গান ৬৯ – শীতের বনে / Song 69 – Sheeter Bone (In the Forest of the Winter)

rabindranath-thakur-sheetero-bone-2

আজ আমার সবচেয়ে প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতগুলোর মধ্যে একটি। শীতের বনে  ঋতুটির আগমনের সাথে সাথে প্রকৃতির সবুজ সাজ ছাড়া নিয়ে একটি গান, তাই এক অর্থে সেটি শীতের আগমনী বার্তা। কিন্তু গানটি ঋতুটির রুক্ষতা ও শুষ্কতার বর্ণনা নিয়ে হলেও সেটির মধুর সুর কেন জানি আমাকে ছোটবেলার শীতকালগুলোর সুখস্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। হয়তো শীতের মলিন হিমের মাঝেই ছোট্ট আনন্দগুলো সবচেয়ে বেশি উষ্ণ হয়ে ঠেকে, কিংবা হয়তো গানটির রুক্ষতার মাঝে মনে একটু কোমল পরশ বুলায়, তাই। যে কারণেই হোক পাঠকদের সাথে সেই অনুভূতিটুকু ভাগ করে নিতে তাই আজ এটির পংক্তিগুলো তুলে দেওয়া।

যারা শুনতে কিংবা গাইতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে নিচে গানটির দুটি সংস্করণ তুলে দিলাম – একটি মান্না দের গলায়, আর তাই শ্বাশত, আর অন্যটি যারা আধুনিকতার ভক্ত, তাদের জন্যে। শোনার আমন্ত্রণ থাকল।

Today, one of my favourite songs of the Rabindrasangeet genre. Sheetero Bone is a song about the Winter as I know it back home – dry and stern, yet raggedly beautiful and the evoker of a thousand memories from childhood. The lines narrate the changes that would announce the arrival of winter where I grew up – the trees shedding their foliage, the slight but perceptible Northern wind, the dryness tangible in the air… but more than that, they also remind me of what was gentle and sweet about those times – soaking in the warmth of the sun on our balcony, marveling at the dendrites that the trees had become, lighting our own fires out of dead twigs and leaves in the evening, to name a few… Life, with its sobering ways, takes us away from those moments and forces us to assume the mask of a grown-up, but sometimes, an unconscious hum or a prompted recitation is all it takes for us to drown in a flood of memories… Sometimes, it is okay to miss home.

Blow are two renditions of the song – a timeless one by the master, Manna Dey, and a contemporary one in Arnob’s (co)compostion and Warda’s voice – something to listen to or sing along with this winter. Enjoy!

শীতের বনে

শীতের বনে কোন্‌ সে কঠিন আসবে ব’লে
শিউলিগুলি ভয়ে মলিন বনের কোলে॥
আম্‌লকি-ডাল সাজল কাঙাল,   খসিয়ে দিল পল্লবজাল,
কাশের হাসি হাওয়ায় ভাসি যায় সে চলে॥
সইবে না সে পাতায় ঘাসে চঞ্চলতা
তাই তো আপন রঙ ঘুচালো ঝুম্‌কোলতা।
উত্তরবায় জানায় শাসন,   পাতল তপের শুষ্ক আসন,
সাজ-খসাবার হায় এই লীলা কার অট্টরোলে॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রকৃতি  হতে সংগ্রহীত)

(সংস্করণ ১ – মান্না দে / Version 1 – Manna Dey)

(সংস্করণ 2 – অর্ণব এবং ওয়ার্দা / Version 2 – Arnob ft. Warda)

গান ৬৬ – জয় বাংলা, বাংলার জয় / Song 66 – Joy Bangla, Bangla’r Joy (Victory to Bangla)

ডিসেম্বরের শুরু আজ। আমাদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি, তাদের মনে মাসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ – একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তো বাংলাদেশ বিজয় লাভ করেছিল এই মাসের ১৬তেই। বিজয়ের মাসে তাই বিজয়ের একটি গান – গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও আনোয়ার পারভেজ এর সুরে জয় বাংলা, বাংলার জয়  বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলোর মধ্যে একটি। একাত্তরে যখন বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে রেডিও তরঙ্গে ভেসে আসা জয় বাংলা, বাংলার জয় গানটি তাদের অনুপ্রেরণা যোগাত। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শেশ হয়ে গেছে ৪৫ বছর আগেই, কিন্তু যেসব কারণে যুদ্ধ, তার অনেককটিই দুই বাংলাতেই এখনো বর্তমান। সেসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণাস্বরূপ তাই আজ এই গানটি তুলে দেওয়া।

It’s December – a month of significance for Bangalees, and particularly, Bangladeshis. It was on the 16th of this month, in 1971, that the Bangladeshi militia (and the supporting Indian allies) defeated the Pakistani army and their associates after a nine month War of Independence. The war saw millions become refugees, and by some estimates, about 3 million deaths – needless to say, it was dark period for the Bangalees who lived through it. During those times, Muktijoddhas (freedom fighters) in the thick of war would draw inspiration from songs Bangladeshi refugee artists wrote and sung over the airwaves from India. Joy Bangla Bangla’r Joy (Victory to Bangla) is one of the most famous of those songs. Written by Gazi Majharul Anwar, it was simultaneously an expression of anger at the atrocities by the Pakistan army and a call to action against them. On this month and in these times of forgetfulness, it is only appropriate that this thrilling and patriotic song is added to this site.

জয় বাংলা, বাংলার জয়

জয় বাংলা, বাংলার জয়,
হবে হবে হবে, হবে নিশ্চয়
কোটি প্রাণ একসাথে জেগেছে অন্ধরাতে
নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময়।।

বাংলার প্রতি ঘরে ভরে দিতে চাই মোরা অন্নে
আমাদের রক্ত টগবগ দুলছে মুক্তির দৃপ্ত তারুণ্যে
নেই ভয়, হয় হোক রক্তের প্রচ্ছদ পট
তবু করিনা করিনা করিনা ভয়।।

অশোকের ছায়ে যেন রাখালের বাঁশরী
হয়ে গেছে একেবারে স্তদ্ধ
চারিদিকে শুনি আজ নিদারুণ হাহাকার
আর ওই কান্নার শব্দ।

শাসনের নামে চলে শোষণের সুকঠিন যন্ত্র
বজ্রের হুঙ্কারে শৃঙ্খল ভাঙ্গতে সংগ্রামী জনতা অতন্দ্র
আর নয়, তিলে তিলে বাঙালীর এই পরাজয়
আমি করিনা করিনা করিনা ভয়।।

ভূখা আর বেকারের মিছিলটাকে যেন ওই
দিন দিন শুধু বেড়ে যাচ্ছে
রোদে পুড়ে জলে ভিজে অসহায় হয়ে আজ
ফুটপাতে তারা ঠাঁই পাচ্ছে।

বারবার ঘুঘু এসে খেয়ে যেত দেবনা তো আর ধান
বাংলার দুশমন তোষামুদী চাটুকার
সাবধান, সাবধান, সাবধান
এই দিন, সৃষ্টির উল্লাসে হবে রঙীন
আর মানিনা, মানিনা কোন সংশয়।।

মায়েদের বুকে আজ শিশুদের দুধ নেই
অনাহারে তাই শিশু কাঁদছে
গরীবের পেটে আজ ভাত নেই ভাত নেই
দ্বারে দ্বারে তাই ছুটে যাচ্ছে।

মা-বোনেরা পরণে কাপড়ের লেশ নেই
লজ্জায় কেঁদে কেঁদে ফিরছে
ওষুধের অভাবে প্রতিটি ঘরে ঘরে,
রোগে শোকে ধুকে ধুকে মরছে
অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মত বাঁচতে চাই
অত্যাচারী শোষকদের আজ
মুক্তি নাই, মুক্তি নাই , মুক্তি নাই।

– গাজী মাজহারুল আনোয়ার
(সুর) আনোয়ার পারভেজ

গান ৬৪ – হৃদ-মাঝারে রাখিব (কত লক্ষ জনম ঘুরে) / Song 64 – Hrid Majhare Rakhibo (Kato Lakkho Janom Ghure/After A Million Incarnations)

বাংলা সাহিত্য আর সঙ্গীত নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করলেও সে বিষয়গুলোতে যে নিজের জ্ঞান কতটা সীমিত, তা আজকের লেখাটি যেই গানটিকে নিয়ে, সেটি শুনে নতুন করে মনে পড়ে গেল। ইউটিউবে ঘোরাঘুরি করতে করতে দ্বিজ ভূষণ এর লেখা আর আনুশেহ অনাদিল এর গলায় এই বৈষ্ণবগীতিটি খুঁজে পাই। গানটা তারপর থেকেই মনে বেজে চলেছে, তাই শোনার আনন্দটুকু পাঠকদের সাথে ভাগ করে নিতে আজ এই সাইটে পংক্তিসহ সেটি তুলে দেওয়া। দ্বিজ ভূষণ সম্বন্ধে আমার বেশি জানা নেই, তবে যা মনে হয়, তিনি লালনের সমসাময়িক একজন গীতিকার। পাঠকদের জানা থাকলে অনুগ্রহ করে এই পোস্টে মন্তব্য করবেন। বাংলা লোকগীতি যারা শোনেন, তাদের হয়ত আনুশেহ অনাদিলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। যারা নতুন, তাদের উপরে সংযুক্ত করা গানটি শোনার আমন্ত্রণ রইল। বাংলার লোকগানের সাথে শ্বাস্ত্রীয় আর খানিকটা পশ্চিমা সুরের অপূর্ব সুন্দর সমন্বয় রয়েছে এতে – দ্বিজ ভূষণ এর কত লক্ষ জনম ঘুরে – যা এক অর্থে ভক্তিমূলক, আর অন্য অর্থে ভালবাসার মানুষটিকে ছাড়তে না চাওয়ার গান।

In the course of my work on this site, the occassional epiphanies that I know very little about Bangla literature and songs are, more often than not, humbling. Sometimes, however, it comes with the unadulterated joy of a piece never read, or a song never heard before. Today, while surfing across YouTube, I came across Dwij Bhushan’s Kato Lakkho Janom Ghure (After A Million Incarnations), and the song has been resonating in my mind since. Whether that is because of Dwij Bhushan’s words, or Anusheh Anadil’s soulful voice, or the superb incorporation of the esraj into a folk song, I do not know, but in the hope that you too will find what I found in the song, this post. For your listening pleasure, a YouTube link is provided above, and if you wish to pour your heart into a chorus, the lyrics are given below – Dwij Bhushan’s Kato Lakkho Janom Ghure, a song of not letting go.

(In case you are not familiar with the Bangla script, a transliteration can be found here.)

কত লক্ষ জনম ঘুরে

কত লক্ষ জনম ঘুরে ঘুরে, মনরে……মনরে……
কত লক্ষ জনম ঘুরে ঘুরে, আমরা পেয়েছি ভাই মানব জনম
এ জনম চলে গেলে, এ জনম চলে গেলে আর পাবো না
না না না আর মিলবে না
তাই হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
ক্ষ্যাপা ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
আমরা আর পাব না, আর পাব না।
“তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না” (২)

ভূবনো মোহনো গোরা, কোন মণিজনার মনোহরা
মণিজনার মনোহরা
ওরে রাধার প্রেমে মাতোয়ারা চাঁদ গৌড়
ধূলায় যাই ভাই গড়াগড়ি
যেতে চাইলে যেতে দেবো না, না না না। (২)
যেতে দেবো না।
তোমায় হৃদয় মাঝে……
তোমায় হৃদয় মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।

“যাবো ব্রজের কুলে কুলে” (২)
আমরা মাখবো পায়ে রাঙ্গাধুলি
মাখবো পায়ে রাঙ্গাধুলি
ওরে পাগল মন…
যাবো ব্রজের কুলে কুলে
মাখবো পায়ে রাঙ্গাধুলি
“ওরে নয়নেতে নয়ন দিয়ে রাখবো তারে” (২)
চলে গেলে… চলে গেলে যেতে দেবো না,
না না… যেতে দেবো না
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।

যে ডাকে চাঁদ গৌড় বলে, ওগো ভয় কিগো তার ব্রজের কুলে
যে ডাকে চাঁদ গৌড় বলে, ভয় কিগো তার ব্রজের কুলে
ভয় কি তার ব্রজের কুলে
“ওরে দ্বিজ ভূষণ চাঁদ বলে” (২)
চরন ছেড়ে দেবো না, না না না……
ছেড়ে দেবো না
তোমায় বক্ষ মাঝে……
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।

ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় আর পাবো না
ক্ষ্যাপা ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
আর পাব না না না না, আর পাব না।
তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না
তোমায় বক্ষ মাঝে রাখিবো ছেড়ে দেবো না।
তোমায় হৃদ মাঝারে…

– দ্বিজ ভূষণ

গান ৬২ – আনন্দধারা বহিছে ভুবনে / Song 62 – Anondodhara Bohichhe Bhubone (A Cascade of Joy Flows Through the Universe)

rabindranath-thakur-anandodhara-bohichhe-bhubone

পূজোর মৌসুম আজ, তাই এই সাইটে সচরাচর যা তুলি, আজ তার চাইতে খানিকটা আলাদা একটি কবিতা – নিজেদের ক্ষুদ্রচিন্তা ও স্বার্থপরতাকে উপেক্ষা করে এই মহাসৃষ্টির অপার সৌন্দর্য্যে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার অনুপ্রেরণাস্বরূপ – রবিঠাকুরের আনন্দধারা বহিছে ভুবনে। গান শুনতে যারা ভালবাসেন, তাদের জন্য অদিতি মহসীনের গলায় গাওয়া গানটির একটি মধুর সংস্করণ নিচে সংযুক্ত করে দিলাম।

শারদীয় শুভেচ্ছা সবাইকে।

For many Bangalees, it is that joyous time to which they have been counting down for months, and in keeping with the festivities, a spiritual prompt to shed the self-centredness that fills our lives with trivial sorrows and sip joyously instead from the cosmic cascade that flows all around us. In more implicit ways than I can fathom (I certainly overlook more than I grasp), Rabi Thakur’s Anondodhara Bohichhe Bhubone (A Cascade of Joy Flows Through the Universe) is a masterful distillation of a beautiful and profound understanding of this universe, and one that invokes hope and awe within us in equal measure. I do not know of poems that add dimension to celebration as Anondodhara Bohichhe Bhubone does, but knowing this one poem leaves me immensely glad. On this onset of Puja festivities, I can only share that feeling with you, and I will hope you feel the same way when you read the lines.

P.s.: The translation below is an adaptation of one written by Rumela Sengupta, and therefore reflects my literary inclinations (or lack of taste). You can find the unadulterated version here. For those of you who prefer listening, a beautiful rendition of the song by Aditi Mohsin is linked below.

Autumnal greetings, everyone.

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে,
দিনরজনী কত অমৃতরস উথলি যায় অনন্ত গগনে ॥
পান করে রবি শশী অঞ্জলি ভরিয়া–
সদা দীপ্ত রহে অক্ষয় জ্যোতি–
নিত্য পূর্ণ ধরা জীবনে কিরণে ॥

বসিয়া আছ কেন আপন-মনে,
স্বার্থনিমগন কী কারণে?
চারি দিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারি,
ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি
প্রেম ভরিয়া লহো শূন্য জীবনে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহীত)

Anondodhara Bohichhe Bhubhone (A Cascade of Joy Flows Through the Universe)
(Translation inspired by a version written by Rumela Sengupta in the Gitabitan website)

A cascade of joy flows through the universe
night and day – an ambrosia spilling from the heavens above.
The sun and the moon drink up the sweet nectar
in handfuls, ever luminous in their inextinguishable glow
which falls upon the earth – brimming with life and light.

Why do you sit there, lost in thought,
What keeps you immersed in your selfishness?
Let your heart spread its wings, and look around.
Value little, this trifling pain of yours
And let love permeate the void in your life.

– Rabindranath Thakur (Collected from Puja)

গান ৪৮ – মিলন হবে কত দিনে / Song 48 – Milan Habe Kato Dine (When will I be united?)

আরেকবার লালন, আর এবার মনের মানুষের সাথে মিলিত হওয়ার গভীর আকাঙ্খা নিয়ে একটি গান। লালন সাঁই তার গানগুলির অনেককটিই রচনা করেছিলেন লোকজ হিন্দু কিংবা মুসলিম আধ্যাত্মিকতার উপর ভিত্তি করে। মিলন হবে কত দিনে  তারই একটি উদাহরণ – গানটি লালন খুব সম্ভবত লিখেছিলেন প্রতিটি মানুষের অন্তঃস্থলে সেই রাধাকে দেখতে পেয়ে, যে তার কৃষ্ণের জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষা করে থাকে। আরাধ্যজনের প্রতি গভীর প্রেম ও ভক্তি নিয়ে লেখা এই গানটি আজও সমগ্র বাংলাজুড়ে মানুষের মুখে মুখে ফেরে, তাই অনবদ্য এই সংযোজনটুকু আজ ডঃ ক্যারল স্যালোমন এর অনুবাদসহ এখানে তুলে দিলাম। আশা করি পাঠকদের ভাল লাগবে।

পুনশ্চ – ইউটিউবে খোঁজ করতে গিয়ে নিচে সংযোজিত গানটি খুঁজে পেলাম। একজন বাঙ্গালী হিসেবে বাউলগীতির সাথে হিন্দী মেশানোটা আদৌ কাঙ্খিত কিনা, আমার কাছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তবে হাজার হোক, লালনের গান এটি, ভাষা ও জাতপাতের বিচারটুকু নাহয় আজ তুলেই রাখি। তাছাড়া প্রথাগতের সাথে নতুন সুরের সংমিশ্রণটুকুও মন্দ লাগেনি, তাই গানটি এখানে তুলে দেওয়া।

Again, a song written by the King among Bauls, and this time, one in which the singer seeks union with the one who holds his/her heart. Lalon often heavily borrowed from Hindu and Muslim mystic thought when writing his songs, and Milan Habe Kato Dine (When will I be united) is one of the most beautiful examples of such borrowal. In the song, Lalon speaks as Radha, who is pining away for her Krishna, but it could not be clearer that in doing so, he is giving voice to the yearning self – or the Radha, if you prefer – within each of us. As I once mentioned in an earlier post, Lalon’s songs were meant to be sung from deep within us, so for your heart and your senses, a rather modern rendition of the song, along with the orginal Bangla lyrics and an English translation by the late Dr. Carol Salomon. Sing along. 🙂

P.s. One might wonder if the addition of Hindi lyrics in the rendition below is amounts to bastardization, but aren’t Lalon’s songs all about transcending religious, caste and cultural barriers? Perhaps such arguments are best reserved for other genres, because however we sing the Baul Samrat’s songs, the message remains unsullied, and the songs remain Lalon’s alone.

মিলন হবে কত দিনে / Milan Habe Kato Dine (When will I be united)

মিলন হবে কত দিনে
আমার মনের মানুষের ও সনে ।।

চাতক প্রায় অহর্নিশি
চেয়ে আছে কালো শশী
হবো বলে চরন দাসী
ও তা হয়না কপাল গুনে ।।

মেঘের বিদ্যুৎ মেঘে যেমন
লুকালে না পাই অন্বেষণ
কালারে হারায়ে তেমন
ঐ রূপ হেরিয়ে দর্পণে।।

যখন ও রূপ স্মরণ হয়
থাকে না লোক লজ্জার ও ভয়
লালন ফকির ভেবে বলে সদাই
প্রেম যে করে সে জানে।

(Translation by Dr. Carol Salomon)

When will I be united with the Man of my Heart?
Day and night like a rainbird I long for the Dark Moon,
hoping to become his maidservant.
But this is not my fate.

I caught a glimpse of my Dark Lord in a dream,
and then he was gone like a flash of lightning
vanishing into the cloud it came from, leaving no trace.
Meditating on his image I lose all fear of disgrace.

Poor Lalon says, he who always loves, knows.

– লালন সাঁই / Lalon Sain

 

গান ৪৭ – আমি বাংলায় গান গাই / Song 47 – Ami Banglay Gan Gai (In Bangla I Sing)

Pratul Mukhopadhyay-Ami Banglay Gaan Gai (2)

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি তুলেছিলেন ডিক ডুর‍্যান্স / Original of the edited photo was taken on the Turag River in Bangladesh by Dick Durrance II)

খুব প্রিয় একটা গান মনে বাজছে বেশ কিছুদিন ধরে, তাই আজ এই লেখাটি। আমি বাংলায় গান গাই  একই সাথে বাংলা দেশ ও বাংলা ভাষাকে নিয়ে। লোকসঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের লেখা ও সুর করা এই গানটি অনেকদিন আগে থেকে দুই বাংলাতেই জনপ্রিয়, আর সম্প্রতিকালে মাহমুদুজ্জামান বাবুর গাওয়া গানটির একটি আধুনিক সংস্করণও বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। বাংলাকে যারা দেখেছেন, শুনেছেন ও ভালবেসেছেন, এই গানটিতে বাংলাকে ঘিরে তাদের অনুভূতিগুলোই যেন ব্যক্ত হয়েছে, তাই সেসব মানুষদের মনে অনুরণনিত হওয়া সুরে ভাষা যোগাতেই নিচে পংক্তিগুলোসহ গানটির ইউটিউব ভিডিওটি আজ তুলে দিলাম। আশা করি সবার ভাল লাগবে।

In choosing songs and poems and stories to share, I only inflict my biases on you. This song, however, I put up without guilt. If you are a Bangalee, you will know why.

আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই
আমি আমার আমিকে চিরদিন-এই বাংলায় খুঁজে পাই।।
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, আমি বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়া ভরা পথে, হেটেছি এতটা দূর,
বাংলা আমার জীবনানন্দ, বাংলা প্রাণের সুখ
আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।।

আমি বাংলায় কথা কই, আমি বাংলার কথা কই
আমি বাংলায় ভাসি, বাংলায় হাসি, বাংলায় জেগে রই
আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
আমি সব দেখেশুনে খেপে গিয়ে-করি বাংলায় চিৎকার,
বাংলা আমার দৃপ্ত স্লোগান, ক্ষিপ্ত তীর ধনুক
আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।।

আমি বাংলায় ভালোবাসি, আমি বাংলাকে ভালোবাসি
আমি তারই হাত ধরে সারা পৃথিবীর-মানুষের কাছে আসি
আমি যা কিছু মহান বরণ করেছি বিনম্র শ্রদ্ধায়
মিশে তেরো নদী, সাত সাগরের জল গঙ্গায়-পদ্মায়
বাংলা আমার তৃষ্ণার জল, তৃপ্ত শেষ চুমুক
আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।।

– প্রতুল মুখোপাধ্যায়

গান ৪৬ – আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে / Song 46 – Aaj Jyotsna-raate Sabai Gechhe Bone (On This Moon-soaked Night)

Rabindranath Thakur-Aaj Jyotsnaraate (2)

বেশ কিছুদিন ধরেই রবিঠাকুরের লেখাগুলোর মাঝে ডুবে আছি, তাই এই সাইটটির সাম্প্রতিক সংযোজনগুলোর ধারাবাহিকতায় আজ কবিগুরুর আরেকটি কবিতা। আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে  গানটি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন বোলপুরে থাকাকালীন কোন এক জ্যোৎস্নালোকিত রাতে, সাহিত্যিক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ণনায়

“কোন এক উৎসব উপলক্ষে আমরা বহু লোক বোলপুরে গিয়েছিলাম। খুব সম্ভব ‘রাজা’ নাটক অভিনয় উপলক্ষে। বসন্তকাল, জ্যোৎস্না রাত্রি। যত স্ত্রীলোক ও পুরুষ এসেছিলেন তাঁদের সকলেই প্রায় পারুলডাঙ্গা নামক এক রম্য বনে বেড়াতে গিয়েছিলেন। কেবল আমি যাইনি রাত জাগবার ভয়ে।… গভীর রাত্রি, হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, মনে হল যেন ‘শান্তিনিকেতনের’ নীচের তলার সামনের মাঠ থেকে কার মৃদু মধুর গানের স্বর ভেসে আসছে। আমি উঠে ছাদে আলসের ধারে গিয়ে দেখলাম, কবিগুরু জ্যোৎস্নাপ্লাবিত খোলা জায়গায় পায়চারি করছেন আর গুন্‌গুন্‌ করে গান গাইছেন। আমি খালি পায়ে ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেলাম, কিন্তু তিনি আমাকে লক্ষ করলেন না।, আপন মনে যেমন গান গেয়ে গেয়ে পায়চারি করছিলেন তেমনি পায়চারি করতে করতে গান গাইতে লাগলেন। গান গাইছিলেন মৃদুস্বরে।  তিনি গাইছিলেন ‘আজ জ্যোৎস্নারাতে…”।

পুত্র শমীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরে কোন এক জ্যোৎস্নালোকিত রাত্রিতে তাঁকে মনে করে রবিঠাকুর এই গানটি লিখেছিলেন, এমন একটি ইতিকথা বাঙ্গালীদের মাঝে প্রচলিত। কিন্তু গানটি সত্যিই ঐ প্রেক্ষাপটে লেখা কিনা আমি জানিনা। কিন্তু এটুকু মনে হয় যে প্রিয় কিংবা আরাধ্য কোনও জনের জন্য গভীর ভালবাসা আর বেদনাভরা অপেক্ষা এমন আবেগভরে বোধহয় আর কোনও লেখায় বর্ণিত হয়নি। পাঠকদের মন আর্দ্র করে দিতে তাই গানের পংক্তিগুলো আজ এখানে তুলে দিলাম।

পুনশ্চ – গানটির উপরোক্ত ইতিহাস, এবং এডওয়ার্ড থমসনের লেখা সেটির নিম্নোক্ত ইংরেজি অনুবাদ আমি পেয়েছি গীতবিতান.নেট ওয়েবসাইটটিতে। রবীন্দ্রসংগীতের ব্যাপারে যারা বিস্তারিত জানতে চান, তাদের পৃষ্ঠাটিতে ঘুরে আসার আমন্ত্রণ ও অনুরোধ রইল। তাছাড়া যারা গান শুনতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে ইউটিউবে পাওয়া গানটির একটি ভিডিও নিচে সংযুক্ত করে দিলাম।

In continuation of my recent immersion in Rabindranath Thakur’s works, another of his songs. From anecdotal evidence, we know that Aaj Jyotsnaraate Sabai Gechhe Bone (On This Moon-soaked Night) was written by Thakur on a moonlit night in Bolpur, but whether it was written from grief at the loss of his younger son Shamindranath, we will perhaps never know. One can be sure, however, that that few works, if any, express with such tenderness the yearning and pain that accompanies Man’s separation from and wait to find a cherished someone (or perhaps God Himself, depending on how you read the poem) he has lost. For the softer corner of your heart, therefore, this song.

P.s. For non-native speakers, I have included two English translations of the song below. The anecdotes about the poem and the translation by Edward Thomson were found in http://www.gitabitan.net, which has a beautiful collection of Thakur’s songs and associated materials. Do take a peek. Also, if you prefer the words sung, you will find a YouTube video of a rendition at the end of this post.

আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে

আজ    জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে ॥
যাব না গো যাব না যে,   রইনু পড়ে ঘরের মাঝে–
এই নিরালায় রব আপন কোণে।
যাব না এই মাতাল সমীরণে ॥

আমার এ ঘর বহু যতন ক’রে
ধুতে হবে মুছতে হবে মোরে।
আমারে যে জাগতে হবে,   কী জানি সে আসবে কবে
যদি আমায় পড়ে তাহার মনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহিত)

Aj Jyotsnarate Shabai Geche Bone (On This Moon-soaked Night)

Translation – Version 1- Edward Thomson
(Rabindranath Tagore: The Augustan Books of Modern Poetry, Ernest Benn Ltd. London, 1925)

They have all gone to the woods in this moonlit night,
In the south wind drunken with Spring’s delight.
But I will not go, will not go;
I will stay in the house, and so
Wait in my lonely corner-this night
I will not go in this south wind drunk with delight.

Rather, this room with care
I must scour and cleanse and prepare;
For … if He remembers me, then
He will come, though I know not when;
They must wake me swiftly. I will not fare
Out where the drunk wind reels through the air.

Translation – Version 2

On this moon-soaked night,
they have all gone to frolic in the forest.
The drunk spring breeze beckons, “Come!”
but heed it I will not.
In this desolate corner of my house, I will remain.
No I will not go into this intoxicating night.

I will stay behind
and clean my room with care.
Who knows when he may come?
Remain I must, perchance he remembers me,
and the drunk winds bring him here,
in this moonlit night.
I must stay awake.

– Rabindranath Thakur

গান ৪৫ – যদি প্রেম দিলে না প্রাণে / Song 45 – Jodi Prem Dile Na Praane (If Love Be Denied Me)

Rabindranath Thakur-Jodi Prem Dile Na Praane (1)

ঈশ্বরের কাছে আর্তিমাখা কিছু প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর তাঁর নীরবতার মাঝেই আমাদের খুঁজে নিতে হয়। আজ মন খারাপের বৃষ্টিভেজা একটি দিন, তাই।

On questions which God only answers through His silence, a few beautifully written lines by Rabindranath Thakur – for the days when it drizzles in your mind.

যদি প্রেম দিলে না প্রাণে

যদি প্রেম দিলে না প্রাণে
কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে?।
কেন তারার মালা গাঁথা,
কেন ফুলের শয়ন পাতা,
কেন দখিন-হাওয়া গোপন কথা জানায় কানে কানে?।
যদি প্রেম দিলে না প্রাণে
কেন আকাশ তবে এমন চাওয়া চায় এ মুখের পানে?
তবে ক্ষণে ক্ষণে কেন
আমার হৃদয় পাগল-হেন
তরী সেই সাগরে ভাসায় যাহার কূল সে নাহি জানে?।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহিত)

Jodi Prem Dile Na Praane (If love be denied me)

If love be denied me
then why does the morning break its heart in songs,
and why are these whispers
that the south wind scatters among the new- born leaves?
If love be denied me then why does the midnight
bear in yearning silence the pain of the stars?
And why does this foolish heart
recklessly launch its hope on the sea whose end it does not know?

– Rabindranath Thakur
(Collected from Crossing/Puja. Translated by the poet himself)

গান ৪৪ – কে বোঝে মওলার আলেকবাজি / Song 44 – Ke Bojhe Maular Alekbaji (Who Understands God’s Designs)

আজ এই সাইটে প্রথমবারের মত লালন সাঁইয়ের একটি গান। কে বোঝে মওলার আলেকবাজি  গানটির পংক্তিগুলো লালন এর অন্যান্য অনেক গানের মতই সরল ভাষায় লেখা, কিন্তু ঈশ্বরের ক্রিয়ার রহস্যকে বুঝতে গিয়ে মানুষের অসহায়তা বাউল সম্রাট এতে যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেটির ব্যাখ্যা দেওয়া আমার সাধ্যের বাইরে। লালন সাঁইয়ের গানগুলো বুঝতে গেলে সেগুলো প্রথমে নিজের মর্মে অনুভব করতে হয়, অন্তত আমার তাই ধারণা। তাই আর ভণিতা না করে পাঠকদের জন্যে উপরোক্ত গানটি তুলে দিলাম।

পুনশ্চ – এই গানটির পংক্তিগুলো আমি খুঁজে পেয়েছি https://lalonsain.wordpress.com সাইটটিতে, যাতে লালন সাঁই এর আরো অনেক গানকে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

Today, a song by the Baul among Bauls, Lalon Shain. Like his other songs, Ke Bojhe Maular Alekbaji is written in simple language, but it is beyond me to explain how, Lalon describes Man’s struggles to understand God’s designs in the songs. If you ask me, his songs are best understood when felt at heart. Hence the lines that follow, for your contemplation.

P.s. – I found the lyrics to the song at https://lalonsain.wordpress.com, which has a wonderful collection of Lalon’s works.

কে বোঝে মওলার আলেকবাজি

Lalon Sain-Ke Bojhe Maula Alekbaji

কে বোঝে মওলার আলেকবাজি।
করছে রে কোরানের মানে
যা আসে যার মনের বুঝি।।

একই কোরান পড়াশুনা
কেউ মৌলবি কেউ মওলানা
দাহেরা হয় কত জনা
সে মানে না শরার কাজি।।

রোজ কেয়ামত বলে সবাই
কেউ বলে না তারিখ নির্ণয়
হিসাব হবে কি হচ্ছে সদাই
কোন কথায় মন রাখি রাজি।।

মলে জান ইল্লিন সিজ্জিন রয়
যতদিন রোজ হিসাব না হয়
কেউ বলে জান ফিরে জন্মায়
তবে ইল্লিন সিজ্জিন কোথায় আজি।।

আর এক বিধান শুনিতে পাই
এক গোর মানুষের মউত নাই
আ-মরি কি ভজন রে ভাই
বাঞ্ছে লালন কারে পুঁছি।।

– বাউল সম্রাট লালন সাঁই

গান ৪৩ – আমার সোনার হরিণ চাই / Song 43 – Amar Sonar Horin Chai (The Golden Deer I want)

রবীন্দ্রনাথের আরেকটি কবিতা – জীবনে অব্যাখ্যনীয় আকাঙ্ক্ষাগুলোর বশে যেটি পাওয়ার নয়, সব কিছু ভুলে তার পিছনে ছোটা নিয়ে।

On unfathomable desires and our vain pursuits of those, a poem by Rabi Thakur. A slightly modified version of a wonderful translation by Anindya Chaudhuri follows. The first link also features a translation by Rumela Sengupta, who, along with a few others, have written exquisite translations of Thakur’s works here.

Rabindranath Thakur-Tora Je Ja Bolish Bhai (2)

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে কাউবয়ফাঙ্ক এর ওয়েব পাতায় / Original artwork by Cowboifunk)

আমার সোনার হরিণ চাই

তোরা  যে যা বলিস ভাই,      আমার সোনার হরিণ চাই।
মনোহরণ চপলচরণ সোনার হরিণ চাই॥
সে-যে  চমকে বেড়ায় দৃষ্টি এড়ায়, যায় না তারে বাঁধা।
সে-যে  নাগাল পেলে পালায় ঠেলে, লাগায় চোখে ধাঁদা।
আমি    ছুটব পিছে মিছে মিছে পাই বা নাহি পাই–
আামি   আপন-মনে মাঠে বনে উধাও হয়ে ধাই॥
তোরা  পাবার জিনিস হাতে কিনিস, রাখিস ঘরে ভরে–
যারে    যায় না পাওয়া তারি হাওয়া লাগল কেন মোরে।
আমার  যা ছিল তা গেল ঘুচে যা নেই তার ঝোঁকে–
আমার  ফুরোয় পুঁজি, ভাবিস, বুঝি মরি তারি শোকে?
আমি    আছি সুখে হাস্যমুখে, দুঃখ আমার নাই।
আমি    আপন-মনে মাঠে বনে উধাও হয়ে ধাই॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রেম হতে সংগ্রহীত)

Amar Sonar Harin Chai (The Golden Deer I want)

Say what you may, the golden deer I want
Elusive it may be, a futile hunt
One who enthrals with her presence but evades my sight
One whom no chains can bind
One who evades my reach from morn to night
I see her hither thither and again I go blind
I wander in pursuit –I know it isn’t right
Darkness around me in broad day light.
You spend your fortune acquiring the cheap
I sow the seeds which no man can reap.
What I had, I wasted
In pursuit of the vain
Think not that I lament
That I am left with no grain
I live life I have a laugh
I am miles away from pain

– Rabindranath Thakur (Translation by Anindya Chaudhuri)

গান ৪০ – এসো হে বৈশাখ / Song 40 – Esho He Boishakh (Come O Boishakh)

Print(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি এঁকেছেন মোস্তাফিজ রহমান / Original artwork by Mostafiz Rahman)

আসছে ১৪২৮। শেষ হতে চলা বছরের হতাশা আর দুঃখগুলোকে পিছনে ফেলে আরেকবার আশায় বুক বাঁধার সময় এখন, তাই পাঠকদের নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানাতেই, পহেলা বৈশাখের চিরাচরিত গান – রবি ঠাকুরের এসো হে বৈশাখ – তুলে দিলাম। যারা সুরের মানুষ, তাদের জন্যে নিচে গানের ঢং এ লেখা কলিসহ ইউটিউব হতে গানটি তুলে দেওয়া হলো।

শুভ নববর্ষ।

As Bangla Year 1423 draws to a close, it is time for us to let go of the negatives of this year and start 1424 anew. So, in a way of greeting my readers on the occasion, a post featuring Thakur’s Esho He Boishakh – the quintessential Bangla song of renewal. For those who love music, I have attached a YouTube link to a performance of the song.

Shubho Nabobarsho (Happy New Year).

এসো হে বৈশাখ

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।
তাপসনিশ্বাসবায়ে   মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥
যাক পুরাতন স্মৃতি,   যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক॥মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
রসের আবেশরাশি   শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ।
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক॥
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রকৃতি হতে সংগ্রহীত)
(গানের ঢং এ কলিগুলো)
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো… যাক পুরাতন স্মৃতি
যাক ভুলে যাওয়া গীতি
যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক
যাক যাক
এসো এসো… মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা
অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি
শুষ্ক করি দাও আসি
আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুঁজঝটি জাল যাক, দূরে যাক যাক যাক
এসো এসো…

 

গান ৩৮ – এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে / Song 38 – Ekul Bhange Okul Gare (The River of Fate)

Kazi Nazrul Islam-Nodi E-Kul Bhange (2)

অনেকদিন পর নজরুল, তবে এই লেখাটি বিদ্রোহ নয়, বরং বিশাল এই জগতে মানুষের অসহায়ত্ব আর ক্ষুদ্রতা নিয়ে। গানটার প্রথম লাইন ক’টি জানতাম অনেকদিন ধরেই, কিন্তু এটি যে নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার একটি উদাহারণ, আজ তা জানতে পেরে আমার শ্রদ্ধান্বিত বিস্ময়টুকু পাঠকদের সাথে ভাগ করে নিলাম।

After a long time, a poem by Nazrul, and one of his poignant ones at that. Unlike his more celebrated poems that inspire rebellion, E-kul Bhange O-Kul Gare (The River of Fate) depicts the our weakness and insignificance in the grand scheme of things, and is a wonderful testament to Nazrul’s multifaceted talent as a poet.

এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা

এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা।
সকাল বেলা আমির, রে ভাই (ও ভাই) ফকির, সন্ধ্যাবেলা॥
সেই নদীর ধারে কোন্ ভরসায়
বাঁধলি বাসা, ওরে বেভুল, বাঁধলি বাসা, কিসের আশায়?
যখন ধরলো ভাঙন পেলি নে তুই পারে যাবার ভেলা।
এই তো বিধির খেলা রে ভাই এই তো বিধির খেলা॥
এই দেহ ভেঙে হয় রে মাটি, মাটিতে হয় দেহ
যে কুমোর গড়ে সেই দেহ, তার খোঁজ নিল না কেহ (রে ভাই)।
রাতে রাজা সাজে নাচমহলে
দিনে ভিক্ষা মেগে বটের তলে
শেষে শ্মশান ঘাটে গিয়ে দেখে সবাই মাটির ঢেলা
এই তো বিধির খেলা রে ভাই ভব নদীর খেলা॥

– কাজী নজরুল ইসলাম

গান ৩৭ – আমার হিয়ার মাঝে / Song 37 – Amar Hiyar Majhe (You Hid in My Heart)

আমাদের সমস্ত সুখ-দুঃখ আর ভালবাসাসহ সকল অনুভূতির অন্তরালে যেই ঈশ্বর আমাদের চীরসঙ্গী ও আশ্রয় হয়ে থাকেন, মানবিক প্রবৃত্তির বশে তাকে কত সহজেই না আমরা অগ্রাহ্য করি। রবিঠাকুরের এই কবিতাটি সম্বন্ধে বেশি কিছু বলার ধৃষ্টতা আমার নেই, তবে এটুকু বলতে পারি যে ঈশ্বরের কাছে ভক্তি আর ভালবাসায় আর্দ্র কোনো স্বীকারোক্তি যদি মানুষের করার থেকে থাকে, তবে সেটি এই কবিতাটিই।

(যারা গান শুনতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে  নিচে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার স্বর আর কবিগুরুর সুরে গাওয়া পংক্তিগুলো সংযুক্ত করে দিলাম।)

In the quagmire of emotions in which we are all immersed so deep, how carelessly we forget the presence of the God who remains our companion and refuge throughout our journeys! There is little I could say that would do this poem justice, but to me, if there ever is a confession to God that is soaked in love and devotion, this is it. For those who prefer the words sung, I have attached a YouTube link below.

আমার হিয়ার মাঝে

আমার    হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাই নি।
বাহিরপানে চোখ মেলেছি
হৃদয়পানেই চাই নি।
আমার সকল ভালোবাসায়,
সকল আঘাত, সকল আশায়,
তুমি ছিলে আমার কাছে,
তোমার কাছে যাই নি।

তুমি মোর আনন্দ হয়ে
ছিলে আমার খেলায়।
আনন্দে তাই ভুলে ছিলেম,
কেটেছে দিন হেলায়।
গোপন রহি গভীর প্রাণে
আমার দুঃখ-সুখের গানে
সুর দিয়েছ তুমি,আমি
তোমার গান তো গাই নি।

ওদের কথায় ধাঁদা লাগে
তোমার কথা আমি বুঝি।
তোমার আকাশ তোমার বাতাস
এই তো সবি সোজাসুজি।
হৃদয়-কুসুম আপনি ফোটে,
জীবন আমার ভরে ওঠে,
দুয়ার খুলে চেয়ে দেখি
হাতের কাছে সকল পুঁজি।

সকাল-সাঁঝে সুর যে বাজে
ভুবনজোড়া তোমার নাটে,
আলের জোয়ার বেয়ে তোমার
তরী আসে আমার ঘাটে।
শুনব কী আর বুঝব কী বা,
এই তো দেখি রাত্রিদিবা
ঘরেই তোমার আনাগোনা,
পথে কী আর তোমায় খুঁজি?

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহিত)

Amar Hiyar Majhe (You Hid In My Heart)

Suddenly the window of my heart flew open this morning, the window that looks out on your heart.
I wondered to see that the name by which you know me is written in April leaves and flowers, and I sat silent.
The curtain was blown away for a moment between my songs and yours.
I found that your morning light was full of my own mute songs unsung;
I thought that I would learn them at your feet-and I sat silent.

– Rabindranath Thakur (Collected from Fruit-Gathering. Translated by the poet himself)

গান ৩৫ – আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / Song 35 – Amar Bhaiyer Rakte Rangano (My Brothers’ Blood Spattered)

Abdul Gaffar Chowdhury-Amar Bhaiyer Rakte Rangano (2)

আজ একুশে ফেব্রুয়ারী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনটির ব্যাপারে বলতে গেলে বলতে হয় অনেক কিছুই, তবে আজ অরণ্যে রোদনটুকু নাহয় বাদই থাক। শুধু এটুকু বলব যে আজকের বাঙ্গালী সমাজে বিবেচনাহীন পাশ্চাত্যকরণের যে গড্ডালিকা প্রবাহ চলছে, তার বিরুদ্ধে আজও কিছু মানুষ শুধু বুকে বিশ্বাস আর খানিকটা স্বপ্ন রেখে লড়ে চলছে। বাংলাকে যারা ভালবেসে সেই পথটিতে নেমেছেন, তাদের খানিকটা অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্যে সম্ভবত তাদের সবারই প্রাণের খুব কাছের একটি গান – আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো – তুলে দিলাম।

This post is written with somewhat mixed emotions: to a Bangalee, the words ‘Ekushey February (21st February)’ should be so close to the heart that one would not have to explain its significance to him/her at all. But in a time when a dumb acceptance of everything that is Western is the norm, how I wish that was true! There are people, however, who continue to work to uphold and promote Bangla against all odds, and in defiance of the ‘globalization’ to which the rest of us have surrendered. For them, as an inspiration, a song that reminds of a greater sacrifice that we Bangalees once made for our mother-tongue – Amar Bhaiyer Rakte Rangano (My Brothers’ Blood Spattered).

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়ায়ে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা
শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,
দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী
দিন বদলের ক্রান্তিলগ্নে তবু তোরা পার পাবি?
না, না, না, না খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

সেদিনও এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে
রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিল হেসে;
পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা অলকনন্দা যেন,
এমন সময় ঝড় এলো এক ঝড় এলো খ্যাপা বুনো।।

সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা,
তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা
ওরা গুলি ছোঁড়ে এদেশের প্রাণে দেশের দাবীকে রোখে
ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই সারা বাংলার বুকে
ওরা এদেশের নয়,
দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়
ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো একুশে ফেব্রুয়ারি
আজো জালিমের কারাগারে মরে বীর ছেলে বীর নারী
আমার শহীদ ভায়ের আত্মা ডাকে
জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাটে
দারুণ ক্রোধের আগুনে আবার জ্বালবো ফেব্রুয়ারি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

লেখক – আবদুল গাফফার চৌধুরী, সুরকার – আলতাফ মাহমুদ

Amar Bhaiyer Rakte Rangano (My Brother’s Blood Spattered)

Can I forget the twenty-first of February
incarnadined by the love of my brother?
The twenty-first of February, built by the tears
of a hundred mothers robbed of their sons,
Can I ever forget it?
Wake up all serpents,
wake up all summer thunder-storms,
let the whole world rise up
in anger and protest against the massacre of innocent children.
They tried to crush the demand of the people
by murdering the golden sons of the land.
Can they get away with it
at this hour when the times are poised
for a radical change?
No, no, no, no,
In the history reddened by blood
the final verdict has been given already
by the twenty-first of February.
It was a smooth and pleasant night,
with the winter gone nearly
and the moon smiling in the blue sky
and lovely fragrant flowers blossoming on the roadside,
and all of a sudden rose a storm,
fierce like a wild horde of savage beasts.
Even in the darkness we know who those beasts were.
On them we shower the bitterest hatred
of all mothers brothers and sisters.
They fired at the soul of this land,
They tried to silence the demand of the people,
They kicked at the bosom of Bengal.
They did not belong to this country.
They wanted to sell away her good fortune.
They robbed the people of food, clothing and peace.
On them we shower our bitterest hatred.
Wake up today, the twenty-first of February.
do wake you, please.
Our heroic boys and girls still languish in the prisons of the tyrant.
The souls of my martyred brothers still cry.
But today everywhere the somnolent strength
of the people have begun to stir
and we shall set February ablaze
by the flame of our fierce anger.
How can I ever forget the twenty-first of February?

Writer – Abdul Gaffar Chowdhury, Composer – Altaf Mahmood

গান ৩০ – একতারা বাজাইয়ো না / Song 30 – Ektara Bajaiyo Na (Don’t Play the Ektara)

এইবারের পোস্টটি সাহিত্য হিসেবে খুব উঁচুমানের নয়, সুরের দিক দিয়েও যে সর্বোৎকৃষ্ট, তাও নয়, কিন্তু তবুও একতারা বাজাইয়ো না  নামের অসাধারণ এই গানটি বাঙ্গালীদের মধ্যে অনেকেরই আজ জানা। কুমার বিশ্বজিতের লেখা এই গানটিতে শ্রোতারা নানান অর্থ খুঁজে পান, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এই গানটির হাল্কা হাস্যরসের মধ্যে আধুনিক বাঙ্গালীদের চাল-চলনের প্রচ্ছন্ন সমালোচনা শুনতে পাই। নববর্ষের প্রথম দিনটিতেএসো হে বৈশাখ  শোনা যদি বাঙ্গালীদের রেওয়াজ হয়ে থাকে, তাহলে বছরের অন্য দিনগুলিতে তারা খুব সম্ভবত একতারা বাজাইয়ো না  গানটির বাক্যগুলোই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। তাই আজ খানিকটা মজা, আর খানিকটা ব্যঙ্গ করে ভিডিও সহ গানের কলিগুলো তুলে দিলাম।

This time, a musical post. The lyrics of Ektara Bajaiyo Na (Don’t Play the Ektara) do not belong to high literature, and neither does the music rank high among compositions, yet the song remains one that many a Bangalee has heard, thanks to its catchy tune and friendly tone. Listeners of the song ascribe various meanings to it, but to me, it is a masked criticism of Bangalees who, in their eagerness to adopt the dumbed-down aspects of Western culture, have lost much of what is indigenous to them. The song, and the accompanying video, is in acknowledgment of the perceived undertone.

একতারা বাজাইও না

তোমরা একতারা বাজাইও না, দোতারা বাজাইয়ো না,
একতারা বাজাইও না, ঢাকঢোল বাজাইয়ো না,
গিটার আর বংগো বাজাও রে,
ও তোমরা গিটার আর বংগো বাজাও রে,
একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
আমার একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

আলতা পড়িও না, তোমরা শাড়ি পড়িও না
আলতা পড়িও না শাড়িও না
প্যান্ট আর ম্যাক্সি পড় রে
তোমরা প্যান্ট আর ম্যাক্সি পড় রে
আলতা শাড়ি পড়িলে মনে পইড়া যায়
আমার আলতা শাড়ি পড়িলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

শুক্তো রাঁধিয়ো না পায়েস রাঁধিয়ো না
শুক্তো রাঁধিয়ো না পায়েস রাঁধিয়ো না
মোগলাই আর চাইনিজ রাঁধো রে
ও তোমরা চাইনিজ আর মোগলাই রাঁধো রে
শুক্তো পায়েস রাঁধিলে মনে পইড়া যায়
আমার শুক্তো পায়েস রাঁধিলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

জারি গাইয়ো না, বাউল গাইয়ো না
তোমরা কির্ত্তন গাইয়ো না, বাউল গাইয়ো না
ডিসকো আর রক গাও রে
তোমরা ডিসকো আর রক গাও রে
কির্ত্তন বাউল গাইলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

– কুমার বিশ্বজিৎ

গানসমগ্র ১৯ – ‘হীরক রাজার দেশে’র গান / Songs 19 – Songs from ‘Heerak Rajar Deshe (In the Land of the Diamond King)’

আজ পাঠকদের জন্যে একটি অন্যরকম উপহার।  সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে  শুধু বাংলা নয়, বরং সমগ্র উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যেই পড়ে। ছড়ায় লেখা আর হাস্য-রসে ভরা গুপী-বাঘার এই অভিযানটি আপাতদৃষ্টিতে হালকা হলেও মানবসমাজে চিরকাল ধরে চলে আসা অনাচার-অবিচারের স্পষ্ট সমালোচনা, আর আর তা হতে উত্তরণের উপায়ের প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গীতের কারণে চলচ্চিত্রটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষত বর্তমান এই যুগে। চলচ্চিত্রটির অসাধারণত্বের অবশ্য সেটিই একমাত্র কারণ নয় – হীরক রাজার দেশে  যে একবার দেখেছে, সেই একবাক্যে স্বীকার করবে যে এই চলচ্চিত্রটির সংলাপগুলো অনবদ্য। একটা উদাহারণ তুলে দেই –

ওরা যত বেশি পড়ে
তত বেশি জানে
তত কম মানে।

The more they read,
the more they know,
and the less they bow.

(রাজসভায় হীরক রাজা, উদয়ন পণ্ডিতের ছাত্রদের সম্বন্ধে/ Heerak Raja, on Udayan Pandit’s students)

শিক্ষার আলোর আলোকিত তরুণসমাজের প্রতি সমাজপতিদের ভয়ের এর চাইতে সরল, ও সঠিক উপস্থাপনা বাংলায় আর কটি মেলে? উইকিপিডিয়ার ভাষায় – ‘রুপকের আশ্রয় নিয়ে চলচ্চিত্রটিতে (আরও এমন অনেক) ধ্রুব সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে’। আর সংলাপের কথাই যদি বলি, তবে ভ্রমণের আনন্দ থেকে অবিচারের প্রতিবাদের মত বিভিন্ন বিষয়কে মজার ছন্দ আর সহজ সুরে বাঁধা গানগুলোর কথা না বললেই নয়। অবশ্য বর্ণনা শোনার চাইতে আসল গানগুলো শোনা কিংবা পড়ার মজা অনেক বেশি। তাই পাঠকদের জন্যে আজ এখানে হীরক রাজার দেশের সমস্ত গানগুলো তুলে দিলাম। ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে পুরো চলচ্চিত্রটিরই সংলাপগুলো নাট্যাকারে তুলে দেওয়ার। কাজটি সময়সাপেক্ষ, তবে সময় যদি করে উঠতে পারি, একদিন না একদিন তা হবে। ততদিন পর্যন্ত নাহয় এই গানগুলোই থাক : )

পুনশ্চ – পাঠকদের জন্যে গানগুলো ছাড়াও পুরো চলচ্চিত্রটিরই ইউটিউব ভিডিও নিচে সংযুক্ত করে দিলাম। আশা করি সবার ভাল লাগবে।

Today, a bit of a deviation from the usual: It is not always that one finds a movie so wonderful in its dialogue that it qualifies as literature, but Satyajit Ray’s Heerak Rajar Deshe is precisely one which belongs to that category. One of the most famous Bangla (and probably South Asian) movies of all time, it draws a picture of the tyranny of the powerful in a perfect mirror to our society, and shows a way out – all through rhymes and songs that will delight the young and old alike. And speaking of songs, aren’t they just wonderful? Well, if you have not heard them before, have a listen and read the lyrics below. And if you have, then what’s keeping you? : )

For movie lovers, I have also linked a YouTube video of the movie (English subtitles included) below. If you ask me, I have not seen any other work, in any language I know, which is a parallel to this movie. So watch it if you have time. If not, watch it anyway.

চলচ্চিত্র – হীরক রাজার দেশে

মোরা দুজনায় রাজার জামাই

মোরা দুজনায় রাজার জামাই
মোরা খাই দাই ঘুরি ফিরি
আহা কি মোদের ছিরি
মোরা দিনে করি বাবুগিরি
রাতে আয়েসে ঘুমাই
মোরা দুজনায় রাজার জামাই

মোদের ঘরে আছে দুই রাজকন্যা
রূপে গুনে যেন সাধারন না
তারা রূপে গুনে যেন সাধারন না
আর আছে পোলাপান
একখান,একখান
কচি তারা কথা ফুটে নাই
রাজা যিনি শুণ্ডির রাজ্যে
তিনি সদাই মগন রাজকাজ্জে
এই রাজা বড় সোজা
সুখে আছে যত প্রজা
এ রাজার মত রাজা নাই
যেন এ রাজার মত রাজা নাই
শ্বশুর মশাই,শ্বশুর মশাই
মোরা তেনার জামাই

এইবারে শোন মোদের কেমনে হয়েছে এই হাল
মোদের না ছিল চুলানা ছিলও চাল
শেষে দিলেন ভূতের রাজা
দিলেন ভূতের রাজা
তিন বর তাজা তাজা
সেই বরে ফিরেছে কপাল
মোদের সেই বরে ফিরেছে কপাল
সেই বরে এত রোশনাই
মোদের সেই বরে এত রোশনাই

আর বিলম্ব নয়

না না – আর বিলম্ব নয়, আর বিলম্ব নয়!
এখানো মোদের শরীরে রক্ত
রয়েছে গরম মেটেনি শখ তো
আছে যত হাড় সবই ত শক্ত
এখনো ধকল সয়।

এখনো আছে সময়, এখনো আছে সময় –
আর বিলম্ব না না, আর বিলম্ব নয়।
দুনিয়ায় কত আছে দেখবার
কত কি জানার কত কি শেখার।
সবই ত বাকি, কিছুই দেখা হয় নাই।
ঘরে কেন বসে রয়েছি বেকার
আর কি সহ্য হয়?
অসহ্য!

এখনো আছে সময়, এখনও আছে সময়,
আর বিলম্ব না না, আর বিলম্ব নয়।
চলহে, কোথাও ঘুরে আসি গিয়ে।
সুর করে চল যাই ঘুরে আসি প্রাণ ভরে
বনেতে পাহাড়ে মরুপ্রান্তরে।

কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় / The World is Full of Wonders My Friend

আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়
ওরে ভাইরে!
আমি যেই দিকেতে চাই
দেখে অবাক বনে যাই
আমি অর্থ কোথাও খুজি নাহি পাইরে,
ভাইরে – আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।

দেখ ভালো জনে রইল ভাঙা ঘরে
মন্দ যে সে সিংহাসনে চড়ে-
সোনার ফসল ফলায় যে তার
দুই বেলা জোটেনা আহার
হীরার খনির মজুর হয়ে
কানাকড়ি নাই-
ওরে নাইরে, ভাইরে !
আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।

The world is full of wonders, my friend!
Wherever I look, I cannot understand why things are,
And I find myself dumb with wonder.
Oh what a drama I see in this world!

Look how the good at heart live in shacks,
But the tyrant sits on the throne!
The farmers who harvest the golden crop starve
And the diamond miners go penniless in the land of the Diamond-king
Oh what a drama I see in this world!

আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে

আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।
শাখে শাখে পাখি ডাকে
কত শোভা চারি পাশে।।

আজকে মোদের বড়ই সুখের দিন।
আজি ঘরের বাধন ছেড়ে মোরা হয়েছি স্বাধীন।
আহা হয়েছি স্বাধীন

আজ আবার মোরা ভবঘুরে
মুলুক ছেড়ে যাব দূরে।
গড়বো ভুবন গানের সুরে।

পুরানো দিনের কথা আসে (মনে)।
ফিরে আসে।।

আহা সাগর দেখে / এ যে দৃশ্য দেখি অন্য / এবারে দেখ গর্বিত বীর

এসে হীরকদেশে
দেখে হীরের চমক,
এতো খাতির পেয়ে
দেখে রাজার জমক
মোদের মন ভরে গেছে খুশীতে।

মোরা সে কথা জানাই
রাজা এতোই রসিক
রাজা এতো দরাজ
রাজা এতো মিশুক
এতো চিকন মেজাজ,
মোদের প্রান ভরে গেছে তাই

মোরা সে কথা জানাই।
বলো হীরক রাজার জয়।

বলো এমন রাজা ক’জন রাজা হয়।

কতো দেশে দেশে, ঘুরে শেষে
মন বলে হীরকে এসে।

এমন রাজা কোন দেশে নাই
বলে এমন রাজা কোন দেশে নাই।

মোরা সেই কথা জানাই
মোদের গানে, মোদের গানে সেই কথা জানাই

ধোরনাকো শান্ত্রীমশাই

ধোরনাকো ধোরনাকো ধোরনাকো ধোরনাকো ধোরনাকো শান্ত্রীমশাই!
হাত কেন বাড়াও ভাই?
নোড়নাকো নোড়নাকো নোড়নাকো নোড়নাকো ওইখানে দাড়াও ভাই
আর বেশি সময় নাই

তুমি এইদিকে চেয়ে থেক না     দেখ না, দেখ না-
এখন মোরা নই রাজার জামাই     মোরা করব এখন ডাকাতি
রাতারাতি – দেখে দুঃখ কেন পাও কওত –
তুমি ঐ দিকে ঘুরে রওত –

আহা ঘোরনাকো ঘোরনাকো ঘোরনাকো ঘোরনাকো
ঐ দিকে ঘোর ভাই – শান্ত্রীমশাই, শান্ত্রীমশাই!

পায়ে পড়ি বাঘ মামা

সা রে গা – সা গা গা – সা গা মা গা –
পায়ে পড়ি বাঘ মামা কোরনাকো রাগ, মামা –
তুমি যে এ ঘরে কেতা জানত?

এ যে বিনা মেঘে পড়ে বাজ
কেঁচে বুঝি গেল কাজ
দয়া করে থাকো হোয়ে শান্ত!

যদি ঘাড়ে এসে পড়ে থাবা
কী হবে তা জানি বাবা
হারা যাবে তাজা দুটি প্রান ত!
তুমি যে এ ঘরে কেতা জানত?

বাঘাদা, বলি হীরা নিলে কত শুনি?
সময় কী আছে যে গুনি?
তবু, কত শুনি?
নিয়েছি যথেষ্ট
তবে আর নিয়ে কাম নাই
এবারে চল পালাই
বড় কষ্টে পাওয়া গেছে কেষ্ট!
যথেষ্ট যথেষ্ট…

নহি যন্ত্র

নহি যন্ত্র নহি যন্ত্র, আমি প্রাণী
আমি জানি

রাজা দুষ্ট, রাজা মন্দ
রাজা ধৃষ্ট, রাজা অন্ধ
রাজা নিচ, রাজা ক্রুর, রাজা খল
রাজা অনাচারের সীমা ছেড়ে
অভাগারে ভাতে মেরে
আনে দেশে ঘোর অমঙ্গল

রাজা রাখল তাঁদের চেপে
যারা উঠলো পরে ক্ষেপে
রাজার আসনখানা করবে টলমল
রাজা ঠিক কিনা ঠিক কিনা তুই বল।
রাজার শক্ত হাতে শিক্ষা পেলে শাস্তি হবে ঠিক
রাজা ধিক ধিক ধিক!
এইবারে রাজা শোন,
যেন নিস্তার নেই কোনো,
এসেছে তোমার যম , তুমি রাজা অক্ষম ,
মরণের দিন তুমি গোন…
রাজা ধিক, ধিক, ধিক!!

দুজন ভায়রা ভাই

মোরা গুপী বাঘা দুজন ভায়রা ভাই
মোদের আর কোন কাজ নাই-
মোরা ভূতের রাজার বরের জোরে পরের ভুত ছাড়াই।
শোনো কারেও যদি ভুতে ধরে মোদের যেন খবর করে
শুন্ডী দেশের রাজপ্রসাদে     মোদের ঠিকানায়
মোরা আসব দুজনায়
ফিরে আসব দুজনায়
আবার আসব দুজনায়!

গান ১৭ – মহাবিশ্বে মহাকাশে / Song 17 – Mahabishwe Mahakashe (In This Universe)

Rabindranath Thakur-Mahabishwe Mahakashe

কখনো কখনো নিজেকে যখন এই বিশাল পৃথিবীর বিপরীতে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে পাই, সেসব সময়ে মাঝে মাঝে রবিঠাকুরের এই কবিতাটির কথা মনে পড়ে। আমাদের অসহায়ত্বটুকু যত বড়ই হোক, তার চেয়ে অসীমতর বিশাল এক আশ্রয় যে আমাদেরকে নীরবে ধারণ করে রেখেছে, তা মনে পড়লেই মন বিস্ময় আর স্বস্তি মাখানো এক উষ্ণ মুগ্ধতায় ভরে ওঠে। কবিতাটি মনে বেজে চলছে বেশ কয়েকদিন ধরেই, তাই আজ এটি পাঠকদের জন্যে তুলে দিলাম।

For those who feel small in front of the massive challenge that is life, a comforting poem by Rabindranath, which reminds us of the infinitely bigger Presence who holds us in His arms. Mahabishwe Mahakashe (In This Universe).

মহাবিশ্বে মহাকাশে

মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল-মাঝে
আমি মানব একাকী ভ্রমি বিস্ময়ে, ভ্রমি বিস্ময়ে॥
তুমি আছ, বিশ্বনাথ, অসীম রহস্যমাঝে
নীরবে একাকী আপন মহিমানিলয়ে॥
অনন্ত এ দেশকালে, অগণ্য এ দীপ্ত লোকে,
তুমি আছ মোরে চাহি–আমি চাহি তোমা-পানে।
স্তব্ধ সর্ব কোলাহল, শান্তিমগ্ন চরাচর–
এক তুমি, তোমা-মাঝে আমি একা নির্ভয়ে॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগৃহিত)

গান ১৫ – একলা চলো রে / Song 15 – Ekla Chalo Re (Walk Alone)

Rabindranath Thakur-Ekla Chalo Re-Cropped

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে এখানে / Original of the edited Photo taken from A Reason To Stay)

যখন পথের সাথী হয় না কেউ, সে সময়কার জন্যে রবিঠাকুরের একটি কবিতা – একলা চলো রে

For the times when everyone else backs off, and when one must make the journey alone, a poem by Rabindranath Thakur. A translation by the Kabiguru himself is provided below.

একলা চলো রে

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥

যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়–
তবে পরান খুলে
ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলো রে ॥

যদি সবাই ফিরে যায়, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়–
তবে পথের কাঁটা
ও তুই রক্তমাখা চরণতলে একলা দলো রে ॥

যদি আলো না ধরে, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে–
তবে বজ্রানলে
আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (স্বদেশ হতে সংগ্রহীত)

Ekla Chalo Re (Walk Alone) (Translation by the poet himself)

If they answer not to your call walk alone

If they are afraid and cower mutely facing the wall,
O thou unlucky one,
open your mind and speak out alone.

If they turn away, and desert you when crossing the wilderness,
O thou unlucky one,
trample the thorns under thy tread,
and along the blood-lined track travel alone.

If they shut doors and do not hold up the light when the night is troubled with storm,
O thou unlucky one,
with the thunder flame of pain ignite your own heart,
and let it burn alone.

– Rabindranath Thakur (Collected from Swadesh)

গান ১০ – ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু / Song 10 – Klanti Amar Kkhama Karo (Forgive My Languor)

অনেক সময় নিজের প্রিয় লেখাগুলো পাঠকদের উপর চাপিয়ে দেই বলে একটা চাপা অপরাধবোধে ভুগি। অবশ্য কখনো কখনো কিছু লেখার কথা মনে আসে, যেগুলোর অর্থের গভীরতার সামনে সে প্রসঙ্গ আপনিই গৌণ হয়ে যায়। এবার তেমনই একটি কবিতা, কবিগুরুর কলমে লেখা – আমাদের মধ্যে ক্লান্তির কাছে যারা হেরে গিয়েছি, তাদের জন্য।

My posting of Bangla literary works on this blog is often accompanied by a slight guilt of imposing my favorites on the readers. Some writings, however, possess a meaning so deep that posting those leave me feeling glad instead. This post and its translation is one such work – written by Rabindranath Thakur, a poem for those of us who have succumbed to weariness.

Rabindranath Thakur-Klanti Amar (2)
(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে এখানে / Original image taken from Prospect Steet UMC.)

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু,
পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু॥
এই-যে হিয়া থরোথরো   কাঁপে আজি এমনতরো
এই বেদনা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥

এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু,
পিছন-পানে তাকাই যদি কভু।
দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায়   শুকায় মালা পূজার থালায়,
সেই ম্লানতা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গীতালি হতে সংগ্রহীত)

Forgive my languor

Forgive my languor, O Lord,
if ever I lag behind
upon life’s way.
Forgive my anguished heart
which trembles and hesitates
in its service.
Forgive my fondness
that lavishes its wealth
upon an unprofitable past.
Forgive these faded flowers
in my offering
that wilt in the fierce heat
of panting hours.

– Rabindranath Thakur
(Translated by the poet himself. A translation by Reba Som follows)

Forgive me my weariness O Lord
Should I ever lag behind
For this heart that this day trembles so
And for this pain, forgive me, forgive me, O Lord

For this weakness, forgive me O Lord,
If perchance I cast a look behind
And in the day’s heat and under the burning sun
The garland on the platter of offering wilts,
For its dull pallor, forgive me, forgive me O Lord,