ছোটগল্প ১০১ – প্রফেসর শঙ্কু – প্রফেসর শঙ্কু ও হাড় / Short Story 91 – Professor Shanku – Professor Shanku O Har (Bones)

Satyajit Ray-Professor Shanku O Harপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku O Har

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – প্রফেসর শঙ্কু ও হাড় – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কু ও হাড় সত্যজিতের লেখা শঙ্কুর প্রথম গল্পগুলোর একটি। আর সেসব গল্পগুলোর মত এটিতেও আমরা শঙ্কুকে ধী-স্থির ঋষিতুল্য বিজ্ঞানীর বদলে বেপরোয়া একজন হিসেবেই দেখতে পাই। তবে এই গল্পটা সেদিকটা বাদেও প্রফেসরের অন্য গল্পগুলোর চাইতে একটু আলাদা, কারণ এতে শঙ্কু বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসার বশে যা করেন, তা তাকে আমাদের চিরচেনা নীতিবান এক মানুষের বদলে একজন আত্মসাৎকারীর পর্যায়েই ফেলে দেয়।

Professor Shanku’s Stories – Professor Shanku O Har (Bones) – Satyajit Ray

Professor Shanku O Har is one of the first stories of the scientist written by Satyajit Ray, and like others of its kind, it depicts Shanku as more of a reckless scientist than the almost sage-like person we come across his later depictions. This story is different, however, for another reason: in it, Shanku’s recklessness and curiosity leads him to appropriate someone else’s property – an act that results in severe consequences.

Advertisements

গল্প ৮৮ – ইছামতি / Story 88 – Ichamati

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Ichamati 2

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Ichamati

ইছামতি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কিছুদিন আগে এই সাইটে বিভূতিভূষণের গল্পগুলোতে “সময়ের শান্ত স্রোতে (চরিত্রদের জীবন) ধীরে ধীরে একটি নিরুদ্বেগ অবধারিতের” দিকে প্রবাহিত হওয়া নিয়ে লিখেছিলাম। সে সময় আলোচ্য লেখাটি ছিল আরণ্যক ইছামতি  উপন্যাসটিও সেক্ষেত্রে অনেকটা আরণ্যকের মতই, তবে এই গল্পটির পটভূমি বিহার নয়, বাংলাদেশ আর ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে যে ইছামতি নদী, তারই ধারের পাঁচপোতা নামের একটি গ্রাম। অবিভক্ত ভারত তখনো ব্রিটিশদের দখলে, আর মোল্লাহাটির নীলকুঠির অবস্থাও তখন রমরমা। কুঠির দেওয়ান কুলীন ব্রাহ্মন রাজারাম রায়, যার প্রতাপে সারা গ্রাম তটস্থ থাকে। গল্পের শুরুতে রাজারামের তিন বোন তিলু, বিলু আর নিলুর বিয়ে হয় গ্রামে ঘুরতে আসা ভবানী বাড়ুয্যে নামের আরেকজন কুলীনের সাথে। আর যদিও বিভূতিভূষণের এই উপন্যাসটি বিশেষ কোন চরিত্রকে নিয়ে লেখা নয়, গল্পের পরবর্তীটুকুতে মূলত ভবানী ও তার স্ত্রীদের চোখ দিয়েই গ্রামটির সাথে ধীরে ধীরে আমাদের পরিচয় ঘটে।

ইছামতি  উপন্যাসটি যে সময়ের উপর ভিত্তি করে লেখা, তখন নদীপাড়ের জনপদগুলি সেকেলে বাঙ্গালী সমাজের মতই গোঁড়ামী আর কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল। জাতপ্রথা আর নারীর অবদমন থেকে শুরু করে ভারতীয় সমাজের বৃটিশ-আরাধনা আর দুর্বলদের উপর নিপীড়ন – এর সবই উপন্যাসটিতে আমরা দেখি, কিন্তু তা সমালোচকের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং যেন পাঁচপোতার একটি নিতান্তই মানবিক দিনলিপির মাধ্যমে। গ্রামের বুড়ো ব্রাহ্মণদের পরনিন্দা-পরচর্চা, নীলকুঠির কর্মচারীদের দাদাগিরী, আর গ্রাম্যবধূদের গল্প – এসমস্ত রোজনামচার মধ্যে দিয়েই গল্পটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। অথচ তারই মধ্যে তিলুরা ঘোমটা ছাড়া রাস্তায় চলতে শেখে, গ্রামের ছেলেরা এক এক করে কলকাতায় পাড়ি জমায়, আর সাহেবদের সেই নীলকুঠি কিনে নেয় গ্রামেরই এক লালমোহন পাল, যে কম বয়সে কুঠির সাহেব মালিককে দেখে চাবুকের বাড়ি খাওয়ার ভয়ে রাস্তার উপর নিজের সওদাপাতি ফেলে পালিয়েছিল। শ্বাশত আর পরিবর্তনের মাঝে ভারসাম্য রেখে চলা সে অদৃশ্য ধারার গভীর সৌন্দর্যকে বিভূতিভূষণ যেন ইছামতির মাঝেই খুঁজে পান –

কত তরুণী সুন্দরী বধূর পায়ের চিহ্ন পড়ে নদীর দু’ধারে, ঘাটের পথে, আবার কত প্রৌঢ়া বৃদ্ধার পায়ের দাগ মিলিয়ে যায়… গ্রামে গ্রামে মঙ্গলশঙ্খের আনন্দধ্বনি বেজে ওঠে বিয়েতে, অন্নপ্রাশনে, উপনয়নে, দূর্গাপূজোয়, লক্ষীপূজোয়… সে সব বধূদের পায়ের আলতা ধুয়ে যায় কালে কালে, ধূপের ধোঁয়া ক্ষীণ হয়ে আসে… মৃত্যুকে কে চিনতে পারে? গরীয়সী মৃত্যু-মাতাকে? পথপ্রদর্শক মায়ামৃগের মতো জীবনের পথে পথে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে সে, অপূর্ব রহস্যভরা তার অবগুন্ঠন কখনো খোলে শিশুর কাছে, কখনো বৃদ্ধের কাছে… তেলাকুচো ফুলের দুলুনিতে অনন্ত সে সুর কানে আসে… কানে আসে বনৌষধির কটুতিক্ত সুঘ্রাণে, প্রথম হেমন্তে বা শেষ শরতে। বর্ষার দিনে এই ইছামতির কূলে কূলে ভরা ঢলঢল রূপে সেই অজানা মহাসমুদ্রের তীরহীন অসীমতার স্বপ্ন দেখতে পায় কেউ কেউ… কত যাওয়া আসার অতীত ইতিহাস মাখানো ঐ সব মাঠ, ঐ সব নির্জন মাঠের ঢিপি – কত লুপ্ত হয়ে যাওয়া মায়ের হাসি ওতে অদৃশ্য রেখায় আঁকা। আকাশের প্রথম তারাটি তার খবর রাখে হয়তো…

বিভূতিভূষণ ইছামতি লেখার পর সময়ের সাথে সাথে নদীপাড়ের গ্রামগুলি বদলে গেছে অনেক। তবে গ্রামীণ বাংলার যা কিছু চিরন্তন, তাতো আর বদলায়নি, মঙ্গলশঙ্খের আনন্দধ্বনি সময়ে সময়ে নদীপারের গ্রামগুলোতে বেজে ওঠে আজও, রূপসী বধূদের পদচিহ্ন এখনো নদীপারে খানিক্ষণের জন্যে আঁকা হয়ে মুছে যায়। সে মনে করেই বাংলার নদীপাড়ের মানুষের হাসি-কান্না, স্বপ্ন আর ভালবাসা নিয়ে বিভূতিভূষণের লেখা এই উপন্যাসটি আজ পাঠকদের জন্যে তুলে দিলাম।

Ichamati – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

Following Aranyak, another of Bibhutibhushan Bandyopadhyay’s novels: Ichamati is a narrative of the life along the banks of a river of the same name.  In the early 20th Century, when the subcontinent was under British occupation and indigo plantations were strewn across the undivided Bangla, a plantation by a certain Panchpota village on the river was in its heyday. The owners of that plantation were Englishmen, but their power was wielded through Bangalees who commanded subservience across the entire region. Rajaram, the dewan (secretary) of the plantation, had married off his three sisters to a former ascetic, Bhavani Bandyopadhyay, and it is the latter’s polygynous yet happy family around which the novel develops. Like any other rural Bangalee community of the time, Panchpota was not without its share of superstition, wrongs and biases – but instead of being condemned in Ichamati, those are humanised through the characters. In the novel, the anticipating reader finds the usual village folk who do their usual work – hypocritical, elderly Brahman’s who only gossip idly and criticize others, the hired goons of the plantation who grab land, and the ‘off-the-rocker’ housewife who would say things no one would (or could). Yet, around the daily routines of these people occur silent but subversive changes – Bhavani’s wives learn to walk in public without a veil, and the boys of the village go off to Kolkata to work, one by one… even the ownership of the plantation shifts to a local man. Such changes continue to shape the Indian subcontinent even today. So in that sense, Ichamati helps us understand every Bangalee village then and now. But with its heart-softening narrative of the lives along the river bank, it also offers more than an analytical window into rural Bangla, it teaches us to love her.

ছোটগল্প ৩২ – খগম / Short Story 32 – Khagam

Khagam

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Khagam

খগম – সত্যজিৎ রায়

খগম সত্যজিৎ রায়ের সেরা ভয়ের গল্পগুলোর মধ্যে একটি। ভারতের এক প্রত্যন্ত কোণে ছুটি কাটাতে গিয়ে গল্পের উত্তম পুরুষের (বর্ণনাকারী) সাথে ধুর্জটিবাবু নামের এক বাঙ্গালী ভদ্রলোকের পরিচয় ঘটে। সেখানে থাকাবস্থায় স্থানীয় লোকজনদের কাছে ইমলিবাবা নামের এক সন্ন্যাসী আর তার পোষা সাপের কথা শুনে তারা তাকে দেখতে যান। সাধু-সন্ন্যাসীদের উপর ধুর্জটিবাবুর আগে থেকেই সন্দেহ ছিল, আর তার উপর সাধুবাবার সাথে দেখা করার সময় এমন একটি ঘটনা ঘটে, যাতে ধুর্জটিবাবুর উল্লাস আর অবিশ্বাস আরও পাকা হয়। কিন্তু সেই ঘটনার রাতেই ধুর্জটিবাবুর ব্যবহার রহস্যজনকভাবে বদলে যায়… আর তারপর ঘটনাবলী এমনভাবে অতিপ্রাকৃতের দিকে মোড় নেয়, যে তা আমাদেরকে ভয়ে-বিস্ময়ে বাকরূদ্ধ করে দেয়।

শিড়দাঁড়া বেয়ে শিহরণ খেলে যাওয়ার জন্য কটি লাইন –

‘সাপের ভাষা সাপের শিস, ফিস্‌ ফিস্‌ ফিস্‌ ফিস্‌!
বালকিষণের বিষম বিষ, ফিস্‌ ফিস্‌ ফিস্‌ ফিস্‌!’

Khagam – Satyajit Ray

Of the scary stories written by Satyajit Ray, Khagam is certainly one of the most spine-chilling. The story starts innocuously enough, with the narrator coming across a fellow Bangalee gentlemen while traveling in a remote part of India. After hearing from the locals about a supposed ascetic and his pet snake, the two decide to pay a visit, the narrator to satisfy his curiosity, and the acquaintance to solidify his doubt. The visit goes much to the latter’s satisfaction, but that night, things take a terrifyingly supernatural turn, leaving the narrator – and us – astonished and terrified.