গান ৮৬ – হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস / Song 86 – Haire Manush Rangeen Fanush (Us Fleeting Sky Lanterns)

অনেকদিন পর আজ আবার লেখা। এতদিন যে লেখা হয়নি, তার কারণ যে শুধু কাজ, তা বলব না। খানিকটা ক্লান্তিও তো থাকতে পারে, না? যাই হোক, লিখতে বসার কারণ আমার একটি প্রিয় গান যেই মানুষটি গেয়েছেন, তাঁর চলে যাওয়া। পাঠকদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি, তারা নিশ্চই এন্ড্রু কিশোরের নাম জেনে থাকবেন। আর পশ্চিমবঙ্গের পাঠকগণও হয়তো তাঁর গাওয়া গান শুনেছেন। সেই এন্ড্রু কিশোর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ক’দিন আগে। আর সেই কারণেই হয়তো তাঁর গলায় গাওয়া হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস গানটি মনে বেজে চলছে। আমাদের জীবনগুলো যে কতটা ক্ষণস্থায়ী, আর সেই উপলব্ধিটুকু মন থেকে সরিয়েই যে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মেতে থাকি, তা খুব সরল ও সুন্দরভাবে ব্যক্ত হয়েছে গানটিতে। গীতিকার সৈয়দ শামসুল হক ফানুসকে উপমা হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের মনোহর অথচ অচির জীবনকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা পাঠকের মনে দাগ কাটতে বাধ্য। প্রয়াত গায়ককে মনে রেখে তাই এই জনপ্রিয় গানটি পংক্তি ও ভিডিওসহ তুলে দিলাম। সৈয়দ শামসুল হকের লেখা আর এন্ড্রু কিশোরের গলায় হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস

A long break later, another post. For those readers who know Andrew Kishore, the Bangladeshi playback singer, news of his passing has been one of sorrow. I had grown up listening to his songs, and on the occassion of his passing, one in particular resonantes in the mind. Written by Syed Shamsul Haque and sung by Andrew Kishore, Haire Manush Rangeen Fanush (Us Fleeting Sky Lanterns) expresses with beautiful simplicity the frailty and transience of life. In our everyday lives, we set aside thoughts of our fleeting presence, and busy ourselves with the trivia and goals that life presents us. In truth, however, we are all fragile and fleeting lanterns in the sky, which the song reminds us. Therefore, for your contempleation, the song Haire Manush Rangeen Fanush… lyrics and the a youtube link are provided below.

হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস

হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস
দম ফুরাইলেই ঠুস,
তবুতো ভাই কারোরই নাই একটুখানি হুশ,
হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস
রঙ্গীন ফানুস হায়রে মানুষ…

হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস
দম ফুরাইলেই ঠুস,
তবুতো ভাই কারোরই নাই একটুখানি হুশ,
হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস
রঙ্গীন ফানুস হায়রে মানুষ…

পূর্ণিমাতে ভাইসা গেছে নীল দরিয়া
সোনার পিনিশ বানাই ছিলা যতন করিয়া,
পূর্ণিমাতে ভাইসা গেছে নীল দরিয়া
সোনার পিনিশ বানাই ছিলা যতন করিয়া,
চেলচেলাইয়া চলে পিনিশ ডুইবা গেলেই ভুস…

হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস
দম ফুরাইলেই ঠুস।

মাটির মানুষ থাকে সোনার মহল গড়িয়া
জ্বালাইয়াছে সোনার পিদিম তীর্থ হরিয়া,
মাটির মানুষ থাকে সোনার মহল গরিয়া
জ্বালাইয়াছে সোনার পিদিম তীর্থ হরিয়া,
ঝলমলায়া জ্বলে পিদিম নিইভ্যা গেলেই ফুস…

হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস
দম ফুরাইলেই ঠুস,
তবুতো ভাই কারোরই নাই একটুখানি হুশ,
হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস…
রঙ্গীন ফানুস হায়রে মানুষ…
হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস…
রঙ্গীন ফানুস হায়রে মানুষ…

গীতিকার – সৈয়দ শামসুল হক
গায়ক – এন্ড্রু কিশোর
সুরকার – আলম খান

গান ৮৫ – রাস্তায় / Song 85 – Rastay (On the Road)

অনেকদিন পর আজ একটু সময় পেয়ে আবার লিখছি। আজ যে কাজ নেই তা নয়, কিন্তু না লেখার অপরাধবোধ ক্রমশ বেড়েই চলছে, তাই আর থাকা গেলনা।

আজকের পোস্টটি খানিকটা অন্য ধাঁচের। পাঠকগণদের মধ্যে এখনকার সময়ের গান যারা শোনেন, তারা হয়তো অর্ণবের নাম জেনে থাকবেন। বর্তমান শিল্পীদের মধ্যে অর্ণবকে আমার বেশ ভাল লাগে, কারণ তাঁর গানের সুর বা শব্দচয়ন কোনটিই একমাত্রিক নয় – একটা উদাহারণ দেই। কিছুদিন আগে অর্ণবের ‘রাস্তায়’ গানটি শুনছিলাম। আপাতদৃষ্টিতে উদ্দেশ্যহীন তারুণ্যের গান। তবে শুনতে শুনতে দু-চারটে লাইন কান পেতে শুনলাম কথাগুলো বেশ অস্পষ্ট। অ্যালবামের মোড়ক খুলে পংক্তিগুলো (নিচে তুলে দেওয়া) পড়ে দেখলাম সেই লাইনগুলো লেখাই নেই! ব্যাপারটা মাথা থেকে যাচ্ছেনা কারণ অলিখিত লাইনগলো বাংলাদেশ (ও ভারতের) বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেই কারণেই হয়্তো অর্ণব সেগুলো লেখেননি। পাঠকেরা আমার চাইতে ভাল জানবেন, তাই মিউজিক ভিডিওসহ গানটি তুলে দেওয়া।

It’s been a while since I last written something on this site, hence this post. Of the modern musicians/singers in Bangladesh, none intrigue me more than Shayan Chowdhury Arnob. His compositions are unusual and wonderful in their own right, but what perhaps sets him above and beyond his contemporaries is his lyrics. The song below is an example –  if I am correct, then the song has some amazingly pertinent lines on two very sensitive aspects of India-Bangladesh relations. Curious, the official lyrics on the album cover do not contain those lines. Perhaps for good reason – art is perhaps most subversive when the meaning is left to the audience.

For your eyes and ears, the music video of the song, its lyrics, and the version in the album cover are provided below.

রাস্তায়

রাস্তায় খুঁজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে নাস্তায়
সাঁই সাঁই বাস যায়
ধুঁকে ধুঁকে মাস যায়
বুকে পোড়া বাঁশি
তবু খালি খালি হাসি পায়
হাসি পেলে কাশি পায়
কাশি পেলে খালি পায়
ঘাসে ঘাসে উড়ে উড়ে
ভাঙা মন বাড়ি যায়
একা একা রাস্তায়
খুজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে যদি রাস্তায়…

দোষ নেই নেতাদের
ক্রোশ নেই ক্রেতাদের
দমে দমে দাম বাড়ে
গান বাজে বেতারে
ধূলো জমে সেতারে
জলে ফেলে দে তারে
রক শোতে টক শোতে
আহা কত কেতারে
জোড়াজোড়ি যে পারে
বাড়ি/পানি সব ওপাড়ে/ও পাবে
বাঁধ দিয়ে কাধ সেধে
জল/চর ফেলে এপাড়ে
ভোট নেই পেপারে
নেতা হতে কে পারে
কানাদের বায়না
কিনে দেয় আয়না যে তারে…

রাস্তায়
খুঁজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে নাস্তায়…

– শায়ন চৌধুরী (অর্ণব)

‘রাস্তায়’ এর পংক্তি (সোহেল ইবনে মাহবুবের ওয়েবপাতায় পাওয়া)

কবিতা ৮৪ – পাছে লোকে কিছু বলে / Poem 84 – Pachhe Loke Kichhu Bole (Lest They Say Something)

আমাদের সমাজব্যবস্থার যা ধরণ, তাতে যে নারীরা প্রতিনিয়ত কত অযাচিত আর ব্যাখ্যাহীন বাঁধার শিকার হন, তা আমরা অনেকেই খেয়াল করিনা। বিশেষ করে চিরকাল যারা সামাজিক কাঠামোর সুবিধাটুকু পেতে অভ্যস্ত, সেই পুরুষরা তো অনেক সময় এই অসমতাটুকু স্বীকারই করতে চান না। কিন্তু লোকলজ্জার প্রচ্ছন্ন চাপ যে এই সমাজে বেড়ে ওঠা নারীদের ইচ্ছে, ভাবনা আর সৃষ্টিশীলতাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়, নারীর চাইতে এই কথাটি আর কে ভাল জানে?

প্রায় এক শতাব্দী আগে কামিনী রায়, যিনি একাধারে একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি, উনবিংশ-শতাব্দীর ঔপনিবেশিক ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতক, এবং বাঙালি নারীবাদের একজন পথিকৃৎ, গুটিয়ে যাওয়ার সেই অনূভুতিটিকু তাঁর পাছে লোকে কিছু বলে কবিতাটিতে ব্যক্ত করেছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য, যে এতদিন পেরিয়ে গেলেও কবিতাটি প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে। তাই কামিনী রায় যা বলতে চেয়েছিলেন, সে কথাটুকু আরেকবার আমাদেরকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যে কবিতাটি তুলে দেওয়া।

To be a woman any society means facing undue restrictions, stigma and setbacks at every stage of life. Men, who in many ways benefit from social structures, often do not understand how such things stifle the creativity, desires and endeavors of women – being different means that perhaps they never fully will. To those with heart, however, Kamini Roy’s Pachhe Loke Kichhu Bole (Lest They Say Something) poignantly narrates how fear of breaking social norms and glass ceilings stop women from realizing their potential. Roy, who was a pathbreaking feminist, poet and the first female graduate with honors in British-occupied India, wrote this poem about a century ago. Unfortunately, much of her feeling as a woman unduly restrained by society is still felt by women today, and shows how far we still have to go.

পাছে লোকে কিছু বলে

করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে –
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।

হৃদয়ে বুদবুদ মত
উঠে চিন্তা শুভ্র কত,
মিশে যায় হৃদয়ের তলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

কাঁদে প্রাণ যবে আঁখি
সযতনে শুকায়ে রাখি;-
নিরমল নয়নের জলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যথা –
চলে যাই উপেক্ষার ছলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

মহৎ উদ্দেশ্য যবে,
এক সাথে মিলে সবে,
পারি না মিলিতে সেই দলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ;
শক্তি মরে ভীতির কবলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

– কামিনী রায়

গান ৮৩ – মোদের গরব, মোদের আশা / Poem 83 – Moder Garob, Moder Asha

Atulprased Sen-Moder Garob Moder Asha

(সম্পাদিত ছবিটির আদি প্রতিরূপটি নেওয়া হয়েছে চিত্রগ্রাহক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ফ্লিকার পাতা থেকে / Original of the edited photo was taken from the photographer Mohammad Moniruzzaman’s Flickr page)

ফেব্রুয়ারীর এই দিনে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনকে স্মরণ করে এই পোস্ট। মোদের গরব মোদের আশা গানটি অতুলপ্রসাদ সেন যখন লেখেন, তখন বৃহত্তর বাংলা একটি নবজাগরণের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। বাংলা ভাষাকে ভালবেসে গাওয়া এই গানটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল, আর লেখার প্রায় এক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আজও গানটি ভাষা যে কিভাবে একইসাথে আমাদের জাতিস্বত্ত্বার আর হাসি-কান্নাকে ধারণ করে, তা মনে করিয়ে দেয়। বিশ্বায়নের এই যুগে পাঠকরা এই গানটির মধ্যে বাংলাকে মনে ধারণ ও লালন করার অনুপ্রেরণা পাবেন, সেই আশায় এটি তুলে দেওয়া।

On this Februrary day, a post in remembrance of our language movement. When Atul Prasad Sen write Moder Garob Moder Asha about a century ago, Greater Bangla was going through a renaissance, and this song, lovingly written about Bangla, describes how the language holds the emotions of a Bangalee, and the essence of his/her nationality. During Bangladesh’s Liberation War, the song inspired freedom fighters. Five decades later, I hope it inspires us to hold on to and nurture our roots.

মোদের গরব, মোদের আশা

অতুলপ্রসাদ সেন

মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা।
(মাগো) তোমার কোলে, তোমার বোলে,
কতই শান্তি ভালোবাসা।।

কি যাদু বাংলা গানে,
গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,
গেয়ে গান নাচে বাউল,
গান গেয়ে ধান কাটে চাষা।।

বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন্,
হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন-
ঐ ফুলেরই মধুর রসে
বাঁধলো সুখে মধুর বাসা।।

বাজিয়ে রবি তোমার বীণে,
আনলো মালা জগৎ জিনে।।
তোমার চরণ-তীর্থে
(মাগো) জগৎ করে যাওয়া-আসা।।

ঐ ভাষাতেই নিতাই গোরা,
আনল দেশে ভক্তি-ধারা,
আছে কৈ এমন ভাষা
এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা।।

ঐ ভাষাতেই প্রথম বোলে,
ডাকনু মায়ে ‘মা, মা’ বলে;
ঐ ভাষাতেই বলবো হরি,
সাঙ্গ হলে কাঁদা হাসা।।

গীতিকার ও সুরকার: অতুলপ্রসাদ সেন

ছোটগল্প ১৩০ – বিষফুল / Short Story 130 – Bishful (The Poison Flower)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Bishful

বিষফুল – ত্যজিৎ রায়

ওদিকে যাবেন না বাবু!”
কেন যাব না কেন? কি হবে গেলে?”
বিষ আছে।
বিষ? কিসে?”
গাছে?”

বিষ আছে জানলি কী করে?”
মরে যায় যে।
কী মরে যায়?”
সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুরপাখি…”
কী করে মরে যায়? গাছে বসলে? না ফুল খেলে?”
কাছে গেলে?”

আজ সত্যজিৎ রায়ের একটি ছোটগল্প – ভয় আর মনের দৌর্বল্য মানুষকে কি করতে পারে, তা নিয়ে।

Bishful – Satyajit Ray

Today, for the readers, a short story by Satyajit Ray – about what fear can do to a frail mind.

কবিতা ৮২ – ভক্তিভাজন / Poem 82 – Bhaktibhajan (Worthy of Devotion)

দীর্ঘ বিরতি বাদে আজ একটি পোস্ট। কিছুদিন আগে একজন কাছের মানুষের সাথে এই যুগের ধর্মব্যাখ্যাকারীদের আত্মম্ভরিতা নিয়ে কথা হচ্ছিল। তখন প্রসঙ্গক্রমে রবিঠাকুরের ভক্তিভাজন কবিতাটির কথা মনে পরে গেল। শুধু চারটি পংক্তিতে রবিঠাকুর মানবচরিত্রের কি যে অসাধারণ ব্যাখ্যা দিয়ে গিয়েছেন, তা লিখে বর্ণনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই পাঠকদের উপলব্ধির জন্যে একটি অনুবাদসহ কবিতাটি তুলে দিলাম।

A long break later, another post. A few days earlier, I was talking with a person close to my heart about godmen and their claims of divinity, and our conversation reminded me about this little gem by Thakur. It is striking how the sage condenses profound truths in little verses, and how in their beauty and simplicity, they stay in the heart. So I thought I would put it here for your contemplation. The Bangla version, and a simple translation by yours truly, follows.

ভক্তিভাজন

রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে আমি দেব রথ ভাবে আমি,
মূর্তি ভাবে আমি দেব–হাসে অন্তর্যামী।

BhaktiBhajan

As the chariot moves, amidst pomp
and a thousand devotees who
prostrate themselves in its path,
The road thinks, “I must be God”,
as does the chariot. The idol
thinks “It is I”.
The One within silently smiles.

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / Rabindranath Thakur
(কণিকা হতে সংগ্রহিত / Collected from Kanika)

ছোটগল্প ১২৯ – প্রফেসর হিজিবিজ্‌বিজ্‌ / Short Story 129 – Professor Hijibijbij


পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Hijibijbij

প্রফেসর হিজিবিজ্‌বিজ্‌ – সত্যজিৎ রায়

অনেকদিন পরে আজ সত্যজিৎ রায়ের আরেকটি ছোটগল্প। ‘প্রফেসর হিজিবিজ্‌বিজ্‌’ নামটি শুনলে কি পাঠকদের কি সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল গল্পের বিখ্যাত কোন চরিত্রকে মনে পড়ে? বাবার লেখা একটি চরিত্রের মাঝে যে সত্যজিৎ রায় অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবেন, তা আশ্চর্য নয়। কিন্তু তাই বলে যে গল্পটি শুধুমাত্রহ-য-ব-র-ল এর ধারাবাহক, তা মোটেও নয়। ‘প্রফেসর হিজিবিজ্‌বিজ্‌’ গল্পটি সুকুমার-সৃষ্ট একটি চরিত্রকে ভিত্তি করে লেখা বটে, কিন্তু তা ছাড়াও সেটি একই সাথে পাঠকদের টানবার মত একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, খানিকটা ভৌতিক আর খানিকটা হাসির গল্প। সত্যজিৎ এর লেখা যারা পড়েন, তাদের এটি নিঃসন্দেহে ভাল লাগবে। আর সুকুমার রায়ের শিশুতোষ লেখাগুলো যারা পড়েছেন, তারাও গল্পটিতে চেনা চরিত্রগুলোকে নতুন চেহারায় দেখতে পাবেন। তাই আজ এই লেখাটি তুলে দেওয়া। পড়বার আমন্ত্রণ রইল। 🙂

Professor Hijibijbij – Satyajit Ray

Another long break later, a short story by Satyajit Ray. Does the name ‘Professor Hijibijbij’ ring a bell? If the reader is familiar with Sukumar Ray’s famour work Ha-Ja-Ba-Ra-La (or H.J.B.R.L), then perhaps? That Satyajit Ray would be inspired by one of his father’s creations is not surprising, but the work is more than a nod to his father’s work – it is at once a science-fiction and a cross between a funny and a horror story – which makes it fascinating and enjoyable at the same time. Fans of Ray’s works will definitely find this a great read, as will Sukumar-fans. And to those who are uninitiated to either of these wonderful writers, what better way to start? Hence this upload. Enjoy! 🙂

ছোটগল্প ১২৮ – নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ / Short Story 128 – Nidhiramer Ichchhapuran (Nidhiram’s Wish)


পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Nidhiramer Ichchhapuran

নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ – সত্যজিৎ রায়

এই সাইটে লেখা তোলার মাঝে বিরতিগুলো ক্রমশই দীর্ঘতর হয়ে চলছে। অবশ্য ‘বিরতি’ মানে যখন দৈনন্দিন কাজ, তখন সেটা কি অস্বাভাবিক? সামনের মাসগুলোতে আরেকটু বেশি সময় পাব আশা করি, তবে আজ অন্য কথা বলি। আমাদের সবার মনেই তো কত অপূর্ণ বাসনা থাকে তাই না? ছোট্ট অথচ কঠিন ইচ্ছেগুলোর কথাই নাহয় বলি – স্বপ্নের চাকরিটা যদি হতো, যদি আরেকটু লম্বা হতে পারতাম, কিংবা যদি মাথার উপরের টাকটুকু চুলে ঢাকা থাকত? বাস্তবজীবনে হয়তো সেসব ইচ্ছেগুলো অপূর্ণই থেকে যায়, কিন্তু তাই বলে কল্পনা কেন আটকে থাকবে? সত্যজিৎ রায়ের কলমে নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ তা নিয়েই একটি গল্প।

Nidhiramer Ichchhapuran (Nidhiram’s Wish) – Satyajit Ray

The intervals at which I post stories here are getting longer and longer – part of it has to do with my work keeping me busy. With luck, things will become better in the coming months, but in the meantime, in a way of breaking silence, a story. Nidhiram er Icchapuran (Nidhiram’s Wish) is one of those light but somewhat curious stories by Satyajit Ray. If you are an average person, you must have a wish or two – say a dream job, if you are unhappy with your work, or a little more hair on your forehead, if you are balding? Can those wishes ever come true in innocent ways? In this story, Ray imagines how they might.

ছোটগল্প ১২৭ – ব্রাউন সাহেবের বাড়ি / Short Story 127 – Brown Saheb er Bari (The House of Mr. Brown)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Brown Saheb er Bari

ব্রাউন সাহেবের বাড়ি – সত্যজিৎ রায়

‘গোস্টস? গোস্টস? ইউ সিরিয়াসলি বিলিভ ইন গোস্টস? আজকের দিনে? আজকের যুগে?’

আমি আমতা আমতা করে বললাম, ‘একটা কৌতুহল থাকতে ক্ষতি কি? এমনও তো হতে পারে, ভূতেরও একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে, যেটা দশ বছরের মধ্যে জানা যাবে।’

ব্যানার্জির হাসি তবুও থামে না। লক্ষ করলাম ভদ্রলোকের দাঁতগুলো ভারী ঝকঝকে ও মজবুত।

অনীক বলল, ‘যাই হোক মিস্টার ব্যানার্জি – গোস্ট অর নো গোস্ট – এমন বাড়ি যদি একটা থেকেই থাকে, আর রঞ্জনের যদি একটা উদ্ভট খেয়াল হয়েই থাকে – একটা সন্ধেবেলা ওকে নিয়ে খানিকটা সময়ের জন্য ও বাড়িতে কাটিয়ে আসতে পারেন কিনে সেইটে বলুন। ও কলকাতা থেকে এসেছে, আমার গেস্ট – ওকে তো আর আমি একা যেতে দিতে পারি না সেখানে।

‘কী নাম বল্লেন বাড়িটার?’ ব্যানার্জি জিজ্ঞেস করলেন।

‘এভারগ্রিন লজ।’

‘ফ্রেজার টাউনে?’
‘তাই তো বলছে ডায়রিতে’

‘হুঁ…’ ভদ্রলোক পাইপে টান দিলেন। ‘ফ্রেজার টাউনে সাহেবদের কিছু পুরনো বাড়ি আছে বটে, কটেজ টাইপের। এনিওয়ে – যেতেই যিদি হয় তো দেরি করে লাভ কি? হোয়াট অ্যাবাউট আজ বিকেল? এই ধরুন চারটে নাগাদ?’

এই সাইটে লেখা তোলা হয়না অনেকদিন ধরে। তাই নীরবতা ভাঙ্গতে আজকের এই পোস্ট। ভৌতিক বিষয় নিয়ে সত্যজিৎ রায় চিরকালই বেশ আগ্রহী ছিলেন, আর ব্রাউন সাহেবের বাড়ি গল্পটি সেই আঙ্গিক থেকেই লেখা। আশা করি পাঠকদের ভাল লাগবে।

Brown Saheb er Bari (The House of Mr. Brown) – Satyajit Ray

Its been quite some time since I last posted anything on this site, so in a way of breaking the silence, an upload for those who love Satyajit Ray’s short stories. Brown Saheb er Bari (The House of Mr. Brown) starts with the narrator coming across a diary written by some long deceased Mr. Brown. Reading it, he finds that Brown spent his evenings with the ghost of a certain and very dear ‘Simon’. Burning with curiosity, the narrator tracks down Mr. Brown’s house, and persuades two friends to accompany him there to see if ‘Simon’ still spent his evenings there.

গান ৮১ – মাগো ভাবনা কেন / Song 81 – Maa go Bhabna Keno (Why Fear, Mother)

সম্পাদিত ছবিটির আদি প্রতিরূপটি নেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবপৃষ্ঠা থেকে। / Original of the edited photo taken from the website of Bangladesh’s Liberation War Museum.

আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসকে (২৬ মার্চ) মনে রেখে একটি দেশাত্মবোধক গান। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কলমে লেখা আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায় ও সুরে গাওয়া মাগো ভাবনা কেন গানটি বাঙ্গালীমাত্রেরই জেনে থাকার কথা। ১৯৬১ সালে প্রথম প্রচারিত হওয়া এই গানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রিয় অনুপ্রেরণাদায়ক গানগুলোর জন্যে অন্যতম ছিল। বাংলাদেশে মূলত সেইরূপেই পরিচিত হলেও গানটি দুই বাংলারই জাতীয়তাবাদকে একইসাথে ধারণ করে। একাত্তরের মুক্তিসেনাদের মত পাঠকরাও গানটি শুনে অনুপ্রাণিত হবেন, সেই আশায় একটি ইউটিউব ভিডিওসহ গানটির পংক্তিগুলো তুলে দিলাম।

26 March is a day of significance for Bangalees, in particular Bangladeshis. It was on this day in 1971 that Bangladesh declared its independence, and in remembrance of the War of Independence that followed, this post features a famous inspirational song. Written by Gauriprassana Mazumdar and voiced by Hemanta Mukhopadhyay in 1961, Maa Go Bhabna Keno (Why Fear, Mother) captures the essence of Bangalee and Bangladeshi nationalism, and resolve against attack and oppression. It is no suprise that the song went on to inspire Bangalee Muktijoddhas (freedom fighters) in their fight against the Pakistani army. In the hopes that it will inspire you as well, here are the lyrics, and a YouTube link if you prefer the words sung to you.

মাগো ভাবনা কেন

মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি (২)।

আমরা হারবনা,হারবনা
তোমার মাটির একটি কণাও ছাড়বনা (২)
আমরা পাঁজর দিয়ে দূর্গ ঘাটি গড়তে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

আমরা অপমান সইবনা
ভীরুর মত ঘরের কোণে রইবনা (২)
আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে ঝড়তে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

আমরা পরাজয় মানবনা
দূর্বলতায় বাঁচতে শুধু জানবোনা (২)
আমরা চিরদিনই হাসি মুখে মরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

শিল্পী – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
গীতিকার – গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
সুরকার – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

গান ৮০ – পুরানো সেই দিনের কথা / Song 80 – Purano Shei Diner Katha (Auld Lang Syne)

আজকের লেখাটি এমন একটি বিখ্যাত বাংলা গানকে নিয়ে, যা বাঙ্গালীমাত্রেরই জানা থাকার কথা। তবে সেটি তোলার কারণ একটু আলাদা। পুরানো সেই দিনের কথা যে রবিঠাকুরের গান, তা আমরা অনেকেই মনে করি, কিন্তু গানটির সুর ও অর্থ দুটিই যে তিনি একটি স্কটিশ কবি রবার্ট বার্ন্‌স এর অ্যল্ড ল্যাং সাইন কবিতাটি থেকে নিয়েছিলেন, তা হয়তো আমাদের অনেকেই জানেন না। কবিগুরুর নিজের লেখা অজস্র হলেও তিনি বিশ্বসাহিত্যের নানা ধারা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। আর পুরানো সেই দিনের কথা অন্য সংস্কৃতি হতে গ্রহণের মাধ্যমে স্ব-সম্বৃদ্ধির একটি অনন্য উদাহরণ।

পাঠকদের ভাল লাগবে, সেই আশায় গান ও সেটির স্কটিশ আদিরূপটি তাই তুলে দিলাম – পুরানো সেই দিনের কথা, যা প্রিয় বন্ধু কিংবা আপনজনের সাথে পুনর্মিলিত হওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ে।

Today’s post is about a rather Bengali song that is not only beautiful in its music and meaning, but also significant in how it a borrowal from a different culture. Prolific though he was, Rabindranath Thakur did borrow quite often from other literary/music traditions. One of the most famous example of this is the popular Bangla song, Purano Shei Diner Kotha, whose tune and lyrics were heavily influenced by the Scottish song, Auld Lang Syne. For Bangalees who believe in cross-cultural exchange, the song is a fascinating, early example of how the West influenced one of the greatest minds of Asia and the world, and for those who lend towards cultural ‘purity’, it is a reminder that not all exchanges are reductions. More than anything else, though, it is a song of friendship, and if you are so inclined to think, of yearning and love.

The Bangla version by Thakur and the Scottish original are both presented below for your eyes, as are YouTube renditions of the songs for your ears. I hope you like them. : )

পুরানো সেই দিনের কথা

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।
আয় আর একটিবার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়।
মোরা সুখের দুখের কথা কব, প্রাণ জুড়াবে তায়।

মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি, দুলেছি দোলায়–
বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি বকুলের তলায়।
হায় মাঝে হল ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়–
আবার দেখা যদি হল, সখা, প্রাণের মাঝে আয়॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রেম ও প্রকৃতি হতে সংগ্রহীত)

Auld Lang Syne
(Scottish Original of Purano Shei Diner Katha)

Should auld acquaintance be forgot,
and never brought to mind?
Should auld acquaintance be forgot,
and auld lang syne?
CHORUS:
For auld lang syne, my jo,
for auld lang syne,
we’ll tak’ a cup o’ kindness yet,
for auld lang syne.

And surely ye’ll be your pint-stoup!
and surely I’ll be mine!
And we’ll tak’ a cup o’ kindness yet,
for auld lang syne.
CHORUS
We twa hae run about the braes,
and pou’d the gowans fine;
But we’ve wander’d mony a weary fit,
sin’ auld lang syne.
CHORUS

We twa hae paidl’d in the burn,
frae morning sun till dine;
But seas between us braid hae roar’d
sin’ auld lang syne.
CHORUS

And there’s a hand, my trusty fiere!
and gie’s a hand o’ thine!
And we’ll tak’ a right gude-willie waught,
for auld lang syne.
CHORUS

– Robert Burns

 

গল্প ১২৬ – মহেশ / Story 126 – Mahesh


পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link
: Sharat Chandra Chattopadhyay-Mahesh

মহেশ – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

আজ ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে একটি গল্প। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মহেশ শুধুমাত্র সেটির বিষয়বস্তুর কারণেই বাংলা সাহিত্যে অনন্য একটি গল্প বলে বিবেচিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে – গল্পটির মূল চরিত্র গ্রামীণ-বাংলারই কোন কোণের এক দরিদ্র মুসলিম চাষী গফুর ও তার মেয়ে আমিনা, আর তাদের একমাত্র ষাঁড় মহেশ। গল্পের শুরুতে আমরা দেখি যে প্রবল খরার আর অনাহারের মাঝেও গফুর আর আমিনা মহেশকে দেখে রাখার চেষ্টা করে, কিন্তু গ্রামে অবস্থাপন্ন গোভক্ত যারা, তাদের কাছে মহেশ অনাদর আর নিষ্ঠুরতাই পায় শুধু। চরম দারিদ্র আর খাদ্যাভাবের ফলে গফুরের পরিবারটির যা করুণ পরিণতি হওয়ার কথা, শেষে তাই হয়, কিন্তু গল্পটি পড়তে পড়তে মনে প্রশ্ন জাগে, যা ঘটে, তার জন্যে কি শুধু গফুরই দায়ী?

এই সময়ে, বিশেষ করে যেখানে একের পর এক গো-সংক্রান্ত ঘটনার কারণে ভারতে তোলপাড় চলছে, সেখানে একজন চাষীর তার ষাঁড়ের প্রতি গভীর মমতা নিয়ে লেখা এJই গল্পটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যার যার ধর্মবিশ্বাস থেকে যাতে আমরা অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি আর সরলীকরণ না করি, সেই আশায়ই তাই আজ এই গল্পটি তুলে দেওয়া।

Mahesh – Sharat Chandra Chattopadhyay

Today, a fitting story for these times. Written by the eminent 19th Century novelist Sharat Chandra Chattopadhyay, Mahesh narrates the tale of a rural Muslim family which, perhaps contrary to what prevalent stereotypes in the subcontinent would suggest, very much cares for its emaciated and weak ox, Mahesh. To the village landlord and his pious stooges, however, Mahesh is only a hungry menace which must be contained. As the story progresses against the background of a drought, things take a cruel and tragic turn, but as you read the story, ask yourself, who is the real villain here?

One might argue that the story is a rather one-sided depiction of reality, and perhaps they are right. But even so, it is a side that exists, and one that we must consider – if anything, that is what religion teaches us.

ছোটগল্প ১২৫ – ব্রজবুড়ো / Short Story 125 – Brajoburo

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Brajoburo 

ব্রজবুড়ো – সত্যজিৎ রায়

আজ একইসাথে মনে ভয়, কৌতুহল আর আত্মোপলব্ধি জাগানোর মত একটি গল্প। গল্পটির ভূমিকা মজাটুকু নষ্ট হয়ে যাবে, তবে এটুকু বলব, যে যা আদতেই অস্বাভাবিক কিছু, তা যখন আমাদের কুসংস্কার, অসচেতনতার মিশেলে পড়ে ভয়ের হয়ে দাঁড়ায়, সেটির দায় তো তখন আমাদেরই প্রাপ্য, তাই না? সত্যজিৎ রায়ের কলমে ব্রজবুড়ো শিশুদের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সামনে সেই প্রশ্নটিই তুলে ধরে।

Brajoburo – Satyajit Ray

Today, a story that evokes fear, curiosity and self-realization, all at the same time. Writing an introduction to the plot risks giving away its plot, so let me pose a leading question instead: when something that starts out as unusual becomes terrifying due to the superstition an unawareness prevalent in our society, isn’t it us who are responsible? in Brajoburo, Satyajit Ray asks us precisely that.

 

 

গল্প ১২৪ – ফেলুদা – সমাদ্দারের চাবি / Story 124 – Feluda – Samaddarer Chabi (Samaddar’s Key)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Samaddarer Chabi

ফেলুদার গল্প – সমাদ্দারের চাবি – সত্যজিৎ রায়

এই সাইটে আগে তোলা রহস্য-উপন্যাসগুলোর ধারাবাহিকতায় আজ ফেলুদার আরেকটি দুর্দান্ত গোয়েন্দাগল্প। সমাদ্দারের চাবি গল্পটির শুরু হয় রাধারমণ সমাদ্দার নামের এক ধনী বৃদ্ধ প্রয়াত হওয়ার সূত্র ধরে। রাধারমণ বাবু পেশায় উকিল হলেও তাঁর ঝোঁক ছিল গান-বাজনার দিকে, তাই পয়সা ও পসার হয়ে গেলে তিনি ওকালতি ছেড়ে শুধু গান ও বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের দিকে মন দেন। সঙ্গীতের নেশা আর কৃপণস্বভাবের কারণে হাতেগোণা দুয়েকজন বাদে রাধারমণবাবুর সাথে কারোরই খুব একটা যোগাযোগ ছিল না, তাই তিনি মারা গেলে মণিমোহন সমাদ্দার নামের এক ভাইপোর হাতে তাঁর বিষয়-সম্পত্তির ভার এসে পড়ে। সদ্যপ্রয়াত কাকা যে যথেষ্ট ধনী ছিলেন, মণিমোহনবাবু তা জানতেন, কিন্তু কাকার ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও বাদ্যযন্ত্র ছাড়া আর কিছু খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি ফেলুদার শরণাপন্ন হন। অনুরোধটি অভিনব, তাই ফেলুদা হারানো টাকার হেঁয়ালী সমাধানে রাজি হয়, কিন্ত তাঁর ধারণা ছিলনা যে প্রয়াত রাধারমণের বুদ্ধি ও বর্তমান চরিত্রদের কার্যকলাপ রহস্যটিকে কতটা প্যাঁচালো করে তুলবে।

হেঁয়ালী যারা ভালবাসেন, তাদের জন্যে গল্পটি থেকে একটি লাইন তুলে দেই – “যার নামে সুর থাকে, তার গলায়ও সুর থাকে।” পড়বার আমন্ত্রণ রইল। 🙂

Feluda’s Adventures – Samaddarer Chabi (Samaddar’s Key) – Satyajit Ray

Today, a fitting story to continue the thread of Feluda stories on this site. Samaddarer Chabi (Samaddar’s Key) starts with the passing of a wealthy old man by the name of Radharaman Samaddar, who was known for his collection of musical instruments. A former lawyer with a passion for music, Samaddar had retired to devote his time to music and the collection of rare musical instruments, and decades of pursuit had resulted in him ending up with quite a collection. Upon his death, his nephew Manimohan Samaddar gains temporary custody of his wealth, but curiously, he finds no traces of his uncle’s wealth except for the collection itself. Unable to find the money, but sure that it was in the house, he asks for Feluda’s help. Sensing novelty in the case, Feluda agree’s to look for the lost money, but he has little idea about how complicated a case this is going to become.

গান ৭৯ – আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম / Song 79 – Aaj Pasha Khelbo Re Shyam (Shyam, today You are all ours)

Radharaman Das Purakayastha-O Shyam Re 2.png

আজ বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চল হতে আসা একটি জনপ্রিয় বাউল গান। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম গানটির উৎপত্তি হয় উনবিংশ-শতাব্দীর সিলেটে, যেখান হতে সেটি ক্রমান্বয়ে ধর্মীয় ও ভৌগলিক সীমা পেরিয়ে পূর্ববাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গানে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য বৈষ্ণব বাউলসঙ্গীতের মত ফকির-বাউল দীনহীনের লেখা এই গানটিও মানুষের মনে ঈশ্বরকে পাওয়ার আকাঙ্খাটুকুকে খেলার ছলে ব্যক্ত করে লেখা। গানটির পংক্তিগুলো আপাতদৃষ্টিতে সহজ ও গ্রাম্য মনে হতে পারে, কিন্তু ভেবে দেখলে কি গভীর অর্থ লুকিয়ে আছে সেগুলোর মাঝে, তা বোঝা যায়। ‘পাশা’ খেলার তাৎপর্যটুকু ধরা যাক – সখারূপে ঈশ্বরকে হয়তো আমরা বাঁধতে পারি, কিন্তু পাশাখেলায় জিতে তাঁকে সত্যিই পাওয়া, সেটা কি তাঁরই ইচ্ছের উপর নির্ভরশীল নয়? অসীমতার সামন্তে আমাদের আর অসহায়তাটুকু এমন সরল ও সুন্দর রূপে অন্য সাহিত্যে কি আমরা সহজে খুঁজে পাই? পাঠকদের ভাল লাগবে, সেই আশায় পংক্তিসহ সেটি আজ তুলে দেওয়া।

Today, a very popular Baul song from the northeast corner of Bengal, Sylhet. Written and composed by fakir-baul Dinahin, Aaj Pasha Khelbo Re Shyam (Shyam, today You are all ours) describes a devotee’s desire to be in the presence of God by the ruse of playing dice with Him. At times playful and at times longing, the song has much deeper meanings that are only hinted at by metaphors. Playing dice is an example – we might corner God into playing with us, but even then, it is a game where, in our pursuit of him, we have everything to lose. Simple in its words, and yet profound in its meaning, Aaj Pasha Khelbo Re Shyam has traversed geographic and religious boundaries to become one of the most well-known folk-songs in and beyond Bangladesh. For your reading and listening pleasure, the lyrics and a YouTube rendition is presented below.

আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম

ও শ্যাম রে তোমার সনে
একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম
এই নিঠুর বনে
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম

একেলা পাইয়াছি হেতা পলাইয়া যাবে কোথায় ।।
চৌদিকে ঘিরিয়ারে রাখবো ।।
সব সখি সনে
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম

আতর গোলাপ চন্দন মারো বন্ধের গায় ।।
ছিটাইয়া দাও ছোঁয়া চন্দন ।।
ঐ রাঙ্গা চরণে
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম

দীনহীন আর যাবে কোথায়
বন্ধের চরণ বিহনে ।।
রাঙ্গা চরণ মাথায় নিয়া দীন হীন কান্দে ।।
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম

ও শ্যাম রে তোমার সনে
একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম
এই নিঠুর বনে
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম…

– ফকির-বাউল দীনহীন

পুনশ্চ – নিচে সংযুক্ত ইউটিউব ভিডিওটি একটি বাংলাদেশি ছায়াছবি হতে নেওয়া হয়েছে। গানটির সাথে সেটির দৃশ্যের কতটুকু মিল আছে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ হতে পারে, কিন্তু সুর ও কথার দিক দিয়ে এটিই আমার কাছে সবচেয়ে ভাল মনে হয়েছে, তাই তুলে দেওয়া। / P.s. The YouTube rendition of the song was taken from a Bangladeshi movie. If you ask me, how much the video relates to the song is questionable, but with regard to music and vocals, the audio seems to have most Bangalee flavor to it, hence the link.

গল্প ১২৩ – ফেলুদা – ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা / Story 123 – Feluda – Ghurghutiyar Ghatana (The Ghurghutia Incident)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Ghurghutiyar Ghatona

ফেলুদার গল্প – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি – সত্যজিৎ রায়

অনেকদিন ধরে এই সাইটে ফেলুদার গল্প তোলা হয়না, তাই আজ এই লেখাটি তোলা। ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা  গল্পটির শুরু হয় একটি চিঠি দিয়ে, যার প্রেরক কালীকিঙ্কর মজুমদার নদীয়ার পলাশীর নিকট ঘুরঘুটিয়া গ্রামের একজন বৃদ্ধ জমিদার। কালীকিঙ্করবাবু তাঁর চিঠিতে ফেলুদাকে একটি ‘বিশেষ প্রয়োজনে’ ঘুরঘুটিয়ায় একটি দিন আসার জন্যে অনুরোধ করেন। অনেক দিন গ্রামীণ বাংলার রূপ দেখা হয়নি, আর অনুরোধকারীও যেহেতু একজন আপাতদৃষ্টিতে অসহায় বৃদ্ধ, তাই ফেলুদা যেতে রাজী হন। ঘুরঘুটিয়ার মত অজ-পাড়াগাঁয়ে শহুরে পাঠকেরা হয়তো সাদামাটা ভ্রমণের চাইতে বেশি কিছু আশা করেন না, কিন্তু সেখানে গিয়ে ফেলুদা আর তোপসে কে এমন একটি রহস্যের মুখোমুখি হতে হয়, যেটি মোটেও সরল নয়।

Feluda’s Stories – Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling) – Satyajit Ray

After a long interval, another Feluda story. Ghurghutiyar Ghatana (The Ghurghutiya Incident) starts with the arrival of a letter from a certain Kalikingkar Majumdar, an old landlord who lives in Ghurghutiya, near Palashi. In his letter, Mr. Majumdar requests Feluda to visit his house in Ghurghutiya for a day for a ‘special reason’. Being tired of the city, and not wishing to rebuff a request from an old man, Feluda agrees to go. Perhaps an urbanite would not expect much of a mystery in a village like Ghurghutiya, but what Feluda finds after arriving there is very far from simple.

ছোটগল্প ১২২ – ব্যোমকেশ বক্সী – অর্থমনর্থম / Short Story 122 – Byomkesh Bakshi – Arthamanartham (The Root of All Evil)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Sharadindu Bandyopadhyay-Byomkesh Bakshi-Arthamnartham

ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প – অর্থমনর্থম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ ব্যোমকেশ বক্সীর আরেকটি গল্প। অর্থমনর্থম ব্যোমকেশের অন্যান্য গোয়ন্দাগল্পগুলোর মতই আকর্ষণীয়, তবে তা ছাড়াও গল্পটি ব্যোমকেশ-ভক্তদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ আরেকটি কারণে – সত্যবতীর সাথে সত্যান্বেষীর দেখা যে হয় এই গল্পেই!

Byomkesh Bakshi’s Adventures – Arthamanartham (The Root of All Evil) – Sharadindu Bandyopadhyay

Another of Byomkesh’s detective stories this time. Like all other stories of the sleuth, Arthamanartham (The Root of All Evil) has a good mystery that brings out the detective’s brilliance, but to fans of Byomkesh, it is also a very special for another reason – it is in this story that sleuth meets Satyabati, his future wife.

কবিতা ৭৮ – তুমি কি কেবলই ছবি? / Poem 78 – Are you a mere picture?

অনেক দিন পরে আজ রবিঠাকুরের একটি কবিতা। যতদূর বুঝি, তুমি কি কেবলই ছবি  কবিতাটি পেরিয়ে আসা জীবনের মানুষ ও মূহুর্তগুলোকে স্মৃতিপটে বাঁচিয়ে রাখা নিয়ে লেখা। কটি পংক্তি তুলে দেই –

“নয়নসম্মুখে তুমি নাই,
নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই – আজি তাই
শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল।
আমার নিখিল তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল।”

যেকোনো কবিতার অর্থ যে কি, সেটা নিতান্তই পাঠকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এও তো ঠিক, যে, কখনো কখনো কবিতার বস্তু জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে হয় – রবিঠাকুরের যেসমস্ত কবিতাগুলো যা আগে বুঝতে কষ্ট হত, তার কিছু কিছু এখন খানিকটা হলেও বুঝি… বয়সের সাথে সাথে মানুষ তো কিছুটা অন্তত শেখে, তাই না?

নিম্নোক্ত পংক্তিগুলো তুমি কি কেবলই ছবির একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। যারা পুরো কবিতাটি পড়তে চান, তারা সেটি পাবেন এখানে

“The day was when you walked with me, your breath warm, your limbs singing of life. My world found its speech in your voice, and touched my heart with your face. You suddenly stopped in your walk, in the shadow-side of the Forever, and I went on alone.”

A beautiful poem by Thakur of memories, which keep long-lost ones alive in the heart despite the persistence of time.

তুমি কি কেবলই ছবি

তুমি কি কেবলই ছবি, শুধু পটে লিখা।
ওই-যে সুদূর নীহারিকা
যারা করে আছে ভিড় আকাশের নীড়,
ওই যারা দিনরাত্রি
আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী গ্রহ তারা রবি,
তুমি কি তাদের মতো সত্য নও।
হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি॥

নয়নসমুখে তুমি নাই,
নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই– আজি তাই
শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল।
আমার নিখিল তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল।
নাহি জানি, কেহ নাহি জানে–
তব সুর বাজে মোর গানে,
কবির অন্তরে তুমি কবি–
নও ছবি, নও ছবি, নও শুধু ছবি॥

Tumi Ki Keboli Chhobi (Are you a mere picture)?
(Translation by the poet himself)

Are you a mere picture, and not as true as those stars, true as this dust? They throb with the pulse of things, but you are immensely aloof in your stillness, painted form.
The day was when you walked with me, your breath warm, your limbs singing of life. My world found its speech in your voice, and touched my heart with your face. You suddenly stopped in your walk, in the shadow-side of the Forever, and I went on alone.
Life, like a child, laughs, shaking its rattle of death as it runs; it beckons me on, I follow the unseen; but you stand there, where you stopped behind that dust and those stars; and you are a mere picture.

No, it cannot be. Had the lifeflood utterly stopped in you, it would stop the river in its flow, and the footfall of dawn in her cadence of colours. Had the glimmering dusk of your hair vanished in the hopeless dark, the woodland shade of summer would die with its dreams.
Can it be true that I forgot you? We haste on without heed, forgetting the flowers on the roadside hedge. Yet they breathe unaware into our forgetfulness, filling it with music. You have moved from my world, to take seat at the root of my life, and therefore is this forgetting-remembrance lost in its own depth.
You are no longer before my songs, but one with them. You came to me with the first ray of dawn. I lost you with the last gold of evening. Ever since I am always finding you through the dark. No, you are no mere picture.

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / Rabindranath Thakur
বিচিত্র হতে সংগ্রহীত (Collected from Bichitra/Lover’s Gift)

 

গান ৭৭ – ও নদীরে / Song 77 – O Nodi Re (O River)

আজ একটি গান, যা সেই ছেলেবেলা থেকে আজ পর্যন্ত গেয়ে আসছি। ও নদীরে গানটি ছোটবেলা থেকেই আমার কেন এত ভাল লাগে জানিনা – হয়তো নদীর অসীমের দিকে নিরন্তর বয়ে চলা, তা দেখে ছেলেবেলার বিষ্ময় আর পরিণত বয়সের প্রশ্নগুলোয় সেটি ভাষা ও সুর যোগায় বলে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায় গাওয়া এই গানটি প্রায়ই মনে মনে গুনগুন করি, কিন্তু তুলব তুলব করেও কেন জানি এতদিন তুলে দেওয়া হয়নি। আজ খানিকটি অবসরের মাঝে হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়ায় অনেক দিনের বিরতি ভেঙ্গে আজ গানটি তুলে দিলাম – গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কলমে আর হেমন্তের গলায় ও নদীরে – আশা করি পাঠকদের ভাল লাগবে।

পুনশ্চ – গান শুনতে যারা ভালবাসেন, তাদের জন্যে ইউটিউব থেকে গানটির একটি সংস্করণ নিচে তুলে দিলাম।

Today, a song that I have known and loved since childhood. I don’t remember when I first heard O Nodire (O River), but every time I hear the song, I fall in love with it all over again. Written by Gauriprasanna Mazumdar and sung by the most wonderful of singers, Hemanta Mukhopadhyay, the song is Man’s eternal and wondering question to the River about why she is and her purpose. She does not reply back, however. Perhaps fittingly… some questions are meant to be answered from within, after all. Anyways, I hope you will like this song of the meandering river as much as I love it. A YouTube link is attached below, and if you wish to sing to the tune, the lyrics are given as well.

ও নদীরে…

ও নদীরে,
একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে
বলো কোথায় তোমার দেশ
তোমার নেই কি চলার শেষ
ও নদীরে…

তোমার কোনো বাঁধন নাই তুমি ঘর ছাড়া কি তাই ।।
এই আছো ভাটায় আবার এই তো দেখি জোয়ারে
বলো কোথায় তোমার দেশ
তোমার নেই কি চলার শেষ
ও নদীরে…

এ কূল ভেঙে ও কূল তুমি গড়ো
যার একূল ওকূল দুকূল গেল তার লাগি কি করো?

আমায় ভাবছো মিছেই পর, তোমার নেই কি অবসর
সুখ দুঃখের কথা কিছু কইলে না হয় আমারে …
বলো কোথায় তোমার দেশ
তোমার নেই কি চলার শেষ
ও নদীরে…

শিল্পীঃ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
সুরকারঃ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
গীতিকারঃ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার

ছোটগল্প ১২১ – শঙ্কুর শনির দশা / Short Story 121 – Professor Shanku – Shankur Shonir Dasha (Shanku’s Nemesis)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Shankur Shonir Dasha

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Shankur Shonir Dasha

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – শঙ্কুর শনির দশা – সত্যজিৎ রায়

আজ অনেকদিন পরে প্রফেসর শঙ্কুর একটি গল্প, যাতে তাঁকে লড়াই হয় এমন ভয়ঙ্কর এক প্রতিদ্বন্দীর সাথে, যে সহজেই শঙ্কুর সারা জীবনের সাধনা ও অর্জন অনায়াসে ধূলিস্যাৎ করে দিতে পারে – শঙ্কু নিজে।

Professor Shanku’s Stories – Shankur Shonir Dasha (Shanku’s Nemesis) – Satyajit Ray

A long time later, another of Professor Shanku’s stories, and one in which he faces perhaps his most terrible enemy – himself.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Shankur Shonir Dasha 2