ছোটগল্প ১২৮ – নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ / Short Story 128 – Nidhiramer Ichchhapuran (Nidhiram’s Wish)


পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Nidhiramer Ichchhapuran

নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ – সত্যজিৎ রায়

এই সাইটে লেখা তোলার মাঝে বিরতিগুলো ক্রমশই দীর্ঘতর হয়ে চলছে। অবশ্য ‘বিরতি’ মানে যখন দৈনন্দিন কাজ, তখন সেটা কি অস্বাভাবিক? সামনের মাসগুলোতে আরেকটু বেশি সময় পাব আশা করি, তবে আজ অন্য কথা বলি। আমাদের সবার মনেই তো কত অপূর্ণ বাসনা থাকে তাই না? ছোট্ট অথচ কঠিন ইচ্ছেগুলোর কথাই নাহয় বলি – স্বপ্নের চাকরিটা যদি হতো, যদি আরেকটু লম্বা হতে পারতাম, কিংবা যদি মাথার উপরের টাকটুকু চুলে ঢাকা থাকত? বাস্তবজীবনে হয়তো সেসব ইচ্ছেগুলো অপূর্ণই থেকে যায়, কিন্তু তাই বলে কল্পনা কেন আটকে থাকবে? সত্যজিৎ রায়ের কলমে নিধিরামের ইচ্ছাপূরণ তা নিয়েই একটি গল্প।

Nidhiramer Ichchhapuran (Nidhiram’s Wish) – Satyajit Ray

The intervals at which I post stories here are getting longer and longer – part of it has to do with my work keeping me busy. With luck, things will become better in the coming months, but in the meantime, in a way of breaking silence, a story. Nidhiram er Icchapuran (Nidhiram’s Wish) is one of those light but somewhat curious stories by Satyajit Ray. If you are an average person, you must have a wish or two – say a dream job, if you are unhappy with your work, or a little more hair on your forehead, if you are balding? Can those wishes ever come true in innocent ways? In this story, Ray imagines how they might.

Advertisements

কবিতা ৭৮ – তুমি কি কেবলই ছবি? / Poem 78 – Are you a mere picture?

অনেক দিন পরে আজ রবিঠাকুরের একটি কবিতা। যতদূর বুঝি, তুমি কি কেবলই ছবি  কবিতাটি পেরিয়ে আসা জীবনের মানুষ ও মূহুর্তগুলোকে স্মৃতিপটে বাঁচিয়ে রাখা নিয়ে লেখা। কটি পংক্তি তুলে দেই –

“নয়নসম্মুখে তুমি নাই,
নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই – আজি তাই
শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল।
আমার নিখিল তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল।”

যেকোনো কবিতার অর্থ যে কি, সেটা নিতান্তই পাঠকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণের উপর নির্ভর করে। কিন্তু এও তো ঠিক, যে, কখনো কখনো কবিতার বস্তু জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে হয় – রবিঠাকুরের যেসমস্ত কবিতাগুলো যা আগে বুঝতে কষ্ট হত, তার কিছু কিছু এখন খানিকটা হলেও বুঝি… বয়সের সাথে সাথে মানুষ তো কিছুটা অন্তত শেখে, তাই না?

নিম্নোক্ত পংক্তিগুলো তুমি কি কেবলই ছবির একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। যারা পুরো কবিতাটি পড়তে চান, তারা সেটি পাবেন এখানে

“The day was when you walked with me, your breath warm, your limbs singing of life. My world found its speech in your voice, and touched my heart with your face. You suddenly stopped in your walk, in the shadow-side of the Forever, and I went on alone.”

A beautiful poem by Thakur of memories, which keep long-lost ones alive in the heart despite the persistence of time.

তুমি কি কেবলই ছবি

তুমি কি কেবলই ছবি, শুধু পটে লিখা।
ওই-যে সুদূর নীহারিকা
যারা করে আছে ভিড় আকাশের নীড়,
ওই যারা দিনরাত্রি
আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী গ্রহ তারা রবি,
তুমি কি তাদের মতো সত্য নও।
হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি॥

নয়নসমুখে তুমি নাই,
নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই– আজি তাই
শ্যামলে শ্যামল তুমি, নীলিমায় নীল।
আমার নিখিল তোমাতে পেয়েছে তার অন্তরের মিল।
নাহি জানি, কেহ নাহি জানে–
তব সুর বাজে মোর গানে,
কবির অন্তরে তুমি কবি–
নও ছবি, নও ছবি, নও শুধু ছবি॥

Tumi Ki Keboli Chhobi (Are you a mere picture)?
(Translation by the poet himself)

Are you a mere picture, and not as true as those stars, true as this dust? They throb with the pulse of things, but you are immensely aloof in your stillness, painted form.
The day was when you walked with me, your breath warm, your limbs singing of life. My world found its speech in your voice, and touched my heart with your face. You suddenly stopped in your walk, in the shadow-side of the Forever, and I went on alone.
Life, like a child, laughs, shaking its rattle of death as it runs; it beckons me on, I follow the unseen; but you stand there, where you stopped behind that dust and those stars; and you are a mere picture.

No, it cannot be. Had the lifeflood utterly stopped in you, it would stop the river in its flow, and the footfall of dawn in her cadence of colours. Had the glimmering dusk of your hair vanished in the hopeless dark, the woodland shade of summer would die with its dreams.
Can it be true that I forgot you? We haste on without heed, forgetting the flowers on the roadside hedge. Yet they breathe unaware into our forgetfulness, filling it with music. You have moved from my world, to take seat at the root of my life, and therefore is this forgetting-remembrance lost in its own depth.
You are no longer before my songs, but one with them. You came to me with the first ray of dawn. I lost you with the last gold of evening. Ever since I am always finding you through the dark. No, you are no mere picture.

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / Rabindranath Thakur
বিচিত্র হতে সংগ্রহীত (Collected from Bichitra/Lover’s Gift)

 

গান ৭৪ – বাড়ির কাছে আরশিনগর / Song 74 – Barir Kachhe Aarshinagar (City of Mirrors)

আজকের ভণিতার বিষয়টুকু বেশ জটিল। একই তত্ত্বের সাধক বা একই পথের যাত্রী যারা, তাদের মধ্যে যে বন্ধুত্ব কিংবা রেষারেষি থাকবে, তা আশ্চর্য নয়, কিন্তু সম্পর্কটি যদি নারী ও পুরুষের মাঝে হয়? বিপরীত লিঙ্গের মধ্যেকার সহজাত আকর্ষণটুকু কি সেই সাধনা বা যাত্রাটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, নাকি সেগুলোর অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়?

প্রশ্নগুলো করছি কারণ বাউলসম্রাট লালন সাঁইয়ের বাড়ির কাছে আরশিনগর  কবিতাটি পড়তে গিয়ে সেগুলো মনে এলো। বাউলদের আমরা সাধক বলে জানি, কিন্তু তাঁরা যে মানবিক প্রবৃত্তির প্রভাবগুলো হতে পুরোপুরি মুক্ত, তা কি সত্যি? লালন সাঁইয়ের ভাষায় –

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো
যম যাতনা সকল যেত, দূরে
সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ যোজন ফাঁকে রে।।

হয়তো আমাদের কেউই পুরোপুরি মুক্ত নই, কিংবা আমিই হয়তো আধ্যাত্মিক মিলনের আকাঙ্খাকে সাধারণ মানুষের আসক্তি ভেবে ভুল করছি। যাই হোক, ক্ষুদ্র মনের অনুধাবনের বাইরের প্রশ্নগুলি বাউলসম্রাটের কবিতাটিসহ পাঠকদের চিন্তার খোরাক যোগাবে, এই আশায় তুলে দিলাম।

A few questions for my readers today: In our pursuits of divine truths or higher goals, how do our relationships with fellow pursuers of the opposite gender matter? Does the sexuality that is entwined with gender intensify the camaraderie (or competition) between travelers on the same path? And does it influence, or perhaps taint, the very pursuit itself?

I write the questions because reading Lalon Sain’s Barir Kachhe Aarshinagar (City of Mirrors) made me think of those. Quoting from the source of the translation:

Bauls hold women in high esteem. They are essential to the male practitioner’s success in sadhana. This is one of Lalon’s many songs that secretly refer to the sadhika (female practitioner) or to the sahaj manus (natural person) within her.

Yet to me, the explanation seems to merely be a summarization of something more profound. Perhaps you know what I mean? The questions asked are far from simple, and a discussion of those require more than a blog post, and more than a knowledge of literature. So let me leave those for your weekend tea-parties – you will need more than a cup, I am sure :).

A translation of the poem by the Bangla scholar, Dr. Carol Salomon, is provided below.

বাড়ির কাছে আরশিনগর

বাড়ির কাছে আরশিনগর
সেথা এক পড়শি বসত করে।
আমি একদিন না দেখিলাম তারে।।
গিরাম বেড়ে অগাধ পানি
ও তার নাই কিনারা নাই তরণী পারে
মনে বাঞ্ছা করি দেখব তারে
কেমনে সে গাঁয় যাই রে।।
বলবো কী সেই পড়শির কথা
ও তার হস্তপদ স্কন্ধমাথা, নাই রে
ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর
ক্ষণেক ভাসে নীরে।।
পড়শি যদি আমায় ছুঁতো
যম যাতনা সকল যেত, দূরে
সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ যোজন ফাঁকে রে।।

– লালন সাঁই

Barir Kachhe Aarshinagar (The City of Mirrors)
(Translated by Carol Salomon)

I have not seen her even once–
my neighbor
who lives in the city of mirrors
near my house.
Her village is surrounded
by deep boundless waters,
and I have no boat
to cross over.
I long to see her,
but how can I reach
her village?
What can I say
about my neighbor?
She has no hands, no feet,
no shoulders, no head.
Sometimes she floats high up in the sky,
sometimes in the water.
If my neighbor only touched me,
she would send the pain of death away.
She and Lalon are in the same place,
yet five hundred thousand miles apart.

– Lalon Sain