গান ৮১ – মাগো ভাবনা কেন / Song 81 – Maa go Bhabna Keno (Why Fear, Mother)

সম্পাদিত ছবিটির আদি প্রতিরূপটি নেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবপৃষ্ঠা থেকে। / Original of the edited photo taken from the website of Bangladesh’s Liberation War Museum.

আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসকে (২৬ মার্চ) মনে রেখে একটি দেশাত্মবোধক গান। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের কলমে লেখা আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায় ও সুরে গাওয়া মাগো ভাবনা কেন গানটি বাঙ্গালীমাত্রেরই জেনে থাকার কথা। ১৯৬১ সালে প্রথম প্রচারিত হওয়া এই গানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রিয় অনুপ্রেরণাদায়ক গানগুলোর জন্যে অন্যতম ছিল। বাংলাদেশে মূলত সেইরূপেই পরিচিত হলেও গানটি দুই বাংলারই জাতীয়তাবাদকে একইসাথে ধারণ করে। একাত্তরের মুক্তিসেনাদের মত পাঠকরাও গানটি শুনে অনুপ্রাণিত হবেন, সেই আশায় একটি ইউটিউব ভিডিওসহ গানটির পংক্তিগুলো তুলে দিলাম।

26 March is a day of significance for Bangalees, in particular Bangladeshis. It was on this day in 1971 that Bangladesh declared its independence, and in remembrance of the War of Independence that followed, this post features a famous inspirational song. Written by Gauriprassana Mazumdar and voiced by Hemanta Mukhopadhyay in 1961, Maa Go Bhabna Keno (Why Fear, Mother) captures the essence of Bangalee and Bangladeshi nationalism, and resolve against attack and oppression. It is no suprise that the song went on to inspire Bangalee Muktijoddhas (freedom fighters) in their fight against the Pakistani army. In the hopes that it will inspire you as well, here are the lyrics, and a YouTube link if you prefer the words sung to you.

মাগো ভাবনা কেন

মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি (২)।

আমরা হারবনা,হারবনা
তোমার মাটির একটি কণাও ছাড়বনা (২)
আমরা পাঁজর দিয়ে দূর্গ ঘাটি গড়তে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

আমরা অপমান সইবনা
ভীরুর মত ঘরের কোণে রইবনা (২)
আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে ঝড়তে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

আমরা পরাজয় মানবনা
দূর্বলতায় বাঁচতে শুধু জানবোনা (২)
আমরা চিরদিনই হাসি মুখে মরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

মাগো ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি
তোমার ভয় নেই মা
আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।

শিল্পী – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
গীতিকার – গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
সুরকার – হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

Advertisements

কবিতা ৪২ – দগ্ধ গ্রাম / Poem 42 – Dagdho Gram (The Charred Village)

আজ পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের একটি কবিতা। কবির অনেক লেখার মত এটিও বাংলার গ্রামাঞ্চলকে নিয়ে, তবে দগ্ধ গ্রাম এর উপলক্ষ ও বর্ণনা একটু ভিন্ন – কবিতাটি জসীমউদ্দীন লিখেছিলেন ১৯৭১ সালে।

This time, a poem by the Rural Poet Jasimuddin. Like his other works, Dagdho Gram too narrates the scenery of rural Bangla, but one that is charred and devastated – the poem was written in 1971.

Jasimuddin-Dagdho Gram

দগ্ধ গ্রাম

এইখানে ছিল কালো গ্রামখানি, আম কাঁঠালের ছায়া,
টানিয়া আনিত শীতল বাতাস কত যেন করি মায়া।
তাহারই তলায় ঘরগুলি ভরে মমতা মুরতি হয়ে,
ছিল যে তাহারা ভাইবোন আর বউ ছেলেমেয়ে লয়ে।
সুখের স্বপন জড়ায়ে ঘুরায়েছিল যে তাদের বেড়ে,
আকাশ হইতে আসিত আশিস দেবর ভবন ছেড়ে।

গঞ্জের হটে সওদা বেচিতে বউ যে কহিত কানে,
“আমার জন্য নয়ানজুড়ির শাড়ি যেন কিনে আনে।”
হাটের ফিরতি পিতারে বেড়িয়া ছোট ছোট ছেলেমেয়ে,
হাসিত নাচিত বিস্কুট আর চিনির পুতুল পেয়ে।
গাজীর গানের বসিত আসর, গায়েনের সুর ধরি,
যুগ যুগান্ত পার হয়ে কত আসিত কাহিনী পরী।

কিসে কী হইল, পশ্চিম হতে নরঘাতকেরা আসি,
সারা গাঁও ভরি আগুন জ্বালায়ে হাসিল অট্টহাসি।
মার কোল হতে শিশুরে কাড়িয়া কাটিল যে খানখান,
পিতার সামনে মেয়েরে কাটিয়া করিল রক্তস্নান।
কে কাহার তরে কাঁদিবে কোথায়; যূপকাষ্ঠের গায়,
শত সহস্র পড়িল মানুষ ভীষণ খড়গ ধায়।

শত শিখা মেলি অগ্নিদাহন চাহি আকাশের পানে,
হয়তো-বা এর ফরিয়াদ করি ঊর্ধ্বে নিশ্বাস হানে।
আকাশে আজিকে নাহি কোনো পাখি, সুনীল আরোসি তার,
দিগন্তে মেলি এ ভীষণ রূপ দগ্ধি হে অনিবার।
মুহূর্তে সব শেষ হয়ে গেল ভস্মাবশেষ গ্রাম,
দাঁড়ায়ে রয়েছে বিষাদ-মলিন দগ্ধ দুটি আধপোড়া খাম।

ওইখানে ছিল কুলের গাছটি, স্খলিত দগ্ধ-শাখ,
পাড়ার যত-না ছেলেমেয়েদের নীরবে পড়িছে ডাক।
আর তো তাহারা ফিরে আসিবে না, নাড়িয়া তাহার ডাল,
পাড়িবে না ফল দস্যু ছেলেরা অবহেলি মার গাল।
সিঁদুরে আমের গাছ ছিল হোথা, বছরের শেষ সনে,
শাখা ভরা আম সিঁদুর পরিয়া সাজিত বিয়ের কনে।
সে গাছে তো আর ধরিবে না আম বোশেখ মাসের ঝড়;
সে ছেলেমেয়েরা আসিবে না পুনঃ আম কুড়াবার তরে।
সারা গাঁওখানি দগ্ধ শ্মশান, দমকা হাওয়ার ঘায়,
দীর্ঘনিশ্বাস আকাশে পাতালে ভস্মে উড়িয়া যায়।

– জসীমউদ্দীন