কবিতা ৭১ – আদর্শ ছেলে / Poem 71 – Adarsha Chhele (‘The Ideal Boy’)

এই সাইটে এতদিন যাদের লেখা তুলেছি, তাদের মধ্যে নারী সাহিত্যিক কেউ ছিলেন না – সেই ভুলটুকু শোধরাতে তাই আজকের এই পোস্ট। কুসুমকুমারী দাশকে হয়তো পাঠকদের কেউ কেউ জীবনানন্দ দাশের মা হিসেবে চিনবেন। কিন্তু রত্নগর্ভা এই নারী নিজেও ভালই সাহিত্যচর্চা করতেন, আর নিজগুণেই কবি বলে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। কুসুমকুমারীর লেখা আদর্শ ছেলে  কবিতাটি দুই বাংলার কমবেশি সবারই ছোট বেলায় পড়ে থাকার কথা – আমার তো এখনো মনে আছে ! কবিতাটি লেখা হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে, কিন্তু তখন আর বর্তমানের মধ্যেকার সময়ে আদর্শ ছেলেদের (আর মেয়েদের) জন্য সমাজের যে হাহাকার, তা তো আর মেটেনি। প্রলম্বিত অপেক্ষার মধ্যে আমাদের কিশোর ও যুব-সমাজ কেমন হওয়া উচিত তা যাতে আমরা ভুলে না যাই, সেজন্যেই এই কবিতাটি তুলে দেওয়া – কুসুমকুমারী দেবীর আদর্শ ছেলে

In a way of correcting what has been a glaring omission in this site, a poem written by a woman, and one that is perhaps as well recited as any Bangla poem. Some readers might identify Kusumkumari Das as the mother of the famous poet Jibanananda Das, but the lady herself was a wonderful poet in her own right. Her most famous poem, Adarsha Chhele (The Ideal Boy), was written almost a century ago, but even after all these years, it remains a piece that almost every Bangalee learns to recite at an impressionable age – I still remember a few lines myself! A summary of the qualities which our society seeks within its youth, the poem remains as relevant as ever. So in a manner of motivating, and as an honor to the poet, the poem is presented below.

আদর্শ ছেলে

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?
মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন
“মানুষ হইতে হবে” — এই তার পণ,
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান,
নাই কি শরীরে তব রক্ত মাংস প্রাণ ?
হাত, পা সবারই আছে মিছে কেন ভয়,
চেতনা রয়েছে যার সে কি পড়ে রয় ?
সে ছেলে কে চায় বল কথায়-কথায়,
আসে যার চোখে জল মাথা ঘুরে যায় |
সাদা প্রাণে হাসি মুখে কর এই পণ —
“মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন” |
কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার
সবারি রয়েছে কাজ এ বিশ্ব মাঝার,
হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান
তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ |

– কুসুমকুমারী দাশ

 

Advertisements

গল্প ১১৭ – ক্যাম্প / Story 117- Camp

jafar-iqbal-camp

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal – Camp

ক্যাম্প – জাফর ইকবাল

একটি যুদ্ধ, দুটি পক্ষ, কয়েকটি দৃষ্টিকোণ, আর একটি মৃত্যু – ক্যাম্প  মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ নিয়ে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা আরেকটি উপন্যাস। পাঠকদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি, তারা নিশ্চই জাফর ইকবালকে চেনেন, আর হয়তো এও জানেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি পিতৃহারা হয়েছিলেনক্যাম্প উপন্যাসটি তাই যতটা কাল্পনিক, ততটাই বাস্তব এবং ব্যক্তিগত। যতদূর জানি, একাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে ৪৭ বছরের রাজনীতি আর দলবাজির প্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনেকটাই সরলীকরণের বলি হয়েছে, যেকারণে আজ যুদ্ধের দিনগুলোর চরিত্রগুলোকে হয় সাদা কিংবা কালোর কাতারে ফেলার প্রবণতা বেশ প্রবল। কিন্তু ক্যাম্প পড়লে বোঝা যায় যে সেই সময়কার বাস্তবতা ছিল অনেকটাই জটিল, আর এও বোঝা যায় যে একাত্তরের খলনায়ক ছিল যারা, আদর্শগত ভাবে ভিন্ন হলেও তাদের মত অনেকেই দুই বাংলায়ই আজও বর্তমান।

Camp – Zafar Iqbal

A war, two sides, a few perspectives, and a death – Camp is another story by Muhammad Jafar Iqbal that portrays lives during the liberation war of Bangladesh. Readers who are Bangladeshi need no introduction to Jafar Iqbal; for those who do not know, the writer lost his father during atrocities committed by the Pakistani army during the war. For a fiction, Camp is therefore a very real account, and more – it is personal.

From the little I know, 47 years of politics and factionalism have left the war-time history in post-war Bangladesh grossly oversimplified. Consequently, the tendency among many these days is to portray characters from those times in either black or white. Camp, however, reveals them to us in shades of gray, and makes us realize the worrying truth that even after all this time, people just like them still linger among us.

কবিতা ২১ – সংকল্প / Poem 21 – Sankalpa (Resolution)

এবার নজরুলের একটি কবিতা, যা প্রতিটি অনুসন্ধিৎসু বাঙ্গালী তরুণ-তরুণীরই জানা উচিত। ঘরে-অফিসে বসে যারা পরনিন্দা-পরচর্চা করে সময় কাটান, তাদের জন্যে না, বরং দৃপ্ত-দৃঢ় জ্ঞানপিপাসুদের জন্যে নজরুলের লেখা এই সংকল্প।

This time, a resolution by Nazrul. Not for those who gossip or the faint of heart, but for those who are curious and firm in their pursuit of knowledge. Sankalpa (Resolution) is very much a poem for the youth.

সংকল্প

থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে, –
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছে তারা কেমন করে,
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে,
কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরন-যন্ত্রণারে।।

কেমন করে বীর ডুবুরি সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে,
কেমন করে দুঃসাহসী চলছে উড়ে স্বর্গপানে।
জাপটে ধরে ঢেউয়ের ঝুঁটি
যুদ্ধ-জাহাজ চলছে ছুটি,
কেমন করে আনছে মানিক বোঝাই করে সিন্ধু-যানে,
কেমন জোরে টানলে সাগর উথলে ওঠে জোয়ার-বানে।

কেমন করে মথলে পাথার লক্ষ্মী ওঠেন পাতাল ফুঁড়ে,
কিসের আভিযানে মানুষ চলছে হিমালয়ের চুড়ে।
তুহিন মেরু পার হয়ে যায়
সন্ধানীরা কিসের আশায়;
হাউই চড়ে চায় যেতে কে চন্দ্রলোকের অচিন পুরে;
শুনবো আমি, ইঙ্গিত কোন ‘মঙ্গল’ হতে আসছে উড়ে।।

কোন বেদনায় টিকি কেটে চণ্ডু-খোর এ চীনের জাতি
এমন করে উদয়-বেলায় মরণ-খেলায় ওঠল মাতি।
আয়র্লণ্ড আজ কেমন করে
স্বাধীন হতে চলছে ওরে;
তুরস্ক ভাই কেমন করে কাটল শিকল রাতারাতি!
কেমন করে মাঝ-গগনে নিবল গ্রীসের সূর্য-বাতি।।

রইব না কো বদ্ধ খাঁচায়, দেখব এ-সব ভুবন ঘুরে-
আকাশ-বাতাস চন্দ্র-তারায় সাগর-জলে পাহাড়-চুঁড়ে।
আমার সীমার বাঁধন টুটে
দশ দিকেতে পড়ব লুটে;
পাতাল ফেড়ে নামব নীচে, ওঠব আবার আকাশ ফুঁড়ে;
বিশ্ব- জগৎ দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।।

– কাজী নজরুল ইসলাম