গল্প ১০৫ – ফেলুদা – কৈলাসে কেলেঙ্কারী / Story 105 – Feluda – Kailash e Kelenkari (A Killer In Kailash)


Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari 1
পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari

ফেলুদার গল্প – কৈলাসে কেলেঙ্কারী – সত্যজিৎ রায়

অনেকদিন পর এই সাইটে আবার ফেলুদা – আর এবার এমনই একটি গল্পে, যা এতদিনের বিরতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার মতই রহস্য-রোমাঞ্চে ঠাসা। ফেলুদার গল্পগুলোর বেশিরভাগই সত্যজিৎ রায় লিখেছিলেন কোন ব্যক্তিবিশেষ কিংবা পরিবারকে ঘিরে কোন রহস্যকে নিয়ে – যেমনটা আমরা পাই এবার কাণ্ড কেদারনাথে কিংবা ছিন্নমস্তার অভিশাপ এর মত গল্পগুলোতে। কৈলাসে কেলেঙ্কারী সেদিক দিয়ে একটু আলাদা – এই গল্পে ফেলুদাকে লড়তে হয় এমনই একটি চক্রের সাথে, যাদের নাগাল ভারতের প্রতিটি কোণে, আর যাদের কাছ থেকে নিজেকে ও তোপসেদের মুক্ত রাখতে প্রায় পুরো গল্পজুড়েই ফেলুদাকে থাকতে হয় আমাদের অগোচরে। পাঠকদের একটু সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্যে গল্প থেকে দুটো অনুচ্ছেদ তুলে দেই –

“কেন মুশকিল কেন?… তবে একটা কথা বলি – একটা অ্যাডভাইস, অ্যাজ এ ফ্রেন্ড – এই সব র‍্যাকেটের পেছনে মাঝে মাঝে এক একটা দল থাকে – গ্যাং – এবং তারা বেশ পাওয়ারফুল হয়। গায়ের জোর বলছি না। পয়সার জোর। পোজিশনের জোর। শিক্ষিত অবস্থাপন্ন লোকেরা যখন নোংরা কাজে নামে, তখন সাধারণ ক্রিমিনালদের চেয়ে তাদের বাগে আনা অনেক বেশি শক্ত হয়, জানেন তো?”

আর এটা ফেলুদার –

“(এটা) আরও বেশি প্রেশাস। চুনি পান্না পৃথিবীতে হাজার হাজার আছে, ভবিষ্যতে সংখ্যায় আরও বাড়বে। কিন্তু কৈলাসের মন্দির বা সাঁচির স্তূপ বা এলিফ্যান্টার গুহা – এসব একটা বই দুটো নেই। হাজার-দু হাজার বছর আগে আমাদের আর্ট যে হাইটে উঠেছিল সে হাইটে ওঠার কথা আজকের আর্টিস্ট ভাবতেই পারে না। সুতরাং সে যুগের আর্ট দেশে যা আছে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যারা তাকে নষ্ট করতে চায় তারা ক্রিমিন্যাল। আমার মতে ভূবনেশ্বরের যক্ষীকে হত্যা করা হয়েছে। যে করেছে তার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।”

অমূল্য প্রত্নসম্পদ, সঙ্ঘবদ্ধ পাচারকারী ও গোয়েন্দা প্রদোষ চন্দ্র মিত্র… তিন ‘প’তে মিলে পাঠকদের জন্যে ফেলুদার আরেকটি দুর্দান্ত গল্প – কৈলাসে কেলেঙ্কারী

Feluda’s Adventures – Kailash e Kelenkari (A Killer in Kailash)

A long break later, a Feluda upload again – and this time, a story that is certainly worth the long wait that has been for some of you. While most of Feluda’s stories were centred on mysterious families and/or individuals (Chinnamaster Abhishap and Ebar Kando Kedarnath e are cases in point) Kailash e Kelenkari (A Killer in Kailash) is a big departure from that trend – in this story, our favorite sleuth faces a syndicate that not only is pan-Indian in its reach, but also murdurous in its smuggling of ancient Indian artifacts abroad. Interestingly, unlike Feluda’s other adventures, this story is one with a somewhat nationalistic tone – a generous dose of James Bond added to the usual Holmesian narrative, if you ask me… but far from diluting the plot, that only adds to its thrill. ‘For your eyes only’, therefore, this upload. Enjoy!

Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari 2

Advertisements

ছোটগল্প ১০৪ – প্রফেসর শঙ্কু- শঙ্কুর পরলোকচর্চা / Short Story 104 – Professor Shanku – Shankur Parolok Charcha (Souls)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Shankur Parolokcharcha

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Shankur Parolokcharcha

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – প্রফেসর শঙ্কু ও ভূত – সত্যজিৎ রায়

সত্যজিৎ রায়ের লেখায় তাঁর বিজ্ঞানমনস্কতা ও আধুনিকতা বরাবরই ফুটে উঠলেও ভৌতিকতা বা অতিপ্রাকৃতের প্রতি যে তার বেশ ঝোঁক ছিল, সেটা তার অনেক লেখা থেকেই বোঝা যায়। প্রফেসর শঙ্কুর এই গল্পটি তেমনই এক লেখা – যাতে ভূত নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে শঙ্কু আর তাঁর সহকর্মীরা ভূতের সাথে যোগাযোগ করার জন্যে ‘কম্পিউডিয়াম’ (অর্থাৎ কম্পিউটারাইজ্‌ড মিডিয়াম) নামক এক যন্ত্রের আবিষ্কার করেন। স্বাভাবিকভাবেই আবিষ্কারটির খবর চারিদিকে সাড়া ফেলে দেয়, কিন্তু তার ফলে সম্মানের চাইতে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপই শঙ্কুদের দিকে ধেয়ে আসে বেশি। বিজ্ঞানীরা অবশ্য তাতে অবিচলিতই থাকেন, আর পরলোকগতদের সাথে তাদের আলাপচারিতার ফলে ক্রমশ অনেকই অজানা তাদের জ্ঞানের পরিধির মধ্যে চলে আসে।

Professor Shanku’s Stories – Shankur Parolok Charcha (Souls) – Satyajit Ray

While Satyajit Ray’s stories are usually based on the traditional scienctific thought, many of his writings also hint at his deep fascination with the unexplained and the paranormal. In Shankur Parolokcharcha (Souls) we find that evident – in the course of their research on beings of the Afterworld, Shanku and his colleagues invent the ‘Compudium’, a ‘computerised medium’ to communicate with those who have died. When the news about the invention breaks, they are expectedly ridiculed by many, but it is what the dead have to tell which interests the scientists more.

গল্প ১০২ – ফেলুদা – বোসপুকুরে খুনখারাপি / Story 102 – Feluda – Bosepukur e Khunkharapi (Murder in Bosepukur)

Satyajit Ray-Feluda-Bosepukur e Khunkharapi (1)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Bosepukur e Khunkharapi

ফেলুদার গল্প – বোসপুকুরে খুনখারাপি – সত্যজিৎ রায়

পুনরায় ফেলুদা। বোসপুকুরের আচার্য পরিবারের তিন সন্তান – দেবনারায়ণ, হরিনারায়ণ আর ইন্দ্রনারায়ণ। প্রথম দুজন বড় চাকুরে আর পরিবারের মান অটুট রেখে চলা ভদ্রলোক হলেও ইন্দ্রনারায়ণ ছিলেন একটু অদ্ভূত – গান-বাজনা নিয়ে থাকা মানুষটি যোগ দিয়েছিলেন ভারত অপেরা নামের একটি যাত্রার দলে।  ভাইয়েরা তাকে গ্রাহ্য না করলেও নাট্যলেখক হিসেবে বেশ খ্যাতিমানই হয়ে ওঠেন তিনি – আর সেই খ্যাতিই হয়তোবা তার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার এবং তা হতে আপাতদৃষ্টিতে অনেক দূরের যাত্রার জগৎকে এক সুতোয় গাঁথা সত্যজিৎ রায়ের আরেকটি ফেলুদা রহস্যোপন্যাস – বোসপুকুরে খুনখারাপি

Feluda’s Stories – Bosepukur e Khunkharapi (Murder in Bosepukur) – Satyajit Ray

One of the more intriguing Feluda stories this time. The Acharyas of Bosepukur are a well-known family, headed by an octogenarian patriarch who has his three sons . The older two, who hold big positions, uphold the family name in the traditional sense. However, Indranarayan, the youngest, is a bit of a black-sheep, and much to his brothers’ chagrin, joins a theatre, where his fame as a writer eventually outstrips those of his snobbish siblings. But fame also creates enemies for Indranarayan, who fails to safeguard himself against them, until it is too late. A mystery that ties the tensions in an elite family with the world of Theatre, Bosepukur e Khunkharapi is a Feluda novel fit for your lazy afternoons. Enjoy!

Satyajit Ray-Feluda-Bosepukur e Khunkharapi (2)

ছোটগল্প ১০১ – প্রফেসর শঙ্কু – প্রফেসর শঙ্কু ও হাড় / Short Story 91 – Professor Shanku – Professor Shanku O Har (Bones)

Satyajit Ray-Professor Shanku O Harপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku O Har

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – প্রফেসর শঙ্কু ও হাড় – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কু ও হাড় সত্যজিতের লেখা শঙ্কুর প্রথম গল্পগুলোর একটি। আর সেসব গল্পগুলোর মত এটিতেও আমরা শঙ্কুকে ধী-স্থির ঋষিতুল্য বিজ্ঞানীর বদলে বেপরোয়া একজন হিসেবেই দেখতে পাই। তবে এই গল্পটা সেদিকটা বাদেও প্রফেসরের অন্য গল্পগুলোর চাইতে একটু আলাদা, কারণ এতে শঙ্কু বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসার বশে যা করেন, তা তাকে আমাদের চিরচেনা নীতিবান এক মানুষের বদলে একজন আত্মসাৎকারীর পর্যায়েই ফেলে দেয়।

Professor Shanku’s Stories – Professor Shanku O Har (Bones) – Satyajit Ray

Professor Shanku O Har is one of the first stories of the scientist written by Satyajit Ray, and like others of its kind, it depicts Shanku as more of a reckless scientist than the almost sage-like person we come across his later depictions. This story is different, however, for another reason: in it, Shanku’s recklessness and curiosity leads him to appropriate someone else’s property – an act that results in severe consequences.

গল্প ৯৯ – ফেলুদা – বাক্স রহস্য / Story 99 – Feluda – Baksho Rahasya (The Mystery of the Box)

Satyajit Ray-Feluda-Baksho Rahasya 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Baksho Rahasya

ফেলুদার গল্প – বাক্স রহস্য – সত্যজিৎ রায়

এই সাইটের পাঠকেরা যে ফেলুদার গল্প পড়তে এত ভালবাসে(ন), তা সাইটটির পরিসংখ্যান না ঘাটলে কি আর জানতাম? ফেলুদার যে কয়টি গল্প এর আগে পোস্ট করেছি, সেগুলোর প্রায় সবগুলোতেই ক্লিক পড়েছে অনেক, তাই সেকথা মাথায় রেখেই পাঠকদের মধ্যে যারা গোয়েন্দা-গল্পের পোকা, তাদের জন্য ফেলুদার আরেকটি গল্প তুলে দিলাম : )

ফেলুদার যত গল্প সত্যজিৎ রায় লিখেছেন, সেগুলোর মধ্যে বাক্স রহস্য  খুব সম্ভবত সবচেয়ে অভিনব। গল্পের শুরু হয় দীননাথ লাহিড়ী নামের এক বনেদি মক্কেল ফেলুদার কাছে আসা নিয়ে। ভদ্রলোক কিছুদিন আগে ট্রেনে করে দিল্লি থেকে ফিরছিলেন, আর যাত্রার সময় তার একটি বাক্স অচেনা এক যাত্রীর ঠিক একই রকম দেখতে আরেকটি বাক্সের সাথে অদল-বদল হয়ে যায়। দীননাথবাবুর বাক্সে মূল্যবান কোন জিনিস না থাকলেও অন্তত অন্য অচেনা ভদ্রলোকটি যাতে তার বাক্স ফেরত পান, সেজন্যেই তিনি ফেলুদার শরণাপন্ন হন। ব্যাপারটার অভিনবত্ব দেখে ফেলুদাও বাক্সটি ফেরত দেওয়ার দ্বায়িত্ব নিতে রাজি হয়। কিন্তু এই আপাতদৃষ্টিতে সহজ এই কাজটি করতে গিয়ে যে ফেলুদাকে শেষ পর্যন্ত তার সবচেয়ে তুখোড় প্রতিদ্বন্ধী ও একজন বেপরোয়া অপরাধীর সাথে লড়াই করতে হবে, তা কে জানত? যারা ফেলু মিত্তিরের ভক্ত, তাদের নিঃসন্দেহে এই গল্পটি ভাল লাগবে, আর যাদের এখনো ভক্ত হতে বাকি, তাদের জন্যে এটির চাইতে ভাল ঔষধ আর কি হয়? সবার জন্যে তাই বাক্স রহস্য গল্পটি তুলে দিলাম। : )

Feluda’s Stories – Baksho Rahasya (The Mystery of the Box) – Satyajit Ray

Of the stories I have posted here so far, those of Feluda seem to be the most popular among my readers. So in response to popular demand, here is another: Baksho Rahasya (The Mystery of the Box) is perhaps one of the most unusual of Feluda’s cases. The story starts with the arrival of a rich gentleman named Dinnath Lahiri at Feluda’s house. A few days earlier, Mr. Lahiri was returning by train from Delhi to Kolkata, when a box (case) he owned was mistakenly exchanged with an identical one belonging to an unknown passenger. Mr. Lahiri did not really care to get his own back, but he wanted to return the box he had to its original owner out of courtesy, so he asks for Feluda’s help. Feluda accepts the case. But the seemingly innocuous problem is to lead to more difficult and dangerous onces – an encounter with a reckless criminal, and a battle with one of the cleverest adversaries Feluda would ever come across. In my opinion, Baksho Rahasya is one of the best of Feluda’s adventures, and I hope the readers will like this as much as I did, if not more. Enjoy!

Satyajit Ray-Feluda-Baksho Rahasya 2

গল্প ৯৮ – ফেলুদা – শেয়াল দেবতা রহস্য / Story 98 – Feluda – Sheyal Debota Rahasya (The Anubis Mystery)

Satyajit Ray-Feluda-Sheyal Debota Rahasya

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Sheyal Debota Rahasya

ফেলুদার গল্প – শেয়াল দেবতা রহস্য – সত্যজিৎ রায়

শেয়াল দেবতা রহস্য ফেলুদার প্রথম দিককার গল্পগুলোর একটি। তোপসে তখনো ছোট, আর ফেলুদাকেও আমরা তাই দেখতে পাই তাঁর ক্ষুদে সহকারীর চোখ দিয়ে। তখন পূজোর ছুটি, আর ফেলুদা আর তোপসে দুজনেরই হাত-পা ঝাড়া, এমন সময় নীলমণি সান্যাল বলে এক ভদ্রলোক ফেলুদার সাথে যোগাযোগ করেন। লটারীর পয়সায় লাল হয়ে যাওয়া নীলমণিবাবুর জীবনটা বেশ নির্ঝঞ্ঝাটই ছিল, আর প্রাচীন জিনিস সংগ্রহ করা ছাড়া আর কাজও ছিলনা তার। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে তার কাছে আজগুবি ভাষায় লেখা কিছু বেনামী চিঠি আসায় তিনি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ফেলুদা চিঠিগুলো দেখে বুঝতে পারে যে সেগুলো প্রাচীন মিশরের হিয়েরোগ্লিফিক ভাষায় লেখা, আর নীলমণিবাবুকে প্রশ্ন করায় তিনি বলেন যে এক সপ্তাহ আগে এক নীলামে অদ্ভূতএকটি মূর্তি তিনি কেনেন, আর তারপর থেকেই চিঠিগুলো আসতে শুরু করে। ফেলুদা মূর্তিটা দেখেই প্রাচীন মিশরীয় দেবতা আনুবিসের বলে চিনতে পারে, কিন্তু তাঁর তখনো ধারণা ছিলনা যে চিঠিগুলো আর আনুবিসের মূর্তির রহস্যটি কোথায় গড়াতে চলেছে।

Feluda’s Stories – Sheyal Debota Rahasya (The Anubis Mystery) – Satyajit Ray

One of the earlier cases of Feluda, Sheyal Debota Rahasya (The Anubis Mystery) is one in which we see Feluda through the eyes of a much younger Topshe. The story starts during the Puja holidays, with a phone call from some Nilmani Sanyal, who is in need of Feluda’s help. One of those fortunate lottery winners whose names we read on paper, Mr. Sanyal had been an avid collector of curios for a while. Over the past few days, however, he had been getting anonymous letters written in a code that he could not decipher, and worried that this could mean nothing good, he had called the detective. Upon visiting Mr. Sanyal, Feluda immediately recognizes the writing as Hieroglyphic – the language of ancient Egypt, and when he asks Mr. Sanyal if he has bought anything valuable recently, Mr. Sanyal produces a statue – of Anubis, the ancient Egyptian God of the Afterlife. Feluda feels that he is onto something, but he has no idea of the mystery to follow.

Satyajit Ray-Feluda-Sheyal Debota Rahasya 2

গল্প ৯৬ – ফেলুদা – রয়েল বেঙ্গল রহস্য / Story 96 – Feluda – Royal Bengal Rahasya (The Royal Bengal Mystery)

Satyajit Ray-Feluda-Royal Bengal Rahasya 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Royal Bengal Rahasya

ফেলুদার গল্প – রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

এবার ফেলুদার আরেকটি গোয়েন্দাকাহিনী। কলকাতায় তখন গ্রীষ্ম, আর ফেলুদারাও বসে, তেমনই এক সময় ডুয়ার্স হতে মহীতোষ সিংহরায় নামের এক জমিদারের কাছ থেকে লালমোহন বাবুর কাছে এক নিমন্ত্রণপত্র আসে। মহীতোষবাবুর সাথে লালমোহন বাবুর পত্রালাপ থাকলেও ফেলুদার সাথে ছিল না, কিন্তু তার চিঠির শেষটুকু ছিল এইরূপ –

“আপনার বন্ধু শ্রীপ্রদোষ মিত্র মহাশয়ের ধুরন্ধর গোয়েন্দা হিসাবে খ্যাতি আছে বলিয়া শুনিয়াছি। আপনি তাহাকে সঙ্গে করিয়া আনিতে পারিলে তিনি হয়তো আমার একটা উপকার করিতে পারেন। কি স্থির করেন পত্রপাঠ জানাইবেন।”

অতঃপর ফেলুরাদের ডুয়ার্সের উদ্দেশ্যে যাত্রা, আর রয়েল বেঙ্গল রহস্যের শুরু। মহীতোষবাবুর জমিদারীতে পৌঁছানোর পর ফেলুদারা জানতে পারেন যে সিংহরায় পরিবারের এক পূর্বপুরুষ এককালে বহু পারিবারিক ধনরত্ন পাগলামীর বশে এক গোপন জায়গায় লুকিয়ে  তা খুঁজে বের করার জন্যে একটি ধাঁধা রেখে গিয়েছিলেন। ফেলুদার কাছে অবশেষে তাদের নিমন্ত্রিত হওয়ার মূল কারণটি স্পষ্ট হয়, আর ধাঁধাটির সমাধান করতে তিনি সম্মতও হন। কিন্তু সেই রাতেই বনের মাঝে লোকজনের গোপন আনাগোনা তাঁর চোখে পরে, আর তার পরদিন বনের মধ্যে মহীতোষ বাবুর সহকারী তড়িৎবাবুর বাঘে-খাওয়া লাশ পাওয়া যায়। ফেলুদা দুটো রহস্যই উদঘাটনের সিদ্ধান্ত নেন, কিন্ত তার ফলে সিংহরায় পরিবারের অনেক অপ্রিয় গোপন কথা এক এক করে বেরিয়ে আসতে শুরু করে।

রয়েল বেঙ্গল রহস্যের শুরুতেই সত্যজিৎ রায় গল্পের ধাঁধাটি তুলে দিয়েছিলেন, আমিও পাঠকদের সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্যে নাহয় তাই করি? তাছাড়া ছায়াছবি দেখতে যারা ভালবাসেন, তাদের জন্যে সত্যজিৎ রায়ের গল্পটি থেকে বানানো সিনেমাটির ইউটিউব লিঙ্কটিও নিচের ছবিটিতে সংযুক্ত করে দিলাম।

“মুড়ো হয় বুড়ো গাছ
হাত গোন ভাত পাঁচ
দিক পাও ঠিক ঠিক জবাবে।

ফাল্গুন তাল জোড়
তার মাঝে ভুঁই ফোঁড়
সন্ধানে ধন্দায় নবাবে।”

Feluda’s Stories – Royal Bengal Rahasya (The Royal Bengal Mystery) – Satyajit Ray

In this upload, another Feluda Adventure: During an unbearably hot summer in Kolkata, Lalmohan Babu receives an invitation to visit from an acquaintance, Mohitosh Singha Roy, a rich zamindar from Assam. In the letter, Feluda is invited as well, with a hint from Mr. Singha Roy that Feluda would be able to do a favor to him. Feluda and co. accept, and a few days later, arrive in Mr. Singha Roy’s estate in the forests of Dooars. It turns out that a long time ago, one of Mr. Singha Roy’s ancestors had hidden his family’s treasure, and ciphered the location in six lines of rhyme that had remained with the Singha Roy family since. Feluda accepts the challenge to decode it, but that very night, Mohitosh Babu’s secretary disappears and his partially eaten body is found in the forest the next day. Feluda is now left with two mysteries to solve, with the shadow of a man-eating tiger looming large over it all.

For those who love movies, a link to the YouTube video is the in the picture below.

Satyajit Ray-Feluda-Royal Bengal Rahasya 2

ছোটগল্প ৯৪ – ক্লাস ফ্রেন্ড / Short Story 94 – Class Friend

Satyajit Ray-Class Friendপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Class Friend

ক্লাস ফ্রেন্ড – সত্যজিৎ রায়

স্কুল ছাড়ার পর আমাদের সবার জীবন কেমন বদলে যায়, তাই না? একসময় যাদেরকে সবাই প্রতিশ্রুতিশীল বলে মনে করত, তাদের মধ্যে কতজনই না হারিয়ে যায়, আর গড়পড়তাদের মধ্যে থাকা কতজনই না উঠে আসে! আর অনেকদিন পর যদি সেই ক্লাসেরই একজন বন্ধুর সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে যায়, তখন?  অনেক বছর ধরে গড়ে ওঠা (কিংবা তোলা) ব্যবধানটার মধ্যে দিয়ে কি পুরোনো মুখটাকে আবার চেনা যায়? হয়তোবা, কিন্তু যেমনটা আমরা কল্পনা করি, হয়তো তেমনভাবে নয়।

Class Friend – Satyajit Ray

It is funny how our lives change after school in the most unexpected of ways… some of us, touted to have bright futures, unknowingly fade away, while a few, deemed to have lesser prospects, rise to the very top. Those of us who are older know all that too well, don’t we? So what happens when one comes across someone he knew from his school days – an once best friend, now unrecognizable through differences accumulated by decades of divergences of their lives? In ‘Class Friend’, Satyajit Ray explores.

গল্প ৯৩ – পথের পাঁচালী / Story 93 – Pather Panchali (Song of the Road)

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Pather Panchali

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Pather Panchali

পথের পাঁচালী – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরেকটি গল্প। পথের পাঁচালী র সারমর্ম পাঠকদের জন্য তুলে ধরার মত ক্ষমতা আমার নেই, কিন্তু বাংলা সাহিত্যের অমর এই সৃষ্টিটিকে কি ভূমিকা ছাড়া এই সাইটে উপস্থাপন করা যায়? তাই এই ভণিতাটুকু। পথের পাঁচালী আমাদের চিরচেনা গ্রামবাংলারই কোনো এক প্রান্তে একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবনকাহিনী, যাতে বিভূতিভূষণ পরিবারটির হাসি-কান্না, স্বপ্ন আর সংগ্রামের ছবি তুলে ধরেছেন অবিশ্বাস্য নিপুণতায়। এই সাইটে তোলা বিভূতিভূষণের আগের গল্পগুলোর মতো এটিও বিশেষ কোন পরিণতিকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং লেখা সাধারণ সব মানুষদের জীবনের নগণ্য সব ঘটনা নিয়েই। উদাহারণস্বরূপ গল্পটির মূল চরিত্র ছোট্ট অপুর জীবন থেকে একটি ঘটনা তুলে দেই –

বিশু ডানপিটে ছেলে, তাহাকে দৌড়িয়া ধরা কি খেলায় হারানো সোজা নয়। একবার অমলা স্পষ্টতই বিরক্তি প্রকাশ করিল। অপু প্রাণপণে চেষ্টা করিতে লাগিল যাহাতে সে জেতে, যাহাতে অমলা সন্তুষ্ট হয় – কিন্তু বিস্তর চেষ্টা সত্ত্বেও সে আবার হারিয়া গেল।

সে-বার দল গঠন করিবার সময় অমলা ঝুঁকিল বিশুর দিকে।

অপুর চোখে জল ভরিয়া আসিল। খেলা তাহার কাছে হঠাৎ বিস্বাদ মনে হইল – অমলা বিশুর দিকে ফিরিয়া সব কথা বলিতেছে, হাসিখুসি সবই তাহার সঙ্গে। খানিকটা পরে বিশু কি কাজে বাড়ী যাইতে চাইলে অমলা তাহাকে বার বার বলিল যে, সে যেন আবার আসে। অপুর মনে অত্যন্ত ঈর্ষা হইল, সারা সকালটা একেবারে ফাঁকা হইয়া গেল! পরে সে মনে মনে ভাবিল – বিশু খেলা ছেড়ে চলে যাচ্ছে – গেলে খেলার খেলুড়ে কমে যাবে, তাই অমলাদি ঐরকম বলছে, আমি গেলে আমাকেও বলবে, ওর চেয়েও বেশি বলবে। হঠাৎ সে চলিয়া যাইবার ভান করিয়া বলিল – বেলা হয়ে যাচ্ছে, আমি যাই নাইবো। অমলা কোনো কথা বলিল না, কেবল কামারদের ছেলে নাড়ুগোপাল বলিল – আবার ও-বেলা এসো ভাই!

অপু খানিক দূর গিয়া একবার পিছনে চাহিল – তাহাকে বাদ দিয়া কাহারও কোনো ক্ষতি হয় নাই। পুরাদমে খেলা চলিতেছে, অমলা মহা উৎসাহে খুঁটির কাছে বুড়ি হইয়া দাঁড়াইয়াছে – তাহার দিকে ফিরিয়াও চাহিতেছে না।

অপু আহত হইয়া অভিমানে বাড়ি আসিয়া পৌঁছিল, কাহারও সঙ্গে কোনো কথা বলিল না।

ভারি তো অমলাদি! না চাহিল তাহাকে – তাতেই বা কি?…

উপরের লেখাটি পড়লে ছোটবেলায় ঘটে যাওয়া তেমনই কোন ঘটনার কথা মনে পড়ে, তাই না? বাংলা সাহিত্যিকদের মধ্যে গ্রামীণ সমাজ আর শিশুমনকে একইসাথে বিভূতিভূষণের মতো অবলীলায় তুলে ধরতে আর কেউ বোধহয় পারেননি, আর তাঁর ক্ষমতার উৎকর্ষ যদি কোথাও ঘটে থাকে, তা এই গল্পতেই।পথের পাঁচালী  শুধু পল্লীবাংলার অকৃত্তিম প্রতিচ্ছবিই নয়, তার বুকে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ছেলেমানুষী হাসি-কান্নার দিনলিপিও। আর সেই অনন্যতাস্বরূপই বাংলা সাহিত্যে ছাড়িয়ে সমগ্র বিশ্বসাহিত্যেই হয়তো গল্পটি অদ্বিতীয়। অসাধারণ এই গল্পটি ছাড়া এই সাইটটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, তাই আজ পাঠকদের জন্যে এটি তুলে দিলাম।

(প্রসঙ্গত – যারা আগে জানতেন না, সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী  কিন্তু বিভূতিভূষণের এই গল্পকে ঘিরেই লেখা। সত্যজিৎ রায়ের অতুলনীয় নির্দেশনার কারণে গল্পটি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেছে সন্দেহ নেই, তবে চলচ্চিত্রের সৌন্দর্যের মূলটুকু কিন্তু সত্যজিৎ খুঁজে পেয়েছিলেন তার প্রিয় এই গল্পটির মধ্যেই। পথের পাঁচালী  চলচ্চিত্রটি বানানো নিয়ে সত্যজিৎ তাঁর একেই বলে শুটিং  স্মৃতিচারণার একটি অধ্যায় লিখেছিলেন – পাঠকদের সেটিও পড়বার আমন্ত্রণ রইল।)

Pather Panchali (Song of the Road) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

Pather Panchali (Song of the Little Road) by Bibhutibhushan Bandyopadhyay, is one of the most celebrated works in Bangla literature. As far as accolades go, there is not much I can say that has not been already said, but it needs to be mentioned that perhaps no other work in Bangla, and even perhaps world literature, compares to the novel in its representation of a rural life from the perspective of a little boy (Apu) from a poor family. Like Bibhutibhushan Bandyopadhyay’s other works, Pather Panchali too does not have a conclusion towards which it is directed. Instead, the narratives loses itself in a languid but beautiful flow that is interspersed with little Apu’s joys and sorrows – for instance, his seeing a train for the first time, and his offense at not heeded by a girl with whom he wants to play. The narrative is not even throughout, however. As Apu grows up, the realities of his world become starker, and on the last page of the novel, an adolescent Apu is left trying to become a man. In many ways, Pather Panchali is a familiar story of our childhoods, and the close-knit families from which many of us come. But it is with this ordinariness that it captures the reader, stirring up the most intimate and beautiful of childhood memories, and anchors itself to his/her heart. That every Bangalee should read this Bibhutibhushan masterpiece goes without saying. So here it is, for your eyes.

(Something that you might find interesting: The story was taken to the global audience by eminent Indian film director Satyajit Ray, whose début with Pather Panchali (Song of the Little Road), brought him and his genre of Indian cinema critical acclaim across the world. Ray’s personal account of the making of the film can be found in his autobiography Ekei Bole Shooting. While Ray’s direction was crucial in presenting the narrative, he always took particular care to acknowledge Bibhutibhushan’s influence on him. Those who have read Feluda’s stories will know that Bibhutibhushan was the sleuth’s favorite writer. )

গল্প ৯২ – ফেলুদা – জয় বাবা ফেলুনাথ / Story 92 – Feluda – Jay Baba Felunath

Satyajit Ray-Feluda-Jay Baba Felunath 1পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Jay Baba Felunath

ফেলুদার গল্প – জয় বাবা ফেলুনাথ – সত্যজিৎ রায়

মৌসুমটা যখন পূজোর, তাই এবারের গল্পটাও নাহয় সময়টার মতই জমজমাট হোক। জয় বাবা ফেলুনাথ পুজোর সময়েরই গল্প, তবে এতে ফেলুদার গোয়েন্দাগিরী বাংলাতে নয়, ঘটে কাশীর সরু গলিগুলোর মধ্যে। দশাশ্বমেধ ঘাট আর বিশ্বনাথের শহর কাশীতে ফেলুদাদের যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল পুজোর ছুটি কাটানো, কিংবা লালমোহনবাবুর ভাষায় “কাশী, (ফেলুদার তদন্তের) কেস আর (কাশীতে ঘুরে প্লট জোগাড় করে তা নিয়ে লিখে লালমোহন বাবুর) ক্যাশ” জোটানো। শেষ পর্যন্ত যা হয়, তা তোপ্‌সের বর্ণনায় –

বেনারস গিয়ে লালমোহনবাবু গল্পের প্লট পেয়েছিলেন ঠিকই; তবে ফিরে আসার দুমাস পরে বড়দিনে তার যে রহস্য উপন্যাসটা বেরোল, সেটার সাথে টিনটিনের একটা গল্পের আশ্চর্য মিল।

ফেলুদার কিন্তু গিয়ে সত্যিই লাভ হয়েছিল। তা না হলে অবিশ্যি এই বইটাই লেখা হত না। ফেলুদার জীবনে সবচেয়ে ধুরন্ধর ও সাংঘাতিক প্রতিদ্বন্দীর সঙ্গে তাকে এই বেনারসেই লড়তে হয়েছিল। ও পরে বলেছিল – ‘এইরকম একজন লোকের জন্যই অ্যাদ্দিন অপেক্ষা করছিলাম রে তোপ্‌সে। এ সব লোকের সঙ্গে লড়ে জিততে পারলে সেটা বেশ একটা টনিকের কাজ দেয়।’

গোয়েন্দা সাহিত্যে নায়কের কৃতিত্বের সিংহভাগই যে খলনায়কের কারণেই, জয় বাবা ফেলুনাথ  এর মগনালাল মেঘরাজ তার অখন্ডনীয় প্রমাণ। গল্পটা কিভাবে শেষ হয়, তা তো জানাই। কিন্তু প্রথম আর শেষের মাঝখানে ঠাসা যেই টানটান উত্তেজনা, তাতো আর সেটি না পড়লে বোঝার নয়। তাই এই পূজোয় পাঠকদের জন্যে আজ ফেলুদার আর মগনলালের রোমহর্ষক সংঘর্ষের কাহিনী – জয় বাবা ফেলুনাথ । শারদীয় শুভেচ্ছা রইল।

Feluda’s Stories – Jay Baba Felunath – Satyajit Ray

For about half of us Bangalees, it is that wonderful time of the year again. And the season demands that everything else measures up to it, does it not? So this time, as the season’s greetings from yours truly, an upload that is perhaps the best of the Feluda series. Imagine yourself in a few days from now, celebrating this year’s Durga Puja, but not in Kolkata or some other place in Bangla. Instead, you are in Kashi, the old and colorful city of temples and narrow lanes, of ghats on the Ganga, and of gangsters and godfathers. Now, imagine you are a sleuth, and that a local Bangalee in distress asks for your help on a case. You accept, only to find yourself against the godfather of the city, Maganlal Meghraj, whose goons lurk in every corner of Benares. What would you do? What would Feluda do against the man who is every bit of Moriarty as he is to Holmes, and more? The answer is in Jay Baba Felunath, attached here for your reading pleasure.

Satyajit Ray-Feluda-Jay Baba Felunath 2

ছোটগল্প ৯১ – প্রফেসর শঙ্কু – স্বপ্নদ্বীপ / Short Story 91 – Professor Shanku – Swapnadwip (The Island of Dreams)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Swapnadwip 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Swapnadwip

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – স্বপ্নদ্বীপ – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কুর গল্পগুলো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হওয়ার কারনেই খানিকটা অদ্ভুত, তবে সেগুলোর মধ্যেও যদি অদ্ভুততর কোন গল্পের নাম বলতে হয়, তখন স্বপ্নদ্বীপ এর কথা মনে আসে। স্বপ্নদ্বীপ এর শুরু হয় রোজ রাতে প্রফেসর শঙ্কুর একটি আশ্চর্য জায়গাকে স্বপ্নে দেখা নিয়ে। স্বপ্নটা নাহয় শঙ্কুর ভাষাতেই বর্ণনা করি –

দেখলাম আমি একটা অদ্ভুত জায়গায় গিয়ে পড়েছি। সেখানে ঘরবাড়ি লোকজন কিছুই নেই – আছে শুধু গাছপালা আর বনজঙ্গল। এইসব গাছপালার একটিও আমার চেনা নয়। এদের রংও ভারী অস্বাভাবিক। সবুজ পাতা প্রায় নেই বললেই চলে। তার বদলে নীল লাল বেগুনী কমলা এই ধরনের রং। গাছে ফুল আর ফলও আছে – তার একটাও আমার চেনা নয়। একটা প্রকান্ড  ফুলে অজস্র পাপড়ি আর প্রত্যেকটা পাপড়ির রং আলাদা। আর একটা ফুলের এক-একটা পাপড়ি যেন এক-একটা হাতির কান, আর হাতির কানের মতই সেগুলো মাঝে মাঝে দুলে দুলে উঠছে… আর একটা তরমুজের সাইজের ফল – তার সর্বাঙ্গে গাঁঢ় লাল রোঁয়া, আর সেই রোঁয়ার ভিতর দুটো করে গোল গোল সাদার মাঝখানে কালো ফুটকি। ঠিক যেন মনে হয়, ফলের গায়ে একজোড়া চোখ।

শঙ্কু তখন তার প্রতি-মাধ্যাকর্ষণ ধাতু দিয়ে একটি উড়োজাহাজ বানানোর কাজে ব্যস্ত। কিন্তু তার মধ্যেই প্রতি রাতে এই অদ্ভুত স্বপ্নটি দেখতে দেখতে কেন জানি শঙ্কুর বাইরে কোথাও ঘুরে আশার ইচ্ছে জাগে। একই সময় হঠাৎই পৃথিবীর নানা দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মনীষী রহস্যজনকভাবে একইসাথে নিখোঁজ হয়ে যান। ঘটনাটি শঙ্কুর মনে খটকা জাগালেও উড়োজাহাজ তৈরী আর রাত্রে একই স্বপ্ন বার বার দেখা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করার সময় তার ছিল না। যাই হোক উড়োজাহাজও তৈরী হয়, আর শঙ্কুও তাতে তার প্রতিবেশী অবিনাশবাবুকে নিয়ে উড়াল দেন। তাদের গন্তব্য – অক্ষাংশ ১৬ উত্তর, দ্রাঘিমাংশ ১৩৬ পূর্ব – আর তাতে যাওয়ার কারণ – অজানা, হয়তো স্বপ্নে দেখা বলে।

Professor Shanku’s Stories – Swapnadwip (The Island of Dreams) – Satyajit Ray

Of the adventures of Professor Shanku, Swapnadwip (The Island of Dreams) ranks among the most bizarre. The story starts with Shanku in the thick of building his own airplane – a task that keeps him absorbed even when several prominent people from across the world mysteriously go missing. But busy though he is, Shanku’s sleep is strangely broken by the same dream every night – one about an island with enticingly colourful plants and strangely alive flowers. And despite his work, Shanku finds himself brooding more and more on his nightly visions, which inexplicably fill him with a desire to go off to some faraway land. As if on cue, the airplane gets built, and Shanku sets off on it with his neighbor, Abinash Babu towards the Bay of Bengal. Their destination – a stretch of water at Latitude 16 N and Longitude 136 E, and reason for going there – a desire to go that Shanku himself cannot explain.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Swapnadwip 2

গল্প ৯০ – ফেলুদা – রবার্টসনের রুবি / Story 90 – Feluda – Robertson er Ruby (Robertson’s Ruby)

Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby (1)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby

ফেলুদার গল্প – রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

আরেকবার ফেলুদা, তবে এটি পাহাড় কিংবা নগর নয়, বরং বাংলারই বীরভূমকে পটভূমি করে লেখা। গল্পটি যার পূর্বপুরুষের পান্নাকে (রুবি) নিয়ে, সেই রবার্টসনের সাথে ফেলুদাদের প্রথম পরিচয় হয় বীরভূমে যাওয়ার ট্রেনে, যা পরে সখ্যে গড়ায়। ভারতপ্রেমী রবার্টসন তার আলোকচিত্রী বন্ধু টম ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে বীরভূম যাচ্ছিলেন পোড়ামাটির স্থাপত্যকলার স্থানীয় কিছু নিদর্শন দেখতে। তবে তার কাছে যে ভারত থেকে তারই ব্রিটিশ পূর্বপুরুষের লুঠ করা এক বহুমূল্য পান্না আছে, আর তা যে তিনি ভারতে ফেরত দিতে এসেছেন, সে খবর চাউর হয়ে যাওয়ায় অনেকেরই অনাকাঙ্খিত নজর পড়ে তার উপর। ব্যাপারটা ফেলুদার চোখে পড়লেও তার চিন্তার কারণ ছিল অন্য – ম্যাক্সওয়েল, যার ঔদ্ধত্য আর ভারতবিদ্বেষ শুধু পান্নাটিরই নয়, এমনকি রবার্টসনদের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

************************

সত্যজিৎ রায়ের গল্পগুলি বাস্তব চরিত্রদের দ্বারা কতটুকু অনুপ্রাণিত, তা নিয়ে বোধহয় খুব বেশি গবেষণা হয়নি, তবে রবার্টসনের রুবিতে লেখকের একজন বন্ধুর উল্লেখ আমরা পাই – ডেভিড ম্যাককাচন, যিনি বাংলার পোড়ামাটির স্থাপত্যকলা নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছিলেন। রবার্টসনের রুবি সত্যজিৎ প্রকাশ করার কিছুদিন আগে ম্যাককাচন মারা যান, তাই মনে হয় গল্পটিতে ম্যাককাচনের প্রশংসাটুকু হয়তো সত্যজিৎ পুরোনো বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী হিসেবে লিখেছিলেন।

Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby (2)Feluda’s Stories – Robertson er Ruby (Robertson’s Ruby) – Satyajit Ray

Feluda again, and this time, a bit closer to home. Robertson er Ruby starts with Feluda and company on a train journey to a vacation in Birbhum, when they meet and befriend Peter Robertson, an India-enthusiast who was traveling across the country with his friend, photographer Tom Maxwell. Although foremost a traveler, Peter was unique from other visitors, for he had come to India to return a priceless ruby that his great-great grandfather had looted during the British occupation of India. However, the ruby had also made him a target of collectors and potentially, criminals. Feluda saw travel ahead even as he befriended Robertson, but his unease would only be exacerbated by Maxwell, whose anti-Indian sentiment and superiority complex would put the entire party on the wrong side of the locals.

************************

While notable for its pro-Indian sentiment and storyline alone, Robertson er Ruby is also perhaps unique in the sense that in the story, Satyajit Ray refers to a close friend – David McCutchion, who pioneered the academic study of the terracotta temples of Bangla. MuCutchion had probably died shortly before the story was published, and the Ray’s praise of McCutchion through the voice of Feluda can perhaps be regarded as a tribute to an old friend.

গল্প ৮৯ – ফেলুদা – গ্যাংটকে গণ্ডগোল / Story 89 – Feluda – Gangtok e Gandogol (Trouble in Gangtok)


Satyajit Ray-Feluda-Gangtok e Gandogol 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Gangtok e Gandogol

ফেলুদার গল্প – গ্যাংটকে গণ্ডগোল – সত্যজিৎ রায়

“বাগডোগরা বলতে অনেকেই মনে করবে, আমরা হয়তো দার্জিলিং কিম্বা কালিম্পং যাচ্ছি। আসলে তা নয়। আমরা যাচ্ছি সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে। এর আগে গ্রীষ্মের ছুটিতে দুবার দার্জিলিং গেছি; এবারও প্রথমে দার্জিলিং-এর কথাই হয়েছিল, কিন্তু শেষ মূহূর্তে ফেলুদা গ্যাংটকের নাম করল। বাবার হঠাৎ ব্যাঙ্গালোরে একটা কাজ পড়ে গেল বলে উনি আর এলেন না। বললেন, ‘তুই পরীক্ষা দিয়ে বসে আছিস, ফেলুরও ছুটি পাওনা হয়েছে – দিন পনেরোর জন্য ঘুরে আয়। কলকাতায় বসে ভ্যাপসা গরমে পচার কোনও মানে হয়না।’”

অতঃপর ফেলুদার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর গল্পগুলির মধ্যে একটি – গ্যাংটকে গণ্ডগোল। গল্পের শুরুর ছুঁতোটুকু ভ্রমণ হলেও আসল উপলক্ষ্যটা যে রহস্য উদঘাটন, তা তো পাঠকদের জানাই আছে। তবে এর বেশি বললে গল্পের মজাটা নষ্ট হয়ে যাবে, তাই পাঠকদের জন্য গল্প থেকে কটি সূত্র তুলে দিলাম – তিব্বত, পাথর, যমন্তক, বৌদ্ধমঠ, শেলভাঙ্কার, ছদ্মবেশ আর জোঁক – ব্যাস, বাকিটুকু নাহয় লিংকেই থাকল!

Feluda’s Stories – Gangtok e Gandogol (Trouble in Gangtok) – Satyajit Ray

Another of Feluda’s adventures, on set on the mountainous terrains of Sikkim. In Gangtok e Gandogol (Trouble in Gangtok), Feluda and Topshe, who had gone to the town for a vacation, learns about the death of Shivkumar Shelvankar, a rich businessman who was in town for business in a car crash. The death is initially presumed to be an accident, but as Feluda learns more about the circumstances preceding Shelvankar’s visit and the people he knew, the less sure he becomes. Feluda’s suspicions do not escape the notice of those on the lookout, and before long, the sleuth finds himself and his cousin inextricably entangled in a danger.

Satyajit Ray-Feluda-Gangtok e Gandogol 2

গল্প ৮৭ – ফেলুদা – এবার কান্ড কেদারনাথে / Story 87 – Feluda – Ebar Kando Kedarnath e (This Time in Kedarnath)

Satyajit Ray-Feluda-Ebar Kando Kedarnath e

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Ebar Kando Kedharnath e

ফেলুদার গল্প – এবার কাণ্ড কেদারনাথে – সত্যজিৎ রায়

ফেলুদার যেসব গল্পগুলোর পটভূমি পাহাড়ের কোলে, সেগুলোতে কেন জানি অন্যরকম একটা রোমাঞ্চের একটা আবহ থাকে। এবার কাণ্ড কেদারনাথেও তার ব্যতিক্রম নয়। গল্পের শুরুটা হয় ফেলুদাদের কলকাতার বাড়িতে ভারতেরই কোন এক প্রাক্তন রাজ্যের রাজসহকারীর আসা দিয়ে। উপমহাদেশ যখন ব্রিটিশদের দখলে, সেই সময় সেই রাজ্যটির রাজা চন্দ্রদেও তার রোগ সারিয়ে দেওয়ার জন্যে হৃষিকেশের একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তারকে গোপনে উপহারস্বরূপ একটি মহামূল্য উপহার দেন। উমাশঙ্কর পুরীর কলকাতায় আসার উদ্দেশ্য ছিল এক বিশেষ কারণে এতদিন পর সেই ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় সেই ডাক্তারের উপর যাতে কোন বিপদ না নেমে আসে। অর্থাৎ ফেলুদা যেন সেই ডাক্তার কে অন্য কারো আগে খুঁজে বের করে বিপদমুক্ত করেন। ফেলুদা কেসটি হাতে নেয়, কিন্তু হৃষিকেশের পথে রওয়ানা দেওয়ার মাত্র ক’দিন আগে উমাশঙ্করের কাছ থেকে টেলিগ্রাম আসে – ‘রিকোয়েস্ট ড্রপ কেস। লেটার ফলোজ।’। ফেলুদা উত্তর পাঠায় – ‘ড্রপিং কেস, বাট গোইং অ্যাজ পিলগ্রিমস।’। গোয়ান্দাভিযান শেষপর্যন্ত উদ্দেশ্য বদলে তীর্থযাত্রা হয়ে গেলেও ফেলুদা স্বভাবতই তীর্থে গিয়ে চোখ-কান খোলা রাখে, আর সেখানে যা তার নজরে আসে, তা দেখে রহস্যময় সেই ডাক্তারকে খুঁজে পাওয়ার জন্য তাকে সেই চিরচেনা গোয়েন্দার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়।

এই গল্পটির শেষ অংশটুকু একটু কাকতালীয়, কিন্তু সেই অপ্রত্যাশিতটুকু বাদে আর সবটুকুই আমাদের চিরচেনা উত্তেজনায় ঠাসা।

Feluda’s Stories – Ebar Kando Kedarnath e (This Time in Kedarnath) – Satyajit Ray

For some reason, whenever Feluda happens to be on mountainous terrains, there is an added sense of adventure. Ebar Kando Kedarnath e (This Time in Kedarnath) is no exception. The story starts with the arrival of a certain Umashankar Puri at Feluda’s doorstep. Mr. Puri, who manages what was once a small kingdom during the British occupation of India, narrates an incident in which the former king of the kingdom, Chandradeo, had gifted a priceless possession to an Ayurvedic doctor from Rishikesh for treating him. The secrecy of the gift had been maintained all these years, but now some people who knew about the incident were trying to seek out the old doctor. Sensing danger, Mr. Puri asks Feluda to find the doctor before anyone else, and protect him. Feluda agrees, but days before the three musketeers are about the set off to find the doctor, they unexpectedly receive a telegram from Mr. Puri saying ‘Request drop case. Letter follows.’. Feluda replies, ‘Dropping case but going as pilgrims’, little knowing that he would have to reprise his usual role before long.

Satyajit Ray-Feluda-Ebar Kando Kedarnath e 2

ছোটগল্প ৮৪ – প্রফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক / Short Story 84 – Professor Shanku – Professor Shanku O Egyptio Atanko (Professor Shanku and the Egyptian Horror)

Satyajit Ray-Professor Shanku O Egytio Atankoপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku O Egyptio Atanko

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – প্রফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক – সত্যজিৎ রায়

ব্যোমযাত্রীর ডায়রির পর শঙ্কুর সাথে আমাদের দ্বিতীয়বারের মত দেখা হয় এই গল্পটিতে, যদিও গল্পের ধারাবাহিকতা কিনা শঙ্কুর জীবনের সাথে মেলে কিনা তা বলা মুশকিল। ঈজিপ্সীয় আতঙ্কের শুরু স্বাভাবিকভাবেই মিশরে, যার প্রাচীন বিজ্ঞান ও প্রত্নতত্ব সম্পর্কে জানার জন্য শঙ্কু সেখানে যান। শঙ্কুর সাথে সেখানে জেমস সামারটন নামের একজন প্রত্নতত্ত্ববিদের সাথে পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়, যার ফলস্বরূপ ভারতে ফেরার সময় একটি দুর্লভ মমি গবেষণার জন্য শঙ্কু সাথে করে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু মমির সাথে সাথে একটি অশুভ ছায়াও শঙ্কুর সঙ্গী হয়, যদিও শঙ্কুর কাছে সেটা প্রতীয়মান হয়ে ওঠে অনেক দেরিতে।

ব্যোমযাত্রীর ডায়রির খ্যাপাটে বিজ্ঞানীর জায়গায় ঈজিপ্সীয় আতঙ্কে শঙ্কুকে আমরা পাই আমাদের চিরচেনা শঙ্কু হিসেবে। সত্যজিৎ কি ভেবে এই পরিবর্তনটি করেছিলেন জানতে কৌতুহল জাগে।

Professor Shanku’s Stories – Professor Shanku O Egyptio Atanko (Professor Shanku and the Egyptian Horror) – Satyajit Ray

The Egyptian Horror is the second story Satyajit Ray wrote about Professor Shanku, although whether the stories are chronological with respect to his life remains unclear. As is to be expected from the title, the story starts in Egypt, where Shanku goes to learn more about its ancient science and archaeology. There, Shanku befriends an archaeologist named James Somerton, and as a consequence, succeeds in procuring an Egyptian mummy for his own research. Shanku brings the mummy to his home in Giridi, little knowing its history, and a mysterious entity that follows it to his hometown.

ছোটগল্প ৮২ – প্রফেসর শঙ্কু – ব্যোমযাত্রীর ডায়রি / Short Story 82 – Professor Shanku – Byomjatrir Diary (The Diary of the Space Traveler)

Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – ব্যোমযাত্রীর ডাইরি – সত্যজিৎ রায়

এবারের আপলোডটি প্রফেসর শঙ্কুকে নিয়ে লেখা সত্যজিৎ রায়ের প্রথম গল্প। শঙ্কুর অন্যান্য গল্পগুলোর মতো এটিও দারুণ, তবে এটির লেখার ধরণ কিন্তু আলাদা। যেখানে অন্য সব গল্পে শঙ্কু ঋষিসুলভ ধৈর্য আর সংযমের অধিকারী, এই গল্পে শঙ্কু সোজা কথায় খানিকটা পাগলাটে একজন বিজ্ঞানী। ফেলুদার মতো শঙ্কুরও পরিণত হয়ে ওঠা ঘটে সত্যজিতের পরের গল্পগুলোতে, খুব সম্ভবত এই কারণে যে লেখক হয়তো প্রথম দিকে চরিত্রগুলোকে শিশুদের কথা ভেবেই কল্পনা করেছিলেন।

ব্যোমযাত্রীর ডাইরি – প্রফেসর শঙ্কুর প্রথম (অন্যভাবে চিন্তা করলে হয়তোবা শেষ) গল্প।

Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary 2

Professor Shanku’s Stories – Byomjatrir Diary (The Diary of the Space Traveler) – Satyajit Ray

This upload is the first story that Satyajit Ray wrote on Professor Shanku. Like Feluda in his first adventure, Shanku too appears as a very different person – a somewhat mad scientist rather than the sage-like figure that he develops into Ray’s later writings. One possible reason for this could be that Ray might have initially written both characters keeping children in mind. Regardless, this one is particularly for those who love mad-scientists – Shanku’s first (and perhaps last) adventure.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Byomjatrir Diary 3

গল্প ৮১ – ফেলুদা – নেপোলিয়নের চিঠি / Story 81 – Feluda – Napoleon er Chithi (Napoleon’s Letter)

Satyajit Ray-Feluda-Napoleon er Chithiপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Napoleon er Chithi

ফেলুদার গল্প – নেপোলিয়নের চিঠি – সত্যজিৎ রায়

ফেলুদার এই গল্পের শুরুটা খানিকটা আকস্মিক। কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের এক খেলনার দোকানে এক আলাপীর জন্যে উপহার কিনতে গিয়ে এক ক্ষুদে ভক্তের সাথে ফেলুদার দেখা হয়ে যায়, আর ভক্তও দেরী না করে ফেলুদাকে তার পোষা টিয়ে হারিয়ে যাওয়ার তদন্তের আর্জি জানিয়ে বসে। অবশ্য রহস্য উদঘাটন নয়, বরং শ্রীমান অনিরুদ্ধ হালদারের মন ভাল করতেই ফেলুদারা একদিন গিয়ে হাজির হন হালদারবাড়িতে। ঘটনাচক্রে ফেলুদারা সেই বাড়িতে থাকা অবস্থাতেই একটি রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে, আর তার সাথে সাথে হালদার পরিবারের মহামূল্য একটি সম্পত্তি – নেপোলিয়নের শেষজীবনে লেখা একটি চিঠি – রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটির তদন্তের ভার ফেলুদার হাতে পড়ে, আর সেটা করতে গিয়ে তার কাছে ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই যে ছোট্ট অনিরুদ্ধের পাখি হারিয়ে যাওয়াকে বড়রা তেমন পাত্তা না দিলেও নেপোলিয়নের চিঠি লোপাটের চাইতে সেটাও কম অদ্ভুত কোন রহস্য নয়।

Feluda’s Stories – Napoleon er Chithi (Napoleon’s Letter) – Satyajit Ray

This investigation of Feluda starts somewhat unexpectedly. While in a toy shop to buy a gift for an acquaintance, Feluda comes across a young fan by the name of Aniruddha Haldar, who asks him if he can find out his lost parrot. More to give the little boy some time than find his bird, Feluda agrees to look into the matter, and true to his word, visits him after a few days. However, things go wrong when Feluda and his companions visit the Haldar House. Aniruddha’s grandfather, an antiquities collector, is found dead, and his most prized collection – one of the last ever letters written by Napoleon Bonaparte – goes missing. The case of the parrot is forgotten as Feluda is asked to investigate the developments, but it soon becomes clear to the detective that neither of the two cases are less intriguing than, or perhaps different from, the other.

গল্প ৭৮ – ফেলুদা – বাদশাহী আংটি / Story 78 – Feluda – Badshahi Angti (The Emperor’s Ring)

Satyajit Ray-Feluda-Badshahi Angti

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Badshahi Angti

ফেলুদার গল্প – বাদশাহী আংটি – সত্যজিৎ রায়

এবারে ফেলুদার প্রথম দিকের গল্পগুলোর মধ্যে একটা। তোপসে তখনো ছোট, জটায়ুয়ের আবির্ভাবের তখনো অনেক দেরী আর ফেলুদার গোয়েন্দাগিরীও প্রথমাবস্থায়। সেই সময় পূজোর ছুটি কাটানোর জন্য তোপসের বাবাসহ ফেলুদারা লক্ষ্ণৌ যায়। লক্ষ্ণৌতে তোপসের বাবার একজন বন্ধু ছিলেন, আর তারই মাধ্যমে ফেলুদাদের সাথে এক ভদ্রলোকের পরিচয় হয়, যার সংগ্রহের একটি আংটি এককালে আওরঙ্গজেব পড়তেন। ফেলুদাদের আসার কিছুদিনের মাঝেই রহস্যজনকভাবে সেই আংটি চুরি হয়ে যায়, আর ফেলুদা লেগে যায় সেই রহস্য উদঘাটন করতে, যা তাকে আর তোপসেকে নিয়ে যায় লক্ষ্ণৌর ইমামবড়া থেকে হরিদ্বারের লক্ষণঝুলা পর্যন্ত এক দারুণ অভিযানে। ফেলুদার ভক্তদের জন্য বাদশাহী আংটি একটি অবশ্যপাঠ্য, কারণ ফেলুদার গোয়েন্দাগিরীর আসল শুরু এখানেই।

Feluda’s Stories – Badshahi Angti (The Emperor’s Ring) – Satyajit Ray

A new Feluda upload – this time, of one of his first adventures. The story dates back to a time when Topshe was little, Jatayu had not yet arrived and Feluda was still a budding detective. During the Durga Puja holidays, Topshe, his father, and Feluda arrive at Lucknow, where they have a family friend, Dhiru Babu. As they socialize in Lucknow, Feluda and Topshe meet an acquaintance of Dhiru Babu’s, who shows them ring that was once worn by the Mughal emperor Aurangzeb. Soon after, the ring goes missing, and Feluda embarks on solving the case. Fans of the sleuth will want to read this story, for it is the first story where Feluda matures to the formidable detective who we so well know.

ছোটগল্প ৭২ – প্রফেসর শঙ্কু – আশ্চর্জন্তু / Short Story 72 – Professor Shanku – Ashcharjantu (The Extraordinary Animal)

 Satyajit Ray-Professor Shanku-Ashcharjantu (1)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Professor Shanku-Ashcharjantu

প্রফেসর শঙ্কুর গল্প – আশ্চর্যজন্তু – সত্যজিৎ রায়

প্রফেসর শঙ্কু গিরিডিতে কোন এক সময় থাকাকালে তাঁর চাকর প্রহ্লাদ হঠাৎ একদিন কোত্থেকে তাঁর সামনে এক আশ্চর্য প্রাণী এনে হাজির করে, যা শঙ্কুর জানামতে আনকোরা এক নতুন প্রজাতির নমুনা ব্যতিত কিছু নয়। জন্তুটি অদ্ভুতভাবে শঙ্কুর পোষও মেনে যায়, আর তার পরের দিনগুলো গড়ানোর সাথে সাথে শঙ্কু সেটিকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে আপাতদৃষ্টিতে প্রাণীটিকে একটি অদ্ভূত বানরের মত দেখতে হলেও সেটির মধ্যে লুকোনো কিছু বৈশিষ্ট্য আছে – যেমন সে সারা ঘর ঘুরে ঘুরে শঙ্কুর জিনিসপত্র নেড়ে চেড়ে দেখে, বোঝার চেষ্টা করে। শঙ্কুর প্রথমে শুধু প্রাণীটির বুদ্ধিমত্তা দেখেই তাক লেখে গেলেও অচিরেই সেটি এমন সব শারীরিক পরিবর্তন দেখাতে শুরু করে যে তিনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। অবশ্য তখনো তার ধারণা ছিল না যে সামনে কি ঘটতে চলেছে।

Professor Shanku’s Stories – Ashcharja Jantu (The Extraordinary Animal) – Satyajit Ray

On one of his periods of stay in Giridi, Professor Shanku’s servant, Prahlad, brings a strange animal that he got from a friend in the village into the house. Shanku is surprised when he sees it, for the animal is unlike any that he has seen or heard of. Shanku decides to keep and study it, and soon finds out the creature to be more curious and intelligent than any other. However, if its intelligence surprises the professor, the changes in the animal which follow astounds him. In the end, Shanku gets an inkling of the animal’s special ability, but he does not know that there is still more to come.

Satyajit Ray-Professor Shanku-Ashcharjantu (2)

 

গল্প ৭০ – ফেলুদা – টিনটোরেটোর যীশু / Story 70 – Feluda – Tintorettor Jishu (Tintoretto’s Jesus)

Satyajit Ray-Feluda-Tintorettor Jishu 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Tintorettor Jishu

ফেলুদার গল্প – টিনটোরেটোর যীশু – সত্যজিৎ রায়

কলকাতার বাইরে একদিন লালমোহনবাবুর গাড়িতে চড়ে বেড়াতে গিয়ে রাস্তায় ফেলুদাদের সাথে নবকুমার নিয়োগী বলে এক ভদ্রলোকের পরিচয় হয়। তাঁর গাড়ি মেরামত করতে সাহায্য করায় কৃতজ্ঞতাবশত তিনি ফেলুদাদের বৈকুন্ঠপুরে তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। ফেলুদারা যানও, আর যথেষ্ট যত্নআত্তি পাওয়ার সাথে সাথে সেখানে তাঁদের বিখ্যাত ইটালিয়ান চিত্রশিল্পী টিনটোরেটোর (সঠিক উচ্চারণ তিনতোরেত্তো) আঁকা একটি যীশুর ছবিও দেখা হয়। এত আপ্যায়নের মাঝেও কিন্তু ফেলুদার মনে নিয়োগীবাড়িতে আরও কয়েকজন অতিথির থাকা, আর কিছুদিন আগে বাড়ির পোষা কুকুরটির মৃত্যু নিয়ে খটকা লাগে। আর সেই সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হয় যখন ফেলুদাদের চলে আসার কিছুদিন পরে সেই নিয়োগীবাড়িতে একটি খুনের সাথে সাথে যিশুর সেই মহামূল্য ছবিটি লোপাট হয়ে যায়।

Feluda’s Stories – Tintorettor Jishu (Tintoretto’s Jesus) – Satyajit Ray

Another of Feluda’s adventures – during a group trip out of the city, Feluda and co. help fix the car of a certain Nabakumar Niyogi, who gratefully invites them to spend the night his residence not far away. It turns out that Niyogi babu is rather wealthy, and Feluda, Topshe and Lalmohan Babu are treated like royals. However, when Feluda finds out that the family’s dog had been mysteriously killed a few days earlier, and that there are other guests staying in the house, he suspects that something is about to go wrong. And he is vindicated a few days layer, when Mr. Niyogi’s secretary is murdered and the most treasured possession of the Niyogi family, a Renaissance-era portrait of Jesus drawn by the Italian artist Tintoretto, goes missing.

Satyajit Ray-Feluda-Tintorettor Jishu 2