কবিতা ৫৭ – চিত্ত যেথা ভয়শূন্য / Poem 57 – Chitto Jetha Bhayshunyo (Where the Mind is Without Fear)

Rabindranath Thakur-Chitto Jetha 2

(সম্পাদিত ছবিটির অনিন্দ্যসুন্দর আদি প্রতিরূপটি তুলেছেন জুবায়ের বিন ইকবাল / The original version of this beautiful photo was taken by Zubair bin Iqbal.)

অনেক দিন ধরেই রবিঠাকুরের চিত্ত যেথা ভয়শূন্য কবিতাটি আপলোড করব ভাবছিলাম, কিন্তু করব করব করে এতদিন করা হয়নি। আজ কবিতাটির কথা মনে পড়ায় ইন্টারনেট ঘাঁটতে ঘাঁটতে উপরের এই সুন্দর ছবিটি চোখে পড়ে গিয়ে পংক্তিগুলোর  সাথে জুড়ে দিতেই হল। আলোর পথের যাত্রী… কবিতাটির সাথে বেশ মানিয়ে যায়, না?

এই ওয়েবসাইটের পাঠকদের মধ্যে যারা তরুণ বাংলাদেশি, ‘ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত’ দিয়ে শেষ হওয়া কবিতাটি হয়তো তাদের কাছে বেমানান মনে হতে পারে। রবিঠাকুর যে সময় কবিতাটি লেখেন, তখন ভারতীয় জাতীয়তাবোধের তুলনায় ‘বাংলাদেশ’ এর ধারণাটি ছিল নেহাতই সুপ্ত, তাই সেটি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কবিতাটির ভাবার্থটুকু – সীমান্তের এপার আর ওপার বাংলার সবটুকুই যখন কুসংস্কার, দুর্নীতি আর ধর্মের অপব্যাখ্যার অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন জগৎপিতার কাছে দেশের জন্যে বাঙ্গালীর এর চাইতে সারপূর্ণ প্রার্থনা আর কি হতে পারে? তাই আজ এটি তুলে দেওয়া।

This time, a poem I have been murmuring to myself for a while. Chitto Jetha Bhayshunyo (Where the Mind is Without Fear)should perhaps be the prayer of every patriot for his or her country – and maybe more so for every Bangalee. In a time when communalism, corruption and bigotry reign across nations, these are lines worthy of keeping in your heart.

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি,
যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে
উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে
দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়–
যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,
পৌরুষেরে করে নি শতধা; নিত্য যেথা
তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা–
নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ,
ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (নৈবেদ্য  হতে সংগ্রহীত)

Chitto Jetha Bhayshunyo (Where the mind is without fear)
(Translated by the poet himself)

Where the mind is without fear and the head is held high
Where knowledge is free
Where the world has not been broken up into fragments
By narrow domestic walls
Where words come out from the depth of truth
Where tireless striving stretches its arms towards perfection
Where the clear stream of reason has not lost its way
Into the dreary desert sand of dead habit
Where the mind is led forward by thee
Into ever-widening thought and action
Into that heaven of freedom, my Father, let my country awake.

– Rabindranath Thakur (Collected from Naivedya)

গান ৩৮ – এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে / Song 38 – Ekul Bhange Okul Gare (The River of Fate)

Kazi Nazrul Islam-Nodi E-Kul Bhange (2)

অনেকদিন পর নজরুল, তবে এই লেখাটি বিদ্রোহ নয়, বরং বিশাল এই জগতে মানুষের অসহায়ত্ব আর ক্ষুদ্রতা নিয়ে। গানটার প্রথম লাইন ক’টি জানতাম অনেকদিন ধরেই, কিন্তু এটি যে নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার একটি উদাহারণ, আজ তা জানতে পেরে আমার শ্রদ্ধান্বিত বিস্ময়টুকু পাঠকদের সাথে ভাগ করে নিলাম।

After a long time, a poem by Nazrul, and one of his poignant ones at that. Unlike his more celebrated poems that inspire rebellion, E-kul Bhange O-Kul Gare (The River of Fate) depicts the our weakness and insignificance in the grand scheme of things, and is a wonderful testament to Nazrul’s multifaceted talent as a poet.

এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা

এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা।
সকাল বেলা আমির, রে ভাই (ও ভাই) ফকির, সন্ধ্যাবেলা॥
সেই নদীর ধারে কোন্ ভরসায়
বাঁধলি বাসা, ওরে বেভুল, বাঁধলি বাসা, কিসের আশায়?
যখন ধরলো ভাঙন পেলি নে তুই পারে যাবার ভেলা।
এই তো বিধির খেলা রে ভাই এই তো বিধির খেলা॥
এই দেহ ভেঙে হয় রে মাটি, মাটিতে হয় দেহ
যে কুমোর গড়ে সেই দেহ, তার খোঁজ নিল না কেহ (রে ভাই)।
রাতে রাজা সাজে নাচমহলে
দিনে ভিক্ষা মেগে বটের তলে
শেষে শ্মশান ঘাটে গিয়ে দেখে সবাই মাটির ঢেলা
এই তো বিধির খেলা রে ভাই ভব নদীর খেলা॥

– কাজী নজরুল ইসলাম