গল্প ৯০ – ফেলুদা – রবার্টসনের রুবি / Story 90 – Feluda – Robertson er Ruby (Robertson’s Ruby)

Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby (1)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby

ফেলুদার গল্প – রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

আরেকবার ফেলুদা, তবে এটি পাহাড় কিংবা নগর নয়, বরং বাংলারই বীরভূমকে পটভূমি করে লেখা। গল্পটি যার পূর্বপুরুষের পান্নাকে (রুবি) নিয়ে, সেই রবার্টসনের সাথে ফেলুদাদের প্রথম পরিচয় হয় বীরভূমে যাওয়ার ট্রেনে, যা পরে সখ্যে গড়ায়। ভারতপ্রেমী রবার্টসন তার আলোকচিত্রী বন্ধু টম ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে বীরভূম যাচ্ছিলেন পোড়ামাটির স্থাপত্যকলার স্থানীয় কিছু নিদর্শন দেখতে। তবে তার কাছে যে ভারত থেকে তারই ব্রিটিশ পূর্বপুরুষের লুঠ করা এক বহুমূল্য পান্না আছে, আর তা যে তিনি ভারতে ফেরত দিতে এসেছেন, সে খবর চাউর হয়ে যাওয়ায় অনেকেরই অনাকাঙ্খিত নজর পড়ে তার উপর। ব্যাপারটা ফেলুদার চোখে পড়লেও তার চিন্তার কারণ ছিল অন্য – ম্যাক্সওয়েল, যার ঔদ্ধত্য আর ভারতবিদ্বেষ শুধু পান্নাটিরই নয়, এমনকি রবার্টসনদের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

************************

সত্যজিৎ রায়ের গল্পগুলি বাস্তব চরিত্রদের দ্বারা কতটুকু অনুপ্রাণিত, তা নিয়ে বোধহয় খুব বেশি গবেষণা হয়নি, তবে রবার্টসনের রুবিতে লেখকের একজন বন্ধুর উল্লেখ আমরা পাই – ডেভিড ম্যাককাচন, যিনি বাংলার পোড়ামাটির স্থাপত্যকলা নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছিলেন। রবার্টসনের রুবি সত্যজিৎ প্রকাশ করার কিছুদিন আগে ম্যাককাচন মারা যান, তাই মনে হয় গল্পটিতে ম্যাককাচনের প্রশংসাটুকু হয়তো সত্যজিৎ পুরোনো বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী হিসেবে লিখেছিলেন।

Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby (2)Feluda’s Stories – Robertson er Ruby (Robertson’s Ruby) – Satyajit Ray

Feluda again, and this time, a bit closer to home. Robertson er Ruby starts with Feluda and company on a train journey to a vacation in Birbhum, when they meet and befriend Peter Robertson, an India-enthusiast who was traveling across the country with his friend, photographer Tom Maxwell. Although foremost a traveler, Peter was unique from other visitors, for he had come to India to return a priceless ruby that his great-great grandfather had looted during the British occupation of India. However, the ruby had also made him a target of collectors and potentially, criminals. Feluda saw travel ahead even as he befriended Robertson, but his unease would only be exacerbated by Maxwell, whose anti-Indian sentiment and superiority complex would put the entire party on the wrong side of the locals.

************************

While notable for its pro-Indian sentiment and storyline alone, Robertson er Ruby is also perhaps unique in the sense that in the story, Satyajit Ray refers to a close friend – David McCutchion, who pioneered the academic study of the terracotta temples of Bangla. MuCutchion had probably died shortly before the story was published, and the Ray’s praise of McCutchion through the voice of Feluda can perhaps be regarded as a tribute to an old friend.

Advertisements

গল্প ৮৯ – ফেলুদা – গ্যাংটকে গণ্ডগোল / Story 89 – Feluda – Gangtok e Gandogol (Trouble in Gangtok)


Satyajit Ray-Feluda-Gangtok e Gandogol 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Gangtok e Gandogol

ফেলুদার গল্প – গ্যাংটকে গণ্ডগোল – সত্যজিৎ রায়

“বাগডোগরা বলতে অনেকেই মনে করবে, আমরা হয়তো দার্জিলিং কিম্বা কালিম্পং যাচ্ছি। আসলে তা নয়। আমরা যাচ্ছি সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে। এর আগে গ্রীষ্মের ছুটিতে দুবার দার্জিলিং গেছি; এবারও প্রথমে দার্জিলিং-এর কথাই হয়েছিল, কিন্তু শেষ মূহূর্তে ফেলুদা গ্যাংটকের নাম করল। বাবার হঠাৎ ব্যাঙ্গালোরে একটা কাজ পড়ে গেল বলে উনি আর এলেন না। বললেন, ‘তুই পরীক্ষা দিয়ে বসে আছিস, ফেলুরও ছুটি পাওনা হয়েছে – দিন পনেরোর জন্য ঘুরে আয়। কলকাতায় বসে ভ্যাপসা গরমে পচার কোনও মানে হয়না।’”

অতঃপর ফেলুদার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর গল্পগুলির মধ্যে একটি – গ্যাংটকে গণ্ডগোল। গল্পের শুরুর ছুঁতোটুকু ভ্রমণ হলেও আসল উপলক্ষ্যটা যে রহস্য উদঘাটন, তা তো পাঠকদের জানাই আছে। তবে এর বেশি বললে গল্পের মজাটা নষ্ট হয়ে যাবে, তাই পাঠকদের জন্য গল্প থেকে কটি সূত্র তুলে দিলাম – তিব্বত, পাথর, যমন্তক, বৌদ্ধমঠ, শেলভাঙ্কার, ছদ্মবেশ আর জোঁক – ব্যাস, বাকিটুকু নাহয় লিংকেই থাকল!

Feluda’s Stories – Gangtok e Gandogol (Trouble in Gangtok) – Satyajit Ray

Another of Feluda’s adventures, on set on the mountainous terrains of Sikkim. In Gangtok e Gandogol (Trouble in Gangtok), Feluda and Topshe, who had gone to the town for a vacation, learns about the death of Shivkumar Shelvankar, a rich businessman who was in town for business in a car crash. The death is initially presumed to be an accident, but as Feluda learns more about the circumstances preceding Shelvankar’s visit and the people he knew, the less sure he becomes. Feluda’s suspicions do not escape the notice of those on the lookout, and before long, the sleuth finds himself and his cousin inextricably entangled in a danger.

Satyajit Ray-Feluda-Gangtok e Gandogol 2

গল্প ৮৮ – ইছামতি / Story 88 – Ichamati

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Ichamati 2

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Ichamati

ইছামতি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কিছুদিন আগে এই সাইটে বিভূতিভূষণের গল্পগুলোতে “সময়ের শান্ত স্রোতে (চরিত্রদের জীবন) ধীরে ধীরে একটি নিরুদ্বেগ অবধারিতের” দিকে প্রবাহিত হওয়া নিয়ে লিখেছিলাম। সে সময় আলোচ্য লেখাটি ছিল আরণ্যক ইছামতি  উপন্যাসটিও সেক্ষেত্রে অনেকটা আরণ্যকের মতই, তবে এই গল্পটির পটভূমি বিহার নয়, বাংলাদেশ আর ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে যে ইছামতি নদী, তারই ধারের পাঁচপোতা নামের একটি গ্রাম। অবিভক্ত ভারত তখনো ব্রিটিশদের দখলে, আর মোল্লাহাটির নীলকুঠির অবস্থাও তখন রমরমা। কুঠির দেওয়ান কুলীন ব্রাহ্মন রাজারাম রায়, যার প্রতাপে সারা গ্রাম তটস্থ থাকে। গল্পের শুরুতে রাজারামের তিন বোন তিলু, বিলু আর নিলুর বিয়ে হয় গ্রামে ঘুরতে আসা ভবানী বাড়ুয্যে নামের আরেকজন কুলীনের সাথে। আর যদিও বিভূতিভূষণের এই উপন্যাসটি বিশেষ কোন চরিত্রকে নিয়ে লেখা নয়, গল্পের পরবর্তীটুকুতে মূলত ভবানী ও তার স্ত্রীদের চোখ দিয়েই গ্রামটির সাথে ধীরে ধীরে আমাদের পরিচয় ঘটে।

ইছামতি  উপন্যাসটি যে সময়ের উপর ভিত্তি করে লেখা, তখন নদীপাড়ের জনপদগুলি সেকেলে বাঙ্গালী সমাজের মতই গোঁড়ামী আর কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল। জাতপ্রথা আর নারীর অবদমন থেকে শুরু করে ভারতীয় সমাজের বৃটিশ-আরাধনা আর দুর্বলদের উপর নিপীড়ন – এর সবই উপন্যাসটিতে আমরা দেখি, কিন্তু তা সমালোচকের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং যেন পাঁচপোতার একটি নিতান্তই মানবিক দিনলিপির মাধ্যমে। গ্রামের বুড়ো ব্রাহ্মণদের পরনিন্দা-পরচর্চা, নীলকুঠির কর্মচারীদের দাদাগিরী, আর গ্রাম্যবধূদের গল্প – এসমস্ত রোজনামচার মধ্যে দিয়েই গল্পটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। অথচ তারই মধ্যে তিলুরা ঘোমটা ছাড়া রাস্তায় চলতে শেখে, গ্রামের ছেলেরা এক এক করে কলকাতায় পাড়ি জমায়, আর সাহেবদের সেই নীলকুঠি কিনে নেয় গ্রামেরই এক লালমোহন পাল, যে কম বয়সে কুঠির সাহেব মালিককে দেখে চাবুকের বাড়ি খাওয়ার ভয়ে রাস্তার উপর নিজের সওদাপাতি ফেলে পালিয়েছিল। শ্বাশত আর পরিবর্তনের মাঝে ভারসাম্য রেখে চলা সে অদৃশ্য ধারার গভীর সৌন্দর্যকে বিভূতিভূষণ যেন ইছামতির মাঝেই খুঁজে পান –

কত তরুণী সুন্দরী বধূর পায়ের চিহ্ন পড়ে নদীর দু’ধারে, ঘাটের পথে, আবার কত প্রৌঢ়া বৃদ্ধার পায়ের দাগ মিলিয়ে যায়… গ্রামে গ্রামে মঙ্গলশঙ্খের আনন্দধ্বনি বেজে ওঠে বিয়েতে, অন্নপ্রাশনে, উপনয়নে, দূর্গাপূজোয়, লক্ষীপূজোয়… সে সব বধূদের পায়ের আলতা ধুয়ে যায় কালে কালে, ধূপের ধোঁয়া ক্ষীণ হয়ে আসে… মৃত্যুকে কে চিনতে পারে? গরীয়সী মৃত্যু-মাতাকে? পথপ্রদর্শক মায়ামৃগের মতো জীবনের পথে পথে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে সে, অপূর্ব রহস্যভরা তার অবগুন্ঠন কখনো খোলে শিশুর কাছে, কখনো বৃদ্ধের কাছে… তেলাকুচো ফুলের দুলুনিতে অনন্ত সে সুর কানে আসে… কানে আসে বনৌষধির কটুতিক্ত সুঘ্রাণে, প্রথম হেমন্তে বা শেষ শরতে। বর্ষার দিনে এই ইছামতির কূলে কূলে ভরা ঢলঢল রূপে সেই অজানা মহাসমুদ্রের তীরহীন অসীমতার স্বপ্ন দেখতে পায় কেউ কেউ… কত যাওয়া আসার অতীত ইতিহাস মাখানো ঐ সব মাঠ, ঐ সব নির্জন মাঠের ঢিপি – কত লুপ্ত হয়ে যাওয়া মায়ের হাসি ওতে অদৃশ্য রেখায় আঁকা। আকাশের প্রথম তারাটি তার খবর রাখে হয়তো…

বিভূতিভূষণ ইছামতি লেখার পর সময়ের সাথে সাথে নদীপাড়ের গ্রামগুলি বদলে গেছে অনেক। তবে গ্রামীণ বাংলার যা কিছু চিরন্তন, তাতো আর বদলায়নি, মঙ্গলশঙ্খের আনন্দধ্বনি সময়ে সময়ে নদীপারের গ্রামগুলোতে বেজে ওঠে আজও, রূপসী বধূদের পদচিহ্ন এখনো নদীপারে খানিক্ষণের জন্যে আঁকা হয়ে মুছে যায়। সে মনে করেই বাংলার নদীপাড়ের মানুষের হাসি-কান্না, স্বপ্ন আর ভালবাসা নিয়ে বিভূতিভূষণের লেখা এই উপন্যাসটি আজ পাঠকদের জন্যে তুলে দিলাম।

Ichamati – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

Following Aranyak, another of Bibhutibhushan Bandyopadhyay’s novels: Ichamati is a narrative of the life along the banks of a river of the same name.  In the early 20th Century, when the subcontinent was under British occupation and indigo plantations were strewn across the undivided Bangla, a plantation by a certain Panchpota village on the river was in its heyday. The owners of that plantation were Englishmen, but their power was wielded through Bangalees who commanded subservience across the entire region. Rajaram, the dewan (secretary) of the plantation, had married off his three sisters to a former ascetic, Bhavani Bandyopadhyay, and it is the latter’s polygynous yet happy family around which the novel develops. Like any other rural Bangalee community of the time, Panchpota was not without its share of superstition, wrongs and biases – but instead of being condemned in Ichamati, those are humanised through the characters. In the novel, the anticipating reader finds the usual village folk who do their usual work – hypocritical, elderly Brahman’s who only gossip idly and criticize others, the hired goons of the plantation who grab land, and the ‘off-the-rocker’ housewife who would say things no one would (or could). Yet, around the daily routines of these people occur silent but subversive changes – Bhavani’s wives learn to walk in public without a veil, and the boys of the village go off to Kolkata to work, one by one… even the ownership of the plantation shifts to a local man. Such changes continue to shape the Indian subcontinent even today. So in that sense, Ichamati helps us understand every Bangalee village then and now. But with its heart-softening narrative of the lives along the river bank, it also offers more than an analytical window into rural Bangla, it teaches us to love her.

গল্প ৮৭ – ফেলুদা – এবার কান্ড কেদারনাথে / Story 87 – Feluda – Ebar Kando Kedarnath e (This Time in Kedarnath)

Satyajit Ray-Feluda-Ebar Kando Kedarnath e

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Ebar Kando Kedharnath e

ফেলুদার গল্প – এবার কাণ্ড কেদারনাথে – সত্যজিৎ রায়

ফেলুদার যেসব গল্পগুলোর পটভূমি পাহাড়ের কোলে, সেগুলোতে কেন জানি অন্যরকম একটা রোমাঞ্চের একটা আবহ থাকে। এবার কাণ্ড কেদারনাথেও তার ব্যতিক্রম নয়। গল্পের শুরুটা হয় ফেলুদাদের কলকাতার বাড়িতে ভারতেরই কোন এক প্রাক্তন রাজ্যের রাজসহকারীর আসা দিয়ে। উপমহাদেশ যখন ব্রিটিশদের দখলে, সেই সময় সেই রাজ্যটির রাজা চন্দ্রদেও তার রোগ সারিয়ে দেওয়ার জন্যে হৃষিকেশের একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তারকে গোপনে উপহারস্বরূপ একটি মহামূল্য উপহার দেন। উমাশঙ্কর পুরীর কলকাতায় আসার উদ্দেশ্য ছিল এক বিশেষ কারণে এতদিন পর সেই ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় সেই ডাক্তারের উপর যাতে কোন বিপদ না নেমে আসে। অর্থাৎ ফেলুদা যেন সেই ডাক্তার কে অন্য কারো আগে খুঁজে বের করে বিপদমুক্ত করেন। ফেলুদা কেসটি হাতে নেয়, কিন্তু হৃষিকেশের পথে রওয়ানা দেওয়ার মাত্র ক’দিন আগে উমাশঙ্করের কাছ থেকে টেলিগ্রাম আসে – ‘রিকোয়েস্ট ড্রপ কেস। লেটার ফলোজ।’। ফেলুদা উত্তর পাঠায় – ‘ড্রপিং কেস, বাট গোইং অ্যাজ পিলগ্রিমস।’। গোয়ান্দাভিযান শেষপর্যন্ত উদ্দেশ্য বদলে তীর্থযাত্রা হয়ে গেলেও ফেলুদা স্বভাবতই তীর্থে গিয়ে চোখ-কান খোলা রাখে, আর সেখানে যা তার নজরে আসে, তা দেখে রহস্যময় সেই ডাক্তারকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তাকে সেই চিরচেনা গোয়েন্দার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়।

এই গল্পটির শেষ অংশটুকু একটু কাকতালীয়, কিন্তু সেই অপ্রত্যাশিতটুকু বাদে আর সবটুকুই আমাদের চিরচেনা উত্তেজনায় ঠাসা।

Feluda’s Stories – Ebar Kando Kedarnath e (This Time in Kedarnath) – Satyajit Ray

For some reason, whenever Feluda happens to be on mountainous terrains, there is an added sense of adventure. Ebar Kando Kedarnath e (This Time in Kedarnath) is no exception. The story starts with the arrival of a certain Umashankar Puri at Feluda’s doorstep. Mr. Puri, who manages what was once a small kingdom during the British occupation of India, narrates an incident in which the former king of the kingdom, Chandradeo, had gifted a priceless possession to an Ayurvedic doctor from Rishikesh for treating him. The secrecy of the gift had been maintained all these years, but now some people who knew about the incident were trying to seek out the old doctor. Sensing danger, Mr. Puri asks Feluda to find the doctor before anyone else, and protect him. Feluda agrees, but days before the three musketeers are about the set off to find the doctor, they unexpectedly receive a telegram from Mr. Puri saying ‘Request drop case. Letter follows.’. Feluda replies, ‘Dropping case but going as pilgrims’, little knowing that he would have to reprise his usual role before long.

Satyajit Ray-Feluda-Ebar Kando Kedarnath e 2

ছোটগল্প ৮৬ – ওমিক্রণিক রূপান্তর / Short Story 86 – Omicronic Rupantar (Omicronic Transformation)


Jafar Iqbal-Omicronic Rupantar

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link:  Jafar Iqbal-Omicronic Rupantar

ওমিক্রণিক রূপান্তর – জাফর ইকবাল

জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক যেসব কল্পকাহিনীগুলো আমি পড়েছি, ওমিক্রণিক রূপান্তর খুব সম্ভবত সেগুলোর মধ্যে আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেওয়া গল্পসংকলন। এই বইটির গল্পগুলো জাফর ইকবাল হয়ত মানবজাতির প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎকে নিয়ে আশংকা করে লিখেছিলেন, আর সেকারণেই হয়ত সেগুলিতে এক এক জন মানুষের জীবনের ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবীর কাছে আমাদের হেরে যাওয়ার চিত্রায়ন ঘটেছে এই এতে। মানবজাতির আসন্ন দিনগুলো নিয়ে আমাদের ভাবনা উদ্রেক করার মত একটি লেখা ওমিক্রণিক রূপান্তর, তাই আমাদের মধ্যে যারা বিশেষভাবে বিজ্ঞানমনস্ক, তাদের কথা ভেবে এই এটি তুলে দিলাম।

Omicronic Rupantor (Omicronic Transformation) – Zafar Iqbal

Of the science fictions by Zafar Iqbal that I have read, Omicronic Rupantar (Omicronic Transformation) remains the single collection of stories to have affected me the most. Likely written with technologically evolved dystopian future world in mind, the collection narrates the fall of humans through incidents in the lives of unrelated people in the distant future. Omicronic Rupantar makes us imagine how things might go wrong in the days to come, and for readers who are scientifically inclined, it offers much food for thought.

ছোটগল্প ৮৫ – ব্যোমকেশ বক্সী – পথের কাঁটা / Short Story 85 – Byomkesh Bakshi – Pather Kanta (The Thorn in the Way)

 Sharadindu Bandyopadhyay-Pather Kanta

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Sharadindu Bandyopadhyay-Byomkesh-2 Pather Kanta

ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প – পথের কাঁটা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্প্রতি লক্ষ্য করেছি যে এই সাইটের পাঠকদের মধ্যে অনেকেই আসেন ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প পড়তে। অথচ এ পর্যন্ত ব্যোমকেশের গল্প তুলেছি মাত্র একটি, তাই আজ ব্যোমকেশ-ভক্তদের জন্যে আরেকটি গল্প তুলে দিলাম। পথের কাঁটার প্রেক্ষাপট বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের কলকাতা, আর গল্পটির শুরু দিনে-দুপুরে খোলা রাস্তার মাঝে ঘটা কিছু রহস্যজনক খুনের মধ্যে দিয়ে। প্রথম কটি খুনের তদন্তে ব্যোমকেশের ডাক না পড়লেও পরের দিকে তার হাতে খুনগুলোর সাথে সম্পর্কিত একটি ঘটনার তদন্তভার এসে পরে। আর ফলস্বরূপ ব্যোমকেশকে নামতে হয় এমন এক আততায়ীর সন্ধানে, যার বুদ্ধি আর অভিনবত্ব দুটোই অসাধারণের কাতারে। ব্যোমকেশকে নিয়ে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা দ্বিতীয় গল্প এটি, যা প্রথমটির মতই রহস্যপ্রিয় পাঠকদের মন ধরে রাখবে।

Byomkesh Bakshi’s Adventures – Pather Kanta (The Thorn in the Way) – Sharadindu Bandyopadhyay

Lately, I have noticed that a lot of the visitors on this site come looking for stories of Byomkesh Bakshi. So, in deference to popular demand, here is his second adventure – one that is perhaps more novel than the first. Pather Kanta (Obstruction) starts with the mysterious deaths of several wealthy men in Kolkata amidst crowds in broad daylight. As the police struggle to find the killer, Byomkesh parses out certain traits that are common to the supposed murderer, and when the survivor of an attempt presumably made by the killer turns up on his doorstep, Byomkesh finds himself hot on the trail of an illusive assassin. For Byomkesh fans as well as those who are uninitiated, this is a gripping story that you will surely enjoy.

ছোটগল্প ৮৪ – প্রফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক / Short Story 84 – Professor Shanku – Professor Shanku O Egyptio Atanko (Professor Shanku and the Egyptian Horror)

Satyajit Ray-Professor Shanku O Egytio Atankoপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku O Egyptio Atanko

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – প্রফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক – সত্যজিৎ রায়

ব্যোমযাত্রীর ডায়রির পর শঙ্কুর সাথে আমাদের দ্বিতীয়বারের মত দেখা হয় এই গল্পটিতে, যদিও গল্পের ধারাবাহিকতা কিনা শঙ্কুর জীবনের সাথে মেলে কিনা তা বলা মুশকিল। ঈজিপ্সীয় আতঙ্কের শুরু স্বাভাবিকভাবেই মিশরে, যার প্রাচীন বিজ্ঞান ও প্রত্নতত্ব সম্পর্কে জানার জন্য শঙ্কু সেখানে যান। শঙ্কুর সাথে সেখানে জেমস সামারটন নামের একজন প্রত্নতত্ত্ববিদের সাথে পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়, যার ফলস্বরূপ ভারতে ফেরার সময় একটি দুর্লভ মমি গবেষণার জন্য শঙ্কু সাথে করে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু মমির সাথে সাথে একটি অশুভ ছায়াও শঙ্কুর সঙ্গী হয়, যদিও শঙ্কুর কাছে সেটা প্রতীয়মান হয়ে ওঠে অনেক দেরিতে।

ব্যোমযাত্রীর ডায়রির খ্যাপাটে বিজ্ঞানীর জায়গায় ঈজিপ্সীয় আতঙ্কে শঙ্কুকে আমরা পাই আমাদের চিরচেনা শঙ্কু হিসেবে। সত্যজিৎ কি ভেবে এই পরিবর্তনটি করেছিলেন জানতে কৌতুহল জাগে।

Professor Shanku’s Stories – Professor Shanku O Egyptio Atanko (Professor Shanku and the Egyptian Horror) – Satyajit Ray

The Egyptian Horror is the second story Satyajit Ray wrote about Professor Shanku, although whether the stories are chronological with respect to his life remains unclear. As is to be expected from the title, the story starts in Egypt, where Shanku goes to learn more about its ancient science and archaeology. There, Shanku befriends an archaeologist named James Somerton, and as a consequence, succeeds in procuring an Egyptian mummy for his own research. Shanku brings the mummy to his home in Giridi, little knowing its history, and a mysterious entity that follows it to his hometown.

ছোটগল্প ৮৩ – বিলু ও তার মৌমাছি / Short Story 83 – Bilu O Tar Moumachhi (Bilu and his Bees)

Jafar Iqbal-Bilu O Tar Moumachhi

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Jafar Iqbal-Bilu O Tar Moumachhi

বিলু ও তার মৌমাছি – জাফর ইকবাল (আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা হতে সংগ্রহিত)

জাফর ইকবালের এই গল্পটি সাহিত্য হিসেবে যে অসাধারণ, তা হয়ত বলা যাবে না। কিন্তু সাদামাটা ভাষায় লেখা এই মজার ছোটগল্পটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের, কারণ সেটির অনেকটুকুই আমার চিন্তাভাবনার সাথে মিলে যায়। খানিকটা তুলে দেই –

রনির ব্যাপারটা একেবারে মাত্রা ছাড়িয়ে গেল সেইদিন বিকেলে। স্কুল শেষ করে বাবার সাথে মৌমাছি ফার্মে খানিকক্ষণ কাজ করে নদীতীরে খেলতে গিয়ে দেখে সেখানে কয়েকজন মানুষ গর্ত করে বাঁশ পুঁতছে। রনি পকেটে হাত দিয়ে কাছে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হয় কাজের খবরদারি করছে। বিলু অবাক হয়ে কাছে এগিয়ে গেল। রনি এমন ভান করল সে তাকে দেখতেই পায়নি। যে মানুষগুলো বাঁশ পুঁতছে তাদের একজনের না কাজেম আলি, সে বিলুকে দেখে দাঁত বের করে হেসে বলল, বিলু বাজান কেমুন আছেন?

বিলু বলল, ভালো। তারপর জিজ্ঞাসা করল, কাজেম চাচা এখানে কি করছেন?

কিলাব হাউচ তৈরী হচ্ছে।

ক্লাব হাউজ?

জে। বাঁশ পুঁতে উঁচু ঘর তৈরি হবে। সেটারে বলে কিলাব হাউচ।

এইখানে?

জে।

বিলু গলা শক্ত করে বলল, এইখানে আমরা হা-ডু-ডু খেলি।

রনি তখন কাছে এসে কাজেম আলিকে বলল, কথা বলছ কেন? কাজ কর, কালকের মাঝে শেষ করতে হবে।

কাজেম আলি মাথা নেড়ে বলল, জে জে করছি। তারপর খন্তা দিয়ে মাটিতে গর্ত করতে শুরু করল।

বিলুর মাথায় রক্ত উঠে গেল। সে চোখ পাকিয়ে বলল, এখানে কিছু তৈরী করতে পারবে না। এইখানে আমরা খেলি।

রনি হাত ভাজ করে বুকের উপর ধরে বলল, এটা আমার নানার প্রপার্টি – এখান থেকে যাও, না হলে তোমার ঘাড় ধরে বের করে দেব।

কাজেম আলি তাড়াতাড়ি রনির কাছে এসে বলল, এইভাবে কথা বলে না ছোট সাহেব। ডাক্তার সাহেবের ছেলে –

রনি বলল – আই ডোন্ট কেয়ার। আমার নানার প্রপার্টিতে আমি যা ইচ্ছে তাই করব, আমার ইচ্ছা।

পরদিন ফারুখ খবর আনল ‘কিলাম হাউচ’ নাকি প্রায় দাঁড়া হয়ে গেছে। ব্যাপারটা একটা মাচা ছাড়া আর কিছু নয়। দুপুরবেলা নান্টু খবর আনল ‘কিলাম হাউচে’ রনি আর তার ছোট বোন বসে বসে রুটি খাচ্ছে। বাড়াবাড়ি বড়লোকেরা দুপুরবেলায় রুটি খায়। ঢাকা থেকে সেই রুটি আনা হয়েছে। বিকালবেলা জলিল সবচেয়ে বড় খবর আনল, আগামীকাল শহর থেকে রনির বন্ধুরা আসছে – তারা কখনো গ্রাম দেখে নাই, তাই গ্রাম দেখতে আসছে।

আধা-খেঁচড়া ভাবে পশ্চিমা শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে অশিক্ষিত হওয়াটাই যেখানে এখন রেওয়াজ হয়ে গেছে, সেখানে জাফর ইকবালের এই গল্পটি বাঙ্গালীরা আজো পড়ে ভেবে মনে খানিকটা আশা জাগে। সত্যি বলতে কি, হয়তো আমিও এককালে রনিদের দলেই ছিলাম, কিন্তু এখন মনটা ভালর দিকে বদলে গেছে ভাবতে ইচ্ছে হয়। তাই এই গল্প।

Bilu O Tar Moumachhi (Bilu and his Bees) – Jafar Iqbal (from Amra O Crab Nebula)

A story close to my heart, Bilu O Tar Moumachhi (Bilu and his Bees) is one about the triumph of the ‘raw, Bangalee village boy’ over the ‘condescending wannabe western city-kid’. As a piece of literature, the story perhaps leans on simple stereotypes, but in this case, at least the second stereotypes are perhaps too correct to be ignored. Being a Bangladeshi who has spent a considerable time of his life as a scientist in the US, Zafar Iqbal has perhaps known people of both types too well, and if this story is a representation of his views, I am glad to say that they mirror mine.

ছোটগল্প ৮২ – প্রফেসর শঙ্কু – ব্যোমযাত্রীর ডায়রি / Short Story 82 – Professor Shanku – Byomjatrir Diary (The Diary of the Space Traveler)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – ব্যোমযাত্রীর ডাইরি – সত্যজিৎ রায়

এবারের আপলোডটি প্রফেসর শঙ্কুকে নিয়ে লেখা সত্যজিৎ রায়ের প্রথম গল্প। শঙ্কুর অন্যান্য গল্পগুলোর মতো এটিও দারুণ, তবে এটির লেখার ধরণ কিন্তু আলাদা। যেখানে অন্য সব গল্পে শঙ্কু ঋষিসুলভ ধৈর্য আর সংযমের অধিকারী, এই গল্পে শঙ্কু সোজা কথায় খানিকটা পাগলাটে একজন বিজ্ঞানী। ফেলুদার মতো শঙ্কুরও পরিণত হয়ে ওঠা ঘটে সত্যজিতের পরের গল্পগুলোতে, খুব সম্ভবত এই কারণে যে লেখক হয়তো প্রথম দিকে চরিত্রগুলোকে শিশুদের কথা ভেবেই কল্পনা করেছিলেন।

ব্যোমযাত্রীর ডাইরি – প্রফেসর শঙ্কুর প্রথম (অন্যভাবে চিন্তা করলে হয়তোবা শেষ) গল্প।

Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary 2

Professor Shanku’s Stories – Byomjatrir Diary (The Diary of the Space Traveler) – Satyajit Ray

This upload is the first story that Satyajit Ray wrote on Professor Shanku. Like Feluda in his first adventure, Shanku too appears as a very different person – a somewhat mad scientist rather than the sage-like figure that he develops into Ray’s later writings. One possible reason for this could be that Ray might have initially written both characters keeping children in mind. Regardless, this one is particularly for those who love mad-scientists – Shanku’s first (and perhaps last) adventure.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary 3

গল্প ৮১ – ফেলুদা – নেপোলিয়নের চিঠি / Story 81 – Feluda – Napoleon er Chithi (Napoleon’s Letter)

Satyajit Ray-Feluda-Napoleon er Chithiপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Napoleon er Chithi

ফেলুদার গল্প – নেপোলিয়নের চিঠি – সত্যজিৎ রায়

ফেলুদার এই গল্পের শুরুটা খানিকটা আকস্মিক। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের এক খেলনার দোকানে এক আলাপীর জন্যে উপহার কিনতে গিয়ে এক ক্ষুদে ভক্তের সাথে ফেলুদার দেখা হয়ে যায়, আর ভক্তও দেরী না করে ফেলুদাকে তার পোষা টিয়ে হারিয়ে যাওয়ার তদন্তের আর্জি জানিয়ে বসে। অবশ্য রহস্য উদঘাটন নয়, বরং শ্রীমান অনিরুদ্ধ হালদারের মন ভাল করতেই ফেলুদারা একদিন গিয়ে হাজির হন হালদারবাড়িতে। ঘটনাচক্রে ফেলুদারা সেই বাড়িতে থাকা অবস্থাতেই একটি রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে, আর তার সাথে সাথে হালদার পরিবারের মহামূল্য একটি সম্পত্তি – নেপোলিয়নের শেষজীবনে লেখা একটি চিঠি – রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটির তদন্তের ভার ফেলুদার হাতে পড়ে, আর সেটা করতে গিয়ে তার কাছে ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই যে ছোট্ট অনিরুদ্ধের পাখি হারিয়ে যাওয়াকে বড়রা তেমন পাত্তা না দিলেও নেপোলিয়নের চিঠি লোপাটের চাইতে সেটাও কম অদ্ভুত কোন রহস্য নয়।

Feluda’s Stories – Napoleon er Chithi (Napoleon’s Letter) – Satyajit Ray

This investigation of Feluda starts somewhat unexpectedly. While in a toy shop to buy a gift for an acquaintance, Feluda comes across a young fan by the name of Aniruddha Haldar, who asks him if he can find out his lost parrot. More to give the little boy some time than find his bird, Feluda agrees to look into the matter, and true to his word, visits him after a few days. However, things go wrong when Feluda and his companions visit the Haldar House. Aniruddha’s grandfather, an antiquities collector, is found dead, and his most prized collection – one of the last ever letters written by Napoleon Bonaparte – goes missing. The case of the parrot is forgotten as Feluda is asked to investigate the developments, but it soon becomes clear to the detective that neither of the two cases are less intriguing than, or perhaps different from, the other.

ছোটগল্প ৮০ – নিমগাছ / Short Story 80 – Neemgachh (The Neem Tree)

Banaful-Neem Gachh 2

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Neem Gachh

নিমগাছ – বনফুল

এবার বাংলার চিরঅবহেলিত নারীদের নিয়ে লেখা একটি গল্প, বনফুলের কলমে। গল্পটি পিডিএফের সাথে সাথে এই পৃষ্ঠাতেও তুলে দিলাম।

Neemgachh (The Neem Tree) – Banaful

This time, a metaphorical representation of the neglected women of Bengal, by Banaful.

কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে।
পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ।
কেউ বা ভাজছে গরম তেলে।
খোস দাদ হাজা চুলকুনিতে লাগাবে।
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ।
কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে।
এমনি কাঁচাই…..

কিংবা ভেজে বেগুন- সহযোগে।
যকৃতের পক্ষে ভারী উপকার।
কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক…। দাঁত ভালো থাকে।
কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুসী হন।
বলেন-”নিমের হওয়া ভাল, থাক, কেটো না।”
কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না।
আবর্জনা জমে এসে চারিদিকে।
শান দিয়ে বাধিয়েও দেয় কেউ- সে আর এক আবর্জনা।
হঠাৎ একদিন একটা নূতন ধরণের লোক এল।
মুগ্ধ দৃষ্টিতে বেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙ্গলে না। মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু।
বলে উঠলো, “বাঃ কি সুন্দর পাতাগুলো…..কি রূপ। থোকা থোকা ফুলেরই বা কি বাহার….এক ঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে। বাঃ–”
খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল।`
কবিরাজ নয়, কবি।
নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু পারলে না।মাটির ভেতর শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে। বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে।
ওদের বাড়ীর গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্ণী বউটার ঠিক এই দশা।

ছোটগল্প ৭৯ – বীরেন্দ্রনারায়ণ / Short Story 79 – Birendranarayan

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Birendranarayan

বীরেন্দ্রনারায়ণ – বনফুল

সততা, দোর্দন্ড প্রতাপ, চরিত্র, খেলোয়াড়ি মনোভাব, শ্রদ্ধা, মনের মাপ – একজন ডাক্তার বনাম একজন জমিদারের লড়াই নিয়ে লেখা বনফুলের আরেকটি অসাধারণ গল্প।

Birendranarayan – Banaful

Honesty, might, character, attitude, sportsmanship, respect, honor – another wonderful short-story by Banaful, and this time, about the face-off between a doctor and zamindar.

গল্প ৭৮ – ফেলুদা – বাদশাহী আংটি / Story 78 – Feluda – Badshahi Angti (The Emperor’s Ring)

Satyajit Ray-Feluda-Badshahi Angti

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Badshahi Angti

ফেলুদার গল্প – বাদশাহী আংটি – সত্যজিৎ রায়

এবারে ফেলুদার প্রথম দিকের গল্পগুলোর মধ্যে একটা। তোপসে তখনো ছোট, জটায়ুয়ের আবির্ভাবের তখনো অনেক দেরী আর ফেলুদার গোয়েন্দাগিরীও প্রথমাবস্থায়। সেই সময় পূজোর ছুটি কাটানোর জন্য তোপসের বাবাসহ ফেলুদারা লক্ষ্ণৌ যায়। লক্ষ্ণৌতে তোপসের বাবার একজন বন্ধু ছিলেন, আর তারই মাধ্যমে ফেলুদাদের সাথে এক ভদ্রলোকের পরিচয় হয়, যার সংগ্রহের একটি আংটি এককালে আওরঙ্গজেব পড়তেন। ফেলুদাদের আসার কিছুদিনের মাঝেই রহস্যজনকভাবে সেই আংটি চুরি হয়ে যায়, আর ফেলুদা লেগে যায় সেই রহস্য উদঘাটন করতে, যা তাকে আর তোপসেকে নিয়ে যায় লক্ষ্ণৌর ইমামবড়া থেকে হরিদ্বারের লক্ষণঝুলা পর্যন্ত এক দারুণ অভিযানে। ফেলুদার ভক্তদের জন্য বাদশাহী আংটি একটি অবশ্যপাঠ্য, কারণ ফেলুদার গোয়েন্দাগিরীর আসল শুরু এখানেই।

Feluda’s Stories – Badshahi Angti (The Emperor’s Ring) – Satyajit Ray

A new Feluda upload – this time, of one of his first adventures. The story dates back to a time when Topshe was little, Jatayu had not yet arrived and Feluda was still a budding detective. During the Durga Puja holidays, Topshe, his father, and Feluda arrive at Lucknow, where they have a family friend, Dhiru Babu. As they socialize in Lucknow, Feluda and Topshe meet an acquaintance of Dhiru Babu’s, who shows them ring that was once worn by the Mughal emperor Aurangzeb. Soon after, the ring goes missing, and Feluda embarks on solving the case. Fans of the sleuth will want to read this story, for it is the first story where Feluda matures to the formidable detective who we so well know.

ছোটগল্প ৭৭ – দেশী ও বিলাতী / Short Story 77 – Deshi O Bilati (Home-made versus Foreign)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Deshi O Bilati

দেশী ও বিলাতী – বনফুল

যারা এই সাইটের লেখাগুলো পড়েন, তারা হয়ত জেনে থাকবেন যে বাংলা সাহিত্যের অনন্যতায় আমি গভীরভাবে বিশ্বাসী, তবে যা কিছু দেশী, তার সবই যে খুব ভাল, তা আমি বিশ্বাস করি না। আর অন্য সংস্কৃতিগুলোর কাছ থেকে যে আমাদের অনেক কিছু শেখার ও অনুকরণ করার আছে, তার একটি উদাহারণ আমরা পাই বনফুলের দেশী ও বিলাতী তে।

Deshi O Bilati (Hone-made versus Foreign) – Banaful

While this site has always been intended to advertise the wonderful literary words of Bangla, it remains true that quite a few things that are Bangalee would benefit from incorporating, perhaps even mimicking, other cultural practices. Banaful’s Deshi O Bilati (Home-made versus Foreign) provides a case in point.

ছোটগল্প ৭৬ – মন্মথ / Short Story 76 – Manmath

Banaful-Manmath

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Manmath

মন্মথ – বনফুল

বনফুলের আরেকটি গল্প। এরকম লেখাগুলো বনফুলের মাথায় কেমন করে আসে জানিনা, কিন্তু প্রেমের বন্যায় ভেসে যাওয়া যেসব প্রেমিকপুরুষেরা বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছেন, তাদেরই মধ্যে কোন এক মন্মথ কে নিয়ে লেখা এই মজার গল্পটি প্রতিটি বাঙ্গালী ছেলেদেরই একবার হলেও পড়া উচিত – পাছে তাদের জীবনেও এটি সত্য হয়ে যায়!

Manmath – Banaful

A story of love and writing letters, with a hilarious twist – if you are a Bangalee man, and have fallen hopelessly in love for the first time, read this as a warning. If you are hopelessly in love for the second time, read this as a reminder of what you may have done the first time.

 

গল্প ৭৫ – আরণ্যক / Story 75 – Aranyak (Of the Forest)

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aranyak

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aranyak

আরণ্যক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মানুষের বসতির পাশে কোথাও নিবিড় অরণ্য নাই। অরণ্য আছে দূর দেশে, যেখানে পতিত-পক্ব জম্বুফলের গন্ধে গোদাবরী-তীরের বাতাস ভারাক্রান্ত হইয়া ওঠে, ‘আরণ্যক’ সেই কল্পনালোকের বিবরণ। ইহা ভ্রমণবৃত্তান্ত বা ডায়েরি নহে – উপন্যাস। অভিধানে লেখে ‘উপন্যাস’ মানে বানানো গল্প। অভিধানকার পণ্ডিতদের কথা আমরা মানিয়া লইতে বাধ্য। তবে ‘আরণ্যক’-এর পটভূমি সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয়। কুশী নদীর অপর পারে এরূপ দিগন্ত-বিস্তীর্ণ অরণ্যপ্রান্তর পূর্বে ছিল, এখনো আছে। দক্ষিণ ভাগলপুর ও গয়া জেলার বন পাহাড় তো বিখ্যাত।

অবশেষে আরণ্যক । অনেকদিন ধরে এই সাইটে বাংলা সাহিত্যের এই অমর সৃষ্টিটিকে উহ্য রেখেছি – গল্পটি লম্বা আর সাধুভাষায় লেখা বলে। কিন্তু আধুনিক ও সময়-সচেতন জীবনের ধারা ভেঙ্গে প্রকৃতির কোলে কখনো না কখনো তো ফিরতে ইচ্ছে করে, আর তাছাড়া এই সাইটের ১০০তম লেখা এটি, তাই আজ এই অসাধারণ সুন্দর গল্পটি তুলে দিলাম। ‘আরণ্যক’ শব্দটির অর্থ ‘অরণ্য কে নিয়ে’, তবে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এই গল্পটি শুধু প্রকৃতিই নয়, তার কোলে যেসব অতিসাধারণ গ্রাম্য মানুষদের বাস, তাদের হাসি-কান্না, স্বপ্ন আর ভালবাসার কথা নিয়েও।আরণ্যক গল্পটির চরিত্র অনেক আর তারা প্রায় সকলেই স্মরণীয়, আর অরণ্যর সৌন্দর্যে হারিয়ে যাওয়ার বর্ণনা গল্পটিকে হেনরী থরো কিংবা জন মিউয়ারের স্রেষ্ঠ লেখাগুলোর কাতারে ফেলে। কিন্তু তা সত্ত্বেও গল্পটি প্রকৃতি বা বিশেষ কোন চরিত্র কে নিয়ে লেখা নয়। আরণ্যক একটি প্রবাহ – যাতে প্রকৃতির নিবিড় বন্ধনে বাঁধা পড়া কিছু মানুষের জীবন সময়ের শান্ত স্রোতে ধীরে ধীরে একটি নিরুদ্বিগ্ন অবধারিতের দিকে প্রবাহিত হয় – আর একটি গল্প, যা প্রতিটি বাঙ্গালীর জন্য অবশ্যপাঠ্য।

Aranyak (Of the Forest) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

This time, a novel that I have been holding myself off from putting here out of fear that it is too long – but on the occasion of publishing this site’s 100th post, it is only fitting that I make Aranyak (Of the Forest) the subject of this piece. A masterclass written by Bibhutibhushan Bandyopadhyay, the story narrates the life of a Bangalee youth who assumes oversight of a forest estate in Bihar. A born urbanite, he suddenly has to confront Nature and a society where life is languid, and his experiences perhaps mirror that of the sophisticated reader: an initial incredulity that Nature (or a book about living in her midst) could be so beautiful and engrossing, followed by a complete immersion, and perhaps even infatuation, with her beauty. In its closeness to Nature, Aranyak ranks beside the best of Henry Thoreau’s or John Muir’s works, yet, in depicting the rustic lives of the simple folk who live surrounded by the forest, it achieves so much more. A story that seamlessly weaves Nature with human existence, Aranyak is a must-read for every Bangalee.

ছোটগল্প ৭৪ – তিস্তা / Short Story 74 – Tista

Banaful-Tista(This picture is a modified version of a photograph by Shilpa Harolikar)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Tista

তিস্তা – বনফুল

বনফুলের আরেকটি গল্প – তবে তাঁর অন্যান্য লেখাগুলোর মত সামাজিক ব্যাধি কিংবা গুরুতর কোনো বিষয় নিয়ে নয়, বরং কোলা ব্যাঙ, জুজু বুড়ি, হালুম বুড়ো আর ছোট্ট তিস্তা কে নিয়ে মনকে উষ্ণ করা একটি অণুলেখা।

Tista – Banaful

Another of Banaful’s stories, but this time, a decidedly lighter one – of frogs, ghosts, demons… and a little girl named Tista.

ছোটগল্প ৭৩ – বর্ণে বর্ণে / Short Story 73 – Barne Barne (The Choice of Color)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Barne Barne

বর্ণে বর্ণে – বনফুল

বাঙ্গালী সমাজের নির্মম অবিচারের একটি গল্প – দুটি আলাদা দৃশ্যে বাঙ্গালী ভদ্রলোকদের রঙের বিচারের মাধ্যমে – গল্পটি বনফুল লিখেছিলেন অনেক আগে, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে গল্পটির চরিত্রগুলো আজও আমাদের সমাজে বর্তমান।

Barne Barne (The Choice of Color) – Banaful

In this story, Banaful portrays a cancer of Bangalee society, through narrations of two situations where Bangalee gentlemen base their choice on colour.

ছোটগল্প ৭২ – প্রফেসর শঙ্কু – আশ্চর্জন্তু / Short Story 72 – Professor Shanku – Ashcharjantu (The Extraordinary Animal)

 Satyajit Ray-Professor Shanku-Ashcharjantu (1)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Ashcharjantu

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – আশ্চর্যজন্তু – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কু গিরিডিতে কোন এক সময় থাকাকালে তাঁর চাকর প্রহ্লাদ হঠাৎ একদিন কোত্থেকে তাঁর সামনে এক আশ্চর্য প্রাণী এনে হাজির করে, যা শঙ্কুর জানামতে আনকোরা এক নতুন প্রজাতির নমুনা ব্যতিত কিছু নয়। জন্তুটি অদ্ভুতভাবে শঙ্কুর পোষও মেনে যায়, আর তার পরের দিনগুলো গড়ানোর সাথে সাথে শঙ্কু সেটিকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে আপাতদৃষ্টিতে প্রাণীটিকে একটি অদ্ভূত বানরের মত দেখতে হলেও সেটির মধ্যে লুকোনো কিছু বৈশিষ্ট্য আছে – যেমন সে সারা ঘর ঘুরে ঘুরে শঙ্কুর জিনিসপত্র নেড়ে চেড়ে দেখে, বোঝার চেষ্টা করে। শঙ্কুর প্রথমে শুধু প্রাণীটির বুদ্ধিমত্তা দেখেই তাক লেখে গেলেও অচিরেই সেটি এমন সব শারীরিক পরিবর্তন দেখাতে শুরু করে যে তিনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। অবশ্য তখনো তার ধারণা ছিল না যে সামনে কি ঘটতে চলেছে।

Professor Shanku’s Stories – Ashcharja Jantu (The Extraordinary Animal) – Satyajit Ray

On one of his periods of stay in Giridi, Professor Shanku’s servant, Prahlad, brings a strange animal that he got from a friend in the village into the house. Shanku is surprised when he sees it, for the animal is unlike any that he has seen or heard of. Shanku decides to keep and study it, and soon finds out the creature to be more curious and intelligent than any other. However, if its intelligence surprises the professor, the changes in the animal which follow astounds him. In the end, Shanku gets an inkling of the animal’s special ability, but he does not know that there is still more to come.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Ashcharjantu (2)

 

ছোটগল্প ৭১ – পক্ষী-পুরাণ / Short Story 71- Pakkhi Puran

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link:  Banaful-Pakkhi Puran

পক্ষী-পুরাণ – বনফুল

এবার বনফুলের কল্পনায় একটা মজার গল্প, মানুষের প্রার্থনার জবাবে ঈশ্বরের দান, আর তা নিয়ে মানুষের খামখেয়ালিপনা নিয়ে।

Pakkhi Puran – Banaful

In this amusing story, Banaful imagines how Man finds unintended but creative uses of God’s answer to his prayers.