কবিতা ৬৮ – আছে দুঃখ আছে মৃত্যু / Poem 68 – Achhe Dukkho Achhe Mrityu (Sadness and Joy, Life and Death)

rabindranath-thakur-achhe-dukkho-achhe-mrityu-1

আজ অতীত হতে চলা বছরটিকে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে মনের উপলব্ধিতে আসা একটি কবিতা। আনন্দ ও বেদনা, মিলন ও বিরহ, আগমন ও বিদায়, আর পুনরাগমন ও পুনর্মিলন… প্রতিটি বছর তো আমাদের জীবন-সারাংশেরই পুনরাবৃত্তি, তাই না? নতুন বছরের দ্বারগোঁড়ায় দাঁড়িয়ে তাই সেটির উজ্জ্বলতর মুহূর্তগুলোর প্রত্যাশায়ই নাহয় আরেকবার শুরু করি?

গ্রেগরিয়ান নববর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে।

In review of the year that is soon to be past, a poem by Rabindranath Thakur. Achhe Dukkho, Achhe Mrityu (Sadness and Joy, Life and Death) is a poem that reminds us that life is only complete when it knows laughter as well as it does tears, unions as well as it does bereavement, and triumphs as much as failures. Perhaps each of the pair succeeds the other like the ebb of the tide follows its flow, or perhaps they are forever there in equal measure… of such things, what would I know? But when the mind finds itself about to retrace the same path that it has over the past year, there is peace and wonderment to be found in that knowledge: Perhaps each year is a recurring act of life in its fullest, and if so, then a reminder – that in all its hues, it may hold just enough blue for one to love and get lost within.

Happy new year, everyone.

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥
তবু প্রাণ নিত্যধারা,      হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,
বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে ॥
তরঙ্গ মিলায়ে যায় তরঙ্গ উঠে,
কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে।
নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ,   নাহি নাহি দৈন্যলেশ–
সেই পূর্ণতার পায়ে মন স্থান মাগে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা  হতে সংগ্রহীত)

 

Advertisements

গান ৪৬ – আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে / Song 46 – Aaj Jyotsna-raate Sabai Gechhe Bone (On This Moon-soaked Night)

Rabindranath Thakur-Aaj Jyotsnaraate (2)

বেশ কিছুদিন ধরেই রবিঠাকুরের লেখাগুলোর মাঝে ডুবে আছি, তাই এই সাইটটির সাম্প্রতিক সংযোজনগুলোর ধারাবাহিকতায় আজ কবিগুরুর আরেকটি কবিতা। আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে  গানটি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন বোলপুরে থাকাকালে কোন এক জ্যোৎস্নালোকিত রাতে, সাহিত্যিক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ণনায়

“কোন এক উৎসব উপলক্ষে আমরা বহু লোক বোলপুরে গিয়েছিলাম। খুব সম্ভব ‘রাজা’ নাটক অভিনয় উপলক্ষে। বসন্তকাল, জ্যোৎস্না রাত্রি। যত স্ত্রীলোক ও পুরুষ এসেছিলেন তাঁদের সকলেই প্রায় পারুলডাঙ্গা নামক এক রম্য বনে বেড়াতে গিয়েছিলেন। কেবল আমি যাইনি রাত জাগবার ভয়ে।… গভীর রাত্রি, হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, মনে হল যেন ‘শান্তিনিকেতনের’ নীচের তলার সামনের মাঠ থেকে কার মৃদু মধুর গানের স্বর ভেসে আসছে। আমি উঠে ছাদে আলসের ধারে গিয়ে দেখলাম, কবিগুরু জ্যোৎস্নাপ্লাবিত খোলা জায়গায় পায়চারি করছেন আর গুন্‌গুন্‌ করে গান গাইছেন। আমি খালি পায়ে ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেলাম, কিন্তু তিনি আমাকে লক্ষ করলেন না।, আপন মনে যেমন গান গেয়ে গেয়ে পায়চারি করছিলেন তেমনি পায়চারি করতে করতে গান গাইতে লাগলেন। গান গাইছিলেন মৃদুস্বরে।  তিনি গাইছিলেন ‘আজ জ্যোৎস্নারাতে…”।

পুত্র শমীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরে কোন এক জ্যোৎস্নালোকিত রাত্রিতে তাঁকে মনে করে রবিঠাকুর এই গানটি লিখেছিলেন, এমন একটি ইতিকথা বাঙ্গালীদের মাঝে প্রচলিত। কিন্তু গানটি সত্যিই ঐ প্রেক্ষাপটে লেখা কিনা আমি জানিনা। কিন্তু এটুকু মনে হয় যে প্রিয় কিংবা আরাধ্য কোনও জনের জন্য গভীর ভালবাসা আর বেদনাভরা অপেক্ষা এমন আবেগভরে বোধহয় আর কোনও লেখায় বর্ণিত হয়নি। পাঠকদের মন আর্দ্র করে দিতে তাই গানের পংক্তিগুলো আজ এখানে তুলে দিলাম।

পুনশ্চ – গানটির উপরোক্ত ইতিহাস, এবং এডওয়ার্ড থমসনের লেখা সেটির নিম্নোক্ত ইংরেজি অনুবাদ আমি পেয়েছি গীতবিতান.নেট ওয়েবসাইটটিতে। রবীন্দ্রসংগীতের ব্যাপারে যারা বিস্তারিত জানতে চান, তাদের পৃষ্ঠাটিতে ঘুরে আসার আমন্ত্রণ ও অনুরোধ রইল। তাছাড়া যারা গান শুনতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে ইউটিউবে পাওয়া গানটির একটি ভিডিও নিচে সংযুক্ত করে দিলাম।

In continuation of my recent immersion in Rabindranath Thakur’s works, another of his songs. From anecdotal evidence, we know that Aaj Jyotsnaraate Sabai Gechhe Bone (On This Moon-soaked Night) was written by Thakur on a moonlit night in Bolpur, but whether it was written from grief at the loss of his younger son Shamindranath, we will perhaps never know. One can be sure, however, that that few works, if any, express with such tenderness the yearning and pain that accompanies Man’s separation from and wait to find a cherished someone (or perhaps God Himself, depending on how you read the poem) he has lost. For the softer corner of your heart, therefore, this song.

P.s. For non-native speakers, I have included two English translations of the song below. The anecdotes about the poem and the translation by Edward Thomson were found in http://www.gitabitan.net, which has a beautiful collection of Thakur’s songs and associated materials. Do take a peek. Also, if you prefer the words sung, you will find a YouTube video of a rendition at the end of this post.

আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে

আজ    জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে ॥
যাব না গো যাব না যে,   রইনু পড়ে ঘরের মাঝে–
এই নিরালায় রব আপন কোণে।
যাব না এই মাতাল সমীরণে ॥

আমার এ ঘর বহু যতন ক’রে
ধুতে হবে মুছতে হবে মোরে।
আমারে যে জাগতে হবে,   কী জানি সে আসবে কবে
যদি আমায় পড়ে তাহার মনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহিত)

Aj Jyotsnarate Shabai Geche Bone (On This Moon-soaked Night)

Translation – Version 1- Edward Thomson
(Rabindranath Tagore: The Augustan Books of Modern Poetry, Ernest Benn Ltd. London, 1925)

They have all gone to the woods in this moonlit night,
In the south wind drunken with Spring’s delight.
But I will not go, will not go;
I will stay in the house, and so
Wait in my lonely corner-this night
I will not go in this south wind drunk with delight.

Rather, this room with care
I must scour and cleanse and prepare;
For … if He remembers me, then
He will come, though I know not when;
They must wake me swiftly. I will not fare
Out where the drunk wind reels through the air.

Translation – Version 2

On this moon-soaked night,
they have all gone to frolic in the forest.
The drunk spring breeze beckons, “Come!”
but heed it I will not.
In this desolate corner of my house, I will remain.
No I will not go into this intoxicating night.

I will stay behind
and clean my room with care.
Who knows when he may come?
Remain I must, perchance he remembers me,
and the drunk winds bring him here,
in this moonlit night.
I must stay awake.

– Rabindranath Thakur

কবিতা ২৪ – কাজলা দিদি / Poem 24 – Kajla Didi

Jatindramohan Bagchi-Kajla Didi 1

ছেলেবেলায় কাজলা দিদি  কবিতাটা যখন পড়তাম, তখন চোখে খুব জল আসত। এখন যখন পড়ি, খুব কাছের একজন মানুষের কথা মনে পড়ে। জানিনা কেন, কারণ মানুষটি আমার জীবনে এখনো বর্তমান। সে প্রায়ই চলে যাওয়ার কথা ভাবে, তাই হয়ত। কাজলা দিদি – একটি কবিতা, যা বোনকে ভালবাসে এমন প্রত্যেকটি ছেলেদের জন্য।

Of the poems I read in my childhood, Kajla Didi remains one of the few poems that still affect me to this day. A poem about a child’s untarnished love for his/her sister should not affect me so much, for I don’t have a sister. Perhaps it does because it hits the part of my subconscious that has sought siblinghood with certain women in my life. If you are one of those unlucky ones, then this is my apology to you.

কাজলা দিদি

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই;
মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সেদিন হতে দিদিকে আর কেনই-বা না ডাকো,
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে ডাকি, তখন
ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো,
আমি ডাকি, – তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
বল মা, দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে!
দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে-
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে?
আমিও নাই দিদিও নাই কেমন মজা হবে!

ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল,
মাড়াস নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল;
ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে,
দিস না তারে উড়িয়ে মা গো, ছিঁড়তে গিয়ে ফল;
দিদি এসে শুনবে যখন, বলবে কী মা বল!

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
এমন সময়, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?
বেড়ার ধারে, পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোঁপে-ঝাড়ে;
নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না- তাইতো জেগে রই;
রাত হলো যে, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?

– যতীন্দ্রমোহন বাগচী

কবিতাগুচ্ছ ১১ – রবীন্দ্র অণুকাব্য (লেখন) / Anthology 11 – Rabindra Anukabya (Lekhan) (Epigrams and Verses by Rabindranath Thakur)

‘রবীন্দ্রনাথ’ শব্দটি শুনলেই আমাদের অনেকেই গুরুগম্ভীর সাহিত্যের কথা ভাবি। অথচ কবিগুরু যে কত ছোট ছোট অথচ গভীর অর্থপূর্ণ কাব্য রচনা করেছেন, তা আমাদের অনেকেই খেয়ালে রাখিনা। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা হয়ত আজ সেসব অনুকাব্যগুলোকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তোলে, তাই রবিঠাকুরের কিছু অনুকাব্য নিয়ে এই পোস্ট। অন্যসব পোস্টগুলোর চাইতে এটি একটু আলাদা, কারণ এটি স্থির নয়, অন্য পোস্টগুলোতে লেখা তোলার ফাঁকে ফাঁকে এটিতে আমি নতুন নতুন কবিতা তুলব, কখনো কখনো অনুবাদ আর কখনো কখনো ছবি সহ। কবিগুরুর হাতের লেখাও কিছু থাকবে এতে। পাঠকদের কাছে এই প্রয়াসটুকু ভাল লাগবে আশা করি।

The word ‘Rabindranath’ often makes many a Bangalee think about serious literature – not unreasonably, as many of his works make for more than heavy reading. However, such thought perhaps arises because many of us Bangalee millennials remain unaware of the short verses and epigrams which he wrote. Delightful and profound in their own right, they are perhaps even more relevant in our time constrained modern life. Hence this post. This one is a little different from the other ones, as I plan to periodically add fresh works by the poet to it, with occasional translations and somewhat relevant images. I hope the readers will find my effort worth their time.

লেখন  হতে তুলে দেওয়া কিছু অনুকাব্য / Some Verses from Lekhan

“এই লেখনগুলি সুরু হয়েছিল চীনে জাপানে। পাখায় কাগজে রুমালে কিছু লিখে দেবার জন্যে লোকের অনুরোধে এর উৎপত্তি। তারপরে স্বদেশে ও অন্য দেশেও তাগিদ পেয়েছি। এমনি করে এই টুকরো লেখাগুলি জমে উঠ্‌ল। এর প্রধান মূল্য হাতের অক্ষরে ব্যক্তিগত পরিচয়ের। সে পরিচয় কেবল অক্ষরে কেন, দ্রুতলিখিত ভাবের মধ্যেও ধরা পড়ে… অন্যমনস্কতায় কাটাকুটি ভুলচুক ঘটেছে। সে সব ত্রুটিতেও ব্যক্তিগত পরিচয়েরই আভাস রয়ে গেল॥

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (হাঙ্গেরী, ১৯২৬)

“The lines in the following pages had their origin in China and Japan where the author was asked for his writings on fans or pieces of silk.”

Rabindranath Thakur (Hungary, 1926)

(১/1)

Rabindranath Thakur-Fireflies (2)

স্বপ্ন আমার জোনাকি ,
দীপ্ত প্রাণের মণিকা ,
স্তব্ধ আঁধার নিশীথে
উড়িছে আলোর কণিকা ॥

My fancies are fireflies
specks of living light—
twinkling in the dark.

(Translated by the poet himself)

(২/2)

আমার লিখন ফুটে পথধারে
ক্ষণিক কালের ফুলে ,
চলিতে চলিতে দেখে যারা তারে
চলিতে চলিতে ভুলে ॥

The same voice murmurs
in these desultory lines
which is born in wayside pansies
letting hasty glances pass by.

(Translated by the poet himself)

(৩/3)

Rabindranath Thakur-Projapoti (2)

প্রজাপতি সেতো বরষ না গণে ,
নিমেষ গণিয়া বাঁচে ,
সময় তাহার যথেষ্ট তাই আছে ॥

The butterfly does not count years
but moments
and therefore has enough time.

(Translated by the poet himself)

(১৩/13)

দুঃখের আগুন কোন্ জ্যোতির্ময় পথরেখা টানে
বেদনার পরপার পানে॥

The fire of pain traces for my soul
a luminous path across her sorrow.

(Translated by the poet himself)

(১৪/14)

দেবমন্দির-আঙিনাতলে শিশুরা করেছে মেলা।
দেবতা ভোলেন পূজারি-দলে, দেখেন শিশুর খেলা॥

From the solemn gloom of the temple
children run out to sit in the dust,
God watches them play and forgets the priest.

(Translated by the poet himself)

(১৬/16)

Rabindranath Thakur-Akash Dharare

আকাশ ধরারে বাহুতে বেড়িয়া রাখে,
তবুও আপনি অসীম সুদূরে থাকে॥

Though he holds in his arms the earth-bride,
the sky is ever immensely away.

(Translated by the poet himself)

(১৭/17)

Rabindranath Thakur-Dur Eshechhilo Kachhe

          দূর এসেছিল কাছে–
ফুরাইলে দিন, দূরে চলে গিয়ে আরো সে নিকটে আছে।

One who was distant came near to me in the morning,
and still nearer when taken away by night.

(Translated by the poet himself)

(২০/20)

দাঁড়ায়ে গিরি, শির
মেঘে তুলে,
দেখে না সরসীর
বিনতি।
অচল উদাসীর
পদমূলে
ব্যাকুল রূপসীর
মিনতি॥

The lake lies low by the hill,
a tearful entreaty of love
at the foot of the inflexible.

(Translated by the poet himself)

(২২/22)

Rabindranath Thakur-Giri Megh (2)

মেঘ সে বাষ্পগিরি,
গিরি সে বাষ্পমেঘ,
কালের স্বপ্নে যুগে যুগে ফিরি ফিরি
এ কিসের ভাবাবেগ॥

Clouds are hills in vapour,
hills are clouds in stone
– a phantasy of time’s dream.

(Translated by the poet himself)

(২৫/25)

Rabindranath Thakur-Dui Tire Tar

দুই তীরে তার বিরহ ঘটায়ে
সমুদ্র করে দান
অতল প্রেমের অশ্রুজলের গান॥

The two separated shores mingle their voices
in a song of unfathomed tears.

(Translated by the poet himself)

(৩০/30)

হে আমার ফুল, ভোগী মূর্খের মালে
না হ’ক তোমার গতি,
এই জেনো তব নবীন প্রভাতকালে
আশিস তোমার প্রতি॥

(৩৬/36)

Rabindranath Thakur-Matir Prodip (2)

মাটির প্রদীপ সারা দিবসের অবহেলা লয় মেনে,
রাত্রে শিখার চুম্বন পাবে জেনে॥

The lamp waits through the long day of neglect,
For the flame’s kiss in the night.

(Translated by the poet himself)

(৫৯/59)

Rabindranath Thakur-Kuasha Giri (1)

কুয়াশা যদি বা ফেলে পরাভবে ঘিরি
তবু নিজমহিমায় অবিচল গিরি॥

The mountain remains unmoved
by its seeming defeat by the mist.

(Translated by the poet himself)

(৬০/60)

Rabindranath Thakur-Parbatamala (2)

পর্বতমালা আকাশের পানে চাহিয়া না কহে কথা,
অগমের লাগি ওরা ধরণীর স্তম্ভিত ব্যাকুলতা॥

Hills are the earth’s gesture of despair
for the unreachable.

(Translated by the poet himself)

(৬১/61)

একদিন ফুল দিয়েছিলে , হায় ,
কাঁটা বিঁধে গেছে তার ।
তবু , সুন্দর , হাসিয়া তোমায়
করিনু নমস্কার ॥

Though the thorn in thy flower pricked me,
O Beauty,
I am grateful.

(Translated by the poet himself)

(৬২/62)

হে বন্ধু , জেনো মোর ভালোবাসা ,
কোনো দায় নাহি তার —
আপনি সে পায় আপন পুরস্কার ॥

Let not my love be a burden on you, my friend,
know that it pays itself.

(Translated by the poet himself)

(৬৩/63)

স্বল্প সেও স্বল্প নয়, বড়োকে ফেলে ছেয়ে।
দু-চারিজন অনেক বেশি বহুজনের চেয়ে॥

The world knows that the few
are more than the many.

(Translated by the poet himself)

(৬৬/66)

Rabindranath Thakur-Budbud (2)

বুদ্বুদ  সে তো বদ্ধ আপন ঘেরে
শূন্যে মিলায়, জানে না সমুদ্রেরে॥

In its swelling pride
the bubble doubts the truth of the sea,
and laughs and bursts into emptiness.

(Translated by the poet himself)

(৬৮/68)

Rabindranath Thakur-Megher Dal

মেঘের দল বিলাপ করে
আঁধার হল দেখে ,
ভুলেছে বুঝি নিজেই তারা
সূর্য দিল ঢেকে ॥

My clouds, sorrowing in the dark,
forget that they themselves
have hidden the sun.

(Translated by the poet himself)

(৭১/71)

Rabindranath Thakur-Asim Akash (1)

অসীম আকাশ শূন্য প্রসারি রাখে,
হোথায় পৃথিবী মনে মনে তার
অমরার ছবি আঁকে॥

The sky remains infinitely vacant
for earth there to build its heaven with dreams.

(Translated by the poet himself)

(৭৫/75)

আকর্ষণগুণে প্রেম এক ক’রে তোলে।
শক্তি শুধু বেঁধে রাখে শিকলে শিকলে॥

Power said to the world, “You are mine.
The world kept it prisoner on her throne.
Love said to the world, “I am thine.”
The world gave it the freedom of her house.

(Inferred translation by the poet himself)

(৭৬/76)

Rabindranath Thakur-Mahataru Bahe (2)

মহাতরু বহে
বহু বরষের ভার।
যেন সে বিরাট
এক মুহূর্ত তার॥

The tree bears its thousand years
as one large majestic moment.

(Translated by the poet himself)

(৮০/80)

স্তব্ধ অতল শব্দবিহীন মহাসমুদ্রতলে
বিশ্ব ফেনার পুঞ্জ সদাই ভাঙিয়া জুড়িয়া চলে॥

The world is the ever-changing foam
that floats on the surface of a sea of silence.

(Translated by the poet himself))

(৮২/82)

গোঁয়ার কেবল গায়ের জোরেই বাঁকাইয়া দেয় চাবি,
শেষকালে তার কুড়াল ধরিয়া করে মহা দাবাদাবি॥

The clumsiness of power spoils the key
and uses the pickaxe.

(Translated by the poet himself)

(৮৬/86)

Rabindranath Thakur-Mor Kagojer Khelar Nouka 2

মোর কাগজের খেলার নৌকা ভেসে চলে যায় সোজা
বহিয়া আমার অকাজ দিনের অলস বেলার বোঝা॥

These paper boats of mine are meant to dance
on the ripple of hours,
and not to reach any destination.

(Translated by the poet himself)

(৯৬/96)

Rabindranath Thakur-Shishir Rabire (1)

শিশির রবিরে শুধু জানে
বিন্দুরূপে আপন বুকের মাঝখানে॥

The dew-drop knows the sun
only within its own tiny orb.

(Translated by the poet himself)

(৯৭/97)

Rabindranath Thakur-Apon Asim Nishfalatar 1

আপন অসীম নিষ্ফলতার পাকে
মরু চিরদিন বন্দী হইয়া থাকে॥

The desert is imprisoned in the wall
of its unbounded barrenness.

(Translated by the poet himself)

(১২২/122)

???????????????????????????????

সাগরের কানে জোয়ার-বেলায়
ধীরে কয় তটভূমি,
“তরঙ্গ তব যা বলিতে চায়
তাই লিখে দাও তুমি।’

সাগর ব্যাকুল ফেন-অক্ষরে
যতবার লেখে লেখা
চির-চঞ্চল অতৃপ্তিভরে
ততবার মোছে রেখা ॥

The shore whispers to the sea:
“Write to me what thy waves struggle to say.”
The sea writes in foam again and again
and wipes off the lines in a boisterous despair.

(Translated by the poet himself)

(১৩৪/134)

Rabindranath Thakur-Jibon Khatar Anek Patai

জীবন-খাতার অনেক পাতাই
এমনিতরো শূন্য থাকে;
আপন মনের ধেয়ান দিয়ে
পূর্ণ করে লও না তাকে।
সেথায় তোমার গোপন কবি
রচুক আপন স্বর্গছবি,
পরশ করুক দৈববাণী
সেথায় তোমার কল্পনাকে॥

(১৫৭/157)

Rabindranath Thakur-Chand Kahe (1)

চাঁদ কহে “শোন্‌ শুকতারা,
রজনী যখন হল সারা
যাবার বেলায় কেন শেষে
দেখা দিতে হায় এলি হেসে,
আলো আঁধারের মাঝে এসে
করিলি আমায় দিশেহারা।”

Before he sets,
the Moon yearningly calls out
to the Morning Star
“Why, at this moment of parting,
Did thee bind me
with thy smile?”

(১৫৯/159)

Rabindranath Thakur-Bhebechhinu Goni Goni Labo (1)

ভেবেছিনু গনি গনি লব সব তারা —
গনিতে গনিতে রাত হয়ে যায় সারা ,
বাছিতে বাছিতে কিছু না পাইনু বেছে ।
আজ বুঝিলাম , যদি না চাহিয়া চাই
তবেই তো একসাথে সব-কিছু পাই —
সিন্ধুরে তাকায়ে দেখো , মরিয়ো না সেঁচে ॥

I had once sought to count all the stars
but the night sky swirled into the dawn
past my never-ending counts
leaving my designs fruitless in her wake.
I wish I had realized then
that her stars had all been mine alone
to own with a single, wondering gaze,
but like a fool, I had picked and sorted.
Know not to do the same, my friend.

(১৬৮/168)

আকাশ কভু পাতে না ফাঁদ
কাড়িয়ে নিতে চাঁদে,
বিনা বাঁধনে তাই তো চাঁদ,
নিজেরে নিজে বাঁধে।

(১৭৪/174)

Rabindranath Thakur-Andhar Ekere Dekhe 1

আঁধার একেরে দেখে একাকার ক’রে।
আলোক একেরে দেখে নানা দিক ধ’রে॥

Darkness smothers the one into uniformity
Light reveals the one in its multifariousness.

(Translated by the poet himself)