কবিতা ৬১ – বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা / Poem 61 – Bipade More Rakkha Karo E Nohe Mor Prarthona (The Grasp of Your Hand)

rabindranath-thakur-bipade-more-rakkha-karo-1

আজ ঈশ্বরের প্রতি একটি প্রার্থনা – জীবনের দুঃখ হতে ত্রাণ কিংবা ভারমুক্তি চেয়ে নয়, বরং তা সইবার শক্তি ও সাহস কামনা করে। ঈশ্বরের প্রতি কতটুকু ভালবাসা আর বিশ্বাস থাকলে একজন মানুষ শুধু তাঁর কাছে শুধু দুঃখকে সইবার শক্তি ও নিঃসংশয়তা প্রার্থনা করে জীবনের মুখোমুখি হয়, তা আমার অনুধাবনে আসতে হয়তো অনেক দেরী, তবে এই কবিতাটুকু পড়লে খানিকটা কল্পনা করা যায় – বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা – রবিঠাকুরের কলমে।

(পুনশ্চ – নিম্নোক্ত বাংলা কবিতাটির দুটো অনুবাদ ছাড়াও রবিঠাকুরের নিজের লেখা একটি ইংরেজী কবিতা ও তার ইতালীয় অনুবাদ এই পোস্টে তুলে দিচ্ছি। গিভ মি দ্য সুপ্রিম কারেজ অফ লাভ কবিতাটির আদি কোন বাংলা সংস্করণ আছে কিনা তা আমি অনেক খোঁজ করেও পাইনি, তবে ভাবার্থের দিক দিয়ে বিপদে মোরে রক্ষা করো কবিতাটিই সেটির সবচেয়ে কাছে বলে মনে হয়, তাই তুলে দেওয়া। পাঠকদের মধ্যে যদি কেউ কবিতাটির কোন আদি বাংলা সংস্করণের কথা জেনে থাকেন, তবে আমাকে জানানোর অনুরোধ রইল)

This time, a prayer for every struggling heart in the form of a poem. Bipade More Rakkha Karo E Nohe Mor Prarthona (The Grasp of Your Hand) is one of Rabindranath Thakur’s most famous poems, and deservedly so, for it represents human dignity and an unquestionable faith in God at their most beautiful and most earnest. I cannot ever imagine rising to that state. After all, it is not for wavering hearts to bear the struggles of life with only faith to hold on to,  and for the ones which can, it is only the worthiests’ privilege to ask God for strength to face life’s trials instead of seeking relief. If you aspire, however, Thakur’s poem is a beautiful demystification of that mood.

(P.s. – Besides including two translations of the Bangla original (one by the poet himself), I have also added another English poem by Thakur, Give Me the Supreme Courage of Love (and an Italian translation – Dammi Il Supremo Coraggio Dell’amore). The reason for this inclusion is that thematically, the work seems to be a derivative of Bipade More Rakkha Karo E Nohe Mor Prarthona – I at least have not found a directly corresponding Bangla original. If you happen to be aware of one, do let me know.)

বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা

বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা–
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়॥
সহায় মোর না যদি জুটে নিজের বল না যেন টুটে,
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা–
তরিতে পারি শকতি যেন রয়।
আমার ভার লাঘব করি নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।
নম্রশিরে সুখের দিনে তোমারি মুখ লইব চিনে–
দুখের রাতে নিখিল ধরা যেদিন করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয়।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা  হতে সংগ্রহীত)

Bipade More Rakkha Karo E Nohe Mor Prarthona (The Grasp of Your Hand)
(Version 1 – Translated by the poet himself)

Let me not pray to be sheltered from dangers but to be fearless in facing them.
Let me not beg for the stilling of my pain but for the heart to conquer it.
Let me not look for allies in life’s battlefield but to my own strength.
Let me not crave in anxious fear to be saved but hope for the patience to win my freedom.
Grant me that I may not be a coward, feeling your mercy in my success alone; but let me find the grasp of your hand in my failure.

(Version 2 – By Ruma Chakravarti,  who maintains a beautiful collection of her own musings and translations of Thakur’s writings on the Web)

I do not pray so that you may save me from danger –
Instead, I entreat you to make me grow unafraid.
Perhaps you might consider not consoling me when I am filled with sorrow,
Let me instead learn to conquer it when faced with pain.
When I have no one to lean on, let my own strength not desert me
When life only takes, giving back false hope in return
May I be strong enough to resist it.
My prayer is not for you to be my savior –
I would rather you gave me the will to overcome.
I would rather you did not give solace and shoulder my burden,
But give me the might to do the same for myself.
Let me humbly know you for my own in times of happiness –
So that on the darkest of nights when the world turns away
I may not doubt your benevolent presence.

– Rabindranath Thakur (Collected from Fruit-Gathering)

Give Me the Supreme Courage of Love
(Version 3 (?) – An English verse which is somewhat related to the Bangla poem above – if you find a better match in Bangla, please let me know in a comment on this post)

Give me the supreme courage of love, this is my prayer – the courage to speak, to do, to suffer at thy will, to leave all things or be left alone. Strengthen me on errands of danger, honor me with pain, and help me climb to that difficult mood which sacrifices daily to thee.

Give me the supreme confidence of love, this is my prayer – the confidence that belongs to life in death, to victory in defeat, to the power hidden in frailest beauty, to that dignity in pain which accepts hurt but disdains to return it.

– Rabindranath Thakur (Collected from The Fugitive III)

Dammi Il Supremo Coraggio Dell’amore
(Version 3.1 (?) – An Italian translation of version 3 by Martha Babbitt, a wonderful human and a friend)

Dammi il supremo coraggio dell’amore,
questa è la mia preghiera,
coraggio di parlare, di agire,
di soffrire se è Tuo volere,
di abbandonare ogni cosa,
o di essere lasciato solo.
Dammi la forza in missioni pericolosi,
Onorarmi con la sofferenza,
E aiutami a raggiungere quello stato elusivo
Che ogni giorno fa sacrifici a Te.

Dammi la suprema fiducia nell’amore,
questa è la mia preghiera,
la fiducia nella vita nella morte,
nella vittoria nella sconfitta,
nella potenza nascosta nella più fragile bellezza,
nella dignità del dolore che accoglie l’offesa,
ma si rifiuta di rispondere con l’offesa.

– Rabindranath Thakur (The Fugitive III)

গল্প ১০৭ – অপরাজিত / Story 107 – Aparajito (The Unvanquished)

 

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aparajito 2

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aparajito

অপরাজিত – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গত বছর পাঠকদের জন্যে এই সাইটে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি পথের পাঁচালী  আপলোড করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজ অপরাজিত , যাতে পথের পাঁচালীতে অপুর শুরু হওয়া পথচলা তার বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে এগিয়ে চলে নিতান্তই সাধারণ কোন বাঙ্গালী পুরুষের জীবনের চেনা বাঁকগুলো বেয়ে। পথের পাঁচালী যারা পড়েছেন, তাদের হয়তো মনে থাকবে যে গল্পটি শেষ হয় সদ্য-কিশোর অপুর নিজেকে পৃথিবীর সামনে একা আবিস্কার করার মধ্যে দিয়ে। অপরাজিত গল্পটির সমাপ্তিও তেমনই একটি নতুন যাত্রার সূচনায়। তবে ততদিনে অপু তার জীবন-মধ্যাহ্নে, যে কারণে আগের গল্পের সেই কাঁচা ছেলেটির চাইতে অনেক বেশি পোড় খাওয়া ও পরিণত একজন মানুষরূপে আমরা তাকে পাই। কিছু জিনিস বদলায়না অবশ্য – জীবনের শত প্রতিকূলতা আর অপর্ণা-লীলাদের চলে যাওয়ার পরেও অপু সেই আগের মতই সবুজ-মনের নিষ্পাপ মানুষটিই থাকে। সবাই তেমনি করে অপরাজিত থাকতে পারে?

কিশোর থেকে পুরুষ হয়ে ওঠার জীবনযুদ্ধে টিকে থাকা একজন মানুষের গল্প অপরাজিত। পাঠকদের অনেকেই গল্পের অপুর মাঝে নিজেকে খুঁজে পাবেন জানি, তাই আমাদেরই কারো না কারো যাপিত জীবনের হাসি-কান্না নিয়ে লেখা এই অসাধারণ উপন্যাসটি আজ তুলে দিলাম।

Aparajito (The Unvanquished) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

It has been quite a few months since I uploaded Bibhutibhushan Bandyopadhyay’s Pather Panchali (Song of the Road) on this site. This time, in a follow up to it, an absolute masterpiece of a sequel: Aparajito (The Unvanquished) takes off where Pather Panchali had left the young Apu – alone and facing this world for the first time. And in this story, the bildungsroman continues, in the same, beautifully human tone that we find in the first. Life is more real this time, though – Apu has to care for himself and his mother in a world that could not care less about his struggles, and later, for a son who is only a reflection of Apu’s younger self. And through it all, he strives to keep his dreams and ideals alive in the face of the harsh reality that surrounds him, and has to hold himself together even as the people he comes to love depart one by one. Perhaps the plot sounds familiar? It is a ‘coming of age’ story that every man lives out, after all – a most beautiful bildungsroman. I hope you will like it… and if you have ever felt like a little boy who has had to grow up all too soon, I know you will.

গান ৩৭ – আমার হিয়ার মাঝে / Song 37 – Amar Hiyar Majhe (You Hid in My Heart)

আমাদের সমস্ত সুখ-দুঃখ আর ভালবাসাসহ সকল অনুভূতির অন্তরালে যেই ঈশ্বর আমাদের চীরসঙ্গী ও আশ্রয় হয়ে থাকেন, মানবিক প্রবৃত্তির বশে তাকে কত সহজেই না আমরা অগ্রাহ্য করি। রবিঠাকুরের এই কবিতাটি সম্বন্ধে বেশি কিছু বলার ধৃষ্টতা আমার নেই, তবে এটুকু বলতে পারি যে ঈশ্বরের কাছে ভক্তি আর ভালবাসায় আর্দ্র কোনো স্বীকারোক্তি যদি মানুষের করার থেকে থাকে, তবে সেটি এই কবিতাটিই।

(যারা গান শুনতে ভালবাসেন, তাদের জন্যে  নিচে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার স্বর আর কবিগুরুর সুরে গাওয়া পংক্তিগুলো সংযুক্ত করে দিলাম।)

In the quagmire of emotions in which we are all immersed so deep, how carelessly we forget the presence of the God who remains our companion and refuge throughout our journeys! There is little I could say that would do this poem justice, but to me, if there ever is a confession to God that is soaked in love and devotion, this is it. For those who prefer the words sung, I have attached a YouTube link below.

আমার হিয়ার মাঝে

আমার    হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাই নি।
বাহিরপানে চোখ মেলেছি
হৃদয়পানেই চাই নি।
আমার সকল ভালোবাসায়,
সকল আঘাত, সকল আশায়,
তুমি ছিলে আমার কাছে,
তোমার কাছে যাই নি।

তুমি মোর আনন্দ হয়ে
ছিলে আমার খেলায়।
আনন্দে তাই ভুলে ছিলেম,
কেটেছে দিন হেলায়।
গোপন রহি গভীর প্রাণে
আমার দুঃখ-সুখের গানে
সুর দিয়েছ তুমি,আমি
তোমার গান তো গাই নি।

ওদের কথায় ধাঁদা লাগে
তোমার কথা আমি বুঝি।
তোমার আকাশ তোমার বাতাস
এই তো সবি সোজাসুজি।
হৃদয়-কুসুম আপনি ফোটে,
জীবন আমার ভরে ওঠে,
দুয়ার খুলে চেয়ে দেখি
হাতের কাছে সকল পুঁজি।

সকাল-সাঁঝে সুর যে বাজে
ভুবনজোড়া তোমার নাটে,
আলের জোয়ার বেয়ে তোমার
তরী আসে আমার ঘাটে।
শুনব কী আর বুঝব কী বা,
এই তো দেখি রাত্রিদিবা
ঘরেই তোমার আনাগোনা,
পথে কী আর তোমায় খুঁজি?

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহিত)

Amar Hiyar Majhe (You Hid In My Heart)

Suddenly the window of my heart flew open this morning, the window that looks out on your heart.
I wondered to see that the name by which you know me is written in April leaves and flowers, and I sat silent.
The curtain was blown away for a moment between my songs and yours.
I found that your morning light was full of my own mute songs unsung;
I thought that I would learn them at your feet-and I sat silent.

– Rabindranath Thakur (Collected from Fruit-Gathering. Translated by the poet himself)

গল্প ৯৩ – পথের পাঁচালী / Story 93 – Pather Panchali (Song of the Road)

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Pather Panchali

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Pather Panchali

পথের পাঁচালী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরেকটি গল্প। পথের পাঁচালী র সারমর্ম পাঠকদের জন্য তুলে ধরার মত ক্ষমতা আমার নেই, কিন্তু বাংলা সাহিত্যের অমর এই সৃষ্টিটিকে কি ভূমিকা ছাড়া এই সাইটে উপস্থাপন করা যায়? তাই এই ভণিতাটুকু। পথের পাঁচালী আমাদের চিরচেনা গ্রামবাংলারই কোনো এক প্রান্তে একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবনকাহিনী, যাতে বিভূতিভূষণ পরিবারটির হাসি-কান্না, স্বপ্ন আর সংগ্রামের ছবি তুলে ধরেছেন অবিশ্বাস্য নিপুণতায়। এই সাইটে তোলা বিভূতিভূষণের আগের গল্পগুলোর মতো এটিও বিশেষ কোন পরিণতিকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং লেখা সাধারণ সব মানুষদের জীবনের নগণ্য সব ঘটনা নিয়েই। উদাহারণস্বরূপ গল্পটির মূল চরিত্র ছোট্ট অপুর জীবন থেকে একটি ঘটনা তুলে দেই –

বিশু ডানপিটে ছেলে, তাহাকে দৌড়িয়া ধরা কি খেলায় হারানো সোজা নয়। একবার অমলা স্পষ্টতই বিরক্তি প্রকাশ করিল। অপু প্রাণপণে চেষ্টা করিতে লাগিল যাহাতে সে জেতে, যাহাতে অমলা সন্তুষ্ট হয় – কিন্তু বিস্তর চেষ্টা সত্ত্বেও সে আবার হারিয়া গেল।

সে-বার দল গঠন করিবার সময় অমলা ঝুঁকিল বিশুর দিকে।

অপুর চোখে জল ভরিয়া আসিল। খেলা তাহার কাছে হঠাৎ বিস্বাদ মনে হইল – অমলা বিশুর দিকে ফিরিয়া সব কথা বলিতেছে, হাসিখুসি সবই তাহার সঙ্গে। খানিকটা পরে বিশু কি কাজে বাড়ী যাইতে চাইলে অমলা তাহাকে বার বার বলিল যে, সে যেন আবার আসে। অপুর মনে অত্যন্ত ঈর্ষা হইল, সারা সকালটা একেবারে ফাঁকা হইয়া গেল! পরে সে মনে মনে ভাবিল – বিশু খেলা ছেড়ে চলে যাচ্ছে – গেলে খেলার খেলুড়ে কমে যাবে, তাই অমলাদি ঐরকম বলছে, আমি গেলে আমাকেও বলবে, ওর চেয়েও বেশি বলবে। হঠাৎ সে চলিয়া যাইবার ভান করিয়া বলিল – বেলা হয়ে যাচ্ছে, আমি যাই নাইবো। অমলা কোনো কথা বলিল না, কেবল কামারদের ছেলে নাড়ুগোপাল বলিল – আবার ও-বেলা এসো ভাই!

অপু খানিক দূর গিয়া একবার পিছনে চাহিল – তাহাকে বাদ দিয়া কাহারও কোনো ক্ষতি হয় নাই। পুরাদমে খেলা চলিতেছে, অমলা মহা উৎসাহে খুঁটির কাছে বুড়ি হইয়া দাঁড়াইয়াছে – তাহার দিকে ফিরিয়াও চাহিতেছে না।

অপু আহত হইয়া অভিমানে বাড়ি আসিয়া পৌঁছিল, কাহারও সঙ্গে কোনো কথা বলিল না।

ভারি তো অমলাদি! না চাহিল তাহাকে – তাতেই বা কি?…

উপরের লেখাটি পড়লে ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া তেমনই কোন ঘটনার কথা মনে পড়ে, তাই না? বাংলা সাহিত্যিকদের মধ্যে গ্রামীণ সমাজ আর শিশুমনকে একইসাথে বিভূতিভূষণের মতো অবলীলায় তুলে ধরতে আর কেউ বোধহয় পারেননি, আর তাঁর ক্ষমতার উৎকর্ষ যদি কোথাও ঘটে থাকে, তা এই গল্পতেই।পথের পাঁচালী  শুধু পল্লীবাংলার অকৃত্তিম প্রতিচ্ছবিই নয়, তার বুকে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ছেলেমানুষী হাসি-কান্নার দিনলিপিও। আর সেই অনন্যতাস্বরূপই বাংলা সাহিত্যে ছাড়িয়ে সমগ্র বিশ্বসাহিত্যেই হয়তো গল্পটি অদ্বিতীয়। অসাধারণ এই গল্পটি ছাড়া এই সাইটটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, তাই আজ পাঠকদের জন্যে এটি তুলে দিলাম।

(প্রসঙ্গত – যারা আগে জানতেন না, সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী  কিন্তু বিভূতিভূষণের এই গল্পকে ঘিরেই লেখা। সত্যজিৎ রায়ের অতুলনীয় নির্দেশনার কারণে গল্পটি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেছে সন্দেহ নেই, তবে চলচ্চিত্রের সৌন্দর্যের মূলটুকু কিন্তু সত্যজিৎ খুঁজে পেয়েছিলেন তার প্রিয় এই গল্পটির মধ্যেই। পথের পাঁচালী  চলচ্চিত্রটি বানানো নিয়ে সত্যজিৎ তাঁর একেই বলে শুটিং  স্মৃতিচারণার একটি অধ্যায় লিখেছিলেন – পাঠকদের সেটিও পড়বার আমন্ত্রণ রইল।)

Pather Panchali (Song of the Road) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

Pather Panchali (Song of the Little Road) by Bibhutibhushan Bandyopadhyay, is one of the most celebrated works in Bangla literature. As far as accolades go, there is not much I can say that has not been already said, but it needs to be mentioned that perhaps no other work in Bangla, and even perhaps world literature, compares to the novel in its representation of a rural life from the perspective of a little boy (Apu) from a poor family. Like Bibhutibhushan Bandyopadhyay’s other works, Pather Panchali too does not have a conclusion towards which it is directed. Instead, the narratives loses itself in a languid but beautiful flow that is interspersed with little Apu’s joys and sorrows – for instance, his seeing a train for the first time, and his offense at not heeded by a girl with whom he wants to play. The narrative is not even throughout, however. As Apu grows up, the realities of his world become starker, and on the last page of the novel, an adolescent Apu is left trying to become a man. In many ways, Pather Panchali is a familiar story of our childhoods, and the close-knit families from which many of us come. But it is with this ordinariness that it captures the reader, stirring up the most intimate and beautiful of childhood memories, and anchors itself to his/her heart. That every Bangalee should read this Bibhutibhushan masterpiece goes without saying. So here it is, for your eyes.

(Something that you might find interesting: The story was taken to the global audience by eminent Indian film director Satyajit Ray, whose début with Pather Panchali (Song of the Little Road), brought him and his genre of Indian cinema critical acclaim across the world. Ray’s personal account of the making of the film can be found in his autobiography Ekei Bole Shooting. While Ray’s direction was crucial in presenting the narrative, he always took particular care to acknowledge Bibhutibhushan’s influence on him. Those who have read Feluda’s stories will know that Bibhutibhushan was the sleuth’s favorite writer. )