গল্প ১০৭ – অপরাজিত / Story 107 – Aparajito (The Unvanquished)

 

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aparajito 2

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Aparajito

অপরাজিত – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গত বছর পাঠকদের জন্যে এই সাইটে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি পথের পাঁচালী  আপলোড করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজ অপরাজিত , যাতে পথের পাঁচালীতে অপুর শুরু হওয়া পথচলা তার বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে এগিয়ে চলে নিতান্তই সাধারণ কোন বাঙ্গালী পুরুষের জীবনের চেনা বাঁকগুলো বেয়ে। পথের পাঁচালী যারা পড়েছেন, তাদের হয়তো মনে থাকবে যে গল্পটি শেষ হয় সদ্য-কিশোর অপুর নিজেকে পৃথিবীর সামনে একা আবিস্কার করার মধ্যে দিয়ে। অপরাজিত গল্পটির সমাপ্তিও তেমনই একটি নতুন যাত্রার সূচনায়। তবে ততদিনে অপু তার জীবন-মধ্যাহ্নে, যে কারণে আগের গল্পের সেই কাঁচা ছেলেটির চাইতে অনেক বেশি পোড় খাওয়া ও পরিণত একজন মানুষরূপে আমরা তাকে পাই। কিছু জিনিস বদলায়না অবশ্য – জীবনের শত প্রতিকূলতা আর অপর্ণা-লীলাদের চলে যাওয়ার পরেও অপু সেই আগের মতই সবুজ-মনের নিষ্পাপ মানুষটিই থাকে। সবাই তেমনি করে অপরাজিত থাকতে পারে?

কিশোর থেকে পুরুষ হয়ে ওঠার জীবনযুদ্ধে টিকে থাকা একজন মানুষের গল্প অপরাজিত। পাঠকদের অনেকেই গল্পের অপুর মাঝে নিজেকে খুঁজে পাবেন জানি, তাই আমাদেরই কারো না কারো যাপিত জীবনের হাসি-কান্না নিয়ে লেখা এই অসাধারণ উপন্যাসটি আজ তুলে দিলাম।

Aparajito (The Unvanquished) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

It has been quite a few months since I uploaded Bibhutibhushan Bandyopadhyay’s Pather Panchali (Song of the Road) on this site. This time, in a follow up to it, an absolute masterpiece of a sequel: Aparajito (The Unvanquished) takes off where Pather Panchali had left the young Apu – alone and facing this world for the first time. And in this story, the bildungsroman continues, in the same, beautifully human tone that we find in the first. Life is more real this time, though – Apu has to care for himself and his mother in a world that could not care less about his struggles, and later, for a son who is only a reflection of Apu’s younger self. And through it all, he strives to keep his dreams and ideals alive in the face of the harsh reality that surrounds him, and has to hold himself together even as the people he comes to love depart one by one. Perhaps the plot sounds familiar? It is a ‘coming of age’ story that every man lives out, after all – a most beautiful bildungsroman. I hope you will like it… and if you have ever felt like a little boy who has had to grow up all too soon, I know you will.

ছোটগল্প ৯৪ – ক্লাস ফ্রেন্ড / Short Story 94 – Class Friend

Satyajit Ray-Class Friendপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Class Friend

ক্লাস ফ্রেন্ড – সত্যজিৎ রায়

স্কুল ছাড়ার পর আমাদের সবার জীবন কেমন বদলে যায়, তাই না? একসময় যাদেরকে সবাই প্রতিশ্রুতিশীল বলে মনে করত, তাদের মধ্যে কতজনই না হারিয়ে যায়, আর গড়পড়তাদের মধ্যে থাকা কতজনই না উঠে আসে! আর অনেকদিন পর যদি সেই ক্লাসেরই একজন বন্ধুর সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে যায়, তখন?  অনেক বছর ধরে গড়ে ওঠা (কিংবা তোলা) ব্যবধানটার মধ্যে দিয়ে কি পুরোনো মুখটাকে আবার চেনা যায়? হয়তোবা, কিন্তু যেমনটা আমরা কল্পনা করি, হয়তো তেমনভাবে নয়।

Class Friend – Satyajit Ray

It is funny how our lives change after school in the most unexpected of ways… some of us, touted to have bright futures, unknowingly fade away, while a few, deemed to have lesser prospects, rise to the very top. Those of us who are older know all that too well, don’t we? So what happens when one comes across someone he knew from his school days – an once best friend, now unrecognizable through differences accumulated by decades of divergences of their lives? In ‘Class Friend’, Satyajit Ray explores.

গল্প ৫২ – দীপু নাম্বার ২ / Story 2 – Dipu Number 2

Jafar Iqbal-Dipu Number 2 BW

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bangla-Zafar Iqbal-Dipu Number 2

দীপু নাম্বার টু – জাফর ইকবাল

এবার এমন একটি গল্প, যেটিকে বাংলা কিশোরসাহিত্যের উজ্জলতর উদাহারণগুলোর মধ্যে একটি বললেও কমই বলা হয়। দীপু নাম্বার টু  গল্পটি এমন এক ছেলেকে নিয়ে, যে নামের দিক দিয়ে যে দ্বিতীয় হলেও সাধারণতার দিক দিয়ে সে অনন্য। গল্পটিকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা লিখলে এই লেখার শুধু দৈর্ঘ্যই বাড়বে, তাই বরং ভেবেচিন্তে গল্পেরই একটি অংশ তুলে দিলাম, যাতে গল্পের উপসংহারটুকু ছাড়া আর প্রায় সবটুকুরই আঁচ পাওয়া যায়।

দীপুর সাথে তার আব্বার সম্পর্ক একটু অদ্ভুত। মোটেই অন্য দশজন আব্বা আর তাদের ছেলের মত নয়। দীপু তার আব্বার সাথে এমনভাবে কথা বলে যেন তিনি তার ক্লাসেরই একটি ছেলে। নিজের আম্মাকে কখনো দেখেনি, আব্বাই তাকে বড় করেছেন একেবারে ছেলেবেলা থেকে। কাজেই দীপুর আব্বাই তার সবচেয়ে বড় বন্ধু।

বিছানায় পা বিছিয়ে বসে ছিলো দীপু, আব্বা ওর পায়ে ঝাঁঝালো গন্ধের কি একটা প্লাস্টার লাগিয়ে দিচ্ছিলেন। আরামে দীপু আহ্‌! উহ্‌ করতে করতে আব্বাকে দিনের পুরো ঘটনা খুলে বলছিল। আব্বা চুপ করে শুনে যাচ্ছেন, ভাল মন্দ কিছুই বলছেন না। দীপু আশা করছিল আব্বা তার পক্ষ নিয়ে বলবেন তারিক যে কাজটা করেছে সেটা অন্যায়। কিন্তু আব্বা একবারও তারিককে দোষ দিয়ে একটি কথাও বললেন না। দীপু বিরক্ত হয়ে বললো, তুমি কি মনে করছো সব দোষ তাহলে আমার?
কে বলল সব দোষ তোর?
তাহলে  –
তাহলে কি?
তারিক যে আমাকে ধোলাই দেবে বলল?
তা আমি কি করব?

দীপু চুপ করে থাকল, সত্যিই তো ওর আব্বা কি করবেন? কিন্তু সমবেদনাটা তো ও পেতে পারে।
তাহলে তুমি বলছ মারামারি করি ওর সাথে?
আমি কিছু বলছি না।
ও যদি করতে চায়?
ইচ্ছে হলে করবি, ইচ্ছে না হলে করবি না, মার খাবি।

দীপু হাল ছেড়ে দিল। খানিক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আমি ওর সাথে গন্ডগোল করতে চাই না, অথচ এমন পাজি ইচ্ছে করে ঝগড়া করে। জান আব্বা, এখনি সিগারেট খাওয়া শুরু করেছে।

তুই কি মনে করিস সিগারেট খেলেই মানুষ পাজি হয়?
হয়ই তো।
তাহলে আমিও পাজি?
যাও! দীপু হেসে বলল, তুমি কত বড় আর ও কত ছোট!
আমিও তো কত ছোট থেকে সিগারেট খেতাম।

দীপু নাম্বার টু‘ জাফর ইকবালের সেরা লেখাগুলোর মধ্যে একটি। একটি ছায়াছবিও তৈরী হয়েছে এই গল্পটি থেকে, যার ইউটিউব লিঙ্কটি নিচে তুলে দিলাম। ছবিটি গল্পটির মত অসাধারণ না হলেও আজকালকার বাংলায়/হিন্দিতে সিনেমার নামে যা হয়, তার চাইতে যে অনেক, অনেক ভালো, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই পাঠকেরা গল্প বা ছায়াছবির মধ্যে যেটাই বেছে নিক, তাই তাদের ভালো লাগবে আশা করি।

Dipu Number Two – Zafar Iqbal

One of Zafar Iqbal’s best works, Dipu Number 2 is a beautiful story about boyhood. Dipu, the protagonist, is like any boy in more ways than one – he is frail, he plays football, and he cries when beaten up by bigger boys. Yet, he is different enough for us to take notice – for one thing, he refuses to tell the teacher the name of the student who bullied him, but not out of fear. I would not like to give the story away, so I will keep it down to this: Dipu, a boy who has to study in a new school every year because his father is always on the move, moves to an umpteenth new place and new school. This time, however, things are different, as he has to face a renewed reality of not having a mother, and deal with a class-bully who only adds severity to the word. What’s more, there is a far more thrilling adventure at hand, of which he has not the slightest idea. So, to the readers, I hope that you will find the story as wonderful as I have, whichever of the pdf and the video you choose.

আত্মজীবনী ২ – সত্যজিৎ রায় – যখন ছোট ছিলাম / Autobiography 1 – Satyajit Ray – Jakhon Chhoto Chhilam (When I was little)

Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilamপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilam

যখন ছোট ছিলাম – সত্যজিৎ রায়

বেশ কিছুদিন হয়ে গেল এই সাইটে গল্প তোলা হয়নি। তাই আজ সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিচারণায় তার ছেলেবেলার গল্প তুলে দিলাম। যখন ছোট ছিলাম  যখন লেখা হয়, তখন সত্যজিতের বয়স হয়ে গেছে অনেক, অথচ গল্পটিতে শিশুমন আর ছেলেবেলার ছবি এমনই সুন্দরভাবে আঁকা, যে গল্পটা একজন বড় মানুষের জীবনটাকে পিছনে ফিরে দেখা, তা মনেই হয়না। কত কথাই যে সত্যজিৎ এই আত্মজীবনীতে লিখেছেন – প্রথম বার আইসক্রিম খাওয়ার গল্প, জুডো শেখা, চাবি পটকা বানানো, রবীন্দ্রনাথের সাথে দেখা হওয়া, ‘গাঁজার’ কথা – আরো কত কি! ছেলেবেলার গল্প যারা পড়তে ভালবাসেন, তাদের এই গল্পটা বিশেষভাবে ভাল লাগবে বলে বিশ্বাস করি। আর যাদের আরেকটু সুড়সুড়ি প্রয়োজন, তাদের জন্য গল্পটির থেকে দুটি ছবি তুলে দিলাম। একটি ছবি অবশ্য এই গল্পটি থেকে এর আগেই তুলেছি, তবে তা এখানে নয়, রবিঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতাকে নিয়ে (একটু উপরে এই অনুচ্ছেদের মাঝখানে সংযুক্ত/লিঙ্ক করা) অনেক আগে একটি লেখায়। 🙂

Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilam (2)

স্কুলে থাকাকালীন সময়ে সত্যজিৎ রায়ের শেখা বাংলা অক্ষর আর সংখ্যা নিয়ে একটি খেলা। A trick with Bangla numerals and letters which Satyajit Ray picked up in high-school.

Jakhon Chhoto Chilam (When I was little) – Satyajit Ray

It has been a few weeks since my last upload, so here is a punctuation. In Jakhon Chhoto Chilam (When I was little), Satyajit Ray portrays his childhood memories in such colors and with such innocence that it is hard to believe that he wrote those down years, years later. And what memories those were! Eating ice-cream for the first time, learning judo, making crackers, meeting Rabindranath Thakur… If you like reading stories of childhood, you will particularly love this story of a great man’s childhood. Enjoy!

Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilam (1)

ছোটবেলার খেলার জিনিস – চাবি পটকা আর দইয়ের ভাড় দিয়ে বানানো লন্ঠন / Childhood playthings – a cracker made from a key, and a lantern made from a pot.

গল্প ৪০ – আমার বন্ধু রাশেদ / Story 40 – Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend)

Jafar Iqbal-Amar Bandhu Rashed

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal-Amar Bandhu Rashed

আমার বন্ধু রাশেদ – জাফর ইকবাল

 “তুই মশাল মিছিলে যাবি?”
“হ্যা। ছোট বলে হাতে মশাল দিতে চায় না। আগে গিয়ে অনেক সাধাসাধি করতে হবে।”
ফজলু চোখ ছোট ছোট করে বলল, “ইশ! আমি যদি তোর সাথে যেতে পারতাম!”
রাশেদ বলল, “চল যদি যেতে চাস।”
ফজলু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। দিলীপ বলল, “ফজলু যাবে মশাল মিছিলে? তাহলেই হয়েছে। কাকা তোকে পিটিয়ে লম্বা করে দেবে না?”
ফজলু বিষণ্ন মুখে মাথা নাড়ল। আশরাফ গম্ভীর গলায় বলল, “বড় না হওয়া পর্যন্ত মিছিলে যোগ দেওয়া ঠিক না। রাজনৈতিক দল ভুলপথে নিয়ে যাবে।”
রাশেদ আবার বড় মানুষের মত বলল, “পথে তো নামতে হবে আগে, না হলে জানবি কেমন করে কোনটা ভুলপথ কোনটা ঠিক পথ?”

আমরা যখন বড় হই, তখন আর অন্য অনেক কিছুর সাথে সাথে সাহিত্যে রুচিও বদলায়। ছোটবেলায় যেসব গল্পগুলো পড়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম, সেইগুলোই হয়ত বড় হওয়ার পর হাস্যকর আর ছেলেমানুষীতে ভরা বলে মনে হয়। অবশ্য এমন সব গল্পও থাকে, যেগুলো সময় বয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মনকে আগের মতই টানে। আমার বন্ধু রাশেদ গল্পটি যখন প্রথম পড়ি, তখন আমি নেহাৎই ছোট। তখনকার কথা ভাবতে গেলে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের এক ছোট্ট শহরে চারজন কিশোরের বন্ধুত্ব আর সাহস নিয়ে লেখা গল্পটি পড়তে পড়তে নিজেও কেমন করে গুপ্তযোদ্ধা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তা মনে পড়ে। এত দিন পর জাফর ইকবালের লেখা এই গল্পটি যে তার অন্যান্য ছোটগল্প খোঁজার সময় হঠাৎ করে খুঁজে পাব, তা ভাবতে পারিনি। কিশোর বয়সে যেমন ‘বড়’ হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তার কিছুটা তো গত ক’বছরে হয়েছি, তাই এত দিন পর ভাল লাগবে কিনা, সেই দ্বিধা নিয়েই গল্পটি পড়তে বসেছিলাম। বুঝতে পারি নি যে এত বছর পরেও গভীর অভিমান নিয়ে শেষ হওয়া এই গল্পটি আমাকে আগের মতোই আবেগাপ্লুত করে তুলবে।

আমার মত পাঠকদেরও গল্পটি পড়ে তেমনই লাগবে, সেই বিশ্বাসে মুক্তিযুদ্ধ আর কৈশোর নিয়ে লেখা একাত্তরের এই অসাধারণ প্রতিচ্ছবিটি তুলে দিলাম – আমার বন্ধু রাশেদ , যা আমার মতে জাফর ইকবালের সেরা লেখাগুলোর মধ্যে একটি, আর যা দুই বাংলার যুদ্ধপরবর্তী প্রজন্মদের জন্যে একটি অবশ্যপাঠ্য।

Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) – Zafar Iqbal

Of the things that change with our growing up, taste in literature is one. Personally, I have always been intrigued by how the same works that many of us so looked forward to reading when we were young seem childish and laughable when we grow up. Some stories, however, still retain the old appeal over time, and I find Zafar Iqbal’s Amar Bandhu Rashed (Rashed, My Friend) to be one such story. Set in a Bangladeshi town during the liberation war of 1971, it narrates the adventures of four boys who risk their lives to liberate their town from the Pakistani military. Rashed, of course, is the leader of the pack, and his wit and bravery represent the romanticized archetype of the young Bangalee freedom fighter who fought for his land. Perhaps the masterwork by Zafar Iqbal, Amar Bandhu Rashed is probably the best introduction for young Bangalees to wartime literature, and a must read for post-war generations of both Bengals.

আত্মজীবনী ১ – জাফর ইকবাল – রঙিন চশমা / Autobiography 1 – Jafar Iqbal – Rangin Chashma (Tinted Glasses)

Jafar Iqbal-Rangin Chashma

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal-Rangin Chashma

রঙিন চশমা – জাফর ইকবাল

এতদিন ধরে যেসব গল্প এই সাইটে তুলেছি, সেগুলোর মধ্যে আত্মজীবনীমূলক লেখা একটিও নেই, তাই এইবারে বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবালের রঙিন চশমা  তুলে দিলাম। ১১১ পৃষ্ঠায় ফুটিয়ে তোলা ছাত্রজীবনের গল্প আহামরী লম্বা কিছু নয়, তবে আজকাল মানুষের সময় অল্প, তাই এটুকু আশা করব যে পাঠকরা দৈনন্দিন জীবনের ফাঁকে ফাঁকে গল্পটি পড়বেন। রঙিন চশমা গল্পটির শুরু হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শেষে, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে জাফর ইকবালকে নেহাৎই একজন কিশোর। তার পর ধাপে ধাপে তার বেড়ে ওঠা – যুদ্ধে মৃত বাবাকে কবর দেওয়া, সিগারেট খাওয়া (যা নিচে উদ্ধৃত করেছি), কলেজে থাকাবস্থায় পাগলামী, কার্টুন একে নিজের খরচ চালানো, সিল্ভার নাইট্রেট দিয়ে হাতে মাছ আঁকতে গিয়ে মরতে বসা, আর অ্যামেরিকায় পড়তে যাওয়া – আর অনেক কিছু নিয়েই একটি হাল্কা স্মৃতিচারণা। আজকের জাফর ইকবালকে অনেকটুকুই বোঝা যায় এই লেখাটি পড়লে।

“আমার বাবা অত্যন্ত সুদর্শন ব্যক্তি ছিলেন। তাকে সবচেয়ে সুন্দর দেখাত যখন তিনি সিগারেট খেতেন। তার সিগারেট খাওয়ার একটা সুন্দর ভঙ্গি ছিল যেটা আমি আর কোথাও দেখিনি। মধ্যমা আর তর্জনীর মাঝখানের অংশটুকু মুখে লাগিয়ে সিগারেট টানতেন। বাবা একটু ভাবুক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, তাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক হাত কোমরে রেখে অন্য হাতে সিগারেট টানতে টানতে আকাশের দিকে তাঁকিয়ে একটু আনমনা হয়ে যেতেন। সেই ভঙ্গিটি এক কথায় ছিল অপূর্ব। তাই আমি একেবারে অনেক ছোট থাকতেই ঠিক করে রেখেছিলাম যে যখন বড় হব তখন আমি বাবার মতো করে সিগারেট খাব।

বড় হওয়ার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছি। যখন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি তখন মনে হল এখন নিশ্চই বড় হয়েছি, এখন সিগারেট খাওয়া শুরু করতে হয়। তাই খুব কষ্ট করে আমি সিগারেট খাওয়া শেখার চেষ্টা করতে লাগলাম। দামি সিগারেট খাওয়ার পয়সা নেই তাই সস্তা সিগারেট দিয়ে সিগারেট খাওয়া শিখছি। সেটা যে কি কষ্ট আমি বলে বোঝাতে পারব না। বিদঘুটে গন্ধ, সিগারেটের ধোঁয়া বুকের ভেতর নিয়ে খকখক করে কাশি, মনে হয় নাড়ি উল্টে আসবে, কিন্তু আমি হাল ছেড়ে দিলাম না।

শেষ পর্যন্ত আমি সিগারেট খাওয়া শিখে গেলাম। সিগারেট খেতে যত আনন্দ তার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ সেটা দশজনকে দেখিয়ে।

একদিন কোথায় জানি যাচ্ছি, হঠাৎ সিগারেট খাবার ইচ্ছে করল। আমি রাস্তার পাশের একটা দোকান থেকে একশলা সিগারেট কিনে মুখে লাগিয়ে আয়েশ করে একটা টান দিয়েছি তখন একটা বিচিত্র ঘটনা ঘটল। রাস্তার পাশে একটা গাড়ি থেমেছে এবং সেই গাড়ি থেকে দুজন ভদ্রমহিলা নেমে এলেন। তারা অন্য কোথাও যাচ্ছিলেন কিন্তু একজন আমাকে দেখে থেমে গেলেন। কেমন যেন একটা বিস্মিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর আমার দিকে এগিয়ে এসে আমাকে আহত গলায় বললেন, “তুমি এত ছোট ছেলে সিগারেট খাও?”

আমি একেবারে থতমত খেয়ে গেলাম। রাস্তার মাঝখানে একজন আমাকে এভাবে সিগারেট খাওয়ার জন্য ধমক দিতে পারে আমি কল্পনাও করতে পারি নি। কোনমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, “আমি মোটেও ছোট ছেলে না। আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ি।”

আমার কথায় কোন কাজ হল না। ভদ্রমহিলা কেমন যেন ব্যথিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন, বললেন, “না। এত ছোট ছেলে তুমি সিগারেট খাবে না।”

আমি কোনমতে তার দৃষ্টি থেকে সরে এলাম – সিগারেট টানতে টানতেই।

আমার মাঝে মাঝে মনে হয় সেই ভদ্রমহিলার সাথে এখন দেখা হলে বলতাম, “এই দেখেন! আমি এখন আর ছোট ছেলে না – আমি কিন্তু আর সিগারেট খাই না।”

কিন্তু তার সাথে আর কখনো দেখা হয়নি।”

Rangin Chashma – Zafar Iqbal

The works that I have uploaded so far on this site have not included any autobiographies, hence, as a first, this upload. Rangin Chashma (Tinted Glasses) written by the popular Bangladeshi author Zafar Iqbal, contains the memoirs of his life as a youth in the 70’s Bangladesh, when the country was just finding its feet after the War of Independence. Anecdotes, emotions and nostalgia – of the days of burying his war-dead father, of hardship, smoking for the first time (quoted below), working as a cartoonist to support himself, and finally going to the US for higher studies – make this book not only a heartwarming read but also a doorway into understanding the author as we know him today.

ছোটগল্প ২১ – চিলেকোঠা / Short Story 21 – Chilekotha (The Attic)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Chilekotha

চিলেকোঠা – সত্যজিৎ রায়

আমাদের অনেকের জীবনেই ছোটবেলায় বেড়ে ওঠার স্থানটির সাথে চীরকালের মত ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় – বিশেষ করে নগরগামীতার এই যুগে। কেউ কেউ অবশ্য শৈশবের সেই জায়গাটিকে একবার হলেও দেখার জন্যে ফিরে যায়, আর তখন হঠাৎ কিছু চেনা মুখের সাথে দেখা হয়ে গিয়ে পুরোনো স্মৃতি আবার জেগে ওঠে। এবার তেমনই এক গল্প।

Chilekotha (The Attic) – Satyajit Ray

In the course of our lives – and particularly in this time of urban migration – quite a few of us leave our childhood homes forever. Sometimes, however, a few of us return for reasons unknown, resulting in encounters with familiar faces that bring back memories of the past. In Chilekotha, Satyajit Ray narrates one such visit and its consequence – a resolution that was long overdue.

ছোটগল্প ১৯ – প্রসন্ন স্যার / Short Story 19 – Prasanna Sir

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Prasanna Sir

প্রসন্ন স্যার – সত্যজিত রায়

কিছুদিন আগে ছাত্রজীবনে আমাদের যেসব ‘গরুবন্ধু’ থাকে, তাদেরই একজনকে নিয়ে লেখা জাফর ইকবালের একটি ছোটগল্প আপলোড করেছিলাম। জীবন অবশ্য কখনো কখনো সেই গল্পের উল্টোটাই লেখে। সেজন্যেই সত্যজিৎ রায়ের এই গল্পটি তুলে দিলাম। ‘প্রসন্ন স্যার’ – স্কুল শেষ হয়ে যাওয়ার অনেকদিন পর একটি বর্ষের ‘ফার্স্ট বয়’, একজন ‘অপদার্থ’, আর তাদেরই একজন শিক্ষকের আবার দেখা হওয়ার গল্প।

Prasanna Sir – Satyajit Ray

A few posts earlier, I had uploaded a short-story about the ‘not-so-bright’ friend that many of us have. Sometimes, though, life writes a different story. Hence this upload – a story in which the ‘first-boy’ and the ‘dimwit’ of a certain class meet their teacher a long time after graduating.

ছোটগল্প ১৬ – দুই বন্ধু / Short Story 16 – Dui Bandhu (Two Friends)

Dui Bondhu

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Dui Bandhu

দুই বন্ধু – সত্যজিৎ রায়

এবার একটি হাল্কা ধাঁচের গল্প। দুই দশক আগের কথা – মহিম আর প্রতুল নামের দুজন কিশোর বন্ধু আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে প্রতিজ্ঞা করে যে বিশ বছর পর তারা পরস্পরের চেনা একটি জায়গায় আবার দেখা করবে। মহিমের সে কথাটি এতদিন মনে থাকলেও প্রতুলের আছে কিনা সে বিষয়ে তার সন্দেহ ছিল। হাজার হোক, বিশ বছর তো আর অল্প সময় নয়।

Dui Bandhu (Two Friends) – Satyajit Ray

A somewhat lighthearted post this time. Twenty years ago at the time of their separation, two young friends – Mahim and Pratul – promise to meet again at a place they both know two decades later. While Mahim remembers the arrangement, he is not sure that Pratul does. Two decades is a long time, after all.