গান ৭৪ – বাড়ির কাছে আরশিনগর / Song 74 – Barir Kachhe Aarshinagar (City of Mirrors)

আজকের ভণিতার বিষয়টুকু বেশ জটিল। একই তত্ত্বের সাধক বা একই পথের যাত্রী যারা, তাদের মধ্যে যে বন্ধুত্ব কিংবা রেষারেষি থাকবে, তা আশ্চর্য নয়, কিন্তু সম্পর্কটি যদি নারী ও পুরুষের মাঝে হয়? বিপরীত লিঙ্গের মধ্যেকার সহজাত আকর্ষণটুকু কি সেই সাধনা বা যাত্রাটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, নাকি সেগুলোর অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়?

প্রশ্নগুলো করছি কারণ বাউলসম্রাট লালন সাঁইয়ের বাড়ির কাছে আরশিনগর  কবিতাটি পড়তে গিয়ে সেগুলো মনে এলো। বাউলদের আমরা সাধক বলে জানি, কিন্তু তাঁরা যে মানবিক প্রবৃত্তির প্রভাবগুলো হতে পুরোপুরি মুক্ত, তা কি সত্যি? লালন সাঁইয়ের ভাষায় –

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো
যম যাতনা সকল যেত, দূরে
সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ যোজন ফাঁকে রে।।

হয়তো আমাদের কেউই পুরোপুরি মুক্ত নই, কিংবা আমিই হয়তো আধ্যাত্মিক মিলনের আকাঙ্খাকে সাধারণ মানুষের আসক্তি ভেবে ভুল করছি। যাই হোক, ক্ষুদ্র মনের অনুধাবনের বাইরের প্রশ্নগুলি বাউলসম্রাটের কবিতাটিসহ পাঠকদের চিন্তার খোরাক যোগাবে, এই আশায় তুলে দিলাম।

A few questions for my readers today: In our pursuits of divine truths or higher goals, how do our relationships with fellow pursuers of the opposite gender matter? Does the sexuality that is entwined with gender intensify the camaraderie (or competition) between travelers on the same path? And does it influence, or perhaps taint, the very pursuit itself?

I write the questions because reading Lalon Sain’s Barir Kachhe Aarshinagar (City of Mirrors) made me think of those. Quoting from the source of the translation:

Bauls hold women in high esteem. They are essential to the male practitioner’s success in sadhana. This is one of Lalon’s many songs that secretly refer to the sadhika (female practitioner) or to the sahaj manus (natural person) within her.

Yet to me, the explanation seems to merely be a summarization of something more profound. Perhaps you know what I mean? The questions asked are far from simple, and a discussion of those require more than a blog post, and more than a knowledge of literature. So let me leave those for your weekend tea-parties – you will need more than a cup, I am sure :).

A translation of the poem by the Bangla scholar, Dr. Carol Salomon, is provided below.

বাড়ির কাছে আরশিনগর

বাড়ির কাছে আরশিনগর
সেথা এক পড়শি বসত করে।
আমি একদিন না দেখিলাম তারে।।
গিরাম বেড়ে অগাধ পানি
ও তার নাই কিনারা নাই তরণী পারে
মনে বাঞ্ছা করি দেখব তারে
কেমনে সে গাঁয় যাই রে।।
বলবো কী সেই পড়শির কথা
ও তার হস্তপদ স্কন্ধমাথা, নাই রে
ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর
ক্ষণেক ভাসে নীরে।।
পড়শি যদি আমায় ছুঁতো
যম যাতনা সকল যেত, দূরে
সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ যোজন ফাঁকে রে।।

– লালন সাঁই

Barir Kachhe Aarshinagar (The City of Mirrors)
(Translated by Carol Salomon)

I have not seen her even once–
my neighbor
who lives in the city of mirrors
near my house.
Her village is surrounded
by deep boundless waters,
and I have no boat
to cross over.
I long to see her,
but how can I reach
her village?
What can I say
about my neighbor?
She has no hands, no feet,
no shoulders, no head.
Sometimes she floats high up in the sky,
sometimes in the water.
If my neighbor only touched me,
she would send the pain of death away.
She and Lalon are in the same place,
yet five hundred thousand miles apart.

– Lalon Sain

কবিতা ৭৩ – নামের গুণ / Poem 73 – Naam er Gun (A Lot is in a Name)

আজকের কবিতাটির কোন নাম আছে কিনা তা জানি না, তাই নিজেই একটি নাম দিয়ে দিলাম। রবিঠাকুরের কবিতাগুলোর মধ্যে যে এই কবিতাটি খুব উচ্চস্তরের, তা বলা যাবে না। তবে হঠাৎ সামনে পেয়ে পড়া, আর তারপর অকারণেই বিয়ের বাজারে প্রবাসী পাত্র-পাত্রীদের পিছনে বাঙ্গালিদের প্রাণপণে ছোটার কথা মনে পড়ে গিয়ে বেশ হাসি পেয়ে গেল। খানিকটা কৌতুকচ্ছলেই তাই “নামজাদা” পাত্র-পাত্রীদেরকে নিয়ে আমাদের লাফালাফির এই কবিতাটি আজ তুলে দিলাম।

This time, a humorous poem that, for some reason, reminds me of our ridiculous race to bag non-resident Bangalee brides/grooms (NRIs/NRBs) for marriage. Naam er Gun (A Lot is in a Name) is by no means one of Thakur’s good poems, but it does capture the obsequious South-Asian fascination and desire for everything that is Western. Choose your other halves wisely, friends – ‘expatriate’ is just a meaningless tag, unless a soulmate is not what you are looking for.

নামের গুণ 

আদর ক’রে মেয়ের নাম
রেখেছে ক্যালিফর্নিয়া,
গরম হল বিয়ের হাট
ঐ মেয়েরই দর নিয়া।
মহেশদাদা খুঁজিয়া গ্রামে গ্রামে
পেয়েছে ছেলে ম্যাসাচুসেট্‌স্‌ নামে,
শাশুড়ি বুড়ি ভীষণ খুশি
নামজাদা সে বর নিয়া–
ভাটের দল চেঁচিয়ে মরে
নামের গুণ বর্ণিয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খাপছাড়া)

গল্প ১১৯ – ফেলুদা – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি / Short Story 119 – Feluda – Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Feludar Goendagiri

ফেলুদার গল্প – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি – সত্যজিৎ রায়

আজ ফেলুদার একটি বিশেষ গল্প – এর আগের পোস্টে ফেলুদার দার্জিলিং ফেরা আর একটি রহস্যের সমাধান করা নিয়ে লেখা দার্জিলিং জমজমাট গল্পটি তুলেছিলাম। সেইবার দার্জিলিংই যে ফেলুদার গোয়েন্দাগিরীতে হাতেখড়ির পটভূমি, তা উল্লেখ করলেও সেই গল্পটি যে এই সাইটে তোলা হয়নি, তা খেয়াল ছিলনা। সেই ভুলটুকু শোধরাতেই আজ সেই হাতেখড়ির গল্পটি তুলে দেওয়া – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি গল্পটি যে সময়কার, তখন আমাদের চিরচেনা তোপসে নেহাতই ছোট, অথবা তাঁর ভাষায় বলতে গেলে “আমার বয়স সাড়ে তেরো বছর। ফেলুদার বয়স আমার ঠিক ডবল।”। ফেলুদা অবশ্য বয়সে তরুণ হলেও বুদ্ধিতে চিরকালের মতই পাকা, যদিও ঠান্ডা মস্তিস্কের বদলে তোপসের উপর তাঁর খিটখিটেমোই আমরা দেখতে পাই বেশি। ফেলুদার পরবর্তী উপন্যাসগুলোর তুলনায় এই গল্পটি নেহাতই হাল্কা মেজাজে লেখা – সত্যজিৎ রায় হয়তো ফেলুদাকে নিয়ে মাত্র একটি গল্প লিখবেন, তেমনটা মনে করেই লেখাটি লিখেছিলেন। যাই হোক, ভণিতা থামানোর আগে বলে রাখি যে গল্পের শেষটা খানিকটা অপ্রত্যাশিত। হাজার হোক, সব রহস্যের কি আর সময়মত সমাধান হয়?

Feluda’s Stories – Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling) – Satyajit Ray

In my last post, I had put up Darjeeling Jamjomat, where the Feluda and his sidekick Topshe return to Darjeeling, and again solve another mystery. For some reason, I had negelected to put up the story of their first case there (and anywhere!), so this. To Feluda fans, Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling) is very special, as it was the story through which Satyajit Ray gave birth to the sleuth as a character. Back then, Topshe was merely a boy of thirteen-and-half, and Feluda quite young at ‘exactly double’ his cousin’s age. All this shows in the lighthearted and boyish tone of the narrative – the Feluda we know to be cool and mature is seen playing pranks on and teasing Topshe. His brains are just as sharp, though. All said, the story is also exceptional in another sense – Feluda does solve the mystery in it, but too late.

গল্প ১১৮ – ফেলুদা – দার্জিলিং জমজমাট / Short Story 118 – Feluda – Darjeeling Jamjomat (Murder in the Mountains)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Darjeeling Jamjomat

ফেলুদার গল্প – দার্জিলিং জমজমাট – সত্যজিৎ রায়

অনেক দিন পর ফেলুদার আরেকটি গল্প, আর এবারে পটভূমি দার্জিলিং। ফেলুদাকে আমরা রূপালী-পর্দার জগতে প্রথম দেখি বোম্বাইয়ের বোম্বেটেতে, যখন বলিউডের চিত্রনির্দেশক পুলক ঘোষাল লালমোহন বাবুর গল্প থেকে একটি চলচ্চিত্র বানানোয় হাত দেন। সেই গল্পে ফিল্মও বানানো হয়, আর ফেলুদাও তারই মাঝে বোম্বাইয়ের এক বড় চোরাচালানকারীকে জব্দ করে। যাই হোক, তার বছরখানেক পরে পুলকবাবু আবারও লালমোহনবাবুর আরেকটি গল্প থেকে নতুন একটি সিনেমা বানানো শুরু করেন, আর দৃশ্যধারণের জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় দার্জিলিং শহরটিকে। ফেলুদা ও তোপসের ইচ্ছে ছিল যে শুটিং দেখার সাথে সাথে তাদের প্রথম গোয়েন্দাগিরির জায়গাটিতে আরেকবার ঘুরে আসার, কিন্তু সেখানে গিয়ে যে তাদের আরেকবার তদন্তে নামতে হবে, তা কে জানত?

Feluda’s Adventures – Darjeeling Jamjomat (Murder in the Mountains) – Satyajit Ray

It has been a while since I last posted a Feluda story – so this time, an upload that takes the sleuth back to the very place where he first started as a detective. The story starts with Lalmohan Babu getting another offer from Bollywood director Pulak Ghoshal for one of his stories to be made into a movie. The last time that happened, Feluda and co. ended up in Mumbai to watch the shooting, and Feluda busted a smuggling racket and caught a godfather of the Mumbai underworld. This time, in a much more tranquil Darjeeling, he and Topshe hope to relax and relive old memories. But once they are there, things take a turn for the worse, and the detective has to reprise a familiar role in a familiar place.

গান ৭২ – পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে / Song 72 – Prithibita Naki Chhoto Hote Hote (Light-years Apart in a Shrinking World)

লম্বা একটি বিরতির পর আজকে একটু অন্যরকম একটা পোস্ট – পৃথিবীটা নাকি গানটি এই সাইটে তোলা অন্যান্য গানগুলোর চাইতে বিষয় ও ধারা, দু দিক দিয়েই একটু আলাদা। আজকের এই যুগে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা কতভাবেই না অন্যদের সাথে সংযুক্ত, কিন্তু সেই প্রযুক্তির হাত ধরেই আপনজনদের কাছ থেকে যে আমরা কতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি বা গেছি, তা কি আমরা মনে রাখি? পাঠকদের মধ্যে যারা শহুরে, তাদের হয়তো সেই একাকিত্বটুকু একটু বেশিই বাস্তব হয়ে ঠেকে। নগরায়ণ আর প্রযুক্তিগত সংযোগের মাঝে সেই  নিঃসঙ্গতাই ফুটে উঠেছে এই গানটিতে – মহীনের ঘোড়াগুলির পৃথিবীটা নাকি

গানটির কথা যখন লিখলাম, তখন মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডটির কথা আলাদা করে বলতে হয়। পাঠকদের অনেকেই হয়তো জানেন যে মহীনের ঘোড়াগুলি উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রক ব্যান্ডগুলোর মধ্যে একটি। জীবনানন্দ যেমন তাঁর সময়ে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে বাংলা সাহিত্যে একটি নতুন সাহিত্যধারাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডটিও বাংলার সঙ্গীতজগতে অনেকটা সেভাবেই রক সঙ্গীতধারার প্রচলিত করে। ব্যান্ডটির নাম যে জীবনানন্দের কবিতা থেকেই নেওয়া, তা আর বিস্ময়ের কি? বাংলা ও উপমহাদেশীয় ব্যান্ড সঙ্গীতধারার উপর মহীনের ঘোড়াগুলির প্রভাব যে কি বিশাল, তা বোঝানোর জন্যেপৃথিবীটা নাকি গানটিই যথেষ্ট – গানটি প্রকাশের পরবর্তী বছরগুলোতে সীমান্তের এপার আর ওপার, দুই বাংলারই অনেক গায়কেরা গানটি গেয়েছেন বা সেটি দ্বারা অনুপ্রাণিত করেছেন। বাংলাদেশের নগরবাউল ব্যান্ডের জেমস এর গাওয়া বলিউড সঙ্গীত ভিগি ভিগি  গানটি শুনলেই সেটি বোঝা যায়।

গান শুনতে যারা ভালবাসেন, তাদের জন্যে গানটির পংক্তির সাথে সাথে নিচে একটি ইউটিউব ভিডিও সংযুক্ত করে দিলাম। আশা করি সবার ভাল লাগবে।

In a way of breaking what has been an extended hiatus, a song that I have been thinking of putting up for quite some time. If you are a reader who grew up listening to rock songs in the eighties’ or nineties’ Bangla, you probably know about Moheener Ghoraguli (Moheen’s Horses), if not, you should! One of the first rock bands in the subcontinent, they played a pioneering role in establishing Rock as a genre in the Bangla music, and have had an immense influence on the bands which followed, and continue to follow their footsteps even today. Case on point: Prithibita Naki Chhoto Hote hote (Light-years Apart in a Shrinking World) – a song of citidwelling lovers who grow light-years apart because of the very technology that is supposed to connect them. In this era of Facebook, Twiter and WhatsApp, does that sound familiar? One of their most famous hits, the song has been covered by many famous singers in both Bangladesh and India, and has influenced many famous hits as well. Listen to the song on Youtube below, and then check out the Bollywood hit Bheegi Bheegi sung by the Bangladesh rockstar James, and you will know exactly what I mean. Old stuff, gold stuff – Prithibita Naki a truly interesting example of art moving across boundaries and cultures.

পৃথিবীটা নাকি

পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে
স্যাটেলাইট আর কেবলের হাতে
ড্রয়িং রুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…
ঘরে বসে সারা দুনিয়ার সাথে
যোগাযোগ আজ হাতের মুঠোতে
ঘুঁচে গেছে দেশ কাল সীমানার গণ্ডি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…।

ভেবে দেখেছ কি?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।
ভেবে দেখেছ কি ?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে…।

সারি সারি মুখ আসে আর যায়
নেশাতুর চোখ টিভি পর্দায়
পোকামাকড়ের আগুনের সাথে সন্ধি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…
পাশাপাশি বসে একসাথে দেখা
একসাথে নয় আসলে যে একা
তোমার আমার ভাড়াটের নয়া ফন্দি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…।

ভেবে দেখেছ কি?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।
ভেবে দেখেছ কি ?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে…।

স্বপ্ন বেচার চোরা কারবার
জায়গা তো নেই তোমার আমার
চোখ ধাঁধানোর এই খেলা শুধু বন্দি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…
তার চেয়ে এসো খোলা জানালায়
পথ ভুল করে ভুল রাস্তায়
হয়ত পেলেও পেতে পারি আরো সঙ্গী,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…।

ভেবে দেখেছ কি?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।
ভেবে দেখেছ কি ?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে…।

– মহীনের ঘোড়াগুলি
.

ফিরে দেখা ও অগ্রযাত্রা ১ – পাঠকদের কাছে পৌছানো এবং ফেসবুক যাত্রার সূচনা / Looking Back and Moving Forward 1 – Reaching the Readers through Facebook

facebook-page

(ফেসবুকে সাহিত্য জগৎ এর সাথে সংযুক্ত হতে এখানে কিংবা ছবিটিতে ক্লিক করুন ! / Click here or on the picture to like Sahitya Jagat on Facebook!)

সাহিত্য জগৎ খোলার পর প্রায় তিন বছর কেটে গেল। পেছন ফিরে তাকালে বেশ ভালই লাগে – পরিসংখ্যানের বিচারে সাইটটিকে তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগগুলোর ধারেকাছেও আমি নিতে পারিনি, কিন্তু এই ক’বছরে যে সেটির কল্যাণে বাংলা সাহিত্যের কিছু টুকরো লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছেছে, সেটি তো নেহাৎ ফেলনা নয়। তাই ভালই লাগে।

সাহিত্য জগৎ সাইটটি খোলার সময় আমার লক্ষ্য ছিল কিশোর-তরুণদের বাংলা সাহিত্যে আগ্রহী করে তোলা। তাঁর কতটুকু করতে পেরেছি তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তাছাড়া, এই সাইটের অনেক লেখাই তরুণদের উপযোগী হলেও কিশোরদের জন্যে নয়। সামনের দিনগুলোতে সেটি খেয়াল থাকবে। আর এতদিন যা পাঠকদের ভাল লেগেছে, তেমন আরও লেখা তোলার চেষ্টা করব। আশা করি সেগুলো সবার ভাল লাগবে।

পুনশ্চ – সম্প্রতি পরিসংখ্যান ঘেঁটে আমি লক্ষ্য করেছি যে এই সাহিত্য জগৎ এর যারা পাঠক, তাঁদের প্রায় সবাই (> ৯৫%) গুগল থেকেই আসেন। আজকের যুগে যখন কিশোর-তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমেই বেশি সময় কাটায়, তখন এই সাইটের খোঁজ শুধু গুগলের মত অনুসন্ধান-যন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে সাইটটির প্রসার সীমিতই থেকে যাবে। তাই এই সাইটটিকে ফেসবুকে পরিচিত করতে সাহিত্য জগৎ নামে একটি ফেসবুক পৃষ্ঠা খুলেছি। ফেসবুক-ব্যবহারকারী পাঠকদের মধ্যে যারা ইচ্ছুক, তারা পৃষ্ঠাটির মাধ্যমে এই সাইটটির সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন। ঘুরে আসার আমন্ত্রণ রইল।

কবিতা ৭১ – আদর্শ ছেলে / Poem 71 – Adarsha Chhele (‘The Ideal Boy’)

এই সাইটে এতদিন যাদের লেখা তুলেছি, তাদের মধ্যে নারী সাহিত্যিক কেউ ছিলেন না – সেই ভুলটুকু শোধরাতে তাই আজকের এই পোস্ট। কুসুমকুমারী দাশকে হয়তো পাঠকদের কেউ কেউ জীবনানন্দ দাশের মা হিসেবে চিনবেন। কিন্তু রত্নগর্ভা এই নারী নিজেও ভালই সাহিত্যচর্চা করতেন, আর নিজগুণেই কবি বলে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। কুসুমকুমারীর লেখা আদর্শ ছেলে  কবিতাটি দুই বাংলার কমবেশি সবারই ছোট বেলায় পড়ে থাকার কথা – আমার তো এখনো মনে আছে ! কবিতাটি লেখা হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে, কিন্তু তখন আর বর্তমানের মধ্যেকার সময়ে আদর্শ ছেলেদের (আর মেয়েদের) জন্য সমাজের যে হাহাকার, তা তো আর মেটেনি। প্রলম্বিত অপেক্ষার মধ্যে আমাদের কিশোর ও যুব-সমাজ কেমন হওয়া উচিত তা যাতে আমরা ভুলে না যাই, সেজন্যেই এই কবিতাটি তুলে দেওয়া – কুসুমকুমারী দেবীর আদর্শ ছেলে

In a way of correcting what has been a glaring omission in this site, a poem written by a woman, and one that is perhaps as well recited as any Bangla poem. Some readers might identify Kusumkumari Das as the mother of the famous poet Jibanananda Das, but the lady herself was a wonderful poet in her own right. Her most famous poem, Adarsha Chhele (The Ideal Boy), was written almost a century ago, but even after all these years, it remains a piece that almost every Bangalee learns to recite at an impressionable age – I still remember a few lines myself! A summary of the qualities which our society seeks within its youth, the poem remains as relevant as ever. So in a manner of motivating, and as an honor to the poet, the poem is presented below.

আদর্শ ছেলে

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?
মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন
“মানুষ হইতে হবে” — এই তার পণ,
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান,
নাই কি শরীরে তব রক্ত মাংস প্রাণ ?
হাত, পা সবারই আছে মিছে কেন ভয়,
চেতনা রয়েছে যার সে কি পড়ে রয় ?
সে ছেলে কে চায় বল কথায়-কথায়,
আসে যার চোখে জল মাথা ঘুরে যায় |
সাদা প্রাণে হাসি মুখে কর এই পণ —
“মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন” |
কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার
সবারি রয়েছে কাজ এ বিশ্ব মাঝার,
হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান
তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ |

– কুসুমকুমারী দাশ

 

গল্প ১১৭ – ক্যাম্প / Story 117- Camp

jafar-iqbal-camp

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal – Camp

ক্যাম্প – জাফর ইকবাল

একটি যুদ্ধ, দুটি পক্ষ, কয়েকটি দৃষ্টিকোণ, আর একটি মৃত্যু – ক্যাম্প  মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ নিয়ে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা আরেকটি উপন্যাস। পাঠকদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি, তারা নিশ্চই জাফর ইকবালকে চেনেন, আর হয়তো এও জানেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি পিতৃহারা হয়েছিলেনক্যাম্প উপন্যাসটি তাই যতটা কাল্পনিক, ততটাই বাস্তব এবং ব্যক্তিগত। যতদূর জানি, একাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে ৪৭ বছরের রাজনীতি আর দলবাজির প্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনেকটাই সরলীকরণের বলি হয়েছে, যেকারণে আজ যুদ্ধের দিনগুলোর চরিত্রগুলোকে হয় সাদা কিংবা কালোর কাতারে ফেলার প্রবণতা বেশ প্রবল। কিন্তু ক্যাম্প পড়লে বোঝা যায় যে সেই সময়কার বাস্তবতা ছিল অনেকটাই জটিল, আর এও বোঝা যায় যে একাত্তরের খলনায়ক ছিল যারা, আদর্শগত ভাবে ভিন্ন হলেও তাদের মত অনেকেই দুই বাংলায়ই আজও বর্তমান।

Camp – Zafar Iqbal

A war, two sides, a few perspectives, and a death – Camp is another story by Muhammad Jafar Iqbal that portrays lives during the liberation war of Bangladesh. Readers who are Bangladeshi need no introduction to Jafar Iqbal; for those who do not know, the writer lost his father during atrocities committed by the Pakistani army during the war. For a fiction, Camp is therefore a very real account, and more – it is personal.

From the little I know, 47 years of politics and factionalism have left the war-time history in post-war Bangladesh grossly oversimplified. Consequently, the tendency among many these days is to portray characters from those times in either black or white. Camp, however, reveals them to us in shades of gray, and makes us realize the worrying truth that even after all this time, people just like them still linger among us.

কবিতা ৭০ – স্তব্ধতা উচ্ছ্বসি উঠে / Poem 70 – Stabdhota Uchchhwashi Uthe (Stillness Surges Up)

Rabindranath Thakur-Stabdhota Uchchhwashi Othe 1

আজ রবিঠাকুরের একটি অণুকাব্য। স্তব্ধতা উচ্ছ্বসি উঠে কবি লিখেছিলেন প্রকৃতির সর্বোচ্চ ও গভীরতমের মাঝে দুটি গুণের বিকাশ দেখতে পেয়ে। পর্বতের অগম্য উচ্চতার মধ্যে স্তব্ধতার উৎকর্ষলাভ, আর সরোবরের অতল গভীরতার মাঝে গতিবেগের আত্মোপলোব্ধি – কবিগুরু কি অবলীলায়ই না দৃশ্যমানের মাঝে প্রতীকি অর্থ খুঁজে পেতেন! রবিঠাকুরকে বুঝতে যাওয়ার স্পর্ধা আমাদের নেই, তবে কবিতাগুলো পড়ে ভাল লাগে, এই যা।

তবে কখনো কখনো ইন্টারনেটের কল্যাণে দু-একটি ছবি খুঁজে পাই, যা কবিগুরুর লেখাগুলোকে অপূর্বভাবে দৃশ্যমান করে তুলে। আমার চোখে উপরের ছবিটি তেমনই একটি, তাই পাঠকদেরও আমার মতো সেটি ভাল লাগবে, সেই আশায় তুলে দিলাম।

Today, a verse by Rabindranath Thakur – on the qualities that manifest in nature. It never ceases to amaze me how the sage associated abstractions around us with tangible things in nature. Taken apart, stillness that engulfs and mountains which surge up can appear unrelated. After reading the poem, however, one wonders whether they are anything but one. Greater minds have identified Thakur as one of the greatest intellects in modern history – to that, I can only nod without understanding. His simpler metaphors, however, come to me, and just that alone leaves me happy and glad.

Sometimes, while reading Thakur’s poems, the mind seeks a window to look out of and find what the lines remind it of. But such windows are almost never there. In this digital age, however, we have search engines, and a lucky search or two yields a picture that just captures the essence of the poem. I think Thakur would appreciate.

স্তব্ধতা উচ্ছ্বসি উঠে

স্তব্ধতা উচ্ছ্বসি উঠে গিরিশৃঙ্গরূপে,
ঊর্ধ্বে খোঁজে আপন মহিমা।
গতিবেগ সরোবরে থেমে চায় চুপে
গভীরে খুঁজিতে নিজ সীমা।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (স্ফুলিঙ্গ হতে সংগ্রহীত)

Stabdhota Uchchhwashi Uthe (Stillness Surges Up)
(Translation by the Poet Himself)

In the mountain, stillness surges up
to explore its own height;
in the lake, movement stands still
to contemplate its own depth.

– Rabindranath Thakur (Collected from Sphulinga/Fireflies)

গান ৬৯ – শীতের বনে / Song 69 – Sheeter Bone (In the Forest of the Winter)

rabindranath-thakur-sheetero-bone-2

আজ আমার সবচেয়ে প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতগুলোর মধ্যে একটি। শীতের বনে  ঋতুটির আগমনের সাথে সাথে প্রকৃতির সবুজ সাজ ছাড়া নিয়ে একটি গান, তাই এক অর্থে সেটি শীতের আগমনী বার্তা। কিন্তু গানটি ঋতুটির রুক্ষতা ও শুষ্কতার বর্ণনা নিয়ে হলেও সেটির মধুর সুর কেন জানি আমাকে ছোটবেলার শীতকালগুলোর সুখস্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। হয়তো শীতের মলিন হিমের মাঝেই ছোট্ট আনন্দগুলো সবচেয়ে বেশি উষ্ণ হয়ে ঠেকে, কিংবা হয়তো গানটির রুক্ষতার মাঝে মনে একটু কোমল পরশ বুলায়, তাই। যে কারণেই হোক পাঠকদের সাথে সেই অনুভূতিটুকু ভাগ করে নিতে তাই আজ এটির পংক্তিগুলো তুলে দেওয়া।

যারা শুনতে কিংবা গাইতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে নিচে গানটির দুটি সংস্করণ তুলে দিলাম – একটি মান্না দের গলায়, আর তাই শ্বাশত, আর অন্যটি যারা আধুনিকতার ভক্ত, তাদের জন্যে। শোনার আমন্ত্রণ থাকল।

Today, one of my favourite songs of the Rabindrasangeet genre. Sheetero Bone is a song about the Winter as I know it back home – dry and stern, yet raggedly beautiful and the evoker of a thousand memories from childhood. The lines narrate the changes that would announce the arrival of winter where I grew up – the trees shedding their foliage, the slight but perceptible Northern wind, the dryness tangible in the air… but more than that, they also remind me of what was gentle and sweet about those times – soaking in the warmth of the sun on our balcony, marveling at the dendrites that the trees had become, lighting our own fires out of dead twigs and leaves in the evening, to name a few… Life, with its sobering ways, takes us away from those moments and forces us to assume the mask of a grown-up, but sometimes, an unconscious hum or a prompted recitation is all it takes for us to drown in a flood of memories… Sometimes, it is okay to miss home.

Blow are two renditions of the song – a timeless one by the master, Manna Dey, and a contemporary one in Arnob’s (co)compostion and Warda’s voice – something to listen to or sing along with this winter. Enjoy!

শীতের বনে

শীতের বনে কোন্‌ সে কঠিন আসবে ব’লে
শিউলিগুলি ভয়ে মলিন বনের কোলে॥
আম্‌লকি-ডাল সাজল কাঙাল,   খসিয়ে দিল পল্লবজাল,
কাশের হাসি হাওয়ায় ভাসি যায় সে চলে॥
সইবে না সে পাতায় ঘাসে চঞ্চলতা
তাই তো আপন রঙ ঘুচালো ঝুম্‌কোলতা।
উত্তরবায় জানায় শাসন,   পাতল তপের শুষ্ক আসন,
সাজ-খসাবার হায় এই লীলা কার অট্টরোলে॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রকৃতি  হতে সংগ্রহীত)

(সংস্করণ ১ – মান্না দে / Version 1 – Manna Dey)

(সংস্করণ 2 – অর্ণব এবং ওয়ার্দা / Version 2 – Arnob ft. Warda)

গল্প ১১৬ – ফেলুদা – জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা / Story 116 – Feluda – Jahangir er Swarnamudra (The Missing Zodiac)

satyajit-ray-feluda-jahangir-er-swarnamudra-1

(সম্পাদিত ছবিটির আদি প্রতিরূপটি নেওয়া হয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন লাইব্রেরীর ডিজিটাল সংগ্রহশালা থেকে / Orginal of the edited photo was taken from the Digital Collections of the library at the University of Washington)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Jahangir er Swarnamudra

ফেলুদার গল্প – জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা – সত্যজিৎ রায়

আজকের গল্পটির ভূমিকা হিসেবে খানিকটা ইতিহাস – জাহাঙ্গীর যখন মুঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসনে, তখন নিজ রাজত্বের স্মারক হিসেবে তিনি বেশ কিছু মুদ্রার প্রচলন ঘটান। কালক্রমে সেগুলোর বেশিরভাগই হারিয়ে গেলেও অল্প কিছু মুদ্রা আজ পর্যন্ত টিকে গিয়ে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা  লেখা তেমনই কিছু মুদ্রাকে ঘিরে – কলকাতার একটি বনেদি পরিবারের সংগ্রহে ছিল রাশিমালার উপর ভিত্তি করে তৈরী জাহাঙ্গীর আমলের বারটি স্বর্ণমুদ্রা – যা আর্থিক ও ঐতিহাসিক, দুই দিক দিয়েই অমূল্য। কিন্তু সেই বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলাকালে রহস্যজনকভাবে সেই মুদ্রাগুলির একটি চুরি হয়ে যায়। ঘটনা ঠিক এক বছর পরে বাড়ির কর্তা ফেলুদার শরণাপন্ন হন। তাঁর ইচ্ছে, আরেকবার সেই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে তিনি একই অতিথিদের আবার আমন্ত্রণ করবেন। পার্থক্য শুধু এই, যে এবার তাতে ফেলুদাও থাকবেন, পরিচয় গোপন করে। উদ্দেশ্য – চোর কে শনাক্ত করে তাঁর কাছ থেকে সেই মুদ্রা ফেরত আনা।

Feluda’s Stories – Jahangir er Swarnamudra (The Missing Zodiac) – Satyajit Ray

Another Feluda story, with an accompanying tidbit of history: when Jahangir was the ruler of the Mughal Empire, he issued many insignias to mark his reign. Among those were coins of different kinds but great value. Most of those were lost over time, but some survived to become historical objects in this age. In Jahangir er Swarnamudra (The Missing Zodiac), we come across one such artifact – a collection of gold coins which represent the signs of the zodiac. One coin, however, is missing, and it is up to Feluda to get it from an unknown thief who had stolen it a long time ago.

কবিতা ৬৮ – আছে দুঃখ আছে মৃত্যু / Poem 68 – Achhe Dukkho Achhe Mrityu (Sadness and Joy, Life and Death)

rabindranath-thakur-achhe-dukkho-achhe-mrityu-1

আজ অতীত হতে চলা বছরটিকে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে মনের উপলব্ধিতে আসা একটি কবিতা। আনন্দ ও বেদনা, মিলন ও বিরহ, আগমন ও বিদায়, আর পুনরাগমন ও পুনর্মিলন… প্রতিটি বছর তো আমাদের জীবন-সারাংশেরই পুনরাবৃত্তি, তাই না? নতুন বছরের দ্বারগোঁড়ায় দাঁড়িয়ে তাই সেটির উজ্জ্বলতর মুহূর্তগুলোর প্রত্যাশায়ই নাহয় আরেকবার শুরু করি?

গ্রেগরিয়ান নববর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে।

In review of the year that is soon to be past, a poem by Rabindranath Thakur. Achhe Dukkho, Achhe Mrityu (Sadness and Joy, Life and Death) is a poem that reminds us that life is only complete when it knows laughter as well as it does tears, unions as well as it does bereavement, and triumphs as much as failures. Perhaps each of the pair succeeds the other like the ebb of the tide follows its flow, or perhaps they are forever there in equal measure… of such things, what would I know? But when the mind finds itself about to retrace the same path that it has over the past year, there is peace and wonderment to be found in that knowledge: Perhaps each year is a recurring act of life in its fullest, and if so, then a reminder – that in all its hues, it may hold just enough blue for one to love and get lost within.

Happy new year, everyone.

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥
তবু প্রাণ নিত্যধারা,      হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,
বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে ॥
তরঙ্গ মিলায়ে যায় তরঙ্গ উঠে,
কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে।
নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ,   নাহি নাহি দৈন্যলেশ–
সেই পূর্ণতার পায়ে মন স্থান মাগে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা  হতে সংগ্রহীত)

 

ছোটগল্প ১১৫ – ব্যোমকেশ বক্সী – চিত্রচোর / Short Story 115 – Byomkesh Bakshi – Chitrochor (The Picture Thief)

sharadindu-bandyopadhyay-byomkesh-bakshi-chitrochor

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Sharadindu Bandyopadhyay-Byomkesh-11 ChitroChor

ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প – চিত্রচোর – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ ব্যোমকেশ বক্সীর একটি গল্প – চিত্রচোর। কঠিন অসুখ হতে সম্প্রতি আরোগ্য লাভ করা ব্যোমকেশ যখন কোন এক প্রত্যন্ত গঞ্জে হাওয়া বদলাতে এসেছে, এমন সময় সেখানে তাঁর এক আলাপীর ঘর হতে একটি ছবি চুরি যায়। মামুলি একটি ছবি কেন রহস্যজনকভাবে চুরি যাবে, তা কেউ বুঝে ওঠার আগেই সেই ভদ্রলোকের বন্ধুদের বাড়ি থেকেও ছবি চুরি যেতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যোমকেশকে ঘটনার তদন্তে নামতে হয়, আর সময়ের প্রবাহের সাথে সাথে অন্য সব কিছু ছাপিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে – ছবিগুলো চুরি যাওয়াই কি মূল ঘটনা, নাকি সেগুলো বড় কোন ঘটনার ভূমিকামাত্র?

Byomkesh Bakshi’s Adventures – ChitroChor (The Picture Thief) – Sharadindu Bandyopadhyay

A Byomkesh Bakshi story today. ChitroChor (The Picture Thief) starts with Byomkesh visiting some rural town as a change of air after a long illness. As it happens with detective stories, a mystery soon develops – a seemingly ordinary picture gets mysteriously stolen from the house of a wealthy local gentleman. Before anyone can figure out why, more thefts are reported – all pictures, and all belonging to the gentlemen’s friend circle. Byomkesh takes up the case, and he has to soon find whether the thefts are by themselves a thing, or whether they are leading up to something much bigger.

কবিতা ৬৭ – কপোতাক্ষ নদ / Poem 67 – Kapotakkha Nad (Kapotakkha River)

michael-madhusudan-datta-satoto-he-nad-2

আজ মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি কবিতা। এতদিন এই সাইটে যে বাংলা সাহিত্যের এই অমর কবির লেখা কেন তুলিনি, তার কোন স্পষ্ট ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই – হয়তো একসময়কার মধুসূদনের মত আমিও বাংলাকে ভুলতে বসেছি, তাই। আজকের কবিতাটি তোলার কারণ অবশ্য জানা – জীবনের স্রোতে ভেসে ভেসে আমরা এককালের চেনা জগৎটা হতে কত দূরেই না সরে যাই। তেমনি সময়ে কি ফেলে আসা প্রিয়জন ও প্রিয় জায়গাগুলোর কথা মনে পড়ে না? বিগত ক’দিন ধরে কেন জানি বাড়ির পিছনের ছোট্ট নদীটার কথা মনে পড়ছে খুব – আর সেই পিছুটানের কথা যদি পংক্তির ভাষায় বলতে হয়, কপোতাক্ষ নদ  চাইতে আর্দ্র কবিতা আর কি হতে পারে? তাই পাঠকদের জন্যে সেটি তুলে দেওয়া।

Today, in a way of filling what has been a massive void in this site, a poem by Michael Madhusudan Dutta. The reason for the post is rather personal, however. When life keeps us far away from who or what we hold dearly in our hearts, and when the recurring passage of time rekindles their memories, how does it feel? In Kapotakkha Nad (Kapotaksha River) we get to know the feeling – of missing the little river each of us knows back home.

কপোতাক্ষ নদ

সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;
সতত (যেমতি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া- মন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।
বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?
দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে।

আর কি হে হবে দেখা?- যত দিন যাবে,
প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে
বারি-রুপ কর তুমি; এ মিনতি, গাবে
বঙ্গজ জনের কানে, সখে, সখা-রীতে
নাম তার, এ প্রবাসে মজি প্রেম-ভাবে
লইছে যে নাম তব বঙ্গের সংগীতে।

– মাইকেল মধুসূদন দত্ত

গান ৬৬ – জয় বাংলা, বাংলার জয় / Song 66 – Joy Bangla, Bangla’r Joy (Victory to Bangla)

ডিসেম্বরের শুরু আজ। আমাদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি, তাদের মনে মাসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ – একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তো বাংলাদেশ বিজয় লাভ করেছিল এই মাসের ১৬তেই। বিজয়ের মাসে তাই বিজয়ের একটি গান – গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও আনোয়ার পারভেজ এর সুরে জয় বাংলা, বাংলার জয়  বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলোর মধ্যে একটি। একাত্তরে যখন বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে রেডিও তরঙ্গে ভেসে আসা জয় বাংলা, বাংলার জয় গানটি তাদের অনুপ্রেরণা যোগাত। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শেশ হয়ে গেছে ৪৫ বছর আগেই, কিন্তু যেসব কারণে যুদ্ধ, তার অনেককটিই দুই বাংলাতেই এখনো বর্তমান। সেসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণাস্বরূপ তাই আজ এই গানটি তুলে দেওয়া।

It’s December – a month of significance for Bangalees, and particularly, Bangladeshis. It was on the 16th of this month, in 1971, that the Bangladeshi militia (and the supporting Indian allies) defeated the Pakistani army and their associates after a nine month War of Independence. The war saw millions become refugees, and by some estimates, about 3 million deaths – needless to say, it was dark period for the Bangalees who lived through it. During those times, Muktijoddhas (freedom fighters) in the thick of war would draw inspiration from songs Bangladeshi refugee artists wrote and sung over the airwaves from India. Joy Bangla Bangla’r Joy (Victory to Bangla) is one of the most famous of those songs. Written by Gazi Majharul Anwar, it was simultaneously an expression of anger at the atrocities by the Pakistan army and a call to action against them. On this month and in these times of forgetfulness, it is only appropriate that this thrilling and patriotic song is added to this site.

জয় বাংলা, বাংলার জয়

জয় বাংলা, বাংলার জয়,
হবে হবে হবে, হবে নিশ্চয়
কোটি প্রাণ একসাথে জেগেছে অন্ধরাতে
নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময়।।

বাংলার প্রতি ঘরে ভরে দিতে চাই মোরা অন্নে
আমাদের রক্ত টগবগ দুলছে মুক্তির দৃপ্ত তারুণ্যে
নেই ভয়, হয় হোক রক্তের প্রচ্ছদ পট
তবু করিনা করিনা করিনা ভয়।।

অশোকের ছায়ে যেন রাখালের বাঁশরী
হয়ে গেছে একেবারে স্তদ্ধ
চারিদিকে শুনি আজ নিদারুণ হাহাকার
আর ওই কান্নার শব্দ।

শাসনের নামে চলে শোষণের সুকঠিন যন্ত্র
বজ্রের হুঙ্কারে শৃঙ্খল ভাঙ্গতে সংগ্রামী জনতা অতন্দ্র
আর নয়, তিলে তিলে বাঙালীর এই পরাজয়
আমি করিনা করিনা করিনা ভয়।।

ভূখা আর বেকারের মিছিলটাকে যেন ওই
দিন দিন শুধু বেড়ে যাচ্ছে
রোদে পুড়ে জলে ভিজে অসহায় হয়ে আজ
ফুটপাতে তারা ঠাঁই পাচ্ছে।

বারবার ঘুঘু এসে খেয়ে যেত দেবনা তো আর ধান
বাংলার দুশমন তোষামুদী চাটুকার
সাবধান, সাবধান, সাবধান
এই দিন, সৃষ্টির উল্লাসে হবে রঙীন
আর মানিনা, মানিনা কোন সংশয়।।

মায়েদের বুকে আজ শিশুদের দুধ নেই
অনাহারে তাই শিশু কাঁদছে
গরীবের পেটে আজ ভাত নেই ভাত নেই
দ্বারে দ্বারে তাই ছুটে যাচ্ছে।

মা-বোনেরা পরণে কাপড়ের লেশ নেই
লজ্জায় কেঁদে কেঁদে ফিরছে
ওষুধের অভাবে প্রতিটি ঘরে ঘরে,
রোগে শোকে ধুকে ধুকে মরছে
অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মত বাঁচতে চাই
অত্যাচারী শোষকদের আজ
মুক্তি নাই, মুক্তি নাই , মুক্তি নাই।

– গাজী মাজহারুল আনোয়ার
(সুর) আনোয়ার পারভেজ

ছোটগল্প ১১৪ – পুরস্কার / Short Story 114 – Puroskhar (The Prize)

 

satyajit-ray-puroshkar

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray- Puroshkar

শিল্পী – সত্যজিৎ রায়

সত্যজিৎ রায় যে ছবি আঁকতে ভালবাসতেন আর বেশ ভালই আঁকতেন, তা ফেলুদাপ্রফেসর শঙ্কুর গল্পগুলোর জন্যে তাঁর নিজের আঁকা ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়। আর চিত্রাঙ্কন সম্বন্ধে তাঁর ব্যক্তিগত মতামতও ছিল তাঁর আঁকার মতই – সোজাসাপটা এবং স্পষ্ট। চিত্রাঙ্কনে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির বাস্তববাদী ধারা যে সত্যজিৎ রায়ের প্রিয় ছিল, তা তিনি তাঁর একটি লেখায় (নাম মনে পড়ছে না) ইঙ্গিত করেছিলেন। আর বিমূর্ত শিল্প, বা অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আর্ট যে তাঁর মোটেও পছন্দ ছিল না, তাও তিনি লুকোননি – পুরস্কার গল্পটি সেই ভাবনা থেকেই লেখা।

Puroskhar (The Prize)- Satyajit Ray

If you have been reading the any of the stories by Satyajit Ray on this websites, and have been paying attention to the signatures on the drawings that go with those, you will know that the man was not only a legendary filmmaker and a wonderful writer, but also a good artist. It is not hard to infer from his drawing what kind of style he preferred – simple and plain realistic drawings – but to really know how he felt about art, one needs to look at his writings where he compares realism with abstraction. Puroshkar (The Prize) is one such story.

কবিতা ৬৫ – বঙ্গমাতা / Poem 65 – Bangomata (Mother Bengal)

rabindranath-thakur-bangomata

আজ যে কবিতাটি তোলা, তার শেষের দুটি পংক্তি আমাদের অনেকেরই মুখে মুখে ফেরে। বাঙ্গালী হিসেবে আমরা খানিকটা অসূয়াপূর্ণ, অর্থাৎ পৃথিবীকে বাঁকা চোখে দেখতে আর নিজেদের নিয়ে ঠাট্টা করতে অভ্যস্ত, তাই সেটি অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু বঙ্গমাতা কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং সমাজের অবক্ষয়ের মুখে বাঙ্গালীদের নিষ্ক্রিয় দুর্বলতা হতে উত্তরণের পথনির্দেশনা দিতেই লিখেছিলেন। বিগত কদিন ধরে সংবাদ পরে মনটা বেশ ভারাক্রান্ত হয়ে আছে, কবিতার মাঝে তাই খানিকটা আলোর দিশা খুঁজছিলাম। ভাবতে ভাবতে মনে পড়ল, তাই তুলে দেওয়া।

Today, a poem whose last two lines are the favorite lament of every cynical Bangalee – but that is not the reason why I post this. Bangomata (Mother Bengal) was written by Rabindranath Thakur not as a lament or a jibe at the state of our society, but rather, to point towards a salvation from this quagmire in which we Bangalees find ourselves so hoplessly stuck. In a time when it is easy for us to succumb to inaction and domestic bliss even as out soceity descends into darkness, this poem reminds us of what we must instead be – strong and resilient in the face of pain and danger – to lift ourselves out of our current state of being.

বঙ্গমাতা

পূণ্যে পাপে দুঃখে সুখে পতনে উত্থানে
মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানে
হে স্নেহার্ত বঙ্গভূমি, তব গৃহক্রোড়ে
চিরশিশু করে আর রাখিয়ো না ধরে।
দেশদেশান্তর-মাঝে যার যেথা স্থান
খুঁজিয়া লইতে দাও করিয়া সন্ধান।
পদে পদে ছোটো ছোটো নিষেধের ডোরে
বেঁধে বেঁধে রাখিয়ো না ভালোছেলে করে।
প্রাণ দিয়ে, দুঃখ স’য়ে, আপনার হাতে
সংগ্রাম করিতে দাও ভালোমন্দ-সাথে।
শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে
দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক’রে।
সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (চৈতালি  হতে সংগ্রহীত)

গান ৬৪ – হৃদ-মাঝারে রাখিব (কত লক্ষ জনম ঘুরে) / Song 64 – Hrid Majhare Rakhibo (Kato Lakkho Janom Ghure/After A Million Incarnations)

বাংলা সাহিত্য আর সঙ্গীত নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করলেও সে বিষয়গুলোতে যে নিজের জ্ঞান কতটা সীমিত, তা আজকের লেখাটি যেই গানটিকে নিয়ে, সেটি শুনে নতুন করে মনে পড়ে গেল। ইউটিউবে ঘোরাঘুরি করতে করতে দ্বিজ ভূষণ এর লেখা আর আনুশেহ অনাদিল এর গলায় এই বৈষ্ণবগীতিটি খুঁজে পাই। গানটা তারপর থেকেই মনে বেজে চলেছে, তাই শোনার আনন্দটুকু পাঠকদের সাথে ভাগ করে নিতে আজ এই সাইটে পংক্তিসহ সেটি তুলে দেওয়া। দ্বিজ ভূষণ সম্বন্ধে আমার বেশি জানা নেই, তবে যা মনে হয়, তিনি লালনের সমসাময়িক একজন গীতিকার। পাঠকদের জানা থাকলে অনুগ্রহ করে এই পোস্টে মন্তব্য করবেন। বাংলা লোকগীতি যারা শোনেন, তাদের হয়ত আনুশেহ অনাদিলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। যারা নতুন, তাদের উপরে সংযুক্ত করা গানটি শোনার আমন্ত্রণ রইল। বাংলার লোকগানের সাথে শ্বাস্ত্রীয় আর খানিকটা পশ্চিমা সুরের অপূর্ব সুন্দর সমন্বয় রয়েছে এতে – দ্বিজ ভূষণ এর কত লক্ষ জনম ঘুরে – যা এক অর্থে ভক্তিমূলক, আর অন্য অর্থে ভালবাসার মানুষটিকে ছাড়তে না চাওয়ার গান।

In the course of my work on this site, the occassional epiphanies that I know very little about Bangla literature and songs are, more often than not, humbling. Sometimes, however, it comes with the unadulterated joy of a piece never read, or a song never heard before. Today, while surfing across YouTube, I came across Dwij Bhushan’s Kato Lakkho Janom Ghure (After A Million Incarnations), and the song has been resonating in my mind since. Whether that is because of Dwij Bhushan’s words, or Anusheh Anadil’s soulful voice, or the superb incorporation of the esraj into a folk song, I do not know, but in the hope that you too will find what I found in the song, this post. For your listening pleasure, a YouTube link is provided above, and if you wish to pour your heart into a chorus, the lyrics are given below – Dwij Bhushan’s Kato Lakkho Janom Ghure, a song of not letting go.

(In case you are not familiar with the Bangla script, a transliteration can be found here.)

কত লক্ষ জনম ঘুরে

কত লক্ষ জনম ঘুরে ঘুরে, মনরে……মনরে……
কত লক্ষ জনম ঘুরে ঘুরে, আমরা পেয়েছি ভাই মানব জনম
এ জনম চলে গেলে, এ জনম চলে গেলে আর পাবো না
না না না আর মিলবে না
তাই হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
ক্ষ্যাপা ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
আমরা আর পাব না, আর পাব না।
“তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না” (২)

ভূবনো মোহনো গোরা, কোন মণিজনার মনোহরা
মণিজনার মনোহরা
ওরে রাধার প্রেমে মাতোয়ারা চাঁদ গৌড়
ধূলায় যাই ভাই গড়াগড়ি
যেতে চাইলে যেতে দেবো না, না না না। (২)
যেতে দেবো না।
তোমায় হৃদয় মাঝে……
তোমায় হৃদয় মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।

“যাবো ব্রজের কুলে কুলে” (২)
আমরা মাখবো পায়ে রাঙ্গাধুলি
মাখবো পায়ে রাঙ্গাধুলি
ওরে পাগল মন…
যাবো ব্রজের কুলে কুলে
মাখবো পায়ে রাঙ্গাধুলি
“ওরে নয়নেতে নয়ন দিয়ে রাখবো তারে” (২)
চলে গেলে… চলে গেলে যেতে দেবো না,
না না… যেতে দেবো না
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।

যে ডাকে চাঁদ গৌড় বলে, ওগো ভয় কিগো তার ব্রজের কুলে
যে ডাকে চাঁদ গৌড় বলে, ভয় কিগো তার ব্রজের কুলে
ভয় কি তার ব্রজের কুলে
“ওরে দ্বিজ ভূষণ চাঁদ বলে” (২)
চরন ছেড়ে দেবো না, না না না……
ছেড়ে দেবো না
তোমায় বক্ষ মাঝে……
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।

ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় আর পাবো না
ক্ষ্যাপা ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
আর পাব না না না না, আর পাব না।
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
তোমায় হৃদ মাঝারে…

– দ্বিজ ভূষণ

ছোটগল্প ১১৩ – শিবু আর রাক্ষসের কথা / Short Story 113 – Shibu Ar Rakkhosh er Katha (Shibu and the Demon)

satyajit-ray-shibu-ar-rakkhosh-er-katha

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Shibu Ar Rakkhosh Er Katha

শিবু আর রাক্ষসের কথা – সত্যজিৎ রায়

আজ অংক স্যার, রাক্ষস, পাগলাটে দাদা আর আমাদের ছেলেবেলা নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের একটি গল্প। অঙ্ক জিনিসটা নিয়ে আমাদের সবারই একটা বয়সে হয় আগ্রহ নয়তোবা দুশ্চিন্তা থাকে। কিন্তু হঠাৎ যদি সেগুলোর একটি তার উল্টোটিতে বদলে যায়, আর তার উপর যদি সেটার কারণ হয় একটি রাক্ষস? হ্যা, আক্ষরিক অর্থেই একটি রাক্ষস। অদ্ভূত লাগছে শুনে? শিবু আর রাক্ষসের কথা  পড়লে কিন্তু সেটি মনে হবে না, বরং স্কুলের কথা মনে পড়ে যেতে পারে। যারা বাংলা রূপকথার পোকা, তাদের জন্যে একটি সূত্র রেখে দেই –

নর কি বানর কিংবা অন্য জানোয়ার
জেনে রাখো হৃৎপিন্ডে রহে প্রাণ তার।
রাক্ষসের প্রাণ জেনো মৎস্যের উদরে
সেই হেতু রাক্ষস সহজে না মরে।

সত্যজিত রায়ের কলমে স্কুলজীবনের সাথে রূপকথা মেশানো গল্প এর আগেও একবার তুলেছি – সেবারের গল্পটি ছিল ভীনগ্রহের প্রাণীকে নিয়ে। এবারের গল্পটিও খানিকটা তেমনই, তাই পাঠকদের ভাললাগার জন্যে আর তুলে দিলাম। : )

Shibu Ar Rakkhosh er Katha (Shibu and the Demon) – Satyajit Ray

It has been quite some time since I posted one of Satyajit Ray’s fairy tales, hence this upload. The last time, it was about a boy who preferred fairy-tales to math textbooks, and an alien. In Shibu At Rakkhosher Katha (Shibu and the Demon), however, the boy actually happens to love math, and it is the demons in the fairy-tales which scare him – what if they were actually real?

আত্মজীবনী ৩ – সত্যজিৎ রায় – একেই বলে শুটিং / Autobiography 3 – Satyajit Ray – Ekei Bole Shooting (Now This is What I Call Shooting)

satyajit-ray-ekei-bole-shooting

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray – Ekei Bale Shooting

একেই বলে শুটিং – সত্যজিৎ রায়

সোনার কেল্লা, গুপী গাইন বাঘা বাইন, জয় বাবা ফেলুনাথ, হীরক রাজার দেশে, আর পথের পাঁচালী – এই পাঁচটি নামগুলির মধ্যে মিল কোথায়? যারা সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রের ভক্ত, তারা নিমেষেই এই নামগুলো চিনে ফেলবেন। বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে সত্যজিৎ ফেলুদা আর প্রফেসর শঙ্কুর স্রষ্টা হলেও বৃহত্তর পৃথিবীর কাছে তাঁর পরিচয় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে, আর উপরের নামগুলো তাঁরই দিকনির্দেশিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে কটি। সোনার কেল্লা  আর জয় বাবা ফেলুনাথ  এর গল্পগুলো যে তারই লেখা, তা ফেলু মিত্তিরের ভক্তরা ভালই জানেন – সেগুলো পড়া যাবে এই সাইটেরই এইখানে আর এইখানে। আর যদিও গুপী-বাঘার গল্পগুলো উপেন্দ্রকিশোর রায় আর পথের পাচাঁলী  উপন্যাসটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্টি, সেগুলোর খ্যাতির ব্যাপক প্রসার কিন্তু ঘটে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমেই। যাই হোক, চলচ্চিত্রের পিছনের যেই মানুষটি, তাঁর চোখ দিয়ে কি গল্পগুলোকে আমাদের দেখতে ইচ্ছে করে না? সেজন্যেই আজকের এই লেখা। একেই বলে শুটিং লেখাটি সত্যজিৎ রায়ের পূর্নাঙ্গ আত্মজীবনী না হলেও সেটি যে তাঁর জীবনের একটি বড় অংশের স্মৃতিচারণা তা নিয়ে সন্দেহ নেই – আর এতে লেখক সত্যজিতকে ছাড়াও তার সময়কার বাংলা রূপালী-পর্দার জগৎ, ভারতবর্ষের জনপদ আর বাংলা-সাহিত্যের বিখ্যাত কজন চরিত্রকে আমরা সচরাচরের চাইতে ভিন্নরূপে দেখতে পাই। ফেলুদা, গুপী-বাঘা আর অপু-দুর্গাকে একসূত্রে গাঁথা লেখাটি পাঠকদের ভাল লাগবে জানি, তাই সবার জন্যে আজ সেটি তুলে দেওয়া – সত্যজিৎ রায়ের একেই বলে শুটিং

Ekei Bale Shooting (Now This is What I Call Shooting) – Satyajit Ray

Sonar Kella, Gupi Gain Bagha Bain, Joy Baba Felunath, Heerak Rajar Deshe and Pather Panchali – do you know what these names have in common? If you are a fan of Satyajit Ray’s cinema, then you already do – they are some of the famous films directed by the man who was one of the world’s greatest movie-directors of all time. Fans of Feluda should immediately recognize two of the names – the original stories, Sonar Kella and Joy Baba Felunath, were written by Ray himself. And while Pather Panchali the novel was written by Bibhutibhushan Bandyopadhyay and Gupi-Bagha by Upendrakishore Ray, it was through Satyajit’s cinematic renditions that they achieved widespread fame. It is not hard to imagine that Ray himself would have a thing or two to write about his life as a movie-director, which is what we find in Ekei Bale Shooting (Now This is What I Call Shooting) – a light reminiscence that endears not only Ray himself, but also the world of show-business and ordinary people across India to us, and also makes us see well-known literary characters in an entirely new light. For the readers, therefore, this wonderful read – Ekei Bole Shooting – a thread that links Feluda, Gupi-Bagha, and Apu-Durga together.