গান ৭৯ – আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম / Song 79 – Aaj Pasha Khelbo Re Shyam (Today You are all ours, Shyam)

আজ বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চল হতে আসা একটি জনপ্রিয় বাউল গান। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম গানটির উৎপত্তি হয় উনবিংশ-শতাব্দীর সিলেটে, যেখান হতে সেটি ক্রমান্বয়ে ধর্মীয় ও ভৌগলিক সীমা পেরিয়ে পূর্ববাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গানে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য বৈষ্ণব বাউলসঙ্গীতের মত রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের লেখা এই গানটিও মানুষের মনে ঈশ্বরকে পাওয়ার আকাঙ্খাটুকুকে খেলার ছলে ব্যক্ত করে লেখা। গানটির পংক্তিগুলো আপাতদৃষ্টিতে সহজ ও গ্রাম্য মনে হতে পারে, কিন্তু ভেবে দেখলে কি গভীর অর্থ লুকিয়ে আছে সেগুলোর মাঝে, তা বোঝা যায়। ‘পাশা’ খেলার তাৎপর্যটুকু ধরা যাক – সখারূপে ঈশ্বরকে হয়তো আমরা বাঁধতে পারি, কিন্তু পাশাখেলায় জিতে তাঁকে সত্যিই পাওয়া, সেটা কি তাঁরই ইচ্ছের উপর নির্ভরশীল নয়? অসীমতার সামন্তে আমাদের আর অসহায়তাটুকু এমন সরল ও সুন্দর রূপে অন্য সাহিত্যে কি আমরা সহজে খুঁজে পাই? পাঠকদের ভাল লাগবে, সেই আশায় পংক্তিসহ সেটি আজ তুলে দেওয়া।

Today, a very popular Baul song from the northeast corner of Bengal, Sylhet. Written and composed by the 19th century Vaishnav baul Radharaman Datta Purakayastha, Aaj Pasha Khelbo Re Shyam (Today, You are all ours Shyam) describes a devotee’s desire to be in the presence of God by the ruse of playing dice with Him. At times playful and at times longing, the song has much deeper meanings that are only hinted at by metaphors. Playing dice is an example – we might corner God into playing with us, but even then, it is a game where, in our pursuit of him, we have everything to lose. Simple in its words, and yet profound in its meaning, Aaj Pasha Khelbo Re Shyam has traversed geographic and religious boundaries to become one of the most well-known folk-songs in and beyond Bangladesh. For your reading and listening pleasure, the lyrics and a YouTube rendition is presented below.

ও শ্যাম রে তোমার সনে
একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম
এই নিঠুর বনে
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম

একেলা পাইয়াছি হেতা পলাইয়া যাবে কোথায় ।।
চৌদিকে ঘিরিয়ারে রাখবো ।।
সব সখি সনে
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম

আতর গোলাপ চন্দন মারো বন্ধের গায় ।।
ছিটাইয়া দাও ছোঁয়া চন্দন ।।
ঐ রাঙ্গা চরণে
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম

দীনহীন আর যাবে কোথায়
বন্ধের চরণ বিহনে ।।
রাঙ্গা চরণ মাথায় নিয়া দীন হীন কান্দে ।।
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম

ও শ্যাম রে তোমার সনে
একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম
এই নিঠুর বনে
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম…

– রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ

পুনশ্চ – নিচে সংযুক্ত ইউটিউব ভিডিওটি একটি বাংলাদেশি ছায়াছবি হতে নেওয়া হয়েছে। গানটির সাথে সেটির দৃশ্যের কতটুকু মিল আছে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ হতে পারে, কিন্তু সুর ও কথার দিক দিয়ে এটিই আমার কাছে সবচেয়ে ভাল মনে হয়েছে, তাই তুলে দেওয়া। / P.s. The YouTube rendition of the song was taken from a Bangladeshi movie. If you ask me, how much the video relates to the song is questionable, but with regard to music and vocals, the audio seems to have most Bangalee flavor to it, hence the link.

Advertisements

গল্প ১২৩ – ফেলুদা – ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা / Story 123 – Feluda – Ghurghutiyar Ghatana (The Ghurghutia Incident)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Ghurghutiyar Ghatona

ফেলুদার গল্প – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি – সত্যজিৎ রায়

অনেকদিন ধরে এই সাইটে ফেলুদার গল্প তোলা হয়না, তাই আজ এই লেখাটি তোলা। ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা  গল্পটির শুরু হয় একটি চিঠি দিয়ে, যার প্রেরক কালীকিঙ্কর মজুমদার নদীয়ার পলাশীর নিকট ঘুরঘুটিয়া গ্রামের একজন বৃদ্ধ জমিদার। কালীকিঙ্করবাবু তাঁর চিঠিতে ফেলুদাকে একটি ‘বিশেষ প্রয়োজনে’ ঘুরঘুটিয়ায় একটি দিন আসার জন্যে অনুরোধ করেন। অনেক দিন গ্রামীণ বাংলার রূপ দেখা হয়নি, আর অনুরোধকারীও যেহেতু একজন আপাতদৃষ্টিতে অসহায় বৃদ্ধ, তাই ফেলুদা যেতে রাজী হন। ঘুরঘুটিয়ার মত অজ-পাড়াগাঁয়ে শহুরে পাঠকেরা হয়তো সাদামাটা ভ্রমণের চাইতে বেশি কিছু আশা করেন না, কিন্তু সেখানে গিয়ে ফেলুদা আর তোপসে কে এমন একটি রহস্যের মুখোমুখি হতে হয়, যেটি মোটেও সরল নয়।

Feluda’s Stories – Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling) – Satyajit Ray

After a long interval, another Feluda story. Ghurghutiyar Ghatana (The Ghurghutiya Incident) starts with the arrival of a letter from a certain Kalikingkar Majumdar, an old landlord who lives in Ghurghutiya, near Palashi. In his letter, Mr. Majumdar requests Feluda to visit his house in Ghurghutiya for a day for a ‘special reason’. Being tired of the city, and not wishing to rebuff a request from an old man, Feluda agrees to go. Perhaps an urbanite would not expect much of a mystery in a village like Ghurghutiya, but what Feluda finds after arriving there is very far from simple.

ছোটগল্প ১২২ – ব্যোমকেশ বক্সী – অর্থমনর্থম / Short Story 122 – Byomkesh Bakshi – Arthamanartham (The Root of All Evil)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Sharadindu Bandyopadhyay-Byomkesh Bakshi-Arthamnartham

ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প – অর্থমনর্থম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ ব্যোমকেশ বক্সীর আরেকটি গল্প। অর্থমনর্থম ব্যোমকেশের অন্যান্য গোয়ন্দাগল্পগুলোর মতই আকর্ষণীয়, তবে তা ছাড়াও গল্পটি ব্যোমকেশ-ভক্তদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ আরেকটি কারণে – সত্যবতীর সাথে সত্যান্বেষীর দেখা যে হয় এই গল্পেই!

Byomkesh Bakshi’s Adventures – Arthamanartham (The Root of All Evil) – Sharadindu Bandyopadhyay

Another of Byomkesh’s detective stories this time. Like all other stories of the sleuth, Arthamanartham (The Root of All Evil) has a good mystery that brings out the detective’s brilliance, but to fans of Byomkesh, it is also a very special for another reason – it is in this story that sleuth meets Satyabati, his future wife.

কবিতা ৭৮ – তুমি কি কেবলই ছবি? / Poem 78 – Are you a mere picture?

অনেক দিন পরে আজ রবিঠাকুরের একটি কবিতা। যতদূর বুঝি, তুমি কি কেবলই ছবি  কবিতাটি পেরিয়ে আসা জীবনের মানুষ ও মূহুর্তগুলোকে স্মৃতিপটে বাঁচিয়ে রাখা নিয়ে লেখা। কটি পংক্তি তুলে দেই –

“নয়নসম্মুখে তুমি নাই,
নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই – আজি তাই
শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল।
আমার নিখিল তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল।”

যেকোনো কবিতার অর্থ যে কি, সেটা নিতান্তই পাঠকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এও তো ঠিক, যে, কখনো কখনো কবিতার বস্তু জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে হয় – রবিঠাকুরের যেসমস্ত কবিতাগুলো যা আগে বুঝতে কষ্ট হত, তার কিছু কিছু এখন খানিকটা হলেও বুঝি… বয়সের সাথে সাথে মানুষ তো কিছুটা অন্তত শেখে, তাই না?

নিম্নোক্ত পংক্তিগুলো তুমি কি কেবলই ছবির একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। যারা পুরো কবিতাটি পড়তে চান, তারা সেটি পাবেন এখানে

“The day was when you walked with me, your breath warm, your limbs singing of life. My world found its speech in your voice, and touched my heart with your face. You suddenly stopped in your walk, in the shadow-side of the Forever, and I went on alone.”

A beautiful poem by Thakur of memories, which keep long-lost ones alive in the heart despite the persistence of time.

তুমি কি কেবলই ছবি

তুমি কি কেবলই ছবি, শুধু পটে লিখা।
ওই-যে সুদূর নীহারিকা
যারা করে আছে ভিড় আকাশের নীড়,
ওই যারা দিনরাত্রি
আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী গ্রহ তারা রবি,
তুমি কি তাদের মতো সত্য নও।
হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি॥

নয়নসমুখে তুমি নাই,
নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই– আজি তাই
শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল।
আমার নিখিল তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল।
নাহি জানি, কেহ নাহি জানে–
তব সুর বাজে মোর গানে,
কবির অন্তরে তুমি কবি–
নও ছবি, নও ছবি, নও শুধু ছবি॥

Tumi Ki Keboli Chhobi (Are you a mere picture)?
(Translation by the poet himself)

Are you a mere picture, and not as true as those stars, true as this dust? They throb with the pulse of things, but you are immensely aloof in your stillness, painted form.
The day was when you walked with me, your breath warm, your limbs singing of life. My world found its speech in your voice, and touched my heart with your face. You suddenly stopped in your walk, in the shadow-side of the Forever, and I went on alone.
Life, like a child, laughs, shaking its rattle of death as it runs; it beckons me on, I follow the unseen; but you stand there, where you stopped behind that dust and those stars; and you are a mere picture.

No, it cannot be. Had the lifeflood utterly stopped in you, it would stop the river in its flow, and the footfall of dawn in her cadence of colours. Had the glimmering dusk of your hair vanished in the hopeless dark, the woodland shade of summer would die with its dreams.
Can it be true that I forgot you? We haste on without heed, forgetting the flowers on the roadside hedge. Yet they breathe unaware into our forgetfulness, filling it with music. You have moved from my world, to take seat at the root of my life, and therefore is this forgetting-remembrance lost in its own depth.
You are no longer before my songs, but one with them. You came to me with the first ray of dawn. I lost you with the last gold of evening. Ever since I am always finding you through the dark. No, you are no mere picture.

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / Rabindranath Thakur
বিচিত্র হতে সংগ্রহীত (Collected from Bichitra/Lover’s Gift)

 

গান ৭৭ – ও নদীরে / Song 77 – O Nodi Re (O River)

আজ একটি গান, যা সেই ছেলেবেলা থেকে আজ পর্যন্ত গেয়ে আসছি। ও নদীরে গানটি ছোটবেলা থেকেই আমার কেন এত ভাল লাগে জানিনা – হয়তো নদীর অসীমের দিকে নিরন্তর বয়ে চলা, তা দেখে ছেলেবেলার বিষ্ময় আর পরিণত বয়সের প্রশ্নগুলোয় সেটি ভাষা ও সুর যোগায় বলে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায় গাওয়া এই গানটি প্রায়ই মনে মনে গুনগুন করি, কিন্তু তুলব তুলব করেও কেন জানি এতদিন তুলে দেওয়া হয়নি। আজ খানিকটি অবসরের মাঝে হঠাৎ মনে পড়ে যাওয়ায় অনেক দিনের বিরতি ভেঙ্গে আজ গানটি তুলে দিলাম – গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কলমে আর হেমন্তের গলায় ও নদীরে – আশা করি পাঠকদের ভাল লাগবে।

পুনশ্চ – গান শুনতে যারা ভালবাসেন, তাদের জন্যে ইউটিউব থেকে গানটির একটি সংস্করণ নিচে তুলে দিলাম।

Today, a song that I have known and loved since childhood. I don’t remember when I first heard O Nodire (O River), but every time I hear the song, I fall in love with it all over again. Written by Gauriprasanna Mazumdar and sung by the most wonderful of singers, Hemanta Mukhopadhyay, the song is Man’s eternal and wondering question to the River about why she is and her purpose. She does not reply back, however. Perhaps fittingly… some questions are meant to be answered from within, after all. Anyways, I hope you will like this song of the meandering river as much as I love it. A YouTube link is attached below, and if you wish to sing to the tune, the lyrics are given as well.

ও নদীরে…

ও নদীরে,
একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে
বলো কোথায় তোমার দেশ
তোমার নেই কি চলার শেষ
ও নদীরে…

তোমার কোনো বাঁধন নাই তুমি ঘর ছাড়া কি তাই ।।
এই আছো ভাটায় আবার এই তো দেখি জোয়ারে
বলো কোথায় তোমার দেশ
তোমার নেই কি চলার শেষ
ও নদীরে…

এ কূল ভেঙে ও কূল তুমি গড়ো
যার একূল ওকূল দুকূল গেল তার লাগি কি করো?

আমায় ভাবছো মিছেই পর, তোমার নেই কি অবসর
সুখ দুঃখের কথা কিছু কইলে না হয় আমারে …
বলো কোথায় তোমার দেশ
তোমার নেই কি চলার শেষ
ও নদীরে…

শিল্পীঃ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
সুরকারঃ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
গীতিকারঃ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার

ছোটগল্প ১২১ – শঙ্কুর শনির দশা / Short Story 121 – Professor Shanku – Shankur Shonir Dasha (Shanku’s Nemesis)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Shankur Shonir Dasha

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Shankur Shonir Dasha

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – শঙ্কুর শনির দশা – সত্যজিৎ রায়

আজ অনেকদিন পরে প্রফেসর শঙ্কুর একটি গল্প, যাতে তাঁকে লড়াই হয় এমন ভয়ঙ্কর এক প্রতিদ্বন্দীর সাথে, যে সহজেই শঙ্কুর সারা জীবনের সাধনা ও অর্জন অনায়াসে ধূলিস্যাৎ করে দিতে পারে – শঙ্কু নিজে।

Professor Shanku’s Stories – Shankur Shonir Dasha (Shanku’s Nemesis) – Satyajit Ray

A long time later, another of Professor Shanku’s stories, and one in which he faces perhaps his most terrible enemy – himself.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Shankur Shonir Dasha 2

কবিতা ৭৬ – বিদ্রোহী / Poem 76 – Bidrohee (The Rebel)

আজ একটি কবিতা, যা নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে একটি। নজরুল-সাহিত্যের উৎকর্ষ বলে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে বিদ্রোহী  কবিতাটি খুব সম্ভবত তাই – অন্তত যতদূর জানি, মানব-সমাজের কলুষের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কোন বিদ্রোহীর নির্মম ক্রোধ ও অপরাজিত ঔদ্ধত্যেকে এমন অসামান্য রূপ আর কোন কাব্য দিতে পারেনি। কবিতাটি যতবারই পড়ি, ততবারই মনে রোমাঞ্চ জাগে, তাই পাঠকদের জন্যে আজ তুলে দেওয়া। শোনা যায় যে বিদ্রোহী কবিতাটি নজরুল লিখেছিলেন এক রাতে – সেটি কতটা অকল্পনীয় আর অসামান্য একটি ব্যাপার, কবিতাটি পড়লে তা বোঝা যায়।

পুনশ্চ – পাঠকদের মধ্যে অনেকেই হয়তো জেনে থাকবেন যে নজরুলের বন্ধু কবি মোহিতলাল মজুমদারেরআমি  লেখাটির সাথে বিদ্রোহী র মোক্ষম সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। বিদ্রোহ কবিতাটি যে শুধুমাত্র কাব্যশৈলীর গুণেই অনন্য, তবে যেই লেখা দ্বারা সেটি অনুপ্রাণিত, তাঁর লেখকের অবদানও অনস্বীকার্য। ভবিষ্যতে তাই বিদ্রোহী র সাথে সাথে সেই লেখাটিও তুলে দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

Today, one of the masterclasses of the rebel poet of Bangla literature, and one that has been long overdue on this site. Critics unanimously say Bidrohi (The Rebel) is one of Nazrul’s masterclasses, but that label hardly conveys sheer awesomeness of the poem. I can only testify for myself, but every time I read it, I am left amazed that words could portray rage and radiance in the measures contained by the poem. And what words they are! Read on to find out!

Legend has it that Nazrul composed Bidrohi in a single night. If so, that is an achievement by its own. Condensing fire and ice into a whirl of words that stun the reader is in itself an act of genius – but doing that in one night is at a whole different plane.

P.s. It was recently brought into my attention that while writing Bidrohi, Nazrul might have borrowed heavily from Ami (Me) – a work authored by his once close-friend and contemporary poet Mohitlal Majumdar. While Nazrul’s fiery style is what defines the poem, acknowledgments are also due for unapplauded literary figures like Majumdar – in the future, I hope to feature Ami in a post of its own.

বিদ্রোহী – কাজী নজরুল ইসলাম

বল বীর –
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর –
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর –
আমি চির উন্নত শির!

আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দুর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!
বল বীর –
চির-উন্নত মম শির!

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
ফিং দিয়া দিই তিন দোল;
আমি চপলা-চপল হিন্দোল।
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা,
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা!
আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর!
বল বীর –
আমি চির উন্নত শির!

আমি চির-দুরন্ত দুর্মদ,
আমি দুর্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হর্দম হ্যায় হর্দম ভরপুর মদ।
আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর রণ-তূর্য;
আমি কৃষ্ন-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা-বারিধীর।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
বল বীর –
চির – উন্নত মম শির!

আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক,
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক।
আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,
আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, – আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
আমি মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু গ্রাস!
আমি কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!
আমি প্রভোন্জনের উচ্ছ্বাস, আমি বারিধির মহা কল্লোল,
আমি উদ্জ্বল, আমি প্রোজ্জ্জ্বল,
আমি উচ্ছ্বল জল-ছল-ছল, চল-ঊর্মির হিন্দোল-দোল!

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণু, তন্বী-নয়নে বহ্ণি
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বন্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ – জ্বালা, প্রিয় লান্চিত বুকে গতি ফের
আমি অভিমানী চির ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়
চিত চুম্বন-চোর কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম প্রকাশ কুমারীর!
আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল-ক’রে দেখা অনুখন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন-কন!
আমি চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড় কাঁচলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু মলয়-অনিল উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি
আমি মরু-নির্ঝর ঝর ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি!
আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!

আমি উথ্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-চিতে চেতন,
আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়া
স্বর্গ মর্ত্য-করতলে,
তাজী বোররাক আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে!

আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নিয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্ণি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথার-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস সন্চারি ভুবনে সহসা সন্চারি’ ভূমিকম্প।
ধরি বাসুকির ফণা জাপটি’ –
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি’।
আমি দেব শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব মায়ের অন্চল!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা- সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম
ঘুম চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝঝুম
মম বাঁশরীর তানে পাশরি’
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠি’ যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!

আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরনীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল ধ্বংস-ধন্যা-
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-ফণী!
আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!

আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়।
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মাথিয়া ফিরি স্বর্গ-পাতাল মর্ত্য!
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!!

আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম-স্কন্ধে
আমি উপাড়ি’ ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।
মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না –
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না –
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।

আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!

আমি চির-বিদ্রোহী বীর –
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!

– কাজী নজরুল ইসলাম

Bidrohee (The Rebel)
(Translation by Kabir Chowdhury)

Say, Valiant,
Say: High is my head!

Looking at my head
Is cast down the great Himalayan peak!
Say, Valiant,
Say: Ripping apart the wide sky of the universe,
Leaving behind the moon, the sun, the planets
and the stars
Piercing the earth and the heavens,
Pushing through Almighty’s sacred seat
Have I risen,
I, the perennial wonder of mother-earth!
The angry God shines on my forehead
Like some royal victory’s gorgeous emblem.

Say, Valiant,
Ever high is my head!
I am irresponsible, cruel and arrogant,
I an the king of the great upheaval,
I am cyclone, I am destruction,
I am the great fear, the curse of the universe.
I have no mercy,
I grind all to pieces.
I am disorderly and lawless,
I trample under my feet all rules and discipline!
I am Durjati, I am the sudden tempest of ultimate summer,
I am the rebel, the rebel-son of mother-earth!

Say, Valiant,
Ever high is my head!
I am the hurricane, I am the cyclone
I destroy all that I found in the path!
I am the dance-intoxicated rhythm,
I dance at my own pleasure,
I am the unfettered joy of life!
I am Hambeer, I am Chhayanata, I am Hindole,
I am ever restless,
I caper and dance as I move!
I do whatever appeals to me, whenever I like,
I embrace the enemy and wrestle with death,
I am mad. I am the tornado!
I am pestilence, the great fear,
I am the death of all reigns of terror,
I am full of a warm restlessness for ever!

Say, Valiant,
Ever high is my head!
I am creation, I am destruction,
I am habitation, I am the grave-yard,
I am the end, the end of night!
I am the son of Indrani
With the moon in my head
And the sun on my temple
In one hand of mine is the tender flute
While in the other I hold the war bugle!
I am the Bedouin, I am the Chengis,
I salute none but me!
I am thunder,
I am Brahma’s sound in the sky and on the earth,
I am the mighty roar of Israfil’s bugle,
I am the great trident of Pinakpani,
I am the staff of the king of truth,
I am the Chakra and the great Shanka,
I am the mighty primordial shout!
I am Bishyamitra’s pupil, Durbasha the furious,
I am the fury of the wild fire,
I burn to ashes this universe!
I am the gay laughter of the generous heart,
I am the enemy of creation, the mighty terror!
I am the eclipse of the twelve suns,
I herald the final destruction!
Sometimes I am quiet and serene,
I am in a frenzy at other times,
I am the new youth of dawn,
I crush under my feet the vain glory of the Almighty!

I am the fury of typhoon,
I am the tumultuous roar of the ocean,
I am ever effluent and bright,
I trippingly flow like the gaily warbling brook.
I am the maiden’s dark glassy hair,
I am the spark of fire in her blazing eyes.
I am the tender love that lies
In the sixteen year old’s heart,
I am the happy beyond measure!
I am the pining soul of the lovesick,
I am the bitter tears in the widow’s heart,
I am the piteous sighs of the unlucky!
I am the pain and sorrow of all homeless sufferers,
i am the anguish of the insulted heart,
I am the burning pain and the madness of the jilted lover!

I am the unutterable grief,
I am the trembling first touch of the virgin,
I am the throbbing tenderness of her first stolen kiss.
I am the fleeting glace of the veiled beloved,
I am her constant surreptitious gaze.
I am the gay gripping young girl’s love,
I am the jingling music of her bangles!
I am the eternal-child, the adolescent of all times,

I am the shy village maiden frightened by her own budding youth.

I am the soothing breeze of the south,
I am the pensive gale of the east.
I am the deep solemn song sung by the wondering bard,
I am the soft music played on his lyre!
I am the harsh unquenched mid-day thirst,
I am the fierce blazing sun,
I am the softly trilling desert spring,
I am the cool shadowy greenery!
Maddened with an intense joy I rush onward,
I am insane! I am insane!
Suddenly I have come to know myself,
All the false barriers have crumbled today!
I am the rising, I am the fall,
I am consciousness in the unconscious soul,
I am the flag of triumph at the gate of the world,
I am the glorious sign of man’s victory,
Clapping my hands in exultation I rush like the hurricane,
Traversing the earth and the sky.
The mighty Borrak is the horse I ride.
It neighs impatiently, drunk with delight!
I am the burning volcano in the bosom of the earth,
I am the wild fire of the woods,
I am Hell’s mad terrific sea of wrath!
I ride on the wings of the lightning with joy and profound,
I scatter misery and fear all around,
I bring earth-quakes on this world!

I am Orpheus’s flute,
I bring sleep to the fevered world,
I make the heaving hells temple in fear and die.
I carry the message of revolt to the earth and the sky!
I am the mighty flood,
Sometimes I make the earth rich and fertile,
At another times I cause colossal damage.
I snatch from Bishnu’s bosom the two girls!
I am injustice, I am the shooting star,
I am Saturn, I am the fire of the comet,
I am the poisonous asp!
I am Chandi the headless, I am ruinous Warlord,
Sitting in the burning pit of Hell
I smile as the innocent flower!

I am the cruel axe of Parsurama,
I shall kill warriors
And bring peace and harmony in the universe!
I shall uproot this miserable earth effortlessly and with ease,
And create a new universe of joy and peace.
Weary of struggles, I, the great rebel,
Shall rest in quiet only when I find
The sky and the air free of the piteous groans of the oppressed.
Only when the battle fields are cleared of jingling bloody sabres
Shall I, weary of struggles, rest in quiet,
I the great rebel.

I am the rebel eternal,
I raise my head beyond this world,
High, ever erect and alone!

– Kazi Nazrul Islam

গান ৭৫ – হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হল / Song 75 – Hari Din to Gelo Sandhya Holo (Carry me Across, O Lord)

আজ পাঠকদের জন্যে আমার প্রিয় একটি গান। হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হল  বৃহত্তর বাংলার, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের, সবচেয়ে জনপ্রিয় ভক্তিমূলক গানগুলোর মধ্যে একটি। লালনশিষ্য কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের লেখা এই গানটি এক কথায় ঈশ্বরের কাছে পৃথিবীর মোহ হতে মুক্ত কিংবা দুঃখভারে ভেঙ্গে পড়া মানুষের চিরন্তন আর্তি – একূল আর ও কূলের মাঝে যে অসীম সাগর, তা পার করে তাকে পরপারে নেওয়ার। বাংলার লোকসঙ্গীতের মাঝে যে কত গভীর আধ্যাত্মিকতা নিহিত আছে, তার একটি উদাহারণ এই গান।

বাংলা লোকসঙ্গীতের সাথে যারা পরিচিত, তারা হয়তো এই গানটির ঈশ্বরকে মাঝি রূপে কল্পনার সাথে অন্যান্য লোকগানের সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন। সেটি আশ্চর্য নয়। নদীমাতৃক বাংলার কবিরা যে মর্ত্য আর পরলোকের সংযোগকারীর উপমা খেয়াঁর মাঝির মাঝে খুঁজে পাবেন, তাই তো হওয়ার কথা।

যারা গান শুনতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে আরতি মুখোপাধ্যায়ের গলায় গানটির একটি ইউটিউব সংস্করণ নিচে তুলে দিলাম।

Today, a heartfelt song of faith – one that you must have heard if you are a Bangalee on the western side of the border, or a listener of Bangla folk music on the eastern side. Written by Kangal Harinath Majumdar, Hari Din to Gelo (Carry me Across, O Lord) is a soulful call to God by a seeker who is in the twilight of his/her life. Weary of the world on this shore, (s)he wishes to cross over to the other side – a realm truer and more profound than holy texts can convey. But lacking the piety that would allow him/her to cross the waters, the seeker can only appeal keeping fatih in God’s mercy – something that is beautifully expressed in this song.

If you are familiar with Bangla devotional songs, you should find Hari Din to Gelo to be a classic Bangalee representation of God as a boatman. It should not be surprising – Bangla, after all, is a land crisscrossed by a thousand rivers. Who else could carry us away from that we want to leave, but a boatman?

হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হল

হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হল
পার কর আমারে !
তুমি পারের কর্তা শুনে বার্তা
ডাকি হে তোমারে ।
হরি দিনতো গেল সন্ধ্যা হল
পার কর আমারে !

আমি আগে এসে
ঘাটে রইলাম বসে –
ওহে – আমায় কি পার করবেনা হে ?
আমায় কি পার করবেনা হে ?
আমি অধম বলে –
যারা পাছে এল আগে গেল
আমি রইলাম পড়ে !
হরি দিনতো গেল সন্ধ্যা হল
পার কর আমারে !

শুনি কড়ি নাই যার
তুমি তারেও কর পার !
আমি সেই কথা শুনে ঘাটে এলাম হে
সেই কথা শুনে ঘাটে এলাম হে
কড়ি নাই যার
তুমি তারেও কর পার !
আমি দিন ভিখারি নাইকো কড়ি
দেখ ঝুলি ঝেড়ে !
হরি দিনতো গেল সন্ধ্যা হল
পার কর আমারে !

আমার পারের সম্বল
দয়াল নামটি কেবল !
তাই দয়াময় বলে ডাকি তোমায় হে
অধম তারণ বলে ডাকি তোমায় হে
পারের সম্বল
দয়াল নামটি কেবল !
ফিকির কেদে আকুল
পড়ে অকুল পাথারে সাঁতারে !

হরি দিনতো গেল সন্ধ্যা হল
পার কর আমারে !
তুমি পারের কর্তা শুনে বার্তা
ডাকি হে তোমারে ।
হরি দিনতো গেল সন্ধ্যা হল
পার কর আমারে !

– কাঙাল হরিনাথ মজুমদার

গান ৭৪ – বাড়ির কাছে আরশিনগর / Song 74 – Barir Kachhe Aarshinagar (City of Mirrors)

আজকের ভণিতার বিষয়টুকু বেশ জটিল। একই তত্ত্বের সাধক বা একই পথের যাত্রী যারা, তাদের মধ্যে যে বন্ধুত্ব কিংবা রেষারেষি থাকবে, তা আশ্চর্য নয়, কিন্তু সম্পর্কটি যদি নারী ও পুরুষের মাঝে হয়? বিপরীত লিঙ্গের মধ্যেকার সহজাত আকর্ষণটুকু কি সেই সাধনা বা যাত্রাটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, নাকি সেগুলোর অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়?

প্রশ্নগুলো করছি কারণ বাউলসম্রাট লালন সাঁইয়ের বাড়ির কাছে আরশিনগর  কবিতাটি পড়তে গিয়ে সেগুলো মনে এলো। বাউলদের আমরা সাধক বলে জানি, কিন্তু তাঁরা যে মানবিক প্রবৃত্তির প্রভাবগুলো হতে পুরোপুরি মুক্ত, তা কি সত্যি? লালন সাঁইয়ের ভাষায় –

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো
যম যাতনা সকল যেত, দূরে
সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ যোজন ফাঁকে রে।।

হয়তো আমাদের কেউই পুরোপুরি মুক্ত নই, কিংবা আমিই হয়তো আধ্যাত্মিক মিলনের আকাঙ্খাকে সাধারণ মানুষের আসক্তি ভেবে ভুল করছি। যাই হোক, ক্ষুদ্র মনের অনুধাবনের বাইরের প্রশ্নগুলি বাউলসম্রাটের কবিতাটিসহ পাঠকদের চিন্তার খোরাক যোগাবে, এই আশায় তুলে দিলাম।

A few questions for my readers today: In our pursuits of divine truths or higher goals, how do our relationships with fellow pursuers of the opposite gender matter? Does the sexuality that is entwined with gender intensify the camaraderie (or competition) between travelers on the same path? And does it influence, or perhaps taint, the very pursuit itself?

I write the questions because reading Lalon Sain’s Barir Kachhe Aarshinagar (City of Mirrors) made me think of those. Quoting from the source of the translation:

Bauls hold women in high esteem. They are essential to the male practitioner’s success in sadhana. This is one of Lalon’s many songs that secretly refer to the sadhika (female practitioner) or to the sahaj manus (natural person) within her.

Yet to me, the explanation seems to merely be a summarization of something more profound. Perhaps you know what I mean? The questions asked are far from simple, and a discussion of those require more than a blog post, and more than a knowledge of literature. So let me leave those for your weekend tea-parties – you will need more than a cup, I am sure :).

A translation of the poem by the Bangla scholar, Dr. Carol Salomon, is provided below.

বাড়ির কাছে আরশিনগর

বাড়ির কাছে আরশিনগর
সেথা এক পড়শি বসত করে।
আমি একদিন না দেখিলাম তারে।।
গিরাম বেড়ে অগাধ পানি
ও তার নাই কিনারা নাই তরণী পারে
মনে বাঞ্ছা করি দেখব তারে
কেমনে সে গাঁয় যাই রে।।
বলবো কী সেই পড়শির কথা
ও তার হস্তপদ স্কন্ধমাথা, নাই রে
ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর
ক্ষণেক ভাসে নীরে।।
পড়শি যদি আমায় ছুঁতো
যম যাতনা সকল যেত, দূরে
সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ যোজন ফাঁকে রে।।

– লালন সাঁই

Barir Kachhe Aarshinagar (The City of Mirrors)
(Translated by Carol Salomon)

I have not seen her even once–
my neighbor
who lives in the city of mirrors
near my house.
Her village is surrounded
by deep boundless waters,
and I have no boat
to cross over.
I long to see her,
but how can I reach
her village?
What can I say
about my neighbor?
She has no hands, no feet,
no shoulders, no head.
Sometimes she floats high up in the sky,
sometimes in the water.
If my neighbor only touched me,
she would send the pain of death away.
She and Lalon are in the same place,
yet five hundred thousand miles apart.

– Lalon Sain

কবিতা ৭৩ – নামের গুণ / Poem 73 – Naam er Gun (A Lot is in a Name)

আজকের কবিতাটির কোন নাম আছে কিনা তা জানি না, তাই নিজেই একটি নাম দিয়ে দিলাম। রবিঠাকুরের কবিতাগুলোর মধ্যে যে এই কবিতাটি খুব উচ্চস্তরের, তা বলা যাবে না। তবে হঠাৎ সামনে পেয়ে পড়া, আর তারপর অকারণেই বিয়ের বাজারে প্রবাসী পাত্র-পাত্রীদের পিছনে বাঙ্গালিদের প্রাণপণে ছোটার কথা মনে পড়ে গিয়ে বেশ হাসি পেয়ে গেল। খানিকটা কৌতুকচ্ছলেই তাই “নামজাদা” পাত্র-পাত্রীদেরকে নিয়ে আমাদের লাফালাফির এই কবিতাটি আজ তুলে দিলাম।

This time, a humorous poem that, for some reason, reminds me of our ridiculous race to bag non-resident Bangalee brides/grooms (NRIs/NRBs) for marriage. Naam er Gun (A Lot is in a Name) is by no means one of Thakur’s good poems, but it does capture the obsequious South-Asian fascination and desire for everything that is Western. Choose your other halves wisely, friends – ‘expatriate’ is just a meaningless tag, unless a soulmate is not what you are looking for.

নামের গুণ 

আদর ক’রে মেয়ের নাম
রেখেছে ক্যালিফর্নিয়া,
গরম হল বিয়ের হাট
ঐ মেয়েরই দর নিয়া।
মহেশদাদা খুঁজিয়া গ্রামে গ্রামে
পেয়েছে ছেলে ম্যাসাচুসেট্‌স্‌ নামে,
শাশুড়ি বুড়ি ভীষণ খুশি
নামজাদা সে বর নিয়া–
ভাটের দল চেঁচিয়ে মরে
নামের গুণ বর্ণিয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খাপছাড়া)

গল্প ১১৯ – ফেলুদা – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি / Short Story 119 – Feluda – Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Feludar Goendagiri

ফেলুদার গল্প – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি – সত্যজিৎ রায়

আজ ফেলুদার একটি বিশেষ গল্প – এর আগের পোস্টে ফেলুদার দার্জিলিং ফেরা আর একটি রহস্যের সমাধান করা নিয়ে লেখা দার্জিলিং জমজমাট গল্পটি তুলেছিলাম। সেইবার দার্জিলিংই যে ফেলুদার গোয়েন্দাগিরীতে হাতেখড়ির পটভূমি, তা উল্লেখ করলেও সেই গল্পটি যে এই সাইটে তোলা হয়নি, তা খেয়াল ছিলনা। সেই ভুলটুকু শোধরাতেই আজ সেই হাতেখড়ির গল্পটি তুলে দেওয়া – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি গল্পটি যে সময়কার, তখন আমাদের চিরচেনা তোপসে নেহাতই ছোট, অথবা তাঁর ভাষায় বলতে গেলে “আমার বয়স সাড়ে তেরো বছর। ফেলুদার বয়স আমার ঠিক ডবল।”। ফেলুদা অবশ্য বয়সে তরুণ হলেও বুদ্ধিতে চিরকালের মতই পাকা, যদিও ঠান্ডা মস্তিস্কের বদলে তোপসের উপর তাঁর খিটখিটেমোই আমরা দেখতে পাই বেশি। ফেলুদার পরবর্তী উপন্যাসগুলোর তুলনায় এই গল্পটি নেহাতই হাল্কা মেজাজে লেখা – সত্যজিৎ রায় হয়তো ফেলুদাকে নিয়ে মাত্র একটি গল্প লিখবেন, তেমনটা মনে করেই লেখাটি লিখেছিলেন। যাই হোক, ভণিতা থামানোর আগে বলে রাখি যে গল্পের শেষটা খানিকটা অপ্রত্যাশিত। হাজার হোক, সব রহস্যের কি আর সময়মত সমাধান হয়?

Feluda’s Stories – Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling) – Satyajit Ray

In my last post, I had put up Darjeeling Jamjomat, where the Feluda and his sidekick Topshe return to Darjeeling, and again solve another mystery. For some reason, I had negelected to put up the story of their first case there (and anywhere!), so this. To Feluda fans, Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling) is very special, as it was the story through which Satyajit Ray gave birth to the sleuth as a character. Back then, Topshe was merely a boy of thirteen-and-half, and Feluda quite young at ‘exactly double’ his cousin’s age. All this shows in the lighthearted and boyish tone of the narrative – the Feluda we know to be cool and mature is seen playing pranks on and teasing Topshe. His brains are just as sharp, though. All said, the story is also exceptional in another sense – Feluda does solve the mystery in it, but too late.

গল্প ১১৮ – ফেলুদা – দার্জিলিং জমজমাট / Short Story 118 – Feluda – Darjeeling Jamjomat (Murder in the Mountains)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Darjeeling Jamjomat

ফেলুদার গল্প – দার্জিলিং জমজমাট – সত্যজিৎ রায়

অনেক দিন পর ফেলুদার আরেকটি গল্প, আর এবারে পটভূমি দার্জিলিং। ফেলুদাকে আমরা রূপালী-পর্দার জগতে প্রথম দেখি বোম্বাইয়ের বোম্বেটেতে, যখন বলিউডের চিত্রনির্দেশক পুলক ঘোষাল লালমোহন বাবুর গল্প থেকে একটি চলচ্চিত্র বানানোয় হাত দেন। সেই গল্পে ফিল্মও বানানো হয়, আর ফেলুদাও তারই মাঝে বোম্বাইয়ের এক বড় চোরাচালানকারীকে জব্দ করে। যাই হোক, তার বছরখানেক পরে পুলকবাবু আবারও লালমোহনবাবুর আরেকটি গল্প থেকে নতুন একটি সিনেমা বানানো শুরু করেন, আর দৃশ্যধারণের জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় দার্জিলিং শহরটিকে। ফেলুদা ও তোপসের ইচ্ছে ছিল যে শুটিং দেখার সাথে সাথে তাদের প্রথম গোয়েন্দাগিরির জায়গাটিতে আরেকবার ঘুরে আসার, কিন্তু সেখানে গিয়ে যে তাদের আরেকবার তদন্তে নামতে হবে, তা কে জানত?

Feluda’s Adventures – Darjeeling Jamjomat (Murder in the Mountains) – Satyajit Ray

It has been a while since I last posted a Feluda story – so this time, an upload that takes the sleuth back to the very place where he first started as a detective. The story starts with Lalmohan Babu getting another offer from Bollywood director Pulak Ghoshal for one of his stories to be made into a movie. The last time that happened, Feluda and co. ended up in Mumbai to watch the shooting, and Feluda busted a smuggling racket and caught a godfather of the Mumbai underworld. This time, in a much more tranquil Darjeeling, he and Topshe hope to relax and relive old memories. But once they are there, things take a turn for the worse, and the detective has to reprise a familiar role in a familiar place.

গান ৭২ – পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে / Song 72 – Prithibita Naki Chhoto Hote Hote (Light-years Apart in a Shrinking World)

লম্বা একটি বিরতির পর আজকে একটু অন্যরকম একটা পোস্ট – পৃথিবীটা নাকি গানটি এই সাইটে তোলা অন্যান্য গানগুলোর চাইতে বিষয় ও ধারা, দু দিক দিয়েই একটু আলাদা। আজকের এই যুগে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা কতভাবেই না অন্যদের সাথে সংযুক্ত, কিন্তু সেই প্রযুক্তির হাত ধরেই আপনজনদের কাছ থেকে যে আমরা কতটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি বা গেছি, তা কি আমরা মনে রাখি? পাঠকদের মধ্যে যারা শহুরে, তাদের হয়তো সেই একাকিত্বটুকু একটু বেশিই বাস্তব হয়ে ঠেকে। নগরায়ণ আর প্রযুক্তিগত সংযোগের মাঝে সেই  নিঃসঙ্গতাই ফুটে উঠেছে এই গানটিতে – মহীনের ঘোড়াগুলির পৃথিবীটা নাকি

গানটির কথা যখন লিখলাম, তখন মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডটির কথা আলাদা করে বলতে হয়। পাঠকদের অনেকেই হয়তো জানেন যে মহীনের ঘোড়াগুলি উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রক ব্যান্ডগুলোর মধ্যে একটি। জীবনানন্দ যেমন তাঁর সময়ে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে বাংলা সাহিত্যে একটি নতুন সাহিত্যধারাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, মহীনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডটিও বাংলার সঙ্গীতজগতে অনেকটা সেভাবেই রক সঙ্গীতধারার প্রচলিত করে। ব্যান্ডটির নাম যে জীবনানন্দের কবিতা থেকেই নেওয়া, তা আর বিস্ময়ের কি? বাংলা ও উপমহাদেশীয় ব্যান্ড সঙ্গীতধারার উপর মহীনের ঘোড়াগুলির প্রভাব যে কি বিশাল, তা বোঝানোর জন্যেপৃথিবীটা নাকি গানটিই যথেষ্ট – গানটি প্রকাশের পরবর্তী বছরগুলোতে সীমান্তের এপার আর ওপার, দুই বাংলারই অনেক গায়কেরা গানটি গেয়েছেন বা সেটি দ্বারা অনুপ্রাণিত করেছেন। বাংলাদেশের নগরবাউল ব্যান্ডের জেমস এর গাওয়া বলিউড সঙ্গীত ভিগি ভিগি  গানটি শুনলেই সেটি বোঝা যায়।

গান শুনতে যারা ভালবাসেন, তাদের জন্যে গানটির পংক্তির সাথে সাথে নিচে একটি ইউটিউব ভিডিও সংযুক্ত করে দিলাম। আশা করি সবার ভাল লাগবে।

In a way of breaking what has been an extended hiatus, a song that I have been thinking of putting up for quite some time. If you are a reader who grew up listening to rock songs in the eighties’ or nineties’ Bangla, you probably know about Moheener Ghoraguli (Moheen’s Horses), if not, you should! One of the first rock bands in the subcontinent, they played a pioneering role in establishing Rock as a genre in the Bangla music, and have had an immense influence on the bands which followed, and continue to follow their footsteps even today. Case on point: Prithibita Naki Chhoto Hote hote (Light-years Apart in a Shrinking World) – a song of citidwelling lovers who grow light-years apart because of the very technology that is supposed to connect them. In this era of Facebook, Twiter and WhatsApp, does that sound familiar? One of their most famous hits, the song has been covered by many famous singers in both Bangladesh and India, and has influenced many famous hits as well. Listen to the song on Youtube below, and then check out the Bollywood hit Bheegi Bheegi sung by the Bangladesh rockstar James, and you will know exactly what I mean. Old stuff, gold stuff – Prithibita Naki a truly interesting example of art moving across boundaries and cultures.

পৃথিবীটা নাকি

পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে
স্যাটেলাইট আর কেবলের হাতে
ড্রয়িং রুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…
ঘরে বসে সারা দুনিয়ার সাথে
যোগাযোগ আজ হাতের মুঠোতে
ঘুঁচে গেছে দেশ কাল সীমানার গণ্ডি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…।

ভেবে দেখেছ কি?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।
ভেবে দেখেছ কি ?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে…।

সারি সারি মুখ আসে আর যায়
নেশাতুর চোখ টিভি পর্দায়
পোকামাকড়ের আগুনের সাথে সন্ধি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…
পাশাপাশি বসে একসাথে দেখা
একসাথে নয় আসলে যে একা
তোমার আমার ভাড়াটের নয়া ফন্দি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…।

ভেবে দেখেছ কি?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।
ভেবে দেখেছ কি ?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে…।

স্বপ্ন বেচার চোরা কারবার
জায়গা তো নেই তোমার আমার
চোখ ধাঁধানোর এই খেলা শুধু বন্দি,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…
তার চেয়ে এসো খোলা জানালায়
পথ ভুল করে ভুল রাস্তায়
হয়ত পেলেও পেতে পারি আরো সঙ্গী,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা, আ হা,
আহা হা হা হা…।

ভেবে দেখেছ কি?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে।
ভেবে দেখেছ কি ?
তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে
তারও দূরে
তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে…।

– মহীনের ঘোড়াগুলি
.

গল্প ১১৭ – ক্যাম্প / Story 117- Camp

jafar-iqbal-camp

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal – Camp

ক্যাম্প – জাফর ইকবাল

একটি যুদ্ধ, দুটি পক্ষ, কয়েকটি দৃষ্টিকোণ, আর একটি মৃত্যু – ক্যাম্প  মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ নিয়ে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা আরেকটি উপন্যাস। পাঠকদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি, তারা নিশ্চই জাফর ইকবালকে চেনেন, আর হয়তো এও জানেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি পিতৃহারা হয়েছিলেনক্যাম্প উপন্যাসটি তাই যতটা কাল্পনিক, ততটাই বাস্তব এবং ব্যক্তিগত। যতদূর জানি, একাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে ৪৭ বছরের রাজনীতি আর দলবাজির প্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনেকটাই সরলীকরণের বলি হয়েছে, যেকারণে আজ যুদ্ধের দিনগুলোর চরিত্রগুলোকে হয় সাদা কিংবা কালোর কাতারে ফেলার প্রবণতা বেশ প্রবল। কিন্তু ক্যাম্প পড়লে বোঝা যায় যে সেই সময়কার বাস্তবতা ছিল অনেকটাই জটিল, আর এও বোঝা যায় যে একাত্তরের খলনায়ক ছিল যারা, আদর্শগত ভাবে ভিন্ন হলেও তাদের মত অনেকেই দুই বাংলায়ই আজও বর্তমান।

Camp – Zafar Iqbal

A war, two sides, a few perspectives, and a death – Camp is another story by Muhammad Jafar Iqbal that portrays lives during the liberation war of Bangladesh. Readers who are Bangladeshi need no introduction to Jafar Iqbal; for those who do not know, the writer lost his father during atrocities committed by the Pakistani army during the war. For a fiction, Camp is therefore a very real account, and more – it is personal.

From the little I know, 47 years of politics and factionalism have left the war-time history in post-war Bangladesh grossly oversimplified. Consequently, the tendency among many these days is to portray characters from those times in either black or white. Camp, however, reveals them to us in shades of gray, and makes us realize the worrying truth that even after all this time, people just like them still linger among us.

কবিতা ৭০ – স্তব্ধতা উচ্ছ্বসি উঠে / Poem 70 – Stabdhota Uchchhwashi Uthe (Stillness Surges Up)

Rabindranath Thakur-Stabdhota Uchchhwashi Othe 1

আজ রবিঠাকুরের একটি অণুকাব্য। স্তব্ধতা উচ্ছ্বসি উঠে কবি লিখেছিলেন প্রকৃতির সর্বোচ্চ ও গভীরতমের মাঝে দুটি গুণের বিকাশ দেখতে পেয়ে। পর্বতের অগম্য উচ্চতার মধ্যে স্তব্ধতার উৎকর্ষলাভ, আর সরোবরের অতল গভীরতার মাঝে গতিবেগের আত্মোপলোব্ধি – কবিগুরু কি অবলীলায়ই না দৃশ্যমানের মাঝে প্রতীকি অর্থ খুঁজে পেতেন! রবিঠাকুরকে বুঝতে যাওয়ার স্পর্ধা আমাদের নেই, তবে কবিতাগুলো পড়ে ভাল লাগে, এই যা।

তবে কখনো কখনো ইন্টারনেটের কল্যাণে দু-একটি ছবি খুঁজে পাই, যা কবিগুরুর লেখাগুলোকে অপূর্বভাবে দৃশ্যমান করে তুলে। আমার চোখে উপরের ছবিটি তেমনই একটি, তাই পাঠকদেরও আমার মতো সেটি ভাল লাগবে, সেই আশায় তুলে দিলাম।

Today, a verse by Rabindranath Thakur – on the qualities that manifest in nature. It never ceases to amaze me how the sage associated abstractions around us with tangible things in nature. Taken apart, stillness that engulfs and mountains which surge up can appear unrelated. After reading the poem, however, one wonders whether they are anything but one. Greater minds have identified Thakur as one of the greatest intellects in modern history – to that, I can only nod without understanding. His simpler metaphors, however, come to me, and just that alone leaves me happy and glad.

Sometimes, while reading Thakur’s poems, the mind seeks a window to look out of and find what the lines remind it of. But such windows are almost never there. In this digital age, however, we have search engines, and a lucky search or two yields a picture that just captures the essence of the poem. I think Thakur would appreciate.

স্তব্ধতা উচ্ছ্বসি উঠে

স্তব্ধতা উচ্ছ্বসি উঠে গিরিশৃঙ্গরূপে,
ঊর্ধ্বে খোঁজে আপন মহিমা।
গতিবেগ সরোবরে থেমে চায় চুপে
গভীরে খুঁজিতে নিজ সীমা।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (স্ফুলিঙ্গ হতে সংগ্রহীত)

Stabdhota Uchchhwashi Uthe (Stillness Surges Up)
(Translation by the Poet Himself)

In the mountain, stillness surges up
to explore its own height;
in the lake, movement stands still
to contemplate its own depth.

– Rabindranath Thakur (Collected from Sphulinga/Fireflies)

গান ৬৯ – শীতের বনে / Song 69 – Sheeter Bone (In the Forest of the Winter)

rabindranath-thakur-sheetero-bone-2

আজ আমার সবচেয়ে প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতগুলোর মধ্যে একটি। শীতের বনে  ঋতুটির আগমনের সাথে সাথে প্রকৃতির সবুজ সাজ ছাড়া নিয়ে একটি গান, তাই এক অর্থে সেটি শীতের আগমনী বার্তা। কিন্তু গানটি ঋতুটির রুক্ষতা ও শুষ্কতার বর্ণনা নিয়ে হলেও সেটির মধুর সুর কেন জানি আমাকে ছোটবেলার শীতকালগুলোর সুখস্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। হয়তো শীতের মলিন হিমের মাঝেই ছোট্ট আনন্দগুলো সবচেয়ে বেশি উষ্ণ হয়ে ঠেকে, কিংবা হয়তো গানটির রুক্ষতার মাঝে মনে একটু কোমল পরশ বুলায়, তাই। যে কারণেই হোক পাঠকদের সাথে সেই অনুভূতিটুকু ভাগ করে নিতে তাই আজ এটির পংক্তিগুলো তুলে দেওয়া।

যারা শুনতে কিংবা গাইতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে নিচে গানটির দুটি সংস্করণ তুলে দিলাম – একটি মান্না দের গলায়, আর তাই শ্বাশত, আর অন্যটি যারা আধুনিকতার ভক্ত, তাদের জন্যে। শোনার আমন্ত্রণ থাকল।

Today, one of my favourite songs of the Rabindrasangeet genre. Sheetero Bone is a song about the Winter as I know it back home – dry and stern, yet raggedly beautiful and the evoker of a thousand memories from childhood. The lines narrate the changes that would announce the arrival of winter where I grew up – the trees shedding their foliage, the slight but perceptible Northern wind, the dryness tangible in the air… but more than that, they also remind me of what was gentle and sweet about those times – soaking in the warmth of the sun on our balcony, marveling at the dendrites that the trees had become, lighting our own fires out of dead twigs and leaves in the evening, to name a few… Life, with its sobering ways, takes us away from those moments and forces us to assume the mask of a grown-up, but sometimes, an unconscious hum or a prompted recitation is all it takes for us to drown in a flood of memories… Sometimes, it is okay to miss home.

Blow are two renditions of the song – a timeless one by the master, Manna Dey, and a contemporary one in Arnob’s (co)compostion and Warda’s voice – something to listen to or sing along with this winter. Enjoy!

শীতের বনে

শীতের বনে কোন্‌ সে কঠিন আসবে ব’লে
শিউলিগুলি ভয়ে মলিন বনের কোলে॥
আম্‌লকি-ডাল সাজল কাঙাল,   খসিয়ে দিল পল্লবজাল,
কাশের হাসি হাওয়ায় ভাসি যায় সে চলে॥
সইবে না সে পাতায় ঘাসে চঞ্চলতা
তাই তো আপন রঙ ঘুচালো ঝুম্‌কোলতা।
উত্তরবায় জানায় শাসন,   পাতল তপের শুষ্ক আসন,
সাজ-খসাবার হায় এই লীলা কার অট্টরোলে॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রকৃতি  হতে সংগ্রহীত)

(সংস্করণ ১ – মান্না দে / Version 1 – Manna Dey)

(সংস্করণ 2 – অর্ণব এবং ওয়ার্দা / Version 2 – Arnob ft. Warda)

গল্প ১১৬ – ফেলুদা – জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা / Story 116 – Feluda – Jahangir er Swarnamudra (The Missing Zodiac)

satyajit-ray-feluda-jahangir-er-swarnamudra-1

(সম্পাদিত ছবিটির আদি প্রতিরূপটি নেওয়া হয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন লাইব্রেরীর ডিজিটাল সংগ্রহশালা থেকে / Orginal of the edited photo was taken from the Digital Collections of the library at the University of Washington)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Jahangir er Swarnamudra

ফেলুদার গল্প – জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা – সত্যজিৎ রায়

আজকের গল্পটির ভূমিকা হিসেবে খানিকটা ইতিহাস – জাহাঙ্গীর যখন মুঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসনে, তখন নিজ রাজত্বের স্মারক হিসেবে তিনি বেশ কিছু মুদ্রার প্রচলন ঘটান। কালক্রমে সেগুলোর বেশিরভাগই হারিয়ে গেলেও অল্প কিছু মুদ্রা আজ পর্যন্ত টিকে গিয়ে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা  লেখা তেমনই কিছু মুদ্রাকে ঘিরে – কলকাতার একটি বনেদি পরিবারের সংগ্রহে ছিল রাশিমালার উপর ভিত্তি করে তৈরী জাহাঙ্গীর আমলের বারটি স্বর্ণমুদ্রা – যা আর্থিক ও ঐতিহাসিক, দুই দিক দিয়েই অমূল্য। কিন্তু সেই বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলাকালে রহস্যজনকভাবে সেই মুদ্রাগুলির একটি চুরি হয়ে যায়। ঘটনা ঠিক এক বছর পরে বাড়ির কর্তা ফেলুদার শরণাপন্ন হন। তাঁর ইচ্ছে, আরেকবার সেই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে তিনি একই অতিথিদের আবার আমন্ত্রণ করবেন। পার্থক্য শুধু এই, যে এবার তাতে ফেলুদাও থাকবেন, পরিচয় গোপন করে। উদ্দেশ্য – চোর কে শনাক্ত করে তাঁর কাছ থেকে সেই মুদ্রা ফেরত আনা।

Feluda’s Stories – Jahangir er Swarnamudra (The Missing Zodiac) – Satyajit Ray

Another Feluda story, with an accompanying tidbit of history: when Jahangir was the ruler of the Mughal Empire, he issued many insignias to mark his reign. Among those were coins of different kinds but great value. Most of those were lost over time, but some survived to become historical objects in this age. In Jahangir er Swarnamudra (The Missing Zodiac), we come across one such artifact – a collection of gold coins which represent the signs of the zodiac. One coin, however, is missing, and it is up to Feluda to get it from an unknown thief who had stolen it a long time ago.

কবিতা ৬৮ – আছে দুঃখ আছে মৃত্যু / Poem 68 – Achhe Dukkho Achhe Mrityu (Sadness and Joy, Life and Death)

rabindranath-thakur-achhe-dukkho-achhe-mrityu-1

আজ অতীত হতে চলা বছরটিকে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে মনের উপলব্ধিতে আসা একটি কবিতা। আনন্দ ও বেদনা, মিলন ও বিরহ, আগমন ও বিদায়, আর পুনরাগমন ও পুনর্মিলন… প্রতিটি বছর তো আমাদের জীবন-সারাংশেরই পুনরাবৃত্তি, তাই না? নতুন বছরের দ্বারগোঁড়ায় দাঁড়িয়ে তাই সেটির উজ্জ্বলতর মুহূর্তগুলোর প্রত্যাশায়ই নাহয় আরেকবার শুরু করি?

গ্রেগরিয়ান নববর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে।

In review of the year that is soon to be past, a poem by Rabindranath Thakur. Achhe Dukkho, Achhe Mrityu (Sadness and Joy, Life and Death) is a poem that reminds us that life is only complete when it knows laughter as well as it does tears, unions as well as it does bereavement, and triumphs as much as failures. Perhaps each of the pair succeeds the other like the ebb of the tide follows its flow, or perhaps they are forever there in equal measure… of such things, what would I know? But when the mind finds itself about to retrace the same path that it has over the past year, there is peace and wonderment to be found in that knowledge: Perhaps each year is a recurring act of life in its fullest, and if so, then a reminder – that in all its hues, it may hold just enough blue for one to love and get lost within.

Happy new year, everyone.

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥
তবু প্রাণ নিত্যধারা,      হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,
বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে ॥
তরঙ্গ মিলায়ে যায় তরঙ্গ উঠে,
কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে।
নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ,   নাহি নাহি দৈন্যলেশ–
সেই পূর্ণতার পায়ে মন স্থান মাগে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা  হতে সংগ্রহীত)

 

ছোটগল্প ১১৫ – ব্যোমকেশ বক্সী – চিত্রচোর / Short Story 115 – Byomkesh Bakshi – Chitrochor (The Picture Thief)

sharadindu-bandyopadhyay-byomkesh-bakshi-chitrochor

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Sharadindu Bandyopadhyay-Byomkesh-11 ChitroChor

ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প – চিত্রচোর – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ ব্যোমকেশ বক্সীর একটি গল্প – চিত্রচোর। কঠিন অসুখ হতে সম্প্রতি আরোগ্য লাভ করা ব্যোমকেশ যখন কোন এক প্রত্যন্ত গঞ্জে হাওয়া বদলাতে এসেছে, এমন সময় সেখানে তাঁর এক আলাপীর ঘর হতে একটি ছবি চুরি যায়। মামুলি একটি ছবি কেন রহস্যজনকভাবে চুরি যাবে, তা কেউ বুঝে ওঠার আগেই সেই ভদ্রলোকের বন্ধুদের বাড়ি থেকেও ছবি চুরি যেতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যোমকেশকে ঘটনার তদন্তে নামতে হয়, আর সময়ের প্রবাহের সাথে সাথে অন্য সব কিছু ছাপিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে – ছবিগুলো চুরি যাওয়াই কি মূল ঘটনা, নাকি সেগুলো বড় কোন ঘটনার ভূমিকামাত্র?

Byomkesh Bakshi’s Adventures – ChitroChor (The Picture Thief) – Sharadindu Bandyopadhyay

A Byomkesh Bakshi story today. ChitroChor (The Picture Thief) starts with Byomkesh visiting some rural town as a change of air after a long illness. As it happens with detective stories, a mystery soon develops – a seemingly ordinary picture gets mysteriously stolen from the house of a wealthy local gentleman. Before anyone can figure out why, more thefts are reported – all pictures, and all belonging to the gentlemen’s friend circle. Byomkesh takes up the case, and he has to soon find whether the thefts are by themselves a thing, or whether they are leading up to something much bigger.

কবিতা ৬৭ – কপোতাক্ষ নদ / Poem 67 – Kapotakkha Nad (Kapotakkha River)

michael-madhusudan-datta-satoto-he-nad-2

আজ মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি কবিতা। এতদিন এই সাইটে যে বাংলা সাহিত্যের এই অমর কবির লেখা কেন তুলিনি, তার কোন স্পষ্ট ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই – হয়তো একসময়কার মধুসূদনের মত আমিও বাংলাকে ভুলতে বসেছি, তাই। আজকের কবিতাটি তোলার কারণ অবশ্য জানা – জীবনের স্রোতে ভেসে ভেসে আমরা এককালের চেনা জগৎটা হতে কত দূরেই না সরে যাই। তেমনি সময়ে কি ফেলে আসা প্রিয়জন ও প্রিয় জায়গাগুলোর কথা মনে পড়ে না? বিগত ক’দিন ধরে কেন জানি বাড়ির পিছনের ছোট্ট নদীটার কথা মনে পড়ছে খুব – আর সেই পিছুটানের কথা যদি পংক্তির ভাষায় বলতে হয়, কপোতাক্ষ নদ  চাইতে আর্দ্র কবিতা আর কি হতে পারে? তাই পাঠকদের জন্যে সেটি তুলে দেওয়া।

Today, in a way of filling what has been a massive void in this site, a poem by Michael Madhusudan Dutta. The reason for the post is rather personal, however. When life keeps us far away from who or what we hold dearly in our hearts, and when the recurring passage of time rekindles their memories, how does it feel? In Kapotakkha Nad (Kapotaksha River) we get to know the feeling – of missing the little river each of us knows back home.

কপোতাক্ষ নদ

সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;
সতত (যেমতি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া- মন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।
বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?
দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে।

আর কি হে হবে দেখা?- যত দিন যাবে,
প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে
বারি-রুপ কর তুমি; এ মিনতি, গাবে
বঙ্গজ জনের কানে, সখে, সখা-রীতে
নাম তার, এ প্রবাসে মজি প্রেম-ভাবে
লইছে যে নাম তব বঙ্গের সংগীতে।

– মাইকেল মধুসূদন দত্ত