গল্প ১০৩ – বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার / Story 103 – Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar (The Amazing Inventions of Scientist Safdar Ali)

Jafar Iqbal-Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি তুলেছিলেন কেনেথ টমাস / Original of the edited photo taken by Kenneth H Thomas)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Jafar Iqbal-Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar

বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার – জাফর ইকবাল

“সফদর আলীর টেবিলের চারপাশে অনেকগুলো খাঁচা, সেখানে অনেকগুলো নানা বয়সের মোরগ-মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সফদর আলী গম্ভীর মুখে একটা মুরগির দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁর হাতে কাগজ-কলম, মুরগির দিকে তাকিয়ে একটু পরপর কি যেন লিখছেন। উঁকি মেরে দেখে মনে হল আধুনিক কবিতা, কারণ তাতে লেখা –

ডান বাম ডান বাম ডান ডান বাম
বাম ডান বাম ডান বাম বাম বাম
বাম বাম ডান বাম বাম ডান বাম…

সফদর আলী খাতা বন্ধ করে বললেন, মোরগের সাথে মানুষের পার্থক্য কি বলেন দেখি?

মাথা চুলকে বললাম, আমরা মোরগকে রান্না করে খাই, মোরগ আমাদের রান্না করে খায় না।

সফদর আলী চিন্তিত মুখে বললেন, আপনাকে নিয়ে এই হচ্ছে মুশকিল, খাওয়া ছাড়া আর কিছু চিন্তা করতে পারেন না।

কথাটা খানিকটা সত্যি, আমি একটু লজ্জা পেয়ে গেলাম।

সফদর আলী বললেন, মানুষের দুটি চোখই সামনে। তাই তাদের বাইনোকুলার-দৃষ্টি। কোনো জিনিসের দিকে তাকিয়ে তারা দূরত্ব বুঝতে পারে। এক চোখ বন্ধ করে সুঁইয়ে সুতো পরানোর চেষ্টা করে দেখবেন কত কঠিন। বোঝা যায় না সুঁইটা কাছে না দূরে। মোরগের দুই চোখ দুই পাশে, তাই দূরত্ব বুঝতে হলে মোরগকে ক্রমাগত মাথা নাড়তে হয়। একবার ডান চোখে জিনিসটা দেখে, একবার বাম চোখে। বেশিরভাগ পাখিও মোরগের মতো। এজন্যে পাখিরাও মাথা নাড়ে। এই দেখেন আমি লিখছিলাম মোরগ কিভাবে তার চোখ ব্যবহার করে।

সফদর আলী তাঁর খাতা খুলে দেখালেন। যেটাকে একটা আধুনিক কবিতা ভেবেছিলাম, সেটা আসলে মোরগের মাথা নাড়ানোর হিসেব। আমার স্বস্তির নিশ্বাস পরে। সফদর আলী এখন কবিতা লেখা শুরু করলে ভারি দুঃখের ব্যাপার হত।”

দূরবীক্ষণ-দৃষ্টিসম্পন্ন মোরগ, গাড়ি চালানো গাছ, গিনিপিগদের বিরিয়ানি রান্না শেখা, আর ভণ্ডপীরকে সায়েস্তা করা – জাফর ইকবালের লেখা সবচেয়ে মজার গল্পগুলোর মধ্যে একটি, যা ঢাকারই কোন গলিতে থাকা একজন আধপাগল বিজ্ঞানীকে নিয়ে লেখা। সহজ বিজ্ঞান আর মজার ঘটনায় ভরা এই গল্পটি সবার জন্য তুলে দিলাম।

Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar (The Amazing Inventions of Scientist Safdar Ali) – Jafar Iqbal

Plants that drive, roosters with binocular vision, guinea-pigs that cook biryani, and fake miracle-men – just the usual things in the life of an eccentric scientist living in some known corner of Dhaka. Bigyani Safdar Ali is possibly one of Jafar Iqbal’s funniest creations, and the scientist next door we would all love to have as a friend. Enjoy! 🙂

ছোটগল্প ৯১ – প্রফেসর শঙ্কু – স্বপ্নদ্বীপ / Short Story 91 – Professor Shanku – Swapnadwip (The Island of Dreams)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Swapnadwip 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Swapnadwip

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – স্বপ্নদ্বীপ – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কুর গল্পগুলো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হওয়ার কারনেই খানিকটা অদ্ভুত, তবে সেগুলোর মধ্যেও যদি অদ্ভুততর কোন গল্পের নাম বলতে হয়, তখন স্বপ্নদ্বীপ এর কথা মনে আসে। স্বপ্নদ্বীপ এর শুরু হয় রোজ রাতে প্রফেসর শঙ্কুর একটি আশ্চর্য জায়গাকে স্বপ্নে দেখা নিয়ে। স্বপ্নটা নাহয় শঙ্কুর ভাষাতেই বর্ণনা করি –

দেখলাম আমি একটা অদ্ভুত জায়গায় গিয়ে পড়েছি। সেখানে ঘরবাড়ি লোকজন কিছুই নেই – আছে শুধু গাছপালা আর বনজঙ্গল। এইসব গাছপালার একটিও আমার চেনা নয়। এদের রংও ভারী অস্বাভাবিক। সবুজ পাতা প্রায় নেই বললেই চলে। তার বদলে নীল লাল বেগুনী কমলা এই ধরনের রং। গাছে ফুল আর ফলও আছে – তার একটাও আমার চেনা নয়। একটা প্রকান্ড  ফুলে অজস্র পাপড়ি আর প্রত্যেকটা পাপড়ির রং আলাদা। আর একটা ফুলের এক-একটা পাপড়ি যেন এক-একটা হাতির কান, আর হাতির কানের মতই সেগুলো মাঝে মাঝে দুলে দুলে উঠছে… আর একটা তরমুজের সাইজের ফল – তার সর্বাঙ্গে গাঁঢ় লাল রোঁয়া, আর সেই রোঁয়ার ভিতর দুটো করে গোল গোল সাদার মাঝখানে কালো ফুটকি। ঠিক যেন মনে হয়, ফলের গায়ে একজোড়া চোখ।

শঙ্কু তখন তার প্রতি-মাধ্যাকর্ষণ ধাতু দিয়ে একটি উড়োজাহাজ বানানোর কাজে ব্যস্ত। কিন্তু তার মধ্যেই প্রতি রাতে এই অদ্ভুত স্বপ্নটি দেখতে দেখতে কেন জানি শঙ্কুর বাইরে কোথাও ঘুরে আশার ইচ্ছে জাগে। একই সময় হঠাৎই পৃথিবীর নানা দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মনীষী রহস্যজনকভাবে একইসাথে নিখোঁজ হয়ে যান। ঘটনাটি শঙ্কুর মনে খটকা জাগালেও উড়োজাহাজ তৈরী আর রাত্রে একই স্বপ্ন বার বার দেখা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করার সময় তার ছিল না। যাই হোক উড়োজাহাজও তৈরী হয়, আর শঙ্কুও তাতে তার প্রতিবেশী অবিনাশবাবুকে নিয়ে উড়াল দেন। তাদের গন্তব্য – অক্ষাংশ ১৬ উত্তর, দ্রাঘিমাংশ ১৩৬ পূর্ব – আর তাতে যাওয়ার কারণ – অজানা, হয়তো স্বপ্নে দেখা বলে।

Professor Shanku’s Stories – Swapnadwip (The Island of Dreams) – Satyajit Ray

Of the adventures of Professor Shanku, Swapnadwip (The Island of Dreams) ranks among the most bizarre. The story starts with Shanku in the thick of building his own airplane – a task that keeps him absorbed even when several prominent people from across the world mysteriously go missing. But busy though he is, Shanku’s sleep is strangely broken by the same dream every night – one about an island with enticingly colourful plants and strangely alive flowers. And despite his work, Shanku finds himself brooding more and more on his nightly visions, which inexplicably fill him with a desire to go off to some faraway land. As if on cue, the airplane gets built, and Shanku sets off on it with his neighbor, Abinash Babu towards the Bay of Bengal. Their destination – a stretch of water at Latitude 16 N and Longitude 136 E, and reason for going there – a desire to go that Shanku himself cannot explain.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Swapnadwip 2

ছোটগল্প ৫০ – একটি তুলসী গাছের কাহিনী / Short Story 50 – Ekti Tulsi Gachher Kahini (The Story of a Tulsi Plant)

Syed Waliullah-Ekti Tulsi Gachher Kahini(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে অতনু মাইতির ফ্লিকার পৃষ্ঠাতে / Original version of the Edited Photo taken from Atanu Maity’s Flickr page)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Syed Waliullah-Ekti Tulsi Gachher Kahini

একটি তুলসী গাছের কাহিনী – সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ

১৯৪৭ সালে যখন অবিভক্ত ভারত ভেঙ্গে স্বাধীন ভারত আর পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়, সেসময় অনেক হিন্দু বাঙ্গালীই আজকের বাংলাদেশ, যা সেসময় পূর্ব পাকিস্তান ছিল, ছেড়ে ভারত চলে যান। একইসময় ভারত থেকে অনেক মুসলিমরাও পাড়ি দেন উল্টোদিকে। নিজেদের দেশ ছেড়ে আসা এসব মানুষদের অনেকেই ঠাঁই নেন অপরপক্ষের ফেলে যাওয়া বাড়িঘরে, যেগুলিতে তখনো আদি বাসিন্দাদের সংস্কৃতির ছাপ থেকে গিয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের কোনো এক প্রান্তে তেমনই একটি বাড়ির গল্প আজ – বিখ্যাত লেখক সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ এর কলমে।

Ekti Tulasi Gachher Kahini (The Story of a Tulsi Plant) – Syed Waliullah

The partition of British India in 1947 saw massive migration of Bangalee Hindus from what was then East Pakistan to India, and a flow of Muslims in the opposite direction. Many of these migrants found refuge in the homes abandoned by those who had left – places that still retained vestiges of the lives of the original inhabitants. Syed Waliullah’s Ekti Tulasi Gachher Kahini (A Tulsi Plant’s Tale) is a story of one such house in a corner of what is now Bangladesh, and one in which the absence of what once was is equally powerful as what is now.

কবিতা ১৪ – তালগাছ / Poem 14 – Taal Gachh (The Palmyra Tree)

Rabindranath Thakur-Taal Gachh (1)

একটি তাল গাছের আকাশ-কুসুম ভাবনা, কিংবা হয়তো আমার বা আপনার জীবনেরই গল্প। আপাতদৃষ্টিতে হাল্কা অথচ অসাধারণ একটি কবিতা। রবিঠাকুরের কলমে।

Dreams, seemingly of a palm tree, but in truth, of us all… A playful rhyme for little ones, with a meaning deep enough for the biggest among us. Who else but Rabindranath Thakur could have penned this?

তালগাছ

তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে।
মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়,
একেবারে উড়ে যায়
কোথা পাবে পাখা সে ।

তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে
গোল গোল পাতাতে
ইচ্ছাটি মেলে তার
মনে মনে ভাবে বুঝি ডানা এই,
উড়ে যেতে মানা নেই
বাসাখানি ফেলে তার ।
সারাদিন ঝরঝর থত্থর
কাঁপে পাতা পত্তর
ওড়ে যেন ভাবে ও,
মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে
তারাদের এড়িয়ে
যেন কোথা যাবে ও।

তারপরে হাওয়া যেই নেমে যায়
পাতা কাঁপা থেমে যায়,
ফেরে তার মনটি
যেই ভাবে মা যে হয় মাটি তার,
ভালো লাগে আরবার
পৃথিবীর কোণটি।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শিশু ভোলানাথ হতে সংগ্রহীত)

A modified (and hence cruder) version of a translation from Indrani Ghose’s blog, follows.

Taal Gachh (The Palm Tree)

On one leg stands the palm tree
Over the canopy
Peeping into the sky
Wishing to rise through the clouds,
And fly.
Oh if it only had wings!

So on round leaves on its head
It spreads its desire
Like wings in a dream
Now nothing can stop it from flying
And leaving its home behind.
And all day the leaves quiver in the wind
As if in flight in its mind
To a place beyond the stars.

But when the wind stops
And the leaves fall still
The flight of fancy returns to land,
its mother.
And it loves the Earth once again.

 – Rabindranath Thakur

কবিতাগুচ্ছ ১১ – রবীন্দ্র অণুকাব্য (লেখন) / Anthology 11 – Rabindra Anukabya (Lekhan) (Epigrams and Verses by Rabindranath Thakur)

Rabindranath Thakur-Asim Akash (1)

‘রবীন্দ্রনাথ’ শব্দটি শুনলেই আমাদের অনেকেই গুরুগম্ভীর সাহিত্যের কথা ভাবি। অথচ কবিগুরু যে কত ছোট ছোট অথচ গভীর অর্থপূর্ণ কাব্য রচনা করেছেন, তা আমাদের অনেকেই খেয়ালে রাখিনা। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা হয়ত আজ সেসব অনুকাব্যগুলোকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তোলে, তাই রবিঠাকুরের কিছু অনুকাব্য নিয়ে এই পোস্ট। অন্যসব পোস্টগুলোর চাইতে এটি একটু আলাদা, কারণ এটি স্থির নয়, অন্য পোস্টগুলোতে লেখা তোলার ফাঁকে ফাঁকে এটিতে আমি নতুন নতুন কবিতা তুলব, কখনো কখনো অনুবাদ আর কখনো কখনো ছবি সহ। কবিগুরুর হাতের লেখাও কিছু থাকবে এতে। পাঠকদের কাছে এই প্রয়াসটুকু ভাল লাগবে আশা করি।

The word ‘Rabindranath’ often makes many a Bangalee think about serious literature – not unreasonably, as many of his works make for more than heavy reading. However, such thought perhaps arises because many of us Bangalee millennials remain unaware of the short verses and epigrams which he wrote. Delightful and profound in their own right, they are perhaps even more relevant in our time constrained modern life. Hence this post. This one is a little different from the other ones, as I plan to periodically add fresh works by the poet to it, with occasional translations and somewhat relevant images. I hope the readers will find my effort worth their time.

লেখন  হতে তুলে দেওয়া কিছু অনুকাব্য / Some Verses from Lekhan

“এই লেখনগুলি সুরু হয়েছিল চীনে জাপানে। পাখায় কাগজে রুমালে কিছু লিখে দেবার জন্যে লোকের অনুরোধে এর উৎপত্তি। তারপরে স্বদেশে ও অন্য দেশেও তাগিদ পেয়েছি। এমনি করে এই টুকরো লেখাগুলি জমে উঠ্‌ল। এর প্রধান মূল্য হাতের অক্ষরে ব্যক্তিগত পরিচয়ের। সে পরিচয় কেবল অক্ষরে কেন, দ্রুতলিখিত ভাবের মধ্যেও ধরা পড়ে… অন্যমনস্কতায় কাটাকুটি ভুলচুক ঘটেছে। সে সব ত্রুটিতেও ব্যক্তিগত পরিচয়েরই আভাস রয়ে গেল॥

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (হাঙ্গেরী, ১৯২৬)

“The lines in the following pages had their origin in China and Japan where the author was asked for his writings on fans or pieces of silk.”

Rabindranath Thakur (Hungary, 1926)

(১/1)

Rabindranath Thakur-Fireflies (2)

স্বপ্ন আমার জোনাকি ,
দীপ্ত প্রাণের মণিকা ,
স্তব্ধ আঁধার নিশীথে
উড়িছে আলোর কণিকা ॥

My fancies are fireflies
specks of living light—
twinkling in the dark.

(Translated by the poet himself)

(২/2)

আমার লিখন ফুটে পথধারে
ক্ষণিক কালের ফুলে ,
চলিতে চলিতে দেখে যারা তারে
চলিতে চলিতে ভুলে ॥

The same voice murmurs
in these desultory lines
which is born in wayside pansies
letting hasty glances pass by.

(Translated by the poet himself)

(৩/3)

Rabindranath Thakur-Projapoti (2)

প্রজাপতি সেতো বরষ না গণে ,
নিমেষ গণিয়া বাঁচে ,
সময় তাহার যথেষ্ট তাই আছে ॥

The butterfly does not count years
but moments
and therefore has enough time.

(Translated by the poet himself)

(১৩/13)

দুঃখের আগুন কোন্ জ্যোতির্ময় পথরেখা টানে
বেদনার পরপার পানে॥

The fire of pain traces for my soul
a luminous path across her sorrow.

(Translated by the poet himself)

(১৪/14)

দেবমন্দির-আঙিনাতলে শিশুরা করেছে মেলা।
দেবতা ভোলেন পূজারি-দলে, দেখেন শিশুর খেলা॥

From the solemn gloom of the temple
children run out to sit in the dust,
God watches them play and forgets the priest.

(Translated by the poet himself)

(১৬/16)

Rabindranath Thakur-Akash Dharare

আকাশ ধরারে বাহুতে বেড়িয়া রাখে,
তবুও আপনি অসীম সুদূরে থাকে॥

Though he holds in his arms the earth-bride,
the sky is ever immensely away.

(Translated by the poet himself)

(১৭/17)

Rabindranath Thakur-Dur Eshechhilo Kachhe

          দূর এসেছিল কাছে–
ফুরাইলে দিন, দূরে চলে গিয়ে আরো সে নিকটে আছে।

One who was distant came near to me in the morning,
and still nearer when taken away by night.

(Translated by the poet himself)

(২০/20)

দাঁড়ায়ে গিরি, শির
মেঘে তুলে,
দেখে না সরসীর
বিনতি।
অচল উদাসীর
পদমূলে
ব্যাকুল রূপসীর
মিনতি॥

The lake lies low by the hill,
a tearful entreaty of love
at the foot of the inflexible.

(Translated by the poet himself)

(২২/22)

Rabindranath Thakur-Giri Megh (2)

মেঘ সে বাষ্পগিরি,
গিরি সে বাষ্পমেঘ,
কালের স্বপ্নে যুগে যুগে ফিরি ফিরি
এ কিসের ভাবাবেগ॥

Clouds are hills in vapour,
hills are clouds in stone
– a phantasy of time’s dream.

(Translated by the poet himself)

(২৫/25)

Rabindranath Thakur-Dui Tire Tar

দুই তীরে তার বিরহ ঘটায়ে
সমুদ্র করে দান
অতল প্রেমের অশ্রুজলের গান॥

The two separated shores mingle their voices
in a song of unfathomed tears.

(Translated by the poet himself)

(৩০/30)

হে আমার ফুল, ভোগী মূর্খের মালে
না হ’ক তোমার গতি,
এই জেনো তব নবীন প্রভাতকালে
আশিস তোমার প্রতি॥

(৩৬/36)

Rabindranath Thakur-Matir Prodip (2)

মাটির প্রদীপ সারা দিবসের অবহেলা লয় মেনে,
রাত্রে শিখার চুম্বন পাবে জেনে॥

The lamp waits through the long day of neglect,
For the flame’s kiss in the night.

(Translated by the poet himself)

(৫৯/59)

Rabindranath Thakur-Kuasha Giri (1)

কুয়াশা যদি বা ফেলে পরাভবে ঘিরি
তবু নিজমহিমায় অবিচল গিরি॥

The mountain remains unmoved
by its seeming defeat by the mist.

(Translated by the poet himself)

(৬০/60)

Rabindranath Thakur-Parbatamala (2)

পর্বতমালা আকাশের পানে চাহিয়া না কহে কথা,
অগমের লাগি ওরা ধরণীর স্তম্ভিত ব্যাকুলতা॥

Hills are the earth’s gesture of despair
for the unreachable.

(Translated by the poet himself)

(৬১/61)

একদিন ফুল দিয়েছিলে , হায় ,
কাঁটা বিঁধে গেছে তার ।
তবু , সুন্দর , হাসিয়া তোমায়
করিনু নমস্কার ॥

Though the thorn in thy flower pricked me,
O Beauty,
I am grateful.

(Translated by the poet himself)

(৬২/62)

হে বন্ধু , জেনো মোর ভালোবাসা ,
কোনো দায় নাহি তার —
আপনি সে পায় আপন পুরস্কার ॥

Let not my love be a burden on you, my friend,
know that it pays itself.

(Translated by the poet himself)

(৬৩/63)

স্বল্প সেও স্বল্প নয়, বড়োকে ফেলে ছেয়ে।
দু-চারিজন অনেক বেশি বহুজনের চেয়ে॥

The world knows that the few
are more than the many.

(Translated by the poet himself)

(৬৬/66)

Rabindranath Thakur-Budbud (2)

বুদ্বুদ  সে তো বদ্ধ আপন ঘেরে
শূন্যে মিলায়, জানে না সমুদ্রেরে॥

In its swelling pride
the bubble doubts the truth of the sea,
and laughs and bursts into emptiness.

(Translated by the poet himself)

(৬৮/68)

Rabindranath Thakur-Megher Dal

মেঘের দল বিলাপ করে
আঁধার হল দেখে ,
ভুলেছে বুঝি নিজেই তারা
সূর্য দিল ঢেকে ॥

My clouds, sorrowing in the dark,
forget that they themselves
have hidden the sun.

(Translated by the poet himself)

(৭১/71)

Rabindranath Thakur-Asim Akash (1)

অসীম আকাশ শূন্য প্রসারি রাখে,
হোথায় পৃথিবী মনে মনে তার
অমরার ছবি আঁকে॥

The sky remains infinitely vacant
for earth there to build its heaven with dreams.

(Translated by the poet himself)

(৭৫/75)

আকর্ষণগুণে প্রেম এক ক’রে তোলে।
শক্তি শুধু বেঁধে রাখে শিকলে শিকলে॥

Power said to the world, “You are mine.
The world kept it prisoner on her throne.
Love said to the world, “I am thine.”
The world gave it the freedom of her house.

(Inferred translation by the poet himself)

(৭৬/76)

Rabindranath Thakur-Mahataru Bahe (2)

মহাতরু বহে
বহু বরষের ভার।
যেন সে বিরাট
এক মুহূর্ত তার॥

The tree bears its thousand years
as one large majestic moment.

(Translated by the poet himself)

(৮০/80)

স্তব্ধ অতল শব্দবিহীন মহাসমুদ্রতলে
বিশ্ব ফেনার পুঞ্জ সদাই ভাঙিয়া জুড়িয়া চলে॥

The world is the ever-changing foam
that floats on the surface of a sea of silence.

(Translated by the poet himself))

(৮২/82)

গোঁয়ার কেবল গায়ের জোরেই বাঁকাইয়া দেয় চাবি,
শেষকালে তার কুড়াল ধরিয়া করে মহা দাবাদাবি॥

The clumsiness of power spoils the key
and uses the pickaxe.

(Translated by the poet himself)

(৮৬/86)

Rabindranath Thakur-Mor Kagojer Khelar Nouka 2

মোর কাগজের খেলার নৌকা ভেসে চলে যায় সোজা
বহিয়া আমার অকাজ দিনের অলস বেলার বোঝা॥

These paper boats of mine are meant to dance
on the ripple of hours,
and not to reach any destination.

(Translated by the poet himself)

(৯৬/96)

Rabindranath Thakur-Shishir Rabire (1)

শিশির রবিরে শুধু জানে
বিন্দুরূপে আপন বুকের মাঝখানে॥

The dew-drop knows the sun
only within its own tiny orb.

(Translated by the poet himself)

(৯৭/97)

Rabindranath Thakur-Apon Asim Nishfalatar 1

আপন অসীম নিষ্ফলতার পাকে
মরু চিরদিন বন্দী হইয়া থাকে॥

The desert is imprisoned in the wall
of its unbounded barrenness.

(Translated by the poet himself)

(১২২/122)

???????????????????????????????

সাগরের কানে জোয়ার-বেলায়
ধীরে কয় তটভূমি,
“তরঙ্গ তব যা বলিতে চায়
তাই লিখে দাও তুমি।’

সাগর ব্যাকুল ফেন-অক্ষরে
যতবার লেখে লেখা
চির-চঞ্চল অতৃপ্তিভরে
ততবার মোছে রেখা ॥

The shore whispers to the sea:
“Write to me what thy waves struggle to say.”
The sea writes in foam again and again
and wipes off the lines in a boisterous despair.

(Translated by the poet himself)

(১৩৪/134)

Rabindranath Thakur-Jibon Khatar Anek Patai

জীবন-খাতার অনেক পাতাই
এমনিতরো শূন্য থাকে;
আপন মনের ধেয়ান দিয়ে
পূর্ণ করে লও না তাকে।
সেথায় তোমার গোপন কবি
রচুক আপন স্বর্গছবি,
পরশ করুক দৈববাণী
সেথায় তোমার কল্পনাকে॥

(১৫৭/157)

Rabindranath Thakur-Chand Kahe (1)

চাঁদ কহে “শোন্‌ শুকতারা,
রজনী যখন হল সারা
যাবার বেলায় কেন শেষে
দেখা দিতে হায় এলি হেসে,
আলো আঁধারের মাঝে এসে
করিলি আমায় দিশেহারা।”

Before he sets,
the Moon yearningly calls out
to the Morning Star
“Why, at this moment of parting,
Did thee bind me
with thy smile?”

(১৫৯/159)

Rabindranath Thakur-Bhebechhinu Goni Goni Labo (1)

ভেবেছিনু গনি গনি লব সব তারা —
গনিতে গনিতে রাত হয়ে যায় সারা ,
বাছিতে বাছিতে কিছু না পাইনু বেছে ।
আজ বুঝিলাম , যদি না চাহিয়া চাই
তবেই তো একসাথে সব-কিছু পাই —
সিন্ধুরে তাকায়ে দেখো , মরিয়ো না সেঁচে ॥

I had once sought to count all the stars
but the night sky swirled into the dawn
past my never-ending counts
leaving my designs fruitless in her wake.
I wish I had realized then
that her stars had all been mine alone
to own with a single, wondering gaze,
but like a fool, I had picked and sorted.
Know not to do the same, my friend.

(১৬৮/168)

আকাশ কভু পাতে না ফাঁদ
কাড়িয়ে নিতে চাঁদে,
বিনা বাঁধনে তাই তো চাঁদ,
নিজেরে নিজে বাঁধে।

(১৭৪/174)

Rabindranath Thakur-Andhar Ekere Dekhe 1

আঁধার একেরে দেখে একাকার ক’রে।
আলোক একেরে দেখে নানা দিক ধ’রে॥

Darkness smothers the one into uniformity
Light reveals the one in its multifariousness.

(Translated by the poet himself)

ছোটগল্প ২৬ – সেপ্টোপাসের খিদে / Short Story 26 – Septopus er Khide (Hunger of the Septopus)

Septopus er Khide

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Septopus er khide

সেপ্টোপাসের খিদে – সত্যজিৎ রায়

এবার সত্যজিৎ রায়ের আরেকটি গল্প – গল্পের উত্তম পুরুষ (বর্ণনাকারী) যুবক বয়সে যখন শিকারী ছিলেন, সেসময় আসামে এক শিকার করতে গিয়ে কান্তিবাবু নামের এক উদ্ভিদবিজ্ঞানীর (বটানিস্ট) সাথে তার আলাপ হয়। সেই কান্তিবাবুই হঠাৎ দশ বছর পরে অত্যন্ত করুণ ও সংশয়াকুল অবস্থায় তার কলকাতার বাড়িতে এসে হাজির হন, পুরোনো আলাপীকে তার বন্দুকটি নিয়ে একবার তার বাড়িতে আসার অনুরোধ করতে।

Septopus er Khide (Hunger of the Septopus) – Satyajit Ray

Another story by Ray – The story begins with the unexpected arrival of an acquaintance at the house of the narrator. The distressed man, a botanist whom the narrator had met during a hunting trip in Assam ten years earlier, requests the latter to go to his place, and to bring a gun, just in case.