গল্প ১১৯ – ফেলুদা – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি / Short Story 119 – Feluda – Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Feludar Goendagiri

ফেলুদার গল্প – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি – সত্যজিৎ রায়

আজ ফেলুদার একটি বিশেষ গল্প – এর আগের পোস্টে ফেলুদার দার্জিলিং ফেরা আর একটি রহস্যের সমাধান করা নিয়ে লেখা দার্জিলিং জমজমাট গল্পটি তুলেছিলাম। সেইবার দার্জিলিংই যে ফেলুদার গোয়েন্দাগিরীতে হাতেখড়ির পটভূমি, তা উল্লেখ করলেও সেই গল্পটি যে এই সাইটে তোলা হয়নি, তা খেয়াল ছিলনা। সেই ভুলটুকু শোধরাতেই আজ সেই হাতেখড়ির গল্পটি তুলে দেওয়া – ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি গল্পটি যে সময়কার, তখন আমাদের চিরচেনা তোপসে নেহাতই ছোট, অথবা তাঁর ভাষায় বলতে গেলে “আমার বয়স সাড়ে তেরো বছর। ফেলুদার বয়স আমার ঠিক ডবল।”। ফেলুদা অবশ্য বয়সে তরুণ হলেও বুদ্ধিতে চিরকালের মতই পাকা, যদিও ঠান্ডা মস্তিস্কের বদলে তোপসের উপর তাঁর খিটখিটেমোই আমরা দেখতে পাই বেশি। ফেলুদার পরবর্তী উপন্যাসগুলোর তুলনায় এই গল্পটি নেহাতই হাল্কা মেজাজে লেখা – সত্যজিৎ রায় হয়তো ফেলুদাকে নিয়ে মাত্র একটি গল্প লিখবেন, তেমনটা মনে করেই লেখাটি লিখেছিলেন। যাই হোক, ভণিতা থামানোর আগে বলে রাখি যে গল্পের শেষটা খানিকটা অপ্রত্যাশিত। হাজার হোক, সব রহস্যের কি আর সময়মত সমাধান হয়?

Feluda’s Stories – Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling) – Satyajit Ray

In my last post, I had put up Darjeeling Jamjomat, where the Feluda and his sidekick Topshe return to Darjeeling, and again solve another mystery. For some reason, I had negelected to put up the story of their first case there (and anywhere!), so this. To Feluda fans, Feluda’r Goendagiri (Danger in Darjeeling) is very special, as it was the story through which Satyajit Ray gave birth to the sleuth as a character. Back then, Topshe was merely a boy of thirteen-and-half, and Feluda quite young at ‘exactly double’ his cousin’s age. All this shows in the lighthearted and boyish tone of the narrative – the Feluda we know to be cool and mature is seen playing pranks on and teasing Topshe. His brains are just as sharp, though. All said, the story is also exceptional in another sense – Feluda does solve the mystery in it, but too late.

Advertisements

কবিতা ৫৯ – দেশলাইয়ের কাঠি / Poem 59 – Deshlai er Kathi (The Matchstick)

sukanta-bhattacharya-deshlaier-kathi-1

অনেকদিন পরে আবার সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি কবিতা –দেশলাইয়ের কাঠি। কবি সুকান্ত যে ব্যক্তিগত জীবনে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন, এই সাইটে আমি তা উল্লেখ করেছি আগেই। এই কবিতাটি লেখা সেই আদর্শ থেকেই – একটি আগুন নিয়ে, যা এই সমাজের ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকা নিপীড়িতদের ভিতরে সম্ভাবনা হয়ে বেঁচে থাকে, আর যা একদিন বিপ্লব হয়ে হয়তো বদলে দেবে সারা পৃথিবীকেই।

After a long time, a poem by Sukanta Bhattacharya. Even for the most literally inclined of readers, the symbolism in Deshlai er Kathi (The Matchstick) is hard to miss – as I had mentioned earlier, Sukanta’s writings were heavily inspired by Communist ideas – in the poem, the poet speaks to the bourgeoisie and the elite of our society through a metaphor that is seemingly little and a mere convenience to most of us, but also one that holds the potential to burn the loftiest of palaces down to rubble. To some, it is literally a matchstick, but to others, it is the proletariat who rear a flame that can burn down the heirarchies of this world.

দেশলাইয়ের কাঠি

আমি একটা ছোট্ট দেশলাইয়ের কাঠি
এত নগণ্য, হয়তো চোখেও পড়ি না;
তবু জেনো
মুখে আমার উসখুস করছে বারুদ—
বুকে আমার জ্বলে উঠবার দুরন্ত উচ্ছ্বাস;
আমি একটা দেশলাইয়ের কাঠি।
মনে আছে সেদিন হুলুস্থুল বেধেছিল?
ঘরের কোণে জ্বলে উঠেছিল আগুন –
আমাকে অবজ্ঞাভরে না-নিভিয়ে ছুঁড়ে ফেলায়!
কত ঘরকে দিয়েছি পুড়িয়ে,
কত প্রাসাদকে করেছি ধূলিসাত্‍‌
আমি একাই- ছোট্ট একটা দেশলাইয়ের কাঠি।
এমনি বহু নগর, বহু রাজ্যকে দিতে পারি ছারখার করে
তবুও অবজ্ঞা করবে আমাদের?
মনে নেই? এই সেদিন-
আমরা সবাই জ্বলে উঠেছিলাম একই বাক্সে;
চমকে উঠেছিলে–আমরা শুনেছিলাম তোমাদের বিবর্ণ মুখের আর্তনাদ।
আমাদের কী অসীম শক্তি
তা তো অনুভব করেছো বারংবার;
তবু কেন বোঝো না,
আমরা বন্দী থাকবো না তোমাদের পকেটে পকেটে,
আমরা বেরিয়ে পড়ব, আমরা ছড়িয়ে পড়ব
শহরে, গঞ্জে, গ্রামে– দিগন্ত থেকে দিগন্তে।
আমরা বার বার জ্বলি, নিতান্ত অবহেলায়-
তা তো তোমরা জানোই!
কিন্তু তোমরা তো জানো না:
কবে আমরা জ্বলে উঠব-
সবাই– শেষবারের মতো!

– সুকান্ত ভট্টাচার্য (ছাড়পত্র  হতে সংগ্রহীত)

গল্প ৯০ – ফেলুদা – রবার্টসনের রুবি / Story 90 – Feluda – Robertson er Ruby (Robertson’s Ruby)

Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby (1)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby

ফেলুদার গল্প – রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

আরেকবার ফেলুদা, তবে এটি পাহাড় কিংবা নগর নয়, বরং বাংলারই বীরভূমকে পটভূমি করে লেখা। গল্পটি যার পূর্বপুরুষের পান্নাকে (রুবি) নিয়ে, সেই রবার্টসনের সাথে ফেলুদাদের প্রথম পরিচয় হয় বীরভূমে যাওয়ার ট্রেনে, যা পরে সখ্যে গড়ায়। ভারতপ্রেমী রবার্টসন তার আলোকচিত্রী বন্ধু টম ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে বীরভূম যাচ্ছিলেন পোড়ামাটির স্থাপত্যকলার স্থানীয় কিছু নিদর্শন দেখতে। তবে তার কাছে যে ভারত থেকে তারই ব্রিটিশ পূর্বপুরুষের লুঠ করা এক বহুমূল্য পান্না আছে, আর তা যে তিনি ভারতে ফেরত দিতে এসেছেন, সে খবর চাউর হয়ে যাওয়ায় অনেকেরই অনাকাঙ্খিত নজর পড়ে তার উপর। ব্যাপারটা ফেলুদার চোখে পড়লেও তার চিন্তার কারণ ছিল অন্য – ম্যাক্সওয়েল, যার ঔদ্ধত্য আর ভারতবিদ্বেষ শুধু পান্নাটিরই নয়, এমনকি রবার্টসনদের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

************************

সত্যজিৎ রায়ের গল্পগুলি বাস্তব চরিত্রদের দ্বারা কতটুকু অনুপ্রাণিত, তা নিয়ে বোধহয় খুব বেশি গবেষণা হয়নি, তবে রবার্টসনের রুবিতে লেখকের একজন বন্ধুর উল্লেখ আমরা পাই – ডেভিড ম্যাককাচন, যিনি বাংলার পোড়ামাটির স্থাপত্যকলা নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছিলেন। রবার্টসনের রুবি সত্যজিৎ প্রকাশ করার কিছুদিন আগে ম্যাককাচন মারা যান, তাই মনে হয় গল্পটিতে ম্যাককাচনের প্রশংসাটুকু হয়তো সত্যজিৎ পুরোনো বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী হিসেবে লিখেছিলেন।

Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby (2)Feluda’s Stories – Robertson er Ruby (Robertson’s Ruby) – Satyajit Ray

Feluda again, and this time, a bit closer to home. Robertson er Ruby starts with Feluda and company on a train journey to a vacation in Birbhum, when they meet and befriend Peter Robertson, an India-enthusiast who was traveling across the country with his friend, photographer Tom Maxwell. Although foremost a traveler, Peter was unique from other visitors, for he had come to India to return a priceless ruby that his great-great grandfather had looted during the British occupation of India. However, the ruby had also made him a target of collectors and potentially, criminals. Feluda saw travel ahead even as he befriended Robertson, but his unease would only be exacerbated by Maxwell, whose anti-Indian sentiment and superiority complex would put the entire party on the wrong side of the locals.

************************

While notable for its pro-Indian sentiment and storyline alone, Robertson er Ruby is also perhaps unique in the sense that in the story, Satyajit Ray refers to a close friend – David McCutchion, who pioneered the academic study of the terracotta temples of Bangla. MuCutchion had probably died shortly before the story was published, and the Ray’s praise of McCutchion through the voice of Feluda can perhaps be regarded as a tribute to an old friend.