গান ৮৫ – রাস্তায় / Song 85 – Rastay (On the Road)

অনেকদিন পর আজ একটু সময় পেয়ে আবার লিখছি। আজ যে কাজ নেই তা নয়, কিন্তু না লেখার অপরাধবোধ ক্রমশ বেড়েই চলছে, তাই আর থাকা গেলনা।

আজকের পোস্টটি খানিকটা অন্য ধাঁচের। পাঠকগণদের মধ্যে এখনকার সময়ের গান যারা শোনেন, তারা হয়তো অর্ণবের নাম জেনে থাকবেন। বর্তমান শিল্পীদের মধ্যে অর্ণবকে আমার বেশ ভাল লাগে, কারণ তাঁর গানের সুর বা শব্দচয়ন কোনটিই একমাত্রিক নয় – একটা উদাহারণ দেই। কিছুদিন আগে অর্ণবের ‘রাস্তায়’ গানটি শুনছিলাম। আপাতদৃষ্টিতে উদ্দেশ্যহীন তারুণ্যের গান। তবে শুনতে শুনতে দু-চারটে লাইন কান পেতে শুনলাম কথাগুলো বেশ অস্পষ্ট। অ্যালবামের মোড়ক খুলে পংক্তিগুলো (নিচে তুলে দেওয়া) পড়ে দেখলাম সেই লাইনগুলো লেখাই নেই! ব্যাপারটা মাথা থেকে যাচ্ছেনা কারণ অলিখিত লাইনগলো বাংলাদেশ (ও ভারতের) বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেই কারণেই হয়্তো অর্ণব সেগুলো লেখেননি। পাঠকেরা আমার চাইতে ভাল জানবেন, তাই মিউজিক ভিডিওসহ গানটি তুলে দেওয়া।

It’s been a while since I last written something on this site, hence this post. Of the modern musicians/singers in Bangladesh, none intrigue me more than Shayan Chowdhury Arnob. His compositions are unusual and wonderful in their own right, but what perhaps sets him above and beyond his contemporaries is his lyrics. The song below is an example –  if I am correct, then the song has some amazingly pertinent lines on two very sensitive aspects of India-Bangladesh relations. Curious, the official lyrics on the album cover do not contain those lines. Perhaps for good reason – art is perhaps most subversive when the meaning is left to the audience.

For your eyes and ears, the music video of the song, its lyrics, and the version in the album cover are provided below.

রাস্তায়

রাস্তায় খুঁজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে নাস্তায়
সাঁই সাঁই বাস যায়
ধুঁকে ধুঁকে মাস যায়
বুকে পোড়া বাঁশি
তবু খালি খালি হাসি পায়
হাসি পেলে কাশি পায়
কাশি পেলে খালি পায়
ঘাসে ঘাসে উড়ে উড়ে
ভাঙা মন বাড়ি যায়
একা একা রাস্তায়
খুজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে যদি রাস্তায়…

দোষ নেই নেতাদের
ক্রোশ নেই ক্রেতাদের
দমে দমে দাম বাড়ে
গান বাজে বেতারে
ধূলো জমে সেতারে
জলে ফেলে দে তারে
রক শোতে টক শোতে
আহা কত কেতারে
জোড়াজোড়ি যে পারে
বাড়ি/পানি সব ওপাড়ে/ও পাবে
বাঁধ দিয়ে কাধ সেধে
জল/চর ফেলে এপাড়ে
ভোট নেই পেপারে
নেতা হতে কে পারে
কানাদের বায়না
কিনে দেয় আয়না যে তারে…

রাস্তায়
খুঁজে ফিরি সস্তায়
ঘুরে ঘুরে এক কাপ চা মেলে নাস্তায়…

– শায়ন চৌধুরী (অর্ণব)

‘রাস্তায়’ এর পংক্তি (সোহেল ইবনে মাহবুবের ওয়েবপাতায় পাওয়া)

ফিরে দেখা ও অগ্রযাত্রা ১ – পাঠকদের কাছে পৌছানো এবং ফেসবুক যাত্রার সূচনা / Looking Back and Moving Forward 1 – Reaching the Readers through Facebook

facebook-page

(ফেসবুকে সাহিত্য জগৎ এর সাথে সংযুক্ত হতে এখানে কিংবা ছবিটিতে ক্লিক করুন ! / Click here or on the picture to like Sahitya Jagat on Facebook!)

সাহিত্য জগৎ খোলার পর প্রায় তিন বছর কেটে গেল। পেছন ফিরে তাকালে বেশ ভালই লাগে – পরিসংখ্যানের বিচারে সাইটটিকে তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগগুলোর ধারেকাছেও আমি নিতে পারিনি, কিন্তু এই ক’বছরে যে সেটির কল্যাণে বাংলা সাহিত্যের কিছু টুকরো লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছেছে, সেটি তো নেহাৎ ফেলনা নয়। তাই ভালই লাগে।

সাহিত্য জগৎ সাইটটি খোলার সময় আমার লক্ষ্য ছিল কিশোর-তরুণদের বাংলা সাহিত্যে আগ্রহী করে তোলা। তাঁর কতটুকু করতে পেরেছি তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তাছাড়া, এই সাইটের অনেক লেখাই তরুণদের উপযোগী হলেও কিশোরদের জন্যে নয়। সামনের দিনগুলোতে সেটি খেয়াল থাকবে। আর এতদিন যা পাঠকদের ভাল লেগেছে, তেমন আরও লেখা তোলার চেষ্টা করব। আশা করি সেগুলো সবার ভাল লাগবে।

পুনশ্চ – সম্প্রতি পরিসংখ্যান ঘেঁটে আমি লক্ষ্য করেছি যে এই সাহিত্য জগৎ এর যারা পাঠক, তাঁদের প্রায় সবাই (> ৯৫%) গুগল থেকেই আসেন। আজকের যুগে যখন কিশোর-তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমেই বেশি সময় কাটায়, তখন এই সাইটের খোঁজ শুধু গুগলের মত অনুসন্ধান-যন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে সাইটটির প্রসার সীমিতই থেকে যাবে। তাই এই সাইটটিকে ফেসবুকে পরিচিত করতে সাহিত্য জগৎ নামে একটি ফেসবুক পৃষ্ঠা খুলেছি। ফেসবুক-ব্যবহারকারী পাঠকদের মধ্যে যারা ইচ্ছুক, তারা পৃষ্ঠাটির মাধ্যমে এই সাইটটির সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন। ঘুরে আসার আমন্ত্রণ রইল।