ছোটগল্প ৯৫ – ভয়াবহ নানা / Short Story 95 – Bhoyaboho Nana (Granddad the Terrible)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Jafar Iqbal-Amra O Crab Nebula-Bhoyaboho Nana

ভয়াবহ নানা – জাফর ইকবাল (আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা হতে সংগ্রহিত)

অনেকদিন এই সাইটে কোন লেখা তোলা হয়না। তাই আজ তাতে ছেদ টানা। জাফর ইকবালের ভয়াবহ নানা  শিক্ষিত-শহুরে দুই ভাইবোনের সাথে তাদের প্রাচীনপন্থী নানার মুখোমুখি হওয়া নিয়ে একটি মজার গল্প। তবে গল্পটি তোলার কারণ এটি হাসির বলে নয় – হালকা হলেও ভয়াবহ নানা  আজকের সময়ে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মতাদর্শের যেই সংঘর্ষটুকু গল্পটিতে আমরা দেখতে পাই, বৃহত্তর বাঙ্গালী সমাজে আজ সেটিই বড় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাঠকরা কোন মত মেনে চলেন তা জানিনা, কিন্তু সমালোচনা অবধারিত জেনেই এটি তুলে দেওয়া।

Bhoyaboho Nana (Granddad the Terrible) – Zafar Iqbal (from Amra O Crab Nebula)

In the way of punctuating what has been a long silence so far, this post. Jafar Iqbal’s Bhoyaboho Nana (Granddad the Terrible) is an amusing story of two city-kids taking on their rather conservative and archaic grandfather. In a time when the larger Bangalee society is going through an often-violent tussle between conflicting ideals, the story bears special significance, hence the upload.

Advertisements

কবিতা ২৪ – কাজলা দিদি / Poem 24 – Kajla Didi

Jatindramohan Bagchi-Kajla Didi 1

ছেলেবেলায় কাজলা দিদি  কবিতাটা যখন পড়তাম, তখন চোখে খুব জল আসত। এখন যখন পড়ি, খুব কাছের একজন মানুষের কথা মনে পড়ে। জানিনা কেন, কারণ মানুষটি আমার জীবনে এখনো বর্তমান। সে প্রায়ই চলে যাওয়ার কথা ভাবে, তাই হয়ত। কাজলা দিদি – একটি কবিতা, যা বোনকে ভালবাসে এমন প্রত্যেকটি ছেলেদের জন্য।

Of the poems I read in my childhood, Kajla Didi remains one of the few poems that still affect me to this day. A poem about a child’s untarnished love for his/her sister should not affect me so much, for I don’t have a sister. Perhaps it does because it hits the part of my subconscious that has sought siblinghood with certain women in my life. If you are one of those unlucky ones, then this is my apology to you.

কাজলা দিদি

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই;
মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সেদিন হতে দিদিকে আর কেনই-বা না ডাকো,
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে ডাকি, তখন
ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো,
আমি ডাকি, – তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
বল মা, দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে!
দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে-
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে?
আমিও নাই দিদিও নাই কেমন মজা হবে!

ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল,
মাড়াস নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল;
ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে,
দিস না তারে উড়িয়ে মা গো, ছিঁড়তে গিয়ে ফল;
দিদি এসে শুনবে যখন, বলবে কী মা বল!

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
এমন সময়, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?
বেড়ার ধারে, পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোঁপে-ঝাড়ে;
নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না- তাইতো জেগে রই;
রাত হলো যে, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?

– যতীন্দ্রমোহন বাগচী