away with it
at this hour when the times are poised
for a radical change?
No, no, no, no,
In the history reddened by blood
the final verdict has been given already
by the twenty-first of February.
It was a smooth and pleasant night,
with the winter gone nearly
and the moon smiling in the blue sky
and lovely fragrant flowers blossoming on the roadside,
and all of a sudden rose a storm,
fierce like a wild horde of savage beasts.
Even in the darkness we know who those beasts were.
On them we shower the bitterest hatred
of all mothers brothers and sisters.
They fired at the soul of this land,
They tried to silence the demand of the people,
They kicked at the bosom of Bengal.
They did not belong to this country.
They wanted to sell away her good fortune.
They robbed the people of food, clothing and peace.
On them we shower our bitterest hatred.
Wake up today, the twenty-first of February.
do wake you, please.
Our heroic boys and girls still languish in the prisons of the tyrant.
The souls of my martyred brothers still cry.
But today everywhere the somnolent strength
of the people have begun to stir
and we shall set February ablaze
by the flame of our fierce anger.
How can I ever forget the twenty-first of February?

Writer – Abdul Gaffar Chowdhury, Composer – Altaf Mahmood

গল্প ৯৭ – ঠাকুরমার ঝুলি / Story 97 – Thakurmar Jhuli (Fairy Tales from Grandma’s Bag)

Dakshinaranjan Majumdar-Thakurmar Jhuli B&W

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Dakshinaranjan Mitra Majumdar-Thakurmar Jhuli

ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

আজ এই সাইটে যারা গল্প পড়তে আসেন, তাদের জন্য একটি বিশেষ উপহার – ঠাকুরমার ঝুলি  শব্দ দুটি কি পাঠকদের মনে পড়ে? আমাদের মধ্যে যারা বয়সে বড়, তাদের মনে আছে হয়ত। আজকালকার দিনে পুরানো বাংলা রূপকথার গল্পগুলো আসলেই খানিকটে সেকেলে হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে ছোট্ট যারা, তাদের কল্পনাটুকু তো আর আধুনিকতার ঘেরাটোপে বন্দী নয়, তাই তাদের জন্যে লালকমল-নীলকমল, ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী, সাত ভাই চম্পা, রাক্ষস আর রাজকন্যাদের নিয়ে লেখা কটি গল্প, যা আগেকার দিনগুলোতে ঠাকুরমা-নানীরা তাদের নাতি-নাতনী দের শোনাতেন। বড়দেরও পড়লে পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে পড়বে জানি, তাই সবার কথা ভেবেই, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুরমার ঝুলি  তুলে দিলাম।

Thakurmar Jhuli (Fairy Tales from Grandma’s Bag) – Dakshinaranjan Mitra Majumdar

A very special upload this tume. Dear readers, do the words Thakurmar Jhuli ring a bell? If you are a little late in your youth, then perhaps yes? In these days of urbanization and modernity, Bangla folk and fairy tales really seem to have become a thing of the past. But are they? After all, the imagination of a child is hardly constrained by the boundaries we set around them, and don’t us adults sometimes miss those times when our grandmas would tell us fairy tales before we went to bed? So for both the little and big kids among us, a collection of fairy tales from Grandma’s bag – Dakshinaranjan Majumdar’s Thakurmar Jhuli.

Dakshinaranjan Majumdar-Thakurmar Jhuli (1) B&W

ঠাকুরমার ঝুলি বইটি হতে তুলে দেওয়া কিরণমালার একটি ছবি / A picture of an original woodblock painting from the book which shows Kiranmala.