কবিতা ৩৬ – পরিচয় / Poem 36 – Porichay (Identity)

Rabindranath Thakur-Porichoy (2)

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি তুলেছেন মশিউর রহমান মেহেদী / Original of the edited photo by Moshiur Rahman Mehedi)

মাঝে মাঝে মনে হয় যে জীবনে যে অনুভূতিই আসুক না কেন, রবিঠাকুরের তা নিয়ে লেখা কোন না কোন কবিতা ঠিকই লিখেছেন। গুরুদেবের কবিতা যা কিছু পড়েছি, তা অল্পই, আর যেটুকু বুঝেছি তা তো আরোই কম। তবু তার লেখার অর্থগুলো খানিকটা অনুভব করতে পেরেছি বলে ভাবতে ভাল লাগে। এই পোস্টের উদ্দেশ্যটা অবশ্য খানিকটা আলাদা – জীবনটা আস্তে আস্তে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা কেমন বদলে যাই, তাই না? তখন কি মনে প্রশ্ন জাগে – আমি আসলে কে, কেন এখানে থাকা, কি আমার পরিচয়? দেশ ছেড়ে যারা চলে গেছেন, নিজ আর পরসংস্কৃতির টানাপোড়েনে হয়তো তাদের মনে এই প্রশ্নগুলো একটু বেশি কঠিন হয়েই ঠেকে। প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি নিজে এখনো খুঁজে পাইনি, কিন্তু রবিঠাকুরের পরিচয়  যখন পড়ি, তখন কবিতাটির পংক্তিগুলোর মাঝে যেন উত্তরের খানিকটা আভাস আর সান্তনা খুঁজে পাই। যারা এখনো আমার মত উত্তর খুঁজে ফিরছেন, তাদের জন্যে তাই লেখাটি তুলে দিলাম।

Each of us has a life that is unique and wonderful in its own way, yet there is a question that at least once in our lives we all ask ourselves: who am I? Thakur’s answers with a beautiful poem, sung by a traveler who inevitably floats down a metaphorical river that we are to understand as this life, and in the course of his journey, comes across strangers. Of them, a few give him names out of love and kindness, while others ask who he is, but even as he moves on – a different man every moment – he finds only one thing to say to them: “Ami tomaderi lok (I am just one of you)”. The traveler finds his identity in the people he meets along the way.

পরিচয়

একদিন তরীখানা থেমেছিল এই ঘাটে লেগে,
বসন্তের নূতন হাওয়ার বেগে।
তোমরা শুধায়েছিলে মোরে ডাকি
পরিচয় কোনো আছে নাকি,
যাবে কোন্‌খানে।
আমি শুধু বলেছি, কে জানে।
নদীতে লাগিল দোলা, বাঁধনে পড়িল টান,
একা বসে গাহিলাম যৌবনের বেদনার গান।
সেই গান শুনি
কুসুমিত তরুতলে তরুণতরুণী
তুলিল অশোক,
মোর হাতে দিয়ে তারা কহিল, “এ আমাদেরই লোক।’
আর কিছু নয়,
সে মোর প্রথম পরিচয়।

         তার পরে জোয়ারের বেলা
সাঙ্গ হল, সাঙ্গ হল তরঙ্গের খেলা;
কোকিলের ক্লান্ত গানে
বিস্মৃত দিনের কথা অকস্মাৎ যেন মনে আনে;
কনকচাঁপার দল পড়ে ঝুরে,
ভেসে যায় দূরে–
ফাল্গুনের উৎসবরাতির
নিমন্ত্রণলিখন-পাঁতির
ছিন্ন অংশ তারা
অর্থহারা।
ভাঁটার গভীর টানে
তরীখানা ভেসে যায় সমুদ্রের পানে।
নূতন কালের নব যাত্রী ছেলেমেয়ে
শুধাইছে দূর হতে চেয়ে,
“সন্ধ্যার তারার দিকে
বহিয়া চলেছে তরণী কে।’
সেতারেতে বাঁধিলাম তার,
গাহিলাম আরবার–
মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক,
আমি তোমাদেরই লোক
আর কিছু নয়,
এই হোক শেষ পরিচয়।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সেঁজুতি হতে সংগ্রহিত)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s