ছোটগল্প ১১৫ – ব্যোমকেশ বক্সী – চিত্রচোর / Short Story 115 – Byomkesh Bakshi – Chitrochor (The Picture Thief)

sharadindu-bandyopadhyay-byomkesh-bakshi-chitrochor

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Sharadindu Bandyopadhyay-Byomkesh-11 ChitroChor

ব্যোমকেশ বক্সীর গল্প – চিত্রচোর – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ ব্যোমকেশ বক্সীর একটি গল্প – চিত্রচোর। কঠিন অসুখ হতে সম্প্রতি আরোগ্য লাভ করা ব্যোমকেশ যখন কোন এক প্রত্যন্ত গঞ্জে হাওয়া বদলাতে এসেছে, এমন সময় সেখানে তাঁর এক আলাপীর ঘর হতে একটি ছবি চুরি যায়। মামুলি একটি ছবি কেন রহস্যজনকভাবে চুরি যাবে, তা কেউ বুঝে ওঠার আগেই সেই ভদ্রলোকের বন্ধুদের বাড়ি থেকেও ছবি চুরি যেতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যোমকেশকে ঘটনার তদন্তে নামতে হয়, আর সময়ের প্রবাহের সাথে সাথে অন্য সব কিছু ছাপিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে – ছবিগুলো চুরি যাওয়াই কি মূল ঘটনা, নাকি সেগুলো বড় কোন ঘটনার ভূমিকামাত্র?

Byomkesh Bakshi’s Adventures – ChitroChor (The Picture Thief) – Sharadindu Bandyopadhyay

A Byomkesh Bakshi story today. ChitroChor (The Picture Thief) starts with Byomkesh visiting some rural town as a change of air after a long illness. As it happens with detective stories, a mystery soon develops – a seemingly ordinary picture gets mysteriously stolen from the house of a wealthy local gentleman. Before anyone can figure out why, more thefts are reported – all pictures, and all belonging to the gentlemen’s friend circle. Byomkesh takes up the case, and he has to soon find whether the thefts are by themselves a thing, or whether they are leading up to something much bigger.

কবিতা ৬৩ – স্বপ্ন / Poem 63 – Swapna (The Dream)

rabindranath-thakur-swapna-1

আজ পাঠকদের ফেলে আসা রাত্রিগুলোকে মনে করিয়ে দেওয়ার মত একটি কবিতা – রবিঠাকুরের কলমে – দূরত্ব, ভালবাসা, আর তা হতে জন্ম নেওয়া স্বপ্নগুলোকে নিয়ে।

Today, a poem that will perhaps stir memories of nights past – written by the Rabindranath Thakur, Swapna (The Dream) is an achingly beautiful poem about dreams that are born out of love and separation.

স্বপ্ন

কাল রাতে দেখিনু স্বপন–
দেবতা-আশিস-সম     শিয়রে সে বসি মম
মুখে রাখি করুণনয়ন
কোমল অঙ্গুলি শিরে     বুলাইছে ধীরে ধীরে
সুধামাখা প্রিয়-পরশন–
কাল রাতে হেরিনু স্বপন।
হেরি সেই মুখপানে     বেদনা ভরিল প্রাণে
দুই চক্ষু জলে ছলছলি–
বুকভরা অভিমান     আলোড়িয়া মর্মস্থান
কণ্ঠে যেন উঠিল উছলি।
সে শুধু আকুল চোখে     নীরবে গভীর শোকে
শুধাইল, “কী হয়েছে তোর?”
কী বলিতে গিয়ে প্রাণ     ফেটে হল শতখান,
তখনি ভাঙিল ঘুমঘোর।
অন্ধকার নিশীথিনী     ঘুমাইছে একাকিনী,
অরণ্যে উঠিছে ঝিল্লিস্বর,
বাতায়নে ধ্রুবতারা     চেয়ে আছে নিদ্রাহারা–
নতনেত্রে গণিছে প্রহর।
দীপ-নির্বাপিত ঘরে     শুয়ে শূন্য শয্যা-‘পরে
ভাবিতে লাগিনু কতক্ষণ–
শিথানে মাথাটি থুয়ে     সেও একা শুয়ে শুয়ে
কী জানি কী হেরিছে স্বপন
দ্বিপ্রহরা যামিনী যখন।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (চৈতালি হতে সংগ্রহীত)

Swapna (The Dream)
(Translated by the poet himself)

I dreamt that she sat by my head,
tenderly ruffling my hair with her fingers,
playing the melody of her touch.
I looked at her face and struggled with my tears,
till the agony of unspoken words burst my sleep like a bubble.

I sat up and saw the glow of the milky way
above my window, like a world of silence on fire,
and I wondered if at this moment
she had a dream that rhymed with mine.

– Rabindranath Thakur (Collected from Chaitali)

 

কবিতা ৬০ – স্বল্পশেষ / Poem 60 – Swalpashesh (The Little That Remains)

rabindranath-thakur-swalpashesh-2

রবিঠাকুরের প্রেমের কবিতাগুলোর অনেক বৈশিষ্ট্যই পাঠকের মনকে নাড়া দেওয়ার মত, তবে সেগুলোর একটি দিক, যা আমার খুব ভাল লাগে তা হল এই, যে কবিগুরুর ভালবাসার বর্ণনায় অহংকারের বালাই নেই বললেই চলে। প্রিয়জনের প্রতি মানুষের ভালবাসা যে কতটুকু পবিত্র, স্বার্থহীন ও ভক্তিপূর্ণ হতে পারে, তা বোধহয় রবীন্দ্রনাথের মত গভীর আবেগে খুব কম লেখকই ব্যক্ত করতে পেরেছেন। কে জানে, কবিগুরুর মত করে লিখতে গেলে হয়তো তাঁর মত করে হারাতে ও ভালবাসতেও হয় – ব্যক্তিগত জীবনে যে রবিঠাকুর ব্যাথা পেয়েছিলেন অনেক, তা তো আর আমাদের অজানা নয়।

আজকের লেখাটি আমার জানা রবিঠাকুরের সবচেয়ে প্রেমার্দ্র কবিতাগুলোর মধ্যে একটি – স্বল্পশেষ – যা সবকিছু সাঙ্গ হওয়ার পরেও যে ভালবাসাটুকু শ্বাশত হয়ে থেকে যায়, তা দিয়ে প্রিয়জনকে শেষবার সাজিয়ে দিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিদায় নেওয়া নিয়ে।

I have been wondering this for some time now: is love a selfish desire to possess a cherished someone, or is it the giving away of the self to that same person? To be honest, I do not know… Perhaps it is both of those – entwined in a manner that foments the inextricable mix of tenderness, affection, passion and jealousy that we know love can be? But of all its forms, perhaps love is truest and most sacred when it leaves the lover overshadowed and forgotten in its profundity. I am speculating, of course – of love and its depth, I would know little. But if words are ever true, then the following poem by Thakur would be a fitting testament to the belief – The Little That Remains is a weary man’s song for the girl he loves.

স্বল্পশেষ

অধিক কিছু নেই গো কিছু নেই,
কিছু নেই–
যা আছে তা এই গো শুধু এই,
শুধু এই।
যা ছিল তা শেষ করেছি
একটি বসন্তেই।
আজ যা কিছু বাকি আছে
সামান্য এই দান–
তাই নিয়ে কি রচি দিব
একটি ছোটো গান?

একটি ছোটো মালা তোমার
হাতের হবে বালা।
একটি ছোটো ফুল তোমার
কানের হবে দুল।
একটি তরুলতায় ব’সে
একটি ছোটো খেলায়
হারিয়ে দিয়ে যাবে মোরে
একটি সন্ধেবেলায়।
অধিক কিছু নেই গো কিছু নেই,
কিছু নেই।
যা আছে তা এই গো শুধু এই,
শুধু এই।
ঘাটে আমি একলা বসে রই,
ওগো আয়!
বর্ষানদী পার হবি কি ওই–
হায় গো হায়!
অকূল-মাঝে ভাসবি কে গো
ভেলার ভরসায়।

আমার তরীখান
সইবে না তুফান;
তবু যদি লীলাভরে
চরণ কর দান,
শান্ত তীরে তীরে তোমায়
বাইব ধীরে ধীরে।
একটি কুমুদ তুলে তোমার
পরিয়ে দেব চুলে।
ভেসে ভেসে শুনবে বসে
কত কোকিল ডাকে
কূলে কূলে কুঞ্জবনে
নীপের শাখে শাখে।

ক্ষুদ্র আমার তরীখানি–
সত্য করি কই,
হায় গো পথিক, হায়,
তোমায় নিয়ে একলা নায়ে
পার হব না ওই
আকুল যমুনায়।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ক্ষণিকা হতে সংগ্রহীত)

Swalpashesh (The Little That Remains)
Translated by the Poet himself

It is little that remains now, the rest was spent in one careless summer. It is just enough to put in a song and sing to you; to weave in a flower- chain gently clasping your wrist; to hang in your ear like a round pink pearl, like a blushing whisper; to risk in a game one evening and utterly lose.

My boat is a frail small thing, not fit for crossing wild waves in the rain. If you but lightly step on it I shall gently row you by the shelter of the shore, where the dark water in ripples are like a dream-ruffled sleep; where the dove’s cooing from the drooping branches makes the noon- day shadows plaintive. At the day’s end, when you are tired, I shall pluck a dripping lily to put in your hair and take my leave.

– Rabindranath Thakur (Collected from Lover’s Gift)

কবিতা ৫৫ – কথা ছিল এক-তরীতে / Poem 55 – Katha Chhilo Ek Tori Te (It Was Whispered)

Rabindranath Thakur-Katha Chhilo Ek Tori Te (1)

সাহিত্যালাপের নামে পাঠকদের উপর যা চাপিয়ে দেই, তার অনেকটুকুই যে ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের বহিঃপ্রকাশ, এই সাইটে তা আমি স্বীকার করেছি আগেই। সম্প্রতি অবশ্য সেটিকেও ছাড়িয়ে আপলোডগুলোতে অতীত জীবনের দিনলিপীর পাতাগুলোই উঠে এসেছে বেশি। জানিনা কেন, তবে ফেলে আসা দিনগুলির কথা মনে পড়া কি খুব দোষের? আজ তাই পুরোনো স্মৃতি-জাগানো আরেকটি কবিতা – অপেক্ষা নিয়ে।

Of late, the choice of poems on this website has more been a reflection of the feelings than literary bias at this end. Perhaps that is because of how sobering it has been to get an inkling of the range and depth of human feelings – if only that wisdom and sadness did not go hand in hand! The realization of how much more there still is to learn and grow can be a bit overwhelming sometimes – but it also teaches one to be loving and kind, perhaps to a fault, but for some of us, that is the best we can ever hope to be.

Katha Chhilo Ek Tori Te (It Was Whispered) is a poem about waiting – expressed with a tenderness and sincere longing that perhaps only Rabindranath Thakur could. If you have ever waited  in earnest for someone, or will be returning to someone who has, then this poem is for you.

কথা ছিল এক-তরীতে

কথা ছিল এক-তরীতে কেবল তুমি আমি
যাব   অকারণে ভেসে কেবল ভেসে,
ত্রিভুবনে জানবে না কেউ আমরা তীর্থগামী
কোথায়   যেতেছি কোন্‌ দেশে সে কোন্‌ দেশে।
কূলহারা সেই সমুদ্র-মাঝখানে
শোনাব গান একলা তোমার কানে,
ঢেউয়ের মতন ভাষা-বাঁধন-হারা
আমার   সেই রাগিণী শুনবে নীরব হেসে।

           আজো সময়  হয় নি কি তার, কাজ কি আছে বাকি।
ওগো  ওই-যে সন্ধ্যা নামে সাগরতীরে।
মলিন আলোয় পাখা মেলে সিন্ধুপারের পাখি
আপন   কুলায়-মাঝে সবাই এল ফিরে।
কখন তুমি আসবে ঘাটের ‘পরে
বাঁধনটুকু কেটে দেবার তরে।
অস্তরবির শেষ আলোটির মতো
তরী   নিশীথমাঝে যাবে নিরুদ্দেশে।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গীতাঞ্জলী  হতে সংগ্রহীত)

Katha Chhilo Ek Tori Te (It Was Whispered)
(Translated by the poet himself)

Early in the day it was whispered
that we should sail in a boat, only thou and I,
and never a soul in the world would know of this
our pilgrimage to no country and to no end.

In that shoreless ocean,
at thy silently listening smile
my songs would swell in melodies,
free as waves, free from all bondage of words.

Is the time not come yet?
Are there works still to do?
Lo, the evening has come down upon the shore
and in the fading light
the seabirds come flying to their nests.

Who knows when the chains will be off,
and the boat, like the last glimmer of sunset,
vanish into the night?

– Rabindranath Thakur (Collected from Gitanjali)

কবিতা ৫০ – আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই / Poem 50 – Amar Gharete Aar Nai She Je Nai (Brink of Eternity)

Rabindranath Thakur-Amar Gharete Ar Nai

আজ পাঠকদের জন্যে নীলচে একটি কবিতা। হারানো কোন প্রিয়জনকে নিয়ে বিরহ, আর তাঁকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খা যে কতটুকু তীব্র হতে পারে, রবীন্দ্রনাথের আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই  কবিতাটিতে তা ব্যাকুলরূপে প্রতিমূর্ত হয়ে উঠেছে। স্থান ও কালের যে অসীমতাকে আমরা ঈশ্বরের একটি রূপ বলে জানি, বিলীন হয়ে যাওয়া সমস্ত কিছুর ঠাঁই তো তারই মাঝে হয়। প্রিয়জনের খোঁজে ক্লান্ত আর পরাজিত মনটির যদি ঈশ্বরের কাছে শেষ আর্তি বলে কিছু থেকে থাকে, তবে তা সেই অসীমতায় হারিয়ে গিয়ে সেই হারানো জনের সাথে একাকার হয়ে যেতে চাওয়া ছাড়া আর কি হতে পারে? পাঠকদের মাঝে যদি কেউ প্রবল আবেগ দিয়ে কাউকে ভালবেসে থাকেন, তিনি জানবেন হয়তো।

Today, a heartbreakingly beautiful poem for your contemplation: in Amar Gharete Aar Nai She Je Nai (Brink of Eternity), Rabindranath Thakur inks his longing for a beloved someone into lines so profound that they leave us awestruck at the infinitude of Creation and the intensity of human feeling. Yearning for someone he has lost, Thakur knows that his search for her is only in vain, so standing on the brink of the Eternal and the Infinite – where all that was exists forever – he tearfully asks God to immerse him in that eternity… wishing nothing more than to feel, for once, her “lost sweet touch in the allness of the Universe”.

Finding words that give voice to a overwhelming love and longing may give solace to those who know the feeling. If you have ever felt anything close, this poem is for you.

আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই

আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই–
যাই আর ফিরে আসি, খুঁজিয়া না পাই।
আমার ঘরেতে নাথ, এইটুকু স্থান–
সেথা হতে যা হারায় মেলে না সন্ধান।
অনন্ত তোমার গৃহ, বিশ্বময় ধাম,
হে নাথ, খুঁজিতে তারে সেথা আসিলাম।
দাঁড়ালেম তব সন্ধ্যা-গগনের তলে,
চাহিলাম তোমা-পানে নয়নের জলে।
কোনো মুখ, কোনো সুখ, আশাতৃষা কোনো
যেথা হতে হারাইতে পারে না কখনো,
সেথায় এনেছি মোর পীড়িত এ হিয়া–
দাও তারে, দাও তারে, দাও ডুবাইয়া।
ঘরে মোর নাহি আর যে অমৃতরস
বিশ্ব-মাঝে পাই সেই হারানো পরশ।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গীতাঞ্জলী হতে সংগ্রহিত)

Brink of Eternity
(Translated by the Poet himself)

In desperate hope I go
and search for her
in all the corners of my room;
I find her not.

My house is small and
what once has gone from it
can never be regained.

But infinite is thy mansion,
my lord, and seeking her
I have to come to thy door.

I stand under the golden canopy
of thine evening sky and
I lift my eager eyes to thy face.

I have come to the brink of eternity
from which nothing can vanish —
no hope, no happiness,
no vision of a face seen through tears.

Oh, dip my emptied life
into that ocean, plunge it
into the deepest fullness.
Let me for once feel that
lost sweet touch
in the allness of the universe.

– Rabindranath Thakur (Collected from Gitanjali)

গান ৪৮ – মিলন হবে কত দিনে / Song 48 – Milan Habe Kato Dine (When will I be united?)

আরেকবার লালন, আর এবার মনের মানুষের সাথে মিলিত হওয়ার গভীর আকাঙ্খা নিয়ে একটি গান। লালন সাঁই তার গানগুলির অনেককটিই রচনা করেছিলেন লোকজ হিন্দু কিংবা মুসলিম আধ্যাত্মিকতার উপর ভিত্তি করে। মিলন হবে কত দিনে  তারই একটি উদাহরণ – গানটি লালন খুব সম্ভবত লিখেছিলেন প্রতিটি মানুষের অন্তঃস্থলে সেই রাধাকে দেখতে পেয়ে, যে তার কৃষ্ণের জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষা করে থাকে। আরাধ্যজনের প্রতি গভীর প্রেম ও ভক্তি নিয়ে লেখা এই গানটি আজও সমগ্র বাংলাজুড়ে মানুষের মুখে মুখে ফেরে, তাই অনবদ্য এই সংযোজনটুকু আজ ডঃ ক্যারল স্যালোমন এর অনুবাদসহ এখানে তুলে দিলাম। আশা করি পাঠকদের ভাল লাগবে।

পুনশ্চ – ইউটিউবে খোঁজ করতে গিয়ে নিচে সংযোজিত গানটি খুঁজে পেলাম। একজন বাঙ্গালী হিসেবে বাউলগীতির সাথে হিন্দী মেশানোটা আদৌ কাঙ্খিত কিনা, আমার কাছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তবে হাজার হোক, লালনের গান এটি, ভাষা ও জাতপাতের বিচারটুকু নাহয় আজ তুলেই রাখি। তাছাড়া প্রথাগতের সাথে নতুন সুরের সংমিশ্রণটুকুও মন্দ লাগেনি, তাই গানটি এখানে তুলে দেওয়া।

Again, a song written by the King among Bauls, and this time, one in which the singer seeks union with the one who holds his/her heart. Lalon often heavily borrowed from Hindu and Muslim mystic thought when writing his songs, and Milan Habe Kato Dine (When will I be united) is one of the most beautiful examples of such borrowal. In the song, Lalon speaks as Radha, who is pining away for her Krishna, but it could not be clearer that in doing so, he is giving voice to the yearning self – or the Radha, if you prefer – within each of us. As I once mentioned in an earlier post, Lalon’s songs were meant to be sung from deep within us, so for your heart and your senses, a rather modern rendition of the song, along with the orginal Bangla lyrics and an English translation by the late Dr. Carol Salomon. Sing along. 🙂

P.s. One might wonder if the addition of Hindi lyrics in the rendition below is amounts to bastardization, but aren’t Lalon’s songs all about transcending religious, caste and cultural barriers? Perhaps such arguments are best reserved for other genres, because however we sing the Baul Samrat’s songs, the message remains unsullied, and the songs remain Lalon’s alone.

মিলন হবে কত দিনে / Milan Habe Kato Dine (When will I be united)

মিলন হবে কত দিনে
আমার মনের মানুষের ও সনে ।।

চাতক প্রায় অহর্নিশি
চেয়ে আছে কালো শশী
হবো বলে চরন দাসী
ও তা হয়না কপাল গুনে ।।

মেঘের বিদ্যুৎ মেঘে যেমন
লুকালে না পাই অন্বেষণ
কালারে হারায়ে তেমন
ঐ রূপ হেরিয়ে দর্পণে।।

যখন ও রূপ স্মরণ হয়
থাকে না লোক লজ্জার ও ভয়
লালন ফকির ভেবে বলে সদাই
প্রেম যে করে সে জানে।

(Translation by Dr. Carol Salomon)

When will I be united with the Man of my Heart?
Day and night like a rainbird I long for the Dark Moon,
hoping to become his maidservant.
But this is not my fate.

I caught a glimpse of my Dark Lord in a dream,
and then he was gone like a flash of lightning
vanishing into the cloud it came from, leaving no trace.
Meditating on his image I lose all fear of disgrace.

Poor Lalon says, he who always loves, knows.

– লালন সাঁই / Lalon Sain

 

গান ৪৬ – আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে / Song 46 – Aaj Jyotsna-raate Sabai Gechhe Bone (On This Moon-soaked Night)

Rabindranath Thakur-Aaj Jyotsnaraate (2)

বেশ কিছুদিন ধরেই রবিঠাকুরের লেখাগুলোর মাঝে ডুবে আছি, তাই এই সাইটটির সাম্প্রতিক সংযোজনগুলোর ধারাবাহিকতায় আজ কবিগুরুর আরেকটি কবিতা। আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে  গানটি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন বোলপুরে থাকাকালে কোন এক জ্যোৎস্নালোকিত রাতে, সাহিত্যিক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ণনায়

“কোন এক উৎসব উপলক্ষে আমরা বহু লোক বোলপুরে গিয়েছিলাম। খুব সম্ভব ‘রাজা’ নাটক অভিনয় উপলক্ষে। বসন্তকাল, জ্যোৎস্না রাত্রি। যত স্ত্রীলোক ও পুরুষ এসেছিলেন তাঁদের সকলেই প্রায় পারুলডাঙ্গা নামক এক রম্য বনে বেড়াতে গিয়েছিলেন। কেবল আমি যাইনি রাত জাগবার ভয়ে।… গভীর রাত্রি, হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, মনে হল যেন ‘শান্তিনিকেতনের’ নীচের তলার সামনের মাঠ থেকে কার মৃদু মধুর গানের স্বর ভেসে আসছে। আমি উঠে ছাদে আলসের ধারে গিয়ে দেখলাম, কবিগুরু জ্যোৎস্নাপ্লাবিত খোলা জায়গায় পায়চারি করছেন আর গুন্‌গুন্‌ করে গান গাইছেন। আমি খালি পায়ে ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেলাম, কিন্তু তিনি আমাকে লক্ষ করলেন না।, আপন মনে যেমন গান গেয়ে গেয়ে পায়চারি করছিলেন তেমনি পায়চারি করতে করতে গান গাইতে লাগলেন। গান গাইছিলেন মৃদুস্বরে।  তিনি গাইছিলেন ‘আজ জ্যোৎস্নারাতে…”।

পুত্র শমীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরে কোন এক জ্যোৎস্নালোকিত রাত্রিতে তাঁকে মনে করে রবিঠাকুর এই গানটি লিখেছিলেন, এমন একটি ইতিকথা বাঙ্গালীদের মাঝে প্রচলিত। কিন্তু গানটি সত্যিই ঐ প্রেক্ষাপটে লেখা কিনা আমি জানিনা। কিন্তু এটুকু মনে হয় যে প্রিয় কিংবা আরাধ্য কোনও জনের জন্য গভীর ভালবাসা আর বেদনাভরা অপেক্ষা এমন আবেগভরে বোধহয় আর কোনও লেখায় বর্ণিত হয়নি। পাঠকদের মন আর্দ্র করে দিতে তাই গানের পংক্তিগুলো আজ এখানে তুলে দিলাম।

পুনশ্চ – গানটির উপরোক্ত ইতিহাস, এবং এডওয়ার্ড থমসনের লেখা সেটির নিম্নোক্ত ইংরেজি অনুবাদ আমি পেয়েছি গীতবিতান.নেট ওয়েবসাইটটিতে। রবীন্দ্রসংগীতের ব্যাপারে যারা বিস্তারিত জানতে চান, তাদের পৃষ্ঠাটিতে ঘুরে আসার আমন্ত্রণ ও অনুরোধ রইল। তাছাড়া যারা গান শুনতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে ইউটিউবে পাওয়া গানটির একটি ভিডিও নিচে সংযুক্ত করে দিলাম।

In continuation of my recent immersion in Rabindranath Thakur’s works, another of his songs. From anecdotal evidence, we know that Aaj Jyotsnaraate Sabai Gechhe Bone (On This Moon-soaked Night) was written by Thakur on a moonlit night in Bolpur, but whether it was written from grief at the loss of his younger son Shamindranath, we will perhaps never know. One can be sure, however, that that few works, if any, express with such tenderness the yearning and pain that accompanies Man’s separation from and wait to find a cherished someone (or perhaps God Himself, depending on how you read the poem) he has lost. For the softer corner of your heart, therefore, this song.

P.s. For non-native speakers, I have included two English translations of the song below. The anecdotes about the poem and the translation by Edward Thomson were found in http://www.gitabitan.net, which has a beautiful collection of Thakur’s songs and associated materials. Do take a peek. Also, if you prefer the words sung, you will find a YouTube video of a rendition at the end of this post.

আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে

আজ    জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে ॥
যাব না গো যাব না যে,   রইনু পড়ে ঘরের মাঝে–
এই নিরালায় রব আপন কোণে।
যাব না এই মাতাল সমীরণে ॥

আমার এ ঘর বহু যতন ক’রে
ধুতে হবে মুছতে হবে মোরে।
আমারে যে জাগতে হবে,   কী জানি সে আসবে কবে
যদি আমায় পড়ে তাহার মনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহিত)

Aj Jyotsnarate Shabai Geche Bone (On This Moon-soaked Night)

Translation – Version 1- Edward Thomson
(Rabindranath Tagore: The Augustan Books of Modern Poetry, Ernest Benn Ltd. London, 1925)

They have all gone to the woods in this moonlit night,
In the south wind drunken with Spring’s delight.
But I will not go, will not go;
I will stay in the house, and so
Wait in my lonely corner-this night
I will not go in this south wind drunk with delight.

Rather, this room with care
I must scour and cleanse and prepare;
For … if He remembers me, then
He will come, though I know not when;
They must wake me swiftly. I will not fare
Out where the drunk wind reels through the air.

Translation – Version 2

On this moon-soaked night,
they have all gone to frolic in the forest.
The drunk spring breeze beckons, “Come!”
but heed it I will not.
In this desolate corner of my house, I will remain.
No I will not go into this intoxicating night.

I will stay behind
and clean my room with care.
Who knows when he may come?
Remain I must, perchance he remembers me,
and the drunk winds bring him here,
in this moonlit night.
I must stay awake.

– Rabindranath Thakur

গান ৪৫ – যদি প্রেম দিলে না প্রাণে / Song 45 – Jodi Prem Dile Na Praane (If Love Be Denied Me)

Rabindranath Thakur-Jodi Prem Dile Na Praane (1)

ঈশ্বরের কাছে আর্তিমাখা কিছু প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর তাঁর নীরবতার মাঝেই আমাদের খুঁজে নিতে হয়। আজ মন খারাপের বৃষ্টিভেজা একটি দিন, তাই।

On questions which God only answers through His silence, a few beautifully written lines by Rabindranath Thakur – for the days when it drizzles in your mind.

যদি প্রেম দিলে না প্রাণে

যদি প্রেম দিলে না প্রাণে
কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে?।
কেন তারার মালা গাঁথা,
কেন ফুলের শয়ন পাতা,
কেন দখিন-হাওয়া গোপন কথা জানায় কানে কানে?।
যদি প্রেম দিলে না প্রাণে
কেন আকাশ তবে এমন চাওয়া চায় এ মুখের পানে?
তবে ক্ষণে ক্ষণে কেন
আমার হৃদয় পাগল-হেন
তরী সেই সাগরে ভাসায় যাহার কূল সে নাহি জানে?।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহিত)

Jodi Prem Dile Na Praane (If love be denied me)

If love be denied me
then why does the morning break its heart in songs,
and why are these whispers
that the south wind scatters among the new- born leaves?
If love be denied me then why does the midnight
bear in yearning silence the pain of the stars?
And why does this foolish heart
recklessly launch its hope on the sea whose end it does not know?

– Rabindranath Thakur
(Collected from Crossing/Puja. Translated by the poet himself)

গান ৪৩ – আমার সোনার হরিণ চাই / Song 43 – Amar Sonar Horin Chai (The Golden Deer I want)

রবীন্দ্রনাথের আরেকটি কবিতা – জীবনে অব্যাখ্যনীয় আকাঙ্ক্ষাগুলোর বশে যেটি পাওয়ার নয়, সব কিছু ভুলে তার পিছনে ছোটা নিয়ে।

On unfathomable desires and our vain pursuits of those, a poem by Rabi Thakur. A slightly modified version of a wonderful translation by Anindya Chaudhuri follows. The first link also features a translation by Rumela Sengupta, who, along with a few others, have written exquisite translations of Thakur’s works here.

Rabindranath Thakur-Tora Je Ja Bolish Bhai (2)

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে কাউবয়ফাঙ্ক এর ওয়েব পাতায় / Original artwork by Cowboifunk)

আমার সোনার হরিণ চাই

তোরা  যে যা বলিস ভাই,      আমার সোনার হরিণ চাই।
মনোহরণ চপলচরণ সোনার হরিণ চাই॥
সে-যে  চমকে বেড়ায় দৃষ্টি এড়ায়, যায় না তারে বাঁধা।
সে-যে  নাগাল পেলে পালায় ঠেলে, লাগায় চোখে ধাঁদা।
আমি    ছুটব পিছে মিছে মিছে পাই বা নাহি পাই–
আামি   আপন-মনে মাঠে বনে উধাও হয়ে ধাই॥
তোরা  পাবার জিনিস হাতে কিনিস, রাখিস ঘরে ভরে–
যারে    যায় না পাওয়া তারি হাওয়া লাগল কেন মোরে।
আমার  যা ছিল তা গেল ঘুচে যা নেই তার ঝোঁকে–
আমার  ফুরোয় পুঁজি, ভাবিস, বুঝি মরি তারি শোকে?
আমি    আছি সুখে হাস্যমুখে, দুঃখ আমার নাই।
আমি    আপন-মনে মাঠে বনে উধাও হয়ে ধাই॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রেম হতে সংগ্রহীত)

Amar Sonar Harin Chai (The Golden Deer I want)

Say what you may, the golden deer I want
Elusive it may be, a futile hunt
One who enthrals with her presence but evades my sight
One whom no chains can bind
One who evades my reach from morn to night
I see her hither thither and again I go blind
I wander in pursuit –I know it isn’t right
Darkness around me in broad day light.
You spend your fortune acquiring the cheap
I sow the seeds which no man can reap.
What I had, I wasted
In pursuit of the vain
Think not that I lament
That I am left with no grain
I live life I have a laugh
I am miles away from pain

– Rabindranath Thakur (Translation by Anindya Chaudhuri)

কবিতা ৩৩ – লেখন আমার ম্লান হয়ে আসে / Poem 33 – Lekhan Amar Mlano Hoye Ashe (The Closing Words That Fade)

Rabindranath Thakur-Lekhan Amar (2)

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে ক্যান্ডেস জেম্‌স এর ওয়েব পাতায় / Original of the edited photo taken from candacejames.com)

আজ রবিঠাকুরের একটি কবিতা। জীবনে যেসব মানুষের প্রতি বলতে চাওয়া কিছু কথা চিরকাল অব্যক্ত থেকে যাবে, তাদের মনে রেখে।

On this day, a poem by Rabindranath Thakur – meant for the people in our lives whom we never get to tell how we feel for them. A poor attempt at translation follows.

লেখন আমার ম্লান হয়ে আসে

লেখন আমার ম্লান হয়ে আসে
অক্ষরে
এখন গোপনে ফুটিয়া উঠিছে,
অন্তরে।

অনাহত বাণী মনে তুলে নিয়ে
রেখো তারে তব স্মরণে
স্থায়ী হয়ে যাবে যখন সে বাণী
তরিয়া যাইবে মরণে।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (স্ফুলিঙ্গ – অপ্রচলিত সংগ্রহ)

Lekhan Amar Mlan Hoye Ashe (The Closing Words That Fade)

The closing words that fade
with the dying ink
Today etch themselves
unfadingly on the heart.

Friend, those unwritten lines
keep alive in your memory.
For in the stasis of writing
the song
would only meet its end.

– Rabindranath Thakur (Sphulinga – Apracholito Sangraha)

কবিতা ৩২ – বিদায় / Poem 32 – Biday (Farewell)

Rabindranath Thakur-Biday

আজ রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা। জীবন থেকে হেলায় হারানো লাবণ্যটুকুকে মনে করে পড়বার জন্যে। আজও ভালবাসি, তাই।

This time, one of Rabindranath Thakur’s most beautiful poems – Biday (Farewell). The poem is meant to be the last words a person can say to his/her beloved before they part – if you have ever said goodbye to someone who you will never stop loving, this poem is for you. A slightly modified version of a wonderful translation by Rumela Sengupta follows.

বিদায়

কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও।
তারি রথ নিত্যই উধাও
জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন,
চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষ-ফাটা তারার ক্রন্দন।
ওগো বন্ধু, সেই ধাবমান কাল
জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেলি তার জাল–
তুলে নিল দ্রুতরথে
দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে
তোমা হতে বহুদূরে।
মনে হয় অজস্র মৃত্যুরে
পার হয়ে আসিলাম
আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়,
রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
আমার পুরানো নাম।
ফিরিবার পথ নাহি;
দূর হতে যদি দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়।

কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে,
বসন্তবাতাসে
অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,
ঝরা বকুলের কান্না ব্যথিবে আকাশ,
সেইক্ষণে খুঁজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে
তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃতপ্রদোষে
হয়তো দিবে সে জ্যোতি,
হয়তো ধরিবে কভু নামহারা-স্বপ্নের মুরতি।
তবু সে তো স্বপ্ন নয়,
সব চেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়,
সে আমার প্রেম।
তারে আমি রাখিয়া এলেম
অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে।
পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে
কালের যাত্রায়।
হে বন্ধু, বিদায়।
তোমার হয় নি কোনো ক্ষতি
মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃত-মুরতি
যদি সৃষ্টি করে থাক, তাহারি আরতি
হোক তব সন্ধ্যাবেলা।
পূজার সে খেলা
ব্যাঘাত পাবে না মোর প্রত্যহের ম্লানস্পর্শ লেগে;
তৃষার্ত আবেগবেগে
ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোনো ফুল নৈবেদ্যের থালে।
তোমার মানসভোজে সযত্নে সাজালে
যে ভাবরসের পাত্র বাণীর তৃষায়,
তার সাথে দিব না মিশায়ে
যা মোর ধূলির ধন, যা মোর চক্ষের জলে ভিজে।
আজও তুমি নিজে
হয়তো বা করিবে রচন
মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন।
ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়।
হে বন্ধু, বিদায়।

মোর লাগি করিয়ো না শোক,
আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।
মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই,
শূন্যেরে করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই।
উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে
সেই ধন্য করিবে আমাকে।
শুক্লপক্ষ হতে আনি
রজনীগন্ধার বৃন্তখানি
যে পারে সাজাতে
অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ-রাতে,
যে আমারে দেখিবারে পায়
অসীম ক্ষমায়
ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।
তোমারে যা দিয়েছিনু, তার
পেয়েছ নিঃশেষ অধিকার।
হেথা মোর তিলে তিলে দান,
করুণ মুহূর্তগুলি গণ্ডূষ ভরিয়া করে পান
হৃদয়-অঞ্জলি হতে মম।
ওগো তুমি নিরুপম,
হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান;
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Biday (Farewell)

Do you hear the wheels of time rumble
It’s chariot disappearing in a flash
It arouses a vibration of heartbeats in the vast ether
Heartbroken sobs of stars glisten in trampled darkness
My friend
That fleeting time
Embraces me, weaving it’s web
Lifts me to that speeding chariot
En route the dare-devil journey
Far, far away from you
I feel, a thousand deaths
I have faced to come here
At the summit of this new dawn –
The chariot’s restless pace
Sets free my name of yore – aflutter in the breeze
I have no means of turning back
If you see me from afar
You will know me not
My friend, farewell.

Some day, in respite from work
In the fullness of leisure amidst a soft spring breeze
On a night when deep sighs float forth from shores of the past
Wails of withered bakul flowers pierce the skies
In that moment search and see
A part of me is left behind in the margins of your life.
In the oblivion of dusk, it may hold some light
It may, in nameless dreams, take form.
Yet a dream it is not
My truth above all it is,
Death-defying
It is my love.
That I have left behind
Unchanging homage in your name
I float on with the flow of change
With the journey of time
My friend, farewell.

A loss it is not for you
Merely mortal my clay
If you have created with it an idol immortal
Let it be worshipped at eventide
That game of devotion will not be hindered
Tarnished not by my daily touch
Not one flower detached from the salver of floral offering
The festive spread of your mind that you garnish with care
With the sweet juice of emotion to quench the desire of expression
I will not adulterate it with my riches that are mere dust
With that, which is moist with my tears
Even today you may design your creation
With words woven in dreams of just my memory
Weighed not down nor moored to obligation
My friend, farewell.

Grieve not for me
I have my work
I have this whole wide world
My vessel, empty it is not
I will make whole each void
This vow I take forevermore.
If there be one who is
For me anxiously awaiting
That very one will fulfill me
The one who brings a tuberose stalk
From the night of the waxing moon
To decorate the salver of sacrifice
When it wanes
Who sees me as I am
Virtues and vices all
With boundless forgiveness
In worship of the one
Now I wish to give up myself.
What I have given you
Your right to that remains endless
An iota it is
That I give here and now
Pitiable moments
That sip in mere fistfuls
From this heart of mine
It’s hands folded in prayer
What I have given you
Was your own gift to me
The more you accepted
The more indebted you made me
My friend, farewell!

Rabindranath Thakur (Translated by Rumela Sengupta)

ছোটগল্প ৭৬ – মন্মথ / Short Story 76 – Manmath

Banaful-Manmath

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Manmath

মন্মথ – বনফুল

বনফুলের আরেকটি গল্প। এরকম লেখাগুলো বনফুলের মাথায় কেমন করে আসে জানিনা, কিন্তু প্রেমের বন্যায় ভেসে যাওয়া যেসব প্রেমিকপুরুষেরা বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছেন, তাদেরই মধ্যে কোন এক মন্মথ কে নিয়ে লেখা এই মজার গল্পটি প্রতিটি বাঙ্গালী ছেলেদেরই একবার হলেও পড়া উচিত – পাছে তাদের জীবনেও এটি সত্য হয়ে যায়!

Manmath – Banaful

A story of love and letters, with a hilarious twist – if you are a Bangalee man, and have fallen hopelessly in love for the first time, read this as a warning. If you are hopelessly in love for the second time, read this as a reminder of what you may have done the first time.

 

ছোটগল্প ৪৪ – ভ্রষ্ট লগ্ন / Short Story 44 – Bhrashta Lagna

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Banaful-Bhrashta Lagna

ভ্রষ্ট লগ্ন – বনফুল

একজন তন্বীর রূপের অহংকার, একটি ছেলের অন্ধ ভালবাসা, আর সময়ের সাথে সাথে দুটোরই বদলে যাওয়ার একটি করুণ গল্প – বনফুলের লেখা।

Bhrasta Lagna – Banaful

A story – this time by Banaful – of a girl’s vanity and a boy’s blind love, and the turning of tables towards an unexpected end.

কবিতা ১২ – হঠাৎ দেখা / Poem 12 – Hathat Dekha (An Unexpected Reunion)

Hathat Dekha (2)

পূর্ণতা না পাওয়া ভালবাসাগুলো হৃদয়ের মাঝে অতীতের যে মানুষটিকে ঘিরে আবর্তিত হয়, তারই সাথে যদি অনেকদিন পর হঠাৎ দেখা হয়ে যায়, তখন মনে কি অনুভূতি জাগে? যারা তা জানেন, আজ তাদের জন্য রবি ঠাকুরের একটি কবিতা, দুটি মানুষের ক্ষণিকের পুনর্মিলন, দ্বিধান্বিত ভালবাসা আর পুনর্বিচ্ছেদ নিয়ে।

This time, a poem about the feelings that separation from the beloved sustains within us, and how unexpected reunions rekindle old emotions and questions whose answers only lead to more. In Hathat Dekha (An Unexpected Reunion), Rabindranath Tagore narrates one such reunion – a chance encounter between former lovers on a train. A crudely translated excerpt is provided below the original.

হঠাৎ দেখা

রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা,
ভাবি নি সম্ভব হবে কোনোদিন।
আগে ওকে বারবার দেখেছি
লালরঙের শাড়িতে
দালিম ফুলের মতো রাঙা;
আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়,
আঁচল তুলেছে মাথায়
দোলনচাঁপার মতো চিকনগৌর মুখখানি ঘিরে।
মনে হল, কালো রঙে একটা গভীর দূরত্ব
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চার দিকে,
যে দূরত্ব সর্ষেখেতের শেষ সীমানায়
শালবনের নীলাঞ্জনে।
থমকে গেল আমার সমস্ত মনটা;
চেনা লোককে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে।
হঠাৎ খবরের কাগজ ফেলে দিয়ে
আমাকে করলে নমস্কার।
সমাজবিধির পথ গেল খুলে,
আলাপ করলেম শুরু —
কেমন আছ, কেমন চলছে সংসার
ইত্যাদি।
সে রইল জানলার বাইরের দিকে চেয়ে
যেন কাছের দিনের ছোঁয়াচ-পার-হওয়া চাহনিতে।
দিলে অত্যন্ত ছোটো দুটো-একটা জবাব,
কোনোটা বা দিলেই না।
বুঝিয়ে দিলে হাতের অস্থিরতায় —
কেন এ-সব কথা,
এর চেয়ে অনেক ভালো চুপ করে থাকা।
আমি ছিলেম অন্য বেঞ্চিতে
ওর সাথিদের সঙ্গে।
এক সময়ে আঙুল নেড়ে জানালে কাছে আসতে।
মনে হল কম সাহস নয়;
বসলুম ওর এক-বেঞ্চিতে।
গাড়ির আওয়াজের আড়ালে
বললে মৃদুস্বরে,
“কিছু মনে কোরো না,
সময় কোথা সময় নষ্ট করবার।
আমাকে নামতে হবে পরের স্টেশনেই;
দূরে যাবে তুমি,
দেখা হবে না আর কোনোদিনই।
তাই যে প্রশ্নটার জবাব এতকাল থেমে আছে,
শুনব তোমার মুখে।
সত্য করে বলবে তো?
আমি বললেম, “বলব।”
বাইরের আকাশের দিকে তাকিয়েই শুধোল,
“আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে,
কিছুই কি নেই বাকি।”
একটুকু রইলেম চুপ করে;
তারপর বললেম,
“রাতের সব তারাই আছে
দিনের আলোর গভীরে।”
খটকা লাগল, কী জানি বানিয়ে বললেম না কি।
ও বললে, “থাক্‌, এখন যাও ও দিকে।”
সবাই নেমে গেল পরের স্টেশনে;
আমি চললেম একা।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শ্যামলী হতে সংগ্রহীত)

Translated Excerpt from Hathat Dekha (An Unexpected Reunion)

Looking away towards the sky, she asked:
“The days we have had, have they all gone,
is there nothing left of those?”

I replied, “The stars still twinkle, beneath the light of the sun.”

At the next station, she got off the train
And I continued, unsure and alone.

– Rabindranath Thakur

কবিতাগুচ্ছ ১১ – রবীন্দ্র অণুকাব্য (লেখন) / Anthology 11 – Rabindra Anukabya (Lekhan) (Epigrams and Verses by Rabindranath Thakur)

‘রবীন্দ্রনাথ’ শব্দটি শুনলেই আমাদের অনেকেই গুরুগম্ভীর সাহিত্যের কথা ভাবি। অথচ কবিগুরু যে কত ছোট ছোট অথচ গভীর অর্থপূর্ণ কাব্য রচনা করেছেন, তা আমাদের অনেকেই খেয়ালে রাখিনা। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা হয়ত আজ সেসব অনুকাব্যগুলোকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তোলে, তাই রবিঠাকুরের কিছু অনুকাব্য নিয়ে এই পোস্ট। অন্যসব পোস্টগুলোর চাইতে এটি একটু আলাদা, কারণ এটি স্থির নয়, অন্য পোস্টগুলোতে লেখা তোলার ফাঁকে ফাঁকে এটিতে আমি নতুন নতুন কবিতা তুলব, কখনো কখনো অনুবাদ আর কখনো কখনো ছবি সহ। কবিগুরুর হাতের লেখাও কিছু থাকবে এতে। পাঠকদের কাছে এই প্রয়াসটুকু ভাল লাগবে আশা করি।

The word ‘Rabindranath’ often makes many a Bangalee think about serious literature – not unreasonably, as many of his works make for more than heavy reading. However, such thought perhaps arises because many of us Bangalee millennials remain unaware of the short verses and epigrams which he wrote. Delightful and profound in their own right, they are perhaps even more relevant in our time constrained modern life. Hence this post. This one is a little different from the other ones, as I plan to periodically add fresh works by the poet to it, with occasional translations and somewhat relevant images. I hope the readers will find my effort worth their time.

লেখন  হতে তুলে দেওয়া কিছু অনুকাব্য / Some Verses from Lekhan

“এই লেখনগুলি সুরু হয়েছিল চীনে জাপানে। পাখায় কাগজে রুমালে কিছু লিখে দেবার জন্যে লোকের অনুরোধে এর উৎপত্তি। তারপরে স্বদেশে ও অন্য দেশেও তাগিদ পেয়েছি। এমনি করে এই টুকরো লেখাগুলি জমে উঠ্‌ল। এর প্রধান মূল্য হাতের অক্ষরে ব্যক্তিগত পরিচয়ের। সে পরিচয় কেবল অক্ষরে কেন, দ্রুতলিখিত ভাবের মধ্যেও ধরা পড়ে… অন্যমনস্কতায় কাটাকুটি ভুলচুক ঘটেছে। সে সব ত্রুটিতেও ব্যক্তিগত পরিচয়েরই আভাস রয়ে গেল॥

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (হাঙ্গেরী, ১৯২৬)

“The lines in the following pages had their origin in China and Japan where the author was asked for his writings on fans or pieces of silk.”

Rabindranath Thakur (Hungary, 1926)

(১/1)

Rabindranath Thakur-Fireflies (2)

স্বপ্ন আমার জোনাকি ,
দীপ্ত প্রাণের মণিকা ,
স্তব্ধ আঁধার নিশীথে
উড়িছে আলোর কণিকা ॥

My fancies are fireflies
specks of living light—
twinkling in the dark.

(Translated by the poet himself)

(২/2)

আমার লিখন ফুটে পথধারে
ক্ষণিক কালের ফুলে ,
চলিতে চলিতে দেখে যারা তারে
চলিতে চলিতে ভুলে ॥

The same voice murmurs
in these desultory lines
which is born in wayside pansies
letting hasty glances pass by.

(Translated by the poet himself)

(৩/3)

Rabindranath Thakur-Projapoti (2)

প্রজাপতি সেতো বরষ না গণে ,
নিমেষ গণিয়া বাঁচে ,
সময় তাহার যথেষ্ট তাই আছে ॥

The butterfly does not count years
but moments
and therefore has enough time.

(Translated by the poet himself)

(১৩/13)

দুঃখের আগুন কোন্ জ্যোতির্ময় পথরেখা টানে
বেদনার পরপার পানে॥

The fire of pain traces for my soul
a luminous path across her sorrow.

(Translated by the poet himself)

(১৪/14)

দেবমন্দির-আঙিনাতলে শিশুরা করেছে মেলা।
দেবতা ভোলেন পূজারি-দলে, দেখেন শিশুর খেলা॥

From the solemn gloom of the temple
children run out to sit in the dust,
God watches them play and forgets the priest.

(Translated by the poet himself)

(১৬/16)

Rabindranath Thakur-Akash Dharare

আকাশ ধরারে বাহুতে বেড়িয়া রাখে,
তবুও আপনি অসীম সুদূরে থাকে॥

Though he holds in his arms the earth-bride,
the sky is ever immensely away.

(Translated by the poet himself)

(১৭/17)

Rabindranath Thakur-Dur Eshechhilo Kachhe

          দূর এসেছিল কাছে–
ফুরাইলে দিন, দূরে চলে গিয়ে আরো সে নিকটে আছে।

One who was distant came near to me in the morning,
and still nearer when taken away by night.

(Translated by the poet himself)

(২০/20)

দাঁড়ায়ে গিরি, শির
মেঘে তুলে,
দেখে না সরসীর
বিনতি।
অচল উদাসীর
পদমূলে
ব্যাকুল রূপসীর
মিনতি॥

The lake lies low by the hill,
a tearful entreaty of love
at the foot of the inflexible.

(Translated by the poet himself)

(২২/22)

Rabindranath Thakur-Giri Megh (2)

মেঘ সে বাষ্পগিরি,
গিরি সে বাষ্পমেঘ,
কালের স্বপ্নে যুগে যুগে ফিরি ফিরি
এ কিসের ভাবাবেগ॥

Clouds are hills in vapour,
hills are clouds in stone
– a phantasy of time’s dream.

(Translated by the poet himself)

(২৫/25)

Rabindranath Thakur-Dui Tire Tar

দুই তীরে তার বিরহ ঘটায়ে
সমুদ্র করে দান
অতল প্রেমের অশ্রুজলের গান॥

The two separated shores mingle their voices
in a song of unfathomed tears.

(Translated by the poet himself)

(৩০/30)

হে আমার ফুল, ভোগী মূর্খের মালে
না হ’ক তোমার গতি,
এই জেনো তব নবীন প্রভাতকালে
আশিস তোমার প্রতি॥

(৩৬/36)

Rabindranath Thakur-Matir Prodip (2)

মাটির প্রদীপ সারা দিবসের অবহেলা লয় মেনে,
রাত্রে শিখার চুম্বন পাবে জেনে॥

The lamp waits through the long day of neglect,
For the flame’s kiss in the night.

(Translated by the poet himself)

(৫৯/59)

Rabindranath Thakur-Kuasha Giri (1)

কুয়াশা যদি বা ফেলে পরাভবে ঘিরি
তবু নিজমহিমায় অবিচল গিরি॥

The mountain remains unmoved
by its seeming defeat by the mist.

(Translated by the poet himself)

(৬০/60)

Rabindranath Thakur-Parbatamala (2)

পর্বতমালা আকাশের পানে চাহিয়া না কহে কথা,
অগমের লাগি ওরা ধরণীর স্তম্ভিত ব্যাকুলতা॥

Hills are the earth’s gesture of despair
for the unreachable.

(Translated by the poet himself)

(৬১/61)

একদিন ফুল দিয়েছিলে , হায় ,
কাঁটা বিঁধে গেছে তার ।
তবু , সুন্দর , হাসিয়া তোমায়
করিনু নমস্কার ॥

Though the thorn in thy flower pricked me,
O Beauty,
I am grateful.

(Translated by the poet himself)

(৬২/62)

হে বন্ধু , জেনো মোর ভালোবাসা ,
কোনো দায় নাহি তার —
আপনি সে পায় আপন পুরস্কার ॥

Let not my love be a burden on you, my friend,
know that it pays itself.

(Translated by the poet himself)

(৬৩/63)

স্বল্প সেও স্বল্প নয়, বড়োকে ফেলে ছেয়ে।
দু-চারিজন অনেক বেশি বহুজনের চেয়ে॥

The world knows that the few
are more than the many.

(Translated by the poet himself)

(৬৬/66)

Rabindranath Thakur-Budbud (2)

বুদ্বুদ  সে তো বদ্ধ আপন ঘেরে
শূন্যে মিলায়, জানে না সমুদ্রেরে॥

In its swelling pride
the bubble doubts the truth of the sea,
and laughs and bursts into emptiness.

(Translated by the poet himself)

(৬৮/68)

Rabindranath Thakur-Megher Dal

মেঘের দল বিলাপ করে
আঁধার হল দেখে ,
ভুলেছে বুঝি নিজেই তারা
সূর্য দিল ঢেকে ॥

My clouds, sorrowing in the dark,
forget that they themselves
have hidden the sun.

(Translated by the poet himself)

(৭১/71)

Rabindranath Thakur-Asim Akash (1)

অসীম আকাশ শূন্য প্রসারি রাখে,
হোথায় পৃথিবী মনে মনে তার
অমরার ছবি আঁকে॥

The sky remains infinitely vacant
for earth there to build its heaven with dreams.

(Translated by the poet himself)

(৭৫/75)

আকর্ষণগুণে প্রেম এক ক’রে তোলে।
শক্তি শুধু বেঁধে রাখে শিকলে শিকলে॥

Power said to the world, “You are mine.
The world kept it prisoner on her throne.
Love said to the world, “I am thine.”
The world gave it the freedom of her house.

(Inferred translation by the poet himself)

(৭৬/76)

Rabindranath Thakur-Mahataru Bahe (2)

মহাতরু বহে
বহু বরষের ভার।
যেন সে বিরাট
এক মুহূর্ত তার॥

The tree bears its thousand years
as one large majestic moment.

(Translated by the poet himself)

(৮০/80)

স্তব্ধ অতল শব্দবিহীন মহাসমুদ্রতলে
বিশ্ব ফেনার পুঞ্জ সদাই ভাঙিয়া জুড়িয়া চলে॥

The world is the ever-changing foam
that floats on the surface of a sea of silence.

(Translated by the poet himself))

(৮২/82)

গোঁয়ার কেবল গায়ের জোরেই বাঁকাইয়া দেয় চাবি,
শেষকালে তার কুড়াল ধরিয়া করে মহা দাবাদাবি॥

The clumsiness of power spoils the key
and uses the pickaxe.

(Translated by the poet himself)

(৮৬/86)

Rabindranath Thakur-Mor Kagojer Khelar Nouka 2

মোর কাগজের খেলার নৌকা ভেসে চলে যায় সোজা
বহিয়া আমার অকাজ দিনের অলস বেলার বোঝা॥

These paper boats of mine are meant to dance
on the ripple of hours,
and not to reach any destination.

(Translated by the poet himself)

(৯৬/96)

Rabindranath Thakur-Shishir Rabire (1)

শিশির রবিরে শুধু জানে
বিন্দুরূপে আপন বুকের মাঝখানে॥

The dew-drop knows the sun
only within its own tiny orb.

(Translated by the poet himself)

(৯৭/97)

Rabindranath Thakur-Apon Asim Nishfalatar 1

আপন অসীম নিষ্ফলতার পাকে
মরু চিরদিন বন্দী হইয়া থাকে॥

The desert is imprisoned in the wall
of its unbounded barrenness.

(Translated by the poet himself)

(১২২/122)

???????????????????????????????

সাগরের কানে জোয়ার-বেলায়
ধীরে কয় তটভূমি,
“তরঙ্গ তব যা বলিতে চায়
তাই লিখে দাও তুমি।’

সাগর ব্যাকুল ফেন-অক্ষরে
যতবার লেখে লেখা
চির-চঞ্চল অতৃপ্তিভরে
ততবার মোছে রেখা ॥

The shore whispers to the sea:
“Write to me what thy waves struggle to say.”
The sea writes in foam again and again
and wipes off the lines in a boisterous despair.

(Translated by the poet himself)

(১৩৪/134)

Rabindranath Thakur-Jibon Khatar Anek Patai

জীবন-খাতার অনেক পাতাই
এমনিতরো শূন্য থাকে;
আপন মনের ধেয়ান দিয়ে
পূর্ণ করে লও না তাকে।
সেথায় তোমার গোপন কবি
রচুক আপন স্বর্গছবি,
পরশ করুক দৈববাণী
সেথায় তোমার কল্পনাকে॥

(১৫৭/157)

Rabindranath Thakur-Chand Kahe (1)

চাঁদ কহে “শোন্‌ শুকতারা,
রজনী যখন হল সারা
যাবার বেলায় কেন শেষে
দেখা দিতে হায় এলি হেসে,
আলো আঁধারের মাঝে এসে
করিলি আমায় দিশেহারা।”

Before he sets,
the Moon yearningly calls out
to the Morning Star
“Why, at this moment of parting,
Did thee bind me
with thy smile?”

(১৫৯/159)

Rabindranath Thakur-Bhebechhinu Goni Goni Labo (1)

ভেবেছিনু গনি গনি লব সব তারা —
গনিতে গনিতে রাত হয়ে যায় সারা ,
বাছিতে বাছিতে কিছু না পাইনু বেছে ।
আজ বুঝিলাম , যদি না চাহিয়া চাই
তবেই তো একসাথে সব-কিছু পাই —
সিন্ধুরে তাকায়ে দেখো , মরিয়ো না সেঁচে ॥

I had once sought to count all the stars
but the night sky swirled into the dawn
past my never-ending counts
leaving my designs fruitless in her wake.
I wish I had realized then
that her stars had all been mine alone
to own with a single, wondering gaze,
but like a fool, I had picked and sorted.
Know not to do the same, my friend.

(১৬৮/168)

আকাশ কভু পাতে না ফাঁদ
কাড়িয়ে নিতে চাঁদে,
বিনা বাঁধনে তাই তো চাঁদ,
নিজেরে নিজে বাঁধে।

(১৭৪/174)

Rabindranath Thakur-Andhar Ekere Dekhe 1

আঁধার একেরে দেখে একাকার ক’রে।
আলোক একেরে দেখে নানা দিক ধ’রে॥

Darkness smothers the one into uniformity
Light reveals the one in its multifariousness.

(Translated by the poet himself)