কবিতা ৬৮ – আছে দুঃখ আছে মৃত্যু / Poem 68 – Achhe Dukkho Achhe Mrityu (Sadness and Joy, Life and Death)

rabindranath-thakur-achhe-dukkho-achhe-mrityu-1

আজ অতীত হতে চলা বছরটিকে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে মনের উপলব্ধিতে আসা একটি কবিতা। আনন্দ ও বেদনা, মিলন ও বিরহ, আগমন ও বিদায়, আর পুনরাগমন ও পুনর্মিলন… প্রতিটি বছর তো আমাদের জীবন-সারাংশেরই পুনরাবৃত্তি, তাই না? নতুন বছরের দ্বারগোঁড়ায় দাঁড়িয়ে তাই সেটির উজ্জ্বলতর মুহূর্তগুলোর প্রত্যাশায়ই নাহয় আরেকবার শুরু করি?

গ্রেগরিয়ান নববর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে।

In review of the year that is soon to be past, a poem by Rabindranath Thakur. Achhe Dukkho, Achhe Mrityu (Sadness and Joy, Life and Death) is a poem that reminds us that life is only complete when it knows laughter as well as it does tears, unions as well as it does bereavement, and triumphs as much as failures. Perhaps each of the pair succeeds the other like the ebb of the tide follows its flow, or perhaps they are forever there in equal measure… of such things, what would I know? But when the mind finds itself about to retrace the same path that it has over the past year, there is peace and wonderment to be found in that knowledge: Perhaps each year is a recurring act of life in its fullest, and if so, then a reminder – that in all its hues, it may hold just enough blue for one to love and get lost within.

Happy new year, everyone.

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥
তবু প্রাণ নিত্যধারা,      হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,
বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে ॥
তরঙ্গ মিলায়ে যায় তরঙ্গ উঠে,
কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে।
নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ,   নাহি নাহি দৈন্যলেশ–
সেই পূর্ণতার পায়ে মন স্থান মাগে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা  হতে সংগ্রহীত)

 

Advertisements

ছোটগল্প ১১৫ – ব্যোমকেশ বক্সী – চিত্রচোর / Short Story 115 – Byomkesh Bakshi – Chitrochor (The Picture Thief)

sharadindu-bandyopadhyay-byomkesh-bakshi-chitrochor

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Sharadindu Bandyopadhyay-Byomkesh-11 ChitroChor

ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প – চিত্রচোর – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ ব্যোমকেশ বক্সীর একটি গল্প – চিত্রচোর। কঠিন অসুখ হতে সম্প্রতি আরোগ্য লাভ করা ব্যোমকেশ যখন কোন এক প্রত্যন্ত গঞ্জে হাওয়া বদলাতে এসেছে, এমন সময় সেখানে তাঁর এক আলাপীর ঘর হতে একটি ছবি চুরি যায়। মামুলি একটি ছবি কেন রহস্যজনকভাবে চুরি যাবে, তা কেউ বুঝে ওঠার আগেই সেই ভদ্রলোকের বন্ধুদের বাড়ি থেকেও ছবি চুরি যেতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যোমকেশকে ঘটনার তদন্তে নামতে হয়, আর সময়ের প্রবাহের সাথে সাথে অন্য সব কিছু ছাপিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে – ছবিগুলো চুরি যাওয়াই কি মূল ঘটনা, নাকি সেগুলো বড় কোন ঘটনার ভূমিকামাত্র?

Byomkesh Bakshi’s Adventures – ChitroChor (The Picture Thief) – Sharadindu Bandyopadhyay

A Byomkesh Bakshi story today. ChitroChor (The Picture Thief) starts with Byomkesh visiting some rural town as a change of air after a long illness. As it happens with detective stories, a mystery soon develops – a seemingly ordinary picture gets mysteriously stolen from the house of a wealthy local gentleman. Before anyone can figure out why, more thefts are reported – all pictures, and all belonging to the gentlemen’s friend circle. Byomkesh takes up the case, and he has to soon find whether the thefts are by themselves a thing, or whether they are leading up to something much bigger.

কবিতা ৬৭ – কপোতাক্ষ নদ / Poem 67 – Kapotakkha Nad (Kapotakkha River)

michael-madhusudan-datta-satoto-he-nad-2

আজ মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি কবিতা। এতদিন এই সাইটে যে বাংলা সাহিত্যের এই অমর কবির লেখা কেন তুলিনি, তার কোন স্পষ্ট ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই – হয়তো একসময়কার মধুসূদনের মত আমিও বাংলাকে ভুলতে বসেছি, তাই। আজকের কবিতাটি তোলার কারণ অবশ্য জানা – জীবনের স্রোতে ভেসে ভেসে আমরা এককালের চেনা জগৎটা হতে কত দূরেই না সরে যাই। তেমনি সময়ে কি ফেলে আসা প্রিয়জন ও প্রিয় জায়গাগুলোর কথা মনে পড়ে না? বিগত ক’দিন ধরে কেন জানি বাড়ির পিছনের ছোট্ট নদীটার কথা মনে পড়ছে খুব – আর সেই পিছুটানের কথা যদি পংক্তির ভাষায় বলতে হয়, কপোতাক্ষ নদ  চাইতে আর্দ্র কবিতা আর কি হতে পারে? তাই পাঠকদের জন্যে সেটি তুলে দেওয়া।

Today, in a way of filling what has been a massive void in this site, a poem by Michael Madhusudan Dutta. The reason for the post is rather personal, however. When life keeps us far away from who or what we hold dearly in our hearts, and when the recurring passage of time rekindles their memories, how does it feel? In Kapotakkha Nad (Kapotaksha River) we get to know the feeling – of missing the little river each of us knows back home.

কপোতাক্ষ নদ

সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;
সতত (যেমতি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া- মন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।
বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?
দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে।

আর কি হে হবে দেখা?- যত দিন যাবে,
প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে
বারি-রুপ কর তুমি; এ মিনতি, গাবে
বঙ্গজ জনের কানে, সখে, সখা-রীতে
নাম তার, এ প্রবাসে মজি প্রেম-ভাবে
লইছে যে নাম তব বঙ্গের সংগীতে।

– মাইকেল মধুসূদন দত্ত