গল্প ১০৭ – অপরাজিত / Story 107 – Aparajito (The Unvanquished)

 

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aparajito 2

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aparajito

অপরাজিত – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গত বছর পাঠকদের জন্যে এই সাইটে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি পথের পাঁচালী  আপলোড করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজ অপরাজিত , যাতে পথের পাঁচালীতে অপুর শুরু হওয়া পথচলা তার বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে এগিয়ে চলে নিতান্তই সাধারণ কোন বাঙ্গালী পুরুষের জীবনের চেনা বাঁকগুলো বেয়ে। পথের পাঁচালী যারা পড়েছেন, তাদের হয়তো মনে থাকবে যে গল্পটি শেষ হয় সদ্য-কিশোর অপুর নিজেকে পৃথিবীর সামনে একা আবিস্কার করার মধ্যে দিয়ে। অপরাজিত গল্পটির সমাপ্তিও তেমনই একটি নতুন যাত্রার সূচনায়। তবে ততদিনে অপু তার জীবন-মধ্যাহ্নে, যে কারণে আগের গল্পের সেই কাঁচা ছেলেটির চাইতে অনেক বেশি পোড় খাওয়া ও পরিণত একজন মানুষরূপে আমরা তাকে পাই। কিছু জিনিস বদলায়না অবশ্য – জীবনের শত প্রতিকূলতা আর অপর্ণা-লীলাদের চলে যাওয়ার পরেও অপু সেই আগের মতই সবুজ-মনের নিষ্পাপ মানুষটিই থাকে। সবাই তেমনি করে অপরাজিত থাকতে পারে?

কিশোর থেকে পুরুষ হয়ে ওঠার জীবনযুদ্ধে টিকে থাকা একজন মানুষের গল্প অপরাজিত। পাঠকদের অনেকেই গল্পের অপুর মাঝে নিজেকে খুঁজে পাবেন জানি, তাই আমাদেরই কারো না কারো যাপিত জীবনের হাসি-কান্না নিয়ে লেখা এই অসাধারণ উপন্যাসটি আজ তুলে দিলাম।

Aparajito (The Unvanquished) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

It has been quite a few months since I uploaded Bibhutibhushan Bandyopadhyay’s Pather Panchali (Song of the Road) on this site. This time, in a follow up to it, an absolute masterpiece of a sequel: Aparajito (The Unvanquished) takes off where Pather Panchali had left the young Apu – alone and facing this world for the first time. And in this story, the bildungsroman continues, in the same, beautifully human tone that we find in the first. Life is more real this time, though – Apu has to care for himself and his mother in a world that could not care less about his struggles, and later, for a son who is only a reflection of Apu’s younger self. And through it all, he strives to keep his dreams and ideals alive in the face of the harsh reality that surrounds him, and has to hold himself together even as the people he comes to love depart one by one. Perhaps the plot sounds familiar? It is a ‘coming of age’ story that every man lives out, after all – a most beautiful bildungsroman. I hope you will like it… and if you have ever felt like a little boy who has had to grow up all too soon, I know you will.

Advertisements

গল্প ৯৩ – পথের পাঁচালী / Story 93 – Pather Panchali (Song of the Road)

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Pather Panchali

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Pather Panchali

পথের পাঁচালী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরেকটি গল্প। পথের পাঁচালী র সারমর্ম পাঠকদের জন্য তুলে ধরার মত ক্ষমতা আমার নেই, কিন্তু বাংলা সাহিত্যের অমর এই সৃষ্টিটিকে কি ভূমিকা ছাড়া এই সাইটে উপস্থাপন করা যায়? তাই এই ভণিতাটুকু। পথের পাঁচালী আমাদের চিরচেনা গ্রামবাংলারই কোনো এক প্রান্তে একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবনকাহিনী, যাতে বিভূতিভূষণ পরিবারটির হাসি-কান্না, স্বপ্ন আর সংগ্রামের ছবি তুলে ধরেছেন অবিশ্বাস্য নিপুণতায়। এই সাইটে তোলা বিভূতিভূষণের আগের গল্পগুলোর মতো এটিও বিশেষ কোন পরিণতিকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং লেখা সাধারণ সব মানুষদের জীবনের নগণ্য সব ঘটনা নিয়েই। উদাহারণস্বরূপ গল্পটির মূল চরিত্র ছোট্ট অপুর জীবন থেকে একটি ঘটনা তুলে দেই –

বিশু ডানপিটে ছেলে, তাহাকে দৌড়িয়া ধরা কি খেলায় হারানো সোজা নয়। একবার অমলা স্পষ্টতই বিরক্তি প্রকাশ করিল। অপু প্রাণপণে চেষ্টা করিতে লাগিল যাহাতে সে জেতে, যাহাতে অমলা সন্তুষ্ট হয় – কিন্তু বিস্তর চেষ্টা সত্ত্বেও সে আবার হারিয়া গেল।

সে-বার দল গঠন করিবার সময় অমলা ঝুঁকিল বিশুর দিকে।

অপুর চোখে জল ভরিয়া আসিল। খেলা তাহার কাছে হঠাৎ বিস্বাদ মনে হইল – অমলা বিশুর দিকে ফিরিয়া সব কথা বলিতেছে, হাসিখুসি সবই তাহার সঙ্গে। খানিকটা পরে বিশু কি কাজে বাড়ী যাইতে চাইলে অমলা তাহাকে বার বার বলিল যে, সে যেন আবার আসে। অপুর মনে অত্যন্ত ঈর্ষা হইল, সারা সকালটা একেবারে ফাঁকা হইয়া গেল! পরে সে মনে মনে ভাবিল – বিশু খেলা ছেড়ে চলে যাচ্ছে – গেলে খেলার খেলুড়ে কমে যাবে, তাই অমলাদি ঐরকম বলছে, আমি গেলে আমাকেও বলবে, ওর চেয়েও বেশি বলবে। হঠাৎ সে চলিয়া যাইবার ভান করিয়া বলিল – বেলা হয়ে যাচ্ছে, আমি যাই নাইবো। অমলা কোনো কথা বলিল না, কেবল কামারদের ছেলে নাড়ুগোপাল বলিল – আবার ও-বেলা এসো ভাই!

অপু খানিক দূর গিয়া একবার পিছনে চাহিল – তাহাকে বাদ দিয়া কাহারও কোনো ক্ষতি হয় নাই। পুরাদমে খেলা চলিতেছে, অমলা মহা উৎসাহে খুঁটির কাছে বুড়ি হইয়া দাঁড়াইয়াছে – তাহার দিকে ফিরিয়াও চাহিতেছে না।

অপু আহত হইয়া অভিমানে বাড়ি আসিয়া পৌঁছিল, কাহারও সঙ্গে কোনো কথা বলিল না।

ভারি তো অমলাদি! না চাহিল তাহাকে – তাতেই বা কি?…

উপরের লেখাটি পড়লে ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া তেমনই কোন ঘটনার কথা মনে পড়ে, তাই না? বাংলা সাহিত্যিকদের মধ্যে গ্রামীণ সমাজ আর শিশুমনকে একইসাথে বিভূতিভূষণের মতো অবলীলায় তুলে ধরতে আর কেউ বোধহয় পারেননি, আর তাঁর ক্ষমতার উৎকর্ষ যদি কোথাও ঘটে থাকে, তা এই গল্পতেই।পথের পাঁচালী  শুধু পল্লীবাংলার অকৃত্তিম প্রতিচ্ছবিই নয়, তার বুকে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ছেলেমানুষী হাসি-কান্নার দিনলিপিও। আর সেই অনন্যতাস্বরূপই বাংলা সাহিত্যে ছাড়িয়ে সমগ্র বিশ্বসাহিত্যেই হয়তো গল্পটি অদ্বিতীয়। অসাধারণ এই গল্পটি ছাড়া এই সাইটটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, তাই আজ পাঠকদের জন্যে এটি তুলে দিলাম।

(প্রসঙ্গত – যারা আগে জানতেন না, সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী  কিন্তু বিভূতিভূষণের এই গল্পকে ঘিরেই লেখা। সত্যজিৎ রায়ের অতুলনীয় নির্দেশনার কারণে গল্পটি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেছে সন্দেহ নেই, তবে চলচ্চিত্রের সৌন্দর্যের মূলটুকু কিন্তু সত্যজিৎ খুঁজে পেয়েছিলেন তার প্রিয় এই গল্পটির মধ্যেই। পথের পাঁচালী  চলচ্চিত্রটি বানানো নিয়ে সত্যজিৎ তাঁর একেই বলে শুটিং  স্মৃতিচারণার একটি অধ্যায় লিখেছিলেন – পাঠকদের সেটিও পড়বার আমন্ত্রণ রইল।)

Pather Panchali (Song of the Road) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

Pather Panchali (Song of the Little Road) by Bibhutibhushan Bandyopadhyay, is one of the most celebrated works in Bangla literature. As far as accolades go, there is not much I can say that has not been already said, but it needs to be mentioned that perhaps no other work in Bangla, and even perhaps world literature, compares to the novel in its representation of a rural life from the perspective of a little boy (Apu) from a poor family. Like Bibhutibhushan Bandyopadhyay’s other works, Pather Panchali too does not have a conclusion towards which it is directed. Instead, the narratives loses itself in a languid but beautiful flow that is interspersed with little Apu’s joys and sorrows – for instance, his seeing a train for the first time, and his offense at not heeded by a girl with whom he wants to play. The narrative is not even throughout, however. As Apu grows up, the realities of his world become starker, and on the last page of the novel, an adolescent Apu is left trying to become a man. In many ways, Pather Panchali is a familiar story of our childhoods, and the close-knit families from which many of us come. But it is with this ordinariness that it captures the reader, stirring up the most intimate and beautiful of childhood memories, and anchors itself to his/her heart. That every Bangalee should read this Bibhutibhushan masterpiece goes without saying. So here it is, for your eyes.

(Something that you might find interesting: The story was taken to the global audience by eminent Indian film director Satyajit Ray, whose début with Pather Panchali (Song of the Little Road), brought him and his genre of Indian cinema critical acclaim across the world. Ray’s personal account of the making of the film can be found in his autobiography Ekei Bole Shooting. While Ray’s direction was crucial in presenting the narrative, he always took particular care to acknowledge Bibhutibhushan’s influence on him. Those who have read Feluda’s stories will know that Bibhutibhushan was the sleuth’s favorite writer. )

গানসমগ্র ১৯ – ‘হীরক রাজার দেশে’র গান / Songs 19 – Songs from ‘Heerak Rajar Deshe (In the Land of the Diamond King)’

আজ পাঠকদের জন্যে একটি অন্যরকম উপহার।  সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে  শুধু বাংলা নয়, বরং সমগ্র উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যেই পড়ে। ছড়ায় লেখা আর হাস্য-রসে ভরা গুপী-বাঘার এই অভিযানটি আপাতদৃষ্টিতে হালকা হলেও মানবসমাজে চিরকাল ধরে চলে আসা অনাচার-অবিচারের স্পষ্ট সমালোচনা, আর আর তা হতে উত্তরণের উপায়ের প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গীতের কারণে চলচ্চিত্রটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষত বর্তমান এই যুগে। চলচ্চিত্রটির অসাধারণত্বের অবশ্য সেটিই একমাত্র কারণ নয় – হীরক রাজার দেশে  যে একবার দেখেছে, সেই একবাক্যে স্বীকার করবে যে এই চলচ্চিত্রটির সংলাপগুলো অনবদ্য। একটা উদাহারণ তুলে দেই –

ওরা যত বেশি পড়ে
তত বেশি জানে
তত কম মানে।

The more they read,
the more they know,
and the less they bow.

(রাজসভায় হীরক রাজা, উদয়ন পণ্ডিতের ছাত্রদের সম্বন্ধে/ Heerak Raja, on Udayan Pandit’s students)

শিক্ষার আলোর আলোকিত তরুণসমাজের প্রতি সমাজপতিদের ভয়ের এর চাইতে সরল, ও সঠিক উপস্থাপনা বাংলায় আর কটি মেলে? উইকিপিডিয়ার ভাষায় – ‘রুপকের আশ্রয় নিয়ে চলচ্চিত্রটিতে (আরও এমন অনেক) ধ্রুব সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে’। আর সংলাপের কথাই যদি বলি, তবে ভ্রমণের আনন্দ থেকে অবিচারের প্রতিবাদের মত বিভিন্ন বিষয়কে মজার ছন্দ আর সহজ সুরে বাঁধা গানগুলোর কথা না বললেই নয়। অবশ্য বর্ণনা শোনার চাইতে আসল গানগুলো শোনা কিংবা পড়ার মজা অনেক বেশি। তাই পাঠকদের জন্যে আজ এখানে হীরক রাজার দেশের সমস্ত গানগুলো তুলে দিলাম। ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে পুরো চলচ্চিত্রটিরই সংলাপগুলো নাট্যাকারে তুলে দেওয়ার। কাজটি সময়সাপেক্ষ, তবে সময় যদি করে উঠতে পারি, একদিন না একদিন তা হবে। ততদিন পর্যন্ত নাহয় এই গানগুলোই থাক : )

পুনশ্চ – পাঠকদের জন্যে গানগুলো ছাড়াও পুরো চলচ্চিত্রটিরই ইউটিউব ভিডিও নিচে সংযুক্ত করে দিলাম। আশা করি সবার ভাল লাগবে।

Today, a bit of a deviation from the usual: It is not always that one finds a movie so wonderful in its dialogue that it qualifies as literature, but Satyajit Ray’s Heerak Rajar Deshe is precisely one which belongs to that category. One of the most famous Bangla (and probably South Asian) movies of all time, it draws a picture of the tyranny of the powerful in a perfect mirror to our society, and shows a way out – all through rhymes and songs that will delight the young and old alike. And speaking of songs, aren’t they just wonderful? Well, if you have not heard them before, have a listen and read the lyrics below. And if you have, then what’s keeping you? : )

For movie lovers, I have also linked a YouTube video of the movie (English subtitles included) below. If you ask me, I have not seen any other work, in any language I know, which is a parallel to this movie. So watch it if you have time. If not, watch it anyway.

চলচ্চিত্র – হীরক রাজার দেশে

মোরা দুজনায় রাজার জামাই

মোরা দুজনায় রাজার জামাই
মোরা খাই দাই ঘুরি ফিরি
আহা কি মোদের ছিরি
মোরা দিনে করি বাবুগিরি
রাতে আয়েসে ঘুমাই
মোরা দুজনায় রাজার জামাই

মোদের ঘরে আছে দুই রাজকন্যা
রূপে গুনে যেন সাধারন না
তারা রূপে গুনে যেন সাধারন না
আর আছে পোলাপান
একখান,একখান
কচি তারা কথা ফুটে নাই
রাজা যিনি শুণ্ডির রাজ্যে
তিনি সদাই মগন রাজকাজ্জে
এই রাজা বড় সোজা
সুখে আছে যত প্রজা
এ রাজার মত রাজা নাই
যেন এ রাজার মত রাজা নাই
শ্বশুর মশাই,শ্বশুর মশাই
মোরা তেনার জামাই

এইবারে শোন মোদের কেমনে হয়েছে এই হাল
মোদের না ছিল চুলানা ছিলও চাল
শেষে দিলেন ভূতের রাজা
দিলেন ভূতের রাজা
তিন বর তাজা তাজা
সেই বরে ফিরেছে কপাল
মোদের সেই বরে ফিরেছে কপাল
সেই বরে এত রোশনাই
মোদের সেই বরে এত রোশনাই

আর বিলম্ব নয়

না না – আর বিলম্ব নয়, আর বিলম্ব নয়!
এখানো মোদের শরীরে রক্ত
রয়েছে গরম মেটেনি শখ তো
আছে যত হাড় সবই ত শক্ত
এখনো ধকল সয়।

এখনো আছে সময়, এখনো আছে সময় –
আর বিলম্ব না না, আর বিলম্ব নয়।
দুনিয়ায় কত আছে দেখবার
কত কি জানার কত কি শেখার।
সবই ত বাকি, কিছুই দেখা হয় নাই।
ঘরে কেন বসে রয়েছি বেকার
আর কি সহ্য হয়?
অসহ্য!

এখনো আছে সময়, এখনও আছে সময়,
আর বিলম্ব না না, আর বিলম্ব নয়।
চলহে, কোথাও ঘুরে আসি গিয়ে।
সুর করে চল যাই ঘুরে আসি প্রাণ ভরে
বনেতে পাহাড়ে মরুপ্রান্তরে।

কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায় / The World is Full of Wonders My Friend

আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়
ওরে ভাইরে!
আমি যেই দিকেতে চাই
দেখে অবাক বনে যাই
আমি অর্থ কোথাও খুজি নাহি পাইরে,
ভাইরে – আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।

দেখ ভালো জনে রইল ভাঙা ঘরে
মন্দ যে সে সিংহাসনে চড়ে-
সোনার ফসল ফলায় যে তার
দুই বেলা জোটেনা আহার
হীরার খনির মজুর হয়ে
কানাকড়ি নাই-
ওরে নাইরে, ভাইরে !
আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।

The world is full of wonders, my friend!
Wherever I look, I cannot understand why things are,
And I find myself dumb with wonder.
Oh what a drama I see in this world!

Look how the good at heart live in shacks,
But the tyrant sits on the throne!
The farmers who harvest the golden crop starve
And the diamond miners go penniless in the land of the Diamond-king
Oh what a drama I see in this world!

আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে

আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।
শাখে শাখে পাখি ডাকে
কত শোভা চারি পাশে।।

আজকে মোদের বড়ই সুখের দিন।
আজি ঘরের বাধন ছেড়ে মোরা হয়েছি স্বাধীন।
আহা হয়েছি স্বাধীন

আজ আবার মোরা ভবঘুরে
মুলুক ছেড়ে যাব দূরে।
গড়বো ভুবন গানের সুরে।

পুরানো দিনের কথা আসে (মনে)।
ফিরে আসে।।

আহা সাগর দেখে / এ যে দৃশ্য দেখি অন্য / এবারে দেখ গর্বিত বীর

এসে হীরকদেশে
দেখে হীরের চমক,
এতো খাতির পেয়ে
দেখে রাজার জমক
মোদের মন ভরে গেছে খুশীতে।

মোরা সে কথা জানাই
রাজা এতোই রসিক
রাজা এতো দরাজ
রাজা এতো মিশুক
এতো চিকন মেজাজ,
মোদের প্রান ভরে গেছে তাই

মোরা সে কথা জানাই।
বলো হীরক রাজার জয়।

বলো এমন রাজা ক’জন রাজা হয়।

কতো দেশে দেশে, ঘুরে শেষে
মন বলে হীরকে এসে।

এমন রাজা কোন দেশে নাই
বলে এমন রাজা কোন দেশে নাই।

মোরা সেই কথা জানাই
মোদের গানে, মোদের গানে সেই কথা জানাই

ধোরনাকো শান্ত্রীমশাই

ধোরনাকো ধোরনাকো ধোরনাকো ধোরনাকো ধোরনাকো শান্ত্রীমশাই!
হাত কেন বাড়াও ভাই?
নোড়নাকো নোড়নাকো নোড়নাকো নোড়নাকো ওইখানে দাড়াও ভাই
আর বেশি সময় নাই

তুমি এইদিকে চেয়ে থেক না     দেখ না, দেখ না-
এখন মোরা নই রাজার জামাই     মোরা করব এখন ডাকাতি
রাতারাতি – দেখে দুঃখ কেন পাও কওত –
তুমি ঐ দিকে ঘুরে রওত –

আহা ঘোরনাকো ঘোরনাকো ঘোরনাকো ঘোরনাকো
ঐ দিকে ঘোর ভাই – শান্ত্রীমশাই, শান্ত্রীমশাই!

পায়ে পড়ি বাঘ মামা

সা রে গা – সা গা গা – সা গা মা গা –
পায়ে পড়ি বাঘ মামা কোরনাকো রাগ, মামা –
তুমি যে এ ঘরে কেতা জানত?

এ যে বিনা মেঘে পড়ে বাজ
কেঁচে বুঝি গেল কাজ
দয়া করে থাকো হোয়ে শান্ত!

যদি ঘাড়ে এসে পড়ে থাবা
কী হবে তা জানি বাবা
হারা যাবে তাজা দুটি প্রান ত!
তুমি যে এ ঘরে কেতা জানত?

বাঘাদা, বলি হীরা নিলে কত শুনি?
সময় কী আছে যে গুনি?
তবু, কত শুনি?
নিয়েছি যথেষ্ট
তবে আর নিয়ে কাম নাই
এবারে চল পালাই
বড় কষ্টে পাওয়া গেছে কেষ্ট!
যথেষ্ট যথেষ্ট…

নহি যন্ত্র

নহি যন্ত্র নহি যন্ত্র, আমি প্রাণী
আমি জানি

রাজা দুষ্ট, রাজা মন্দ
রাজা ধৃষ্ট, রাজা অন্ধ
রাজা নিচ, রাজা ক্রুর, রাজা খল
রাজা অনাচারের সীমা ছেড়ে
অভাগারে ভাতে মেরে
আনে দেশে ঘোর অমঙ্গল

রাজা রাখল তাঁদের চেপে
যারা উঠলো পরে ক্ষেপে
রাজার আসনখানা করবে টলমল
রাজা ঠিক কিনা ঠিক কিনা তুই বল।
রাজার শক্ত হাতে শিক্ষা পেলে শাস্তি হবে ঠিক
রাজা ধিক ধিক ধিক!
এইবারে রাজা শোন,
যেন নিস্তার নেই কোনো,
এসেছে তোমার যম , তুমি রাজা অক্ষম ,
মরণের দিন তুমি গোন…
রাজা ধিক, ধিক, ধিক!!

দুজন ভায়রা ভাই

মোরা গুপী বাঘা দুজন ভায়রা ভাই
মোদের আর কোন কাজ নাই-
মোরা ভূতের রাজার বরের জোরে পরের ভুত ছাড়াই।
শোনো কারেও যদি ভুতে ধরে মোদের যেন খবর করে
শুন্ডী দেশের রাজপ্রসাদে     মোদের ঠিকানায়
মোরা আসব দুজনায়
ফিরে আসব দুজনায়
আবার আসব দুজনায়!