গান ৮০ – পুরানো সেই দিনের কথা / Song 80 – Purano Shei Diner Katha (Auld Lang Syne)

আজকের লেখাটি এমন একটি বিখ্যাত বাংলা গানকে নিয়ে, যা বাঙ্গালীমাত্রেরই জানা থাকার কথা। তবে সেটি তোলার কারণ একটু আলাদা। পুরানো সেই দিনের কথা যে রবিঠাকুরের গান, তা আমরা অনেকেই মনে করি, কিন্তু গানটির সুর ও অর্থ দুটিই যে তিনি একটি স্কটিশ কবি রবার্ট বার্ন্‌স এর অ্যল্ড ল্যাং সাইন কবিতাটি থেকে নিয়েছিলেন, তা হয়তো আমাদের অনেকেই জানেন না। কবিগুরুর নিজের লেখা অজস্র হলেও তিনি বিশ্বসাহিত্যের নানা ধারা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। আর পুরানো সেই দিনের কথা অন্য সংস্কৃতি হতে গ্রহণের মাধ্যমে স্ব-সম্বৃদ্ধির একটি অনন্য উদাহরণ।

পাঠকদের ভাল লাগবে, সেই আশায় গান ও সেটির স্কটিশ আদিরূপটি তাই তুলে দিলাম – পুরানো সেই দিনের কথা, যা প্রিয় বন্ধু কিংবা আপনজনের সাথে পুনর্মিলিত হওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ে।

Today’s post is about a rather Bengali song that is not only beautiful in its music and meaning, but also significant in how it a borrowal from a different culture. Prolific though he was, Rabindranath Thakur did borrow quite often from other literary/music traditions. One of the most famous example of this is the popular Bangla song, Purano Shei Diner Kotha, whose tune and lyrics were heavily influenced by the Scottish song, Auld Lang Syne. For Bangalees who believe in cross-cultural exchange, the song is a fascinating, early example of how the West influenced one of the greatest minds of Asia and the world, and for those who lend towards cultural ‘purity’, it is a reminder that not all exchanges are reductions. More than anything else, though, it is a song of friendship, and if you are so inclined to think, of yearning and love.

The Bangla version by Thakur and the Scottish original are both presented below for your eyes, as are YouTube renditions of the songs for your ears. I hope you like them. : )

পুরানো সেই দিনের কথা

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।
আয় আর একটিবার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়।
মোরা সুখের দুখের কথা কব, প্রাণ জুড়াবে তায়।

মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি, দুলেছি দোলায়–
বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি বকুলের তলায়।
হায় মাঝে হল ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়–
আবার দেখা যদি হল, সখা, প্রাণের মাঝে আয়॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (প্রেম ও প্রকৃতি হতে সংগ্রহীত)

Auld Lang Syne
(Scottish Original of Purano Shei Diner Katha)

Should auld acquaintance be forgot,
and never brought to mind?
Should auld acquaintance be forgot,
and auld lang syne?
CHORUS:
For auld lang syne, my jo,
for auld lang syne,
we’ll tak’ a cup o’ kindness yet,
for auld lang syne.

And surely ye’ll be your pint-stoup!
and surely I’ll be mine!
And we’ll tak’ a cup o’ kindness yet,
for auld lang syne.
CHORUS
We twa hae run about the braes,
and pou’d the gowans fine;
But we’ve wander’d mony a weary fit,
sin’ auld lang syne.
CHORUS

We twa hae paidl’d in the burn,
frae morning sun till dine;
But seas between us braid hae roar’d
sin’ auld lang syne.
CHORUS

And there’s a hand, my trusty fiere!
and gie’s a hand o’ thine!
And we’ll tak’ a right gude-willie waught,
for auld lang syne.
CHORUS

– Robert Burns

 

Advertisements

কবিতা ৫০ – আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই / Poem 50 – Amar Gharete Aar Nai She Je Nai (Brink of Eternity)

Rabindranath Thakur-Amar Gharete Ar Nai

আজ পাঠকদের জন্যে নীলচে একটি কবিতা। হারানো কোন প্রিয়জনকে নিয়ে বিরহ, আর তাঁকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খা যে কতটুকু তীব্র হতে পারে, রবীন্দ্রনাথের আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই  কবিতাটিতে তা ব্যাকুলরূপে প্রতিমূর্ত হয়ে উঠেছে। স্থান ও কালের যে অসীমতাকে আমরা ঈশ্বরের একটি রূপ বলে জানি, বিলীন হয়ে যাওয়া সমস্ত কিছুর ঠাঁই তো তারই মাঝে হয়। প্রিয়জনের খোঁজে ক্লান্ত আর পরাজিত মনটির যদি ঈশ্বরের কাছে শেষ আর্তি বলে কিছু থেকে থাকে, তবে তা সেই অসীমতায় হারিয়ে গিয়ে সেই হারানো জনের সাথে একাকার হয়ে যেতে চাওয়া ছাড়া আর কি হতে পারে? পাঠকদের মাঝে যদি কেউ প্রবল আবেগ দিয়ে কাউকে ভালবেসে থাকেন, তিনি জানবেন হয়তো।

Today, a heartbreakingly beautiful poem for your contemplation: in Amar Gharete Aar Nai She Je Nai (Brink of Eternity), Rabindranath Thakur inks his longing for a beloved someone into lines so profound that they leave us awestruck at the infinitude of Creation and the intensity of human feeling. Yearning for someone he has lost, Thakur knows that his search for her is only in vain, so standing on the brink of the Eternal and the Infinite – where all that was exists forever – he tearfully asks God to immerse him in that eternity… wishing nothing more than to feel, for once, her “lost sweet touch in the allness of the Universe”.

Finding words that give voice to a overwhelming love and longing may give solace to those who know the feeling. If you have ever felt anything close, this poem is for you.

আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই

আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই–
যাই আর ফিরে আসি, খুঁজিয়া না পাই।
আমার ঘরেতে নাথ, এইটুকু স্থান–
সেথা হতে যা হারায় মেলে না সন্ধান।
অনন্ত তোমার গৃহ, বিশ্বময় ধাম,
হে নাথ, খুঁজিতে তারে সেথা আসিলাম।
দাঁড়ালেম তব সন্ধ্যা-গগনের তলে,
চাহিলাম তোমা-পানে নয়নের জলে।
কোনো মুখ, কোনো সুখ, আশাতৃষা কোনো
যেথা হতে হারাইতে পারে না কখনো,
সেথায় এনেছি মোর পীড়িত এ হিয়া–
দাও তারে, দাও তারে, দাও ডুবাইয়া।
ঘরে মোর নাহি আর যে অমৃতরস
বিশ্ব-মাঝে পাই সেই হারানো পরশ।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গীতাঞ্জলী হতে সংগ্রহিত)

Brink of Eternity
(Translated by the Poet himself)

In desperate hope I go
and search for her
in all the corners of my room;
I find her not.

My house is small and
what once has gone from it
can never be regained.

But infinite is thy mansion,
my lord, and seeking her
I have to come to thy door.

I stand under the golden canopy
of thine evening sky and
I lift my eager eyes to thy face.

I have come to the brink of eternity
from which nothing can vanish —
no hope, no happiness,
no vision of a face seen through tears.

Oh, dip my emptied life
into that ocean, plunge it
into the deepest fullness.
Let me for once feel that
lost sweet touch
in the allness of the universe.

– Rabindranath Thakur (Collected from Gitanjali)

ছোটগল্প ১৬ – দুই বন্ধু / Short Story 16 – Dui Bandhu (Two Friends)

Dui Bondhu

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Dui Bandhu

দুই বন্ধু – সত্যজিৎ রায়

এবার একটি হাল্কা ধাঁচের গল্প। দুই দশক আগের কথা – মহিম আর প্রতুল নামের দুজন কিশোর বন্ধু আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে প্রতিজ্ঞা করে যে বিশ বছর পর তারা দুজনেরই চেনা একটি জায়গায় আবার দেখা করবে। মহিমের সে কথাটি এতদিন মনে থাকলেও প্রতুলের আছে কিনা সে বিষয়ে তার সন্দেহ ছিল। হাজার হোক, বিশ বছর তো আর অল্প সময় নয়।

Dui Bandhu (Two Friends) – Satyajit Ray

A somewhat lighthearted post this time. Twenty years ago at the time of their separation, two young friends – Mahim and Pratul – promise to meet again at a place they both know two decades later. While Mahim remembers the arrangement, he is not sure that Pratul does. Two decades is a long time, after all.

ছোটগল্প ৯ – মহীম সান্যালের ঘটনা / Short Story 6 – Mahim Sanyaler Ghatana

Mahim Sanyaler Ghatona

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Mahim Sanyaler Ghatana

মহীম সান্যালের ঘটনা – সত্যজিৎ রায়

জাদুর ব্যাপারে সত্যজিৎ রায় যে খুবই আগ্রহী ছিলেন, তা জাদু নিয়ে তার লেখা গল্পের সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। সেগুলোরই মধ্যে এটি মহীম সান্যালের ঘটনা –  দুই জাদুকরের প্রথম, আর দুটি মানুষের আবার দেখা হওয়ার গল্প।

Mahim Sanyal Er Ghatana – Satyajit Ray

In many of Satyajit Ray’s writings, magic is a recurrent theme – an avid reader would know that the author was deeply fascinated with magic as well as magicians. This post features a story which is based on that theme, and much more. In Mahim Sanyal er Ghatana, two magicians come to know each other for the first time, and two men come to know each other again.