গান ৪০ – এসো হে বৈশাখ / Song 40 – Esho He Boishakh (Come O Boishakh)

Print

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি এঁকেছেন মোস্তাফিজ রহমান / Original artwork by Mostafiz Rahman)

আসছে ১৪২৫। শেষ হতে চলা বছরের হতাশা আর দুঃখগুলোকে পিছনে ফেলে আরেকবার আশায় বুক বাঁধার সময় এখন, তাই পাঠকদের নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানাতেই, পহেলা বৈশাখের চিরাচরিত গান – রবি ঠাকুরের এসো হে বৈশাখ – তুলে দিলাম। যারা সুরের মানুষ, তাদের জন্যে নিচে গানের ঢং এ লেখা কলিসহ ইউটিউব হতে গানটি তুলে দেওয়া হলো।

শুভ নববর্ষ !

As Bangla Year 1424 draws to a close, it is time for us to let go of the negatives of this year and start 1425 anew. So, in a way of greeting my readers on the occasion, a post featuring Thakur’s Esho He Boishakh – the quintessential Bangla song of renewal. For those who love music, I have attached a YouTube link to a performance of the song.

Shubho Nabobarsho (Happy New Year) !

এসো হে বৈশাখ

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।
তাপসনিশ্বাসবায়ে   মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥
যাক পুরাতন স্মৃতি,   যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক॥মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
রসের আবেশরাশি   শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ।
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক॥- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রকৃতি হতে সংগ্রহীত)

(গানের ঢং এ কলিগুলো)

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো… যাক পুরাতন স্মৃতি
যাক ভুলে যাওয়া গীতি
যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক
যাক যাক
এসো এসো… মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা
অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি
শুষ্ক করি দাও আসি
আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুঁজঝটি জাল যাক, দূরে যাক যাক যাক
এসো এসো…
Advertisements

গান ৩৮ – এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে / Song 38 – Ekul Bhange Okul Gare (The River of Fate)

Kazi Nazrul Islam-Nodi E-Kul Bhange (2)

অনেকদিন পর নজরুল, তবে এই লেখাটি বিদ্রোহ নয়, বরং বিশাল এই জগতে মানুষের অসহায়ত্ব আর ক্ষুদ্রতা নিয়ে। গানটার প্রথম লাইন ক’টি জানতাম অনেকদিন ধরেই, কিন্তু এটি যে নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার একটি উদাহারণ, আজ তা জানতে পেরে আমার শ্রদ্ধান্বিত বিস্ময়টুকু পাঠকদের সাথে ভাগ করে নিলাম।

After a long time, a poem by Nazrul, and one of his poignant ones at that. Unlike his more celebrated poems that inspire rebellion, E-kul Bhange O-Kul Gare (The River of Fate) depicts the our weakness and insignificance in the grand scheme of things, and is a wonderful testament to Nazrul’s multifaceted talent as a poet.

এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা

এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা।
সকাল বেলা আমির, রে ভাই (ও ভাই) ফকির, সন্ধ্যাবেলা॥
সেই নদীর ধারে কোন্ ভরসায়
বাঁধলি বাসা, ওরে বেভুল, বাঁধলি বাসা, কিসের আশায়?
যখন ধরলো ভাঙন পেলি নে তুই পারে যাবার ভেলা।
এই তো বিধির খেলা রে ভাই এই তো বিধির খেলা॥
এই দেহ ভেঙে হয় রে মাটি, মাটিতে হয় দেহ
যে কুমোর গড়ে সেই দেহ, তার খোঁজ নিল না কেহ (রে ভাই)।
রাতে রাজা সাজে নাচমহলে
দিনে ভিক্ষা মেগে বটের তলে
শেষে শ্মশান ঘাটে গিয়ে দেখে সবাই মাটির ঢেলা
এই তো বিধির খেলা রে ভাই ভব নদীর খেলা॥

– কাজী নজরুল ইসলাম

গান ৩৭ – আমার হিয়ার মাঝে / Song 37 – Amar Hiyar Majhe (You Hid in My Heart)

আমাদের সমস্ত সুখ-দুঃখ আর ভালবাসাসহ সকল অনুভূতির অন্তরালে যেই ঈশ্বর আমাদের চীরসঙ্গী ও আশ্রয় হয়ে থাকেন, মানবিক প্রবৃত্তির বশে তাঁকে কত সহজেই না আমরা অগ্রাহ্য করি, আবার কত সহজেই যে জীবনের নিত্য জাগতিকতার মধ্যে তাঁকে খুজে পাই !রবিঠাকুরের এই কবিতাটি সম্বন্ধে বেশি কিছু বলার ধৃষ্টতা আমার নেই, তবে এটুকু বলতে পারি যে ঈশ্বরের কাছে ভক্তি আর ভালবাসায় আর্দ্র কোনো স্বীকারোক্তি যদি মানুষের করার থেকে থাকে, তবে সেটি এই।

(যারা গান শুনতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে  নিচে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার স্বর আর কবিগুরুর সুরে গাওয়া পংক্তিগুলো সংযুক্ত করে দিলাম।)

In the quagmire of emotions in which we are all immersed so deep, how carelessly we forget the presence of the God who remains our companion and refuge throughout our journeys, and yet, how easily we find Him in the sample and mundane aspects of our lives! There is little I could say that would do this poem justice, but to me, if there ever is a confession to God that is soaked in love and devotion, this is it. For those who prefer the words sung, I have attached a YouTube link below.

আমার হিয়ার মাঝে

আমার    হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাই নি।
বাহিরপানে চোখ মেলেছি
হৃদয়পানেই চাই নি।
আমার সকল ভালোবাসায়,
সকল আঘাত, সকল আশায়,
তুমি ছিলে আমার কাছে,
তোমার কাছে যাই নি।

তুমি মোর আনন্দ হয়ে
ছিলে আমার খেলায়।
আনন্দে তাই ভুলে ছিলেম,
কেটেছে দিন হেলায়।
গোপন রহি গভীর প্রাণে
আমার দুঃখ-সুখের গানে
সুর দিয়েছ তুমি,আমি
তোমার গান তো গাই নি।

ওদের কথায় ধাঁদা লাগে
তোমার কথা আমি বুঝি।
তোমার আকাশ তোমার বাতাস
এই তো সবি সোজাসুজি।
হৃদয়-কুসুম আপনি ফোটে,
জীবন আমার ভরে ওঠে,
দুয়ার খুলে চেয়ে দেখি
হাতের কাছে সকল পুঁজি।

সকাল-সাঁঝে সুর যে বাজে
ভুবনজোড়া তোমার নাটে,
আলের জোয়ার বেয়ে তোমার
তরী আসে আমার ঘাটে।
শুনব কী আর বুঝব কী বা,
এই তো দেখি রাত্রিদিবা
ঘরেই তোমার আনাগোনা,
পথে কী আর তোমায় খুঁজি?

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহিত)

Amar Hiyar Majhe (You Hid In My Heart)

Suddenly the window of my heart flew open this morning, the window that looks out on your heart.
I wondered to see that the name by which you know me is written in April leaves and flowers, and I sat silent.
The curtain was blown away for a moment between my songs and yours.
I found that your morning light was full of my own mute songs unsung;
I thought that I would learn them at your feet-and I sat silent.

– Rabindranath Thakur (Collected from Fruit-Gathering. Translated by the poet himself)

An alternative interpretation of the last two stanzas of the song

Some have thought deeply and explored the meaning of thy truth
and they are great;
I have listened to catch the music of thy play
and I am glad.

– Rabindranath Thakur (Collected from Fireflies)

গান ৩৫ – আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / Song 35 – Amar Bhaiyer Rakte Rangano (My Brothers’ Blood Spattered)

Abdul Gaffar Chowdhury-Amar Bhaiyer Rakte Rangano (2)

আজ একুশে ফেব্রুয়ারী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনটির ব্যাপারে বলতে গেলে বলতে হয় অনেক কিছুই, তবে আজ অরণ্যে রোদনটুকু নাহয় বাদই থাক। শুধু এটুকু বলব যে আজকের বাঙ্গালী সমাজে বিবেচনাহীন পাশ্চাত্যকরণের যে গড্ডালিকা প্রবাহ চলছে, তার বিরুদ্ধে আজও কিছু মানুষ শুধু বুকে বিশ্বাস আর খানিকটা স্বপ্ন রেখে লড়ে চলছে। বাংলাকে যারা ভালবেসে সেই পথটিতে নেমেছেন, তাদের খানিকটা অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্যে সম্ভবত তাদের সবারই প্রাণের খুব কাছের একটি গান – আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো – তুলে দিলাম।

This post is written with somewhat mixed emotions: to a Bangalee, the words ‘Ekushey February (21st February)’ should be so close to the heart that one would not have to explain its significance to him/her at all. But in a time when a dumb acceptance of everything that is Western is the norm, how I wish that was true! There are people, however, who continue to work to uphold and promote Bangla against all odds, and in defiance of the ‘globalization’ to which the rest of us have surrendered. For them, as an inspiration, a song that reminds of a greater sacrifice that we Bangalees once made for our mother-tongue – Amar Bhaiyer Rakte Rangano (My Brothers’ Blood Spattered).

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু গড়ায়ে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।

জাগো নাগিনীরা জাগো নাগিনীরা জাগো কালবোশেখীরা
শিশু হত্যার বিক্ষোভে আজ কাঁপুক বসুন্ধরা,
দেশের সোনার ছেলে খুন করে রোখে মানুষের দাবী
দিন বদলের ক্রান্তিলগ্নে তবু তোরা পার পাবি?
না, না, না, না খুন রাঙা ইতিহাসে শেষ রায় দেওয়া তারই
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।

সেদিনও এমনি নীল গগনের বসনে শীতের শেষে
রাত জাগা চাঁদ চুমো খেয়েছিল হেসে;
পথে পথে ফোটে রজনীগন্ধা অলকনন্দা যেন,
এমন সময় ঝড় এলো এক ঝড় এলো খ্যাপা বুনো।।

সেই আঁধারের পশুদের মুখ চেনা,
তাহাদের তরে মায়ের, বোনের, ভায়ের চরম ঘৃণা
ওরা গুলি ছোঁড়ে এদেশের প্রাণে দেশের দাবীকে রোখে
ওদের ঘৃণ্য পদাঘাত এই সারা বাংলার বুকে
ওরা এদেশের নয়,
দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়
ওরা মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শান্তি নিয়েছে কাড়ি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো একুশে ফেব্রুয়ারি
আজো জালিমের কারাগারে মরে বীর ছেলে বীর নারী
আমার শহীদ ভায়ের আত্মা ডাকে
জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাটে
দারুণ ক্রোধের আগুনে আবার জ্বালবো ফেব্রুয়ারি
একুশে ফেব্রুয়ারি একুশে ফেব্রুয়ারি।।

লেখক – আবদুল গাফফার চৌধুরী, সুরকার – আলতাফ মাহমুদ

Amar Bhaiyer Rakte Rangano (My Brother’s Blood Spattered)

Can I forget the twenty-first of February
incarnadined by the love of my brother?
The twenty-first of February, built by the tears
of a hundred mothers robbed of their sons,
Can I ever forget it?
Wake up all serpents,
wake up all summer thunder-storms,
let the whole world rise up
in anger and protest against the massacre of innocent children.
They tried to crush the demand of the people
by murdering the golden sons of the land.
Can they get away with it
at this hour when the times are poised
for a radical change?
No, no, no, no,
In the history reddened by blood
the final verdict has been given already
by the twenty-first of February.
It was a smooth and pleasant night,
with the winter gone nearly
and the moon smiling in the blue sky
and lovely fragrant flowers blossoming on the roadside,
and all of a sudden rose a storm,
fierce like a wild horde of savage beasts.
Even in the darkness we know who those beasts were.
On them we shower the bitterest hatred
of all mothers brothers and sisters.
They fired at the soul of this land,
They tried to silence the demand of the people,
They kicked at the bosom of Bengal.
They did not belong to this country.
They wanted to sell away her good fortune.
They robbed the people of food, clothing and peace.
On them we shower our bitterest hatred.
Wake up today, the twenty-first of February.
do wake you, please.
Our heroic boys and girls still languish in the prisons of the tyrant.
The souls of my martyred brothers still cry.
But today everywhere the somnolent strength
of the people have begun to stir
and we shall set February ablaze
by the flame of our fierce anger.
How can I ever forget the twenty-first of February?

Writer – Abdul Gaffar Chowdhury, Composer – Altaf Mahmood

গান ৩০ – একতারা বাজাইয়ো না / Song 30 – Ektara Bajaiyo Na (Don’t Play the Ektara)

এইবারের পোস্টটি সাহিত্য হিসেবে খুব উঁচুমানের নয়, সুরের দিক দিয়েও যে সর্বোৎকৃষ্ট, তাও নয়, কিন্তু তবুও একতারা বাজাইয়ো না  নামের অসাধারণ এই গানটি বাঙ্গালীদের মধ্যে অনেকেরই আজ জানা। কুমার বিশ্বজিতের লেখা এই গানটিতে শ্রোতারা অনেক অর্থই খুঁজে পেতে পারেন, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এই গানটির হাল্কা হাস্যরসের মধ্যে আধুনিক বাঙ্গালীদের চাল-চলনের প্রচ্ছন্ন সমালোচনা শুনতে পাই। নববর্ষের প্রথম দিনটিতেএসো হে বৈশাখ  শোনা যদি বাঙ্গালীদের রেওয়াজ হয়ে থাকে, তাহলে বছরের অন্য দিনগুলিতে তারা খুব সম্ভবত একতারা বাজাইয়ো না  গানটির বাক্যগুলোই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। তাই আজ তাদের নিয়ে খানিকটা মজা, আর খানিকটা ব্যঙ্গ করে ভিডিও সহ গানের কলিগুলো তুলে দিলাম।

This time, a musical post. The lyrics of Ektara Bajaiyo Na (Don’t Play the Ektara) do not belong to high literature, and neither does the music rank high among compositions, yet the song remains one that many a Bangalee has heard, thanks to its catchy tune and friendly tone. Listeners of the song ascribe various meanings to it, but to me, it is a masked criticism of Bangalees who, in their eagerness to adopt the dumbed-down aspects of Western culture, have lost much of what is indigenous to them. The song, and the accompanying video, is in acknowledgment of that perceived undertone.

একতারা বাজাইও না

তোমরা একতারা বাজাইও না, দোতারা বাজাইয়ো না,
একতারা বাজাইও না, ঢাকঢোল বাজাইয়ো না,
গিটার আর বংগো বাজাও রে,
ও তোমরা গিটার আর বংগো বাজাও রে,
একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
আমার একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

আলতা পড়িও না, তোমরা শাড়ি পড়িও না
আলতা পড়িও না শাড়িও না
প্যান্ট আর ম্যাক্সি পড় রে
তোমরা প্যান্ট আর ম্যাক্সি পড় রে
আলতা শাড়ি পড়িলে মনে পইড়া যায়
আমার আলতা শাড়ি পড়িলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

শুক্তো রাঁধিয়ো না পায়েস রাঁধিয়ো না
শুক্তো রাঁধিয়ো না পায়েস রাঁধিয়ো না
মোগলাই আর চাইনিজ রাঁধো রে
ও তোমরা চাইনিজ আর মোগলাই রাঁধো রে
শুক্তো পায়েস রাঁধিলে মনে পইড়া যায়
আমার শুক্তো পায়েস রাঁধিলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

জারি গাইয়ো না, বাউল গাইয়ো না
তোমরা কির্ত্তন গাইয়ো না, বাউল গাইয়ো না
ডিসকো আর রক গাও রে
তোমরা ডিসকো আর রক গাও রে
কির্ত্তন বাউল গাইলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

– কুমার বিশ্বজিৎ

গানসমগ্র ১৯ – ‘হীরক রাজার দেশে’র গান / Songs 19 – Songs from ‘Heerak Rajar Deshe (In the Land of the Diamond King)’

আজ পাঠকদের জন্যে একটি অন্যরকম উপহার।  সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে  শুধু বাংলা নয়, বরং সমগ্র উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যেই পড়ে। ছড়ায় লেখা আর হাস্য-রসে ভরা গুপী-বাঘার এই অভিযানটি আপাতদৃষ্টিতে হালকা হলেও মানবসমাজে চিরকাল ধরে চলে আসা অনাচার-অবিচারের স্পষ্ট সমালোচনা, আর আর তা হতে উত্তরণের উপায়ের প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গীতের কারণে চলচ্চিত্রটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষত বর্তমান এই যুগে। চলচ্চিত্রটির অসাধারণত্বের অবশ্য সেটিই একমাত্র কারণ নয় – হীরক রাজার দেশে  যে একবার দেখেছে, সেই একবাক্যে স্বীকার করবে যে এই চলচ্চিত্রটির সংলাপগুলো অনবদ্য। একটা উদাহারণ তুলে দেই –

ওরা যত বেশি পড়ে
তত বেশি জানে
তত কম মানে।

The more they read,
the more they know,
and the less they bow.

(রাজসভায় হীরক রাজা, উদয়ন পণ্ডিতের ছাত্রদের সম্বন্ধে/ Heerak Raja, on Udayan Pandit’s students)

শিক্ষার আলোর আলোকিত তরুণসমাজের প্রতি সমাজপতিদের ভয়ের এর চাইতে সরল, ও সঠিক উপস্থাপনা বাংলায় আর কটি মেলে? উইকিপিডিয়ার ভাষায় – ‘রুপকের আশ্রয় নিয়ে চলচ্চিত্রটিতে (আরও এমন অনেক) ধ্রুব সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে’। আর সংলাপের কথাই যদি বলি, তবে ভ্রমণের আনন্দ থেকে অবিচারের প্রতিবাদের মত বিভিন্ন বিষয়কে মজার ছন্দ আর সহজ সুরে বাঁধা গানগুলোর কথা না বললেই নয়। অবশ্য বর্ণনা শোনার চাইতে আসল গানগুলো শোনা কিংবা পড়ার মজা অনেক বেশি। তাই পাঠকদের জন্যে আজ এখানে হীরক রাজার দেশের সমস্ত গানগুলো তুলে দিলাম। ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে পুরো চলচ্চিত্রটিরই সংলাপগুলো নাট্যাকারে তুলে দেওয়ার। কাজটি সময়সাপেক্ষ, তবে সময় যদি করে উঠতে পারি, একদিন না একদিন তা হবে। ততদিন পর্যন্ত নাহয় এই গানগুলোই থাক : )

পুনশ্চ – পাঠকদের জন্যে গানগুলো ছাড়াও পুরো চলচ্চিত্রটিরই ইউটিউব ভিডিও নিচে সংযুক্ত করে দিলাম। আশা করি সবার ভাল লাগবে।

Today, a bit of a deviation from the usual: It is not always that one finds a movie so wonderful in its dialogue that it qualifies as literature, but Satyajit Ray’s Heerak Rajar Deshe is precisely one which belongs to that category. One of the most famous Bangla (and probably South Asian) movies of all time, it draws a picture of the tyranny of the powerful in a perfect mirror to our society, and shows a way out – all through rhymes and songs that will delight the young and old alike. And speaking of songs, aren’t they just wonderful? Well, if you have not heard them before, have a listen and read the lyrics below. And if you have, then what’s keeping you? : )

For movie lovers, I have also linked a YouTube video of the movie (English subtitles included) below. If you ask me, I have not seen any other work, in any language I know, which is a parallel to this movie. So watch it if you have time. If not, watch it anyway.

চলচ্চিত্র – হীরক রাজার দেশে

 

মোরা দুজনায় রাজার জামাই

মোরা দুজনায় রাজার জামাই
মোরা খাই দাই ঘুরি ফিরি
আহা কি মোদের ছিরি
মোরা দিনে করি বাবুগিরি
রাতে আয়েসে ঘুমাই
মোরা দুজনায় রাজার জামাই

মোদের ঘরে আছে দুই রাজকন্যা
রূপে গুনে যেন সাধারন না
তারা রূপে গুনে যেন সাধারন না
আর আছে পোলাপান
একখান,একখান
কচি তারা কথা ফুটে নাই
রাজা যিনি শুণ্ডির রাজ্যে
তিনি সদাই মগন রাজকাজ্জে
এই রাজা বড় সোজা
সুখে আছে যত প্রজা
এ রাজার মত রাজা নাই
যেন এ রাজার মত রাজা নাই
শ্বশুর মশাই,শ্বশুর মশাই
মোরা তেনার জামাই

এইবারে শোন মোদের কেমনে হয়েছে এই হাল
মোদের না ছিল চুলানা ছিলও চাল
শেষে দিলেন ভূতের রাজা
দিলেন ভূতের রাজা
তিন বর তাজা তাজা
সেই বরে ফিরেছে কপাল
মোদের সেই বরে ফিরেছে কপাল
সেই বরে এত রোশনাই
মোদের সেই বরে এত রোশনাই

আর বিলম্ব নয়

না না – আর বিলম্ব নয়, আর বিলম্ব নয়!
এখানো মোদের শরীরে রক্ত
রয়েছে গরম মেটেনি শখ তো
আছে যত হাড় সবই ত শক্ত
এখনো ধকল সয়।

এখনো আছে সময়, এখনো আছে সময় –
আর বিলম্ব না না, আর বিলম্ব নয়।
দুনিয়ায় কত আছে দেখবার
কত কি জানার কত কি শেখার।
সবই ত বাকি, কিছুই দেখা হয় নাই।
ঘরে কেন বসে রয়েছি বেকার
আর কি সহ্য হয়?
অসহ্য!

এখনো আছে সময়, এখনও আছে সময়,
আর বিলম্ব না না, আর বিলম্ব নয়।
চলহে, কোথাও ঘুরে আসি গিয়ে।
সুর করে চল যাই ঘুরে আসি প্রাণ ভরে
বনেতে পাহাড়ে মরুপ্রান্তরে।

কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় / The World is Full of Wonders My Friend

আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়
ওরে ভাইরে!
আমি যেই দিকেতে চাই
দেখে অবাক বনে যাই
আমি অর্থ কোথাও খুজি নাহি পাইরে,
ভাইরে – আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।

দেখ ভালো জনে রইল ভাঙা ঘরে
মন্দ যে সে সিংহাসনে চড়ে-
সোনার ফসল ফলায় যে তার
দুই বেলা জোটেনা আহার
হীরার খনির মজুর হয়ে
কানাকড়ি নাই-
ওরে নাইরে, ভাইরে !
আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।

The world is full of wonders, my friend!
Wherever I look, I cannot understand why things are,
And I find myself dumb with wonder.
Oh what a drama I see in this world!

Look how the good at heart live in shacks,
But the tyrant sits on the throne!
The farmers who harvest the golden crop starve
And the diamond miners go penniless in the land of the Diamond-king
Oh what a drama I see in this world!

আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে

আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।
শাখে শাখে পাখি ডাকে
কত শোভা চারি পাশে।।

আজকে মোদের বড়ই সুখের দিন।
আজি ঘরের বাধন ছেড়ে মোরা হয়েছি স্বাধীন।
আহা হয়েছি স্বাধীন

আজ আবার মোরা ভবঘুরে
মুলুক ছেড়ে যাব দূরে।
গড়বো ভুবন গানের সুরে।

পুরানো দিনের কথা আসে (মনে)।
ফিরে আসে।।

আহা সাগর দেখে / এ যে দৃশ্য দেখি অন্য / এবারে দেখ গর্বিত বীর

এসে হীরকদেশে
দেখে হীরের চমক,
এতো খাতির পেয়ে
দেখে রাজার জমক
মোদের মন ভরে গেছে খুশীতে।

মোরা সে কথা জানাই
রাজা এতোই রসিক
রাজা এতো দরাজ
রাজা এতো মিশুক
এতো চিকন মেজাজ,
মোদের প্রান ভরে গেছে তাই

মোরা সে কথা জানাই।
বলো হীরক রাজার জয়।

বলো এমন রাজা ক’জন রাজা হয়।

কতো দেশে দেশে, ঘুরে শেষে
মন বলে হীরকে এসে।

এমন রাজা কোন দেশে নাই
বলে এমন রাজা কোন দেশে নাই।

মোরা সেই কথা জানাই
মোদের গানে, মোদের গানে সেই কথা জানাই

ধোরনাকো শান্ত্রীমশাই

ধোরনাকো ধোরনাকো ধোরনাকো ধোরনাকো ধোরনাকো শান্ত্রীমশাই!
হাত কেন বাড়াও ভাই?
নোড়নাকো নোড়নাকো নোড়নাকো নোড়নাকো ওইখানে দাড়াও ভাই
আর বেশি সময় নাই

তুমি এইদিকে চেয়ে থেক না     দেখ না, দেখ না-
এখন মোরা নই রাজার জামাই     মোরা করব এখন ডাকাতি
রাতারাতি – দেখে দুঃখ কেন পাও কওত –
তুমি ঐ দিকে ঘুরে রওত –

আহা ঘোরনাকো ঘোরনাকো ঘোরনাকো ঘোরনাকো
ঐ দিকে ঘোর ভাই – শান্ত্রীমশাই, শান্ত্রীমশাই!

পায়ে পড়ি বাঘ মামা

সা রে গা – সা গা গা – সা গা মা গা –
পায়ে পড়ি বাঘ মামা কোরনাকো রাগ, মামা –
তুমি যে এ ঘরে কেতা জানত?

এ যে বিনা মেঘে পড়ে বাজ
কেঁচে বুঝি গেল কাজ
দয়া করে থাকো হোয়ে শান্ত!

যদি ঘাড়ে এসে পড়ে থাবা
কী হবে তা জানি বাবা
হারা যাবে তাজা দুটি প্রান ত!
তুমি যে এ ঘরে কেতা জানত?

বাঘাদা, বলি হীরা নিলে কত শুনি?
সময় কী আছে যে গুনি?
তবু, কত শুনি?
নিয়েছি যথেষ্ট
তবে আর নিয়ে কাম নাই
এবারে চল পালাই
বড় কষ্টে পাওয়া গেছে কেষ্ট!
যথেষ্ট যথেষ্ট…

নহি যন্ত্র

নহি যন্ত্র নহি যন্ত্র, আমি প্রাণী
আমি জানি

রাজা দুষ্ট, রাজা মন্দ
রাজা ধৃষ্ট, রাজা অন্ধ
রাজা নিচ, রাজা ক্রুর, রাজা খল
রাজা অনাচারের সীমা ছেড়ে
অভাগারে ভাতে মেরে
আনে দেশে ঘোর অমঙ্গল

রাজা রাখল তাঁদের চেপে
যারা উঠলো পরে ক্ষেপে
রাজার আসনখানা করবে টলমল
রাজা ঠিক কিনা ঠিক কিনা তুই বল।
রাজার শক্ত হাতে শিক্ষা পেলে শাস্তি হবে ঠিক
রাজা ধিক ধিক ধিক!

এইবারে রাজা শোন,
যেন নিস্তার নেই কোনো,
এসেছে তোমার যম , তুমি রাজা অক্ষম ,
মরণের দিন তুমি গোন…
রাজা ধিক, ধিক, ধিক!!

 

দুজন ভায়রা ভাই

মোরা গুপী বাঘা দুজন ভায়রা ভাই
মোদের আর কোন কাজ নাই-
মোরা ভূতের রাজার বরের জোরে পরের ভুত ছাড়াই।
শোনো কারেও যদি ভুতে ধরে মোদের যেন খবর করে
শুন্ডী দেশের রাজপ্রসাদে     মোদের ঠিকানায়
মোরা আসব দুজনায়
ফিরে আসব দুজনায়
আবার আসব দুজনায়!

গান ১৭ – মহাবিশ্বে মহাকাশে / Song 17 – Mahabishwe Mahakashe (In This Universe)

Rabindranath Thakur-Mahabishwe Mahakashe

কখনো কখনো নিজেকে যখন এই বিশাল পৃথিবীর বিপরীতে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে পাই, সেসব সময়ে মাঝে মাঝে রবিঠাকুরের এই কবিতাটির কথা মনে পড়ে। আমাদের অসহায়ত্বটুকু যত বড়ই হোক, তার চেয়ে অসীমতর বিশাল এক আশ্রয় যে আমাদেরকে নীরবে ধারণ করে রেখেছে, তা মনে পড়লেই মন বিস্ময় আর স্বস্তি মাখানো এক উষ্ণ মুগ্ধতায় ভরে ওঠে। কবিতাটি মনে বেজে চলছে বেশ কয়েকদিন ধরেই, তাই আজ এটি পাঠকদের জন্যে তুলে দিলাম।

For those who feel small in front of the insurmountable mountain that is life, a comforting poem by Rabindranath, which reminds us of the infinitely bigger Presence who holds us in His arms. Mahabishwe Mahakashe (In This Universe).

মহাবিশ্বে মহাকাশে

মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল-মাঝে
আমি মানব একাকী ভ্রমি বিস্ময়ে, ভ্রমি বিস্ময়ে॥
তুমি আছ, বিশ্বনাথ, অসীম রহস্যমাঝে
নীরবে একাকী আপন মহিমানিলয়ে॥
অনন্ত এ দেশকালে, অগণ্য এ দীপ্ত লোকে,
তুমি আছ মোরে চাহি–আমি চাহি তোমা-পানে।
স্তব্ধ সর্ব কোলাহল, শান্তিমগ্ন চরাচর–
এক তুমি, তোমা-মাঝে আমি একা নির্ভয়ে॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগৃহিত)

 

গান ১৫ – একলা চলো রে / Song 15 – Ekla Chalo Re (Walk Alone)

Rabindranath Thakur-Ekla Chalo Re

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে এখানে / Original of the edited Photo taken from A Reason To Stay)

যখন পথের সাথী হয় না কেউ, সে সময়ের জন্যে একটি কবিতা – রবিঠাকুরের একলা চলো রে

For the times when one must make the journey alone, a poem by Rabindranath Thakur. A translation by the Kabiguru himself is provided below.

একলা চলো রে

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥

যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়–
তবে পরান খুলে
ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলো রে ॥

যদি সবাই ফিরে যায়, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়–
তবে পথের কাঁটা
ও তুই রক্তমাখা চরণতলে একলা দলো রে ॥

যদি আলো না ধরে, ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে–
তবে বজ্রানলে
আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (স্বদেশ হতে সংগ্রহীত)

Ekla Chalo Re (Walk Alone) (Translation by the poet himself)

If they answer not to your call walk alone

If they are afraid and cower mutely facing the wall,
O thou unlucky one,
open your mind and speak out alone.

If they turn away, and desert you when crossing the wilderness,
O thou unlucky one,
trample the thorns under thy tread,
and along the blood-lined track travel alone.

If they shut doors and do not hold up the light when the night is troubled with storm,
O thou unlucky one,
with the thunder flame of pain ignite your own heart,
and let it burn alone.

– Rabindranath Thakur (Collected from Swadesh)

গান ১০ – ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু / Song 10 – Klanti Amar Kkhama Karo (Forgive My Languor)

অনেক সময় নিজের প্রিয় লেখাগুলো পাঠকদের উপর চাপিয়ে দেই বলে একটা চাপা অপরাধবোধে ভুগি। অবশ্য কখনো কখনো কিছু লেখার কথা মনে আসে, যেগুলোর অর্থের গভীরতার সামনে সে প্রসঙ্গ আপনিই গৌণ হয়ে যায়। এবার তেমনই একটি কবিতা, কবিগুরুর কলমে লেখা – আমাদের মধ্যে ক্লান্তির কাছে যারা হেরে গিয়েছি, তাদের জন্য।

My posting of Bangla literary works on this blog is often accompanied by a slight guilt of imposing my favorites on the readers. Some writings, however, possess a meaning so deep that posting those leave me feeling glad instead. This post and its translation is one such work – written by Rabindranath Thakur, a poem for those of us who have succumbed to weariness.

Rabindranath Thakur-Klanti Amar (2)
(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি পাওয়া যাবে এখানে / Original image taken from Prospect Steet UMC.)

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু,
পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু॥
এই-যে হিয়া থরোথরো   কাঁপে আজি এমনতরো
এই বেদনা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥

এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু,
পিছন-পানে তাকাই যদি কভু।
দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায়   শুকায় মালা পূজার থালায়,
সেই ম্লানতা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গীতালি হতে সংগ্রহীত)

Forgive my languor

Forgive my languor, O Lord,
if ever I lag behind
upon life’s way.
Forgive my anguished heart
which trembles and hesitates
in its service.
Forgive my fondness
that lavishes its wealth
upon an unprofitable past.
Forgive these faded flowers
in my offering
that wilt in the fierce heat
of panting hours.

– Rabindranath Thakur
(Translated by the poet himself. A translation by Reba Som follows)

Forgive me my weariness O Lord
Should I ever lag behind
For this heart that this day trembles so
And for this pain, forgive me, forgive me, O Lord

For this weakness, forgive me O Lord,
If perchance I cast a look behind
And in the day’s heat and under the burning sun
The garland on the platter of offering wilts,
For its dull pallor, forgive me, forgive me O Lord,