কবিতা ৭৩ – নামের গুণ / Poem 73 – Naam er Gun (A Lot is in a Name)

আজকের কবিতাটির কোন নাম আছে কিনা তা জানি না, তাই নিজেই একটি নাম দিয়ে দিলাম। রবিঠাকুরের কবিতাগুলোর মধ্যে যে এই কবিতাটি খুব উচ্চস্তরের, তা বলা যাবে না। তবে হঠাৎ সামনে পেয়ে পড়া, আর তারপর অকারণেই বিয়ের বাজারে প্রবাসী পাত্র-পাত্রীদের পিছনে বাঙ্গালিদের প্রাণপণে ছোটার কথা মনে পড়ে গিয়ে বেশ হাসি পেয়ে গেল। খানিকটা কৌতুকচ্ছলেই তাই “নামজাদা” পাত্র-পাত্রীদেরকে নিয়ে আমাদের লাফালাফির এই কবিতাটি আজ তুলে দিলাম।

This time, a humorous poem that, for some reason, reminds me of our ridiculous race to bag non-resident Bangalee brides/grooms (NRIs/NRBs) for marriage. Naam er Gun (A Lot is in a Name) is by no means one of Thakur’s good poems, but it does capture the obsequious South-Asian fascination and desire for everything that is Western. Choose your other halves wisely, friends – ‘expatriate’ is just a meaningless tag, unless a soulmate is not what you are looking for.

নামের গুণ 

আদর ক’রে মেয়ের নাম
রেখেছে ক্যালিফর্নিয়া,
গরম হল বিয়ের হাট
ঐ মেয়েরই দর নিয়া।
মহেশদাদা খুঁজিয়া গ্রামে গ্রামে
পেয়েছে ছেলে ম্যাসাচুসেট্‌স্‌ নামে,
শাশুড়ি বুড়ি ভীষণ খুশি
নামজাদা সে বর নিয়া–
ভাটের দল চেঁচিয়ে মরে
নামের গুণ বর্ণিয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খাপছাড়া)

Advertisements

ছোটগল্প ৯৫ – ভয়াবহ নানা / Short Story 95 – Bhoyaboho Nana (Granddad the Terrible)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Jafar Iqbal-Amra O Crab Nebula-Bhoyaboho Nana

ভয়াবহ নানা – জাফর ইকবাল (আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা হতে সংগ্রহিত)

অনেকদিন এই সাইটে কোন লেখা তোলা হয়না। তাই আজ তাতে ছেদ টানা। জাফর ইকবালের ভয়াবহ নানা  শিক্ষিত-শহুরে দুই ভাইবোনের সাথে তাদের প্রাচীনপন্থী নানার মুখোমুখি হওয়া নিয়ে একটি মজার গল্প। তবে গল্পটি তোলার কারণ এটি হাসির বলে নয় – হালকা হলেও ভয়াবহ নানা  আজকের সময়ে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মতাদর্শের যেই সংঘর্ষটুকু গল্পটিতে আমরা দেখতে পাই, বৃহত্তর বাঙ্গালী সমাজে আজ সেটিই বড় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাঠকরা কোন মত মেনে চলেন তা জানিনা, কিন্তু সমালোচনা অবধারিত জেনেই এটি তুলে দেওয়া।

Bhoyaboho Nana (Granddad the Terrible) – Zafar Iqbal (from Amra O Crab Nebula)

In the way of punctuating what has been a long silence so far, this post. Jafar Iqbal’s Bhoyaboho Nana (Granddad the Terrible) is an amusing story of two city-kids taking on their rather conservative and archaic grandfather. In a time when the larger Bangalee society is going through an often-violent tussle between conflicting ideals, the story bears special significance, hence the upload.

গান ৩০ – একতারা বাজাইয়ো না / Song 30 – Ektara Bajaiyo Na (Don’t Play the Ektara)

এইবারের পোস্টটি সাহিত্য হিসেবে খুব উঁচুমানের নয়, সুরের দিক দিয়েও যে সর্বোৎকৃষ্ট, তাও নয়, কিন্তু তবুও একতারা বাজাইয়ো না  নামের অসাধারণ এই গানটি বাঙ্গালীদের মধ্যে অনেকেরই আজ জানা। কুমার বিশ্বজিতের লেখা এই গানটিতে শ্রোতারা অনেক অর্থই খুঁজে পেতে পারেন, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এই গানটির হাল্কা হাস্যরসের মধ্যে আধুনিক বাঙ্গালীদের চাল-চলনের প্রচ্ছন্ন সমালোচনা শুনতে পাই। নববর্ষের প্রথম দিনটিতেএসো হে বৈশাখ  শোনা যদি বাঙ্গালীদের রেওয়াজ হয়ে থাকে, তাহলে বছরের অন্য দিনগুলিতে তারা খুব সম্ভবত একতারা বাজাইয়ো না  গানটির বাক্যগুলোই অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। তাই আজ তাদের নিয়ে খানিকটা মজা, আর খানিকটা ব্যঙ্গ করে ভিডিও সহ গানের কলিগুলো তুলে দিলাম।

This time, a musical post. The lyrics of Ektara Bajaiyo Na (Don’t Play the Ektara) do not belong to high literature, and neither does the music rank high among compositions, yet the song remains one that many a Bangalee has heard, thanks to its catchy tune and friendly tone. Listeners of the song ascribe various meanings to it, but to me, it is a masked criticism of Bangalees who, in their eagerness to adopt the dumbed-down aspects of Western culture, have lost much of what is indigenous to them. The song, and the accompanying video, is in acknowledgment of that perceived undertone.

একতারা বাজাইও না

তোমরা একতারা বাজাইও না, দোতারা বাজাইয়ো না,
একতারা বাজাইও না, ঢাকঢোল বাজাইয়ো না,
গিটার আর বংগো বাজাও রে,
ও তোমরা গিটার আর বংগো বাজাও রে,
একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
আমার একতারা বাজাইলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

আলতা পড়িও না, তোমরা শাড়ি পড়িও না
আলতা পড়িও না শাড়িও না
প্যান্ট আর ম্যাক্সি পড় রে
তোমরা প্যান্ট আর ম্যাক্সি পড় রে
আলতা শাড়ি পড়িলে মনে পইড়া যায়
আমার আলতা শাড়ি পড়িলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

শুক্তো রাঁধিয়ো না পায়েস রাঁধিয়ো না
শুক্তো রাঁধিয়ো না পায়েস রাঁধিয়ো না
মোগলাই আর চাইনিজ রাঁধো রে
ও তোমরা চাইনিজ আর মোগলাই রাঁধো রে
শুক্তো পায়েস রাঁধিলে মনে পইড়া যায়
আমার শুক্তো পায়েস রাঁধিলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

জারি গাইয়ো না, বাউল গাইয়ো না
তোমরা কির্ত্তন গাইয়ো না, বাউল গাইয়ো না
ডিসকো আর রক গাও রে
তোমরা ডিসকো আর রক গাও রে
কির্ত্তন বাউল গাইলে মনে পইড়া যায়
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে
একদিন বাঙালি ছিলাম রে

– কুমার বিশ্বজিৎ

কবিতা ২৭ – পণ্ডশ্রম / Poem 27 – Pandoshrom (Energy Wasted)

জাতি হিসেবে আমরা যে হুজুগে, তা বাঙ্গালীমাত্রেরই জানা থাকার কথা। ছোট ছোট ব্যাপারকে টেনে বড় করা আর সেসব কে নিয়ে অকারণ মাতামাতি করতে আমাদের চাইতে ভাল কে পারে? বিশেষ করে আজকাল ফেসবুক-টুইটারের মত সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম বাঙ্গালীর হাতে চলে আসায় আমাদের অতিরঞ্জন-অতিকথনের প্রবণতা তো তুঙ্গে উঠেছে। তাই সেটাকে খানিকটা ব্যাঙ্গ করেই আজ শামসুর রহমানের পণ্ডশ্রম  কবিতাটি তুলে দিলাম। ভাল লেখকদের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তাদের লেখাগুলো সময় পেরিয়ে গেলেও সহজে প্রাসঙ্গিকতা হারায় না, আমার মতে পণ্ডশ্রম তেমনই একটি লেখা।

As Bangalees, we know too well how much of a rumor-mongering, hype-inducing nation we are. Yet, we do little to change it. Making mountains out of molehills and then working up a rage about those rumors seems to be intrinsic to us. And now that we are in the age of Facebook and Twitter, can anyone stop themselves from taking part? From rants in Facebook to false news in social and even print media, rumors and rage seems to be spreading at relativistic speeds. Shamsur Rahman had once identified our ‘hujuge’ tendencies in his poem Pandoshrom (Energy Wasted) prior to the digital age. A mark of the wonderful poet he is, the poem has only grown in relevance over time.

পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে,
কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে।
কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কি-হে বল?
কানের শোকে আজকে সবাই মিটিং করি চল।

যাচ্ছে, গেল সবই গেল, জাত মেরেছে চিলে,
পাঁজি চিলের ভূত ছাড়াব লাথি-জুতো কিলে।
সুধী সমাজ! শুনুন বলি, এই রেখেছি বাজি,
যে-জন সাধের কান নিয়েছে জান নেব তার আজই।

মিটিং হল ফিটিং হল, কান মেলে না তবু,
ডানে-বাঁয়ে ছুটে বেড়াই মেলান যদি প্রভু!
ছুটতে দেখে ছোট ছেলে বলল, কেন মিছে
কানের খোঁজে মরছ ঘুরে সোনার চিলের পিছে?

নেইকো খালে, নেইকো বিলে, নেইকো মাঠে গাছে;
কান যেখানে ছিল আগে সেখানটাতেই আছে।
ঠিক বলেছে, চিল তবে কি নয়কো কানের যম?
বৃথাই মাথার ঘাম ফেলেছি, পণ্ড হল শ্রম।

– শামসুর রাহমান