কবিতা ৭১ – আদর্শ ছেলে / Poem 71 – Adarsha Chhele (‘The Ideal Boy’)

এই সাইটে এতদিন যাদের লেখা তুলেছি, তাদের মধ্যে নারী সাহিত্যিক কেউ ছিলেন না – সেই ভুলটুকু শোধরাতে তাই আজকের এই পোস্ট। কুসুমকুমারী দাশকে হয়তো পাঠকদের কেউ কেউ জীবনানন্দ দাশের মা হিসেবে চিনবেন। কিন্তু রত্নগর্ভা এই নারী নিজেও ভালই সাহিত্যচর্চা করতেন, আর নিজগুণেই কবি বলে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। কুসুমকুমারীর লেখা আদর্শ ছেলে  কবিতাটি দুই বাংলার কমবেশি সবারই ছোট বেলায় পড়ে থাকার কথা – আমার তো এখনো মনে আছে ! কবিতাটি লেখা হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে, কিন্তু তখন আর বর্তমানের মধ্যেকার সময়ে আদর্শ ছেলেদের (আর মেয়েদের) জন্য সমাজের যে হাহাকার, তা তো আর মেটেনি। প্রলম্বিত অপেক্ষার মধ্যে আমাদের কিশোর ও যুব-সমাজ কেমন হওয়া উচিত তা যাতে আমরা ভুলে না যাই, সেজন্যেই এই কবিতাটি তুলে দেওয়া – কুসুমকুমারী দেবীর আদর্শ ছেলে

In a way of correcting what has been a glaring omission in this site, a poem written by a woman, and one that is perhaps as well recited as any Bangla poem. Some readers might identify Kusumkumari Das as the mother of the famous poet Jibanananda Das, but the lady herself was a wonderful poet in her own right. Her most famous poem, Adarsha Chhele (The Ideal Boy), was written almost a century ago, but even after all these years, it remains a piece that almost every Bangalee learns to recite at an impressionable age – I still remember a few lines myself! A summary of the qualities which our society seeks within its youth, the poem remains as relevant as ever. So in a manner of motivating, and as an honor to the poet, the poem is presented below.

আদর্শ ছেলে

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?
মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন
“মানুষ হইতে হবে” — এই তার পণ,
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান,
নাই কি শরীরে তব রক্ত মাংস প্রাণ ?
হাত, পা সবারই আছে মিছে কেন ভয়,
চেতনা রয়েছে যার সে কি পড়ে রয় ?
সে ছেলে কে চায় বল কথায়-কথায়,
আসে যার চোখে জল মাথা ঘুরে যায় |
সাদা প্রাণে হাসি মুখে কর এই পণ —
“মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন” |
কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার
সবারি রয়েছে কাজ এ বিশ্ব মাঝার,
হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান
তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ |

– কুসুমকুমারী দাশ

 

Advertisements

গল্প ১১৭ – ক্যাম্প / Story 117- Camp

jafar-iqbal-camp

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal – Camp

ক্যাম্প – জাফর ইকবাল

একটি যুদ্ধ, দুটি পক্ষ, কয়েকটি দৃষ্টিকোণ, আর একটি মৃত্যু – ক্যাম্প  মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ নিয়ে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা আরেকটি উপন্যাস। পাঠকদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি, তারা নিশ্চই জাফর ইকবালকে চেনেন, আর হয়তো এও জানেন যে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি পিতৃহারা হয়েছিলেনক্যাম্প উপন্যাসটি তাই যতটা কাল্পনিক, ততটাই বাস্তব এবং ব্যক্তিগত। যতদূর জানি, একাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে ৪৭ বছরের রাজনীতি আর দলবাজির প্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনেকটাই সরলীকরণের বলি হয়েছে, যেকারণে আজ যুদ্ধের দিনগুলোর চরিত্রগুলোকে হয় সাদা কিংবা কালোর কাতারে ফেলার প্রবণতা বেশ প্রবল। কিন্তু ক্যাম্প পড়লে বোঝা যায় যে সেই সময়কার বাস্তবতা ছিল অনেকটাই জটিল, আর এও বোঝা যায় যে একাত্তরের খলনায়ক ছিল যারা, আদর্শগত ভাবে ভিন্ন হলেও তাদের মত অনেকেই দুই বাংলায়ই আজও বর্তমান।

Camp – Zafar Iqbal

A war, two sides, a few perspectives, and a death – Camp is another story by Muhammad Jafar Iqbal that portrays lives during the liberation war of Bangladesh. Readers who are Bangladeshi need no introduction to Jafar Iqbal; for those who do not know, the writer lost his father during atrocities committed by the Pakistani army during the war. For a fiction, Camp is therefore a very real account, and more – it is personal.

From the little I know, 47 years of politics and factionalism have left the war-time history in post-war Bangladesh grossly oversimplified. Consequently, the tendency among many these days is to portray characters from those times in either black or white. Camp, however, reveals them to us in shades of gray, and makes us realize the worrying truth that even after all this time, people just like them still linger among us.

ছোটগল্প ১১৩ – শিবু আর রাক্ষসের কথা / Short Story 113 – Shibu Ar Rakkhosh er Katha (Shibu and the Demon)

satyajit-ray-shibu-ar-rakkhosh-er-katha

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Shibu Ar Rakkhosh Er Katha

শিবু আর রাক্ষসের কথা – সত্যজিৎ রায়

আজ অংক স্যার, রাক্ষস, পাগলাটে দাদা আর আমাদের ছেলেবেলা নিয়ে সত্যজিৎ রায়ের একটি গল্প। অঙ্ক জিনিসটা নিয়ে আমাদের সবারই একটা বয়সে হয় আগ্রহ নয়তোবা দুশ্চিন্তা থাকে। কিন্তু হঠাৎ যদি সেগুলোর একটি তার উল্টোটিতে বদলে যায়, আর তার উপর যদি সেটার কারণ হয় একটি রাক্ষস? হ্যা, আক্ষরিক অর্থেই একটি রাক্ষস। অদ্ভূত লাগছে শুনে? শিবু আর রাক্ষসের কথা  পড়লে কিন্তু সেটি মনে হবে না, বরং স্কুলের কথা মনে পড়ে যেতে পারে। যারা বাংলা রূপকথার পোকা, তাদের জন্যে একটি সূত্র রেখে দেই –

নর কি বানর কিংবা অন্য জানোয়ার
জেনে রাখো হৃৎপিন্ডে রহে প্রাণ তার।
রাক্ষসের প্রাণ জেনো মৎস্যের উদরে
সেই হেতু রাক্ষস সহজে না মরে।

সত্যজিত রায়ের কলমে স্কুলজীবনের সাথে রূপকথা মেশানো গল্প এর আগেও একবার তুলেছি – সেবারের গল্পটি ছিল ভীনগ্রহের প্রাণীকে নিয়ে। এবারের গল্পটিও খানিকটা তেমনই, তাই পাঠকদের ভাললাগার জন্যে তুলে দিলাম। : )

Shibu Ar Rakkhosh er Katha (Shibu and the Demon) – Satyajit Ray

It has been quite some time since I posted one of Satyajit Ray’s fairy tales, hence this upload. The last time, it was about a boy who preferred fairy-tales to math textbooks, and an alien. In Shibu At Rakkhosher Katha (Shibu and the Demon), however, the boy actually happens to love math, and it is the demons in the fairy-tales which scare him – what if they were actually real?

কবিতা ২১ – সংকল্প / Poem 21 – Sankalpa (Resolution)

এবার নজরুলের একটি কবিতা, যা প্রতিটি অনুসন্ধিৎসু বাঙ্গালী তরুণ-তরুণীরই জানা উচিত। ঘরে-অফিসে বসে যারা পরনিন্দা-পরচর্চা করে সময় কাটান, তাদের জন্যে না, বরং দৃপ্ত-দৃঢ় জ্ঞানপিপাসুদের জন্যে নজরুলের লেখা এই সংকল্প।

This time, a resolution by Nazrul. Not for those who gossip or the faint of heart, but for those who are curious and firm in their pursuit of knowledge. Sankalpa (Resolution) is very much a poem for the youth.

সংকল্প

থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে, –
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে।
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
ছুটছে তারা কেমন করে,
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে,
কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরন-যন্ত্রণারে।।

কেমন করে বীর ডুবুরি সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে,
কেমন করে দুঃসাহসী চলছে উড়ে স্বর্গপানে।
জাপটে ধরে ঢেউয়ের ঝুঁটি
যুদ্ধ-জাহাজ চলছে ছুটি,
কেমন করে আনছে মানিক বোঝাই করে সিন্ধু-যানে,
কেমন জোরে টানলে সাগর উথলে ওঠে জোয়ার-বানে।

কেমন করে মথলে পাথার লক্ষ্মী ওঠেন পাতাল ফুঁড়ে,
কিসের আভিযানে মানুষ চলছে হিমালয়ের চুড়ে।
তুহিন মেরু পার হয়ে যায়
সন্ধানীরা কিসের আশায়;
হাউই চড়ে চায় যেতে কে চন্দ্রলোকের অচিন পুরে;
শুনবো আমি, ইঙ্গিত কোন ‘মঙ্গল’ হতে আসছে উড়ে।।

কোন বেদনায় টিকি কেটে চণ্ডু-খোর এ চীনের জাতি
এমন করে উদয়-বেলায় মরণ-খেলায় ওঠল মাতি।
আয়র্লণ্ড আজ কেমন করে
স্বাধীন হতে চলছে ওরে;
তুরস্ক ভাই কেমন করে কাটল শিকল রাতারাতি!
কেমন করে মাঝ-গগনে নিবল গ্রীসের সূর্য-বাতি।।

রইব না কো বদ্ধ খাঁচায়, দেখব এ-সব ভুবন ঘুরে-
আকাশ-বাতাস চন্দ্র-তারায় সাগর-জলে পাহাড়-চুঁড়ে।
আমার সীমার বাঁধন টুটে
দশ দিকেতে পড়ব লুটে;
পাতাল ফেড়ে নামব নীচে, ওঠব আবার আকাশ ফুঁড়ে;
বিশ্ব- জগৎ দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।।

– কাজী নজরুল ইসলাম

ছোটগল্প ৬০ – অক্ষয়বাবুর শিক্ষা / Short Story 60 – Akkhaybabur Shikkha (The Education of Mr. Akkhay)

Satyajit Ray-Akkhaybabur Shikkha

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link:  Satyajit Ray-Akkhaybabu’r Shikkha

অক্ষয়বাবুর শিক্ষা – সত্যজিৎ রায়

এবার সত্যজিৎ রায়ের একটি মজার গল্প, বাঁশের চাইতে কঞ্চির ধার কেন বেশি, তা নিয়ে।

Akkhaybabur Shikkha (The Education of Mr. Akkhay) – Satyajit Ray

This time, a humorous story by Satyajit Ray, on why the chip is sometimes more than off the old block.

ছোটগল্প ৫৬ – অঙ্ক স্যার, গোলাপীবাবু আর টিপু / Short Story 56 – Anko Sir, Golapi Babu Ar Tipu (Tipu, The Maths Teacher, and Mr. Pink)

Satyajit Ray-Anko Sir, Golapibabu ar Tipu (1)পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Anko Sir, Golapi Babu Ar Tipu

অঙ্ক স্যার, গোলাপীবাবু আর টিপু – সত্যজিৎ রায়

বাড়ির পিছনে যে নেড়া শিরীষ গাছটা আছে, তারই নিচে দাঁড়িয়েছিল লোকটা। এদিকটা বড় একটা কেউ আসে না। শিরীষ গাছটার পিছনে খোলা মাঠ, তারও পিছনে ধান ক্ষেত, আর তারও অনেক, অনেক পিছনে পাহাড়ের সারি। কদিন আগেই টিপু এদিকটায় এসে একটা ঝোপের ধারে একটা বেজিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছিল। আজ হাতে কিছু পাঁউরুটির টুকরো নিয়ে এসেছিল ঝোপটার ধারে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য, যদি তারই লোভে বেজিটা আবার দেখা দেয়। এমন সময় হঠাৎ চোখ পড়ল গাছতলায় দাঁড়ানো লোকটার দিকে। চোখাচুখি হতেই লোকটা ফিক্‌ করে হেসে বলল, ‘হ্যালো।’

সাহেব নাকি? সাহেব হলে কথা বলে বেশিদূর এগোনো যাবে না, তাই টিপু কিছুক্ষণ কিছু না বলে লোকটার দিকে তাকিয়েছিল। এবার লোকটাই ওর দিকে এগিয়ে এসে বলল, ‘তোমার কোনো দুঃখ আছে?’

‘দুঃখ?’

‘দুঃখ।’

টিপু তো অবাক। এমন প্রশ্ন তাকে কেউ কোনদিন করেনি। সে বলল, ‘কই না তো, দুঃখ তো নেই।’

‘ঠিক বলছ?’

‘বা রে ঠিক বলব না কেন?’

‘তোমার তো দুঃখ থাকার কথা। হিসেব করে তো তাই বেরোল।’

‘কী রকম দুঃখ? ভেবেছিলাম বেজিটাকে দেখতে পাব, কিন্তু পাচ্ছি না। সেরকম দুঃখ?’

‘উহুঁ উহুঁ। যে দুঃখে কানের পিছনটা নীল হয়ে যায়, হাতের তেলো শুকিয়ে যায়, সেরকম দুঃখ।’

‘মানে ভীষণ দুঃখ?’

‘হ্যাঁ।’

‘না, সেরকম দুঃখ নেই।’।

রূপকথার গল্প পড়তে ভালবাসে এমন একটা ছোট্ট ছেলে, একজন অঙ্ক স্যার, যিনি বিশ্বাস করেন ছোটদের এসব পড়া উচিত নয়, গোলাপীবাবু, আর হ্যা, পেগাসাস – সত্যজিৎ রায়ের একটি অপূর্ব গল্প, যা প্রতিটি কল্পনাচঞ্চল মনেরই ভালো লাগবে।

Anko Sir, Golapi Babu Ar Tipu (The Maths Teacher, Tipu and Mr. Pink) – Satyajit Ray

A little boy who loves to read fairy-tales, a maths teacher who believes that children should not read ‘such rubbish’, Mr. Pink the alien… and Pegasus – a most wonderful story by Satyajit Ray, and a must read for those whose minds refuse to be imprisoned within the covers of a textbook. Enjoy!

Satyajit Ray-Anko Sir, Golapibabu ar Tipu (2)

গল্প ৫৫ – চাঁদের পাহাড় / Story 55 – Chander Pahar (Mountains of the Moon)

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Chander Pahar

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bibhutibhushan Bandopadhyay-Chander Pahar

চাঁদের পাহাড় – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

এবার বিভূতিভূষণ। চাঁদের পাহাড় গল্পটি একজন বাঙ্গালী তরুণের অভিযানের গল্প, যা অভিযানের নেশা আছে যাদের, তাদের নিশ্চয় ভাল লাগবে। পাঠকদের জন্য গল্পের খানিকটা সেটির ভূমিকা হতে তুলে দেই –

“বাঙ্গালীর ছেলে শঙ্কর, পাকা খেলোয়াড়, নামজাদা বক্সার, ওস্তাদ সাঁতারু – এফ-এ পাশ করে সুবোধ ছেলের মতো কাজকর্মের সন্ধান করল না, দেশান্তরের হাতছানি পেয়ে সে পাড়ি দিল সুদূর পূর্ব-আফ্রিকায়। ইউগান্ডা রেলওয়ের নতুন লাইন তৈরী হচ্ছিল – চাকরী পেয়ে গেল। ডিয়েগো আলভারেজ নামের দুর্ধর্ষ এক পর্তুগীজ ভাগ্যান্বেষীর সঙ্গে হঠাৎ সেখানে তার দেখা। শঙ্কর এই দুঃসাহসী ভাগ্যান্বেষীর সঙ্গ ধরে মহাদুর্গম রিখটার্সভেল্ড পর্বতে অজ্ঞাত এক হীরের খনির সন্ধানে চলে গেল। ডিঙ্গোনেক বা বুনিপ নামের অতিকায় এবং অতিক্রূর এক দানব-জন্তু সেই হীরের খনি আগলিয়ে থাকত। পর্যটকেরা যার নাম দিয়েছেন চাঁদের পাহাড় সেই রিখটার্সভেল্ড পর্বতে গিয়ে জীবনমৃত্যু নিয়ে শঙ্করকে যে রোমাঞ্চকর ছিনিমিনি খেলতে হল তার আশ্চর্য বিবরণ যে-কোনো বয়সের কল্পনাকে উত্তেজিত করবে। বিখ্যাত ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতা অনুসরণে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগলিক সংস্থান এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যাদির যথাযথ বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। বিভূতিভূষণের হাতে তরুণদের জন্য লেখা এ-বই ধ্রুপদী সাহিত্য হিসেবে পরিগণিত হওয়ার যোগ্য।”

হীরা, সিংহ, মরুভূমি, গহীন জঙ্গল, হায়েনা, অভিযাত্রা… আফ্রিকা – চাঁদের পাহাড়  বাংলা সাহিত্যে অদ্বিতীয় একটি গল্প। পাঠকদের পড়বার আমন্ত্রণ রইল।  

Chander Pahar (Mountains of the Moon) – Bibhutibhushan Bandyopadhyay

This time a certain story by the name of Chander Pahar (Mountains of the Moon), which details the travels of a Bangalee youth into the heart of Africa. Written by Bibhutibhushan Bandyopadhyay, the story is sure to arouse a sense of adventure among adults and youth alike, and is offered here for your reading pleasure.

Bibhutibhushan Bandyopadhyay-Chander Pahar 2

ছোটগল্প ৫৪ – ফটিকচাঁদ / Short Story 54 – Fatikchand

Satyajit Ray-Fatikchandপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Fatikchand

ফটিকচাঁদ – সত্যজিৎ রায়

ছোট থাকতে মনের মাঝে হঠাৎই চেপে বসা ইচ্ছেগুলোর কথা মনে পড়ে? কত শখই না আমাদের হোত তখন, আর কতবারই না ছোট্ট মনগুলোর মাঝে সেসব চাপা পড়ে যেত – বাবা কি আমাকে বড় হয়ে ঘোড়া চড়তে দেবেন? আমি বাস ড্রাইভার হতে চাইলে মা বকবেন না? তখন থেকেই সামাজিক কাঠামোর অলংঘ্যনীয় রীতিনীতির আবছা প্রভাবে শিশুমন বাঁধা পড়ে যেত। কিন্তু ইচ্ছেগুলো তা মানত কি?

আচ্ছা যদি ঘটনাচক্রে সেই শিশুমনটুকু যদি অন্য কোথাও গিয়ে পড়ত, যেখানে বাবা-মায়ের বকুনির ভয়, স্কুলের হোমটাস্কের চাপ, বাঁধা-বিধি কিছুই নেই? শুধু আছে দিনরাত কোন এক মজার মানুষের সাথে ঘুরে বেড়ানো, চায়ের দোকানে কাজ করা, আর সার্কাসের খেলা শেখা। আর তার সাথে যদি পেছনে লেগে থাকা গুন্ডাদের মোকাবেলা করার বাড়তি উত্তেজনাটুকু যদি যোগ হয়, তাহলে কেমন হোত? সত্যজিৎ রায়ের ফটিকচাঁদ তেমনি একটি ঘটনা নিয়ে অসাধারণ একটি লেখা, যেটির উত্তেজনা, আনন্দ আর আবেগগুলো আমাদের অনায়াসে ছেলেবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

Fatikchand – Satyajit Ray

We all remember the times when as kids, our fancies took flight to the most romantic adventures. And perhaps we also remember the realities – a strict parent or homework – that kept us on check. That did not stop us from wondering, though. How would things be if we were suddenly in a place where we could do whatever was fun – working on the job we fancy, learning to juggle, hanging out with the coolest of friends and taking down goons with him – how thrilling would life be? In Satyajit Ray’s Fatikchand, a boy gets to experience precisely that, although not by choice. The readers, however, get to partake in this wonderful adventure without the risks. Enjoy!

গল্প ৫২ – দীপু নাম্বার ২ / Story 2 – Dipu Number 2

Jafar Iqbal-Dipu Number 2 BW

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Bangla-Zafar Iqbal-Dipu Number 2

দীপু নাম্বার টু – জাফর ইকবাল

এবার এমন একটি গল্প, যেটিকে বাংলা কিশোরসাহিত্যের উজ্জলতর উদাহারণগুলোর মধ্যে একটি বললেও কমই বলা হয়। দীপু নাম্বার টু  গল্পটি এমন এক ছেলেকে নিয়ে, যে নামের দিক দিয়ে যে দ্বিতীয় হলেও সাধারণতার দিক দিয়ে সে অনন্য। গল্পটিকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা লিখলে এই লেখার শুধু দৈর্ঘ্যই বাড়বে, তাই বরং ভেবেচিন্তে গল্পেরই একটি অংশ তুলে দিলাম, যাতে গল্পের উপসংহারটুকু ছাড়া আর প্রায় সবটুকুরই আঁচ পাওয়া যায়।

দীপুর সাথে তার আব্বার সম্পর্ক একটু অদ্ভুত। মোটেই অন্য দশজন আব্বা আর তাদের ছেলের মত নয়। দীপু তার আব্বার সাথে এমনভাবে কথা বলে যেন তিনি তার ক্লাসেরই একটি ছেলে। নিজের আম্মাকে কখনো দেখেনি, আব্বাই তাকে বড় করেছেন একেবারে ছেলেবেলা থেকে। কাজেই দীপুর আব্বাই তার সবচেয়ে বড় বন্ধু।

বিছানায় পা বিছিয়ে বসে ছিলো দীপু, আব্বা ওর পায়ে ঝাঁঝালো গন্ধের কি একটা প্লাস্টার লাগিয়ে দিচ্ছিলেন। আরামে দীপু আহ্‌! উহ্‌ করতে করতে আব্বাকে দিনের পুরো ঘটনা খুলে বলছিল। আব্বা চুপ করে শুনে যাচ্ছেন, ভাল মন্দ কিছুই বলছেন না। দীপু আশা করছিল আব্বা তার পক্ষ নিয়ে বলবেন তারিক যে কাজটা করেছে সেটা অন্যায়। কিন্তু আব্বা একবারও তারিককে দোষ দিয়ে একটি কথাও বললেন না। দীপু বিরক্ত হয়ে বললো, তুমি কি মনে করছো সব দোষ তাহলে আমার?
কে বলল সব দোষ তোর?
তাহলে  –
তাহলে কি?
তারিক যে আমাকে ধোলাই দেবে বলল?
তা আমি কি করব?

দীপু চুপ করে থাকল, সত্যিই তো ওর আব্বা কি করবেন? কিন্তু সমবেদনাটা তো ও পেতে পারে।
তাহলে তুমি বলছ মারামারি করি ওর সাথে?
আমি কিছু বলছি না।
ও যদি করতে চায়?
ইচ্ছে হলে করবি, ইচ্ছে না হলে করবি না, মার খাবি।

দীপু হাল ছেড়ে দিল। খানিক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আমি ওর সাথে গন্ডগোল করতে চাই না, অথচ এমন পাজি ইচ্ছে করে ঝগড়া করে। জান আব্বা, এখনি সিগারেট খাওয়া শুরু করেছে।

তুই কি মনে করিস সিগারেট খেলেই মানুষ পাজি হয়?
হয়ই তো।
তাহলে আমিও পাজি?
যাও! দীপু হেসে বলল, তুমি কত বড় আর ও কত ছোট!
আমিও তো কত ছোট থেকে সিগারেট খেতাম।

দীপু নাম্বার টু‘ জাফর ইকবালের সেরা লেখাগুলোর মধ্যে একটি। একটি ছায়াছবিও তৈরী হয়েছে এই গল্পটি থেকে, যার ইউটিউব লিঙ্কটি নিচে তুলে দিলাম। ছবিটি গল্পটির মত অসাধারণ না হলেও আজকালকার বাংলায়/হিন্দিতে সিনেমার নামে যা হয়, তার চাইতে যে অনেক, অনেক ভালো, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই পাঠকেরা গল্প বা ছায়াছবির মধ্যে যেটাই বেছে নিক, তাই তাদের ভালো লাগবে আশা করি।

Dipu Number Two – Zafar Iqbal

One of Zafar Iqbal’s best works, Dipu Number 2 is a beautiful story about boyhood. Dipu, the protagonist, is like any boy in more ways than one – he is frail, he plays football, and he cries when beaten up by bigger boys. Yet, he is different enough for us to take notice – for one thing, he refuses to tell the teacher the name of the student who bullied him, but not out of fear. I would not like to give the story away, so I will keep it down to this: Dipu, a boy who has to study in a new school every year because his father is always on the move, moves to an umpteenth new place and new school. This time, however, things are different, as he has to face a renewed reality of not having a mother, and deal with a class-bully who only adds severity to the word. What’s more, there is a far more thrilling adventure at hand, of which he has not the slightest idea. So, to the readers, I hope that you will find the story as wonderful as I have, whichever of the pdf and the video you choose.

আত্মজীবনী ২ – সত্যজিৎ রায় – যখন ছোট ছিলাম / Autobiography 1 – Satyajit Ray – Jakhon Chhoto Chhilam (When I was little)

Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilamপিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilam

যখন ছোট ছিলাম – সত্যজিৎ রায়

বেশ কিছুদিন হয়ে গেল এই সাইটে গল্প তোলা হয়নি। তাই আজ সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিচারণায় তার ছেলেবেলার গল্প তুলে দিলাম। যখন ছোট ছিলাম  যখন লেখা হয়, তখন সত্যজিতের বয়স হয়ে গেছে অনেক, অথচ গল্পটিতে শিশুমন আর ছেলেবেলার ছবি এমনই সুন্দরভাবে আঁকা, যে গল্পটা একজন বড় মানুষের জীবনটাকে পিছনে ফিরে দেখা, তা মনেই হয়না। কত কথাই যে সত্যজিৎ এই আত্মজীবনীতে লিখেছেন – প্রথম বার আইসক্রিম খাওয়ার গল্প, জুডো শেখা, চাবি পটকা বানানো, রবীন্দ্রনাথের সাথে দেখা হওয়া, ‘গাঁজার’ কথা – আরো কত কি! ছেলেবেলার গল্প যারা পড়তে ভালবাসেন, তাদের এই গল্পটা বিশেষভাবে ভাল লাগবে বলে বিশ্বাস করি। আর যাদের আরেকটু সুড়সুড়ি প্রয়োজন, তাদের জন্য গল্পটির থেকে দুটি ছবি তুলে দিলাম। একটি ছবি অবশ্য এই গল্পটি থেকে এর আগেই তুলেছি, তবে তা এখানে নয়, রবিঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতাকে নিয়ে (একটু উপরে এই অনুচ্ছেদের মাঝখানে সংযুক্ত/লিঙ্ক করা) অনেক আগে একটি লেখায়। 🙂

Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilam (2)

স্কুলে থাকাকালীন সময়ে সত্যজিৎ রায়ের শেখা বাংলা অক্ষর আর সংখ্যা নিয়ে একটি খেলা। A trick with Bangla numerals and letters which Satyajit Ray picked up in high-school.

Jakhon Chhoto Chilam (When I was little) – Satyajit Ray

It has been a few weeks since my last upload, so here is a punctuation. In Jakhon Chhoto Chilam (When I was little), Satyajit Ray portrays his childhood memories in such colors and with such innocence that it is hard to believe that he wrote those down years, years later. And what memories those were! Eating ice-cream for the first time, learning judo, making crackers, meeting Rabindranath Thakur… If you like reading stories of childhood, you will particularly love this story of a great man’s childhood. Enjoy!

Satyajit Ray-Jakhon Chhoto Chhilam (1)

ছোটবেলার খেলার জিনিস – চাবি পটকা আর দইয়ের ভাড় দিয়ে বানানো লন্ঠন / Childhood playthings – a cracker made from a key, and a lantern made from a pot.

গল্প ৪০ – আমার বন্ধু রাশেদ / Story 40 – Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend)

Jafar Iqbal-Amar Bandhu Rashed

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal-Amar Bandhu Rashed

আমার বন্ধু রাশেদ – জাফর ইকবাল

 “তুই মশাল মিছিলে যাবি?”
“হ্যা। ছোট বলে হাতে মশাল দিতে চায় না। আগে গিয়ে অনেক সাধাসাধি করতে হবে।”
ফজলু চোখ ছোট ছোট করে বলল, “ইশ! আমি যদি তোর সাথে যেতে পারতাম!”
রাশেদ বলল, “চল যদি যেতে চাস।”
ফজলু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। দিলীপ বলল, “ফজলু যাবে মশাল মিছিলে? তাহলেই হয়েছে। কাকা তোকে পিটিয়ে লম্বা করে দেবে না?”
ফজলু বিষণ্ন মুখে মাথা নাড়ল। আশরাফ গম্ভীর গলায় বলল, “বড় না হওয়া পর্যন্ত মিছিলে যোগ দেওয়া ঠিক না। রাজনৈতিক দল ভুলপথে নিয়ে যাবে।”
রাশেদ আবার বড় মানুষের মত বলল, “পথে তো নামতে হবে আগে, না হলে জানবি কেমন করে কোনটা ভুলপথ কোনটা ঠিক পথ?”

আমরা যখন বড় হই, তখন আর অন্য অনেক কিছুর সাথে সাথে সাহিত্যরুচিও বদলায়। ছোটবেলায় যেসব গল্পগুলো পড়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতাম, সেইগুলোই হয়ত বড় হওয়ার পর হাস্যকর আর ছেলেমানুষীতে ভরা বলে মনে হয়। অবশ্য এমন সব গল্পও থাকে, যেগুলো সময় বয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মনকে আগের মতই টানে। আমার বন্ধু রাশেদ গল্পটি যখন প্রথম পড়ি, তখন আমি নেহাৎই ছোট। তখনকার কথা ভাবতে গেলে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের এক ছোট্ট শহরে চারজন কিশোরের বন্ধুত্ব আর সাহস নিয়ে লেখা গল্পটি পড়তে পড়তে নিজেও কেমন করে গুপ্তযোদ্ধা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তা মনে পড়ে। এত দিন পর জাফর ইকবালের লেখা এই গল্পটি যে তার অন্যান্য ছোটগল্প খোঁজার সময় হঠাৎ করে খুঁজে পাব, তা ভাবতে পারিনি। কিশোর বয়সে যেমন ‘বড়’ হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তার কিছুটা তো গত ক’বছরে হয়েছি, তাই এত দিন পর ভাল লাগবে কিনা, সেই দ্বিধা নিয়েই গল্পটি পড়তে বসেছিলাম। বুঝতে পারি নি যে এত বছর পরেও গভীর অভিমান নিয়ে শেষ হওয়া এই গল্পটি আমাকে আগের মতোই আবেগাপ্লুত করে তুলবে।

আমার মত পাঠকদেরও গল্পটি পড়ে তেমনই লাগবে, সেই বিশ্বাসে মুক্তিযুদ্ধ আর কৈশোর নিয়ে লেখা একাত্তরের এই অসাধারণ প্রতিচ্ছবিটি তুলে দিলাম – আমার বন্ধু রাশেদ , যা আমার মতে জাফর ইকবালের সেরা লেখাগুলোর মধ্যে একটি, আর যা দুই বাংলার যুদ্ধপরবর্তী প্রজন্মদের জন্যে একটি অবশ্যপাঠ্য।

Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) – Zafar Iqbal

Of the things that change with our growing up, taste in literature is one. Personally, I have always been intrigued by how the same works that many of us so looked forward to reading when we were young seem childish and laughable when we grow up. Some stories, however, still retain the old appeal over time, and I find Zafar Iqbal’s Amar Bandhu Rashed (Rashed, My Friend) to be one such story. Set in a Bangladeshi town during the liberation war of 1971, it narrates the adventures of four boys who risk their lives to liberate their town from the Pakistani military. Rashed, of course, is the leader of the pack, and his wit and bravery represent the romanticized archetype of the young Bangalee freedom fighter who fought for his land. Perhaps the masterwork by Zafar Iqbal, Amar Bandhu Rashed is probably the best introduction for young Bangalees to wartime literature, and a must read for post-war generations of both Bengals.

আত্মজীবনী ১ – জাফর ইকবাল – রঙিন চশমা / Autobiography 1 – Jafar Iqbal – Rangin Chashma (Tinted Glasses)

Jafar Iqbal-Rangin Chashma

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Zafar Iqbal-Rangin Chashma

রঙিন চশমা – জাফর ইকবাল

এতদিন ধরে যেসব গল্প এই সাইটে তুলেছি, সেগুলোর মধ্যে আত্মজীবনীমূলক লেখা একটিও নেই, তাই এইবারে বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবালের রঙিন চশমা  তুলে দিলাম। ১১১ পৃষ্ঠায় ফুটিয়ে তোলা ছাত্রজীবনের গল্প আহামরী লম্বা কিছু নয়, তবে আজকাল মানুষের সময় অল্প, তাই এটুকু আশা করব যে পাঠকরা দৈনন্দিন জীবনের ফাঁকে ফাঁকে গল্পটি পড়বেন। রঙিন চশমা গল্পটির শুরু হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শেষে, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে জাফর ইকবালকে নেহাৎই একজন কিশোর। তার পর ধাপে ধাপে তার বেড়ে ওঠা – যুদ্ধে মৃত বাবাকে কবর দেওয়া, সিগারেট খাওয়া (যা নিচে উদ্ধৃত করেছি), কলেজে থাকাবস্থায় পাগলামী, কার্টুন একে নিজের খরচ চালানো, সিল্ভার নাইট্রেট দিয়ে হাতে মাছ আঁকতে গিয়ে মরতে বসা, আর অ্যামেরিকায় পড়তে যাওয়া – আর অনেক কিছু নিয়েই একটি হাল্কা স্মৃতিচারণা। আজকের জাফর ইকবালকে অনেকটুকুই বোঝা যায় এই লেখাটি পড়লে।

“আমার বাবা অত্যন্ত সুদর্শন ব্যক্তি ছিলেন। তাকে সবচেয়ে সুন্দর দেখাত যখন তিনি সিগারেট খেতেন। তার সিগারেট খাওয়ার একটা সুন্দর ভঙ্গি ছিল যেটা আমি আর কোথাও দেখিনি। মধ্যমা আর তর্জনীর মাঝখানের অংশটুকু মুখে লাগিয়ে সিগারেট টানতেন। বাবা একটু ভাবুক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, তাই বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক হাত কোমরে রেখে অন্য হাতে সিগারেট টানতে টানতে আকাশের দিকে তাঁকিয়ে একটু আনমনা হয়ে যেতেন। সেই ভঙ্গিটি এক কথায় ছিল অপূর্ব। তাই আমি একেবারে অনেক ছোট থাকতেই ঠিক করে রেখেছিলাম যে যখন বড় হব তখন আমি বাবার মতো করে সিগারেট খাব।

বড় হওয়ার জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছি। যখন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি তখন মনে হল এখন নিশ্চই বড় হয়েছি, এখন সিগারেট খাওয়া শুরু করতে হয়। তাই খুব কষ্ট করে আমি সিগারেট খাওয়া শেখার চেষ্টা করতে লাগলাম। দামি সিগারেট খাওয়ার পয়সা নেই তাই সস্তা সিগারেট দিয়ে সিগারেট খাওয়া শিখছি। সেটা যে কি কষ্ট আমি বলে বোঝাতে পারব না। বিদঘুটে গন্ধ, সিগারেটের ধোঁয়া বুকের ভেতর নিয়ে খকখক করে কাশি, মনে হয় নাড়ি উল্টে আসবে, কিন্তু আমি হাল ছেড়ে দিলাম না।

শেষ পর্যন্ত আমি সিগারেট খাওয়া শিখে গেলাম। সিগারেট খেতে যত আনন্দ তার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ সেটা দশজনকে দেখিয়ে।

একদিন কোথায় জানি যাচ্ছি, হঠাৎ সিগারেট খাবার ইচ্ছে করল। আমি রাস্তার পাশের একটা দোকান থেকে একশলা সিগারেট কিনে মুখে লাগিয়ে আয়েশ করে একটা টান দিয়েছি তখন একটা বিচিত্র ঘটনা ঘটল। রাস্তার পাশে একটা গাড়ি থেমেছে এবং সেই গাড়ি থেকে দুজন ভদ্রমহিলা নেমে এলেন। তারা অন্য কোথাও যাচ্ছিলেন কিন্তু একজন আমাকে দেখে থেমে গেলেন। কেমন যেন একটা বিস্মিত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর আমার দিকে এগিয়ে এসে আমাকে আহত গলায় বললেন, “তুমি এত ছোট ছেলে সিগারেট খাও?”

আমি একেবারে থতমত খেয়ে গেলাম। রাস্তার মাঝখানে একজন আমাকে এভাবে সিগারেট খাওয়ার জন্য ধমক দিতে পারে আমি কল্পনাও করতে পারি নি। কোনমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, “আমি মোটেও ছোট ছেলে না। আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ি।”

আমার কথায় কোন কাজ হল না। ভদ্রমহিলা কেমন যেন ব্যথিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন, বললেন, “না। এত ছোট ছেলে তুমি সিগারেট খাবে না।”

আমি কোনমতে তার দৃষ্টি থেকে সরে এলাম – সিগারেট টানতে টানতেই।

আমার মাঝে মাঝে মনে হয় সেই ভদ্রমহিলার সাথে এখন দেখা হলে বলতাম, “এই দেখেন! আমি এখন আর ছোট ছেলে না – আমি কিন্তু আর সিগারেট খাই না।”

কিন্তু তার সাথে আর কখনো দেখা হয়নি।”

Rangin Chashma – Zafar Iqbal

The works that I have uploaded so far on this site have not included any autobiographies, hence, as a first, this upload. Rangin Chashma (Tinted Glasses) written by the popular Bangladeshi author Zafar Iqbal, contains the memoirs of his life as a youth in the 70’s Bangladesh, when the country was just finding its feet after the War of Independence. Anecdotes, emotions and nostalgia – of the days of burying his war-dead father, of hardship, smoking for the first time (quoted below), working as a cartoonist to support himself, and finally going to the US for higher studies – make this book not only a heartwarming read but also a doorway into understanding the author as we know him today.

ছোটগল্প ১৯ – প্রসন্ন স্যার / Short Story 19 – Prasanna Sir

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Prasanna Sir

প্রসন্ন স্যার – সত্যজিত রায়

কিছুদিন আগে ছাত্রজীবনে আমাদের যেসব ‘গরুবন্ধু’ থাকে, তাদেরই একজনকে নিয়ে লেখা জাফর ইকবালের একটি ছোটগল্প আপলোড করেছিলাম। জীবন অবশ্য কখনো কখনো সেই গল্পের উল্টোটাই লেখে। সেজন্যেই সত্যজিৎ রায়ের এই গল্পটি তুলে দিলাম। ‘প্রসন্ন স্যার’ – স্কুল শেষ হয়ে যাওয়ার অনেকদিন পর একটি বর্ষের ‘ফার্স্ট বয়’, একজন ‘অপদার্থ’, আর তাদেরই একজন শিক্ষকের আবার দেখা হওয়ার গল্প।

Prasanna Sir – Satyajit Ray

A few posts earlier, I had uploaded a short-story about the ‘not-so-bright’ friend that many of us have. Sometimes, though, life writes a different story. Hence this upload – a story in which the ‘first-boy’ and the ‘dimwit’ of a certain class meet their teacher a long time after graduating.

ছোটগল্প ১৬ – দুই বন্ধু / Short Story 16 – Dui Bandhu (Two Friends)

Dui Bondhu

পিডিএফ লিঙ্ক / PDF Link: Satyajit Ray-Dui Bandhu

দুই বন্ধু – সত্যজিৎ রায়

এবার একটি হাল্কা ধাঁচের গল্প। দুই দশক আগের কথা – মহিম আর প্রতুল নামের দুজন কিশোর বন্ধু আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে প্রতিজ্ঞা করে যে বিশ বছর পর তারা দুজনেরই চেনা একটি জায়গায় আবার দেখা করবে। মহিমের সে কথাটি এতদিন মনে থাকলেও প্রতুলের আছে কিনা সে বিষয়ে তার সন্দেহ ছিল। হাজার হোক, বিশ বছর তো আর অল্প সময় নয়।

Dui Bandhu (Two Friends) – Satyajit Ray

A somewhat lighthearted post this time. Twenty years ago at the time of their separation, two young friends – Mahim and Pratul – promise to meet again at a place they both know two decades later. While Mahim remembers the arrangement, he is not sure that Pratul does. Two decades is a long time, after all.