গল্প ১০৩ – বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার / Story 103 – Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar (The Amazing Inventions of Scientist Safdar Ali)

Jafar Iqbal-Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar

(সম্পাদিত প্রতিরুপটির আদি ছবিটি তুলেছিলেন কেনেথ টমাস / Original of the edited photo taken by Kenneth H Thomas)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Jafar Iqbal-Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar

বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার – জাফর ইকবাল

“সফদর আলীর টেবিলের চারপাশে অনেকগুলো খাঁচা, সেখানে অনেকগুলো নানা বয়সের মোরগ-মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সফদর আলী গম্ভীর মুখে একটা মুরগির দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁর হাতে কাগজ-কলম, মুরগির দিকে তাকিয়ে একটু পরপর কি যেন লিখছেন। উঁকি মেরে দেখে মনে হল আধুনিক কবিতা, কারণ তাতে লেখা –

ডান বাম ডান বাম ডান ডান বাম
বাম ডান বাম ডান বাম বাম বাম
বাম বাম ডান বাম বাম ডান বাম…

সফদর আলী খাতা বন্ধ করে বললেন, মোরগের সাথে মানুষের পার্থক্য কি বলেন দেখি?

মাথা চুলকে বললাম, আমরা মোরগকে রান্না করে খাই, মোরগ আমাদের রান্না করে খায় না।

সফদর আলী চিন্তিত মুখে বললেন, আপনাকে নিয়ে এই হচ্ছে মুশকিল, খাওয়া ছাড়া আর কিছু চিন্তা করতে পারেন না।

কথাটা খানিকটা সত্যি, আমি একটু লজ্জা পেয়ে গেলাম।

সফদর আলী বললেন, মানুষের দুটি চোখই সামনে। তাই তাদের বাইনোকুলার-দৃষ্টি। কোনো জিনিসের দিকে তাকিয়ে তারা দূরত্ব বুঝতে পারে। এক চোখ বন্ধ করে সুঁইয়ে সুতো পরানোর চেষ্টা করে দেখবেন কত কঠিন। বোঝা যায় না সুঁইটা কাছে না দূরে। মোরগের দুই চোখ দুই পাশে, তাই দূরত্ব বুঝতে হলে মোরগকে ক্রমাগত মাথা নাড়তে হয়। একবার ডান চোখে জিনিসটা দেখে, একবার বাম চোখে। বেশিরভাগ পাখিও মোরগের মতো। এজন্যে পাখিরাও মাথা নাড়ে। এই দেখেন আমি লিখছিলাম মোরগ কিভাবে তার চোখ ব্যবহার করে।

সফদর আলী তাঁর খাতা খুলে দেখালেন। যেটাকে একটা আধুনিক কবিতা ভেবেছিলাম, সেটা আসলে মোরগের মাথা নাড়ানোর হিসেব। আমার স্বস্তির নিশ্বাস পরে। সফদর আলী এখন কবিতা লেখা শুরু করলে ভারি দুঃখের ব্যাপার হত।”

দূরবীক্ষণ-দৃষ্টিসম্পন্ন মোরগ, গাড়ি চালানো গাছ, গিনিপিগদের বিরিয়ানি রান্না শেখা, আর ভণ্ডপীরকে সায়েস্তা করা – জাফর ইকবালের লেখা সবচেয়ে মজার গল্পগুলোর মধ্যে একটি, যা ঢাকারই কোন গলিতে থাকা একজন আধপাগল বিজ্ঞানীকে নিয়ে লেখা। সহজ বিজ্ঞান আর মজার ঘটনায় ভরা এই গল্পটি সবার জন্য তুলে দিলাম।

Bigyani Safdar Alir Maha Maha Abishkar (The Amazing Inventions of Scientist Safdar Ali) – Jafar Iqbal

Plants that can drive, roosters with binocular vision, guinea-pigs that cook biryani, and fake miracle-men – just the usual things in the life of an eccentric scientist living in some known corner of Dhaka. Bigyani Safdar Ali is possibly one of Jafar Iqbal’s funniest creations, and the scientist next door we would all love to have as a friend. Enjoy! 🙂

ছোটগল্প ৯১ – প্রফেসর শঙ্কু – স্বপ্নদ্বীপ / Short Story 91 – Professor Shanku – Swapnadwip (The Island of Dreams)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Swapnadwip 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Swapnadwip

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – স্বপ্নদ্বীপ – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কুর গল্পগুলো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হওয়ার কারনেই খানিকটা অদ্ভুত, তবে সেগুলোর মধ্যেও যদি অদ্ভুততর কোন গল্পের নাম বলতে হয়, তখন স্বপ্নদ্বীপ এর কথা মনে আসে। স্বপ্নদ্বীপ এর শুরু হয় রোজ রাতে প্রফেসর শঙ্কুর একটি আশ্চর্য জায়গাকে স্বপ্নে দেখা নিয়ে। স্বপ্নটা নাহয় শঙ্কুর ভাষাতেই বর্ণনা করি –

দেখলাম আমি একটা অদ্ভুত জায়গায় গিয়ে পড়েছি। সেখানে ঘরবাড়ি লোকজন কিছুই নেই – আছে শুধু গাছপালা আর বনজঙ্গল। এইসব গাছপালার একটিও আমার চেনা নয়। এদের রংও ভারী অস্বাভাবিক। সবুজ পাতা প্রায় নেই বললেই চলে। তার বদলে নীল লাল বেগুনী কমলা এই ধরনের রং। গাছে ফুল আর ফলও আছে – তার একটাও আমার চেনা নয়। একটা প্রকান্ড  ফুলে অজস্র পাপড়ি আর প্রত্যেকটা পাপড়ির রং আলাদা। আর একটা ফুলের এক-একটা পাপড়ি যেন এক-একটা হাতির কান, আর হাতির কানের মতই সেগুলো মাঝে মাঝে দুলে দুলে উঠছে… আর একটা তরমুজের সাইজের ফল – তার সর্বাঙ্গে গাঁঢ় লাল রোঁয়া, আর সেই রোঁয়ার ভিতর দুটো করে গোল গোল সাদার মাঝখানে কালো ফুটকি। ঠিক যেন মনে হয়, ফলের গায়ে একজোড়া চোখ।

শঙ্কু তখন তার প্রতি-মাধ্যাকর্ষণ ধাতু দিয়ে একটি উড়োজাহাজ বানানোর কাজে ব্যস্ত। কিন্তু তার মধ্যেই প্রতি রাতে এই অদ্ভুত স্বপ্নটি দেখতে দেখতে কেন জানি শঙ্কুর বাইরে কোথাও ঘুরে আশার ইচ্ছে জাগে। একই সময় হঠাৎই পৃথিবীর নানা দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মনীষী রহস্যজনকভাবে একইসাথে নিখোঁজ হয়ে যান। ঘটনাটি শঙ্কুর মনে খটকা জাগালেও উড়োজাহাজ তৈরী আর রাত্রে একই স্বপ্ন বার বার দেখা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করার সময় তার ছিল না। যাই হোক উড়োজাহাজও তৈরী হয়, আর শঙ্কুও তাতে তার প্রতিবেশী অবিনাশবাবুকে নিয়ে উড়াল দেন। তাদের গন্তব্য – অক্ষাংশ ১৬ উত্তর, দ্রাঘিমাংশ ১৩৬ পূর্ব – আর তাতে যাওয়ার কারণ – অজানা, হয়তো স্বপ্নে দেখা বলে।

Professor Shanku’s Stories – Swapnadwip (The Island of Dreams) – Satyajit Ray

Of the adventures of Professor Shanku, Swapnadwip (The Island of Dreams) ranks among the most bizarre. The story starts with Shanku in the thick of building his own airplane – a task that keeps him absorbed even when several prominent people from across the world mysteriously go missing. But busy though he is, Shanku’s sleep is strangely broken by the same dream every night – one about an island with enticingly colourful plants and strangely alive flowers. And despite his work, Shanku finds himself brooding more and more on his nightly visions, which inexplicably fill him with a desire to go off to some faraway land. As if on cue, the airplane gets built, and Shanku sets off on it with his neighbor, Abinash Babu towards the Bay of Bengal. Their destination – a stretch of water at Latitude 16 N and Longitude 136 E, and reason for going there – a desire to go that Shanku himself cannot explain.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Swapnadwip 2