গান ৬২ – আনন্দধারা বহিছে ভুবনে / Song 62 – Anondodhara Bohichhe Bhubone (A Cascade of Joy Flows Through the Universe)

rabindranath-thakur-anandodhara-bohichhe-bhubone

পূজোর মৌসুম আজ, তাই এই সাইটে সচরাচর যা তুলি, আজ তার চাইতে খানিকটা আলাদা একটি কবিতা – নিজেদের ক্ষুদ্রচিন্তা ও স্বার্থপরতাকে উপেক্ষা করে এই মহাসৃষ্টির অপার সৌন্দর্য্যে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার অনুপ্রেরণাস্বরূপ – রবিঠাকুরের আনন্দধারা বহিছে ভুবনে। গান শুনতে যারা ভালবাসেন, তাদের জন্য অদিতি মহসীনের গলায় গাওয়া গানটির একটি মধুর সংস্করণ নিচে সংযুক্ত করে দিলাম।

শারদীয় শুভেচ্ছা সবাইকে।

For many Bangalees, it is that joyous time to which they have been counting down for months, and in keeping with the festivities, a spiritual prompt to shed the self-centredness that fills our lives with trivial sorrows and sip joyously instead from the cosmic cascade that flows all around us. In more implicit ways than I can fathom (I certainly overlook more than I grasp), Rabi Thakur’s Anondodhara Bohichhe Bhubone (A Cascade of Joy Flows Through the Universe) is a masterful distillation of a beautiful and profound understanding of this universe, and one that invokes hope and awe within us in equal measure. I do not know of poems that add dimension to celebration as Anondodhara Bohichhe Bhubone does, but knowing this one poem leaves me immensely glad. On this onset of Puja festivities, I can only share that feeling with you, and I will hope you feel the same way when you read the lines.

P.s.: The translation below is an adaptation of one written by Rumela Sengupta, and therefore reflects my literary inclinations (or lack of taste). You can find the unadulterated version here. For those of you who prefer listening, a beautiful rendition of the song by Aditi Mohsin is linked below.

Autumnal greetings, everyone.

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে

আনন্দধারা বহিছে ভুবনে,
দিনরজনী কত অমৃতরস উথলি যায় অনন্ত গগনে ॥
পান করে রবি শশী অঞ্জলি ভরিয়া–
সদা দীপ্ত রহে অক্ষয় জ্যোতি–
নিত্য পূর্ণ ধরা জীবনে কিরণে ॥

বসিয়া আছ কেন আপন-মনে,
স্বার্থনিমগন কী কারণে?
চারি দিকে দেখো চাহি হৃদয় প্রসারি,
ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি
প্রেম ভরিয়া লহো শূন্য জীবনে ॥

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা হতে সংগ্রহীত)

Anondodhara Bohichhe Bhubhone (A Cascade of Joy Flows Through the Universe)
(Translation inspired by a version written by Rumela Sengupta in the Gitabitan website)

A cascade of joy flows through the universe
night and day – an ambrosia spilling from the heavens above.
The sun and the moon drink up the sweet nectar
in handfuls, ever luminous in their inextinguishable glow
which falls upon the earth – brimming with life and light.

Why do you sit there, lost in thought,
What keeps you immersed in your selfishness?
Let your heart spread its wings, and look around.
Value little, this trifling pain of yours
And let love permeate the void in your life.

– Rabindranath Thakur (Collected from Puja)

Advertisements

কবিতা ৬১ – বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা / Poem 61 – Bipade More Rakkha Karo E Nohe Mor Prarthona (The Grasp of Your Hand)

rabindranath-thakur-bipade-more-rakkha-karo-1

আজ ঈশ্বরের প্রতি একটি প্রার্থনা – জীবনের দুঃখ হতে ত্রাণ কিংবা ভারমুক্তি চেয়ে নয়, বরং তা সইবার শক্তি ও সাহস কামনা করে। ঈশ্বরের প্রতি কতটুকু ভালবাসা আর বিশ্বাস থাকলে একজন মানুষ শুধু তাঁর কাছে শুধু দুঃখকে সইবার শক্তি ও নিঃসংশয়তা প্রার্থনা করে জীবনের মুখোমুখি হয়, তা আমার অনুধাবনে আসতে হয়তো অনেক দেরী, তবে এই কবিতাটুকু পড়লে খানিকটা কল্পনা করা যায় – বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা – রবিঠাকুরের কলমে।

(পুনশ্চ – নিম্নোক্ত বাংলা কবিতাটির দুটো অনুবাদ ছাড়াও রবিঠাকুরের নিজের লেখা একটি ইংরেজী কবিতা ও তার ইতালীয় অনুবাদ এই পোস্টে তুলে দিচ্ছি। গিভ মি দ্য সুপ্রিম কারেজ অফ লাভ কবিতাটির আদি কোন বাংলা সংস্করণ আছে কিনা তা আমি অনেক খোঁজ করেও পাইনি, তবে ভাবার্থের দিক দিয়ে বিপদে মোরে রক্ষা করো কবিতাটিই সেটির সবচেয়ে কাছে বলে মনে হয়, তাই তুলে দেওয়া। পাঠকদের মধ্যে যদি কেউ কবিতাটির কোন আদি বাংলা সংস্করণের কথা জেনে থাকেন, তবে আমাকে জানানোর অনুরোধ রইল)

This time, a prayer for every struggling heart in the form of a poem. Bipade More Rakkha Karo E Nohe Mor Prarthona (The Grasp of Your Hand) is one of Rabindranath Thakur’s most famous poems, and deservedly so, for it represents human dignity and an unquestionable faith in God at their most beautiful and most earnest. I cannot ever imagine rising to that state. After all, it is not for wavering hearts to bear the struggles of life with only faith to hold on to,  and for the ones which can, it is only the worthiests’ privilege to ask God for strength to face life’s trials instead of seeking relief. If you aspire, however, Thakur’s poem is a beautiful demystification of that mood.

(P.s. – Besides including two translations of the Bangla original (one by the poet himself), I have also added another English poem by Thakur, Give Me the Supreme Courage of Love (and an Italian translation – Dammi Il Supremo Coraggio Dell’amore). The reason for this inclusion is that thematically, the work seems to be a derivative of Bipade More Rakkha Karo E Nohe Mor Prarthona – I at least have not found a directly corresponding Bangla original. If you happen to be aware of one, do let me know.)

বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা

বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা–
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়॥
সহায় মোর না যদি জুটে নিজের বল না যেন টুটে,
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা–
তরিতে পারি শকতি যেন রয়।
আমার ভার লাঘব করি নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।
নম্রশিরে সুখের দিনে তোমারি মুখ লইব চিনে–
দুখের রাতে নিখিল ধরা যেদিন করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয়।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (পূজা  হতে সংগ্রহীত)

Bipade More Rakkha Karo E Nohe Mor Prarthona (The Grasp of Your Hand)
(Version 1 – Translated by the poet himself)

Let me not pray to be sheltered from dangers but to be fearless in facing them.
Let me not beg for the stilling of my pain but for the heart to conquer it.
Let me not look for allies in life’s battlefield but to my own strength.
Let me not crave in anxious fear to be saved but hope for the patience to win my freedom.
Grant me that I may not be a coward, feeling your mercy in my success alone; but let me find the grasp of your hand in my failure.

(Version 2 – By Ruma Chakravarti,  who maintains a beautiful collection of her own musings and translations of Thakur’s writings on the Web)

I do not pray so that you may save me from danger –
Instead, I entreat you to make me grow unafraid.
Perhaps you might consider not consoling me when I am filled with sorrow,
Let me instead learn to conquer it when faced with pain.
When I have no one to lean on, let my own strength not desert me
When life only takes, giving back false hope in return
May I be strong enough to resist it.
My prayer is not for you to be my savior –
I would rather you gave me the will to overcome.
I would rather you did not give solace and shoulder my burden,
But give me the might to do the same for myself.
Let me humbly know you for my own in times of happiness –
So that on the darkest of nights when the world turns away
I may not doubt your benevolent presence.

– Rabindranath Thakur (Collected from Fruit-Gathering)

Give Me the Supreme Courage of Love
(Version 3 (?) – An English verse which is somewhat related to the Bangla poem above – if you find a better match in Bangla, please let me know as a comment on this post)

Give me the supreme courage of love, this is my prayer – the courage to speak, to do, to suffer at thy will, to leave all things or be left alone. Strengthen me on errands of danger, honor me with pain, and help me climb to that difficult mood which sacrifices daily to thee.

Give me the supreme confidence of love, this is my prayer – the confidence that belongs to life in death, to victory in defeat, to the power hidden in frailest beauty, to that dignity in pain which accepts hurt but disdains to return it.

– Rabindranath Thakur (Collected from The Fugitive III)

Dammi Il Supremo Coraggio Dell’amore
(Version 3.1 (?) – An Italian translation of version 3 by Martha Babbitt, a wonderful human and a friend)

Dammi il supremo coraggio dell’amore,
questa è la mia preghiera,
coraggio di parlare, di agire,
di soffrire se è Tuo volere,
di abbandonare ogni cosa,
o di essere lasciato solo.
Dammi la forza in missioni pericolosi,
Onorarmi con la sofferenza,
E aiutami a raggiungere quello stato elusivo
Che ogni giorno fa sacrifici a Te.

Dammi la suprema fiducia nell’amore,
questa è la mia preghiera,
la fiducia nella vita nella morte,
nella vittoria nella sconfitta,
nella potenza nascosta nella più fragile bellezza,
nella dignità del dolore che accoglie l’offesa,
ma si rifiuta di rispondere con l’offesa.

– Rabindranath Thakur (The Fugitive III)

গল্প ১১১ – ফেলুদা – লন্ডন এ ফেলুদা / Story 111 – Feluda – London e Feluda (Feluda in London)

satyajit-ray-feluda-london-e-feluda

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray – Feluda – London e Feluda

ফেলুদার গল্প – লন্ডনে ফেলুদা – সত্যজিৎ রায়

দুই বন্ধু, একটি দুর্ঘটনা, একটি মৃত্যু, একজন মানুষের স্মৃতি হারানো আর ফেরার মাঝে কেটে যাওয়া চল্লিশেরও বেশি বছর, আর একটি তদন্ত – ফেলুদার আরেকটি প্রত্যাবর্তন, আর এবার শার্লক হোম্‌স এর শহরে।

Feluda’s Stories – London e Feluda (Feluda in London) – Satyajit Ray

Two friends, a boat ride and a drowning, a survivor’s loss of memory, and an investigation forty years later – yes, Feluda again, and this time, in London.

ছোটগল্প ১১০ – প্রফেসর শঙ্কু ও ম্যাকাও / Short Story 110 – Professor Shanku – Professor Shanku O Macaw

satyajit-ray-professor-shanku-professor-shanku-o-macawপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray – Professor Shanku – Professor Shanku O Macaw

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – প্রফেসর শঙ্কু ও ম্যাকাও – সত্যজিৎ রায়

সত্যজিৎ রায়ের লেখা প্রফেসর শঙ্কুর সব গল্পগুলোই যে আমাকে টানে, তা নয় – শঙ্কুর কিছু গল্প বর্তমান যুগের বিজ্ঞান থেকে এতটাই দূরে যে সেগুলোকে মেনে নেওয়া নিজের মধ্যেকার কাল্পনিক বৈজ্ঞানিকটির পক্ষে বেশ কঠিনই হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই সাইটে গল্প তোলা তো আর আমার জন্যে নয়, তাছাড়া আমি নিজেই বা বিজ্ঞানের কতটুকু জানি বা বুঝি? তাই আজ সেটিকে মেনে নিয়ে শঙ্কুর আরেকটি গল্প, যা আমার মতে অল্প একটু ‘বৈজ্ঞানিক’ আর তার চাইতে অনেক বেশি ‘কল্পকাহিনী’ – প্রফেসর শঙ্কু ও ম্যাকাও গল্পটি আমাদের চিরচেনা শঙ্কু, তাঁর এক প্রতিদ্বন্দী, এবং একটি আশ্চর্য বুদ্ধিমান ম্যাকাওয়ের মধ্যেকার ত্রিমুখী ‘বিনিময়’ নিয়ে লেখা।

Professor Shanku’s Stories – Professor Shanku O Macaw – Satyajit Ray

Another Shanku upload after a long break – and this time, as a true departure from the norm, a story that I don’t like. To me, Professor Shanku O Macaw is too fantastical to be classified as science fiction, but then again, what do I know? And in any case, this site should have all sorts of Bangla works rather than just the ones which I prefer. Hence this story, which is centered on an exceptionally gifted bird.

 

কবিতা ৬০ – স্বল্পশেষ / Poem 60 – Swalpashesh (The Little That Remains)

rabindranath-thakur-swalpashesh-2

রবিঠাকুরের প্রেমের কবিতাগুলোর অনেক বৈশিষ্ট্যই পাঠকের মনকে নাড়া দেওয়ার মত, তবে সেগুলোর একটি দিক, যা আমার খুব ভাল লাগে তা হল এই, যে কবিগুরুর ভালবাসার বর্ণনায় অহংকারের বালাই নেই বললেই চলে। প্রিয়জনের প্রতি মানুষের ভালবাসা যে কতটুকু পবিত্র, স্বার্থহীন ও ভক্তিপূর্ণ হতে পারে, তা বোধহয় রবীন্দ্রনাথের মত গভীর আবেগে খুব কম লেখকই ব্যক্ত করতে পেরেছেন। কে জানে, কবিগুরুর মত করে লিখতে গেলে হয়তো তাঁর মত করে হারাতে ও ভালবাসতেও হয় – ব্যক্তিগত জীবনে যে রবিঠাকুর ব্যাথা পেয়েছিলেন অনেক, তা তো আর আমাদের অজানা নয়।

আজকের লেখাটি আমার জানা রবিঠাকুরের সবচেয়ে প্রেমার্দ্র কবিতাগুলোর মধ্যে একটি – স্বল্পশেষ – যা সবকিছু সাঙ্গ হওয়ার পরেও যে ভালবাসাটুকু শ্বাশত হয়ে থেকে যায়, তা দিয়ে প্রিয়জনকে শেষবার সাজিয়ে দিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিদায় নেওয়া নিয়ে।

I have been wondering this for some time now: is love a selfish desire to possess a cherished someone, or is it the giving away of the self to that same person? To be honest, I do not know… Perhaps it is both of those – entwined in a manner that foments the inextricable mix of tenderness, affection, passion and jealousy that we know love can be? But of all its forms, perhaps love is truest and most sacred when it leaves the lover overshadowed and forgotten in its profundity. I am speculating, of course – of love and its depth, I would know little. But if words are ever true, then the following poem by Thakur would be a fitting testament to the belief – The Little That Remains is a weary man’s song to the girl he loves.

স্বল্পশেষ

অধিক কিছু নেই গো কিছু নেই,
কিছু নেই–
যা আছে তা এই গো শুধু এই,
শুধু এই।
যা ছিল তা শেষ করেছি
একটি বসন্তেই।
আজ যা কিছু বাকি আছে
সামান্য এই দান–
তাই নিয়ে কি রচি দিব
একটি ছোটো গান?

একটি ছোটো মালা তোমার
হাতের হবে বালা।
একটি ছোটো ফুল তোমার
কানের হবে দুল।
একটি তরুলতায় ব’সে
একটি ছোটো খেলায়
হারিয়ে দিয়ে যাবে মোরে
একটি সন্ধেবেলায়।
অধিক কিছু নেই গো কিছু নেই,
কিছু নেই।
যা আছে তা এই গো শুধু এই,
শুধু এই।
ঘাটে আমি একলা বসে রই,
ওগো আয়!
বর্ষানদী পার হবি কি ওই–
হায় গো হায়!
অকূল-মাঝে ভাসবি কে গো
ভেলার ভরসায়।

আমার তরীখান
সইবে না তুফান;
তবু যদি লীলাভরে
চরণ কর দান,
শান্ত তীরে তীরে তোমায়
বাইব ধীরে ধীরে।
একটি কুমুদ তুলে তোমার
পরিয়ে দেব চুলে।
ভেসে ভেসে শুনবে বসে
কত কোকিল ডাকে
কূলে কূলে কুঞ্জবনে
নীপের শাখে শাখে।

ক্ষুদ্র আমার তরীখানি–
সত্য করি কই,
হায় গো পথিক, হায়,
তোমায় নিয়ে একলা নায়ে
পার হব না ওই
আকুল যমুনায়।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ক্ষণিকা হতে সংগ্রহীত)

Swalpashesh (The Little That Remains)
Translated by the Poet himself

It is little that remains now, the rest was spent in one careless summer. It is just enough to put in a song and sing to you; to weave in a flower- chain gently clasping your wrist; to hang in your ear like a round pink pearl, like a blushing whisper; to risk in a game one evening and utterly lose.

My boat is a frail small thing, not fit for crossing wild waves in the rain. If you but lightly step on it I shall gently row you by the shelter of the shore, where the dark water in ripples are like a dream-ruffled sleep; where the dove’s cooing from the drooping branches makes the noon- day shadows plaintive. At the day’s end, when you are tired, I shall pluck a dripping lily to put in your hair and take my leave.

– Rabindranath Thakur (Collected from Lover’s Gift)

কবিতা ৫৯ – দেশলাইয়ের কাঠি / Poem 59 – Deshlai er Kathi (The Matchstick)

sukanta-bhattacharya-deshlaier-kathi-1

অনেকদিন পরে আবার সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি কবিতা –দেশলাইয়ের কাঠি। কবি সুকান্ত যে ব্যক্তিগত জীবনে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন, এই সাইটে আমি তা উল্লেখ করেছি আগেই। এই কবিতাটি লেখা সেই আদর্শ থেকেই – একটি আগুন নিয়ে, যা এই সমাজের ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকা নিপীড়িতদের ভিতরে সম্ভাবনা হয়ে বেঁচে থাকে, আর যা একদিন বিপ্লব হয়ে হয়তো বদলে দেবে সারা পৃথিবীকেই।

After a long time, a poem by Sukanta Bhattacharya. Even for the most literally inclined of readers, the symbolism in Deshlai er Kathi (The Matchstick) is hard to miss – as I had mentioned earlier, Sukanta’s writings were heavily inspired by Communist ideas – in the poem, the poet speaks to the bourgeoisie and the elite of our society through a metaphor that is seemingly little and a mere convenience to most of us, but also one that holds the potential to burn the loftiest of palaces down to rubble. To some, it is literally a matchstick, but to others, it is the proletariat who rear a flame that can burn down the heirarchies of this world.

দেশলাইয়ের কাঠি

আমি একটা ছোট্ট দেশলাইয়ের কাঠি
এত নগণ্য, হয়তো চোখেও পড়ি না;
তবু জেনো
মুখে আমার উসখুস করছে বারুদ—
বুকে আমার জ্বলে উঠবার দুরন্ত উচ্ছ্বাস;
আমি একটা দেশলাইয়ের কাঠি।
মনে আছে সেদিন হুলুস্থুল বেধেছিল?
ঘরের কোণে জ্বলে উঠেছিল আগুন –
আমাকে অবজ্ঞাভরে না-নিভিয়ে ছুঁড়ে ফেলায়!
কত ঘরকে দিয়েছি পুড়িয়ে,
কত প্রাসাদকে করেছি ধূলিসাত্‍‌
আমি একাই- ছোট্ট একটা দেশলাইয়ের কাঠি।
এমনি বহু নগর, বহু রাজ্যকে দিতে পারি ছারখার করে
তবুও অবজ্ঞা করবে আমাদের?
মনে নেই? এই সেদিন-
আমরা সবাই জ্বলে উঠেছিলাম একই বাক্সে;
চমকে উঠেছিলে–আমরা শুনেছিলাম তোমাদের বিবর্ণ মুখের আর্তনাদ।
আমাদের কী অসীম শক্তি
তা তো অনুভব করেছো বারংবার;
তবু কেন বোঝো না,
আমরা বন্দী থাকবো না তোমাদের পকেটে পকেটে,
আমরা বেরিয়ে পড়ব, আমরা ছড়িয়ে পড়ব
শহরে, গঞ্জে, গ্রামে– দিগন্ত থেকে দিগন্তে।
আমরা বার বার জ্বলি, নিতান্ত অবহেলায়-
তা তো তোমরা জানোই!
কিন্তু তোমরা তো জানো না:
কবে আমরা জ্বলে উঠব-
সবাই– শেষবারের মতো!

– সুকান্ত ভট্টাচার্য (ছাড়পত্র  হতে সংগ্রহীত)

কবিতা ৫৮ – জন্মকথা / Poem 58 – Janmokatha (The Beginning)

Rabindranath Thakur-Khoka Ma ke Shudhay (3)

প্রতিটি শিশুর মনে কখনো না কখনো জাগা একটি প্রশ্ন, আর তার উত্তরে কিছু কথা, যা হয়তোবা প্রতিটি নারীরই মাতৃত্ব আর ভালবাসার পূর্ণতম বহিঃপ্রকাশ। জন্মকথা য় শিশুর প্রতি মায়ের আবেগ আর স্নেহ এত আর্দ্রভাবে ফুটে উঠেছে, যে কবিতাটি যে একজন পুরুষের লেখা তা বিশ্বাস করা কঠিন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ হয়তো রবীন্দ্রনাথ, আর বাঙ্গালী হিসেবে আমরা ভাগ্যবান, সেকারণেই। আমাদের মধ্যে সুপ্ত কিংবা প্রষ্ফুটিত মা ও শিশু যারা, তাদের মনে করে আজ প্রিয় এই কবিতাটি তুলে দিলাম।

“Where did I come from?” is perhaps the one question that every child asks its parent(s) one day. In Janmokatha (The Beginning), Rabindranath Thakur answers it with such familiarity and tenderness that it seems hard to believe that the poem was written by a man. But the poem is more than a due testament to Thakur’s genius – in its beautiful, innocent, soft and sacred portrayal of motherhood, it is a perfect celebration of the relationship between a mother and her child. Life, in its own ways, leaves many of us unable to grasp the poem in its entirety, but if you are a mother or will ever be one, this one is for your heart. A translation by the poet himself is also provided below.

জন্মকথা

খোকা মাকে শুধায় ডেকে–
“এলেম আমি কোথা থেকে,
কোন্‌খানে তুই কুড়িয়ে পেলি আমারে।’
মা শুনে কয় হেসে কেঁদে
খোকারে তার বুক বেঁধে–
“ইচ্ছা হয়ে ছিলি মনের মাঝারে।
ছিলি আমার পুতুল-খেলায়,
প্রভাতে শিবপূজার বেলায়
তোরে আমি ভেঙেছি আর গড়েছি।
তুই আমার ঠাকুরের সনে
ছিলি পূজার সিংহাসনে,
তাঁরি পূজায় তোমার পূজা করেছি।
আমার চিরকালের আশায়,
আমার সকল ভালোবাসায়,
আমার মায়ের দিদিমায়ের পরানে–
পুরানো এই মোদের ঘরে
গৃহদেবীর কোলের ‘পরে
কতকাল যে লুকিয়ে ছিলি কে জানে।
যৌবনেতে যখন হিয়া
উঠেছিল প্রস্ফুটিয়া,
তুই ছিলি সৌরভের মতো মিলায়ে,
আমার তরুণ অঙ্গে অঙ্গে
জড়িয়ে ছিলি সঙ্গে সঙ্গে
তোর লাবণ্য কোমলতা বিলায়ে।
সব দেবতার আদরের ধন
নিত্যকালের তুই পুরাতন,
তুই প্রভাতের আলোর সমবয়সী–
তুই জগতের স্বপ্ন হতে
এসেছিস আনন্দ-স্রোতে
নূতন হয়ে আমার বুকে বিলসি।
নির্নিমেষে তোমায় হেরে
তোর রহস্য বুঝি নে রে,
সবার ছিলি আমার হলি কেমনে।
ওই দেহে এই দেহ চুমি
মায়ের খোকা হয়ে তুমি
মধুর হেসে দেখা দিলে ভুবনে।
হারাই হারাই ভয়ে গো তাই
বুকে চেপে রাখতে যে চাই,
কেঁদে মরি একটু সরে দাঁড়ালে।
জানি না কোন্‌ মায়ায় ফেঁদে
বিশ্বের ধন রাখব বেঁধে
আমার এ ক্ষীণ বাহু দুটির আড়ালে।’

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শিশু হতে সংগ্রহীত)

Janmokatha (The Beginning)
Translated by the poet himself

‘Where have I come from, where did you pick me up?’ the baby asked its mother.
She answered half crying, half laughing, and clasping the baby to her breast,-
‘You were hidden in my heart as its desire, my darling.
You were in the dolls of my childhood’s games; and when with clay
I made the image of my god every morning, I made and unmade you then.
You were enshrined with our household deity, in his worship I worshipped you.
In all my hopes and my loves, in my life, in the life of my mother you have lived.
In the lap of the deathless Spirit who rules our home you have been nursed for ages.
When in girlhood my heart was opening its petals, you hovered as
a fragrance about it
Your tender softness bloomed in my youthful limbs, like a glow in
the sky before the sunrise.
Heaven’s first darling, twin-born with the morning light, you have floated
down the stream of the world’s life, and at last you have stranded on my heart.
As I gaze on your face, mystery overwhelms me; you who belong to
all have become mine.
For fear of losing you I hold you tight to my breast.
What magic has snared the world’s treasure in these slender arms of mine?’

– Rabindranath Thakur (Collected from The Crescent Moon)

গল্প ১০৯ – ফেলুদা – কৈলাস চৌধুরীর পাথর / Galpo 109 – Feluda – Kailash Chowdhury’r Pathor (Kailash Chowdhury’s Jewel)

Satyajit Ray-Feluda-Kailash Chowdhury'r Pathar

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Kailash Chowdhury’r Pathar

ফেলুদার গল্প – কৈলাস চৌধুরীর পাথর – সত্যজিৎ রায়

এবার ফেলুদার প্রথম দিককার একটি গল্প। ফেলুদার অন্যান্য গল্পের তুলনায় কৈলাস চৌধুরীর পাথর কে বেশ গতানুগতিকই বলা চলে – রহস্যটির শুরু হয় কলকাতার কোন এক বনেদি চৌধুরীবাড়িতে একটি হুমকি চিঠি আসার পর থেকে। ততদিনে গোয়েন্দা হিসেবে বেশ খ্যাতি রটে যাওয়াতে ফেলুদার সেই বাড়ি থেকে তলব আসে, আর প্রাথমিক তদন্তে ফেলুদা জানতে পারে যে চৌধুরী পরিবারের বেশ মূল্যবান একটি সম্পদ আছে, যার উপর রহস্যময় হুমকিদাতার নজর থাকতে পারে। ফেলুদাও সেই সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে, যদিও অচিরেই তাঁর কাছে এটুকু স্পষ্ট হয়ে যায় যে ব্যাপারটি আপাতদৃষ্টিতে দেখতে যেমন, আসলে তার চাইতে অনেক বেশি গোলমেলে।

পাঠকেরা যদি নিজেরাই গোয়েন্দাগিরী করতে চান, তবে তাদের জন্যে সূত্র হিসেবে একটি শব্দ তুলে দেই – ‘নকল’। : )

Feluda’s Stories – Kailash Chowdhury’r Pathor (Kailash Chowdhury’s Jewel) – Satyajit Ray

This time, one of Feluda’s earlier exploits – Kailash Chowdhury’r Pathor (Kailash Chowdhury’s Jewel) starts with our favorite sleuth already quite famous, something that earns him a call from one of the more respected families in the city. The patriarch of the family, Mr. Kailash Chowdhury, had recently received an anonymous threat letter, and asks Feluda to investigate who might be behind it. Upon questioning his newly acquired client, Feluda learns that the Chowdhury family happens to have a rather expensive jewel, a blue beryl, that the letter-writer might be wanting to extort, and decides to investigate on that assumption. Soon, however, things take a stranger turn, and Feluda Starts to think that he might have been wrong from the very beginning…

In a way of teasing the reader, here is a one word clue – ‘fake’. Enjoy : )

কবিতা ৫৭ – চিত্ত যেথা ভয়শূন্য / Poem 57 – Chitto Jetha Bhayshunyo (Where the Mind is Without Fear)

Rabindranath Thakur-Chitto Jetha 2

(সম্পাদিত ছবিটির অনিন্দ্যসুন্দর আদি প্রতিরূপটি তুলেছেন জুবায়ের বিন ইকবাল / The original version of this beautiful photo was taken by Zubair bin Iqbal.)

অনেক দিন ধরেই রবিঠাকুরের চিত্ত যেথা ভয়শূন্য কবিতাটি আপলোড করব ভাবছিলাম, কিন্তু করব করব করে এতদিন করা হয়নি। আজ কবিতাটির কথা মনে পড়ায় ইন্টারনেট ঘাঁটতে ঘাঁটতে উপরের এই সুন্দর ছবিটি চোখে পড়ে গিয়ে পংক্তিগুলোর  সাথে জুড়ে দিতেই হল। আলোর পথের যাত্রী… কবিতাটির সাথে বেশ মানিয়ে যায়, না?

এই ওয়েবসাইটের পাঠকদের মধ্যে যারা তরুণ বাংলাদেশি, ‘ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত’ দিয়ে শেষ হওয়া কবিতাটি হয়তো তাদের কাছে বেমানান মনে হতে পারে। রবিঠাকুর যে সময় কবিতাটি লেখেন, তখন ভারতীয় জাতীয়তাবোধের তুলনায় ‘বাংলাদেশ’ এর ধারণাটি ছিল নেহাতই সুপ্ত, তাই সেটি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কবিতাটির ভাবার্থটুকু – সীমান্তের এপার আর ওপার বাংলার সবটুকুই যখন কুসংস্কার, দুর্নীতি আর ধর্মের অপব্যাখ্যার অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন জগৎপিতার কাছে দেশের জন্যে বাঙ্গালীর এর চাইতে সারপূর্ণ প্রার্থনা আর কি হতে পারে? তাই আজ এটি তুলে দেওয়া।

This time, a poem I have been murmuring to myself for a while. Chitto Jetha Bhayshunyo (Where the Mind is Without Fear) should perhaps be the prayer of every patriot for his or her country – and maybe more so for every Bangalee. In a time when communalism, corruption and bigotry reign across nations, these are lines worthy of keeping in your heart.

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি,
যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে
উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে
দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়–
যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,
পৌরুষেরে করে নি শতধা; নিত্য যেথা
তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা–
নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ,
ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (নৈবেদ্য  হতে সংগ্রহীত)

Chitto Jetha Bhayshunyo (Where the mind is without fear)
(Translated by the poet himself)

Where the mind is without fear and the head is held high
Where knowledge is free
Where the world has not been broken up into fragments
By narrow domestic walls
Where words come out from the depth of truth
Where tireless striving stretches its arms towards perfection
Where the clear stream of reason has not lost its way
Into the dreary desert sand of dead habit
Where the mind is led forward by thee
Into ever-widening thought and action
Into that heaven of freedom, my Father, let my country awake.

– Rabindranath Thakur (Collected from Naivedya)

কবিতা ৫৬ – মনে পড়া / Poem 56 – Mone Pora (I Cannot Remember My Mother)

Rabindranath Thakur-Ma Ke Amar

আজ রবিঠাকুরের আরেকটি কবিতা – পৃথিবীর অগোচরে একাকী মুহূর্তগুলোতে বয়সের মুখোশটা খুলে পড়ে ভিতরের ছোট্ট খোকা/খুকিটি যখন বেরিয়ে আসতে চায়, সেই মুহূর্তগুলোর জন্য।

A poem by Rabindranath Thakur, for the moments when it feels as if the little boys and girls within us have been made to grow up much sooner than they would have liked.

মনে পড়া 

মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু কখন খেলতে গিয়ে
হঠাৎ অকারণে
একটা কী সুর গুনগুনিয়ে
কানে আমার বাজে,
মায়ের কথা মিলায় যেন
আমার খেলার মাঝে।
মা বুঝি গান গাইত, আমার
দোলনা ঠেলে ঠেলে;
মা গিয়েছে, যেতে যেতে
গানটি গেছে ফেলে।
মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু যখন আশ্বিনেতে
ভোরে শিউলিবনে
শিশির-ভেজা হাওয়া বেয়ে
ফুলের গন্ধ আসে,
তখন কেন মায়ের কথা
আমার মনে ভাসে?
কবে বুঝি আনত মা সেই
ফুলের সাজি বয়ে,
পুজোর গন্ধ আসে যে তাই
মায়ের গন্ধ হয়ে।
মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু যখন বসি গিয়ে
শোবার ঘরের কোণে;
জানলা থেকে তাকাই দূরে
নীল আকাশের দিকে
মনে হয়, মা আমার পানে
চাইছে অনিমিখে।
কোলের ‘পরে ধরে কবে
দেখত আমায় চেয়ে,
সেই চাউনি রেখে গেছে
সারা আকাশ ছেয়ে।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শিশু ভোলানাথ  হতে সংগ্রহীত)

Mone Pora (I Cannot Remember My Mother)
(Translated by the poet himself)

I cannot remember my mother,
only sometime in the midst of my play
a tune seems to hover over my playthings,
the tune of some song that she used to hum
while rocking my cradle.
I cannot remember my mother,
but when in the early autumn morning
the smell of the shiuli flowers floats in the air,
the scent of the morning service in the temple
comes to me as the scent of my mother.
I cannot remember my mother,
only when from my bedroom window I send my eyes
into the blue of the distant sky,
I feel that the stillness of my mother’s gaze on my face
has spread all over the sky.

– Rabindranath Thakur (Collected from Shishu Bholanath)

কবিতা ৫৫ – কথা ছিল এক-তরীতে / Poem 55 – Katha Chhilo Ek Tori Te (It Was Whispered)

Rabindranath Thakur-Katha Chhilo Ek Tori Te (1)

সাহিত্যালাপের নামে পাঠকদের উপর যা চাপিয়ে দেই, তার অনেকটুকুই যে ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের বহিঃপ্রকাশ, এই সাইটে তা আমি স্বীকার করেছি আগেই। সম্প্রতি অবশ্য সেটিকেও ছাড়িয়ে আপলোডগুলোতে অতীত জীবনের দিনলিপীর পাতাগুলোই উঠে এসেছে বেশি। জানিনা কেন, তবে ফেলে আসা দিনগুলির কথা মনে পড়া কি খুব দোষের? আজ তাই পুরোনো স্মৃতি-জাগানো আরেকটি কবিতা – অপেক্ষা নিয়ে।

Of late, the choice of poems on this website has more been a reflection of the feelings than literary bias at this end. Perhaps that is because of how sobering it has been to get an inkling of the range and depth of human feelings – if only that wisdom and sadness did not go hand in hand! The realization of how much more there still is to learn and grow can be a bit overwhelming sometimes – but it also teaches one to be loving and kind, perhaps to a fault, but for some of us, that is the best we can ever hope to be.

Katha Chhilo Ek Tori Te (It Was Whispered) is a poem about waiting – expressed with a tenderness and sincere longing that perhaps only Rabindranath Thakur could. If you have ever waited  in earnest for someone, or will be returning to someone who has, then this poem is for you.

কথা ছিল এক-তরীতে

কথা ছিল এক-তরীতে কেবল তুমি আমি
যাব   অকারণে ভেসে কেবল ভেসে,
ত্রিভুবনে জানবে না কেউ আমরা তীর্থগামী
কোথায়   যেতেছি কোন্‌ দেশে সে কোন্‌ দেশে।
কূলহারা সেই সমুদ্র-মাঝখানে
শোনাব গান একলা তোমার কানে,
ঢেউয়ের মতন ভাষা-বাঁধন-হারা
আমার   সেই রাগিণী শুনবে নীরব হেসে।

           আজো সময়  হয় নি কি তার, কাজ কি আছে বাকি।
ওগো  ওই-যে সন্ধ্যা নামে সাগরতীরে।
মলিন আলোয় পাখা মেলে সিন্ধুপারের পাখি
আপন   কুলায়-মাঝে সবাই এল ফিরে।
কখন তুমি আসবে ঘাটের ‘পরে
বাঁধনটুকু কেটে দেবার তরে।
অস্তরবির শেষ আলোটির মতো
তরী   নিশীথমাঝে যাবে নিরুদ্দেশে।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গীতাঞ্জলী  হতে সংগ্রহীত)

Katha Chhilo Ek Tori Te (It Was Whispered)
(Translated by the poet himself)

Early in the day it was whispered
that we should sail in a boat, only thou and I,
and never a soul in the world would know of this
our pilgrimage to no country and to no end.

In that shoreless ocean,
at thy silently listening smile
my songs would swell in melodies,
free as waves, free from all bondage of words.

Is the time not come yet?
Are there works still to do?
Lo, the evening has come down upon the shore
and in the fading light
the seabirds come flying to their nests.

Who knows when the chains will be off,
and the boat, like the last glimmer of sunset,
vanish into the night?

– Rabindranath Thakur (Collected from Gitanjali)

কবিতা ৫৪ – প্রশ্নের অতীত / Poem 54 – Proshner Ateet (Questions and Silence)

Rabindranath Thakur-Proshner Ateet

আজ অনন্ত প্রশ্নের জবাবে অনন্ত নীরবতা নিয়ে একটি অণুকাব্য – প্রশ্নের অতীত – রবিঠাকুরের কলমে।

On questions and silences, a beautiful metaphor by Rabindranath Thakur.

প্রশ্নের অতীত (Questions and Silence)

  হে সমুদ্র, চিরকাল কী তোমার ভাষা
সমুদ্র কহিল, মোর অনন্ত জিজ্ঞাসা।
কিসের স্তব্ধতা তব ওগো গিরিবর?
হিমাদ্রি কহিল, মোর চির-নিরুত্তর।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (কণিকা হতে সংগ্রহীত)

“What language is thine o sea?”
“The language of eternal question.”
“What language is thine, o sky?”
“The language of eternal silence.”

– Rabindranath Thakur (Collected from Stray Birds)

 

কবিতা ৫৩ – মানুষ / Poem 53 – Manush (Man)

Nazrul Islam-Manush

আজ নজরুলের একটি মানবতাবাদী কবিতা – মানুষ। আজকের এই সময়ে, যখন ধার্মিকেরা অধার্মিক আর রক্ষকেরা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ, তখন কবিতাটির পংক্তিগুলো আরো বেশি সত্যি হয়ে উঠেছে, তাই আজ লেখাটি তুলে দেওয়া। মানুষ নজরুল রচনা করেছিলেন তাঁর সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে প্রতিবাদী পর্যায়ে, আর কবিতাটির পংক্তিগুলোতে তাই আমরা তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরসোচ্চার ও আর মানবতাবাদের উপর অটল বিশ্বাসী রূপটিকে দেখতে পাই। সমাজের উচ্চবিত্ত আর ধর্মের বস্ত্রধারি শঠরা নজরুলের কলমের কাছে কখনোই ছাড় পায়নি – মানুষ  তারই একটি অগ্নিতুল্য নিদর্শন, আর তারই সাথে নজরুলের বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি – যে “মানুষের চেয়ে … নহে কিছু মহীয়ান”।

Today, a poem that is all thunder and rage at the hypocrisy of the rich and the pious, and fittingly, by that fireball of a man, the Rebel Poet, Nazrul Islam. Manush (Man) was written by Nazrul when he was at the boldest phase of his literary career, and in accordance, it seethes at the injustice that is meted out to the downtrodden of our society by the rich the the pious. At his most passionate, Nazrul spares not even the religious leaders, and justly so, as religion to them is merely a means to benefit from the oppressive status quo. In essence, however, Manush remains a humanist poem in which the poet finds the best of humanity, and depending on whom you  ask, God himself, in the hardworking poor among us.

মানুষ

গাহি সাম্যের গান–
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান ,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি ।
‘পুজারী, দুয়ার খোল,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পুজার সময় হলো !’
স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়
দেবতার বরে আজ রাজা- টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয় !
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনা তো সাত দিন !’
সহসা বন্ধ হল মন্দির , ভুখারী ফিরিয়া চলে
তিমির রাত্রি পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে !
ভুখারী ফুকারি’ কয়,
‘ঐ মন্দির পুজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয় !’
মসজিদে কাল শিরনী আছিল, অঢেল গোস্ত রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি !
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে-আজারির চিন্
বলে, ‘বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন !’
তেরিয়াঁ হইয়া হাঁকিল মোল্লা–”ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,
ভুখা আছ মর গে-ভাগাড়ে গিয়ে ! নামাজ পড়িস বেটা ?”
ভুখারী কহিল, ‘না বাবা !’ মোল্লা হাঁকিল- ‘তা হলে শালা
সোজা পথ দেখ !’ গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা !
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
চলিতে চলিতে বলে–
“আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তেমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করোনি প্রভু !
তব মজসিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবী !”
কোথা চেঙ্গিস, গজনী-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড় ;
ভেঙ্গে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া- দ্বার !
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায় কে দেয় সেখানে তালা ?
সব দ্বার এর খোলা র’বে, চালা হাতুড়ি শাবল চালা !
হায় রে ভজনালয়
তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয় !
মানুষেরে ঘৃণা করি
ও’ কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে ।
পুজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল !–মুর্খরা সব শোনো
মানুষ এনেছে গ্রন্থ,–গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো ।
আদম দাউদ ঈসা মুসা ইব্রাহিম মোহাম্মদ
কৃষ্ণ বুদ্ধ নানক কবীর,-বিশ্বের সম্পদ,
আমাদেরি এরা পিতা পিতামহ, এই আমাদের মাঝে
তাঁদেরি রক্ত কম-বেশী করে প্রতি ধমনীতে বাজে !
আমরা তাঁদেরি সন্তান , জ্ঞাতি, তাঁদেরি মতন দেহ
কে জানে কখন মোরাও অমনি হয়ে যেতে পারি কেহ ।
হেস না বন্ধু ! আমার আমি সে কত অতল অসীম
আমিই কি জানি কে জানে কে আছে আমাতে মহামহিম।
হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি, তোমাতে মেহেদি ঈসা,
কে জানে কাহার অন্ত ও আদি, কে পায় কাহার দিশা ?
কাহারে করিছ ঘৃণা তুমি ভাই, কাহারে মারিছ লাথি ?
হয়তো উহারই বুকে ভগবান জাগিছেন দিবারাতি !
অথবা হয়ত কিছুই নহে সে, মহান উচ্চ নহে,
আছে ক্লেদাক্ত ক্ষত-বিক্ষত পড়িয়া দুঃখ–দহে,
তবু জগতের যত পবিত্র গ্রন্থ ভজানালয়
ঐ একখানি ক্ষুদ্র দেহের সম পবিত্র নয় !
হয়ত ইহারি ঔরসে ভাই ইহারই কুটীর-বাসে
জন্মিছে কেহ-জোড়া নাই যার জগতের ইতিহাসে !
যে বাণী আজিও শোনেনি জগৎ, যে মহাশক্তিধরে
আজিও বিশ্ব দেখেনি–হয়ত আসিছে সে এরই ঘরে !
ও কে ? চন্ডাল ? চমকাও কেন ? নহে ও ঘৃণ্য জীব !
ওই হতে পারে হরিশচন্দ্র, ওই শ্মশানের শিব।
আজ চন্ডাল, কাল হতে পারে মহাযোগী-সম্রাট,
তুমি কাল তারে অর্ঘ্য দানিবে, করিবে নান্দী পাঠ ।
রাখাল বলিয়া কারে কর হেলা, ও-হেলা কাহারে বাজে !
হয়ত গোপনে ব্রজের গোপাল এসেছে রাখাল সাজে !
চাষা বলে কর ঘৃণা !
দেখো চাষা রুপে লুকায়ে জনক বলরাম এলো কি না !
যত নবী ছিল মেষের রাখাল, তারও ধরিল হাল
তারাই আনিল অমর বাণী–যা আছে র’বে চিরকাল ।
দ্বারে গালি খেয়ে ফিরে যায় নিতি ভিখারী ও ভিখারিনী,
তারি মাঝে কবে এলো ভোলা-নাথ গিরিজায়া, তা কি চিনি !
তোমার ভোগের হ্রাস হয় পাছে ভিক্ষা-মুষ্টি দিলে
দ্বার দিয়ে তাই মার দিয়ে তুমি দেবতারে খেদাইলৈ ।
সে মোর রহিল জমা –
কে জানে তোমারে লাঞ্ছিতা দেবী করিয়াছে কিনা ক্ষমা !
বন্ধু, তোমার বুক-ভরা লোভ দু’চোখ স্বার্থ ঠুলি,
নতুবা দেখিতে, তোমারে সেবিতে দেবতা হয়েছে কুলী ।
মানুষের বুকে যেটুকু দেবতা, বেদনা মথিত সুধা
তাই লুটে তুমি খাবে পশু ? তুমি তা দিয়ে মিটাবে ক্ষুধা ?
তোমার ক্ষুধার আহার তোমার মন্দোদরীই জানে
তোমার মৃত্যু-বাণ আছে তব প্রাসাদের কোনখানে !
তোমারি কামনা-রাণী
যুগে যুগে পশু ফেলেছে তোমায় মৃত্যু বিবরে টানি ।

– কাজী নজরুল ইসলাম

কবিতা ৫২ – সোনার তরী / Poem 52 – Sonar Tori (The Golden Boat)

rabindranath-thakur-sonar-tori

একটি কবিতার অর্থ কবির একান্তই নিজের থাকে ততক্ষণই, যতক্ষণ সেটি একান্তই তার মনে ভাবনা হয়ে কিংবা অন্যের অগোচরে লেখা হয়ে রয়। যেই মুহূর্তে পৃথিবীর কাছে সেটি উন্মুক্ত হয়ে যায়, সেই মালিকানাটুকু যায় হারিয়ে, আর পাঠকের মনের প্রতিফলনের সাথে মিশে গিয়ে কবিতার আদি অর্থটুকু এক একটি হৃদয়ে এক একটি নতুন রূপ লাভ করে। আর সেইসব অর্থের ভীড়ে কবির মনের কথাটুকু হয়তো হারিয়েই যায়… আমরা কি তা জানতে পারি কখনো?

এই অনাবশ্যক ভণিতাটুকুর কারণ এই, যে রবিঠাকুরের সোনার তরী  নিয়ে কিছুদিন আগে এক বন্ধুর সাথে খানিকটা আলোচনা হয়েছিল। বন্ধুর মতে, কবিতাটি সমাজ কেমন করে একজন মানুষের অবদানটুকু গ্রহণ করে তাকে শূন্য করে ফেলে রেখে যায়, তা নিয়ে। মানুষের মাঝে মহীরুহসম রবীন্দ্রনাথ যে একাকীত্ব থেকে তেমনটা অনুভব করে লিখবেন, তা অস্বাভাবিক নয়। আমার অবশ্য কবিতাটির আক্ষরিক অর্থ করতে ইচ্ছে করে… এমন সুন্দর এই কবিতাটির মাঝে নিজের প্রতিবিম্ব খুঁজতে চাওয়াটুকু কি খুব দোষের।

Although he writes his poems on his own, the poet holds ownership of the meaning only as long as the lines are kept away from the reader. The moment his work is read, that ownership is lost to others, who reflect themselves onto the lines to create new meanings without ever realizing what the poet had wanted to say. But then again, perhaps it is those inherent mutations which makes this world so rich with meaning… as a reader, do you feel the same way?

A few days ago, I was talking with a friend when our conversation meandered to Rabindranath Thakur’s Sonar Tori (The Golden Boat). My friend was of the opinion that the poem speaks of how society gladly accepts the contributions of man, but seldom the man who has emptied himself for her sake. Perhaps Rabindranath, the titan that he was among men, felt the loneliness that my friend inferred in his lines; after all, it was the sage himself who wrote –

The grass seeks her crowd in the earth
The tree seeks his solitude of the sky.
(Collected from Stray Birds)

Given my penchant for literal interpretations, however, I read the poem very differently – it is hard not to, when the interpretation falls so in line with feelings at this end.

English translations, the first by the Kabiguru himself, and a second by the eminent Bangla scholar William Radice, are included below.

সোনার তরী

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

      একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা–
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।

      গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে,
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
ভরা-পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু-ধারে–
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।

ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্‌ বিদেশে,
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
যারে খুশি তারে দাও,
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।

      যত চাও তত লও তরণী-‘পরে।
আর আছে?– আর নাই, দিয়েছি ভরে।
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে–
এখন আমারে লহ করুণা করে।

      ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই– ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি–
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (সোনার তরী  হতে সংগ্রহীত)

Sonar Tori (The Golden Boat)
(Version 1: Translated by the poet himself, taken from The Fugitive)

The rain fell fast. The river rushed and hissed. It licked up and swallowed the island, while I waited alone on the lessening bank with my sheaves of corn in a heap.

From the shadows of the opposite shore the boat crosses with a woman at the helm.
I cry to her, ‘Come to my island coiled round with hungry water, and take away my year’s harvest.’

She comes, and takes all that I have to the last grain; I ask her to take me.
But she says, ‘No’-the boat is laden with my gift and no room is left for me.

(Version 2: Translated by William Radice)

Clouds rumbling in the sky; teeming rain.
I sit on the river bank, sad and alone.
The sheaves lie gathered, harvest has ended,
The river is swollen and fierce in its flow.
As we cut the paddy it started to rain.

One small paddy-field, no one but me –
Flood-waters twisting and swirling everywhere.
Trees on the far bank; smear shadows like ink
On a village painted on deep morning grey.
On this side a paddy-field, no one but me.

Who is this, steering close to the shore
Singing? I feel that she is someone I know.
The sails are filled wide, she gazes ahead,
Waves break helplessly against the boat each side.
I watch and feel I have seen her face before.

Oh to what foreign land do you sail?
Come to the bank and moor your boat for a while.
Go where you want to, give where you care to,
But come to the bank a moment, show your smile –
Take away my golden paddy when you sail.

Take it, take as much as you can load.
Is there more? No, none, I have put it aboard.
My intense labour here by the river –
I have parted with it all, layer upon layer;
Now take me as well, be kind, take me aboard.

No room, no room, the boat is too small.
Loaded with my gold paddy, the boat is full.
Across the rain-sky clouds heave to and fro,
On the bare river-bank, I remain alone –
What had has gone: the golden boat took all.

– Rabindranath Thakur

কবিতা ৫১ – তোমার ন্যায়ের দন্ড / Poem 51 – Tomar Nyayer Dando (Your Mace of Justice)

Rabindranath Thakur-Tomar Nyayer Dando 1

শান্তিপ্রিয়তার অজুহাতে ভাল আর খারাপের মধ্যবর্তী পথ বেছে নেওয়াটাই যেখানে আজ আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতিকে মনে রেখে আজ তাকে উদ্দেশ্য করে একটি কবিতা। এড়িয়ে যেতে যেতে ন্যায় আর অন্যায়ের পার্থক্যটুকু আমরা ভুলে গেছি অনেক আগেই, তবু পাছে কারো তা মনে পড়ে, আর সঠিক পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তাঁর একটি সংকল্পের প্রয়োজন হয়, সেজন্যেতোমার ন্যায়ের দন্ড – রবিঠাকুরের কলমে।

When society takes the convenient middle-path between the right and the wrong for too long, that only fosters some of its ills all-consuming forms. If you are a Bangalee, you will perhaps know what I speak of. And if you do, and if you have ever hesitated on choosing sides despite that realization, here is a resolution – beautifully written by Thakur – to keep in your heart. A crude translation inspired by a (cited) source is included below.

তোমার ন্যায়ের দন্ড

তোমার ন্যায়ের দন্ড প্রত্যেকের করে
অর্পণ করেছ নিজে। প্রত্যেকের ‘পরে
দিয়েছ শাসনভার হে রাজাধিরাজ।
সে গুরু সম্মান তব সে দুরূহ কাজ
নমিয়া তোমারে যেন শিরোধার্য করি
সবিনয়ে। তব কার্যে যেন নাহি ডরি
কভু কারে। ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা,
হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা
তোমার আদেশে। যেন রসনায় মম
সত্যবাক্য ঝলি উঠে খরখড়গসম
তোমার ইঙ্গিতে। যেন রাখি তব মান
তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজস্থান।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (নৈবেদ্য  হতে সংগ্রহিত)

Tomar Nyayer Dando (Your Mace of Justice)
Translation based off an original by Dilip Mitra

Your mace of justice You bestow upon Man
On the judge’s seat, You grant me this place
And to rule from it You have commanded, o Lord.
May I uphold your glory, with justness and grace.

This granted honour, this onerous task,
I pray to You that I perform,
With head bowed and a reverent heart,
And without fear, uphold Your norm.

Where mercy is a flaw, if You sound
May my ruthlessness know no bound
And at Your gesture, through my voice
May truth strike falsehood down to ground.

He who commits wrong or condones the same,
May your contempt singe like a reed in flame.

– Rabindranath Thakur

কবিতা ৫০ – আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই / Poem 50 – Amar Gharete Aar Nai She Je Nai (Brink of Eternity)

Rabindranath Thakur-Amar Gharete Ar Nai

আজ পাঠকদের জন্যে নীলচে একটি কবিতা। হারানো কোন প্রিয়জনকে নিয়ে বিরহ, আর তাঁকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খা যে কতটুকু তীব্র হতে পারে, রবীন্দ্রনাথের আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই  কবিতাটিতে তা ব্যাকুলরূপে প্রতিমূর্ত হয়ে উঠেছে। স্থান ও কালের যে অসীমতাকে আমরা ঈশ্বরের একটি রূপ বলে জানি, বিলীন হয়ে যাওয়া সমস্ত কিছুর ঠাঁই তো তারই মাঝে হয়। প্রিয়জনের খোঁজে ক্লান্ত আর পরাজিত মনটির যদি ঈশ্বরের কাছে শেষ আর্তি বলে কিছু থেকে থাকে, তবে তা সেই অসীমতায় হারিয়ে গিয়ে সেই হারানো জনের সাথে একাকার হয়ে যেতে চাওয়া ছাড়া আর কি হতে পারে? পাঠকদের মাঝে যদি কেউ প্রবল আবেগ দিয়ে কাউকে ভালবেসে থাকেন, তিনি জানবেন হয়তো।

Today, a heartbreakingly beautiful poem for your contemplation: in Amar Gharete Aar Nai She Je Nai (Brink of Eternity), Rabindranath Thakur inks his longing for a beloved someone into lines so profound that they leave us awestruck at the infinitude of Creation and the intensity of human feeling. Yearning for someone he has lost, Thakur knows that his search for her is only in vain, so standing on the brink of the Eternal and the Infinite – where all that was exists forever – he tearfully asks God to immerse him in that eternity… wishing nothing more than to feel, for once, her “lost sweet touch in the allness of the Universe”.

Finding words that give voice to a overwhelming love and longing may give solace to those who know the feeling. If you have ever felt anything close, this poem is for you.

আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই

আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই–
যাই আর ফিরে আসি, খুঁজিয়া না পাই।
আমার ঘরেতে নাথ, এইটুকু স্থান–
সেথা হতে যা হারায় মেলে না সন্ধান।
অনন্ত তোমার গৃহ, বিশ্বময় ধাম,
হে নাথ, খুঁজিতে তারে সেথা আসিলাম।
দাঁড়ালেম তব সন্ধ্যা-গগনের তলে,
চাহিলাম তোমা-পানে নয়নের জলে।
কোনো মুখ, কোনো সুখ, আশাতৃষা কোনো
যেথা হতে হারাইতে পারে না কখনো,
সেথায় এনেছি মোর পীড়িত এ হিয়া–
দাও তারে, দাও তারে, দাও ডুবাইয়া।
ঘরে মোর নাহি আর যে অমৃতরস
বিশ্ব-মাঝে পাই সেই হারানো পরশ।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (গীতাঞ্জলী হতে সংগ্রহিত)

Brink of Eternity
(Translated by the Poet himself)

In desperate hope I go
and search for her
in all the corners of my room;
I find her not.

My house is small and
what once has gone from it
can never be regained.

But infinite is thy mansion,
my lord, and seeking her
I have to come to thy door.

I stand under the golden canopy
of thine evening sky and
I lift my eager eyes to thy face.

I have come to the brink of eternity
from which nothing can vanish —
no hope, no happiness,
no vision of a face seen through tears.

Oh, dip my emptied life
into that ocean, plunge it
into the deepest fullness.
Let me for once feel that
lost sweet touch
in the allness of the universe.

– Rabindranath Thakur (Collected from Gitanjali)

কবিতা ৪৯ – ব্যাকুল / Poem 49 – Byakul (The Wicked Postman)

Rabindranath Thakur-Byakul

চিরস্তব্ধ হয়ে যাওয়া কোন বাবার হয়ে তার অবুঝ শিশুর চিঠি লিখে মাকে প্রবোধ দিতে চাওয়ার চাইতে করুণ কিছু বোধহয় এই পৃথিবীতে খুব কমই আছে। আজ তা নিয়েই মন খারাপ করা একটি কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যাকুল

There are few things sadder on earth than a little child trying to console a mother who has gone numb at the loss of her husband. In Rabindranath Thakur’s Byakul (The Wicked Postman), a little boy tells her mother that he will write her all the letters that father does not write to her any more, with a heartbreaking innocence and sincerity that is bound to touch the reader.

ব্যাকুল

অমন করে আছিস কেন মা গো,
খোকারে তোর কোলে নিবি না গো?
পা ছড়িয়ে ঘরের কোণে
কী যে ভাবিস আপন মনে,
এখনো তোর হয় নি তো চুল বাঁধা।
বৃষ্টিতে যায় মাথা ভিজে,
জানলা খুলে দেখিস কী যে —
কাপড়ে যে লাগবে ধুলোকাদা।
ওই তো গেল চারটে বেজে,
ছুটি হল ইস্কুলে যে —
দাদা আসবে মনে নেইকো সিটি।
বেলা অম্‌নি গেল বয়ে,
কেন আছিস অমন হয়ে —
আজকে বুঝি পাস নি বাবার চিঠি।
পেয়াদাটা ঝুলির থেকে
সবার চিঠি গেল রেখে —
বাবার চিঠি রোজ কেন সে দেয় না?
পড়বে ব’লে আপনি রাখে,
যায় সে চলে ঝুলি-কাঁখে,
পেয়াদাটা ভারি দুষ্টু স্যায়না।
মা গো মা, তুই আমার কথা শোন্‌,
ভাবিস নে মা, অমন সারা ক্ষণ।
কালকে যখন হাটের বারে
বাজার করতে যাবে পারে
কাগজ কলম আনতে বলিস ঝিকে।
দেখো ভুল করব না কোনো —
ক খ থেকে মূর্ধন্য ণ
বাবার চিঠি আমিই দেব লিখে।
কেন মা, তুই হাসিস কেন।
বাবার মতো আমি যেন
অমন ভালো লিখতে পারি নেকো,
লাইন কেটে মোটা মোটা
বড়ো বড়ো গোটা গোটা
লিখব যখন তখন তুমি দেখো।
চিঠি লেখা হলে পরে
বাবার মতো বুদ্ধি ক’রে
ভাবছ দেব ঝুলির মধ্যে ফেলে?
কক্‌খনো না, আপনি নিয়ে
যাব তোমায় পড়িয়ে দিয়ে,
ভালো চিঠি দেয় না ওরা পেলে।

– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (শিশু হতে সংগ্রহীত)

Byakul (The Wicked Postman)
(Translation by the poet himself)

Why do you sit there on the floor so quiet and silent, tell me, mother dear?
The rain is coming in through the open window, making you all wet, and you don’t mind it.
Do you hear the gong striking four? It is time for my brother to come home from school.
What has happened to you that you look so strange?
Haven’t you got a letter from father today?
I saw the postman bringing letters in his bag for almost everybody in the town.
Only, father’s letters he keeps to read himself. I am sure the postman is a wicked man.
But don’t be unhappy about that, mother dear.
To-morrow is market day in the next village. You ask your maid to
buy some pens and papers.
I myself will write all father’s letters; you will not find a single mistake.
I shall write from A right up to K.
But, mother, why do you smile?
You don’t believe that I can write as nicely as father does!
But I shall rule my paper carefully, and write all the letters beautifully big.
When I finish my writing, do you think I shall be so foolish as father and drop it into the horrid postman’s bag?
I shall bring it to you myself without waiting, and letter by letter help you to read my writing.
I know the postman does not like to give you the really nice letters.

– Rabindranath Thakur (Collected from Shishu)

গল্প ১০৭ – অপরাজিত / Story 107 – Aparajito (The Unvanquished)

 

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aparajito 2

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aparajito

অপরাজিত – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গত বছর পাঠকদের জন্যে এই সাইটে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি পথের পাঁচালী  আপলোড করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজ অপরাজিত , যাতে পথের পাঁচালীতে অপুর শুরু হওয়া পথচলা তার বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে এগিয়ে চলে নিতান্তই সাধারণ কোন বাঙ্গালী পুরুষের জীবনের চেনা বাঁকগুলো বেয়ে। পথের পাঁচালী যারা পড়েছেন, তাদের হয়তো মনে থাকবে যে গল্পটি শেষ হয় সদ্য-কিশোর অপুর নিজেকে পৃথিবীর সামনে একা আবিস্কার করার মধ্যে দিয়ে। অপরাজিত গল্পটির সমাপ্তিও তেমনই একটি নতুন যাত্রার সূচনায়। তবে ততদিনে অপু তার জীবন-মধ্যাহ্নে, যে কারণে আগের গল্পের সেই কাঁচা ছেলেটির চাইতে অনেক বেশি পোড় খাওয়া ও পরিণত একজন মানুষরূপে আমরা তাকে পাই। কিছু জিনিস বদলায়না অবশ্য – জীবনের শত প্রতিকূলতা আর অপর্ণা-লীলাদের চলে যাওয়ার পরেও অপু সেই আগের মতই সবুজ-মনের নিষ্পাপ মানুষটিই থাকে। সবাই কি আর তেমনি করে অপরাজিত থাকতে পারে?

কিশোর থেকে পুরুষ হয়ে ওঠার জীবনযুদ্ধে টিকে থাকা একজন মানুষের গল্প অপরাজিত। পাঠকদের অনেকেই গল্পের অপুর মাঝে নিজেকে খুঁজে পাবেন জানি, তাই আমাদেরই কারো না কারো যাপিত জীবনের হাসি-কান্না নিয়ে লেখা এই অসাধারণ উপন্যাসটি আজ তুলে দিলাম।

Aparajito (The Unvanquished) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

It has been quite a few months since I uploaded Bibhutibhushan Bandyopadhyay’s Pather Panchali (Song of the Road) on this site. This time, in a follow up to it, an absolute masterpiece of a sequel: Aparajito (The Unvanquished) takes off where Pather Panchali had left the young Apu – alone and facing this world for the first time. And in this story, the bildungsroman continues, in the same, beautifully human tone that we find in the first. Life is more real this time, though – Apu has to care for himself and his mother in a world that could not care less about his struggles, and later, for a son who is only a reflection of Apu’s younger self. And through it all, he strives to keep his dreams and ideals alive in the face of the harsh reality that surrounds him, and has to hold himself together even as the people he comes to love depart one by one. Perhaps the plot sounds familiar? It is a ‘coming of age’ story that every man lives out, after all – a most beautiful bildungsroman. I hope you will like it… and if you have ever felt like a little boy who has had to grow up all too soon, I know you will.

ছোটগল্প ১০৬ – প্রফেসর শঙ্কু ও গোলক রহস্য / Short Story 106 – Profesor Shanku – Professor Shanku O Golak Rahasya (Professor Shanku and the Mysterious Sphere)

Satyajit Ray-Professor Shanku O Golak Rahasyaপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku O Golak Rahasya

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – প্রফেসর শঙ্কু ও গোলক রহস্য – সত্যজিৎ রায়

“গিরিডিতে বেড়াবার কথা বললে উশ্রীর ধারটাই মনে হয়, কিন্তু অবিনাশবাবু দেখই চলেছেন উলটো দিকে অর্থাৎ তাঁর বাড়ির দিকে। ব্যাপার কী? কী মতলব ভদ্রলোকের?

কিছুদূর যাবার পরে অবিনাশবাবু নিজেই কারণটা বললেন – “আজ একটা খেলনা পেয়েছি। সেটা আপনাকে দেখাব।”

“খেলনা?”

“চলুন না। দেখলে আপনারও লোভ লাগবে – কিন্তু আপনাকে দেব না সেটি।”

মনে মনে বললাম – “খেলনার বয়স হয়তো আপনার থাকতে পারে – কিন্তু আমার কি আর আছে?””

আজ প্রফেসর শঙ্কুর একটি গল্প, আর পাঠকদের কৌতুহল জাগানোর জন্যে একটি ভাবনা – গোলক তো নানা মাপের হতে পারে, ক্রিকেট বলের মত ছোট… কিংবা পৃথিবীর মত বড়… কিন্তু তাদের মিল কি শুধু আকৃতিতেই? নাকি এমন কোনও মিল তাদের মধ্যে থাকতে পারে, যা আমাদের কল্পনার বাইরে?

Professor Shanku’s Stories – Professor Shanku O Golak Rahasya – Satyajit Ray

From the cricket balls we play with to the giant planets orbiting the stars, big and little spheres are what the universe is made of. But is it only their shape where their similarity ends? In this story, Professor Shanku comes across a strage sphere that vaguely reminds him of something he feels he has seen before, and when he figures out what it is, he suddenly finds himself playing God with the mysterious little sphere… and the one that we live on.

গল্প ১০৫ – ফেলুদা – কৈলাসে কেলেঙ্কারী / Story 105 – Feluda – Kailash e Kelenkari (A Killer In Kailash)


Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari 1
পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari

ফেলুদার গল্প – কৈলাসে কেলেঙ্কারী – সত্যজিৎ রায়

অনেকদিন পর এই সাইটে আবার ফেলুদা – আর এবার এমনই একটি গল্পে, যা এতদিনের বিরতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার মতই রহস্য-রোমাঞ্চে ঠাসা। ফেলুদার গল্পগুলোর বেশিরভাগই সত্যজিৎ রায় লিখেছিলেন কোন ব্যক্তিবিশেষ কিংবা পরিবারকে ঘিরে কোন রহস্যকে নিয়ে – যেমনটা আমরা পাই এবার কাণ্ড কেদারনাথে কিংবা ছিন্নমস্তার অভিশাপ এর মত গল্পগুলোতে। কৈলাসে কেলেঙ্কারী সেদিক দিয়ে একটু আলাদা – এই গল্পে ফেলুদাকে লড়তে হয় এমনই একটি চক্রের সাথে, যাদের নাগাল ভারতের প্রতিটি কোণে, আর যাদের কাছ থেকে নিজেকে ও তোপসেদের মুক্ত রাখতে প্রায় পুরো গল্পজুড়েই ফেলুদাকে থাকতে হয় আমাদের অগোচরে। পাঠকদের একটু সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্যে গল্প থেকে দুটো অনুচ্ছেদ তুলে দেই –

“কেন মুশকিল কেন?… তবে একটা কথা বলি – একটা অ্যাডভাইস, অ্যাজ এ ফ্রেন্ড – এই সব র‍্যাকেটের পেছনে মাঝে মাঝে এক একটা দল থাকে – গ্যাং – এবং তারা বেশ পাওয়ারফুল হয়। গায়ের জোর বলছি না। পয়সার জোর। পোজিশনের জোর। শিক্ষিত অবস্থাপন্ন লোকেরা যখন নোংরা কাজে নামে, তখন সাধারণ ক্রিমিনালদের চেয়ে তাদের বাগে আনা অনেক বেশি শক্ত হয়, জানেন তো?”

আর এটা ফেলুদার –

“(এটা) আরও বেশি প্রেশাস। চুনি পান্না পৃথিবীতে হাজার হাজার আছে, ভবিষ্যতে সংখ্যায় আরও বাড়বে। কিন্তু কৈলাসের মন্দির বা সাঁচির স্তূপ বা এলিফ্যান্টার গুহা – এসব একটা বই দুটো নেই। হাজার-দু হাজার বছর আগে আমাদের আর্ট যে হাইটে উঠেছিল সে হাইটে ওঠার কথা আজকের আর্টিস্ট ভাবতেই পারে না। সুতরাং সে যুগের আর্ট দেশে যা আছে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যারা তাকে নষ্ট করতে চায় তারা ক্রিমিন্যাল। আমার মতে ভূবনেশ্বরের যক্ষীকে হত্যা করা হয়েছে। যে করেছে তার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।”

অমূল্য প্রত্নসম্পদ, সঙ্ঘবদ্ধ পাচারকারী ও গোয়েন্দা প্রদোষ চন্দ্র মিত্র… তিন ‘প’তে মিলে পাঠকদের জন্যে ফেলুদার আরেকটি দুর্দান্ত গল্প – কৈলাসে কেলেঙ্কারী

Feluda’s Adventures – Kailash e Kelenkari (A Killer in Kailash)

A long break later, a Feluda upload again – and this time, a story that is certainly worth the long wait that has been for some of you. While most of Feluda’s stories were centred on mysterious families and/or individuals (Chinnamaster Abhishap and Ebar Kando Kedarnath e are cases in point) Kailash e Kelenkari (A Killer in Kailash) is a big departure from that trend – in this story, our favorite sleuth faces a syndicate that not only is pan-Indian in its reach, but also murdurous in its smuggling of ancient Indian artifacts abroad. Interestingly, unlike Feluda’s other adventures, this story is one with a somewhat nationalistic tone – a generous dose of James Bond added to the usual Holmesian narrative, if you ask me… but far from diluting the plot, that only adds to its thrill. ‘For your eyes only’, therefore, this upload. Enjoy!

Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari 2