গল্প ১০৫ – ফেলুদা – কৈলাসে কেলেঙ্কারী / Story 105 – Feluda – Kailash e Kelenkari (A Killer In Kailash)

Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari 1পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari

ফেলুদার গল্প – কৈলাসে কেলেঙ্কারী – সত্যজিৎ রায়

অনেকদিন পর এই সাইটে আবার ফেলুদা – আর এবার এমনই একটি গল্পে, যা এতদিনের বিরতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার মতই রহস্য-রোমাঞ্চে ঠাসা। ফেলুদার গল্পগুলোর বেশিরভাগই সত্যজিৎ রায় লিখেছিলেন কোন ব্যক্তিবিশেষ কিংবা পরিবারকে ঘিরে কোন রহস্যকে নিয়ে – যেমনটা আমরা পাই এবার কাণ্ড কেদারনাথে কিংবা ছিন্নমস্তার অভিশাপ এর মত গল্পগুলোতে। কৈলাসে কেলেঙ্কারী সেদিক দিয়ে একটু আলাদা – এই গল্পে ফেলুদাকে লড়তে হয় এমনই একটি চক্রের সাথে, যাদের নাগাল ভারতের প্রতিটি কোণে, আর যাদের কাছ থেকে নিজেকে ও তোপসেদের মুক্ত রাখতে প্রায় পুরো গল্পজুড়েই ফেলুদাকে থাকতে হয় আমাদের অগোচরে। পাঠকদের একটু সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্যে গল্প থেকে দুটো অনুচ্ছেদ তুলে দেই –

“কেন মুশকিল কেন?… তবে একটা কথা বলি – একটা অ্যাডভাইস, অ্যাজ এ ফ্রেন্ড – এই সব র‍্যাকেটের পেছনে মাঝে মাঝে এক একটা দল থাকে – গ্যাং – এবং তারা বেশ পাওয়ারফুল হয়। গায়ের জোর বলছি না। পয়সার জোর। পোজিশনের জোর। শিক্ষিত অবস্থাপন্ন লোকেরা যখন নোংরা কাজে নামে, তখন সাধারণ ক্রিমিনালদের চেয়ে তাদের বাগে আনা অনেক বেশি শক্ত হয়, জানেন তো?”

আর এটা ফেলুদার –

“(এটা) আরও বেশি প্রেশাস। চুনি পান্না পৃথিবীতে হাজার হাজার আছে, ভবিষ্যতে সংখ্যায় আরও বাড়বে। কিন্তু কৈলাসের মন্দির বা সাঁচির স্তূপ বা এলিফ্যান্টার গুহা – এসব একটা বই দুটো নেই। হাজার-দু হাজার বছর আগে আমাদের আর্ট যে হাইটে উঠেছিল সে হাইটে ওঠার কথা আজকের আর্টিস্ট ভাবতেই পারে না। সুতরাং সে যুগের আর্ট দেশে যা আছে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যারা তাকে নষ্ট করতে চায় তারা ক্রিমিন্যাল। আমার মতে ভূবনেশ্বরের যক্ষীকে হত্যা করা হয়েছে। যে করেছে তার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।”

অমূল্য প্রত্নসম্পদ, সঙ্ঘবদ্ধ পাচারকারী ও গোয়েন্দা প্রদোষ চন্দ্র মিত্র… তিন ‘প’তে মিলে ফেলুদার আরেকটি দুর্দান্ত গল্প – কৈলাসে কেলেঙ্কারী – পাঠকদের জন্যে।

Feluda’s Adventures – Kailash e Kelenkari (A Killer in Kailash)

A long break later, a Feluda upload again – and this time, a story that is certainly worth the long wait that has been for some of you. While most of Feluda’s stories were centred on mysterious families and/or individuals (Chinnamaster Abhishap and Ebar Kando Kedarnath e are cases in point) Kailash e Kelenkari (A Killer in Kailash) is a big departure from that trend – in this story, our favorite sleuth faces a syndicate that not only is pan-Indian in its reach, but also murdurous in its smuggling of ancient Indian artifacts abroad. Interestingly, unlike Feluda’s other adventures, this story is one with a somewhat nationalistic tone – a generous dose of James Bond added to the usual Holmesian narrative, if you ask me… but far from diluting the plot, that only adds to its thrill. ‘For your eyes only’, therefore, this upload. Enjoy!

Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari 2

গল্প ১০৩ – বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার / Story 103 – Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar (The Amazing Inventions of Scientist Safdar Ali)

Jafar Iqbal-Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি তুলেছিলেন কেনেথ টমাস / Original of the edited photo taken by Kenneth H Thomas)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Jafar Iqbal-Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar

বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার – জাফর ইকবাল

“সফদর আলীর টেবিলের চারপাশে অনেকগুলো খাঁচা, সেখানে অনেকগুলো নানা বয়সের মোরগ-মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সফদর আলী গম্ভীর মুখে একটা মুরগির দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁর হাতে কাগজ-কলম, মুরগির দিকে তাকিয়ে একটু পরপর কি যেন লিখছেন। উঁকি মেরে দেখে মনে হল আধুনিক কবিতা, কারণ তাতে লেখা –

ডান বাম ডান বাম ডান ডান বাম
বাম ডান বাম ডান বাম বাম বাম
বাম বাম ডান বাম বাম ডান বাম…

সফদর আলী খাতা বন্ধ করে বললেন, মোরগের সাথে মানুষের পার্থক্য কি বলেন দেখি?

মাথা চুলকে বললাম, আমরা মোরগকে রান্না করে খাই, মোরগ আমাদের রান্না করে খায় না।

সফদর আলী চিন্তিত মুখে বললেন, আপনাকে নিয়ে এই হচ্ছে মুশকিল, খাওয়া ছাড়া আর কিছু চিন্তা করতে পারেন না।

কথাটা খানিকটা সত্যি, আমি একটু লজ্জা পেয়ে গেলাম।

সফদর আলী বললেন, মানুষের দুটি চোখই সামনে। তাই তাদের বাইনোকুলার-দৃষ্টি। কোনো জিনিসের দিকে তাকিয়ে তারা দূরত্ব বুঝতে পারে। এক চোখ বন্ধ করে সুঁইয়ে সুতো পরানোর চেষ্টা করে দেখবেন কত কঠিন। বোঝা যায় না সুঁইটা কাছে না দূরে। মোরগের দুই চোখ দুই পাশে, তাই দূরত্ব বুঝতে হলে মোরগকে ক্রমাগত মাথা নাড়তে হয়। একবার ডান চোখে জিনিসটা দেখে, একবার বাম চোখে। বেশিরভাগ পাখিও মোরগের মতো। এজন্যে পাখিরাও মাথা নাড়ে। এই দেখেন আমি লিখছিলাম মোরগ কিভাবে তার চোখ ব্যবহার করে।

সফদর আলী তাঁর খাতা খুলে দেখালেন। যেটাকে একটা আধুনিক কবিতা ভেবেছিলাম, সেটা আসলে মোরগের মাথা নাড়ানোর হিসেব। আমার স্বস্তির নিশ্বাস পরে। সফদর আলী এখন কবিতা লেখা শুরু করলে ভারি দুঃখের ব্যাপার হত।”

দূরবীক্ষণ-দৃষ্টিসম্পন্ন মোরগ, গাড়ি চালানো গাছ, গিনিপিগদের বিরিয়ানি রান্না শেখা, আর ভণ্ডপীরকে সায়েস্তা করা – জাফর ইকবালের লেখা সবচেয়ে মজার গল্পগুলোর মধ্যে একটি, যা ঢাকারই কোন গলিতে থাকা একজন আধপাগল বিজ্ঞানীকে নিয়ে লেখা। সহজ বিজ্ঞান আর মজার ঘটনায় ভরা এই গল্পটি সবার জন্য তুলে দিলাম।

Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar (The Amazing Inventions of Scientist Safdar Ali) – Jafar Iqbal

Plants that drive, roosters with binocular vision, guinea-pigs that cook biryani, and fake miracle-men – just the usual things in the life of an eccentric scientist living in some known corner of Dhaka. Bigyani Safdar Ali is possibly one of Jafar Iqbal’s funniest creations, and the scientist next door we would all love to have as a friend. Enjoy! 🙂