গল্প ১১৭ – ক্যাম্প / Story 117- Camp

jafar-iqbal-camp

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal – Camp

ক্যাম্প – জাফর ইকবাল

একটি যুদ্ধ, দুটি পক্ষ, কয়েকটি দৃষ্টিকোণ, আর একটি মৃত্যু – ক্যাম্প  মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ নিয়ে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা আরেকটি উপন্যাস। পাঠকদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি, তারা নিশ্চই জাফর ইকবালকে চেনেন, আর হয়তো এও জানেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি পিতৃহারা হয়েছিলেনক্যাম্প উপন্যাসটি তাই যতটা কাল্পনিক, ততটাই বাস্তব এবং ব্যক্তিগত। যতদূর জানি, একাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে ৪৭ বছরের রাজনীতি আর দলবাজির প্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনেকটাই সরলীকরণের বলি হয়েছে, যেকারণে আজ যুদ্ধের দিনগুলোর চরিত্রগুলোকে হয় সাদা কিংবা কালোর কাতারে ফেলার প্রবণতা বেশ প্রবল। কিন্তু ক্যাম্প পড়লে বোঝা যায় যে সেই সময়কার বাস্তবতা ছিল অনেকটাই জটিল, আর এও বোঝা যায় যে একাত্তরের খলনায়ক ছিল যারা, আদর্শগত ভাবে ভিন্ন হলেও তাদের মত অনেকেই দুই বাংলায়ই আজও বর্তমান।

Camp – Zafar Iqbal

A war, two sides, a few perspectives, and a death – Camp is another story by Muhammad Jafar Iqbal that portrays lives during the liberation war of Bangladesh. Readers who are Bangladeshi need no introduction to Jafar Iqbal; for those who do not know, the writer lost his father during atrocities committed by the Pakistani army during the war. For a fiction, Camp is therefore a very real account, and more – it is personal.

From the little I know, 47 years of politics and factionalism have left the war-time history in post-war Bangladesh grossly oversimplified. Consequently, the tendency among many these days is to portray characters from those times in either black or white. Camp, however, reveals them to us in shades of gray, and makes us realize the worrying truth that even after all this time, people just like them still linger among us.

Advertisements

কবিতা ৪২ – দগ্ধ গ্রাম / Poem 42 – Dagdho Gram (The Charred Village)

আজ পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের একটি কবিতা। কবির অনেক লেখার মত এটিও বাংলার গ্রামাঞ্চলকে নিয়ে, তবে দগ্ধ গ্রাম এর উপলক্ষ ও বর্ণনা একটু ভিন্ন – কবিতাটি জসীমউদ্দীন লিখেছিলেন ১৯৭১ সালে।

This time, a poem by the Rural Poet Jasimuddin. Like his other works, Dagdho Gram too narrates the scenery of rural Bangla, but one that is charred and devastated – the poem was written in 1971.

Jasimuddin-Dagdho Gram

দগ্ধ গ্রাম

এইখানে ছিল কালো গ্রামখানি, আম কাঁঠালের ছায়া,
টানিয়া আনিত শীতল বাতাস কত যেন করি মায়া।
তাহারই তলায় ঘরগুলি ভরে মমতা মুরতি হয়ে,
ছিল যে তাহারা ভাইবোন আর বউ ছেলেমেয়ে লয়ে।
সুখের স্বপন জড়ায়ে ঘুরায়েছিল যে তাদের বেড়ে,
আকাশ হইতে আসিত আশিস দেবর ভবন ছেড়ে।

গঞ্জের হটে সওদা বেচিতে বউ যে কহিত কানে,
“আমার জন্য নয়ানজুড়ির শাড়ি যেন কিনে আনে।”
হাটের ফিরতি পিতারে বেড়িয়া ছোট ছোট ছেলেমেয়ে,
হাসিত নাচিত বিস্কুট আর চিনির পুতুল পেয়ে।
গাজীর গানের বসিত আসর, গায়েনের সুর ধরি,
যুগ যুগান্ত পার হয়ে কত আসিত কাহিনী পরী।

কিসে কী হইল, পশ্চিম হতে নরঘাতকেরা আসি,
সারা গাঁও ভরি আগুন জ্বালায়ে হাসিল অট্টহাসি।
মার কোল হতে শিশুরে কাড়িয়া কাটিল যে খানখান,
পিতার সামনে মেয়েরে কাটিয়া করিল রক্তস্নান।
কে কাহার তরে কাঁদিবে কোথায়; যূপকাষ্ঠের গায়,
শত সহস্র পড়িল মানুষ ভীষণ খড়গ ধায়।

শত শিখা মেলি অগ্নিদাহন চাহি আকাশের পানে,
হয়তো-বা এর ফরিয়াদ করি ঊর্ধ্বে নিশ্বাস হানে।
আকাশে আজিকে নাহি কোনো পাখি, সুনীল আরোসি তার,
দিগন্তে মেলি এ ভীষণ রূপ দগ্ধি হে অনিবার।
মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল ভস্মাবশেষ গ্রাম,
দাঁড়ায়ে রয়েছে বিষাদ-মলিন দগ্ধ দুটি আধপোড়া খাম।

ওইখানে ছিল কুলের গাছটি, স্খলিত দগ্ধ-শাখ,
পাড়ার যত-না ছেলেমেয়েদের নীরবে পড়িছে ডাক।
আর তো তাহারা ফিরে আসিবে না, নাড়িয়া তাহার ডাল,
পাড়িবে না ফল দস্যু ছেলেরা অবহেলি মার গাল।
সিঁদুরে আমের গাছ ছিল হোথা, বছরের শেষ সনে,
শাখা ভরা আম সিঁদুর পরিয়া সাজিত বিয়ের কনে।
সে গাছে তো আর ধরিবে না আম বোশেখ মাসের ঝড়;
সে ছেলেমেয়েরা আসিবে না পুনঃ আম কুড়াবার তরে।
সারা গাঁওখানি দগ্ধ শ্মশান, দমকা হাওয়ার ঘায়,
দীর্ঘনিশ্বাস আকাশে পাতালে ভস্মে উড়িয়া যায়।

– জসীমউদ্দীন