কবিতা ২৩ – স্বাধীনতার সুখ / Poem 23 – Swadhinatar Sukh (The Joy of Independence)

ছোট থাকতে অনেক কবিতা শিখেছিলাম, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার অনেকগুলোই মন থেকে হারিয়ে গেছে। যে কটা থেকে গেছে, আজ তার একটি। রজনীকান্ত সেনের স্বাধীনতার সুখ। কবিতাটি মনে আছে কেন ভাবি – হয়তো ছোট, তাই, কিংবা চিরকাল দূর থেকে অট্টালিকা দেখে বড় হয়েছি বলে।

This time, a famous Bangla poem – Swadhinatar Sukh (The Joy of Independence). Written by Rajanikanta Sen, this poem is a celebration of the freedom and self-respect of which only those who stand on their feet know, and a reminder of what to strive for to those who are yet to stand on their own.

Rajanikanta Sen-Babui Pakhire Daki 2

স্বাধীনতার সুখ

বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই,
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই,
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।”

বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তাই ?
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়।
পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”

– রজনীকান্ত সেন

The Joy of Independence

Says the Sparrow to the Weaver Bird
“Look where I live – a mansion, no less!
While your nest barely shields you from the wind and the rain.
Yet you prize it as art?”

The Weaver Bird smiles, “There is no doubt,
that my nest sways in the slightest wind,
but I live in it gladly,
for unlike the mansion you share with humans
my house is mine and mine alone.

– Rajanikanta Sen

কবিতা ২১ – সংকল্প / Poem 21 – Sankalpa (Resolution)

এবার নজরুলের একটি কবিতা, যা প্রতিটি অনুসন্ধিৎসু বাঙ্গালী তরুণ-তরুণীরই জানা উচিত। ঘরে-অফিসে বসে যারা পরনিন্দা-পরচর্চা করে সময় কাটান, তাদের জন্যে না, বরং দৃপ্ত-দৃঢ় জ্ঞানপিপাসুদের জন্যে নজরুলের লেখা এই সংকল্প।

This time, a resolution by Nazrul. Not for those who gossip or the faint of heart, but for those who are curious and firm in their pursuit of knowledge. Sankalpa (Resolution) is very much a poem for the youth.

সংকল্প

থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে, –
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছে তারা কেমন করে,
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে,
কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরন-যন্ত্রণারে।।

কেমন করে বীর ডুবুরি সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে,
কেমন করে দুঃসাহসী চলছে উড়ে স্বর্গপানে।
জাপটে ধরে ঢেউয়ের ঝুঁটি
যুদ্ধ-জাহাজ চলছে ছুটি,
কেমন করে আনছে মানিক বোঝাই করে সিন্ধু-যানে,
কেমন জোরে টানলে সাগর উথলে ওঠে জোয়ার-বানে।

কেমন করে মথলে পাথার লক্ষ্মী ওঠেন পাতাল ফুঁড়ে,
কিসের আভিযানে মানুষ চলছে হিমালয়ের চুড়ে।
তুহিন মেরু পার হয়ে যায়
সন্ধানীরা কিসের আশায়;
হাউই চড়ে চায় যেতে কে চন্দ্রলোকের অচিন পুরে;
শুনবো আমি, ইঙ্গিত কোন ‘মঙ্গল’ হতে আসছে উড়ে।।

কোন বেদনায় টিকি কেটে চণ্ডু-খোর এ চীনের জাতি
এমন করে উদয়-বেলায় মরণ-খেলায় ওঠল মাতি।
আয়র্লণ্ড আজ কেমন করে
স্বাধীন হতে চলছে ওরে;
তুরস্ক ভাই কেমন করে কাটল শিকল রাতারাতি!
কেমন করে মাঝ-গগনে নিবল গ্রীসের সূর্য-বাতি।।

রইব না কো বদ্ধ খাঁচায়, দেখব এ-সব ভুবন ঘুরে-
আকাশ-বাতাস চন্দ্র-তারায় সাগর-জলে পাহাড়-চুঁড়ে।
আমার সীমার বাঁধন টুটে
দশ দিকেতে পড়ব লুটে;
পাতাল ফেড়ে নামব নীচে, ওঠব আবার আকাশ ফুঁড়ে;
বিশ্ব- জগৎ দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।।

– কাজী নজরুল ইসলাম