গল্প ৫৫ – চাঁদের পাহাড় / Story 55 – Chander Pahar (Mountains of the Moon)

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Chander Pahar

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandopadhyay-Chander Pahar

চাঁদের পাহাড় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

এবার বিভূতিভূষণ। চাঁদের পাহাড় গল্পটি একজন বাঙ্গালী তরুণের অভিযানের গল্প, যা অভিযানের নেশা আছে যাদের, নিশ্চয় তাদের ভাল লাগবে। পাঠকদের জন্য গল্পের খানিকটা সেটির ভূমিকা হতে তুলে দেই –

“বাঙ্গালীর ছেলে শঙ্কর, পাকা খেলোয়াড়, নামজাদা বক্সার, ওস্তাদ সাঁতারু – এফ-এ পাশ করে সুবোধ ছেলের মতো কাজকর্মের সন্ধান করল না, দেশান্তরের হাতছানি পেয়ে সে পাড়ি দিল সুদূর পূর্ব-আফ্রিকায়। ইউগান্ডা রেলওয়ের নতুন লাইন তৈরী হচ্ছিল – চাকরী পেয়ে গেল। ডিয়েগো আলভারেজ নামের দুর্ধর্ষ এক পর্তুগীজ ভাগ্যান্বেষীর সঙ্গে হঠাৎ সেখানে তার দেখা। শঙ্কর এই দুঃসাহসী ভাগ্যান্বেষীর সঙ্গ ধরে মহাদুর্গম রিখটার্সভেল্ড পর্বতে অজ্ঞাত এক হীরের খনির সন্ধানে চলে গেল। ডিঙ্গোনেক বা বুনিপ নামের অতিকায় এবং অতিক্রূর এক দানব-জন্তু সেই হীরের খনি আগলিয়ে থাকত। পর্যটকেরা যার নাম দিয়েছেন চাঁদের পাহাড় সেই রিখটার্সভেল্ড পর্বতে গিয়ে জীবনমৃত্যু নিয়ে শঙ্করকে যে রোমাঞ্চকর ছিনিমিনি খেলতে হল তার আশ্চর্য বিবরণ যে-কোনো বয়সের কল্পনাকে উত্তেজিত করবে। বিখ্যাত ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতা অনুসরণে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগলিক সংস্থান এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যাদির যথাযথ বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। বিভূতিভূষণের হাতে তরুণদের জন্য লেখা এ-বই ধ্রুপদী সাহিত্য হিসেবে পরিগণিত হওয়ার যোগ্য।”

হীরা, সিংহ, মরুভূমি, গহীন জঙ্গল, হায়েনা, অভিযাত্রা… আফ্রিকা – চাঁদের পাহাড়  বাংলা সাহিত্যে অদ্বিতীয় একটি গল্প। পাঠকদের পড়বার আমন্ত্রণ রইল।  

Chander Pahar (Mountains of the Moon) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

This time a certain story by the name of Chander Pahar (Mountains of the Moon), which details the travels of a Bangalee youth into the heart of Africa. Written by Bibhutibhushan Bandyopadhyay, the story is sure to arouse a sense of adventure among adults and youth alike, and is offered here for your reading pleasure.

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Chander Pahar 2

ছোটগল্প ৫৪ – ফটিকচাঁদ / Short Story 54 – Fatikchand

Satyajit Ray-Fatikchandপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Fatikchand

ফটিকচাঁদ – সত্যজিৎ রায়

ছোট থাকতে মনের মাঝে হঠাৎই চেপে বসা ইচ্ছেগুলোর কথা মনে পড়ে? কত শখই না আমাদের হোত তখন, আর কতবারই না ছোট্ট মনগুলোর মাঝে সেসব চাপা পড়ে যেত – বাবা কি আমাকে বড় হয়ে ঘোড়া চড়তে দেবেন? আমি বাস ড্রাইভার হতে চাইলে মা বকবেন না? তখন থেকেই সামাজিক কাঠামোর অলংঘ্যনীয় রীতিনীতির আবছা প্রভাবে শিশুমন বাঁধা পড়ে যেত। কিন্তু ইচ্ছেগুলো তা মানত কি?

আচ্ছা যদি ঘটনাচক্রে সেই শিশুমনটুকু যদি অন্য কোথাও গিয়ে পড়ত, যেখানে বাবা-মায়ের বকুনির ভয়, স্কুলের হোমটাস্কের চাপ, বাঁধা-বিধি কিছুই নেই? শুধু আছে দিনরাত কোন এক মজার মানুষের সাথে ঘুরে বেড়ানো, চায়ের দোকানে কাজ করা, আর সার্কাসের খেলা শেখা। আর তার সাথে যদি পেছনে লেগে থাকা গুন্ডাদের মোকাবেলা করার বাড়তি উত্তেজনাটুকু যদি যোগ হয়, তাহলে কেমন হোত? সত্যজিৎ রায়ের ফটিকচাঁদ তেমনি একটি ঘটনা নিয়ে অসাধারণ একটি লেখা, যেটির উত্তেজনা, আনন্দ আর আবেগগুলো অনায়াসে আমাদের ছেলেবেলার দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

Fatikchand – Satyajit Ray

We all remember the times when as kids, our fancies took flight to the most romantic adventures. And perhaps we also remember the realities – a strict parent or homework – that kept us on check. That did not stop us from wondering, though. How would things be if we were suddenly in a place where we could do whatever was fun – working on the job we fancy, learning to juggle, hanging out with the coolest of friends and taking down goons with him – how thrilling would life be? In Satyajit Ray’s Fatikchand, a boy gets to experience precisely that, although not by choice. The readers, however, get to partake in this wonderful adventure without the risks. Enjoy!

গল্প ৫২ – দীপু নাম্বার ২ / Story 2 – Dipu Number 2

Jafar Iqbal-Dipu Number 2 BW

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bangla-Zafar Iqbal-Dipu Number 2

দীপু নাম্বার টু – জাফর ইকবাল

এবার এমন একটি গল্প, যেটিকে বাংলা কিশোরসাহিত্যের উজ্জলতর উদাহারণগুলোর মধ্যে একটি বললেও কমই বলা হয়। দীপু নাম্বার টু  গল্পটি এমন এক ছেলেকে নিয়ে, যে নামের দিক দিয়ে যে দ্বিতীয় হলেও সাধারণতার দিক দিয়ে সে অনন্য। গল্পটিকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা লিখলে এই লেখার শুধু দৈর্ঘ্যই বাড়বে, তাই বরং ভেবেচিন্তে গল্পেরই একটি অংশ তুলে দিলাম, যাতে গল্পের উপসংহারটুকু ছাড়া আর প্রায় সবটুকুরই আঁচ পাওয়া যায়।

দীপুর সাথে তার আব্বার সম্পর্ক একটু অদ্ভুত। মোটেই অন্য দশজন আব্বা আর তাদের ছেলের মত নয়। দীপু তার আব্বার সাথে এমনভাবে কথা বলে যেন তিনি তার ক্লাসেরই একটি ছেলে। নিজের আম্মাকে কখনো দেখেনি, আব্বাই তাকে বড় করেছেন একেবারে ছেলেবেলা থেকে। কাজেই দীপুর আব্বাই তার সবচেয়ে বড় বন্ধু।

বিছানায় পা বিছিয়ে বসে ছিলো দীপু, আব্বা ওর পায়ে ঝাঁঝালো গন্ধের কি একটা প্লাস্টার লাগিয়ে দিচ্ছিলেন। আরামে দীপু আহ্‌! উহ্‌ করতে করতে আব্বাকে দিনের পুরো ঘটনা খুলে বলছিল। আব্বা চুপ করে শুনে যাচ্ছেন, ভাল মন্দ কিছুই বলছেন না। দীপু আশা করছিল আব্বা তার পক্ষ নিয়ে বলবেন তারিক যে কাজটা করেছে সেটা অন্যায়। কিন্তু আব্বা একবারও তারিককে দোষ দিয়ে একটি কথাও বললেন না। দীপু বিরক্ত হয়ে বললো, তুমি কি মনে করছো সব দোষ তাহলে আমার?
কে বলল সব দোষ তোর?
তাহলে  –
তাহলে কি?
তারিক যে আমাকে ধোলাই দেবে বলল?
তা আমি কি করব?

দীপু চুপ করে থাকল, সত্যিই তো ওর আব্বা কি করবেন? কিন্তু সমবেদনাটা তো ও পেতে পারে।
তাহলে তুমি বলছ মারামারি করি ওর সাথে?
আমি কিছু বলছি না।
ও যদি করতে চায়?
ইচ্ছে হলে করবি, ইচ্ছে না হলে করবি না, মার খাবি।

দীপু হাল ছেড়ে দিল। খানিক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আমি ওর সাথে গন্ডগোল করতে চাই না, অথচ এমন পাজি ইচ্ছে করে ঝগড়া করে। জান আব্বা, এখনি সিগারেট খাওয়া শুরু করেছে।

তুই কি মনে করিস সিগারেট খেলেই মানুষ পাজি হয়?
হয়ই তো।
তাহলে আমিও পাজি?
যাও! দীপু হেসে বলল, তুমি কত বড় আর ও কত ছোট!
আমিও তো কত ছোট থেকে সিগারেট খেতাম।

দীপু নাম্বার টু‘ জাফর ইকবালের সেরা লেখাগুলোর মধ্যে একটি। একটি ছায়াছবিও তৈরী হয়েছে এই গল্পটি থেকে, যার ইউটিউব লিঙ্কটি নিচে তুলে দিলাম। ছবিটি গল্পটির মত অসাধারণ না হলেও আজকালকার বাংলায়/হিন্দিতে সিনেমার নামে যা হয়, তার চাইতে যে অনেক, অনেক ভালো, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই পাঠকেরা গল্প বা ছায়াছবির মধ্যে যেটাই বেছে নিক, তাই তাদের ভালো লাগবে আশা করি।

Dipu Number Two – Zafar Iqbal

One of Zafar Iqbal’s best works, Dipu Number 2 is a beautiful story about boyhood. Dipu, the protagonist, is like any boy in more ways than one – he is frail, he plays football, and he cries when beaten up by bigger boys. Yet, he is different enough for us to take notice – for one thing, he refuses to tell the teacher the name of the student who bullied him, but not out of fear. I would not like to give the story away, so I will keep it down to this: Dipu, a boy who has to study in a new school every year because his father is always on the move, moves to an umpteenth new place and new school. This time, however, things are different, as he has to face a renewed reality of not having a mother, and deal with a class-bully who only adds severity to the word. What’s more, there is a far more thrilling adventure at hand, of which he has not the slightest idea. So, to the readers, I hope that you will find the story as wonderful as I have, whichever of the pdf and the video you choose.

গল্প ৪০ – আমার বন্ধু রাশেদ / Story 40 – Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend)

Jafar Iqbal-Amar Bandhu Rashed

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal-Amar Bandhu Rashed

আমার বন্ধু রাশেদ – জাফর ইকবাল

 “তুই মশাল মিছিলে যাবি?”
“হ্যা। ছোট বলে হাতে মশাল দিতে চায় না। আগে গিয়ে অনেক সাধাসাধি করতে হবে।”
ফজলু চোখ ছোট ছোট করে বলল, “ইশ! আমি যদি তোর সাথে যেতে পারতাম!”
রাশেদ বলল, “চল যদি যেতে চাস।”
ফজলু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। দিলীপ বলল, “ফজলু যাবে মশাল মিছিলে? তাহলেই হয়েছে। কাকা তোকে পিটিয়ে লম্বা করে দেবে না?”
ফজলু বিষণ্ন মুখে মাথা নাড়ল। আশরাফ গম্ভীর গলায় বলল, “বড় না হওয়া পর্যন্ত মিছিলে যোগ দেওয়া ঠিক না। রাজনৈতিক দল ভুলপথে নিয়ে যাবে।”
রাশেদ আবার বড় মানুষের মত বলল, “পথে তো নামতে হবে আগে, না হলে জানবি কেমন করে কোনটা ভুলপথ কোনটা ঠিক পথ?”

আমরা যখন বড় হই, তখন আর অন্য অনেক কিছুর সাথে সাথে সাহিত্যরুচিও বদলায়। ছোটবেলায় যেসব গল্পগুলো পড়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম, সেইগুলোই হয়ত বড় হওয়ার পর হাস্যকর আর ছেলেমানুষীতে ভরা বলে মনে হয়। অবশ্য এমন সব গল্পও থাকে, যেগুলো সময় বয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মনকে আগের মতই টানে। আমার বন্ধু রাশেদ গল্পটি যখন প্রথম পড়ি, তখন আমি নেহাৎই ছোট। তখনকার কথা ভাবতে গেলে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের এক ছোট্ট শহরে চারজন কিশোরের বন্ধুত্ব আর সাহস নিয়ে লেখা গল্পটি পড়তে পড়তে নিজেও কেমন করে গুপ্তযোদ্ধা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তা মনে পড়ে। এত দিন পর জাফর ইকবালের লেখা এই গল্পটি যে তার অন্যান্য ছোটগল্প খোঁজার সময় হঠাৎ করে খুঁজে পাব, তা ভাবতে পারিনি। কিশোর বয়সে যেমন ‘বড়’ হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তার কিছুটা তো গত ক’বছরে হয়েছি, তাই এত দিন পর ভাল লাগবে কিনা, সেই দ্বিধা নিয়েই গল্পটি পড়তে বসেছিলাম। বুঝতে পারি নি যে এত বছর পরেও গভীর অভিমান নিয়ে শেষ হওয়া এই গল্পটি আমাকে আগের মতোই আবেগাপ্লুত করে তুলবে।

আমার মত পাঠকদেরও গল্পটি পড়ে তেমনই লাগবে, সেই বিশ্বাসে মুক্তিযুদ্ধ আর কৈশোর নিয়ে লেখা একাত্তরের এই অসাধারণ প্রতিচ্ছবিটি তুলে দিলাম – আমার বন্ধু রাশেদ , যা আমার মতে জাফর ইকবালের সেরা লেখাগুলোর মধ্যে একটি, আর যা দুই বাংলার যুদ্ধপরবর্তী প্রজন্মদের জন্যে অবশ্যপাঠ্য।

Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) – Zafar Iqbal

Of the things that change with our growing up, taste in literature is one. Personally, I have always been intrigued by how the same works that many of us so looked forward to reading when we were young seem childish and laughable when we grow up. Some stories, however, still retain the old appeal over time, and I find Zafar Iqbal’s Amar Bandhu Rashed (Rashed, My Friend) to be one such story. Set in a Bangladeshi town during the liberation war of 1971, it narrates the adventures of four boys who risk their lives to liberate their town from the Pakistani military. Rashed, of course, is the leader of the pack, and his wit and bravery represent the romanticized archetype of the young Bangalee freedom fighter who fought for his land. Perhaps the masterwork by Zafar Iqbal, Amar Bandhu Rashed is probably the best introduction for young Bangalees to wartime literature, and a must read for post-war generations of both Bengals.