কবিতা ২৮ – অভিশাপ দিচ্ছি / Poem 28 – Abhishap Dichchhi (I Curse Them)

এই সাইটে নেতিবাচক লেখা তোলা থেকে সাধারণত নিজেকে বিরত রাখি, তবে গত কয় দিনে নিজের চারপাশে যা ঘটে চলেছে তা দেখে এটা না তুলে পারলাম না। শামসুর রাহমানের এই কবিতাটির উদ্দেশ্য একটাই, অসি ধারে মসির লেখনকে যারা চিরকাল স্তব্ধ করতে চেয়েছে আর আজও চাইছে, তাদের অভিশাপ দেওয়া।

In presenting Bangla literary works on this site, I try to keep myself from posting works that have a negative tone. This time, though, I make an exception in posting Abhishap Dichchhi (I Curse Them), for those who try to silence the pen with their swords deserve little more than curses.

অভিশাপ দিচ্ছি

না আমি আসিনি
ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রাচীন পাতা ফুঁড়ে,
দুর্বাশাও নই,
তবু আজ এখানে দাঁড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে
অভিশাপ দিচ্ছি।

আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক কৃষ্ণপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে
মগজের কোষে কোষে যারা
পুঁতেছিল আমাদেরই আপন জনেরই লাশ
দগ্ধ, রক্তাপ্লুত
যারা গণহত্যা করেছে
শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে
আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু
সেই সব পশুদের।

ফায়ারিং স্কোয়াডে ওদের
সারিবদ্ধ দাঁড় করিয়ে
নিমেষে ঝাঁ ঝাঁ বুলেটের বৃষ্টি
ঝরালেই সব চুকে বুকে যাবে তা আমি মানি না।
হত্যাকে উৎসব ভেবে যারা পার্কে মাঠে
ক্যাম্পাসে বাজারে
বিষাক্ত গ্যাসের মতো মৃত্যুর বীভৎস গন্ধ দিয়েছে ছড়িয়ে,
আমি তো তাদের জন্য অমন সহজ মৃত্যু করি না কামনা।
আমাকে করেছে বাধ্য যারা
আমার জনক জননীর রক্তে পা ডুবিয়ে দ্রুত
সিঁড়ি ভেঙ্গে যেতে
ভাসতে নদীতে আর বনেবাদাড়ে শয্যা পেতে নিতে,
অভিশাপ দিচ্ছি, আমি সেইসব দজ্জালদের।
অভিশাপ দিচ্ছি ওরা চিরদিন বিশীর্ণ গলায়
নিয়ত বেড়াক বয়ে গলিত নাছোড় মৃতদেহ,
অভিশাপ দিচ্ছি
প্রত্যহ দিনের শেষে ওরা
হাঁটু মুড়ে এক টুকরো শুকনো রুটি চাইবে ব্যাকুল
কিন্তু রুটি প্রসারিত থাবা থেকে রইবে
দশ হাত দূরে সর্বদাই।
অভিশাপ দিচ্ছি
ওদের তৃষ্ণায় পানপাত্র প্রতিবার
কানায় কানায় রক্তে উঠবে ভরে, যে রক্ত বাংলায়
বইয়ে দিয়েছে ওরা হিংস্র
জোয়ারের মত।
অভিশাপ দিচ্ছি
আকণ্ঠ বিষ্ঠায় ডুবে ওরা অধীর চাইবে ত্রাণ
অথচ ওদের দিকে কেউ
দেবে না কখনো ছুঁড়ে একখন্ড দড়ি।
অভিশাপ দিচ্ছি
স্নেহের কাঙ্গাল হয়ে ওরা
ঘুরবে ক্ষ্যাপার মতো এ পাড়া ওপাড়া,
নিজেরি সন্তান
প্রখর ফিরিয়ে নেবে মুখ, পারবে না
চিনতে কখনো;
অভিশাপ দিচ্ছি এতোটুকু আশ্রয়ের জন্য, বিশ্রামের
কাছে আত্মসমর্পণের জন্যে
দ্বারে দ্বারে ঘুরবে ওরা। প্রেতায়িত
সেই সব মুখের উপর
দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে পৃথিবীর প্রতিটি কপাট,
অভিশাপ দিচ্ছি।
অভিশাপ দিচ্ছি,
অভিশাপ দিচ্ছি…

– শামসুর রাহমান

ছোটগল্প ৮৪ – প্রফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক / Short Story 84 – Professor Shanku – Professor Shanku O Egyptio Atanko (Professor Shanku and the Egyptian Horror)

Satyajit Ray-Professor Shanku O Egytio Atankoপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku O Egyptio Atanko

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – প্রফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক – সত্যজিৎ রায়

ব্যোমযাত্রীর ডায়রির পর শঙ্কুর সাথে আমাদের দ্বিতীয়বারের মত দেখা হয় এই গল্পটিতে, যদিও গল্পের ধারাবাহিকতা কিনা শঙ্কুর জীবনের সাথে মেলে কিনা তা বলা মুশকিল। ঈজিপ্সীয় আতঙ্কের শুরু স্বাভাবিকভাবেই মিশরে, যার প্রাচীন বিজ্ঞান ও প্রত্নতত্ব সম্পর্কে জানার জন্য শঙ্কু সেখানে যান। শঙ্কুর সাথে সেখানে জেমস সামারটন নামের একজন প্রত্নতত্ত্ববিদের সাথে পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়, যার ফলস্বরূপ ভারতে ফেরার সময় একটি দুর্লভ মমি গবেষণার জন্য শঙ্কু সাথে করে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু মমির সাথে সাথে একটি অশুভ ছায়াও শঙ্কুর সঙ্গী হয়, যদিও শঙ্কুর কাছে সেটা প্রতীয়মান হয়ে ওঠে অনেক দেরিতে।

ব্যোমযাত্রীর ডায়রির খ্যাপাটে বিজ্ঞানীর জায়গায় ঈজিপ্সীয় আতঙ্কে শঙ্কুকে আমরা পাই আমাদের চিরচেনা শঙ্কু হিসেবে। সত্যজিৎ কি ভেবে এই পরিবর্তনটি করেছিলেন জানতে কৌতুহল জাগে।

Professor Shanku’s Stories – Professor Shanku O Egyptio Atanko (Professor Shanku and the Egyptian Horror) – Satyajit Ray

The Egyptian Horror is the second story Satyajit Ray wrote about Professor Shanku, although whether the stories are chronological with respect to his life remains unclear. As is to be expected from the title, the story starts in Egypt, where Shanku goes to learn more about its ancient science and archaeology. There, Shanku befriends an archaeologist named James Somerton, and as a consequence, succeeds in procuring an Egyptian mummy for his own research. Shanku brings the mummy to his home in Giridi, little knowing its history, and a mysterious entity that follows it to his hometown.