কবিতা ৬৫ – বঙ্গমাতা / Poem 65 – Bangomata (Mother Bengal)

rabindranath-thakur-bangomata

আজ যে কবিতাটি তোলা, তার শেষের দুটি পংক্তি আমাদের অনেকেরই মুখে মুখে ফেরে। বাঙ্গালী হিসেবে আমরা খানিকটা অসূয়াপূর্ণ, অর্থাৎ পৃথিবীকে বাঁকা চোখে দেখতে আর নিজেদের নিয়ে ঠাট্টা করতে অভ্যস্ত, তাই সেটি অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু বঙ্গমাতা কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ সেই দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং সমাজের অবক্ষয়ের মুখে বাঙ্গালীদের নিষ্ক্রিয় দুর্বলতা হতে উত্তরণের পথনির্দেশনা দিতেই লিখেছিলেন। বিগত কদিন ধরে সংবাদ পরে মনটা বেশ ভারাক্রান্ত হয়ে আছে, কবিতার মাঝে তাই খানিকটা আলোর দিশা খুঁজছিলাম। ভাবতে ভাবতে মনে পড়ল, তাই তুলে দেওয়া।

Today, a poem whose last two lines are the favorite lament of every cynical Bangalee – but that is not the reason why I post this. Bangomata (Mother Bengal) was written by Rabindranath Thakur not as a lament or a jibe at the state of our society, but rather, to point towards a salvation from this quagmire in which we Bangalees find ourselves so hoplessly stuck. In a time when it is easy for us to succumb to inaction and domestic bliss even as out soceity descends into darkness, this poem reminds us of what we must instead be – strong and resilient in the face of pain and danger – to lift ourselves out of our current state of being.

বঙ্গমাতা

পূণ্যে পাপে দুঃখে সুখে পতনে উত্থানে
মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানে
হে স্নেহার্ত বঙ্গভূমি, তব গৃহক্রোড়ে
চিরশিশু করে আর রাখিয়ো না ধরে।
দেশদেশান্তর-মাঝে যার যেথা স্থান
খুঁজিয়া লইতে দাও করিয়া সন্ধান।
পদে পদে ছোটো ছোটো নিষেধের ডোরে
বেঁধে বেঁধে রাখিয়ো না ভালোছেলে করে।
প্রাণ দিয়ে, দুঃখ স’য়ে, আপনার হাতে
সংগ্রাম করিতে দাও ভালোমন্দ-সাথে।
শীর্ণ শান্ত সাধু তব পুত্রদের ধরে
দাও সবে গৃহছাড়া লক্ষ্মীছাড়া ক’রে।
সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ কর নি।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (চৈতালি  হতে সংগ্রহীত)

Advertisements

গান ৪০ – এসো হে বৈশাখ / Song 40 – Esho He Boishakh (Come O Boishakh)

Print

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি এঁকেছেন মোস্তাফিজ রহমান / Original artwork by Mostafiz Rahman)

আসছে ১৪২৬। শেষ হতে চলা বছরের হতাশা আর দুঃখগুলোকে পিছনে ফেলে আরেকবার আশায় বুক বাঁধার সময় এখন, তাই পাঠকদের নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানাতে পহেলা বৈশাখের চিরাচরিত গান – রবি ঠাকুরের এসো হে বৈশাখ – তুলে দিলাম। যারা সুরের মানুষ, তাদের জন্যে নিচে গানের ঢং এ লেখা কলিসহ ইউটিউব হতে গানটি তুলে দেওয়া হলো।

শুভ নববর্ষ !

As Bangla Year 1425 draws to a close, it is time for us to let go of the negatives of this year and start 1426 anew. So, in a way of greeting my readers on the occasion, a post featuring Thakur’s Esho He Boishakh – the quintessential Bangla song of renewal. For those who love music, I have attached a YouTube link to a performance of the song.

Shubho Nabobarsho (Happy New Year) !

এসো হে বৈশাখ

এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।
তাপসনিশ্বাসবায়ে   মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥
যাক পুরাতন স্মৃতি,   যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক॥মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
রসের আবেশরাশি   শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ।
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক॥- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রকৃতি হতে সংগ্রহীত)

(গানের ঢং এ কলিগুলো)

এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো… যাক পুরাতন স্মৃতি
যাক ভুলে যাওয়া গীতি
যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক
যাক যাক
এসো এসো… মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা
অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি
শুষ্ক করি দাও আসি
আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুঁজঝটি জাল যাক, দূরে যাক যাক যাক
এসো এসো…