গল্প ১০৫ – ফেলুদা – কৈলাসে কেলেঙ্কারী / Story 105 – Feluda – Kailash e Kelenkari (A Killer In Kailash)

Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari 1পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari

ফেলুদার গল্প – কৈলাসে কেলেঙ্কারী – সত্যজিৎ রায়

অনেকদিন পর এই সাইটে আবার ফেলুদা – আর এবার এমনই একটি গল্পে, যা এতদিনের বিরতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার মতই রহস্য-রোমাঞ্চে ঠাসা। ফেলুদার গল্পগুলোর বেশিরভাগই সত্যজিৎ রায় লিখেছিলেন কোন ব্যক্তিবিশেষ কিংবা পরিবারকে ঘিরে কোন রহস্যকে নিয়ে – যেমনটা আমরা পাই এবার কাণ্ড কেদারনাথে কিংবা ছিন্নমস্তার অভিশাপ এর মত গল্পগুলোতে। কৈলাসে কেলেঙ্কারী সেদিক দিয়ে একটু আলাদা – এই গল্পে ফেলুদাকে লড়তে হয় এমনই একটি চক্রের সাথে, যাদের নাগাল ভারতের প্রতিটি কোণে, আর যাদের কাছ থেকে নিজেকে ও তোপসেদের মুক্ত রাখতে প্রায় পুরো গল্পজুড়েই ফেলুদাকে থাকতে হয় আমাদের অগোচরে। পাঠকদের একটু সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্যে গল্প থেকে দুটো অনুচ্ছেদ তুলে দেই –

“কেন মুশকিল কেন?… তবে একটা কথা বলি – একটা অ্যাডভাইস, অ্যাজ এ ফ্রেন্ড – এই সব র‍্যাকেটের পেছনে মাঝে মাঝে এক একটা দল থাকে – গ্যাং – এবং তারা বেশ পাওয়ারফুল হয়। গায়ের জোর বলছি না। পয়সার জোর। পোজিশনের জোর। শিক্ষিত অবস্থাপন্ন লোকেরা যখন নোংরা কাজে নামে, তখন সাধারণ ক্রিমিনালদের চেয়ে তাদের বাগে আনা অনেক বেশি শক্ত হয়, জানেন তো?”

আর এটা ফেলুদার –

“(এটা) আরও বেশি প্রেশাস। চুনি পান্না পৃথিবীতে হাজার হাজার আছে, ভবিষ্যতে সংখ্যায় আরও বাড়বে। কিন্তু কৈলাসের মন্দির বা সাঁচির স্তূপ বা এলিফ্যান্টার গুহা – এসব একটা বই দুটো নেই। হাজার-দু হাজার বছর আগে আমাদের আর্ট যে হাইটে উঠেছিল সে হাইটে ওঠার কথা আজকের আর্টিস্ট ভাবতেই পারে না। সুতরাং সে যুগের আর্ট দেশে যা আছে তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যারা তাকে নষ্ট করতে চায় তারা ক্রিমিন্যাল। আমার মতে ভূবনেশ্বরের যক্ষীকে হত্যা করা হয়েছে। যে করেছে তার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।”

অমূল্য প্রত্নসম্পদ, সঙ্ঘবদ্ধ পাচারকারী ও গোয়েন্দা প্রদোষ চন্দ্র মিত্র… তিন ‘প’তে মিলে ফেলুদার আরেকটি দুর্দান্ত গল্প – কৈলাসে কেলেঙ্কারী – পাঠকদের জন্যে।

Feluda’s Adventures – Kailash e Kelenkari (A Killer in Kailash)

A long break later, a Feluda upload again – and this time, a story that is certainly worth the long wait that has been for some of you. While most of Feluda’s stories were centred on mysterious families and/or individuals (Chinnamaster Abhishap and Ebar Kando Kedarnath e are cases in point) Kailash e Kelenkari (A Killer in Kailash) is a big departure from that trend – in this story, our favorite sleuth faces a syndicate that not only is pan-Indian in its reach, but also murdurous in its smuggling of ancient Indian artifacts abroad. Interestingly, unlike Feluda’s other adventures, this story is one with a somewhat nationalistic tone – a generous dose of James Bond added to the usual Holmesian narrative, if you ask me… but far from diluting the plot, that only adds to its thrill. ‘For your eyes only’, therefore, this upload. Enjoy!

Satyajit Ray-Feluda-Kailash e Kelenkari 2

গল্প ৯৬ – ফেলুদা – রয়েল বেঙ্গল রহস্য / Story 96 – Feluda – Royal Bengal Rahasya (The Royal Bengal Mystery)

Satyajit Ray-Feluda-Royal Bengal Rahasya 1

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Royal Bengal Rahasya

ফেলুদার গল্প – রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

এবার ফেলুদার আরেকটি গোয়েন্দাকাহিনী। কলকাতায় তখন গ্রীষ্ম, আর ফেলুদারাও বসে, তেমনই এক সময় ডুয়ার্স হতে মহীতোষ সিংহরায় নামের এক জমিদারের কাছ থেকে লালমোহন বাবুর কাছে এক নিমন্ত্রণপত্র আসে। মহীতোষবাবুর সাথে লালমোহন বাবুর পত্রালাপ থাকলেও ফেলুদার সাথে ছিল না, কিন্তু তার চিঠির শেষটুকু ছিল এইরূপ –

“আপনার বন্ধু শ্রীপ্রদোষ মিত্র মহাশয়ের ধুরন্ধর গোয়েন্দা হিসাবে খ্যাতি আছে বলিয়া শুনিয়াছি। আপনি তাহাকে সঙ্গে করিয়া আনিতে পারিলে তিনি হয়তো আমার একটা উপকার করিতে পারেন। কি স্থির করেন পত্রপাঠ জানাইবেন।”

অতঃপর ফেলুরাদের ডুয়ার্সের উদ্দেশ্যে যাত্রা, আর রয়েল বেঙ্গল রহস্যের শুরু। মহীতোষবাবুর জমিদারীতে পৌঁছানোর পর ফেলুদারা জানতে পারেন যে সিংহরায় পরিবারের এক পূর্বপুরুষ এককালে বহু পারিবারিক ধনরত্ন পাগলামীর বশে এক গোপন জায়গায় লুকিয়ে  তা খুঁজে বের করার জন্যে একটি ধাঁধা রেখে গিয়েছিলেন। ফেলুদার কাছে অবশেষে তাদের নিমন্ত্রিত হওয়ার মূল কারণটি স্পষ্ট হয়, আর কাজটি নিতে ফেলুদা সম্মতও হয়। কিন্তু সেই রাতেই বনের মাঝে লোকজনের গোপন আনাগোনা তার চোখে পরে, আর পরদিন বনের মধ্যে মহীতোষ বাবুর সহকারী তড়িৎবাবুর বাঘে-খাওয়া লাশের সন্ধান মেলে। ফেলুদা দুটো রহস্যই উদঘাটনের সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্ত তার ফলে সিংহরায় পরিবারের অনেক অপ্রিয় গোপন কথা এক এক করে বেরিয়ে আসতে শুরু করে।

রয়েল বেঙ্গল রহস্যের শুরুতেই সত্যজিৎ রায় গল্পের ধাঁধাটি তুলে দিয়েছিলেন, আমিও পাঠকদের সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্যে নাহয় তাই করি। তাছাড়া ছায়াছবি দেখতে যারা ভালবাসেন, তাদের জন্যে সত্যজিৎ রায়ের গল্পটি থেকে বানানো সিনেমাটির ইউটিউব লিঙ্কটিও নিচের ছবিটিতে সংযুক্ত করে দিলাম।

মুড়ো হয় বুড়ো গাছ
হাত গোন ভাত পাঁচ
দিক পাও ঠিক ঠিক জবাবে।

ফাল্গুন তাল জোড়
তার মাঝে ভুঁই ফোঁড়
সন্ধানে ধন্দায় নবাবে।

Feluda’s Stories – Royal Bengal Rahasya (The Royal Bengal Mystery) – Satyajit Ray

In this upload, another Feluda Adventure: During an unbearable summer in Kolkata, Lalmohan Babu receives an invitation to visit from an acquaintance, Mohitosh Singha Roy, a rich zamindar from Assam. In the letter, Feluda is invited as well, with a hint from Mr. Singha Roy that Feluda would be able to do a favor to him. Feluda and co. accept, and a few days later, arrive in Mr. Singha Roy’s estate in the forests of Dooars. It turns out that a long time ago, one of Mr. Singha Roy’s ancestors had hidden his family’s treasure, and ciphered the location in six lines of rhyme that had remained with the Singha Roy family since. Feluda accepts the challenge to decode it, but that very night, Mohitosh Babu’s secretary disappears and his partially eaten body is found in the forest the next day. Feluda is now left with two mysteries to solve, with the shadow of a man-eating tiger looming large over it all.

For those who love movies, a link to the YouTube video is the in the picture below.

Satyajit Ray-Feluda-Royal Bengal Rahasya 2

গল্প ৯২ – ফেলুদা – জয় বাবা ফেলুনাথ / Story 92 – Feluda – Jay Baba Felunath

Satyajit Ray-Feluda-Jay Baba Felunath 1পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Jay Baba Felunath

ফেলুদার গল্প – জয় বাবা ফেলুনাথ – সত্যজিৎ রায়

মৌসুমটা যখন পূজোর, তাই এবারের গল্পটাও নাহয় সময়টার মতই জমজমাট হোক। জয় বাবা ফেলুনাথ ও কিন্তু পুজোর সময়েরই গল্প, তবে এতে ফেলুদার গোয়েন্দাগিরী বাংলাতে নয়, ঘটে কাশীর সরু গলিগুলোর মধ্যে। দশাশ্বমেধ ঘাট আর বিশ্বনাথের শহর কাশীতে ফেলুদাদের যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল পুজোর ছুটি কাটানো, কিংবা লালমোহনবাবুর ভাষায় “কাশী, (ফেলুদার তদন্তের) কেস আর (কাশীতে ঘুরে প্লট জোগাড় করে তা নিয়ে লিখে লালমোহন বাবুর) ক্যাশ” জোটানো। শেষ পর্যন্ত যা হয়, তা তোপ্‌সের বর্ণনায় –

বেনারস গিয়ে লালমোহনবাবু গল্পের প্লট পেয়েছিলেন ঠিকই; তবে ফিরে আসার দুমাস পরে বড়দিনে তার যে রহস্য উপন্যাসটা বেরোল, সেটার সাথে টিনটিনের একটা গল্পের আশ্চর্য মিল।

ফেলুদার কিন্তু গিয়ে সত্যিই লাভ হয়েছিল। তা না হলে অবিশ্যি এই বইটাই লেখা হত না। ফেলুদার জীবনে সবচেয়ে ধুরন্ধর ও সাংঘাতিক প্রতিদ্বন্দীর সঙ্গে তাকে এই বেনারসেই লড়তে হয়েছিল। ও পরে বলেছিল – ‘এইরকম একজন লোকের জন্যই অ্যাদ্দিন অপেক্ষা করছিলাম রে তোপ্‌সে। এ সব লোকের সঙ্গে লড়ে জিততে পারলে সেটা বেশ একটা টনিকের কাজ দেয়।’

গোয়েন্দা সাহিত্যে নায়কের কৃতিত্বের সিংহভাগই যে খলনায়কের কারণেই, জয় বাবা ফেলুনাথ  এর মগনালাল মেঘরাজ তার অখন্ডনীয় প্রমাণ। গল্পটা কিভাবে শেষ হয়, তা তো জানাই। কিন্তু প্রথম আর শেষের মাঝখানে ঠাসা যেই টানটান উত্তেজনা, তাতো আর সেটি না পড়লে বোঝার নয়। তাই এই পূজোয় পাঠকদের জন্যে আজ ফেলুদার আর মগনলালের রোমহর্ষক সংঘর্ষের কাহিনী – জয় বাবা ফেলুনাথ । শারদীয় শুভেচ্ছা রইল।

Feluda’s Stories – Jay Baba Felunath – Satyajit Ray

For about half of us Bangalees, it is that wonderful time of the year again. And the season demands that everything else measures up to it, does it not? So this time, as the season’s greetings from yours truly, an upload that is perhaps the best of the Feluda series. Imagine yourself in a few days from now, celebrating this year’s Durga Puja, but not in Kolkata or some other place in Bangla. Instead, you are in Kashi, the old and colorful city of temples and narrow lanes, of ghats on the Ganga, and of gangsters and godfathers. Now, imagine you are a sleuth, and that a local Bangalee in distress asks for your help on a case. You accept, only to find yourself against the godfather of the city, Maganlal Meghraj, whose goons lurk in every corner of Benares. What would you do? What would Feluda do against the man who is every bit of Moriarty as he is to Holmes, and more? The answer is in Jay Baba Felunath, attached here for your reading pleasure.

Satyajit Ray-Feluda-Jay Baba Felunath 2

গল্প ৯০ – ফেলুদা – রবার্টসনের রুবি / Story 90 – Feluda – Robertson er Ruby (Robertson’s Ruby)

Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby (1)

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby

ফেলুদার গল্প – রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

আরেকবার ফেলুদা, তবে এটি পাহাড় কিংবা নগর নয়, বরং বাংলারই বীরভূমকে পটভূমি করে লেখা। গল্পটি যার পূর্বপুরুষের পান্নাকে (রুবি) নিয়ে, সেই রবার্টসনের সাথে ফেলুদাদের প্রথম পরিচয় হয় বীরভূমে যাওয়ার ট্রেনে, যা পরে সখ্যে গড়ায়। ভারতপ্রেমী রবার্টসন তার আলোকচিত্রী বন্ধু টম ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে বীরভূম যাচ্ছিলেন পোড়ামাটির স্থাপত্যকলার স্থানীয় কিছু নিদর্শন দেখতে। তবে তার কাছে যে ভারত থেকে তারই ব্রিটিশ পূর্বপুরুষের লুঠ করা এক বহুমূল্য পান্না আছে, আর তা যে তিনি ভারতে ফেরত দিতে এসেছেন, সে খবর চাউর হয়ে যাওয়ায় অনেকেরই অনাকাঙ্খিত নজর পড়ে তার উপর। ব্যাপারটা ফেলুদার চোখে পড়লেও তার চিন্তার কারণ ছিল অন্য – ম্যাক্সওয়েল, যার ঔদ্ধত্য আর ভারতবিদ্বেষ শুধু পান্নাটিরই নয়, এমনকি রবার্টসনদের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

************************

সত্যজিৎ রায়ের গল্পগুলি বাস্তব চরিত্রদের দ্বারা কতটুকু অনুপ্রাণিত, তা নিয়ে বোধহয় খুব বেশি গবেষণা হয়নি, তবে রবার্টসনের রুবিতে লেখকের একজন বন্ধুর উল্লেখ আমরা পাই – ডেভিড ম্যাককাচন, যিনি বাংলার পোড়ামাটির স্থাপত্যকলা নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছিলেন। রবার্টসনের রুবি সত্যজিৎ প্রকাশ করার কিছুদিন আগে ম্যাককাচন মারা যান, তাই মনে হয় গল্পটিতে ম্যাককাচনের প্রশংসাটুকু হয়তো সত্যজিৎ পুরোনো বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী হিসেবে লিখেছিলেন।

Satyajit Ray-Feluda-Robertson er Ruby (2)Feluda’s Stories – Robertson er Ruby (Robertson’s Ruby) – Satyajit Ray

Feluda again, and this time, a bit closer to home. Robertson er Ruby starts with Feluda and company on a train journey to a vacation in Birbhum, when they meet and befriend Peter Robertson, an India-enthusiast who was traveling across the country with his friend, photographer Tom Maxwell. Although foremost a traveler, Peter was unique from other visitors, for he had come to India to return a priceless ruby that his great-great grandfather had looted during the British occupation of India. However, the ruby had also made him a target of collectors and potentially, criminals. Feluda saw travel ahead even as he befriended Robertson, but his unease would only be exacerbated by Maxwell, whose anti-Indian sentiment and superiority complex would put the entire party on the wrong side of the locals.

************************

While notable for its pro-Indian sentiment and storyline alone, Robertson er Ruby is also perhaps unique in the sense that in the story, Satyajit Ray refers to a close friend – David McCutchion, who pioneered the academic study of the terracotta temples of Bangla. MuCutchion had probably died shortly before the story was published, and the Ray’s praise of McCutchion through the voice of Feluda can perhaps be regarded as a tribute to an old friend.

কবিতাগুচ্ছ ১১ – রবীন্দ্র অণুকাব্য (লেখন) / Anthology 11 – Rabindra Anukabya (Lekhan) (Epigrams and Verses by Rabindranath Thakur)

‘রবীন্দ্রনাথ’ শব্দটি শুনলেই আমাদের অনেকেই গুরুগম্ভীর সাহিত্যের কথা ভাবি। অথচ কবিগুরু যে কত ছোট ছোট অথচ গভীর অর্থপূর্ণ কাব্য রচনা করেছেন, তা আমাদের অনেকেই খেয়ালে রাখিনা। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা হয়ত আজ সেসব অনুকাব্যগুলোকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তোলে, তাই রবিঠাকুরের কিছু অনুকাব্য নিয়ে এই পোস্ট। অন্যসব পোস্টগুলোর চাইতে এটি একটু আলাদা, কারণ এটি স্থির নয়, অন্য পোস্টগুলোতে লেখা তোলার ফাঁকে ফাঁকে এটিতে আমি নতুন নতুন কবিতা তুলব, কখনো কখনো অনুবাদ আর কখনো কখনো ছবি সহ। কবিগুরুর হাতের লেখাও কিছু থাকবে এতে। পাঠকদের কাছে এই প্রয়াসটুকু ভাল লাগবে আশা করি।

The word ‘Rabindranath’ often makes many a Bangalee think about serious literature – not unreasonably, as many of his works make for more than heavy reading. However, such thought perhaps arises because many of us Bangalee millennials remain unaware of the short verses and epigrams which he wrote. Delightful and profound in their own right, they are perhaps even more relevant in our time constrained modern life. Hence this post. This one is a little different from the other ones, as I plan to periodically add fresh works by the poet to it, with occasional translations and somewhat relevant images. I hope the readers will find my effort worth their time.

লেখন  হতে তুলে দেওয়া কিছু অনুকাব্য / Some Verses from Lekhan

“এই লেখনগুলি সুরু হয়েছিল চীনে জাপানে। পাখায় কাগজে রুমালে কিছু লিখে দেবার জন্যে লোকের অনুরোধে এর উৎপত্তি। তারপরে স্বদেশে ও অন্য দেশেও তাগিদ পেয়েছি। এমনি করে এই টুকরো লেখাগুলি জমে উঠ্‌ল। এর প্রধান মূল্য হাতের অক্ষরে ব্যক্তিগত পরিচয়ের। সে পরিচয় কেবল অক্ষরে কেন, দ্রুতলিখিত ভাবের মধ্যেও ধরা পড়ে… অন্যমনস্কতায় কাটাকুটি ভুলচুক ঘটেছে। সে সব ত্রুটিতেও ব্যক্তিগত পরিচয়েরই আভাস রয়ে গেল॥

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (হাঙ্গেরী, ১৯২৬)

“The lines in the following pages had their origin in China and Japan where the author was asked for his writings on fans or pieces of silk.”

Rabindranath Thakur (Hungary, 1926)

(১/1)

Rabindranath Thakur-Fireflies (2)

স্বপ্ন আমার জোনাকি ,
দীপ্ত প্রাণের মণিকা ,
স্তব্ধ আঁধার নিশীথে
উড়িছে আলোর কণিকা ॥

My fancies are fireflies
specks of living light—
twinkling in the dark.

(Translated by the poet himself)

(২/2)

আমার লিখন ফুটে পথধারে
ক্ষণিক কালের ফুলে ,
চলিতে চলিতে দেখে যারা তারে
চলিতে চলিতে ভুলে ॥

The same voice murmurs
in these desultory lines
which is born in wayside pansies
letting hasty glances pass by.

(Translated by the poet himself)

(৩/3)

Rabindranath Thakur-Projapoti (2)

প্রজাপতি সেতো বরষ না গণে ,
নিমেষ গণিয়া বাঁচে ,
সময় তাহার যথেষ্ট তাই আছে ॥

The butterfly does not count years
but moments
and therefore has enough time.

(Translated by the poet himself)

(১৩/13)

দুঃখের আগুন কোন্ জ্যোতির্ময় পথরেখা টানে
বেদনার পরপার পানে॥

The fire of pain traces for my soul
a luminous path across her sorrow.

(Translated by the poet himself)

(১৪/14)

দেবমন্দির-আঙিনাতলে শিশুরা করেছে মেলা।
দেবতা ভোলেন পূজারি-দলে, দেখেন শিশুর খেলা॥

From the solemn gloom of the temple
children run out to sit in the dust,
God watches them play and forgets the priest.

(Translated by the poet himself)

(১৬/16)

Rabindranath Thakur-Akash Dharare

আকাশ ধরারে বাহুতে বেড়িয়া রাখে,
তবুও আপনি অসীম সুদূরে থাকে॥

Though he holds in his arms the earth-bride,
the sky is ever immensely away.

(Translated by the poet himself)

(১৭/17)

Rabindranath Thakur-Dur Eshechhilo Kachhe

          দূর এসেছিল কাছে–
ফুরাইলে দিন, দূরে চলে গিয়ে আরো সে নিকটে আছে।

One who was distant came near to me in the morning,
and still nearer when taken away by night.

(Translated by the poet himself)

(২০/20)

দাঁড়ায়ে গিরি, শির
মেঘে তুলে,
দেখে না সরসীর
বিনতি।
অচল উদাসীর
পদমূলে
ব্যাকুল রূপসীর
মিনতি॥

The lake lies low by the hill,
a tearful entreaty of love
at the foot of the inflexible.

(Translated by the poet himself)

(২২/22)

Rabindranath Thakur-Giri Megh (2)

মেঘ সে বাষ্পগিরি,
গিরি সে বাষ্পমেঘ,
কালের স্বপ্নে যুগে যুগে ফিরি ফিরি
এ কিসের ভাবাবেগ॥

Clouds are hills in vapour,
hills are clouds in stone
– a phantasy of time’s dream.

(Translated by the poet himself)

(২৫/25)

Rabindranath Thakur-Dui Tire Tar

দুই তীরে তার বিরহ ঘটায়ে
সমুদ্র করে দান
অতল প্রেমের অশ্রুজলের গান॥

The two separated shores mingle their voices
in a song of unfathomed tears.

(Translated by the poet himself)

(৩০/30)

হে আমার ফুল, ভোগী মূর্খের মালে
না হ’ক তোমার গতি,
এই জেনো তব নবীন প্রভাতকালে
আশিস তোমার প্রতি॥

(৩৬/36)

Rabindranath Thakur-Matir Prodip (2)

মাটির প্রদীপ সারা দিবসের অবহেলা লয় মেনে,
রাত্রে শিখার চুম্বন পাবে জেনে॥

The lamp waits through the long day of neglect,
For the flame’s kiss in the night.

(Translated by the poet himself)

(৫৯/59)

Rabindranath Thakur-Kuasha Giri (1)

কুয়াশা যদি বা ফেলে পরাভবে ঘিরি
তবু নিজমহিমায় অবিচল গিরি॥

The mountain remains unmoved
by its seeming defeat by the mist.

(Translated by the poet himself)

(৬০/60)

Rabindranath Thakur-Parbatamala (2)

পর্বতমালা আকাশের পানে চাহিয়া না কহে কথা,
অগমের লাগি ওরা ধরণীর স্তম্ভিত ব্যাকুলতা॥

Hills are the earth’s gesture of despair
for the unreachable.

(Translated by the poet himself)

(৬১/61)

একদিন ফুল দিয়েছিলে , হায় ,
কাঁটা বিঁধে গেছে তার ।
তবু , সুন্দর , হাসিয়া তোমায়
করিনু নমস্কার ॥

Though the thorn in thy flower pricked me,
O Beauty,
I am grateful.

(Translated by the poet himself)

(৬২/62)

হে বন্ধু , জেনো মোর ভালোবাসা ,
কোনো দায় নাহি তার —
আপনি সে পায় আপন পুরস্কার ॥

Let not my love be a burden on you, my friend,
know that it pays itself.

(Translated by the poet himself)

(৬৩/63)

স্বল্প সেও স্বল্প নয়, বড়োকে ফেলে ছেয়ে।
দু-চারিজন অনেক বেশি বহুজনের চেয়ে॥

The world knows that the few
are more than the many.

(Translated by the poet himself)

(৬৬/66)

Rabindranath Thakur-Budbud (2)

বুদ্বুদ  সে তো বদ্ধ আপন ঘেরে
শূন্যে মিলায়, জানে না সমুদ্রেরে॥

In its swelling pride
the bubble doubts the truth of the sea,
and laughs and bursts into emptiness.

(Translated by the poet himself)

(৬৮/68)

Rabindranath Thakur-Megher Dal

মেঘের দল বিলাপ করে
আঁধার হল দেখে ,
ভুলেছে বুঝি নিজেই তারা
সূর্য দিল ঢেকে ॥

My clouds, sorrowing in the dark,
forget that they themselves
have hidden the sun.

(Translated by the poet himself)

(৭১/71)

Rabindranath Thakur-Asim Akash (1)

অসীম আকাশ শূন্য প্রসারি রাখে,
হোথায় পৃথিবী মনে মনে তার
অমরার ছবি আঁকে॥

The sky remains infinitely vacant
for earth there to build its heaven with dreams.

(Translated by the poet himself)

(৭৫/75)

আকর্ষণগুণে প্রেম এক ক’রে তোলে।
শক্তি শুধু বেঁধে রাখে শিকলে শিকলে॥

Power said to the world, “You are mine.
The world kept it prisoner on her throne.
Love said to the world, “I am thine.”
The world gave it the freedom of her house.

(Inferred translation by the poet himself)

(৭৬/76)

Rabindranath Thakur-Mahataru Bahe (2)

মহাতরু বহে
বহু বরষের ভার।
যেন সে বিরাট
এক মুহূর্ত তার॥

The tree bears its thousand years
as one large majestic moment.

(Translated by the poet himself)

(৮০/80)

স্তব্ধ অতল শব্দবিহীন মহাসমুদ্রতলে
বিশ্ব ফেনার পুঞ্জ সদাই ভাঙিয়া জুড়িয়া চলে॥

The world is the ever-changing foam
that floats on the surface of a sea of silence.

(Translated by the poet himself))

(৮২/82)

গোঁয়ার কেবল গায়ের জোরেই বাঁকাইয়া দেয় চাবি,
শেষকালে তার কুড়াল ধরিয়া করে মহা দাবাদাবি॥

The clumsiness of power spoils the key
and uses the pickaxe.

(Translated by the poet himself)

(৮৬/86)

Rabindranath Thakur-Mor Kagojer Khelar Nouka 2

মোর কাগজের খেলার নৌকা ভেসে চলে যায় সোজা
বহিয়া আমার অকাজ দিনের অলস বেলার বোঝা॥

These paper boats of mine are meant to dance
on the ripple of hours,
and not to reach any destination.

(Translated by the poet himself)

(৯৬/96)

Rabindranath Thakur-Shishir Rabire (1)

শিশির রবিরে শুধু জানে
বিন্দুরূপে আপন বুকের মাঝখানে॥

The dew-drop knows the sun
only within its own tiny orb.

(Translated by the poet himself)

(৯৭/97)

Rabindranath Thakur-Apon Asim Nishfalatar 1

আপন অসীম নিষ্ফলতার পাকে
মরু চিরদিন বন্দী হইয়া থাকে॥

The desert is imprisoned in the wall
of its unbounded barrenness.

(Translated by the poet himself)

(১২২/122)

???????????????????????????????

সাগরের কানে জোয়ার-বেলায়
ধীরে কয় তটভূমি,
“তরঙ্গ তব যা বলিতে চায়
তাই লিখে দাও তুমি।’

সাগর ব্যাকুল ফেন-অক্ষরে
যতবার লেখে লেখা
চির-চঞ্চল অতৃপ্তিভরে
ততবার মোছে রেখা ॥

The shore whispers to the sea:
“Write to me what thy waves struggle to say.”
The sea writes in foam again and again
and wipes off the lines in a boisterous despair.

(Translated by the poet himself)

(১৩৪/134)

Rabindranath Thakur-Jibon Khatar Anek Patai

জীবন-খাতার অনেক পাতাই
এমনিতরো শূন্য থাকে;
আপন মনের ধেয়ান দিয়ে
পূর্ণ করে লও না তাকে।
সেথায় তোমার গোপন কবি
রচুক আপন স্বর্গছবি,
পরশ করুক দৈববাণী
সেথায় তোমার কল্পনাকে॥

(১৫৭/157)

Rabindranath Thakur-Chand Kahe (1)

চাঁদ কহে “শোন্‌ শুকতারা,
রজনী যখন হল সারা
যাবার বেলায় কেন শেষে
দেখা দিতে হায় এলি হেসে,
আলো আঁধারের মাঝে এসে
করিলি আমায় দিশেহারা।”

Before he sets,
the Moon yearningly calls out
to the Morning Star
“Why, at this moment of parting,
Did thee bind me
with thy smile?”

(১৫৯/159)

Rabindranath Thakur-Bhebechhinu Goni Goni Labo (1)

ভেবেছিনু গনি গনি লব সব তারা —
গনিতে গনিতে রাত হয়ে যায় সারা ,
বাছিতে বাছিতে কিছু না পাইনু বেছে ।
আজ বুঝিলাম , যদি না চাহিয়া চাই
তবেই তো একসাথে সব-কিছু পাই —
সিন্ধুরে তাকায়ে দেখো , মরিয়ো না সেঁচে ॥

I had once sought to count all the stars
but the night sky swirled into the dawn
past my never-ending counts
leaving my designs fruitless in her wake.
I wish I had realized then
that her stars had all been mine alone
to own with a single, wondering gaze,
but like a fool, I had picked and sorted.
Know not to do the same, my friend.

(১৬৮/168)

আকাশ কভু পাতে না ফাঁদ
কাড়িয়ে নিতে চাঁদে,
বিনা বাঁধনে তাই তো চাঁদ,
নিজেরে নিজে বাঁধে।

(১৭৪/174)

Rabindranath Thakur-Andhar Ekere Dekhe 1

আঁধার একেরে দেখে একাকার ক’রে।
আলোক একেরে দেখে নানা দিক ধ’রে॥

Darkness smothers the one into uniformity
Light reveals the one in its multifariousness.

(Translated by the poet himself)