ফিরে দেখা ও অগ্রযাত্রা ১ – পাঠকদের কাছে পৌছানো এবং ফেসবুক যাত্রার সূচনা / Looking Back and Moving Forward 1 – Reaching the Readers through Facebook

facebook-page

(ফেসবুকে সাহিত্য জগৎ এর সাথে সংযুক্ত হতে এখানে কিংবা ছবিটিতে ক্লিক করুন ! / Click here or on the picture to like Sahitya Jagat on Facebook!)

সাহিত্য জগৎ খোলার পর প্রায় তিন বছর কেটে গেল। পেছন ফিরে তাকালে বেশ ভালই লাগে – পরিসংখ্যানের বিচারে সাইটটিকে তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগগুলোর ধারেকাছেও আমি নিতে পারিনি, কিন্তু এই ক’বছরে যে সেটির কল্যাণে বাংলা সাহিত্যের কিছু টুকরো লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছেছে, সেটি তো নেহাৎ ফেলনা নয়। তাই ভালই লাগে।

সাহিত্য জগৎ সাইটটি খোলার সময় আমার লক্ষ্য ছিল কিশোর-তরুণদের বাংলা সাহিত্যে আগ্রহী করে তোলা। তাঁর কতটুকু করতে পেরেছি তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তাছাড়া, এই সাইটের অনেক লেখাই তরুণদের উপযোগী হলেও কিশোরদের জন্যে নয়। সামনের দিনগুলোতে সেটি খেয়াল থাকবে। আর এতদিন যা পাঠকদের ভাল লেগেছে, তেমন আরও লেখা তোলার চেষ্টা করব। আশা করি সেগুলো সবার ভাল লাগবে।

পুনশ্চ – সম্প্রতি পরিসংখ্যান ঘেঁটে আমি লক্ষ্য করেছি যে এই সাহিত্য জগৎ এর যারা পাঠক, তাঁদের প্রায় সবাই (> ৯৫%) গুগল থেকেই আসেন। আজকের যুগে যখন কিশোর-তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমেই বেশি সময় কাটায়, তখন এই সাইটের খোঁজ শুধু গুগলের মত অনুসন্ধান-যন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে সাইটটির প্রসার সীমিতই থেকে যাবে। তাই এই সাইটটিকে ফেসবুকে পরিচিত করতে সাহিত্য জগৎ নামে একটি ফেসবুক পৃষ্ঠা খুলেছি। ফেসবুক-ব্যবহারকারী পাঠকদের মধ্যে যারা ইচ্ছুক, তারা পৃষ্ঠাটির মাধ্যমে এই সাইটটির সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন। ঘুরে আসার আমন্ত্রণ রইল।

Advertisements

কবিতা ৭১ – আদর্শ ছেলে / Poem 71 – Adarsha Chhele (‘The Ideal Boy’)

এই সাইটে এতদিন যাদের লেখা তুলেছি, তাদের মধ্যে নারী সাহিত্যিক কেউ ছিলেন না – সেই ভুলটুকু শোধরাতে তাই আজকের এই পোস্ট। কুসুমকুমারী দাশকে হয়তো পাঠকদের কেউ কেউ জীবনানন্দ দাশের মা হিসেবে চিনবেন। কিন্তু রত্নগর্ভা এই নারী নিজেও ভালই সাহিত্যচর্চা করতেন, আর নিজগুণেই কবি বলে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। কুসুমকুমারীর লেখা আদর্শ ছেলে  কবিতাটি দুই বাংলার কমবেশি সবারই ছোট বেলায় পড়ে থাকার কথা – আমার তো এখনো মনে আছে ! কবিতাটি লেখা হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে, কিন্তু তখন আর বর্তমানের মধ্যেকার সময়ে আদর্শ ছেলেদের (আর মেয়েদের) জন্য সমাজের যে হাহাকার, তা তো আর মেটেনি। প্রলম্বিত অপেক্ষার মধ্যে আমাদের কিশোর ও যুব-সমাজ কেমন হওয়া উচিত তা যাতে আমরা ভুলে না যাই, সেজন্যেই এই কবিতাটি তুলে দেওয়া – কুসুমকুমারী দেবীর আদর্শ ছেলে

In a way of correcting what has been a glaring omission in this site, a poem written by a woman, and one that is perhaps as well recited as any Bangla poem. Some readers might identify Kusumkumari Das as the mother of the famous poet Jibanananda Das, but the lady herself was a wonderful poet in her own right. Her most famous poem, Adarsha Chhele (The Ideal Boy), was written almost a century ago, but even after all these years, it remains a piece that almost every Bangalee learns to recite at an impressionable age – I still remember a few lines myself! A summary of the qualities which our society seeks within its youth, the poem remains as relevant as ever. So in a manner of motivating, and as an honor to the poet, the poem is presented below.

আদর্শ ছেলে

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?
মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন
“মানুষ হইতে হবে” — এই তার পণ,
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান,
নাই কি শরীরে তব রক্ত মাংস প্রাণ ?
হাত, পা সবারই আছে মিছে কেন ভয়,
চেতনা রয়েছে যার সে কি পড়ে রয় ?
সে ছেলে কে চায় বল কথায়-কথায়,
আসে যার চোখে জল মাথা ঘুরে যায় |
সাদা প্রাণে হাসি মুখে কর এই পণ —
“মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন” |
কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার
সবারি রয়েছে কাজ এ বিশ্ব মাঝার,
হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান
তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ |

– কুসুমকুমারী দাশ